
কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত টানেল দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন যাতে দ্রুত সময়ে কক্সবাজার কিংবা মহেশখালী মাতারবাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্যে গড়ে তোলা হবে আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার বিকল্প সড়ক।
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খনন হবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার তিন নদী। নদীগুলো হলো- কাচালং, রাইক্ষ্যং ও শলক নদী। মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। যা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এমন তথ্য জানিয়েছেন বাপাউবো, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের রাঙামাটি পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, কর্ণফুলী টানেল দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন যাতে দ্রুত সময়ে কক্সবাজার কিংবা মহেশখালী মাতারবাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে সেই লক্ষ্যে আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণ প্রকল্প মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন ও পটিয়া-কক্সবাজার সড়কের সাথে সংযোগ ঘটাতে আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ বিকল্প সড়ক করবে সওজ। এই প্রকল্পে বিদ্যমান সড়ক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ছাড়াও প্রায় আড়াই কিলোমিটার নতুন বাইপাস সড়ক তৈরি করা হবে। সবমিলিয়ে খরচ হবে ৪১৩ কোটি টাকা।
সওজ যেকোন দুর্যোগ ও আপদকালীন সড়ক হিসাবে এ বিকল্প সড়কের প্রস্তুতি হিসেবে এই প্রকল্প ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয় বলে জানান চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে চাপ কমানোর জন্য গাছবাড়িয়া আনোয়ারা জেলা সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ছৈয়দ কুচাইয়া মোড় থেকে ২.৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক পিএবি সড়কে সংযুক্ত হবে। এ সড়কে নির্মাণ কাজ শেষ হলে কর্ণফুলী টানেল হয়ে ঢাকা থেকে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সুফল ভোগ করবে।
এদিকে বাপাউবোর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের রাঙামাটি পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মঙ্গলবার একনেকের সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী ও সংযুক্ত কাচালং, রাইক্ষ্যং ও শলক নদীর টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা' প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের অধীনেই নদীগুলোর নৌপথ খনন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
ষাটের দশকের শুরুতে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ছয় দশক পর প্রথমবারের মতো হ্রদকেন্দ্রিক এই তিনটি নদীর নৌপথ খনন হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নদীপাড়ের ভাঙনরোধ ও নদীর পাড় রক্ষায় রক্ষাপ্রদ কাজ, খাল খননসহ উন্নয়নমূলক কাজ হবে। নদী খননের ফলে নদীকেন্দ্রিক দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি এই হ্রদের পানির উপর নির্ভরশীল পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। বাড়বে মাছ উৎপাদনও। এতে সহজতর হবে যাত্রী ও কৃষিপণ্য পরিবহন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন জেলার বাসিন্দারা।
সূত্র মতে, কাচালং নদীর ৪৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার, রাইক্ষ্যিং নদীর ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার ও শলক নদীর ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারসহ মোট ৬৫ কিলোমিটার নৌ-পথ খনন করা হবে। এছাড়া জেলার দশটি উপজেলার ১০টি খালের ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার নৌ-পথ এবং ৪০টি স্থানে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ হিসেবে রক্ষা বাঁধ দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রকল্পটির অধীনে প্রথমবারের মতো কাপ্তাই হ্রদের পরিবেশগত অবস্থা জানতে জরিপকাজও চালানো হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০৩০ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদের নৌ-পথে খনন এটা জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাঘাইছড়ি উপজেলায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। কাচালং নদীসহ জেলার তিনটি নদীপথ খননের প্রকল্প পাসের খবর আমাদের আনন্দ ও স্বস্তিদায়ক। আমরা প্রত্যাশা করব শীঘ্রই যেন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং জেলাবাসীর দুর্ভোগ যেন কাটে।