বুধবার- ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার কোষাগার কার হাতে?

জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার আয়ের কোষাগার কার হাতে?
print news

১৯০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর গর্বের শেষ নেই। দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস! গণমাধ্যমের উত্তাপ- এসব ঘিরে করপোরেট হাউসগুলোর রঙছটা বিজ্ঞাপনসহ আরো কত কী! কিন্তু যাঁদের ঘিরে এত আয়োজন, সেই বলীরা বরাবরই রয়ে যান উপেক্ষিত। তারা কি পান প্রাপ্য সম্মান?

সম্প্রতি বলীখেলার ১১৫তম আয়োজন শেষে এমন প্রশ্ন ওঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠেছে এখানে খেলাটি কি মুখ্য, নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু? এ নিয়ে ট্রল হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

দর্শকরা বলছেন, এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ট্রফিসহ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারীরা ট্রফির সঙ্গে পেয়েছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী ১০০ জনের মধ্যে ৫০ রাউন্ড খেলা হয়। সেই ৫০ রাউন্ডে বিজয়ীদের দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। আর পুরস্কারের এই অর্থ কি মানসম্মত।

পাড়ার ছোট ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও যেখানে চ্যাম্পিয়নকে লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়, সেখানে বলীখেলার মতো ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজনে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার খুবই নগণ্য। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়ারও কষ্ট পেতে হয়। যে আয়োজনে চট্টগ্রামের এত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থাকেন; সেই আয়োজনে পুরস্কারের মানি কীভাবে এত কম হয়—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

তবে আয়োজক কমিটির দাবি—প্রাইজমানি এবং আনুসাঙ্গিক খরচের বিষয় পুরোটাই দেখে মরহুম আবদুল জব্বারের পরিবার। তাদের হাতে এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্বই নেই। এছাড়া ব্যবস্থাপনায় যারা থাকেন; তারা চাইলেই খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি বাড়াতে পারেন। তবে, বলীখেলার জনপ্রিয়তার তুলনায় প্রাইজমানির পরিমাণ অপ্রতুল—সেটি স্বীকার করেছেন তারাও।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের স্থানীয় ধনী বণিক বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল জব্বার সওদাগর এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। পরে তাঁর নাম অনুসারে এই আয়োজনের নামকরণ হয়েছে। মহামারি করোনায় দুই বছর (২০২০-২০২১) বাদে প্রতিবছরই নগরের লালদিঘী মাঠে আয়োজন হয় এই খেলার। যা এখন দেশের বৃহত্তম বার্ষিক লোক উৎসব হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ১১৫তম আসরে চ্যাম্পিয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ট্রফিসহ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারীরা ট্রফির সঙ্গে পেয়েছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী ১০০ জনের মধ্যে ৫০ রাউন্ড খেলা হয়। সেই ৫০ রাউন্ডে বিজয়ীদের দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বলীখেলার ১১৪তম আসরেও চ্যাম্পিয়নকে ক্রেস্ট ও নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপকে ক্রেস্ট ও নগদ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালের ১১৩তম আয়োজনে চ্যাম্পিয়নকে ২৫ হাজার টাকা ও ট্রফি; আর রানার্সআপ বলীকে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। যদিও, ২০১৭ সালে অর্থাৎ ১০৮ তম আসরে এবং তার আগের সব আয়োজনে চ্যাম্পিয়নকে ট্রফি-ক্রেস্টসহ ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ বলীকে দেওয়া হতো ১৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

যা ২০২৩ ও ২০২৪ বেড়ে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন মানি ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু ১১৫তম আসরের পর চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপের উপহার হিসেবে দেওয়া এই প্রাইজমানি নিয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এত পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজনে এই নগণ্য পুরস্কার দেওয়ায় বলীখেলার মতো বড় একটি আয়োজন জৌলুস হারাচ্ছে— এমন দাবি অনেকের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হচ্ছে এ নিয়ে নানা ট্রল।

