সোমবার- ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পটিয়ায় কৃষিজমি ধ্বংস করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো

print news

চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালীতে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে কৃষি জমিতে পড়ছে স্কেভেটরের কোপ। জমি অধিগ্রহণ না করেই পটিয়ায় কৃষি জমিতে মাটি ফেলা হলেও বাঁশখালীর পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে জমি মালিককে ম্যানেজ করেই কৃষি জমির মাটি বাঁধে দেয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল পাউবো। পাউবো প্রকৌশলীদের আস্কারা পেয়ে ফসলি জমি নষ্টে বেপরোয়া ঠিকাদাররাও। অথচ ফসলি জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প না নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে আদেশ না মেনেই যত্রতত্রভাবে ফসলি জমি কেটে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো।

স্থানীয়রা জানান, পটিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ১৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির ৪৫টি প্যাকেজের মধ্যে ১৪টি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। খাল খনন কাজগুলোই আগেভাগে শেষ করা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি নেয়া হলেও খাল খনন কাজের শুরুতেই প্রকল্পের উন্নয়ন চাপে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা। অর্থাৎ সুফল পাওয়ার আগেই জমি হারাতে হচ্ছে কৃষকদের। ক্ষতিপূরণ কিংবা অধিগ্রহণ না করেই স্কেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। এতে ফসলি জমি হারিয়ে ফুঁসছে ভাটিখাইন ইউনিয়নের মাঝেরঘাটার কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও কৃষকরা জানান, খাল খননের সময় কৃষকদের জায়গা ২০ থেকে ৩০ফুট ভেতর পর্যন্ত কেটে ফেলছে। পাউবো কর্মকর্তারা নিজেরাই পরিমাপ করার পর সেটি নিশ্চিত হয়েছেন। পরে ভরাট করে দিবেন বলেছেন। কিন্তু কৃষি জমিতো কাটার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে পাঁচজন কৃষক ক্ষতিপূরণও পেয়েছে। এমন একজন জমির মালিক আছেন যার ১০টি দাগে প্রায় দশ কানি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খালের আশপাশে জমি নিয়ে বড় আকারে খাল খনন করা হয়েছে। আবার খাল খননের মাটি কৃষি জমিতে ফেলেও অনেক ফসলি জমি নষ্ট করা হয়েছে। এসব জমির মধ্যে অলরেডি ক্ষেত আছে, বাগানও আছে। কৃষকের ক্ষেত ও বাগান প্রকল্পের আওতায় খালে নিয়ে গেছে। পাউবো কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না কৃষকদের। উল্টো এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন কৃষকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হয়েছে বলে জানান। যে কারণে কেউ মুখ খুলতে চান না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জমির মালিক বলেন, এগুলো নিয়ে অনেক প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করার কারণে পাউবো পরিমাপ করে দিয়েছে। এসময কৃষি জমি নষ্ট করার সত্যতাও মিলেছে। এগুলো নিয়ে এখন লেখালেখি করবেন না। লেখালেখি করলে উনারা আমার বিরুদ্ধে লাগবে। পাউবো কর্মকর্তারাও বলবে সমাধান হওয়ার পর এসব নিয়ে আবার লেখালেখি কেন?

একইভাবে বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের রাতাখোর্দ্দ গ্রামে পাউবোর দেড় কোটি টাকার ব্লক ও মাটির কাজ চলছে। আরাধনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও কাজ করছেন অন্য একজন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ হাজার পাথর ব্লক ও ৩৮৯ মিটার মাটির কাজ করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। বাঁধের কাজের জন্য শঙ্খ নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফসলি জমির মাটি কেটে বেড়িবাঁধের কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার একদিকে কাজ চললেও অল্পদূরেই শঙ্খের ভাঙন অব্যাহত আছে।

সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম সালাউদ্দিন কামাল বলেন, ‘আমি চাইবো আমার এলাকার বেড়িবাঁধের কাজ যাতে মানসম্মত হয়। কোন অনিয়ম হলে সেটি দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।’

বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সাধনপুরে ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। এখনই খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সাধনপুর এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি নিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। মাছের প্রজেক্ট করার নামে ফসলি জমি নষ্ট করে বাঁধে মাটি বিক্রি করেছে জমির মালিক। চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে লোকাল বালু দিয়ে ব্লক বানানো হচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তারা ব্লক বানানোর সময় না থাকার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ঠিকাদার। শঙ্খ নদী থেকে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে। ঠিকাদার বাইরের হলেও এই ব্যক্তির সাথে স্থানীয় কিছু লোক যুক্ত আছে। তারা প্রকল্পের কাজ তদারকি না করে উল্টো সুবিধা ভোগ করছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা বলেন, ‘সাধনপুরের রাতাখোর্দ্দ এলাকায় দেড় কোটি টাকার কাজ চলছে। সেখানে ব্লক ও মাটির কাজ হবে। ফসলি জমির মাটি দিচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ব্লক বানানোর সময় আমাদের লোক থাকে। নিয়মমাফিক বালুও দেয়া হচ্ছে। এরপরেও কোন অনিয়ম হচ্ছে কিনা আমরা নজরদারি করবো।’

আরাধনা এন্টারপ্রাইজ নাম প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে ঠিকাদার আবু সাঈদ সুমন বলেন, ‘একজন ব্যক্তি প্রজেক্ট করেছে উনি বললো মাটি আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এগুলো ফসলি জমির মাটি না। প্রজেক্টটা ফসলি জমিতে কিনা জানি না, তবে আগে থেকেই প্রজেক্ট ছিল। মাটি কম কাটছিল। ব্লক বানানোর সময় পাউবোর কর্মকর্তারা থাকে। সিলেটি বালু দিয়ে ব্লক বানানো হচ্ছে। টেস্ট রিপোর্ট ভালো না হলে আমাকে তো বিল দিবে না। এই কাজটি করতে গিয়ে এলাকাবাসী আমাকে অনেক ঝামেলা করছে। চেয়ারম্যান নিজেও কাজটি পেতে চেয়েছিল, উনি না পাওয়ায় আমার সাথে ঝামেলা করছে।’

এর আগে ২০২১ সালে সাতকানিয়ার চরতিতে সাঙ্গু নদী ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় বালু উত্তোলন করে কৃষি জমিতে রাখা নিয়ে কৃষকদের উপর গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় কৃষি জমিতে বালু স্তুপ করে রাখায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের পক্ষের লোকজন কৃষকদের উপর হামলা চালায়।

আরও পড়ুন

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

print news

প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে চলে যান গার্মেন্টসকর্মী মা। ঘরে ছিলো পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে। সেই সুযোগে ছাত্রীকে পড়ার নাম করে ডেকে নিয়ে পাশে থাকা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলাম (৪৬) ধর্ষণ করে। পরে মায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ওই শিক্ষককে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তার ফয়েজুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের সোনারখিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি সনজয় কুমার সিনহা। তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীর মা গার্মেন্টসকর্মী। গত শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি তার মেয়েকে বাসায় রেখে কারখানায় চলে যান। তাদের বাসার পাশেই বাসা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামের। সে তার কাছে প্রাইভেট পড়তো। শনিবার প্রাইভেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নেন শিক্ষক ফয়েজুল। এরপর পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে তা ভুক্তভোগীকে খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

পরবর্তীতে কর্মস্থল থেকে আসলে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে পুরো বিষয় খুলে বললে তার মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি রয়েছে।

ঈশান/খম/সুম

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

print news

প্রেমের টানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসে পড়েছেন পচলা নামের শ্রীলঙ্কান এক তরুণী। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) মোরশেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন পচলা।

