শনিবার- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, বাধার মুখে পুলিশ বক্স ভাঙচুর

চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, বাধার মুখে পুলিশ বক্স ভাঙচুর

ট্টগ্রামে গত দু‘দিন ধরে মুষলধারে ঝরছে বৃষ্টি। যা আজ শুক্রবারও (২ আগস্ট) অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিতে ভিজেও চট্টগ্রামে চলছে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ। তবে বাধার মুখে নগরীর ওয়াসা এলাকায় পুলিশ বক্স ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্দ ছাত্র-জনতা। ঢিল মেরেছে পুলিশের সাজোয়া যানেও।

এমন তথ্য জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ আহমেদ। তিনি বলেন, ওয়াসার মোড়ে অবস্থিত পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়েছে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। পরে সেটি ওয়াসা থেকে আলমাস সিনেমা হলের দিকে সরে যায়। তখন বেলা পৌনে চারটা। এতে কেউ আহত হয়নি। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

সিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, কোটা সংস্কারের দাবি ঘিরে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সমন্বয়কদের ঘোষণা অনুযায়ী জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে ছাত্র-জনতার গণমিছিল কর্মসূচি শুরু হয়।

কর্মসূচি ঘিরে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের আশেপাশে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে জুমা শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদ ফটকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এরপরই একযোগে মিছিল নিয়ে বের হয়ে যায় যায়।

আরও পড়ুন :  বড় ব্যবধানে হারলেন গিয়াস উদ্দিন তাহেরী

ঘটনাস্থলে থাকা সিএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি এস এম ওবায়দুল হক জানান, কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। গণমিছিলকারীরা বিক্ষোভ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পুলিশও কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমা নামাজ শুরুর আগেই দলে দলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে নামাজ শেষ হতেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দরকিল্লা মোড়ে জমায়েত হয় আন্দোলনকারীরা। এসময় এক পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আন্দোলনকারীরা তাদের দেখে ভুয়া ভুয়া ¯ে¬াগান দিতে থাকে।

এ সময় তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। পাশাপাশি বাধা সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। তবে জনতার ঢলের মুখে পিছু হটে পুলিশ-ছাত্রলীগ, যুবলীগ। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে মিছিল নিয়ে লালদিঘী এবং রাইফেল ক্লাব হয়ে নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিলটি টাইগারপাস মোড়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নেয়। এরপর মিছিলটি ওয়াসার দিকে যায়। সেখানে আন্দালনকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয়।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বাস উল্টে এক আনসার সদস্য নিহত, আহত ১০

এ সময় ওয়াসার মোড়ে অবস্থিত পুলিশ বক্স ভাঙচুর সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়েছে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। পরে সেটি ওয়াসা থেকে আলমাস সিনেমা হলের দিকে সরে যায়। তখন বেলা পৌনে চারটা। এতে কেউ আহত হয়নি।

মহিউদ্দিন সিফাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকার আমাদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। রাতে বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ছাত্র থাকলে গ্রেফতার করছে। কিন্তু তারা বলেছিল কোনো প্রকার হয়রানি করবে না। এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত গ্রেফতার করে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগ আমাদের উপর হামলা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামজুড়ে ভোটের উৎসব, ছিল বিক্ষিপ্ত ঘটনাও

এর আগে বৃহ¯পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, গণহত্যা ও গণগ্রেফতার, শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব প্রার্থনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আলেম-ওলামা, শ্রমিক, অভিভাবকসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল কর্মসূচিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করে তুলুন।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমাদের ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে।

ঈশান/খম/সুপ

আরও পড়ুন

জনপ্রিয়