বুধবার- ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডলার সংকটের মধ্যেও বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি!

বারভিডার দাবি, আগের এলসিতে কেনা এসব গাড়ি

print news

ডলার সংকটের কারণে বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধের মধ্যেও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ১২৫৬টি বিলাসবহুল গাড়ি এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে ৫৫৯টি গাড়ি খালাসের পর বাকি গাড়ি নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে চলে যায় এমভি মালয়েশিয়া স্টার নামে গাড়ি বহনকারী জাহাজটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে বিলাসবহুল গাড়িগুলো আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার অন্তত ১৫টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব গাড়ি আমদানির সাথে জড়িত।

তিনি বলেন, বিলাস বহুল এসব গাড়ি বহনকারী জাহাজ এমভি মালয়েশিয়া স্টার গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের বহি:নোঙরে আসে। গত তিন দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়ে। এরপর পরবর্তি দুই দিনে বন্দরের ৭ ও ৮ নম্বর জেটিতে জাহাজ থেকে ৫৫৯টি প্রাইভেট কার, রেসিং কার, পাজেরো জিপ ও মাইক্রোবাস খালাস করা হয়। যেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের ১ ও ২ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আর বাকি ৭০৬টি গাড়ি নিয়ে জাহাজটি বুধবার বিকেলে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যায়। এসব গাড়ি সেখানেই খালাস করা হবে। গাড়িগুলো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও স্বত্ত্বাধিকারির নাম এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়। আর আমদানিকৃত গাড়িগুলো থেকে সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে জানান এনামুল করিম।

বন্দরের একটি সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণে অর্থনীতি বিধ্বস্ত হওয়ার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও ডলার সংকটের কারণে গত নয় মাস আগে বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার। আর এর মধ্যেই দেশে এলো বিলাসবহুল গাড়ির বিশাল এই চালান।

সূত্র জানায়, আমদানি করা ১২৫৬টি গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০০ কোটির টাকার মতো। গাড়ির বিশাল এ চালান আমদানির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ১৫ জন ব্যবসায়ী স¤পৃক্ত রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম কাস্টমসহ সবদিক থেকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।

ctg port 04.05 3বন্দর ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে দেশের বাজারে গাড়ির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। আর আসন্ন বাজেটে আমদানি করা গাড়িতে শুল্কহার বাড়তে পারে এ তথ্য থেকেই বেশি লাভের আশায় এসব গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। আর ডলারের মূল্য যেহেতু বেশি তাই গাড়ির আমদানিমূল্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি পড়ছে।

তবে ভিন্ন কথা বলেছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যাল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) এর সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন। গাড়ি আমদানির কথা স্বীকার করলেও তিনি বলেন, ডলার সংকট সৃষ্টির আগেই খোলা এলসিতে এসব গাড়ি কেনা হয়েছে। আমদানি নিষিদ্ধের কারণে গাড়িগুলো এতদিন আনা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি মাসে যেখানে একটি করে আমদানিকৃত গাড়ির জাহাজ আসতো, সেখানে গত নয় মাসে আমদানি করা গাড়ির কোন জাহাজ দেশে আসেনি। তাই এক জাহাজে একত্রে এত গাড়ি এসেছে। এতে বাজেটকে সামনে রেখে বেশি মুনাফা লাভের কিছুই নেই।

বারডিভার আরেক সদস্য আমিনুল হকও বলেন প্রায় একই কথা। তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস বাজারে কোন গাড়ি আসেনি। তাই অনেকে গাড়ি সংকটে আছে। গাড়ির চাকা ঘুরলেই তো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। তাই বাজারে এখন অনেক গাড়ির প্রয়োজন। তাছাড়া আগের জমানো গাড়িই আনা হয়েছে। এসব গাড়ির জন্য নতুন কোন এলসি খোলা হয়নি।

এসব গাড়ি কারা আমদানি করেছেন এবং গাড়িগুলোর শুল্কায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মুশফিকুর রহমান বলেন, গাড়িগুলো কারা আমদানি করেছে তা এ মুহুর্তেই বলা সম্ভব নয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী গাড়িগুলোর শুল্কায়ন করা হবে।

ডলার সংকটের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বিলাস বহুল পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমসের এই কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি আমদানি বন্ধ। গাড়ি আনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বন্ধ হয় গত বছর। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব গাড়ি অনেক আগের এলসি করা। সেসব এলসির পণ্য এখন আসছে। সেটা যদি হয়ে থাকে তাহলে এসব গাড়ি শুল্কায়নে কোন বাধা আছে বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেই শুল্কায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন

কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে!

সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার সেই বিজ্ঞাপন!

print news

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই মুসলিম বিশ্বে কোনঠাসা হয়ে পড়ে কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলা। বাংলাদেশ একই অবস্থা। বড় একটি অংশ বয়কট করেছে পানীয়টি।

সম্প্রতি এ পানীয়ের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে বলা হয় কোকা-কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিবাদ।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর থেকে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিজ্ঞাপনটি। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ। এদিকে কোকা-কোলা বিবৃতি না দিলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন এবং অভিনয়শিল্পী শিমুল শর্মা।

জীবন লিখেছেন, ‘এখানে আমি কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ নেইনি এবং আমি কখনওই ইসরায়েলের পক্ষে নই। আমার হৃদয় সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং মানবতার পাশে আছে, থাকবে।’

অন্যদিকে শিমুল ক্ষমা চেয়েছেন। তার কথায়, ‘আমি ভবিষ্যতে কোনো কাজে অভিনয় করতে গেলে অবশ্যই আমাদের দেশের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, মানুষের মনোভাবকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বিবেচনা করে তারপর কাজ করব। আমি মাত্র আমার জীবনের পথচলা শুরু করেছি, আমার এই পথচলায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ভবিষ্যতে একজন বিবেকবান শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য শুভ কামনায় রাখবেন।’

ঈশান/খম/সুপ

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

print news

তেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ড পোট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এই অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল মায়ের্কস দাবাও নামের একটি কন্টেনার ভ্যাসেলের অপারেশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে বন্দরের সকল কার্যক্রম নজরদারি করি। আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশাল কার্যক্রম পরিচালনা করলো। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে দায়িত্ব পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পিসিটি পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে আমি আশা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, বন্দরে আজকে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ লোড করার মাধ্যমে আমরা আত্নপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করবো, আগামীতে সকল অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাবো।

বন্দরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পিসিটি দিয়ে মায়েরস্ক দাভাও নামে একটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং করল। ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্যালাং থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর পিসিটিতে প্রায় ৮০০ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার ওঠানামা করে পরবর্তী গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এ টার্মিনাল বছরে ৬ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। ১০ মিটার গভীরের জাহাজ ভিড়তে পারবে। তবে মায়ের্কস দাবাও নামের জাহাজটির ড্রাফট ৯ মিটার। প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) সঙ্গে মাস ছয়েক আগে চুক্তি হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে রেড সি গেটওয়ে বাংলাদেশ লিমিটেড শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো অপারেশনে আসা জাহাজটিতে খালি কন্টেইনার লোড করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, আরএসজিটিআই বাংলাদেশে কনটেইনার টার্মিনাল খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এর ফলে টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করার করার ক্ষমতা থাকবে।

আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবের শীর্ষ স্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর। যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত, যেটি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বার্ষিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়ের ব্যবধানে বন্দরে পণ্য কিংবা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্প। ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত ১৪ নভেম্বর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এরপর ডিসেম্বরের এটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরসিজিটিকে।

এই টার্মিনালে রয়েছে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ছয় মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং।

যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে এই টার্মিনাল অপারেশনে গেলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

ঈশান/মখ/সুপ

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

print news

প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে চলে যান গার্মেন্টসকর্মী মা। ঘরে ছিলো পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে। সেই সুযোগে ছাত্রীকে পড়ার নাম করে ডেকে নিয়ে পাশে থাকা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলাম (৪৬) ধর্ষণ করে। পরে মায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ওই শিক্ষককে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তার ফয়েজুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের সোনারখিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি সনজয় কুমার সিনহা। তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীর মা গার্মেন্টসকর্মী। গত শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি তার মেয়েকে বাসায় রেখে কারখানায় চলে যান। তাদের বাসার পাশেই বাসা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামের। সে তার কাছে প্রাইভেট পড়তো। শনিবার প্রাইভেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নেন শিক্ষক ফয়েজুল। এরপর পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে তা ভুক্তভোগীকে খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

পরবর্তীতে কর্মস্থল থেকে আসলে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে পুরো বিষয় খুলে বললে তার মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি রয়েছে।

ঈশান/খম/সুম

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

print news

প্রেমের টানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসে পড়েছেন পচলা নামের শ্রীলঙ্কান এক তরুণী। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) মোরশেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন পচলা।

শুক্রবার (৭ জুন) রাতে তাদের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান হয়। মোরশেদ ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুনাফখিল এলাকার মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তিনি দুবাই প্রবাসী। সেখানে থাকাকালীন গত ২-৩ বছর আগে পচলা নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সর্বশেষ তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

বিয়ে উপলক্ষে পচলা এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসেন। শুক্রবার বিয়ের পর নবদম্পতিকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজনেরা। তবে গণমাধ্যম এবং স্থানীয়দের কাছে বিদেশি তরুণীর সঙ্গে বিয়ের খবর আড়ালে রাখা হয়।

বর মোরশেদের ছোট ভাই রাকীব বলেন, ভাবির বাড়ি শ্রীলঙ্কা। তাদের দুবাইয়ে পরিচয়। বিয়ের জন্য ভাবির পরিবারও বাংলাদেশে এসেছে। এ দম্পতির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা।

ঈশান/মখ/সুপ

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

print news

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটিতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। আর বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন টাইগার বোলাররা।

তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমান-রিশাদ হাসানদের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানেই আটকে দেয় লাল-সবুজের দল। এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে অবশ্য শুরুটা ভালো করতে পারেননি দুই টাইগাররা ওপেনার। ব্যর্থ হন শান্তও।

তবে দলের হাল ধরেছিলেন তাওহীদ হৃদয়-লিটন দাস। এ দুজনের ব্যাটেই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও হৃদয়-লিটনের ৬৩ রানের জুটির সুবাদেই ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের দেয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সৌম্য। ব্যাটিং ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য রান করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সৌম্য সরকার। ধনঞ্জায়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন তিনি।

এরপর টাইগারদের আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন তরুণ তামিম। নুয়ান তুষারার বলে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড আউট হন এই ওপেনারও। ফলে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত। দু‘জন মিলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এরপর ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন শান্ত।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুষারার বলে আসালাঙ্কার মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার অধিনায়ক। শান্তর বিদায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন-হৃদয় জুটি। এ দুজন মিলে লঙ্কান বলারদের দেখেশুনে খেলে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে লিটন ধরে খেললেও অপরপ্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন হৃদয়।

তবে দলীয় ৯১ রানে হাসারাঙ্গার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন হৃদয়। তবে ফেরার আগে ৪ ছয় ও এক চারে ২০ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এদিকে হৃদয় ফেরার পর আউট হন লিটনও। এরপর একে একে আউট হন সাকিব আল হাসান এবং রিশাদ হোসেন ও তাসকি আহমেদ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের শঙ্কা লাল-সবুজের দলে।

তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের স্বাদই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেট কিলার খ্যাত এই ফিনিশার উনিশতম ওভারে দাশুন শানাকার করা প্রথম বলে ৬ মেরে চাপমুক্ত করেন দলকে। এরপর একই ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ী করেন তিনি। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

এর আগে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্ত আজ শুরুতেই বল হাতে তুলে দিয়েছিলেন তরুণ তানজিম সাকিবকে। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ওভারে ১৩ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। তাসকিন আক্রমণে আসেন ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। তাঁর করা ওভারের প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান কুশল মেন্ডিস।

তবে তৃতীয় বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের বলে বোল্ড হয়ে লঙ্কান অধিনায়ক ফিরেন ৮ বলে ১০ রান করে। এরপর ক্রিজে নিশাঙ্কার সঙ্গী হন কামিন্দু। কামিন্দুকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন নিশাঙ্কা। আজ আগ্রাসী মেজাজেই ছিলেন তিনি। পঞ্চম ওভারে সাকিবের বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ফলে শুরুতেই এক উইকেট হারালেও রান বাড়তে থাকে লঙ্কানদের।

তবে পরের ওভারেই লাগাম টেনে ধরেন মোস্তাফিজ। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান কামিন্দু মেন্ডিসকে। এরপর নবম ওভারে তাঁর বলে আউট হয়েই ফিরতে হয় নিশাঙ্কাকেও। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেছেন ২৮ বলে ৪৭ রান।