প্রাইজমানির সমালোচনা করে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল বলেন, লজ্জা লাগে আয়োজনকারীদের দেখে। অথচ, এই খেলাকে কেন্দ্র করে যেখানে কোটি টাকার মেলা বসে। আফসোস সেখানে খেলোয়াড়দের কোনো দাম নেই। প্রাইজমানি ৩ লাখ আর ২ লাখ দেয়া যেতো। এখানের হাস্যকর এমাউন্টের প্রতিবাদ স্বরুপ বিখ্যাত সেই দিদার বলী এখন আর অংশ নেন না।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সালাউদ্দিন বলেন, অন্তত এক লাখ টাকাও দিতে পারলো না? যে খেলার জন্য চট্টগ্রাম এই দুদিনে সারাদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এখন প্রাইজমানি দেখলে বলবে যে আমাদের পাড়ার খেলাতেও আরো বেশি প্রাইজমানি দেওয়া হয়। এটি হাস্যকর।

কুমিল্লার আরেক বাসিন্দা সুমন রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, খেলায় জিতলে প্রাইজমানি যা দেয়, আমাদের কুমিল্লার খেলোয়াড়দের চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া, দুদিন থাকা খাওয়াসহ আরো বেশি খরচ হয়। এত বড় একটা আয়োজনে এই নামমাত্র প্রাইজমানি দিয়ে প্লেয়ারদের হাস্যকর বানানোর দরকার ছিলো না।

খাইরুল আলম তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সারা দেশের সবচেয়ে আইকনিক, উৎসবমুখর, পুরাতন, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মানি কত জানেন? ৩০ হাজার ট্যাকা। যে স্পন্সরগুলো এই মেলায় থাকে, যে বেচাবিক্রি এই মেলায় হয় ৬-৭ কোটি টাকা খুবই নরমাল ব্যাপার। আর যে ভারী ভারী রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকে, তাদের গাড়ির ড্রাইভারের বেতনও এর চেয়ে বেশি। লজ্জা শরমও নাই যারা এই টাকা তুলে দেয় তাদের।

বলীখেলার দিন (২৫ এপ্রিল) প্রাইজমানি নিয়ে কথা হয় চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিচিতি ও আনন্দের জন্যই মূলত বলীখেলা। আমার মনে হয় না, জব্বারের বলীখেলার মতো এত বড় আয়োজন দেশের অন্য কোথাও হয়। সেজন্য আমরাও চাই এই খেলা আরও বড় মাপের এবং বড় মানের হোক। যাতে সারাদেশ থেকে খেলোয়াড়রা এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে অংশ নেয়। তবে এটি ঠিক যে, খেলাটি যত বেশি জনপ্রিয় তার তুলনায় প্রাইজমানিটা খুব কম।

আয়োজক কমিটি ও জব্বারের পরিবারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য:

বলীখেলার আয়োজনে আয়োজক কমিটির সাথে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই— এমন দাবি আয়োজক কমিটির। তবে স্পন্সরের টাকার একাংশ রয়্যালিটি (স্বত্ব ভাড়া) হিসেবে আবদুল জব্বারের পরিবারের সদস্যরা পান বলে জানিয়েছেন তারা। যদিও আবদুল জব্বার সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদলের দাবি— তারা কোনো রয়্যালিটি পান না।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ১১৫ বছর ধরে এ আয়োজন হয়ে আসছে। বলীখেলার সব খরচ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো দেয়। আমরা শুধু ব্র্যান্ডিংটা ওদের থেকে নেই। আর মাঠের সাজ-সজ্জা, মাইকিং, জার্সি, প্রাইজমানি— এগুলো যারা পৃষ্ঠপোষক তারা দেন। তবে, আমরা এ কমিটিতে থাকলেও আনুষাঙ্গিক সবকিছু দেখভাল অর্থাৎ দায়ভার-ব্যয়ভার এগুলো সব করেন জব্বারের পরিবারের সদস্যরা। তারা প্রতিবারই পৃষ্ঠপোষকদের টাকার একটি অংশ নিজেরা নিয়ে থাকেন রয়্যালিটি হিসেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু খেলাটাকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তাদের সহযোগিতা করি। তবে, পৃষ্ঠপোষক থেকে শুরু করে টাকা লেনদেন সবকিছু করেন ওনারা (জব্বারের পরিবার)। যারা কমিটিতে আছে; তাদের কোনো অর্থের অংশীদারিত্ব নেই। আগামী বছর মেলা কমিটির বৈঠকে চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপদের প্রাইজমানি আরও বাড়ানো যায় কিনা— সেই বিষয়ে অবশ্যই প্রস্তাব রাখা হবে।

চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপরা প্রাইজমানি ছাড়া কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, তারা প্রাইজমানি ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা পান না। তারা (বলী) মূলত প্রাণের টানে, খেলা উপভোগ করতে আসে; টাকার জন্য আসে না। তারা (বলী) এটাকে উপভোগ করে।’

এদিকে জব্বারের বলীখেলায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে বলীরা আসেন চট্টগ্রামে। এরপর আয়োজনে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে লালদিঘী মাহবুব উল আলম চৌধুরী সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরির ভবনে দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য থাকার সুব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি ১১৫তম আসরে।

গত ২৫ এপ্রিল বলীখেলার দিন সরেজমিনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষকে বানানো হয়েছে ‘রেজিস্ট্রেশন ডেস্ক’। সেখানে রাখা ছিল একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার। সেসব চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় একাধিক বলীকে। দুপুর নাগাদ দূর দূরান্ত থেকে বলীরা এসে বসে থাকলেও তখনও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আসেননি কেউই।

দেখা যায়, অনেক বলী বিরক্ত হচ্ছিলেন এবং খুঁজছিলেন আয়োজন সংশ্লিষ্টদের। এ সময় কথা হয় খাগড়াছড়ির বলী সৃজন চাকমার সাথে। তিনি বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। খাগড়াছড়ি থেকে রওয়ানা দিয়ে সোজা এখানেই এসেছি। এখনো রেস্ট করিনি। কিন্তু এসে কাউকে দেখছি না।’

পাশের চেয়ারেই বসে থাকা সৃজন চাকমার ছোট ভাই সমর বিজয় বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে এসে বসে আছি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। কিন্তু কারো দেখা পাচ্ছি না। মনে করেছিলাম দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারলে আমার দাদা রেস্ট করতে পারবেন। ৪টায় খেলা শুরু হবে এখন দুপুর ১২টা বাজতে চললো।’

ওই ভবনের ৭ম তলার একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কয়েকটি জীর্ণশীর্ণ চৌকি পাতা। যার ওপরে নেই পরিচ্ছন্ন তোষকও। সেখানে বসেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন কুমিল্লার হোমনা থানা থেকে আসা চারবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলী এবং ১১৫তম আসরের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ। এ সময় অনেককে ফ্লোরে বসেই ঝিমোতে দেখা যায়।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, থাকার সুব্যবস্থার কথা বলা হলেও এত দূর থেকে আসা বলীদের বিশ্রামের জন্য নেওয়া হয়নি যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা। ফলে, জীর্ণশীর্ণ এই চৌকিতেই কোনোমতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাদের। এটি আয়োজকদের গাফিলতির ফল— এমন দাবি এসব খেলোয়াড়দের। দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য এবারের আসরে থাকার সুব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেছেন খোদ আয়োজকরাও।

এ প্রসঙ্গে আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘এবার দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য লালদিঘীর লাইব্রেরিতে থাকার সুব্যবস্থা করার কথা ম্যানেজমেন্টের। এটি আমরা দেখি না। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন তারা সেটি করেননি। এদিক দিয়ে তারা ব্যর্থ। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।’

এ প্রসঙ্গে চসিকের সাবেক কাউন্সিলর এবং আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘জনপ্রিয়তার হিসেবে খেলোয়াড়দের দেওয়া প্রাইজমানির টাকা পর্যাপ্ত নয়।’

তিনি বলেন, জব্বার সাহেবের পরিবার চাইলে প্রাইজমানি বাড়াতে পারে। তবে বাড়ানো উচিত। তাছাড়া এই আয়োজন এখনো পর্যন্ত একটি গণ্ডির মধ্যে রয়ে গেছে। এই খেলার আয়োজনকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আনা উচিৎ। এবার দর্শকদের আগ্রহের কমতি না থাকলেও ম্যানেজমেন্ট খুবই বাজে ছিল। আসলে এই খেলাকে আরও সমাদৃত করার জন্য আগ্রহ তেমন একটা নেই কারও।

জামাল হোসেন বলেন, বলীখেলার সব খরচ পৃষ্ঠপোষকরাই বহন করে থাকেন। আর খরচের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। ম্যানেজমেন্ট এটা যেভাবে পারে খরচ করে। মূলত খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি, ডেকোরেশন এবং জব্বার মিয়ার পরিবারকে রয়্যালিটি দেওয়া— এসব খাতে খরচ হয় পৃষ্ঠপোষকদের টাকা।’

