
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নেই। প্রকাশ করা হয়নি কোন টেন্ডারও। আগের চুক্তিতে গোপনে দেওয়া হয়েছে ৩.৬৬ একর মূল্যবান জমি লীজ। সাথে লীজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে দু‘বছরে ৪৬ কোটি টাকার রেয়াতি সুবিধা। আর এই কাজের পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্টদের কত কোটি টাকা দিতে হয়েছে এটাই এখন প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘুষের লেনদেন হয় চার দেয়ালের মধ্যে। যা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও দেখার সাধ্য নেই। অনিয়মও গোপন থাকে ফৃজের মধ্যে। আর বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে এমন অনিয়ম চালাচ্ছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও সাবেক সচিব ওমর ফারুক। এতে প্রতিনিয়ত রচিত হচ্ছে লুটপাটের এক মহাকাব্য।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধায় কোন রকম পরিকল্পনা ও টেন্ডার ছাড়াই ভাড়া রেয়াতি সুবিধায় লীজ দেওয়া হয়েছে মূল্যবান এই জমি। যা ভবিষ্যতে বন্দরকে হুমকিতে ফেলতে পারে। আর এ কাজের মোটা অঙ্কের হাদিয়া বন্দর চেয়ারম্যানের হাতেও পৌছে যায় ওমর ফারুকের মাধ্যমে।
ফলে হাদিয়ার ফাইলে চোখ বুঝে স্বাক্ষর করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। যার চাক্ষুস প্রমাণ রয়েছে জমি লীজের ফাইলের নথিতে। যেখানে বন্দর সচিব (বর্তমানে পরিচালক-প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক, বোর্ডের সদস্য (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদার, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ এবং চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান মিলে সই করেছেন।
তবে নথিটি উপস্থাপনের পুরো কাজটিই করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। যিনি ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বন্দর চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুসারে নথিটি উপস্থাপন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনোরকম মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ফাইলের নথির বিশ্লেষণমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন আরেকটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ১০.৬৬ একর জমি লীজ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এর মধ্যে ৩.৬৬ একর জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই।
এই লীজ চুক্তির প্রথম দুই বছর দেওয়া হয়েছে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে রেয়াতি সুবিধা। জমি লীজ দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্দরের সম্ভাব্য সংকটকেও আমলে নেওয়া হয়নি। জমি বরাদ্দ পেলেও লীজ গ্রহীতা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড এখনো কাজ শুরু করেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দু‘বছরের ভাড়া রেয়াতি সুবিধা দিয়ে ২০ বছরের জন্য জমি লীজের কোন তথ্য বন্দরের প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনাতে নেই। এক্ষেত্রে বন্দরের আইন কর্মকর্তার মতামতও নেওয়া হয়নি। দুটি জমি একত্রে টেন্ডার ডাকা হলে আরও বড় বিনিয়োগকারী পাওয়া যেত। আয়ও হতো বেশি।
এ বিষয়ে লীজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুলের সাথে কথা বলতে গিয়ে পুরো গোমর ফাঁস হয়। ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মিলে ঘুষ লেনদেনের আভাসও।
তিনি বলেন, পরের ৩.৬৬ একর জমিটি আমাকে আগের টেন্ডারের আওতায় লীজ দেওয়া হয়েছে। আগের ৭ একর লীজের বিপরীতে বন্দরকে বছরে ১৫ কোটি টাকা ভাড়া অগ্রিম হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে। জিটুজি ও পিপিপির অধীনে টার্মিনাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দর থেকে যে বেনিফিট পাচ্ছে, লোকাল ইনভেস্টর হিসেবে আমাকে তারা কোনো বেনিফিট দিচ্ছে না।
দু‘বছরের গ্রেস পিরিয়ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, পিসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর আরএসজিকে কীভাবে গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হলো? এটিতো (পিসিটি) একেবারে রেডি টার্মিনাল। আইন সবার জন্য সমান হলেও আরেকটি ডিপোকে ৩৩ বছরের জন্য জমি লীজ দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কোনো টার্মিনেশন ক্লজ নেই। সেখানে কী কী হয়েছে সেই খবর তো আপনারা রাখেন না।
বিদেশিদের টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন যে টার্মিনালগুলো করার জন্য বন্দর বিদেশিদের কাছে দিয়েছে, যেমন মার্স্ক (লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের বিনিয়োগকারী অপারেটর), অপারেশন শুরু না করলে তারা (মার্স্ক) কোনো পয়সাই দেবে না। ওদের (মার্স্ক) সঙ্গে প্রথম ৩০ বছর এগ্রিমেন্ট করেছে, প্রথম তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে। তারপরে আরও ১৫ বছর তারা এক্সটেনশন পাবে। তার মানে তাদের দিয়েছে ৪৮ বছর। এরপরও আমরা তাদের বঞ্চিত করি না। ওই পয়সা আমাকে ব্যবসা থেকেই তো আনতে হবে, ঘর থেকে তো এনে দেবো না।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ নিজেদের পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত (নম্বর-১৯৩৮৫) মোতাবেক ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৭ একর জমি লীজ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডাকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য কর্ণফুলী নদীর ভাটির দিকে সাগর মোহনার কাছের জমিটি বার্ষিক ১৫ কোটি টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমিটিতে নদীর মুখ রয়েছে ১৬৫.২০ মিটার। জায়গাটিতে নতুন একটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করবেন লীজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান। যাতে বছরে প্রায় চার লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হবে।
ওই জমি ইজারা পাওয়ার তিন মাস পর ২০২৫ সালের ২৪ জুন একই জমির লাগোয়া ৩.৬৬ একরের আরেকটি জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস। আবেদিত জমিটিতেও নদীর মুখ রয়েছে ৯৫ মিটার। ওই বছরের ১৯ আগস্ট পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত (নম্বর-১৯৫৯৯) মোতাবেক জমিটি আগের দরের হারাহারি দরে বার্ষিক ৭ কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৭২ টাকা ভাড়ায় ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকসকে ইজারা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর।
