
ফৌজদারি মামলায় দু‘জনকে গ্রেপ্তার ও একজন আত্নগোপনের ঘটনায় সমালোচনার মুখে চাকরি গেল যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এর প্রভাবশালী তিন সিবিএ নেতার।
এরা হলেন— শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব এবং কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ) মোহাম্মদ হাসান ইমাম। তিনি জানান, আবুল হোসেন আট মাস এবং এয়াকুব দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জয়নাল আবেদীন আত্নগোপনে রয়েছেন। এর পর সমালোচনার ঝড় বইছে যমুনা অয়েলের সর্বত্র।
সূত্র মতে. সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গ্রেপ্তার বা অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে। বিধান মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার তাদের চাকরি থেকে বহিষ্কার করে চিঠি ইস্যু করে কর্তৃপক্ষ।
তথ্য মতে, গত বছরের ২০ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে সভাপতি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়কার সহিংসতার মামলায় তাকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
এয়াকুব ১৯৯৭ সালে ৯৩৫ টাকা বেতনে যমুনা অয়েলে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তার বর্তমান বেতন দাঁড়ায় ৮৫ হাজার ১০০ টাকা। ২০০৯ সালে লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এক বছর পর সাধারণ সম্পাদক হন। গত দেড় দশক ধরে তিনি এই পদে ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এয়াকুবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক তথ্যে চট্টগ্রাম ও বোয়ালখালীতে একাধিক জমি, আগ্রাবাদে যৌথ মালিকানায় জমি এবং খুলশীর দামপাড়ায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে, যার দলিলমূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে লাপাত্তা ছিলেন। সরকারি জ্বালানি তেল চুরি, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ব্রাজিল বাড়ি নামে ছয়তলা একটি ভবনের মালিক তিনি। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে বাড়িটির নাম ব্রাজিল বাড়ি রেখে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন তিনি।
You cannot copy content of this page