সোমবার- ১৬ মার্চ, ২০২৬

সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত হলো ভাসানচর

সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত হলো ভাসানচর
print news

বশেষে চট্টগ্রাম জেলার বদ্বীপ সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলো বহুল আলোচিত ভাসানচর। চরটির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল সন্দ্বীপ ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়াবাসীর মধ্যে।

তবে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটি ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে প্রতিবেদন দেয়।

কমিটির প্রতিবেদনে সরেজমিন পরিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিলের মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট ইমেজ (ভূ-উপগ্রহের ধারণকৃত ছবি) বিশ্লেষণ করে দ্বীপটির ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে উল্লেখ করা হয়।

গত মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয়।

সন্দ্বীপের স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯২ সালে সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন সাগরগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙনের পরপরই পুনরায় সেখানে চর জাগতে শুরু করে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় অভিযান, তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

সন্দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি গত শতকের নব্বইয়ের দশকে নতুন ভূমি জেগে উঠতে শুরু করে বলে বন বিভাগের তথ্য সূত্র জানায়।

এরপর কয়েক দশক দ্বীপের ভূমির পরিমাণ বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে ঠ্যাঙ্গারচর নামে পরিচিতি পেলেও ২০১৭ সালের দিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের আলোচনার মধ্যেই সেটির নামকরণ হয় ভাসানচর।

একই বছর দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে সেটিকে নোয়াখালীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সেখানে ভাসানচর থানা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনেও ভাসানচরকে হাতিয়া ও নোয়াখালীর অংশ বলে উল্লেখ করা হলে সন্দ্বীপের ছাত্র, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিক্ষোভ করেন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরে আগুন

সে সময় মনিরুল হুদা নামের সন্দ্বীপের এক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নির্বাহী বিভাগের প্রতি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও প্রতিপালিত হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্বাহী বিভাগ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে।

কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকসহ সন্দ্বীপ ও হাতিয়া উপজেলা থেকে তিনজন করে পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরে আগুন

গত ৯ মার্চ এই কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সিএস ও আরএস জরিপ এবং স্যাটেলাইট ইমেজ পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ ভাসানচরকে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার ভূমি বলে প্রতিবেদন জমা দিলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য আরও সময় নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র মতে, সন্দ্বীপ থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে জেগে ওঠা নতুন দ্বীপ ভাসানচর। এটি ভাঙনে বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের জায়গায় গড়ে উঠেছে। সে কারণে দ্বীপটি সন্দ্বীপের। দ্বীপটি বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দখলে। ফলে দ্বীপটি অন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।

ঈশান/মম/বেবি

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page