
চট্টগ্রাম মহানগরীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুবাইফেরত প্রবাসী শফিউল আলমের গাড়ি থামিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দু‘জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের নদিমপুর এলাকার মো. সোহেল ওরফে সোহেল রানা (৪০) এবং হাটহাজারী উপজেলার ইছাপুর (ফয়জিয়া) বাজারের জুয়েলার্স দোকানের কর্মী উত্তম চৌধুরী ওরফে রবি চৌধুরী (৪০)। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণালংকারের একটি অংশ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, দুবাই প্রবাসী শফিউল আলম (৩৮) গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভাড়া করা গাড়িতে করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এসময় তার কাছে ছিল ৪টি স্বর্ণের নেকলেস, ১০টি আংটি, ২টি বালা ও ৩টি চেইন মোট ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছিল একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা (মূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকা), একটি ব্যবহৃত গুগল পিক্সেল সিক্স (৪০ হাজার টাকা), একটি ব্যবহৃত আইফোন ফিফটিন প্রো (এক লাখ ৩০ হাজার ৩০০ টাকা), একটি ব্যবহৃত ভিভো ওয়াই সিক্সটিন (১৩ হাজার টাকা) এবং একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ (৫০ হাজার টাকা)।
৩ হাজার ৫০০ দুবাই দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা), নগদ ১৩ হাজার টাকা এবং উন্নতমানের কাপড়চোপড় ও খাদ্যসামগ্রী, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা ছিল। ওই দিন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের লালখান বাজারের ওপর পৌঁছালে একটি নোহা গাড়ি তার গাড়ির গতিরোধ করে। সেখান থেকে চার জন নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি হাতে জোরপূর্বক সব মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শফিউল আলম খুলশী থানায় মামলা দায়ের করলে তার সূত্র ধরে ছায়া তদন্তে নামে ডিবি দক্ষিণ। তদন্তের একপর্যায়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কোতোয়ালী থানার কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর ইছাপুর বাজারের আমানত শাহ জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে উত্তম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উত্তম চৌধুরীর তথ্যে হাটহাজারী বাজারের এসএম শপিং সেন্টারের বন্ধু সুন্দর জুয়েলার্স থেকে ছিনতাইকৃত ৫ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা বিদেশফেরত প্রবাসীদের লক্ষ্য করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাইসহ তিনটি মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানায় ডিবি পুলিশ।
You cannot copy content of this page