শুক্রবার (৭ জুন) রাতে তাদের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান হয়। মোরশেদ ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুনাফখিল এলাকার মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তিনি দুবাই প্রবাসী। সেখানে থাকাকালীন গত ২-৩ বছর আগে পচলা নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সর্বশেষ তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

বিয়ে উপলক্ষে পচলা এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসেন। শুক্রবার বিয়ের পর নবদম্পতিকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজনেরা। তবে গণমাধ্যম এবং স্থানীয়দের কাছে বিদেশি তরুণীর সঙ্গে বিয়ের খবর আড়ালে রাখা হয়।

বর মোরশেদের ছোট ভাই রাকীব বলেন, ভাবির বাড়ি শ্রীলঙ্কা। তাদের দুবাইয়ে পরিচয়। বিয়ের জন্য ভাবির পরিবারও বাংলাদেশে এসেছে। এ দম্পতির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা।

ঈশান/মখ/সুপ

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

print news

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রেলের অস্থায়ী এক পিয়নসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে।

চট্টগ্রাম রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার হিসাব কর্মকর্তা সোহাগ মীর (৩৭)। গত ৩ এপ্রিল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। গত ৫ জুন মঙ্গলবার এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলে তা দেওয়া হয়নি। আদালত মামলার তদন্তভার দিয়েছে সিআইডির হাতে। সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক আবদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন রেলের অস্থায়ী পিয়ন হাবিব উল্লাহ খাঁন (৩৫), মো. সোহাগ (৩৫) ও কহিনুর আকতার (৩০)। কহিনুর আকতারের নামে আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্টে ওই বিলের টাকা লেনদেন হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি হাবিব উল্লাহ খাঁন রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার অস্থায়ী পিয়ন পদে ২০১৫ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। পিয়ন হলেও আইবাস প্লাস প্লাসের আইডির গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বিল এন্ট্রি দিতেন হাবিব। তিনি কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিল প্রস্তুত করতেন।

আরেক আসামি মো. সোহাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র নাম ব্যবহার করে, কোনো ধরনের অথরাইজেশন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া প্রতিনিধি সেজে, সিন্ডিকেট সহযোগিতায় অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ে থেকে চেক সংগ্রহ করেন।

এরপর অপর আসামি কহিনুর আকতারের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করে। একইসঙ্গে ওই নারী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলেন। পরে তিন জনের যোগসাজশে জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচারে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঠিকাদারি বিল আত্মসাৎ করেন।

‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান বলেন, কাজের প্রকৃত বিলটি নকল করে ভুয়া ডকুমেন্টস তৈরির পর চেক গ্রহণ ও টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি আমিই প্রথমে রেলের হিসাব বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি।’

মামলার বাদি রেলের অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা সোহাগ মীর বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এর আগে ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হিসাব কর্মকর্তা মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক শিমুল বেগম, অডিটর (ডিএফএ) পবন কুমার পালিত, হিসাব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. আবু নাছের, হিসাবরক্ষক (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সৈয়দ সাইফুর রহমান, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ঈশান/খম/সুম

খাতুনগঞ্জে করাতকলের ভুষি দিয়ে মরিচ-হলুদের গুঁড়া তৈরি

খাতুনগঞ্জে করাতকলের ভুষি দিয়ে মরিচ-হলুদের গুঁড়া তৈরি

print news

ট্টগ্রাম মহানগরের খাতুনগঞ্জে করাতকলের কাঠের ভুষির সঙ্গে রং মিশিয়ে মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরি করছে। এমন তিনটি কারখানা সিলগালা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৫ জুন) দুপুরে খাতুনগঞ্জের সেবা গলিতে এ অভিযান চালিয়ে এসব কারখানা সিলগালা করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহান।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সোবহান জানান, কাঠের ভূষি, ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া তৈরি করছে মনে হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করেছি আমরা। তিনটি কারখানার মালিক পলাতক। তাই কারখানায় আমরা তালা মেরে দিয়েছি। এ বিষয়ে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে সহায়তা করেন মহানগর পুলিশের একটি টিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহম্মেদ।