প্রথম জমির ইজারা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ইজারা ভাড়ার ওপর দুই বছর রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়। যাতে দুই বছরে লিজি প্রতিষ্ঠানকে পুরো জায়গাটি লিজের বিপরীতে কোনো প্রকার ভাড়া দিতে হবে না। এতে দুই বছরে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা রেয়াতি সুবিধা পায় লীজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান।
বন্দরের লীজ সংক্রান্ত একটি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরের ৩.৬৬ একরের জমিটি লীজ দিলে বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেল ও আউটারবার ড্রেজিংয়ের মাটি-বালি রাখার জায়গার সংকট তৈরি হবে। অনুমোদনের নথিতেই কথাটিও উল্লেখ করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে- ৩.৬৬ একর জমিটতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ীভাবে ¯েপস রেন্টের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া আছে। কর্ণফুলী নদী ও আউটারবার এলাকার নাব্য রক্ষার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান পাঁচটিকে ড্রেজিংয়ের বালি ও মাটি ডা¤িপংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমিটি ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেডকে বরাদ্দ দেওয়া হলে বন্দরের আয় বাড়বে। কিন্তু এতে ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ড্রেজিং প্রতিষ্ঠানের বালি-মাটি ডা¤িপংয়ের জায়গার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
কারণ পতেঙ্গা ১১ নম্বর ঘাট বোট ক্লাব থেকে ১৮ নম্বর নেভাল গেট পর্যন্ত মধ্যবর্তী পতেঙ্গা রাস্তার বামপাশে নদীর তীরবর্তী বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো জায়গা খালি নেই। কর্ণফুলী নদী ও আউটারবার এলাকার নাব্য রক্ষার্থে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে ওই নথিটিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিষয়টিও পাশ কাটিয়ে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই জমিটি লীজ দেওয়া হয়।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের এক অনুষ্ঠানে ভূমি ব্যবস্থাপনার অনিয়ম ও টেন্ডারবিহীন জায়গা লীজ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনে হচ্ছে। গণমাধ্যমে ভুল রিপোর্ট আসতেছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পরে বলবেন জানিয়ে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, নিয়ম মেনেই টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি লীজ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ৭ একর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার পর লীজি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবতার নিরিখে আগের উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরের ৩.৬৬ একর জমি লীজ দেওয়া হয়। রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নথি দেখা ছাড়া বিষয়টি বলা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম টেন্ডারে গ্রেস পিরিয়ড কিংবা রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কোনো অপশন ছিল না। ইজারা অনুমোদনের সময়েও সেটি ছিল না। পরে গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়। নতুন একটি টার্মিনালের প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে করা হয়। অথচ পুরো ১০.৬৬ একর জায়গাটি একত্রে টেন্ডার ডাকা হলে আরও বড় বিনিয়োগকারী আসতো। আরও বেশি দর ডাকার সুযোগ ছিল। এর পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময় হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী বলেন, টেন্ডারবিহীন জমি লীজ দয়ায় নয়, টাকার বিনিময়ে হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তারা বন্দরের স¤পত্তিকে নিজেদের স¤পদ মনে করেন। এর মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্রশাসক মো. ওমর ফারুকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কারণ দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরেই চাকরি করছেন। তার বাড়ি বন্দরের কাছাকাছি হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে। এ অবস্থায় দূর্নীতিতে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জমি লীজের পুরো প্রক্রিয়াটিও দুর্নীতির আশ্রয়ে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা অন্যায়ভাবে এ কাজে লাভবান হয়েছেন। ফলত তারা কোনো আইন বিধি, নিয়ম, সৌজন্যতাবোধ কোনো কিছুরই ধার ধারছেন না। এখানে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড-বিডার কনফারেন্স রুমে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন। সভাটি হয় চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা চারগুণ বাড়াতে বন্দর এলাকাসহ সংলগ্ন এলাকার রাস্তা, রেলপথ ও অন্য অবকাঠামো উপযোগীকরণ নিয়ে।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ স্যাটেলাইটভিত্তিক ম্যাপে বন্দরের আলোচিত টার্মিনালগুলোর অবস্থান এবং বর্তমান কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তুলে ধরেন। তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল বার্থ, এনসিটিতে বর্তমানে ৩৩ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি ডিপ সি টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল (সিটি-১), পিসিটি, এলসিটি মিলে চারটিতে ৪০ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়।
একইভাবে ২০২৫ সাল নাগাদ বে-টার্মিনাল (সিটি-২) বাস্তবায়ন হলে আরও ১৮ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে ২০৪০ সালে মাতারবাড়ি ডিপ সি টার্মিনালের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন হলে আরও ১৬ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার পরিকল্পনার কথা বলা হয় ওই প্রেজেন্টেশনে। সবমিলিয়ে ২০৪০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বছরে এক কোটি ৭ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।
একই সভায় জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ ন্যাশনাল পোর্ট র্স্ট্যাটেজি প্রকল্পের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। ওই তথ্যে বাংলাদেশে বর্তমান চলমান সবগুলো টার্মিনাল প্রকল্পের তথ্য থাকলেও নেই ট্রান্সমেরিনের কন্টেইনার টার্মিনালের তথ্য। অথচ ওই টার্মিনালটিতে বছরে চার লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার কথা রয়েছে।
(বি: দ্র: চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সচিব ও বর্তমান পরিচালক প্রশাসক ওমর ফারুকের অঢেল সম্পদের প্রতিবেদন প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার দৈনিক ঈশানের প্রিয় পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে)
You cannot copy content of this page