
আপনার যাকাতে একটি পরিবার ফিরে পেতে পারে সম্মানজনক জীবন’-এমন সব আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে যাকাত ও অনুদান দিতে আহ্বান জানানো হয়। কোথাও বলা হয়, এতিম শিশুদের জন্য একবেলা আহার বা অন্তত এক কেজি চাল দেওয়ার আহ্বান, আবার কোথাও ‘স্বজন হারানো গাজাবাসীর ঘরে রমজানের উপহার’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের পাশে শুরু থেকেই রয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এই রমাদানে ১০ লক্ষ রোজাদারকে ইফতার করানোর ঘোষণাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া যাকাত সংগ্রহের জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ব্যয়বহুল ফাইভ স্টার হোটেলে অনুষ্ঠান আয়োজন করে এবং ফেসবুকে পেইড বিজ্ঞাপন চালায়। এমনকি একটি বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ১ লাখ টাকায় কিনুন আখিরাতের পুঁজি।
গত ৭ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এমন প্রায় ৩০টি পেইড বিজ্ঞাপন চলছে শুধু ফেসবুকেই। এসব বিজ্ঞাপনে তারা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। আবেগময় এই প্রচারণার আড়ালে উঠছে ভিন্ন প্রশ্ন। কারণ দেশে যাকাত ও অনুদান সংগ্রহের পাশাপাশি ১৩ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা, গাজা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানোসহ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর কত যাকাত ও অনুদান সংগ্রহ করেছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে-এ বিষয়ে কোনো আর্থিক বা অডিট প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা নেই।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত নথি এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের ‘ভলান্টারি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এজেন্সিজ (রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রতি বছর আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিতে হয় এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু মাস্তুল ফাউন্ডেশন এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। ফলে সংগঠনটি কত অর্থ সংগ্রহ করেছে, কিভাবে ব্যয় করেছে এবং কতজন উপকারভোগী সহায়তা পেয়েছেন—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত নয়।
এমনসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ওঠে এসেছে দেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে প্রকাশিত কাজী শামীম হাসান, সাঈদ আল মেসবাহ চৌধুরী ও রশিদুল হাসানের এক প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন শাখার উপপরিচালক মো. কামাল হোসেন ডেইলি সানকে বলেন, সংগঠনটির আর্থিক প্রতিবেদন তাদের কাছে নেই। নথিপত্র চেয়ে সংগঠনটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সংগঠনগুলোকে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। কর্মকর্তাদের নজরদারি যথেষ্ট ছিল না বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের দাবি, তারা গাজা উপত্যকা এবং সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজা বা সুদানে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর কোনো অনুমোদন এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠনকে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, মানবিক সহায়তার জন্য বিদেশে অর্থ পাঠানোর অনুমোদন মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সৈয়দা ফারহানা ইয়াসমিন ডেইলি সানকে বলেন, সংগঠনের সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশে গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৭ জন সদস্য প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বহন করে বিদেশে যান, যা ব্যক্তিগতভাবে বহনের অনুমোদিত সীমার মধ্যে পড়ে।
তিনি বলেন, মিশর হয়ে তারা গাজার ভেতরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রিয়াজ রহমান বর্তমানে মিশরেই অবস্থান করছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যৌথভাবে গাজায় কাজ করছে তাদের সংগঠন। সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেও অর্থ পাঠানো হয়। তুরস্কে ভূমিকম্পের সময়ও তারা ত্রাণ পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
গাজায় প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষের জন্য সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে ১০ হাজার ডলার যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, বিদেশে অর্থ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আবেদনও করা হয়েছিল।
ডেইলি সানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৬ এপৃল ফেসবুক পোস্টে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দাবি করে, গাজায় তাদের দুই স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন। তবে ওই দাবির বিস্তারিত যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বছরের ১৭ এপৃল একটি অনলাইন পোর্টাল ছাড়াও মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয়, গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানোর সময় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ফেসবুকে অনেক পাঠক এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তারা গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
তবে ২০২১ সালে ফেসবুকে সংগঠনটি দাবি করে, তারা ৫০০ জনকে স্বাবলম্বী করেছে এবং আরও এক হাজার মানুষকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তারা যাকাত দেওয়ার আহ্বান জানায়। ২০২৪ সালে ফেনীর বন্যা এবং এর আগে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনার দুর্যোগের সময়ও ফেসবুকের মাধ্যমে জাকাত, সদকা ও অন্যান্য অনুদানের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য ঘর পুনর্নির্মাণ, গবাদিপশু বিতরণ, নলকূপ স্থাপন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং জীবিকাভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগঠনটি কত অর্থ সংগ্রহ করেছে, কিভাবে ব্যয় করেছে এবং কতজন উপকারভোগী সহায়তা পেয়েছেন—এসব বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। সংগঠনের ওয়েবসাইটে গাজা সহায়তা, সুদান ত্রাণ, এতিম সেবা, মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহায়তা এবং জরুরি ত্রাণসহ বিভিন্ন অনুদান ক্যাটাগরি উল্লেখ থাকলেও কোনো অডিটকৃত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি।