ঈশান/খম/সুম

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম উদ্দিন বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

print news

‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি।’’

ণখেলাপি ব্যবসায়ী’ জসিম উদ্দীন সাম্প্রতিক আলোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের ব্যবসায়ীক পার্টনার ও ঘনিষ্ট সহযোগী! এ সুবাধে আদালতের সাজা পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ‘পুলিশ প্রটোকলে’ চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ঋণখেলাপিতে দণ্ডিত হওয়ার পরও প্রার্থিতা বাতিল করেননি রিটার্নিং অফিসার। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে ‘বশীভূত’ করে ভোটের মাঠে ‘খাটিয়েছেন’ প্রভাব।

এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন, কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা, এজেন্টদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়াসহ এমন নানা অভিযোগের ফিরিস্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জুনু।

তিনি এসব কারণে চন্দনাইশে উপজেলা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। গত ১ জুন (শনিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এ অভিযোগলিপি পাঠান আবু আহমেদ জুনু। সোমবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগে তিনি বলেছেন, ‘মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন একজন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। পুলিশের প্রাক্তন আইজি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। গত ৪ এপ্রিল তাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা দিয়ে জসিম উদ্দীনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন অর্থঋণ আদালত। ৩০ এপ্রিল ৫ মাসের আটকাদেশও দেন। তাঁকে বাঁচাতে নিয়মবহির্ভূত আবেদন করায় পদ্মা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকেও শোকজ করেন আদালত।

পরে ৩০ এপ্রিল অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে হলফনামা সংযুক্ত করেন জসিম। যেখানে খেলাপি ঋণের বিষয়টি গোপন করা হয়। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে পদ্মা ব্যাংক। ওই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে। হলফানামার তথ্য গোপনের বিষয়টি উল্লেখ করে আপীল কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগও দেয় পদ্মা ব্যাংক। আপিল না মঞ্জুরের পর ভোটের দুদিন আগে ২৭ মে আবারো পুনরায় আবেদন করা হয়। এছাড়া ১৯ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগও দায়ের করে।’

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ভোটের আগে প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হত্যার হুমকি, প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারকার্য চালানো, নগদ অর্থ বিতরণ, ডিজিটাল ব্যানার ও ডাবল মাইক ব্যবহারসহ ৭টি অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ জানানো হয়। এরপরও রিটার্নিং অফিসার কোনো ব্যবস্থা নেননি। সাজামূলে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ প্রটেকশনে নির্বাচনী কার্য করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

অথচ এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে রিকল করা হয়নি। এছাড়া ভোটের দিন জসিম উদ্দীন আহমদ পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে বশীভূত করে ৯টি ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রুমের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের ব্যালট পেপারে সিল মারার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করলে পুলিশ তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলিট করে ছেড়ে দেয়। পরে জসিম উদ্দীনের কর্মীরা তাঁর কর্মী সমর্থকদের মারধর করেন।’

এসব অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পাঠানো বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ কার্যক্রম স্থগিতের আর্জি জানান আবু আহমেদ জুনু।

এদিকে পদ্মা ব্যাংক হেড অফিসের একটি চিঠিতে জানা গেছে, ভোটের দুদিন আগে অর্থাৎ ২৭ মে যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ‘ঋণখেলাপি’ জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পদ্মা ব্যাংকের এসইভিপি ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়েছে, জসিম উদ্দীন চৌধুরী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিআইবি রিপোর্টে ঋণখেলাপি না দেখানোর যে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ আনেন তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আপিলে ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো সিআইবি বরাবর পত্র পাঠিয়ে অবহিত করা হয়। ওই পত্রে ঋণখেলাপি হওয়ায় জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল পদ্মা ব্যাংক।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবু আহমেদ চৌধুরী জুনু। তিনি বলেন, ‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি। আমি ছাত্রজীবন থেকে সংগঠন করে আসা লোক। তাই ওনার এ প্রস্তাবে আমি সায় দিইনি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন মনে হয়েছে আমি কেউই না! রাতের আঁধারে আমার সমর্থকদের ঘরে ঘরে গিয়ে ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বড় বড় কেন্দ্রগুলো দখলের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দনাইশ থানার ওসি ওবায়েদুল হক বলেন, ‘ওনি বললেই কি হলো? এ ধরনের কোনো কথা আমি ওনাকে বলিনি।’

এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় সোমবার বিকেলে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

গত ২৯ মে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জসিম উদ্দিন আহমেদ।

ঈশান/খম/সুম

আদেশ অমান্য করে সীতাকুন্ডে শিপ ইয়ার্ডের জন্য বনভুমি ইজারা

আদেশ অমান্য করে সীতাকুন্ডে শিপ ইয়ার্ডের জন্য বনভুমি ইজারা

print news

ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলে জাহাজভাঙা শিল্পের ইয়ার্ড স্থাপনের জন্য কোহিনূর স্টিলকে উপকুলীয় বনভুমির জায়গায় দেওয়া ইজারা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

রবিবার (২ জুন) দুপুরে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ আদালত বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ৯ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে ইজারা পুর্নবহালের আদেশের বিষয়টি ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে।

এর আগে গত ৩০ মে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে আদালত অবমাননার একটি মামলা (২০২/২০২৪) করে। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড এলাকায় ভুমিদস্যু ও মাদক পাচারকারী হিসেবে পরিচিত আবুল কাশেম প্রকাশ রাজা কাশেম বিবিসি স্টিলের নামে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার উত্তর সলিমপুর মৌজার ২১ দশমিক ৫৭ একর জমি ইজারার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন।

ওই জমির মধ্যে সমুদ্র উপকূলের অংশ তুলাতলী মৌজা অর্থাৎ নির্ধারিত জাহাজভাঙা শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছিল বলে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের প্রতিবেদন উঠে আসে। ২০১৯ সালে বিবিসি স্টিলকে সীতাকুণ্ডের তুলাতলী মৌজায় ৭ দশমিক ১০ একর জমি দেওয়া হয়। এ সুবাধে রাজা কাসেম উপকুলীয় বনবিভাগের ১৯৪ একর জমি ঘেরা-বেড়া দিয়ে জবর দখল করে। বনবিভাগ এ বিষয়ে আপত্তি জানায়। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

এরপর ইজারা বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে মামলা করে বেলা। ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি উচ্চ আদালত ইজারা প্রক্রিয়াটিকে অননুমোদিত ঘোষণা করেন এবং জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে বনভূমি রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এরপর ঘটে নতুন কাহিনী। রাজা কাশেম তার দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনুরের নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে উপকুলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনাপত্তি পত্র সংযুক্তির মাধ্যমে আবারও ইজারার জন্য আবেদন করেন। পরে এই কোহিনূর স্টিলের নামেই ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ৫ একর জমি ইজারা দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

আর ইজারা দেওয়া জমিগুলোই সংরক্ষিত  উপকুলীয় বনের দখল করা একই জমি। যার উপর একাধিক অফিস ভবনসহ জাহাজভাঙা শিল্পের নানা স্থাপনা স্থাপন করে। এমনকি পাথর ঢালাই করে সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। এসব জমি জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার না হলেও কাগজে-কলমে মৌজা পরিবর্তন করে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, কোহিনূর স্টিলসহ বিভিন্ন পক্ষকে আইনি নোটিশ দেয় বেলা। একই জায়গা নতুন করে ইজারা দেওয়ায় বেলা আদালত অবমাননার আবেদন জানায়। এরপর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ২০২৩ সালের জুনে দ্বিতীয় দফায় ইজারা বাতিল করে জেলা প্রশাসন। ইজারা বাতিলের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়।

তখন জেলা প্রশাসনের নথিতে ইজারা বাতিলের কারণ হিসেবে কোহিনূর স্টিল ইয়ার্ডের জমিকে তুলাতলী মৌজার (শিল্পজোন বহির্ভূত) উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, ইজারাদার গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করেছেন। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে জমি দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই বার ইজারা বাতিল হওয়ার পরও সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলের ৫ একর জমি কোহিনূর স্টিলকে ইজারা ফিরিয়ে দিতে গত ২৪ মার্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) আদালত। কিন্তু বিষয়টি কাগজে পত্রেই রয়ে যায়। সবকিছু গোপন রেখে সেই জায়গায় জাহাজভাঙার কাজ শুরু করে ভুমিদস্যু রাজা কাসেম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী হাসানুল বান্না বলেন ‘১৯৮৩-৮৪ সাল থেকে এই উপকূলীয় জমিতে বনায়ন করা হয়। বন রক্ষায় জমিগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বন ফিরে পাবে তার আপন পরিবেশ।

আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, এ ধরনের কার্যক্রম চলাকালীন কোনো ইজারা দেওয়া উচিত নয়। জেলা প্রশাসনকে জমি সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও ইজারা মঞ্জুর করায় এ অঞ্চলের বন উজাড় হয়েছে, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বেলার পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ফলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। 

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে সোনা গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা

ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা

print news

# দু‘পক্ষের তীর একে অপরের দিকে
# চলছে গুঞ্জন, উঠছে নানা প্রশ্ন

ট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার লকার থেকে এক গ্রাহকের প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েবের ঘটনায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রাহক ও লকার ইনচার্জ একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে।

ঘটনা জানাজানির পাঁচ দিন পরও গ্রাহক বা ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে সাত দিন সময়ও নেওয়া হয়। এভাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে আশ্বস্ত করে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় স্বর্ণালংকার গায়েবের সু¯পষ্ট কোনো তথ্য এখনো না মিলায় এ ঘটনায় চট্টগ্রামজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন, তোলা হচ্ছে নানা প্রশ্ন। ব্যাংকের তথ্যমতে, লকার খোলার মূল চাবি থাকে একমাত্র গ্রাহকের কাছে। নকল চাবি থাকে লকার ইনচার্জের কাছে। তাহলে এই দু‘পক্ষের মধ্যে গ্রাহক যদি লকার না খুলে তাহলে লকারটি খোলার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব মিলছে না।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লকার থেকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকের বিরুদ্ধে স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে। ফলে অলংকার চুরির অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়ে গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী ব্যাংকের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ নিয়ে ২৯ মে দুপুরে তিনি চকবাজার থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে মৌখিক অভিযোগ করার পর ওসি ব্যাংকে যান এবং লকার খোলা থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

রাতে রোকেয়া আক্তারের ছেলে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে ওসি এ ধরনের ঘটনায় মামলা করতে হবে বলে জানান। তিনি সময় চাইলে ওসি পরদিন দুপুর ১২টার দিকে লিখিত এজাহার নিয়ে থানায় যেতে বলেন। এরপর তারা আর থানায় যাননি।

এ ্িবষয়ে চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে আমরা ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের লিখিত বা মৌখিকভাবেও কিছুই জানায়নি। এ বিষয়ে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাও বলেনি।

এ বিষয়ে রোকেয়া আক্তারের ছেলে ডা. রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ব্যাংকের সাথেই লাগোয়া চকবাজার থানা। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ মামলা করতে বলেছেন। তবে আইনজীবীরা বলেছেন থানার চেয়ে আদালতে মামলা করলে ভালো হবে। তখন পিবিআই বা সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত হবে। তাই আমরা আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ব্যাংকের গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী বলেন, আমাদের একজন আইনজীবী আছেন। উনার সঙ্গে পরামর্শ করেছি। উনি বলেছেন আদালতে মামলা করতে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অবশ্যই মামলা হবে। আমি আমার গোল্ড ফেরত চাই। না হলে সমপরিমাণ টাকা আমাকে ফেরত দিতে হবে।

