সোমবার- ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, ১৪৪ ধারা জারি

গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, ১৪৪ ধারা জারি

# শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ
# কুপিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, প্রক্টরসহ আহত অর্ধশতাধিক
# চবির সকল পরীক্ষা স্থগিত
# পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকা। এ সময় কুপিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন চালায় স্থানীয়রা। চালানো হয় গাড়ি ভাঙচুর। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চবির ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্বসীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী। স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে চবির সকল পরীক্ষা।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ১৪৪ ধারা জারির তথ্য জানানো হয়। দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল ১ সেস্টেম্বর সোমবার দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেহেতু অদ্য ৩১ আগস্ট ২০২৫ইং তারিখে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে সকাল আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় জনসাধারণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর¯পর মুখোমুখী ও আক্রমণাত্নক হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে পক্ষসমূহ আক্রমণাত্নক অবস্থায় রয়েছে।

সেহেতু আমি মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমার ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের জীবন ও স¤পদ রক্ষা ও শান্তি শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্বসীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পার্শ্বে রোববার দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করা হইল।

ওই সময়ে উল্লিখিত এলাকায় সব প্রকার সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব প্রকার দেশীয় অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা স¤পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হইল।

সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ আগস্ট রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার আহতদের মধ্যে অনেকের পরীক্ষা ছিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

প্রক্টরসহ আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস এসে থামে মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে। বাস থেকে একে একে নামানো হয় আহত শিক্ষার্থীদের।

এদের অনেককে স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, আবার স্ট্রেচার ছাড়াও শিক্ষার্থীরা কোলে করে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে মেডিকেলে। আহতদের অনেকের মাথাসহ শরীর বিভিন্নভাবে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে।

আরও পড়ুন :  সিরাজ-দুলাল দুই ভাইয়ের কব্জায় কেজিডিসিএল!

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, এখন আহত ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, ১৪৪ ধারা জারি

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরবি বিভাগের ফুয়াদ হাসান, আন্তর্জাতিক স¤পর্কের শাওন, ইতিহাস বিভাগের তাহসান হাবিব, লোকপ্রশাসনের আশরাফ রাতুল, গণিতের লাবিব, ইংরেজির হাসান জুবায়ের হিমেল, অর্থনীতির নাহিন মুস্তফা, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল-মাসনুন, ইসলামিক স্টাডিজের আশিক মিয়া, দর্শনের মাহিন ও তামিম, সমাজতত্ত্বের হুমায়ুন কবির, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের রিদুয়ান, অ্যাকাউন্টিংয়ের রিফাত ও রিপন, বাংলার সাইদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইয়েন।

আহতদের সঙ্গে থাকা চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন উর রশীদ মামুন বলেন, স্থানীয়দের হামলায় ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অনেকে চবির হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা গুরুতর আমরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ তানভীর হায়দার আরিফ মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী আহত। সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী, নাজমুল হোসেন এবং নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডির গাড়ি, পুলিশের টহলগাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ চাইলে তারা সময়মতো আসতে পারেনি। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

কুপিয়ে ছাদ থেকে ফেলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের দুই ছাত্রকে ভবনের ছাদে কুপিয়ে সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজনকে শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া দুই ছাত্রের মধ্যে একজনের নাম রাজিউর রহমান রাজু। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তবে বিভাগের নাম জানা যায়নি। আহতদেও আরেকজন হলেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আল মাসনূন। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক সাব্বির হোসেন জানান, মাসনূনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের কুপানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নাম্বার রাস্তা স্থানীয়দের দখলে ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সেনাবাহিনীকে খবর দিলে পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ক্যা¤পাস এলাকায় সেনা মোতায়েন রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিজাউর রহমান বলেন, ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ধারালো অস্ত্রের কোপ খেয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন গুরুতর জখম হন। চোখের নিচে ঘুষি ও আঘাতের কারণে তার রক্তপাত হচ্ছিল। তার ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলী ও নাজমুল হোসেইন এবং নিরাপত্তা প্রধান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রোভিসি বললেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডাররা মারছে
গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের মধ্যে আহত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা হেলমেট পরে গ্রামবাসীর মধ্যে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করেছে।

আরও পড়ুন :  চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন চবির আহত শিক্ষার্থীরা

গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, ১৪৪ ধারা জারি

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আহত উপ-উপাচার্য। এ সময় তিনি সময়মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন। তবে বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনী-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি তুলনামূলক ভালো আছি। কিন্তু আমার অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মেরে মেরে ওখানে ফেলে দিচ্ছে। আমরা এখনও আর্মি-বিজিবি কিছু পাচ্ছি না। আমার অসুস্থ হাত, সেই হাত দুটো চাপ দিয়ে তারা আমাকে আহত করেছে। প্রত্যেক ছাত্রকে তারা দা দিয়ে কোপাচ্ছে, সবদিকে কোপাচ্ছে। এটা কোন জায়গায় আছি আমরা?

সংঘর্ষের শুরু যে কারণে
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ সেশন) সাফিয়া খাতুন নামের এক নারী শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেটের মাছ বাজার সংলগ্ন শাহাব উদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি রাত ১১টার ২০ মিনিটের দিকে বাসায় ঢুকতে চাইলে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাগবিতন্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। ওই শিক্ষার্থী তার এক ছেলে বন্ধুকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ওই দারোয়ানকে ধরতে গেলে ওই এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এ সময় শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে।

এসময় আশপাশের স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় যে, চবি শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এতে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় চবির ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাফিয়া খাতুন বলেন, আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বাসায় ফিরি। গেট খোলার জন্য অনেকক্ষণ ডাকতে থাকলেও দারোয়ান দরজা খোলেননি। পরে আমার রুমমেটরা ডাক দিলে গেট খোলা হয়। তখন তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং আমার ঘাড়ে চড় মারেন। আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।

সংঘর্ষের শুরু যখন থেকে
শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয়দের হামলায় ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ, চবির নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এর জের ধরে রোববার সকাল থেকে একই এলাকায় আবারও উত্তেজনা এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের শুরু হয়। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিনসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার (৩১ আগস্ট) দেড়টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইটসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলা সংঘাত অব্যাহত ছিল। গ্রামের লোকজনকে বড় রামদাসহ আরও বিভিন্ন ধারালো, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সময় ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

আরও পড়ুন :  সীতাকুন্ডে অস্ত্র কারখানায় সেনাবাহিনীর হানা, সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৪

শনিবার রাতে ঘটনার পর রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে চবির পুরো ক্যা¤পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসসহ চবির আশপাশ এলাকায় পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, শনিবার রাত ১২টার দিকে নিরাপত্তা টিম ঘটনাস্থলে গেলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথেষ্ট উপস্থিতিও ছিল না।

তিনি বলেন, সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হলে রাত ৩টা ২০ মিনিটে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু রোববার সকাল থেকে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। তবে ১৪৪ ধারা জারির পর দুপুর ২টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

উপদেষ্টা আসিফ ভূঁইয়ার পোস্ট :
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত থেকেই তৎপর সরকার। গ্রামবাসীর বাধায় কয়েক দফা চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে ফোর্স পৌঁছেছে।

তিনি লিখেন- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। চবি ছাত্রনেতাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে এখনো সংঘাত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

হামলা হয় তিন সপ্তাহ আগেও
শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগে গত ৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হন, এর মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর প্রশাসনের কেউ না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, ১৪৪ ধারা জারি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চাঁদা দাবি ও দোকান হস্তান্তর নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের একটি দোকানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কিছু শিক্ষার্থী নতুনভাবে তা ভাড়া নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই দোকানটি দখল নিতে এবং চাঁদা আদায়ের জন্য স্থানীয় কয়েকজন লোক যাদের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কর্মকর্তা বাবুল তার লোকজন নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করেন এবং দোকান দখলের চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি না হলে স্থানীয়রা হামলা চালায়।

আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
১৪৪ ধারা জারির পর সংঘর্ষ থেমে গেলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় নিয়মিতই নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের অবহেলা থাকায় বারবার শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম বলেন, পুলিশের তৎপরতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর নির্ভর করে। প্রশাসন পুলিশের সহযোগীতা চাইলে পুলিশ তৎপর হয়। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই পুলিশের। সুতরাং চবির আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ চবি প্রশাসনের এখতিয়ার।

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন