‘নগদ’ কিনতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্পগ্রুপ আবুল খায়ের!

  • দায় ও সরকারের পাওনা বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১৫০০ কোটি টাকা
  • নিষ্পত্তি করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির মামলাও
  • গ্রাহকের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলছে নগদ
  • ভর্তুকিরও কোন প্রয়োজন নেই
নিউজটি পড়েছেন: 1437
279
‘নগদ’ কিনতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্পগ্রুপ আবুল খায়ের!
গ্রাফিতি-দৈনিক ঈশান
ফলো করুনFacebookWhatsAppMessengerYoutube
Google News Follow
Dainik Ishanঈশান প্রতিবেদক২৪ মে, ২০২৬, ৫:০০ PM

ডাক বিভাগের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হলেও মালিকানা, অনুমোদন ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কে থাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘নগদ’ নতুনভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে মালিকানায়ও। এ প্রক্রিয়ায় নগদ কিনতে চাচ্ছে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ। নগদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার দায় রয়েছে, যা পরিশোধ করবে আবুল খায়ের গ্রুপ। দায় শোধের পর সরকারের প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পাওনাও দেবে শিল্পগ্রুপটি।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি প্রয়োজন হবে। এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠী প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় নগদ অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও তাতে শেষ পর্যন্ত সায় দেয়নি সরকার।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আবুল খায়ের গ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘নগদ দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। তাই গ্রাহকের স্বার্থ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নগদকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করপোরেট কাঠামোর আওতায় আনতে কাজ চলছে।’

গত ২১ মে বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে নগদের দায়দেনা ও মামলার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, কোটি কোটি গ্রাহকসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের মূলধনী সহায়তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শক্তিশালী করপোরেট ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সে কারণেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে একটি ছোট বিড়ি কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিকস, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য, তামাক এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়ম এবং অনুমোদিত কোনো অর্থ ছাড়াই ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি তৈরি করে। নগদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই রিয়েল মানি সংরক্ষণ ছাড়া অতিরিক্ত অন্তত ৬০০ কোটি টাকা ই-মানি ইস্যু করে। অর্থাৎ ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি বাজারে ছাড়ে। কোনো প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষিত না রেখেই এই ডিজিটাল অর্থ তৈরি করে লোপাট করা হয়।

বিষয়টি সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা দেখা গেলে সেটিই ই-মানি। দেশে ই-মানি বা ডিজিটাল অর্থের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট কিছু তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক সেটেলমেন্ট পরিচালনা করে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ই-মানি ইস্যুর ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগদ ৬০০ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো অর্থ সংরক্ষণ না করেই সমপরিমাণ ই-মানি বাজারে ছাড়ে, যা এখন প্রতিষ্ঠানটির দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যাংক যুক্ত থাকলেও এমএফএস ও ডিজিটাল সেটেলমেন্টে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাধারণত রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে প্রায় ১৬টি ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক।

জানা গেছে, এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলা ও তারল্য সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছিল। আবুল খায়ের গ্রুপ সেই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। সরকারের ধারণা, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নগদের মতো বড় পরিসরের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও নগদের বিশাল গ্রাহকভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক রয়েছে এবং দৈনিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এমএফএস বাজারে বিকাশের পরই নগদের অবস্থান। বড় এই বাজার ও নেটওয়ার্ক যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক সুযোগ বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সরকার ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, আবুল খায়ের গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নগদের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করলে দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদফতর। ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও এমএফএস ব্যবসা পরিচালনায় সরকার সমর্থ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডাক বিভাগও এককভাবে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা পরিচালনার সক্ষমতা রাখে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, নগদকে ডাক অধিদফতরের হাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে, কারণ ডাক অধিদফতরের পক্ষে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নগদ কেনার বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ওই সময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী।

নগদ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিজস্ব আয় দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এখনো লাভজনক অবস্থায় যেতে পারেনি। মূলত ‘ব্রেক ইভেন’ অবস্থায় রয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত নগদে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত কর্মী ৬২৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির মাসিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। ব্যয় কমাতে বিজ্ঞাপন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোকবলও কমানো হয়েছে। বড় অফিস ছেড়ে ছোট পরিসরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নগদের মূল আয়ের বড় অংশ আসে ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থের সুদ থেকে। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা সুদ আয় হয়। তবে মোবাইল আর্থিক সেবার সবচেয়ে বড় খাত ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট থেকে কার্যত কোনো মুনাফা পায় না প্রতিষ্ঠানটি। কারণ এ খাতের প্রায় পুরো কমিশন চলে যায় এজেন্টদের কাছে। নগদ পেমেন্ট সেবায় গ্রাহকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য চার্জও নেয় না। বরং প্রতি হাজার টাকায় ১ থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন নেয়। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে নগদের মাধ্যমে। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বড় গ্রাহকভিত্তি ও উচ্চ দৈনিক লেনদেনের কারণে এখনও নগদের বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও পেয়েছে নগদ। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘নগদ’। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে ‘ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন’ হিসেবে প্রচার করে। সরকারি লোগো ও রাষ্ট্রীয় আস্থার সুযোগ নিয়ে কীভাবে একটি বেসরকারি গোষ্ঠী কয়েক হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে এবং মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের প্রভাব বিস্তার হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। শুরু থেকেই ‘নগদ’কে সরকারি সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও নথিপত্রে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডাক অধিদফতরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে এ ব্যবসা শুরু করে। চুক্তিতে মুনাফা ভাগাভাগির কথা থাকলেও ডাক অধিদফতরের কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছিল না।

শুরুর দিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদের পাশাপাশি কাজী মনিরুল কবিরসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা থাকলেও পরে এতে যুক্ত হন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক দুই সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ‘ব্লু ওয়াটার হোল্ডিং’-এর মাধ্যমে নগদের মালিকানায় অংশীদার হন।

এছাড়া সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারের সন্দেহ প্রকাশ করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স ছাড়াই নয়বার সাময়িক অনুমোদনের মেয়াদ বাড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে নগদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বলা হয়, ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার অন্তত ১ হাজার ৭১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই অর্থ দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

২০২১ সালে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের অজুহাতে হাজার হাজার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় নগদ। অভিযোগ রয়েছে, এতে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্যান্ডেলস্টোন ইনভেস্টমেন্টস ও সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরের সময় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পাচারের সন্দেহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডভিত্তিক ‘মিরেস হোল্ডিংস লিমিটেড’-এর অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টিও অনুসন্ধানে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগকে বিভ্রান্ত করতে ‘ম্যানিপুলেটেড রিপোর্টিং পোর্টাল’ তৈরি করেছিল নগদ। এ পোর্টাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যে ই-মানি তথ্য দেওয়া হতো, তার সঙ্গে নগদের মূল ডাটাবেজের কোনো মিল ছিল না। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর এড়াতেই এই সমান্তরাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নগদে গ্রাহকের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বজায় রেখেই আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি। আপাতত কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন নেই।’

নতুন কোনো বড় বিনিয়োগকারী বা শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হলে নগদ শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগদ এখনও দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আমরা মনে করি। অন্য কোনো শিল্পগোষ্ঠীর যুক্ত হওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

ঈশান/প্রবি/বেবি

মন্তব্য করুন