নগরীর চট্টেশ্বরী রোডের বাসিন্দা রোকেয়া আক্তার বারী বলেন, গত বুধবার (২৯ মে) দুপুরের দিকে আমি ব্যাংকে যাই। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে লকার ইনচার্জ লকার রুমে ঢোকেন। আমি ঢুকব এমন সময় উনি বের হয়ে বললেন, ম্যাডাম, আপনার লকারের নম্বর কত? আমি বললাম ৪৪। উনি বললেন, ম্যাডাম, আপনার লকার তো খোলা।

রোকেয়া বলেন, আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে লকারে হাত ঢুকিয়ে দেখলাম, সামনের দিকে যেগুলো রাখা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু নেই। পেছনের দিকে সাত-আটটা বক্স পেয়েছি। সেখানে দুইটা বক্সের মধ্যে ১০-১১ ভরি মতো গোল্ড পেয়েছি। পাঁচ-ছয়টা খালি। যেখানে ১৪৯ থেকে ১৫০ ভরির মতো স্বর্ণালংকার ছিল। আমার দুই ছেলের বউয়ের গোল্ডও সেখানে ছিল। সেগুলো এখন নেই।

রোকেয়া আক্তার বারীর ছেলে ডা. রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ২০০৭ সাল থেকে তার মা রোকেয়া আক্তার একমাত্র গ্রাহক হিসেবে লকারটি ব্যবহার করে আসছিলেন। সেখানে মা ও তার দুই পুত্রবধূর এবং মেয়ের প্রায় ১৬০ ভরি সোনার অলংকার রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০-১১ ভরি বাদে বাকি সব অলংকার উধাও হয়ে গেছে।

বিষয়টি জানতে ২ জুন রবিবার দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে লকার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও শাখা প্রধানের অনুমতি মেলেনি। এমনকি লকার ইনচার্জের নামও জানাতে রাজি হননি তিনি।

চকবাজার শাখা প্রধান ও ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী জানান, ২০০২ সাল থেকে রোকেয়া আক্তার বারী এককভাবে লকারটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন। উনি একাই সেটি পরিচালনা করতেন, মনোনীত কোনো প্রতিনিধি ছিল না।

এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী বলেন, রোকেয়া আক্তার গত ৮ এপ্রিল লকার ব্যবহারের জন্য ব্যাংকে এসেছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের উপস্থিতিতে মাস্টার কী (চাবি) দিয়ে লকার আনলক করেন। পরে গ্রাহক যথারীতি তার কাছে রক্ষিত চাবি ব্যবহার করে পরিপূর্ণভাবে লকার খুলে তার কাজ শেষে লকার বন্ধ করে লকার ইনচার্জকে অবহিত করে চলে যান।

এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উনারা পরামর্শ দিয়েছেন, আগে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হোক। তারপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্যত্যা যাচাই না করে পুলিশের কাছে কোন যুক্তিতে যাব? গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের স¤পর্ক। মৌখিকভাবে উনাদের কাছে আমরা সময় চেয়েছি। অ্যামি কেবল রিলেশনের মাধ্যমে সমঝোতা করতে চেয়েছি। উনারা আমাদের সাত দিন সময় দিয়েছেন।

লকারের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে গ্রাহক ছাড়া কারও পক্ষে সেটি খোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখেছি। লকার রুমে কোনো জানালা বা ভেন্টিলেটর নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। লকার রুমে চুরির কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৯ মে গ্রাহক তার লকার ব্যবহার করতে এসে তার গহনা খোয়া গেছে বলে জানান। অথচ এর আগে তিনি নিজে লকার বন্ধ করে চাবি নিয়ে গেছেন।

