রবিবার- ৩১ আগস্ট, ২০২৫

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সদস্য হলেও সহসা বিসিবি ছাড়ছেন না পাপন

আগেই বলেছি এটাই শেষবারের মতো। কিছু বাধ্যবাধকতাও আছে। আমার মেয়াদ শেষ করতে হলে তো সামনের বছর। আইসিসিরও কিছু নিয়মকানুন আছে। একেক টার্মের পর বিভিন্ন কমিটি হয়। আমি বিভিন্ন কমিটিতে আছি এমনকি একটা কমিটির চেয়ারম্যানও। এগুলো থেকে নড়াচড়ার উপায় নেই। নতুন কেউ এলেও আইসিসি এগুলো বদল করে না। আমার ধারণা সর্বোচ্চ হয়ত এই বছর। চেষ্টা করব আইসিসির সাথে কথা বলে দেখি অন্য কোন সুযোগ থাকলে তখন দেখি কি করা যায়। -নাজমুল হাসান পাপন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সদস্য হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথও নিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের এই সদস্য।

এরপর থেকে গুঞ্জন শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি থেকে সরে দাঁড়াতে যাচ্ছেন পাপন। এ নিয়ে গতকালই সংবাদমাধ্যমে পাপন বলেন, নতুন বিসিবির সভাপতি নিয়োগে তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আইনেও কোনো সমস্যা নেই, এটাই হচ্ছে বড় কথা।

আরও পড়ুন :  সীতাকুন্ডে অস্ত্র কারখানায় সেনাবাহিনীর হানা, সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৪

বিসিবি প্রধান বলেন, ‘এখানে বেসিক কয়েকটা ব্যাপার আছে, প্রথম কথা হচ্ছে ইচ্ছা করলেই ছেড়ে দেওয়া যায় না। সেটা আমরা জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রেও দেখেছি দুই বছর তারা প্রায় নিষিদ্ধ। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও এবার দেখেছি। আমি মনে করি এমন কিছু তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যেটা দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করতে পারে। তবে অপশন কি কি আছে। একটা অপশন ওদের সাথে আমার কথাটা বলতে হবে। এখানে দুটো জিনিস আছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা হচ্ছে আমাদের মেয়াদ যেটা সবসময় আইসিসি চায় তাদের নির্বাচিত কমিটি ফুল মেয়াদটা। আর একটা হচ্ছে আইসিসির মেয়াদ।

এদিকে নাজমুল হাসান পাপনকে মন্ত্রী তালিকায় রাখার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের মধ্য থেকে একজন হচ্ছেন বিসিবি সভাপতি। পাপন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার পর এ আলোচনায় জোর হাওয়া লাগে। তবে বাইরের কারো সুযোগ নেই উল্লেখ করে পাপন বলেন, আমার মনে হয় একটা হতে পারে আইসিসির মেয়াদটা শেষ হয়ে গেলে তখন একটা চিন্তা করে ওদের সাথে কথা বলে বের হয়ে আসার সুযোগ আছে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই এখন যারা বোর্ডের ডাইরেক্টর আছে তাদের মধ্যে থেকে একজন হবে। মানে বাইরে থেকে কারও আসার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন :  ইসলামী ব্যাংকের ১৬০০ কোটি টাকা গায়েব

নিজে থেকে এ বছরই মেয়াদ শেষ করতে চান পাপন আগে জানিয়েছিলেন। এছাড়া আইসিসির একটা কমিটিরও চেয়ারম্যান তিনি। তাই নিয়মকানুন মেনে নিতে চান পরবর্তী সিদ্ধান্ত। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, আগেই বলেছি এটাই শেষবারের মতো। কিছু বাধ্যবাধকতাও আছে। আমার মেয়াদ শেষ করতে হলে তো সামনের বছর। আইসিসিরও কিছু নিয়মকানুন আছে। একেক টার্মের পর বিভিন্ন কমিটি হয়। আমি বিভিন্ন কমিটিতে আছি এমনকি একটা কমিটির চেয়ারম্যানও। এগুলো থেকে নড়াচড়ার উপায় নেই। নতুন কেউ এলেও আইসিসি এগুলো বদল করে না। আমার ধারণা সর্বোচ্চ হয়ত এই বছর। চেষ্টা করব আইসিসির সাথে কথা বলে দেখি অন্য কোন সুযোগ থাকলে তখন দেখি কি করা যায়।

আরও পড়ুন :  সিরাজ-দুলাল দুই ভাইয়ের কব্জায় কেজিডিসিএল!

উল্লেখ্য, আ হ ম মুস্তফা কামাল আইসিসির সভাপতি হওয়ায় ২০১২ সালে পাপনকে অন্তর্বর্তীকালীন বিসিবি সভাপতি করা হয়। ২০১৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে চার বছর মেয়াদে সভাপতি হন তিনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে তৃতীয় মেয়াদে বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কমিটির মেয়াদপূর্ণ হবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তিনি চাইলে এ সময় পর্যন্ত বোর্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পদত্যাগ করলে বর্তমান কমিটি থেকে যে কোনো একজনকে সভাপতি নির্বাচিত করবে পরিচালনা পর্ষদ।

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন