
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, ইনশাআল্লাহ। এ নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, কখন যাবেন ভোট দিতে? না, না, এবার ফজরে গেলে হবে না। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠতে হবে।
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন এবং যার যে ভোট কেন্দ্র, ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপর লাইন দিয়ে ভোটে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন, যখনই ভোট কেন্দ্র খুলবে। পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমার বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের স¤পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্রদের আন্দোলন। গত ১৬ বছর দেশে বাকস্বাধীনতা ছিল না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, চিকিৎসা সুবিধা যাতে পায়, রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, যে অধিকার তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এজন্য আমরা কৃষক ও কৃষাণীদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ওই কার্ড ব্যবহার করে তার স্বল্পমূল্যে ঋণ নিতে পারবে। এতে তারা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের অর্ধেক নারী। ওই নারীকে কর্মহীন রেখে দেশেকে প্রত্যাশিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারবো না। খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মেয়েধের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা বেতনে করা হয়েছিল। নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। গ্রামগঞ্জসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খালকাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।
বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র দল, যারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনে সমর্থ হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে পৌঁছে দেব। সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সরকারে গেলে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবো। পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। আপনারা বিএনপির পাশে থাকেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু-বে ভিউতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।
রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে তারেক নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিশেষায়িত বাসে চড়ে বিএনপির জনসভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে তিনি বিকেলে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে সিএমপি। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে। রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন এই তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে।
মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।










































