
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা রোডে অবস্থিত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানা ও কে বেকারীতে অভিযান চালিয়েছে ভাম্যমান আদালত। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্যামিকেলযুক্ত নিম্নমানের ভেজাল খাদ্য প্রস্তুত করার দায়ে পিউরিয়াকে ১৩ লাখ টাকা ও কে বেকারীকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য আইনে ধার্য্য করা ১৩ লাখ টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিক পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানার এজিএম হাফেজ উদ্দিনসহ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পাহাড়তলী থানায় আটক রাখা হয়।
সাড়ে ৬ ঘন্টা আটক থাকার পর রাত ৯টার দিকে জরিমানার ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা। অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. ইয়াছিন উল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা রোডে অবস্থিত পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানার মালিক হচ্ছেন নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকায় অবস্থিত খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফুলকলির এমডির একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ফুলকলিতে যেমন অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের ভেজাল খাদ্য উৎপাদন করা হয় ঠিক পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানায়ও তার চেয়ে আরও অনেক বেশি অস্বাস্থ্যকর ও ক্যামিকেলযুক্ত নিম্নমানের ভেজাল খাদ্য প্রস্তুত করা হয়।
এ কারখানায় উৎপাদীত অধিকাংশ খাদ্য উৎপাদনের বিএসটিআইয়ের কোন অনুমোদন নেই। সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন করা হয় বিভিন্ন রকমের খাদ্যপণ্য। যা খেয়ে নিরীহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। এমন তথ্য পেয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে "পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড এ শনিবার দুপুর আড়াইটায় সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবেশে রান্নাঘর ও কাঁচামাল সংরক্ষণাগারে তেলাপোকা, ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব, স্যাঁতস্যাঁতে-তৈলাক্ত ফ্লোর, ভাঙ্গা ও পঁচা-পোকাস¤পন্ন ডিম মজুদ, ফ্রিজারে রক্ত-মাংসের উচ্ছিষ্টাংশ জমাট বাঁধা, মিষ্টিতে পোকা-মাছি পড়ে থাকা, মাওয়াতে মাজনির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলুমিনিয়ামের উপস্থিতি মিলে।
এছাড়া খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ; খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা; খাদ্যদ্রব্যে অস¤পূর্ণ লেবেলিং-লেভেলিংয়ে অপকৌশল অবলম্বন (অগ্রীম উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ করা), খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ভেজাল; প্রক্রিয়াকরণ স্থলে বর্জ্য দ্রব্য সংরক্ষণসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ২৫, ২৮, ৩২(ক), ৩২(খ), ৩৩ ধারানুযায়ী পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের মালিক পক্ষকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
এসময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খাবার অনুপযোগী প্রায় ১২০ কেজি মিষ্টিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য জব্দ করে তৎক্ষনাৎ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং খাবার উপযোগী প্রায় ৫০ ক্যারেট বেকারি পণ্য (ব্রেড, বিস্কুট, টোস্ট, সেমাই) মেয়াদে কারচুপির জন্য জব্দপূর্বক জামিয়া মাদানিয়া শোলকবহর, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম ও আল হুমায়রা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানা, চান্দগাও, চট্টগ্রাম শীর্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতিম শিশুদের জন্য বিতরণ করা হয়।
এদিকে জরিমানার অর্থও তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে না পারায় খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্টান পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড এর এজিএম হাফেজ উদ্দিন, এডমিনিস্ট্রেশন কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করে পাহাড়তলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকে সাড়ে ৬ ঘন্টা থানার জেল হাজতে আটক থাকার পর রাত ৯টার দিকে জরিমানার ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলে তিন কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় পাহাড়তলী এলাকার কে বেকারীকেও ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং সিএমপি, চট্টগ্রাম এর একটি চৌকস টিম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সার্বিক সমন্বয় করেন। জনস্বার্থে এজাতীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় অংশগ্রহণকারীরা।
এ বিষয়ে জানতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের এজিএম হাফেজ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল কেটে দেন। ফোন রিসিভ করেননি ফুলকলি ও পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের এমডিও। ফুলকলির ডাইরেক্টর আবছার উদ্দিন ফোন রিসিভ করলেও তিনি পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের ডিজিএমের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
You cannot copy content of this page