বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এবং প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের তিন দফা দাবিতে সারা দেশে উত্তাল আন্দোলন চলছে।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা একইদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অকালমৃত্যু হয়েছে দাবি করে পড়েছেন গায়েবানা জানাজা।
একইভাবে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর থেকেও চুয়েট শিক্ষার্থীরা নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। এ সময় তারা ভুয়া ভুয়া, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, ২৪-এর বাংলায়, ডিপ্লোমা কোটার ঠাঁই নাই, জেগেছে রে জেগেছে, প্রকৌশল সমাজ জেগেছে, ১,২,৩, ৪ ডিপ্লোমা তুই কোটা ছাড় শীর্ষক ¯ে¬াগান দেন।
কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক ছাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টেরিমের জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেয়েছে। তার মানে ইন্টেরিম এখন মৃত। এজন্য ইন্টেরিমের অকাল মৃত্যুতে আমরা গায়েবানা জানাজা পড়েছি। আমাদের দাবি ছিল তিন দফা। সেটা ছিল রাজপথে ছাত্রদের রক্ত ঝরার আগ পর্যন্ত।
যেহেতু এখন ছাত্রদের রক্ত ঝরেছে, তাহলে আমাদের দাবি এখন চার দফা। ইন্টেরিমের পুলিশকে ছাত্রদের কাছে মাফ চাইতে হবে। হামলায় জড়িতদের বিচার করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি নেব।
বিক্ষোভে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, (চুয়েট), আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারখানেক প্রকৌশল শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে নগরীর মুরাদপুর, অক্সিজেন সড়ক, চকবাজার ও মেডিকেল সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সড়কে শত, শত যানবাহন আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম হোসেনের কক্ষে ডাক পান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০-২৫ জন প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারী কর্মচারী-কর্মকর্তা।
তাদের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল, সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার জামান সাইদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত, সাদ্দাম ও গোলাম কিবরিয়া সোহান রোকনকে ঘিরে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তারা হুমকিদাতাদের শাস্তি দাবি করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত বেশ কয়েক মাস ধরে চাকরিক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের বৈষম্যের প্রতিবাদে ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চুয়েটসহ সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো নবম গ্রেডে নূন্যতম যোগ্যতা বিএসসি রেখে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ, দশম গ্রেডকে কোটামুক্ত করে বিএসসিদের জন্য সুযোগ করে দেওয়া এবং বিএসসি ছাড়া যেন কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার না করতে পারে তা নিশ্চিত করা।