
ভোটের মাত্র কয়েকদিন বাকি। এর আগ মুহূর্তে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। নিলেন দোয়া।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নে গণসংযোগ ও একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকালে এই দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষই দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুপুরের পর তাদের সাক্ষাতের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকে। কেউ কেউ একে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, হেফাজতের আমির সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী জোট নিয়ে জামায়াত ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এ সময় আমিরের বক্তব্য ইসলামী ঐক্যজোটের দিকে গিয়েছিল। খোলাখুলিভাবে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছিলেন নির্বাচনী জোটে জামায়াতের সাথে ইসলামি ঐক্যজোট আসুক সেটা তিনি মনে প্রাণে চান না।
এরপর ফটিকছড়ি) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন দোয়া নেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা বিষয়টিকে ভোটের মাঠের নতুন সমীকরণ হিসেবে দেখছেন। অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে দল দুটির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচনের আগে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ রাজনীতির খেলা বলেই মনে করছেন অনেকে।
সাক্ষাৎকালে দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ফটিকছড়ির সামাজিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ফটিকছড়িকে একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি। ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলোকে সমাজ বিনির্মাণে আলেম-ওলামাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব, জনসেবামূলক রাজনীতি এবং আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শান্তি, শৃঙ্খলা ও পার¯পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
You cannot copy content of this page