
কক্সবাজারে ইয়াবা উদ্ধার কম দেখানো ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ প্রায় চারশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।
র্যাব সদর দপ্তর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিয়মিত বদলি’ হিসেবে জানালেও একাধিক সূত্র বলছে দুটি বিতর্কিত অভিযানের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে এই গণবদলি করা হয়েছে।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উিং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী জানিয়েছেন, এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি নিয়মিত বদলির অংশ।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীর-এর অধিনায়ক ছিলেন।
র্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার অনুমোদনে ১৯ নভেম্বর দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৯৮ ও ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার আরও ৭৪ জনকে বদলি করা হয়।
তবে র্যাব সদস্যদের কেউ যদি অপরাধে জড়িত থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী।
সূত্র মতে, গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখানো হয়। নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়। এজাহারে তথ্যভ্রষ্টের অভিযোগ রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আরেক বিতর্কিত অভিযান হয় ২৬ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায়। সেখানে ডজন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও, জব্দতালিকায় মাত্র ৭টি ইটের টুকরা ও ২টি কাঠের লাঠি দেখানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমামকেও অভিযানের নেপথ্যের ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন র্যাব সূত্র।
You cannot copy content of this page