মঙ্গলবার- ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গারদ রাজ্য জঙ্গল সলিমপুর!

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গারদ রাজ্য জঙ্গল সলিমপুর!

# অভিযানে নেমে গুলিতে নিহত র‌্যাব সদস্য
# চলছে কম্বাইন্ড অপারেশন

ট্টগ্রামে ৩৩০ সন্ত্রাসীর প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারীর পর অভিযানে নেমে সেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলেন র‌্যাব-৭ এর এক সদস্য। গুলিতে আহত হলেন আরও তিন সদস্য। যাদের দু‘জন এখন সিএমইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে গড়া যৌথবাহিনী কম্বাইন্ড অপারেশন পরিচালনা করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুর এক সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকাটি সন্ত্রাসীদের গারদ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে বর্তমানে আট থেকে দশ হাজার বসতি গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসীরা।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলেন র‌্যাব-৭ এর সদস্য মোতালেব। এ সময় এক সোর্স ছাড়াও র‌্যাবের আরও তিন সদস্য গুলিতে আহত হয়েছেন। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবিদ্ধ তিন র‌্যাব সদস্যকে অপহরণ করে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে জিম্মি করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানান সীতাকুন্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭ এর একটি দল সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে ছিন্নমূল আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু প্রবেশ মুখেই র‌্যাব সদস্যদের গাড়ি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মুখে পড়ে। তাদের অনেকের হাতেই অস্ত্র ছিল। অনেকে আবার ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়েও র‌্যাবের গাড়ির দিকে হামলা চালায়।

এর পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে গুলি চালাতে থাকে। এতে র‌্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল মোতালেব গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুলিতে আহত আরও দুই র‌্যাব সদস্যকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফোর্স এখন সেখানে কম্বাইন্ড অপারেশন পরিচালনা করছে।

সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে গত দুই দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী। এলাকাটিকে বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ নগরীতে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিচয়পত্র।

বহিরাগত তো বটেই, এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকারও সেখানে নিয়ন্ত্রিত। একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী পক্ষ।

এদের মধ্যে আলীনগর বহুমুখী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। বর্তমানে এই দুই সমিতিতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

আরও পড়ুন :  সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উপড়ে ফেলা হবে

আরো যত হামলা
সূত্র মতে, জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের ওপর নারকীয় হামলা চালানো হয়। এতে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং সীতাকুন্ড থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সন্ত্রাসীরা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও গুলি চালাতে হয়।

এর আগে ২০২২ সালেও একাধিকবার র‌্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সালের ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে রাত সাড়ে ৯ টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত টানা অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৭। এ সময় মশিউর বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শিবলুর নেতৃত্বে গুলি করতে থাকে র‌্যাবের ওপর। র‌্যাবও পাল্টা ১২৯ রাউন্ড গুলি চালায়। এসময় র‌্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হলেও ধৈর্যের সাথে অভিযান চালিয়ে সেই আস্তানা থেকে ৫ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রফিকুল ইসলাম মালু (৪১), মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৪), মো. হাসান (৩৫), জামাল শেখ (৪৭) ও মিজানুর রহমান কদর। এ সময় বিভিন্ন স্থান ও সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ১০টি দেশীয় ও ১টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি ধারালো ছোরাসহ ২২ রাউন্ড গুলি এবং তাদের আস্তানা থেকে মিলিটারি গেজেট, মিলিটারি পোশাক, মিলিটারি বাইনোকোলার ও অবৈধ ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৭ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সরকারি জমি প্লট আকারে লোকজনের কাছে বিক্রয় করে টাকা আদায় করত। সে এলাকায় বসবাসরত গরিব লোকদের সরকারি বিদ্যুতের মিটারের পরিবর্তে মশিউরের নিজ মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহ করে সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুত বিল আদায় করতো। এছাড়াও এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও নিজেদের অপরাধকর্ম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে মশিউর ও তার ছেলে শিবলু একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। পরে তাদের গারদ রাজ্যে পরিণত হয় সলিমপুর।

র‌্যাব-৭ সূত্র আরও জানায়, সলিমপুর এলাকায় যারা বাস করেন তাদের প্রত্যেকেই চিহ্নিত ও দাগি সন্ত্রাসী। এদের একেক জনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রফিকুল ইসলাম মালুর (৪১) বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় ১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫টি, মো. হাসান (৩৫) এর বিরুদ্ধে ৭ টি, জামাল শেখ (৪৭) এর বিরুদ্ধে ১০টি এবং মিজানুর রহমান কদরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০ টিরও অধিক মামলা রয়েছে।

যেভাবে গারদ রাজ্যে পরিণত হয় সলিমপুর
একসময় নির্জন পাহাড়ি অঞ্চল ছিল জঙ্গল সলিমপুর। যেটি এখন পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে। সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য। তিন হাজার একরেরও বেশি খাসজমি দখল করে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি, প্লট ও বাজার।

আরও পড়ুন :  সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত হলো ভাসানচর

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পলাতক অপরাধীরা এসে এখানে আশ্রয় নেয়। ছিন্নমূল মানুষের নামে সরকারি জায়গা দখল করে এখানে বসবাস শুরু হয়। পরে দখল হয়ে ওঠে সংগঠিত ব্যবসা। স্থানীয়দের বাইরে বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারে না। প্রবেশের জন্য লাগে অনুমতি, আর নিয়ম ভাঙলে শাস্তি দেয় স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে গড়ে উঠেছে দুইটি বড় আবাসিক এলাকা। একদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে ৫৮৬ দশমিক ৬০ একর সরকারি জায়গা দখল করে প্রায় ১৩ হাজার ৯০০টি প্লট তৈরি করেছে।

