
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, একটা দল ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নাম্বার নিচ্ছে।
তিনি বলেন, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন সব নানা বিষয় উঠে আসছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে তা নয়, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবং রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের সমর্থনে লোহাগাড়া বাস স্ট্যান্ড, সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, যারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে তারা তো নির্বাচনই চায়নি। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ সময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিএনপির পক্ষে ধানের শীষের জোয়ার নয় সুনামি আসছে, এই সুনামিতে সব অপশক্তি ভেসে যাবে। গণজোয়ার দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জনগণের ভোটে যারা ক্ষমতায় যেতে পারবে না তারাই এই ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আমির খসরু বলেন, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার। সংসদে ভালো লোক, ভদ্র লোক আসতে হবে। আন্দোলন শেষ হয়নি, আন্দোলন শেষ হবে ১২ তারিখে। যখন ভোটের ফলাফল আমাদের হাতে আসবে। কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, না হলে ধান খেয়ে ফেলবে। ১২ তারিখ সফল হতে না পারলে এত বছরের আন্দোলন- সংগ্রাম ত্যাগের কোনও মূল্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, কোনও বাধা-বিপত্তি বিএনপির সামনে দাঁড়াতে পারবে না। চট্টগ্রামের মানুষ ১২ তারিখ ধানের শীষের বিপ্লব ঘটাবে। চট্টগ্রামের মাটি ধানের শীষের উর্বর মাটি, এটি শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ঘাঁটি। ধানের শীষকে ফিরিয়ে আনতে হবে, বিএনপিকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
একই সঙ্গে নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নের জন্য ১১ দফা প্রতিশ্রুতিও দেন আমির খসরু। উন্নয়ন পরিকল্পনা হলো-আধুনিক ও জনবান্ধব চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজ এলাকায় ১২০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ। তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্ননির্ভর করে গড়ে তোলা, শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা চালু করে নিরাপদ এলাকা নিশ্চিত করা, পানি সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা, যানজটমুক্ত নগর, পরিবেশ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই ও নিরাপদ রাস্তাঘাট তৈরি করা, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা, সহজ ও সমন্বিত নাগরিক সেবা সর্বোপরি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১১ আসনকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও এডভান্স নগর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ স¤পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম স¤পাদক এসএম সাইফুল আলম, সাবেক ¯েপশাল পিপি অ্যাডভোকেট আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ এবং আমির খসরুর ছেলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।