
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দিনগত সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. জাউদ্দীন নগরীর ৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, অধিকাংশ আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয় পেলেও কয়েকটি আসনে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিএনপির বিশাল বিজয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো- জয়ী ১৪ প্রার্থীর ১০ জনই নবীন। এরা হলেন-
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও চসিক আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের মো. আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. নাসির উদ্দীন মুনির (রিকশা) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ। তিন ধানের শীষ প্রতীকে ৭৯ হাজার ২০৭ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের ডা. আবু নাসের পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির এনামুল হক এনাম। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমদ। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এলডিপির অধ্যাপক ওমর ফারুক (ছাতা প্রতীক) পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ২৬ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট।
নবীনের পাশাপাশি প্রবীণ ও হেভিওয়েট প্রার্থীরাও তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সন্দ্বীপের (চট্টগ্রাম-৩) মোস্তফা কামাল পাশাও টানা চতুর্থবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হলেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পোস্টাল ভোটসহ ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের আলাউদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৬২ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৭ ভোট।
আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম-১৩) আসনে সরওয়ার জামাল নিজামও তাদের ধারাবাহিক বিজয় ধরে রেখেছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।