এরপর ধনঞ্জায়া ডি সিলভাকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। তবে ১৫ তম ওভারের প্রিওথম বলেই রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাকিবের মুঠোবন্দী হন আসালাঙ্কা। ১৯ রান করে লঙ্কান এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে ডি সিলভার সঙ্গী হন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তবে লঙ্কান অধিনায়ককে থিতু হওয়ার সুযোগই দেননি রিশাদ। ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাসারাঙ্গাও ফিরেন সৌম্য সরকারের মুঠোবন্দী হয়ে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে এরপর চাপএ পড়ে ১৭তম ওভারেই। নিজের শেষ ওভারে রিশাদের করা বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করতে চেয়েছিলেন ডি সিলভা। তবে মিস করেন তিনি। এই সুযোগে বল লুফে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

এরপর লঙ্কানদের আরও দুইটি উইকেট তুলে নেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে ১২৪ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিশাদ ও মোস্তাফিজ।

ঈশান/খম/সুম

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

print news

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রেলের অস্থায়ী এক পিয়নসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে।

চট্টগ্রাম রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার হিসাব কর্মকর্তা সোহাগ মীর (৩৭)। গত ৩ এপ্রিল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। গত ৫ জুন মঙ্গলবার এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলে তা দেওয়া হয়নি। আদালত মামলার তদন্তভার দিয়েছে সিআইডির হাতে। সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক আবদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন রেলের অস্থায়ী পিয়ন হাবিব উল্লাহ খাঁন (৩৫), মো. সোহাগ (৩৫) ও কহিনুর আকতার (৩০)। কহিনুর আকতারের নামে আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্টে ওই বিলের টাকা লেনদেন হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি হাবিব উল্লাহ খাঁন রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার অস্থায়ী পিয়ন পদে ২০১৫ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। পিয়ন হলেও আইবাস প্লাস প্লাসের আইডির গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বিল এন্ট্রি দিতেন হাবিব। তিনি কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিল প্রস্তুত করতেন।

আরেক আসামি মো. সোহাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র নাম ব্যবহার করে, কোনো ধরনের অথরাইজেশন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া প্রতিনিধি সেজে, সিন্ডিকেট সহযোগিতায় অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ে থেকে চেক সংগ্রহ করেন।

এরপর অপর আসামি কহিনুর আকতারের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করে। একইসঙ্গে ওই নারী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলেন। পরে তিন জনের যোগসাজশে জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচারে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঠিকাদারি বিল আত্মসাৎ করেন।

‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান বলেন, কাজের প্রকৃত বিলটি নকল করে ভুয়া ডকুমেন্টস তৈরির পর চেক গ্রহণ ও টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি আমিই প্রথমে রেলের হিসাব বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি।’

মামলার বাদি রেলের অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা সোহাগ মীর বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এর আগে ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হিসাব কর্মকর্তা মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক শিমুল বেগম, অডিটর (ডিএফএ) পবন কুমার পালিত, হিসাব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. আবু নাছের, হিসাবরক্ষক (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সৈয়দ সাইফুর রহমান, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ঈশান/খম/সুম

খাতুনগঞ্জে করাতকলের ভুষি দিয়ে মরিচ-হলুদের গুঁড়া তৈরি

খাতুনগঞ্জে করাতকলের ভুষি দিয়ে মরিচ-হলুদের গুঁড়া তৈরি

print news

ট্টগ্রাম মহানগরের খাতুনগঞ্জে করাতকলের কাঠের ভুষির সঙ্গে রং মিশিয়ে মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরি করছে। এমন তিনটি কারখানা সিলগালা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৫ জুন) দুপুরে খাতুনগঞ্জের সেবা গলিতে এ অভিযান চালিয়ে এসব কারখানা সিলগালা করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহান।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহান জানান, কাঠের ভূষি, ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া তৈরি করছে মনে হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করেছি আমরা। তিনটি কারখানার মালিক পলাতক। তাই কারখানায় আমরা তালা মেরে দিয়েছি। এ বিষয়ে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে সহায়তা করেন মহানগর পুলিশের একটি টিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহম্মেদ।

ঈশান/খম/সুম

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম উদ্দিন বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

print news

‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি।’’