তারপর লকার হোল্ডার (গ্রাহক) একবার বলেন তার ৩০০ ভরি স্বর্ণ নেই, কিছুক্ষণ পর আবার জানান ১৫০ ভরি স্বর্ণ নেই এবং কিছুক্ষণ পর আবার জানান ১৫০ ভরির মধ্যে অর্ধেক পেয়েছেন, বাকি অর্ধেক পাননি। তিনি এ ধরনের স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি লকার খোলার জন্য দুটি চাবির প্রয়োজন হয়, যার একটি গ্রাহক ও অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। গ্রাহকের চাবি ছাড়া কেবল ব্যাংকে রক্ষিত চাবি দিয়ে কোনোভাবেই লকার খোলা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহককে তার লকারের মূল চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। লকারে রক্ষিত মালামাল ও তার পরিমাণ স¤পর্কে একমাত্র গ্রাহক ছাড়া ব্যাংকার বা অন্য কোনো ব্যক্তির জানার সুযোগ নেই।

একমাত্র গ্রাহকের পক্ষে তার চাবি দিয়ে লকার বন্ধ করার সুযোগ আছে। লকার বন্ধ না করা পর্যন্ত গ্রাহকের চাবি বের করে আনা যায় না। লকার বন্ধ করার সময় নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের কারও সেখানে থাকার সুযোগ নেই।

রোকেয়া আক্তার বারীও অবশ্য জানিয়েছেন, ৮ এপ্রিল তিনি লকারে সব সোনার অলংকার পেয়েছিলেন এবং তিনি যথারীতি লকার বন্ধ করেই ফিরে যান। ২০০৬ সাল থেকে তিনি ও তার মেয়ে নাসিয়া মারজুকা যৌথ নামে লকারটি ব্যবহার করে আসছিলেন। কোন সময় অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় তিনি যেমন বিস্মিত, তেমনি হতাশাজনক বলে জানান।

ঈশান/খম/সুম

কোথায় গেলেন রাঙ্গুনিয়ার কলেজছাত্রী জান্নাতুল নাঈম

কোথায় গেলেন রাঙ্গুনিয়ার কলেজছাত্রী জান্নাতুল নাঈম

print news

শ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কলেজছাত্রী জান্নাতুল নাঈম (১৮)। কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হারিয়ে গেলেন কোথায় তিনি। তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রাঙ্গুনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

রোববার (২ জুন) বিকেলে এ তথ্য জানান নিখোঁজ ছাত্রীর বড়ভাই মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, গত ২৩ মে সকাল ৯টার দিকে কলেজে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। ওই দিন বিকেলের পর কলেজে খোঁজ নিলে অধ্যক্ষ জানান, ওই দিন সে কলেজেও যায়নি। এরপর তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

মো. ইউসুফ আরও বলেন, কোথাও বোনের কোন সন্ধান না পেয়ে গত ২৫ মে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় জানানো হয় এবং গত ১ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। আমার বোনের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কললিস্ট বের করে দুটি নাম্বার থেকে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পায়।

তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তা প্রথমে অস্বীকার করলেও পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তারা এলাকাতেই আছে এবং একজন বিদেশ চলে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তার ঘনিষ্ট দুই বান্ধবী যারা তার একসাথে কলেজে যেতো তারাও অজ্ঞাত চাপে মুখ বন্ধ রেখেছে এবং বার বার জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলছে না। তার সাথে কারো প্রেমের সম্পর্কের খবর আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। তাই এটি নিখোঁজ নাকি পরিকল্পিত অপহরণ তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। কলেজছাত্রী জান্নাতুল নাঈমের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আশা করছি তাকে খুব দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নিখোঁজ কলেজছাত্রী জান্নাতুল নাঈম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বন্দেরাজার পাড়ার ইউনুস চেয়ারম্যান বাড়ির আব্দুস সামাদের মেয়ে। সে স্থানীয় উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে পরিবারের দুই ভাই চার বোনের মধ্যে সবার ছোট।

ঈশান/মখ/সুপম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!