শনিবার- ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে চট্টগ্রামে থাকবে তিন বাহিনীও

নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে চট্টগ্রামে থাকবে তিন বাহিনীও
print news

সন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি মাঠে থাকবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীও। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম এই তথ্য দিয়েছেন সাংবাদিকদের।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে স¤পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈচিত্র ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, যেসব এলাকায় যত জনবল প্রয়োজন, সেভাবেই সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনসারসহ সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি অনেক পুরনো একটি শব্দ। কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল, কেউ বলবে লেভেল নয়। তবে সরকার নির্বাচনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি রয়েছে তা সন্তোষজনক। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ হবে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেটের ব্যবহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো এটা খোলা থাকবে। ইন্টারনেট যদি কেউ বন্ধ করে, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভোটারদের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারেন সাংবাদিকরা।

নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক পুরনো শব্দ। কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো সব সময় ব্যবহার হয়। কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল, কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল না। কিন্তু আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে স¤পন্ন করা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং আনসার-ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে বিজিবি মোতায়েন, টহল শুরু
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত থেকে বিজিবির সদস্যরা চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিজিবির রিজিয়ন সদর দপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল মো. মাহামুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিজিবি মাঠে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।

তিনি জানান, বিজিবির সদস্যরা চট্টগ্রাম জেলার ১৬ সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল শুরু করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে স¤পন্ন করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে বিজিবি সদস্যরা।

নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার জাতীয়তাবাদি দল-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এলডিপি ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ২৫টি রাজনৈতিক দলের ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের প্রচারণায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিজিবি টহল শুরু করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির হাওয়া বইছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে।

ঈশান/মম/মউ

আরও পড়ুন