তবে, বলীখেলায় পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে রয়্যালিটি নেন না বলে দাবি করে আবদুল জব্বার সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল সিভয়েস২৪-কে বলেন, ‘আমরা কোনো রয়্যালিটি পাই না। তারা (পৃষ্ঠপোষক) তাদের মতো খরচ করে। আমাদের কাছে তাদের কোনো অর্থ আসে না।’

প্রাইজমানি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে প্রাইজমানি বাড়ানোর। তবে একসঙ্গে বাড়ালে টাকার লোভে খেলোয়াড়রা নিজেদের হাত-পা ভেঙে ফেলবে। আমরা আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে বাড়াবো।’

ঐতিহাসিক এই বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা ঘিরে কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। নেই কিছু লিখিতও। সব হিসাব-নিকাশ যেন অদৃশ্য। সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই অজানা। যে যার মতো করেন আয়, আবার খরচও করেন নিজের মতো। এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘ বছর।

মেলা ঘিরে চাঁদাবাজি, পণ্যের দামে প্রভাব:

এদিকে প্রতিবছরই বলীখেলাকে ঘিরে বসে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। যে মেলায় লালদিঘী-কোতোয়ালীর আশেপাশের চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্থায়ী দোকান বসান দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ পণ্যের মেলাও এটি। কিন্তু এই মেলা ঘিরে চলে নানা ধরনের টানা চাঁদাবাজি।

অনুসন্ধান বলছে— প্রতি দোকান থেকে ‘ভাগের টাকা’ নেয় পুলিশও। যদিও মেলা শুরুর আগে এবং চলাকালীন সময়ে মাইকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার ‘হাঁকডাক’ কানে আসে। কিন্তু দোকানিরা আসা শুরু করতেই পুরোপুরি পাল্টে যায় বাস্তব চিত্র। ফলে, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা এবং খেলা— দুটোর আয়োজনই হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে আলিম উদ্দিন নামে একজন বলেন, ‘ওরা (টুর্নামেন্ট আয়োজক) চাঁদাবাজি করে। আমরা চাঁদাবাজি করি না। যারা টুর্নামেন্ট দেয় তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে টাকা তুলে। আমরা পুরো বৈশাখী মেলা থেকে টাকা তুললে এক লাখ টাকা দিতে পারবো।’

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৫তম আয়োজন শেষ হয়েছে এবার। আয়োজন ঘিরে চাঁদাবাজি রুখতে প্রশাসন এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের ‘আষাঢ়ে গল্প’ শোনালেও চাঁদাবাজি ঠেকানো যায়নি।

মেলা শুরুর আগে কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদিঘী ও আন্দরকিল্লাসহ আশেপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের এই মেলা প্রাঙ্গণে আসা পর্যন্ত কয়েক দফায় চাঁদা দিতে হয় তাদের। পথিমধ্যে চাঁদা দিয়ে এলেও চট্টগ্রাম পৌঁছে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকটি সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। অনেকটা হয়রানি এবং নির্যাতনের ভয়ে বাধ্য হয়েই চাঁদা দেন তারা। প্রায়ই অমুক-তমুক ভাইয়ের নাম বলে এসে চাঁদা দাবি করায় কাউকে চিনতেও পারেন না তারা।

জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে রাজশাহী থেকে আসা এক দোকানি বলেন, ‘হঠাৎ জেলা পরিষদের লোক পরিচয় দিয়ে চা-নাস্তার টাকা চায়। আমি বলেছি একটা সিগারেটও খাওয়াবো না। তারা আমার সাথে ধাক্কাধাক্কিও করেছে।’

ফেনী থেকে আসা মো. শাহেদ আকবর বলেন, ‘জেলা পরিষদ মার্কেটের লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের এখানে বসিয়ে দিয়েছে। আমার ভাই মূলত দোকানের মালিক তাই কত টাকা দিতে হয়েছে তা বলতে পারবো না। তবে টাকা দিয়েই আমরা বসেছি।

