শুক্রবার- ৬ মার্চ, ২০২৬

ঋণখেলাপি মামলায় এস আলমের দুই ব্যাংকের শেয়ার ক্রোকের নির্দেশ

ঋণখেলাপি মামলায় এস আলমের দুই ব্যাংকের শেয়ার ক্রোকের নির্দেশ

নতা ব্যাংকের দায়ের করা দুই হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তাঁর ভাই আবদুস সামাদ লাভুর দুই ব্যাংকের শেয়ার ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেয়ার থাকা ব্যাংক দুটি হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালতের জজ মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে এই ঋণের এত বড় অনিয়ম কিভাবে হলো সেটির তদন্ত করতে বলা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, এস আলমের (সাইফুল আলম মাসুদ) কিছু শেয়ার আছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এছাড়া তার ভাই আবদুস সামাদ লাভুর কিছু শেয়ার আছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

আবেদনের প্রেক্ষিতে দু‘জনের শেয়ারগুলো ক্রোকাবদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এই ঋণের এত বড় অনিয়ম কিভাবে হলো সেটি তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে রবিবার সকালে জনতা ব্যাংকের পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ও সাধারণ বীমা শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সত্যজিত ঘোষ।

তিনি জানান, গত ২০ নভেম্বর জনতা ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে এস আলম গ্রুপের ১ হাজার ৮৬০ শতাংশ জমি নিলামে তোলে। জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা ভবন করপোরেট শাখা থেকে এই ঋণ নেওয়ার ফলে শাখাটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিলাম ডাকে।

আরও পড়ুন :  জ্বালানি তেল-গ্যাসের দুর্দশার মুখে বাংলাদেশ

আপাতত গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ঋণ আদায়ে নিলাম ডাকা হলেও ধীরে ধীরে বাকি ঋণের জন্য অন্য বন্ধকি স¤পত্তি নিলামে তোলা হবে বলে জানা গেছে। নিলামে তোলা স¤পদগুলো চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, কোতোয়ালি, চান্দগাঁও ও বাকলিয়া উপজেলায় এবং গাজীপুরে। এসব জমির বাজারমূল্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার মতো বলে জানান সত্যজিত ঘোষ।

এদিকে বাংলাদেশের ক¤পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর ২০২১ সালের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা না মেনে ঋণসীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছে। ২০১২ সালে সাধারণ বিমা ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম করপোরেট শাখা থেকে প্রাথমিকভাবে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয় গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

এ ঋণ ২০২১ সাল পর্যন্ত সুদ-আসলে মোট ১ হাজার ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পিএডি (পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট), ২২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এলটিআর (লোন ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণ এবং ২২৯ কোটি ৯৯ কোটি টাকা সিসি হাইপো ঋণ।

সুদ-আসল মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এস আলম গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন শিল্প কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য এবং নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায় জড়িত ছিল।

ঈশান/মখ/সুম

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page