
ইরানের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে ‘বড় বোমা’ হামলা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার অষ্টম দিনে এ হামলা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার সংবাদমাধ্যমটির বরাতে আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
বেসেন্ট স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তার মতে, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
কেবল সামরিক সংঘাত নয়, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে নতুন করে ১৫১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক ঘোষণায় জানানো হয়, ইসরায়েলের কাছে এক হাজার পাউন্ড ওজনের মোট ১২ হাজার বোমা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বরাতে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন হওয়ায় এসব অস্ত্র কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাধারণত বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকে। তবে এবারের সিদ্ধান্তে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে বলে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। তবে কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এই বোমাগুলো ঠিক কোথায় ব্যবহার করবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
যদিও ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি ইসরায়েলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে ও আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করবে।
এদিকে ইরানের মাটিতে সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা, একজন সাবেক কর্মকর্তা ও আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকজন ব্যক্তি বিষয়টি সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের বাইরে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনে ইরানে সীমিত সংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম নিরাপদে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন শাসকরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে।
সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পের আলোচনায় বড় আকারের স্থল অভিযান নয়, বরং নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ছোট একটি বিশেষ বাহিনী পাঠানোর ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
You cannot copy content of this page