ব্যাপক চাঁদাবাজির ফলে পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব পরে— এমনটা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। চাঁদাবাজির ফলে উৎপাদন মূল্য এবং যাতায়াত খরচের সাথে পণ্যমূল্যের অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তি যোগ করতে হয় ব্যবসায়ীদের।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা কুটিরশিল্প সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মো. আয়মান সোহেল বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিবারই মেলা কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। বলে, কেউ চাঁদা নিলে যেন পুলিশকে জানাই। এখন পুলিশই এসে যদি চাঁদা নেয় তাহলে আমরা কীভাবে কাকে জানাবো? কয়েকদিনের জন্য উৎসব করে আমরা কিছু পণ্য বিক্রি করতে আসি। কিন্তু স্থানীয় কয়েকটি সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিতে দিতে আমরা উৎসবের আনন্দ হারিয়ে ফেলি। আপনারা যাই লিখেন এগুলোর প্রতিকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘একটা পণ্য যদি আমি ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে চাই; তবে থাকা খরচ এবং চাঁদার টাকা মিলিয়ে সেই পণ্যের সাথে আরও অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তি দাম যোগ করতে হয়। এখন ক্রেতারা সেটা বুঝে না। বলে মেলায় জিনিসের দাম বেশি। দাম তো এসবের কারণেই বাড়ে। এখানে আমাদের তো কিছুই করার নেই আসলে।’

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি জহর লাল হাজারী বলেন, ‘অনেকে ৫, ১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে জায়গাগুলো কিনে নেয়। তবে আগে ১শ টাকা নিলেও এখন এক হাজার টাকা, দুই হাজার টাকা নেয়। নগর পুলিশ যদি একটু মানবিক হয়, র‌্যাবকে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। গুটি কয়েক মানুষ; মানে মিনিমাম হাতেগোনা ১০-১৫ জন মানুষ চাঁদার কাজগুলো করে। আমরা যদি তাদের একটু নজরদারিতে রাখি; তাহলে একটা মানুষও এসে টাকা নিতে পারবে না।’

মেলায় চাঁদাবাজির বিষয়ে গত ২২ এপ্রিল নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আশরাফুল করিম সিভয়েস২৪-কে বলেছিলেন, ‘কে বা কারা চাঁদাবাজি করছে এ বিষয়ে আমাদের তথ্যপ্রমাণ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। মেলায় ব্যবসা করতে আসা সবাই অতিথি। যেহেতু বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৫তম আসর এটি, তাই চট্টগ্রামের জন্য এটি ব্র্যান্ডিং। এই আয়োজন যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়; সেজন্য আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা করবো।’

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, মেলা ঘিরে দফায় দফায় চাঁদাবাজি হয়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু সদস্যও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছেন চাঁদা। যার তথ্যপ্রমাণ সমৃদ্ধ ভিডিও রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের ১১৫তম আসরের ফাইনালে লড়াই করেন চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলীর দুই শিষ্য মোহাম্মদ রাশেদ বলী ও ‘বাঘা’ শরীফ বলী। টানা ১১ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর বাঘা শরীফের হাত উঁচিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা দেন রাশেদ বলী। খেলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন খাগড়াছড়ির সৃজন বলী। গতবারও তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন তিনি। চতুর্থ হয়েছেন সীতাকুণ্ডের মো. রাসেল।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে ৩০ হাজার, রানার্সআপকে ২০ হাজার, তৃতীয় বলীকে ১০ হাজার ও চতুর্থ বলীকে ৫ হাজার টাকাসহ ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। পাশাপাশি প্রথম রাউন্ডে বিজয়ী ৩৫ জনের প্রত্যেককে দেওয়া হয় ২ হাজার টাকা করে।   (সিভয়েস থেকে প্রান্ত তথ্যে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে)

ঈশান/মখ/সুপ

আরও পড়ুন

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

print news

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস বিভাগ অফিসার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

পদের নাম: অফিসার
বিভাগ: কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন ২০২৪

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিসের সাথে প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ জুন ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

print news

মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৬তম গ্রেডে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে ২০৯ জনেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১২ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সমাজসেবা অধিদপ্তর
পদের নাম: সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
পদসংখ্যা: ২০৯টি
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
গ্রেড: ১৬ তম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

চাকরির ধরন: সরকারী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
কর্মস্থল: ইউনিয় পর্যায়ে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১২ জুন ২০২৪

