
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলে প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশে ফেরার জন্য বিনামূল্যে বিমান টিকিটও সরবরাহ করা হবে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে এই সহায়তার অঙ্ক ছিল তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমান প্রশাসন সেই পরিমাণ তিন গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে।
ডিএইচএস আরও জানায়, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসীদের দেশে ফেরার জন্য বিনা খরচে বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও থাকবে।
এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের জন্য এটি একটি সুযোগ। তারা যদি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েন, তাহলে এই সুবিধা পাবেন। অন্যথায় আমরা তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করব এবং সে ক্ষেত্রে তারা আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।
ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘সিবিপি হোম’ নামের একটি অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আবেদন করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময় একই অ্যাপ ‘সিবিপি ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল এবং তখন এটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হতো।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক এবং জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে সরকারের গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় হয়। সে তুলনায় স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে ৩ হাজার ডলার ব্যয় করা সরকারের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্প প্রতি বছর ১০ লাখ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তার প্রশাসন প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার অভিবাসীকে প্রত্যাবাসন করেছে।
২০২৬ সাল থেকে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ, নতুন আটক কেন্দ্র নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন সরকার।
You cannot copy content of this page