পারিবারিক নির্বাহী কমিটিতে চলে মাস্তুল ফাউন্ডেশন
২০১২ সালে কাজী রিয়াজ রহমান মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০২১ সালে এটি ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নিবন্ধিত হয় এবং পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে নিবন্ধন সম্প্রসারিত হয়।
ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে ডেইলি সান জানিয়েছে, মাস্তুল ফাউন্ডেশনে ২০২০–২৩ মেয়াদের সাত সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে চেয়ারম্যান ছিলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী রিয়াজ রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। তিনজনই ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা।
এ ছাড়া সহসভাপতি ছিলেন ফারহাত লামিসা কবির। নির্বাহী সদস্য হিসেবে ছিলেন মাহমুদা খানম, মোহসেনা আক্তার ও সাহানা আক্তার। সমাজসেবা অধিদপ্তরে দেওয়া ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কিছু অসংগতি দেখা যায়। নির্বাহী সদস্য সাহানা আক্তারের নামে দেওয়া নম্বরে কল করলে ট্রুকলার অ্যাপে সেটি ফেরদৌস ওয়াহিদের নাম দেখায়। সহসভাপতি ফারহাত লামিসা কবিরের নম্বর হিসেবে দেওয়া নম্বরটি কাজী রাইহান রহমানের নামে দেখায় এবং কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের নম্বর হিসেবে দেওয়া নম্বরটি রিয়াজ রহমানের বলে প্রদর্শিত হয়।
দাখিল করা নথি অনুযায়ী ২০২৬–২৭ মেয়াদের নির্বাহী কমিটিও সাত সদস্যের। এতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রিয়াজ রহমান দায়িত্বে রয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ, যিনি রিয়াজ রহমানের মতোই ফেনীর পরশুরামের চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম একই পদে থাকলেও তার নামে দেওয়া নম্বরটি আবারও রিয়াজ রহমানের বলে দেখা যায়।
কমিটিতে তালাত মাহমুদ চৌধুরী নামে একজন সদস্য রয়েছেন, যিনি রিয়াজ রহমানের ছোট বোন কাজী ফারজানা রহমানের স্বামী। আরেক সদস্য উম্মে হানেই সালমা রিয়াজ রহমানের চাচাতো বোন এবং কাজী মামুনুর রহমানের মেয়ে বলে জানা গেছে। সংগঠনের ফেসবুক পেজে কাজী মাইনুর রহমানকে উপদেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাইহান রহমান বলেন, তার নম্বর অন্য সদস্যের নামে ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।।
এছাড়া গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ফেনীর পরশুরামের চিথলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে কাজী মামুনুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। মামুনুর রহমান বলেন, তার দুই ভাই কাজী ওবায়দুর রহমান, যিনি সাবেক ব্যাংকার, এবং কাজী মাইনুর রহমান আগে বেসরকারি খাতে কাজ করতেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইনুর রহমান বহু আগে গ্রাম ছেড়েছেন এবং বর্তমানে ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকেন, যেখানে পরিবারের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। উত্তরাতেও তাদের আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাইয়ের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে মামুনুর রহমান বলেন, বিস্তারিত তিনি জানেন না। তারা দেশে-বিদেশে অনুদান সংগ্রহ করে ত্রাণ বিতরণ করেন—এটুকুই তিনি জানেন। গ্রামের বাসিন্দারাও মাস্তুল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই বলে জানান।
১৩ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্রঋণের কারবার
‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ নামে ফেনীর পরশুরামে আমানত ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে এবং ঢাকায় এর শাখা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি পরশুরাম সফরে প্রতিবেদক থানার পাশের একটি ভবনে সংগঠনটির অফিস দেখতে পান, যেখানে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সাইনবোর্ড ঝুলছিল।
ঋণ ও আমানত কার্যক্রমের কর্মী মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ফেনী জেলায় তাদের কয়েকটি শাখা রয়েছে এবং গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা প্রায় ১৩ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বা সুদ নেন। প্রতিবেদক সেখানে মাস্তুল ফাউন্ডেশন নামের সাইনবোর্ড এবং গ্রাহকদের ঋণ হিসাবের খাতাও দেখেছেন। সেখানে একটি অস্থায়ী সনদ নম্বর ২০২১০০১৪৮৩ উল্লেখ ছিল।
তবে মাইনুর রহমান দাবি করেন, মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচি ফাউন্ডেশনের দাতব্য কার্যক্রম থেকে আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের তহবিল দিয়ে তারা মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচি পরিচালনা করেন এবং এর সঙ্গে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সম্পর্ক নেই। এটি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদিত একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি বলেও তিনি দাবি করেন।
মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ কর্মকর্তা রাইহান রহমান বলেন, ঋণ কার্যক্রমে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অর্থ ব্যবহার করা হয় না। তবে মূলধনের উৎস সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেননি। পরে আবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছ আর্থিক প্রকাশ এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাকাত ও জনসাধারণের অনুদান সংগ্রহ করতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অডিট প্রতিবেদন ও আর্থিক তদারকির অভাব স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যেও ২০২৫ সালের ২৬ মে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশনসহ নয়টি অলাভজনক সংস্থাকে ‘জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলে ব্যক্তিগত করদাতারা আয়কর রেয়াত সুবিধা পান। এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় সমাজসেবা দিবসেও সমাজসেবা অধিদপ্তর মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে সম্মাননা দেয়।
ডেইলি সানকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নাগরিক অধিকারকর্মী ফিরোজ মিয়া বলেন, সরকারের শুধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নিবন্ধন দিলেই হবে না, তাদের কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদনও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করলে অন্তত তাদের নিবন্ধন বাতিল করা উচিত।
You cannot copy content of this page