ণখেলাপি ব্যবসায়ী’ জসিম উদ্দীন সাম্প্রতিক আলোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের ব্যবসায়ীক পার্টনার ও ঘনিষ্ট সহযোগী! এ সুবাধে আদালতের সাজা পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ‘পুলিশ প্রটোকলে’ চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ঋণখেলাপিতে দণ্ডিত হওয়ার পরও প্রার্থিতা বাতিল করেননি রিটার্নিং অফিসার। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে ‘বশীভূত’ করে ভোটের মাঠে ‘খাটিয়েছেন’ প্রভাব।

এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন, কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা, এজেন্টদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়াসহ এমন নানা অভিযোগের ফিরিস্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জুনু।

তিনি এসব কারণে চন্দনাইশে উপজেলা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। গত ১ জুন (শনিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এ অভিযোগলিপি পাঠান আবু আহমেদ জুনু। সোমবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগে তিনি বলেছেন, ‘মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন একজন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। পুলিশের প্রাক্তন আইজি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। গত ৪ এপ্রিল তাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা দিয়ে জসিম উদ্দীনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন অর্থঋণ আদালত। ৩০ এপ্রিল ৫ মাসের আটকাদেশও দেন। তাঁকে বাঁচাতে নিয়মবহির্ভূত আবেদন করায় পদ্মা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকেও শোকজ করেন আদালত।

পরে ৩০ এপ্রিল অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে হলফনামা সংযুক্ত করেন জসিম। যেখানে খেলাপি ঋণের বিষয়টি গোপন করা হয়। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে পদ্মা ব্যাংক। ওই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে। হলফানামার তথ্য গোপনের বিষয়টি উল্লেখ করে আপীল কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগও দেয় পদ্মা ব্যাংক। আপিল না মঞ্জুরের পর ভোটের দুদিন আগে ২৭ মে আবারো পুনরায় আবেদন করা হয়। এছাড়া ১৯ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগও দায়ের করে।’

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ভোটের আগে প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হত্যার হুমকি, প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারকার্য চালানো, নগদ অর্থ বিতরণ, ডিজিটাল ব্যানার ও ডাবল মাইক ব্যবহারসহ ৭টি অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ জানানো হয়। এরপরও রিটার্নিং অফিসার কোনো ব্যবস্থা নেননি। সাজামূলে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ প্রটেকশনে নির্বাচনী কার্য করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

অথচ এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে রিকল করা হয়নি। এছাড়া ভোটের দিন জসিম উদ্দীন আহমদ পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে বশীভূত করে ৯টি ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রুমের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের ব্যালট পেপারে সিল মারার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করলে পুলিশ তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলিট করে ছেড়ে দেয়। পরে জসিম উদ্দীনের কর্মীরা তাঁর কর্মী সমর্থকদের মারধর করেন।’

এসব অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পাঠানো বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ কার্যক্রম স্থগিতের আর্জি জানান আবু আহমেদ জুনু।

এদিকে পদ্মা ব্যাংক হেড অফিসের একটি চিঠিতে জানা গেছে, ভোটের দুদিন আগে অর্থাৎ ২৭ মে যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ‘ঋণখেলাপি’ জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পদ্মা ব্যাংকের এসইভিপি ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়েছে, জসিম উদ্দীন চৌধুরী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিআইবি রিপোর্টে ঋণখেলাপি না দেখানোর যে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ আনেন তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আপিলে ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো সিআইবি বরাবর পত্র পাঠিয়ে অবহিত করা হয়। ওই পত্রে ঋণখেলাপি হওয়ায় জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল পদ্মা ব্যাংক।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবু আহমেদ চৌধুরী জুনু। তিনি বলেন, ‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি। আমি ছাত্রজীবন থেকে সংগঠন করে আসা লোক। তাই ওনার এ প্রস্তাবে আমি সায় দিইনি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন মনে হয়েছে আমি কেউই না! রাতের আঁধারে আমার সমর্থকদের ঘরে ঘরে গিয়ে ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বড় বড় কেন্দ্রগুলো দখলের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দনাইশ থানার ওসি ওবায়েদুল হক বলেন, ‘ওনি বললেই কি হলো? এ ধরনের কোনো কথা আমি ওনাকে বলিনি।’

এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় সোমবার বিকেলে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

গত ২৯ মে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জসিম উদ্দিন আহমেদ।

ঈশান/খম/সুম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!