
চট্টগ্রামের কাপ্তাই সড়কের রাউজান উরকিরচর মাইজ্জামিয়ার ঘাটার মাঝামাঝি স্থানে সৌদিয়া বাস ও সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন সিএনজির চালক। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনায় ক্ষুব্দ সিএনজি চালক ও স্থানীয়রা মিলে ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই সময় বাসটির পাশে থাকা চন্দ্রঘোণা থেকে ছেড়ে আসা নগরগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামক আরেকটি বাসেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই বাস পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপৃল) দুপুরে এ তথ্য জানান রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মামুন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, রোববার (১২ এপৃল) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কাপাÍাই সড়কের রাউজান উরকিরচর মাইজ্জামিয়ার ঘাটার মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় অটোরিক্সার চালক নিহত হয়েছেন। তার নাম নজরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি রাউজান পশ্চিম গুজরা নতুন রঘুনন্দন চৌধুরী হাট এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের ছেলে। আহত দুই যাত্রীর মধ্যে এক যাত্রীকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি বাসে আগুন দিয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বাসচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে রাউজান উপজেলার নজুমিয়া হাট ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে কয়েকজন যাত্রীসহ রাউজান নোয়াপাড়া পথেরহাটের দিকে আসছিলেন সিএনজি চালক নজরুল। এ সময় কাপ্তাইয়ের দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা দূরপাল্লার সৌদিয়া বাসটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে বিক্ষুব্ধ জনতা সৌদিয়া পরিবহনের বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সময় বাসটির পাশে থাকা চন্দ্রঘোণা থেকে ছেড়ে আসা নগরগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামক আরেকটি বাসেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় জুয়েল সিকদার নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস ও রাউজান ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত ১২ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। ততক্ষণে বাস দুটি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কে উভয় দিকে প্রায় এক কিলোমিটার করে যানজট সৃষ্টি হয়। সোয়া ১২ টার দিকে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।