শনিবার- ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আদালতের সিলগালা ভেঙে শিপইয়ার্ড চালাচ্ছে রাজা কাসেম

ম্যানেজারসহ ৫ জনের জেল

print news

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিলগালা ভেঙে শিপইয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে উপজেলার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফৌজদারহাট সাগর উপকূলে অবস্থিত কোহিনুর স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজারসহ ৫ জনকে জেলে পাঠিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানকালে ইয়ার্ডের ম্যানেজারসহ সেখানে কর্মরত ৫ জনকে আটক করে ১৫ দিন করে জেলের সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামিরা হলো- উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের উত্তর সলিমপুর গ্রামের মৃত ফারুক আহমেদের পুত্র মো. হানিফ, একই এলাকার বাসিন্দা গুরা বাঁশি দাশের পুত্র কাঞ্চন দাশ, মৃত নুর হোসেনের পুত্র হাসান আলী, মৃত ইউসুফের পুত্র মোঃ নাছির, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মৃত শামছুল আলমের পুত্র পারভেজ আলম।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলাউদ্দিন সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সীতাকুন্ডের কুখ্যাত ভুমিদস্যু, নারী ও মাদক পাচারকারী মো. আবুল কাসেম প্রকাশ রাজা কাসেমের স্ত্রী কোহিনুর বেগমের নামে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট সাগর উপকূলের উত্তর সলিমপুর মৌজার বিএস দাগ ১ এর ৫ একর সমুদ্র সিকস্তি ভূমি দখল ও উপকূলীয় বনে গাছ কেটে কোহিনুর স্টিল নামক একটি শিপইয়ার্ড স্থাপন করে।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রাম বন্দরে চার জাহাজে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

যা উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ২১ মে তাদের ইজারা বাতিল ও স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে সিলগালা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কিন্তু কুখ্যাত রাজা কাসেম স্থানীয় কিছু ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে নিজেই আইন লঙ্ঘন করে সিলগালা ভেঙে কার্যক্রম শুরু করে পুনরায়। এ বিষয়টি জানতে পেরে ১৮ ডিসেম্বর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন ম্যানেজারসহ ৫ জনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :  চউক চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, অভিযানের আগে এবং পরে রাজা কাসেমের ভাড়াটিয়া লোকজন ভ্রাম্যমান আদালতকে বাধা দিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেবার চেষ্টা করে। তবে সীতাকুণ্ড মডেল থানা ও ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেছেন। রাজা কাসেম এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজা কাসেম সীতাকুন্ড উপকুলের ওই স্থানে কোহিনুর স্টিল নামে শিপইয়ার্ডের কার্যক্রম পরিচালনার আগে বিবিসি স্টিল নামে শিপৈইয়ার্ডের কার্যক্রম চালায়। এসময়ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি উপকুলের ৭.১০ একর জমি ইজারা নিয়ে ১৮৯ একর জমি বেআইনিভাবে দখল করে। যেখানে তিনি উপকুলীয় বনবিভাগের গাছপালা কেটে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ফলে উপকুলীয় বনবিভাগ ও পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার দায়ের করা মামলায় আদালত ইজারা বাতিলের রায় দেন। এরপর বিবিসি স্টিল শিপইয়ার্ড উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন :  চট্টগ্রামে বসছে দু‘দিনের বৈশাখী মেলা, শেষের দিন জব্বারের বলীখেলা

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজা কাসেম অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তিনি ভুমিদস্যুতার পাশাপাশি, নারী ও মাদক পাচারের মতো দেশ বিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত।  তবে এ বিষয়ে জানতে রাজা কাসেমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

( খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে রাজা কাসেমের অপরাধ জগতের বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি পড়তে চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানে)

ঈশান/মখ/সুম

আরও পড়ুন