রবিবার- ২২ মার্চ, ২০২৬

যুদ্ধের ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ২৫ জ্বালানিবাহী জাহাজ

যুদ্ধের ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ২৫ জ্বালানিবাহী জাহাজ
print news

# অপেক্ষায় ৩, আসছে আরও দুই জ্হাাজ
# কিন্তু ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মুখে ভিন্ন কথা

রানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস ওয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি বোঝাই ২৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ খালাস স¤পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওমান থেকে আনা একটি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম চলছে।

থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও দুটি জাহাজ ২৫ মার্চের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি জানান, মার্চ মাসে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫টি জ্বালানিবাহী ভ্যাসেল খালাস স¤পন্ন করেছে। বর্তমানে ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান নামের একটি জাহাজ এলপিজি খালাস করছে।

এবি অলিভিয়া নামের আরও একটি জাহাজ থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে এসে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে জাহাজটি থেকে এখনো খালাস কার্যক্রম শুরু হয়নি। এছাড়া বিউইকে বর্নহোম এবং মর্নিং জেন নামের দুটি জাহাজ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। জাহাজ দুটি ২৫ মার্চ পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন :  কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে মৃত্যুর মিছিল কার অবহেলায়?

বিপিসির তথ্যমতে, জাহাজগুলো থেকে খালাসকরা জ্বালানি সরাসরি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ডিপোগুলোতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখান থেকে পাইপলাইনে দেশের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিপো থেকে ডিলারের মাধ্যমে দেশের সবকটি ফিলিং স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে। ফলে দেশে কোনরকম জ্বালানি সংকট নেই।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, চট্টগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ ফিলিং স্টেশনে তেল নেই। কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি হলেও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেই নিতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেল সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বাঙ্কারিং কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় জ্বালানি ও পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভ্যাসেলগুলো সাগরে অচল হয়ে ভাসছে। বর্তমানে এমন জাহাজের সংখ্যা ৭০টি ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিলাররা বলছেন, ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ না বাড়ানোয় জ্বালানি তেলের সংকট কাটছে না। অনেকেই অভিযোগ করেছেন এখনও আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যা মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী

ডিলারদের ভাষ্যমতে, রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিলেও এখনও পুরোপুরি কাটেনি জ্বালানি তেলের সংকট। ফলে চট্টগ্রামের দুই তৃতীয়াংশ পেট্রোল পা¤প সচল হয়নি এখনো। কয়েকটি পাম্প সচল থাকলেও প্রতিদিন লেগে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের সারি।

রোববার (২২ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগরীর গণি বেকারি এলাকায় কিউ সি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়ির চালকরা জানান, নগরীর দুই তৃতীয়াংশ পাম্পে তেল নেই। কিছু পা¤েপ সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সীমিত সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও বাসের দীর্ঘ সারি লেগে আছে। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কমলেও যেসব পা¤েপ তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভিড় কমেনি।

চালকরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ। বায়েজিদ পেট্রোল পা¤প খোলা থাকলেও সেখানে দীর্ঘ এক কিলোমিটার লাইন লেগে গেছে। ওই পা¤েপর এক কর্মচারী সুমন জানান, আমাদের চাহিদা ৯ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার লিটার। তেল আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পা¤প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন ১৮৬ জন

পা¤প মালিকদের অভিযোগ, রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কো¤পানির বিরুদ্ধে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক পা¤প বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধ রাখছে।

পেট্রোল পা¤প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কো-কনভেনর মিজানুর রহমান রতন বলেন, কাগজে-কলমে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে সরবরাহ এখনো সীমিত। এতে সাধারণ মানুষ ও পা¤প মালিক উভয়ই ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে পা¤প মালিকদের আরেক অংশের সভাপতি নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন রেশনিং চালু থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। হঠাৎ করে তা স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঈশান/মম/মখ

আরও পড়ুন

জনপ্রিয়

You cannot copy content of this page