
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন ১৮৬ প্রবাসী। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ৮ জন শিশু। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে আজারবাইজানের বাকু হয়ে তারা ঢাকায় ফিরেন।
ফ্লাইটটি শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বাংলাদেশি নাগরিকরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।'
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই ১৮৬ জন খুবই দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে ইরান থেকে বের হতে পেরেছেন। বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে তাদের প্রায় চার দিন রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তেহরান, আঙ্কারা, দিল্লি, জেনেভা ও আজারবাইজানে নিযুক্ত বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাও (আইওএম) পুরো যাত্রায় তাদের সহায়তা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪০ জনের কাছে পাসপোর্ট না থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জরুরি 'ট্রাভেল পাস' দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ইরানে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এবং সেখানে অবস্থানরতরা বর্তমানে নিরাপদ আছেন।'
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক বলেন, 'পাসপোর্ট বা বৈধ নথি থাকুক বা না থাকুক, সংকটের এই সময়ে নাগরিকত্বের পরিচয়ই মুখ্য। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিপদে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।' আজ একইদিনে বাহরাইন ও দাম্মাম হয়ে আরও ২২০ বাংলাদেশি ভিন্ন ভিন্ন রুটে ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন বলে জানান তিনি।
ইরানে বর্তমানে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন এবং মিশনগুলো তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে সংঘাতের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে মোট ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
সবশেষ গত ১৮ মার্চ সৌদি আরবের আল খারজ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দগ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি মারা যান।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন, ২ মার্চ বাহরাইনে একজন এবং ৮ মার্চ সৌদি আরবে আরও দুজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান।
You cannot copy content of this page