অপরদিকে আলীনগর সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের সংগঠন তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ দশমিক ৩২ একর জায়গা দখল করে বানিয়েছে আড়াই হাজারের মতো প্লট। প্রতিটি প্লট ১০ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। পাহাড় কাটার জন্য এখানে চালু আছে টোকেন সিস্টেম।

প্রতিদিন ৫০০ টাকা দিয়ে সমিতির টোকেন কিনতে হয়, আর সেই টোকেন থাকলেই নির্দিষ্ট পাহাড়ে একদিনের জন্য মাটি কাটার অনুমতি মেলে। যতদিন না পাহাড় বসবাসযোগ্য হয়, ততদিন টোকেন নবায়ন করতে হয়। বসবাসের উপযোগী হলেই জায়গাটি বায়নামায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। এভাবে পাহাড় কাটা, জমি বিক্রি ও টোকেন বাণিজ্য করে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভূমি অফিসের জরিপেও প্রমাণ মিলেছে জঙ্গল সলিমপুরে ৩৭টি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ৯০-এর দশকে দুর্ধর্ষ ভূমিদস্যু আলী আক্কাস প্রথম এই এলাকায় আশ্রয় নেয়। তার হাত ধরেই শুরু হয় অবৈধ দখল ও পাহাড় কাটা। কম দামে ছিন্নমূল মানুষদের প্লট দেওয়ার নামে তাদের দিয়ে পাহাড় কেটে বসতি গড়ানো হয়। এতে যেমন আলী আক্কাসের স¤পদ বাড়ে, তেমনি তৈরি হয় তার সশস্ত্র বাহিনী।

২০১০ সালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারী রোকন, মশিউর, ইয়াছিন, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন, আল আমিন সাগরসহ অনেকে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে নিয়মিত। ইয়াছিনের বিরুদ্ধে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে এক ডজনের বেশি খুন, অস্ত্র, প্রতারণা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগেও জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ দখল রোধ সম্ভব হয়নি। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান দায়িত্বে থাকাকালে পাহাড় কেটে বানানো কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও, তার বদলির পর সব কার্যক্রম থমকে যায়। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এখানকার অবৈধ দখলদাররা রাজনৈতিক আশ্রয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারা যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সেই দলের ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে এসেছে।

আরও পড়ুন :  সিএমপির তালিকার এক নম্বর সন্ত্রাসী পিচ্চি জাহেদ গ্রেফতার

চট্টগ্রাম পরিবেশ ফোরামের তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুর ও আলিনগর মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ভূমিদস্যু দখল করে নিয়েছে অধিকাংশ এলাকা। এদের সঙ্গে রয়েছে আরও প্রায় তিনশ সহযোগী। এ এলাকার প্রতিটি অংশ ভাগ করে তৈরি করা হয়েছে ১১টি সমাজ। প্রতিটি সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিরা নির্ধারণ করে দেন কোথায় পাহাড় কাটা হবে, কোথায় সড়ক হবে, কে সরকারি সহায়তা পাবে। সমিতির সদস্য না হলে কেউ এখানে থাকতে পারে না।

এই সমাজগুলো মশিউর, গাজী সাদেক, রোকন-গফুরদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পাহাড় কাটা ও দখলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইয়াছিন বাহিনী, আল আমিন বাহিনী, মকবুল শেখ বাহিনী, আক্কাছ বাহিনী, আবছার বাহিনী, জামাল বাহিনী, গাজী সাদেকুর রহমান বাহিনী, মশিউর রহমান বাহিনী ও গোলাম গফুর বাহিনীসহ আরও অনেক চক্র। তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে পাহাড় কাটা, প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানের ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্য।

চট্টগ্রাম পরিবেশ ফোরাম জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের অন্তত ৪০ শতাংশ পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি মারাত্নকভাবে বেড়েছে, যা পুরো চট্টগ্রামের জন্য বিপজ্জনক। এখানকার পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ ও ভূগোল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এদিকে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম না থাকায় দখলদাররা নতুন করে ঘর-বসতি ও বাজার নির্মাণ করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বারবার অভিযান চালালেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পুরনো চেহারায় ফিরে আসে এলাকা।

প্রশাসন ও বিজ্ঞজনের ভাষ্য
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারশেন) মো. সিরাজুল ইসলাম পিপিএম এ প্রসঙ্গে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতার পেছনে ৭৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সেখানে গড়ে উঠেছে এক প্রকার স্বতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা, যেখানে আইন নয়, শাসন চলে অস্ত্র ও প্রভাবের। সরকারি পাহাড়ি জমি দখল করে গড়ে ওঠা এই এলাকা এখন পরিণত হয়েছে দেশের ভেতর আরেক দেশে।

বিজ্ঞজনের ভাষ্য, চট্টগ্রামের শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা এই জঙ্গল সলিমপুর এখন অপরাধ, ভূমি দখল, হত্যা, অস্ত্র ও মাদকের কেন্দ্রস্থল। প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ না এলে এই ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হবে। দেশের ভেতর এই অন্য দেশ-কে পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও শক্ত অবস্থানে সরকারের সুসংগঠিত অভিযান।

তবে আশার খবর চট্টগ্রামের সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভা শেষে ওই এলাকায় একটি যৌথ অভিযান বা কম্বাইন্ড অপারেশন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ঈশান/খম/বেবি

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page