শনিবার- ১৪ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরে আগুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরে আগুন

# পুরোনো ফাইলপত্র পুড়ে ছাই
# কাজে আসল না অগ্নিনির্বাপক স্টিম বুশার
# দানা বাঁধছে রহস্য

ট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলীতে ্অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের (সিসিএস) সংস্কার কাজ চলমানরত একটি কার্যালয়ে আগুন লেগে পুড়ে গেছে পুরোনো ফাইলপত্র। দপ্তরে থাকা অগ্নিনির্বাপক স্টিম বুশার থাকলেও আগুন নেভাতে শেষ পর্যন্ত ডাকা হয় ফায়ার সার্ভিসকে। এতে রক্ষা পায় গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার স্টেশন কক্ষ।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনগত রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে পাহাড়তলী সিসিএস দপ্তরের পি-টু শাখায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটের দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টায় আগুন লাগার খবর পায় তারা। এরপর আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় রাত পৌনে ১টার দিকে। আগুনে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। শর্টসার্কিট বা সিগারেটের আগুন থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মহোদয়ের অনুমোদনক্রমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিসিএস দপ্তরের জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-১) আরিফুজ্জামান শিকদারকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) কে, সদস্যরা হলেন-বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনী কমান্ডেন্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-১) আরিফুজ্জামান শিকদার বলেন, যেখানে আগুন লেগেছে সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। সংস্কার কাজের জন্য সেখান থেকে এক মাস আগে প্রয়োজনীয় কাগজ ও নথিপত্র আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যেসব পূরনো ফাইলপত্র পুড়েছে সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। বড় বিষয় হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার স্টেশনের কোন ক্ষতি হয়নি। ফলে আগুনে তেমন ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছি না।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগুন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লেগেছে বলে মনে হচ্ছে না। কোন অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ আগুন লাগিয়েছে তাও মনে হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে দিনের বেলায় কার্যালয় সংস্কারে চালের লোহার অ্যাংগেলে ওয়েল্ডিং করার সময় আগুনের ফুলকি পুরনো কাগজপত্রে পড়েছে। যা ধীরে ধীরে পুড়ে রাতের দিকে আগুন ধরে যায়। তবে তদন্তের পর পুরো ঘটনা জানা যাবে।

সূত্র জানায়, গত ১৩ মার্চ শুক্রবার দিনগত রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নিয়মিত টহলের সময় আরএনবি সদস্য মো. সাব্বির হোসেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পিছন সাইডে অর্থাৎ মেইন রোডের পার্শ্বস্থ দেওয়াল সংলগ্ন একটি কক্ষে আগুনের ফুলকি বা কুন্ডলী দেখতে পায়। সে তার ঊর্ধ্বতন লাইন ইনচার্জকে অবহিত করে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে।

এরপর দায়িত্বরত আরএনবি সদস্যরা দপ্তরে রাখা ফায়ার স্টিম বুশার ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে সেগুলো কাজ করেনি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ব্যবহৃত ফায়ার স্টিম বুশারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দপ্তরের অভ্যন্তরে রাখা কাগজপত্রের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে যায়। বিশেষ করে যেখানে দপ্তরের ফাইলপত্র রাখা হয়েছে ঠিক সেই কক্ষেই আগুন লাগার ঘটনায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কোনোরকম অনিয়মের প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পিত ঘটনা কি না।

ঘটনার পর সেখানে ছুটে আসেন সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাশেদ ইবনে আকবরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা। তবে আসতে পারেননি প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার। গত কয়েকমাস ধরে তিনি অবস্থান করছেন ঢাকায় রেল ভবনে। সেখানে বসে দাপ্তরিক কাজ করেন তিনি। তবে মাঝে-মধ্যে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরেও আসেন।

আগুন নেভানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ছুটে আসা কর্মকর্তারা বলেন, ফায়ার স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় আগুন নেভানোর জন্য রাখা ফায়ার স্টিম বুশারগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিষয়টি দেখে কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের মালামাল সংরক্ষণের জন্য গুদাম রয়েছে। এখানে রাসায়নিকসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থও রাখা থাকে। দেশি-বিদেশি পণ্য ক্রয় করে গুদামজাত করার পাশাপাশি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কেন্দ্র। কেপিআই জোন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় দপ্তরটিতে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকেন আরএনবি সদস্যরা। এরপরও এই দপ্তরে একের পর এক ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এর মধ্যে গত দু‘বছরে নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙ্গে গুদাম কেটে সরঞ্জাম চুরির একাধিক ঘটনা রয়েছে। এরপর ঘটল অগ্নিকান্ডের ঘটনাও।

ঈশান/খম/মসু

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page