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

print news

সকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

পদের নাম: প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফার্মেসিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এমবিবিএস ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: ফার্মাসিউটিক্যালসে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী পারফরম্যান্স এবং উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আরো সুবিধা।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

print news

র্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-সম্পাদক পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ঢাকা পোস্ট
পদের নাম: সহ-সম্পাদক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর (সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ অগ্রাধিকার) ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: অনুবাদে দক্ষতা, সংবাদ লেখা ও ডেস্ক রিপোর্টিং এবং ফটোশপ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চাকরির খবর : ঢাকা পোস্ট জবস
আবেদন শুরুর তারিখ : ১১ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২১ জুন ২০২৪
লোকবল নিয়োগ: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: অভিজ্ঞতা অনুসারে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার,পরিবহন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে সিভি পাঠাতে হবে hr@dhakapost.com- এই ঠিকানায়।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

print news

য়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, এইডস আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। বিষয়টি নজরে পড়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের। বেশ বিব্রত তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন তা।

মমতাজ বলেন, ‘শুনলাম, আমার নাকি এইডস হয়েছে! বিষয়টি বিব্রতকর। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ ও খুব ভালো আছি। আর সে কারণেই স্টেজ শো নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারছি। ঈদের পরও দেশের বাইরে যাচ্ছি। যারা এসব মিথ্যা কিংবা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বলেন, যারা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বলব, এগুলো ভালো না, ভালো পথে থাকেন। আর আমার ভক্তদের বলব, এসব গুজবে কান দেবেন না। সবার দোয়ায় আপনাদের মমতাজ অনেক অনেক ভালো আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর দিন আবার স্টেজ শোতে অংশ নিতে দুবাই যাচ্ছি। গান গাওয়ার পাশাপাশি সেখানের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও অংশ নেব। সব শেষ করে চলতি মাসের ২৩-২৪ তারিখে দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে।’

কদিন আগে ‘বুঝলে নাকি বুঝপাতা’ শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয় মমতাজের। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকার নাতনি। গানটি নিয়ে মমতাজ বলেন, ‘মজার ছলেই গানটি কণ্ঠে তোলা। আমার সঙ্গে নাতনি মোমধুও দারুণ গেয়েছে। নাতনিকে নিয়ে তিন-চারদিন আগে ঘুরতে গিয়েই গানটি গাইলাম। তখন এটি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করি। এটি যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তা বুঝিনি।

একটা বার্তাও দিতে চেয়েছি। একদল মানুষ আমার নামে মিথ্যা ও গুজব ছড়াচ্ছে। যাদের বোঝার তারা ঠিকই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আর কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে এখনও দোটানার মধ্যে আছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই গানটি গাওয়া।’

ঈশান/মখ/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

print news

তেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ড পোট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এই অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল মায়ের্কস দাবাও নামের একটি কন্টেনার ভ্যাসেলের অপারেশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে বন্দরের সকল কার্যক্রম নজরদারি করি। আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশাল কার্যক্রম পরিচালনা করলো। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে দায়িত্ব পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পিসিটি পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে আমি আশা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, বন্দরে আজকে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ লোড করার মাধ্যমে আমরা আত্নপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করবো, আগামীতে সকল অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাবো।

বন্দরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পিসিটি দিয়ে মায়েরস্ক দাভাও নামে একটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং করল। ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্যালাং থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর পিসিটিতে প্রায় ৮০০ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার ওঠানামা করে পরবর্তী গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এ টার্মিনাল বছরে ৬ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। ১০ মিটার গভীরের জাহাজ ভিড়তে পারবে। তবে মায়ের্কস দাবাও নামের জাহাজটির ড্রাফট ৯ মিটার। প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) সঙ্গে মাস ছয়েক আগে চুক্তি হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে রেড সি গেটওয়ে বাংলাদেশ লিমিটেড শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো অপারেশনে আসা জাহাজটিতে খালি কন্টেইনার লোড করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, আরএসজিটিআই বাংলাদেশে কনটেইনার টার্মিনাল খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এর ফলে টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করার করার ক্ষমতা থাকবে।

আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবের শীর্ষ স্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর। যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত, যেটি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বার্ষিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়ের ব্যবধানে বন্দরে পণ্য কিংবা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্প। ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত ১৪ নভেম্বর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এরপর ডিসেম্বরের এটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরসিজিটিকে।

এই টার্মিনালে রয়েছে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ছয় মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং।

যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে এই টার্মিনাল অপারেশনে গেলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

ঈশান/মখ/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!