শুক্রবার- ২০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালতের যাত্রা শুরু

কমবে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালতের যাত্রা শুরু
print news

বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে চট্টগ্রাম ই-পারিবারিক আদালতের যাত্রা শুরু হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এ আদালতে মামলার আবেদন থেকে প্রতিদিনের কার্যক্রম সবই অনলাইনে স¤পন্ন হবে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ই-পারিবারিক আদালত চট্টগ্রাম-এর উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, এই আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদানে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এখানে কাগজের কোনো ব্যবহার থাকবে না। বিচারপ্রার্থীদের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার সব আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি আপাতত ম্যানুয়ালি কার্যক্রমও চালু থাকবে।

ই-পারিবারিক আদালতে নথি হারানোর শঙ্কা কম থাকবে উল্লেখ করে লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, বিচারপ্রার্থীদের যেকোনো মামলার নথি অল্প সময়ের মধ্যে বের করা সম্ভব হবে। এতে হয়রানি অনেকাংশে কমবে এবং মামলার আবেদন দ্রুত নি®পত্তি করা যাবে। ফলে বিচারকার্য স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হবে।

অনলাইন সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, যেকোনো স্থান থেকেই বাদী ও বিবাদীরা অনলাইনে হাজিরা দিতে পারবেন। নিজস্ব পোর্টালে আইনজীবীর পরিচালিত সব নথি একসঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে তারা যেকোনো জায়গা থেকে লগইন করে নথির কাজ বা খসড়া করে রাখতে পারবেন। এতে নথি জমা দেওয়া, কপি তোলা ও বারবার একই তথ্য প্রস্তুতের ঝামেলা কমবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, এটি একটি পেপারলেস বা কাগজহীন আদালত। বিচারকার্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ই-পারিবারিক আদালত চালু হওয়ায় পারিবারিক বিরোধ দ্রুত নি®পত্তি হবে এবং মানুষকে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সেবা পেতে প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করে নিবন্ধন স¤পন্ন করতে হবে। এ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পুরো নাম, মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিতে হবে। অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিচারক, আইনজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Ctg e court 30.11 2

পরে তিনি বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিভাগ ও চট্টগ্রাম জজশীপ কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ এর নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বাজুস) কমিশনের অধীনে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবি জানান বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগ।

তারা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় এর ন্যায় পদ-পদবী পরিবর্তন ও বেতন স্কেল নির্ধারণের ও দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বিচার বিভাগ আইনের ধারক ও বাহক। কিন্তু অধস্তন আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই বৈষম্য দূরীকরণের জোর দাবি জানান। আইন সচিব অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলামও চট্টগ্রামের সকল স্তরের বিচারক মন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক আকন্দ।

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পারভেজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. শামসুল হক, চট্টগ্রাম জজশীপ কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি বিপ্লব কান্তি দাশ ও সাধারণ স¤পাদক মোহাম্মদ।

ঈশান/মম/মউ

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page