শুক্রবার- ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অসচেতনতায় ‘হিট স্ট্রোক’ কেড়ে নিতে পারে প্রাণ

print news

ডেস্ক রিপোর্ট :

প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল দেশবাসী। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪২ ডিগ্রিতে। তীব্র এই দাবদাহে পানি পান না করে দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করলে যে কারও হতে পারে হিট স্ট্রোক। চিকিৎসকরা বলছেন, হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ৩০ থেকে ৫০ শতাংশেরই মৃত্যু হয়ে থাকে। তাই এ অবস্থায় সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই।

চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে দেহের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক দেখা দেয়। সাধারণত ছোট বাচ্চা, বয়স্ক লোক, ব্যায়ামবিদ বা দিনমজুরদের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি খুবই ভয়াবহ, তাদের দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ করার সিস্টেম ডেভেলপড না হওয়ায় তাদের হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি।

প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, গত কিছুদিন যাবত দেশে গরমটা অনেক বেশি। বাইরে কাজ করতে গেলে পানের সঙ্গে শরীরের লবণটাও বের হয়ে যায়। এতে করে শরীরে দুর্বলতা, অবসাদ, ক্লান্তি, মাথা ঘোরানো, প্রেসার কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও গরমে মানুষ রাস্তাঘাটে দূষিত পানি, শরবতসহ আজেবাজে নানা কিছুই খেয়ে থাকে, এর ফলে অসংখ্য ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আমরা গত কিছুদিন দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করে, তাদের শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ১০৫ ডিগ্রি পার হয়ে গেলে দেখবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, এমনকি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় হিট স্ট্রোক। এটি খুবই ভয়াবহ। এমনটা হলে দ্রুত শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে অনেকক্ষেত্রে মারাও যেতে পারে।

প্রখ্যাত এই চিকিৎসক বলেন, যারা ক্রনিক রোগে ভুগছেন; বিশেষ করে কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের রোগী তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অতি জরুরি কোনও কারণ ছাড়া তারা যেন এই প্রচণ্ড রোদের তাপমাত্রায় বাইরে বের না হয়।

সচেতনতা প্রসঙ্গে এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া এই তাপমাত্রায় কারও বাইরে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যারা ছোট বাচ্চা ও গর্ভবতী নারী- তাদের ঝুঁকিটা বেশি। আর রিকশাওয়ালা, দিনমজুরসহ যাদের বাধ্য হয়েই কাজের তাড়নায় বাইরে যেতে হয়, তারা যেন সঙ্গে করে ছাতা নিয়ে বের হয়। এমনকি ঘণ্টাখানেক পরপর কিছুক্ষণের জন্য হলেও ছায়াতে বসে পাঁচ-দশ মিনিটের জন্য বিশ্রাম নিয়ে তারপর আবার কাজে যায়।

তিনি বলেন, যারা রোজা রাখেন তারা ইফতারের পর বেশি বেশি করে পানি খাবেন। সম্ভব হলে পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে নেবেন। লবণ মিশ্রিত পানিটা শরীরের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করবে। এক্ষেত্রে ইফতারের পর ওরস্যালাইনও খাওয়া যেতে পারে।

এবিএম আবদুল্লাহ আরও বলেন, গরম থেকে বাঁচতে কাপড়চোপড় পরা উচিত ঢিলেঢালা। বেশি টাইট জামা পরলে শরীর থেকে তাপ বের হতে পারে না। যথাসম্ভব পাতলা জাতীয় কাপড় পরিধান করবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌফিক আহমেদ বলেন, এই গরমে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে হিটস্ট্রোক হয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে যে কেউ, বাড়তে পারে শরীরের অন্যান্য জটিলতা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই এই সময়ে নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রয়োজন হয় একটু বাড়তি যত্ন, একটু বাড়তি সতর্কতা।

তিনি বলেন, হিট রিলেটেড অসুস্থতাকে আমরা সাধারণত ৫ ভাগে ভাগ করি। সেগুলো হলো- হিট ইডিমা, হিট ক্র্যাম্প, হিট সিনকোপ, হিট একজেশন এবং হিট স্ট্রোক। এক্ষেত্রে কারও হিট ইডিমা হলে হাত-পা ফুলে যাবে। সাধারণত গরমের জন্য ভেসোডাইলেশনের জন্য এটি হয়। আর হিট ক্র্যাম্প হয় ইলেকট্রোলাইট ফ্রি তরল জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে। এই সমস্যায় বিশেষ করে মাংসপেশির ব্যথা হয়। এছাড়াও হিট একজেশন হয় যখন তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ হয়। তখন শরীর তার মেটাবলিজম কমিয়ে দেয় এবং শরীরকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। তবে, শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

‘এছাড়াও হিট সিনকোপ হলো এর পরের ধাপ। বিশেষ করে যাদের হ্নদরোগ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের দেহের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে হিট সিনকোপ হয় এবং রোগী হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যায়। এবং সর্বশেষ হলো হিট স্টোক।’

ডা. তৌফিক বলেন, হিট স্ট্রোক খুবই খারাপ জিনিস। বলা হয়ে থাকে কেউ যদি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, তার মর্টালিটি রেট (মৃত্যু হার) ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। যেহেতু গত কিছুদিন যাবত দেশে গরমটা বেশ পড়েছে, আমরাও বেশকিছু হিটের রোগী পাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত ক্রিটিক্যাল রোগী খুব কমই পেয়েছি।

বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের এই চিকিৎসক বলেন, অতিরিক্ত গরম পড়লে আমরা মানুষকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেই। এছাড়াও সময়ের মধ্যে এক্সারসাইজ বা কায়িক পরিশ্রম থেকে যতো বিরত থাকা যায়, ততোই ভালো। বিশেষ করে যে সময়টায় তাপমাত্রা বেশি থাকে।

করণীয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রোগীর বমি হতে পারে, অবচেতন হতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে এবং শরীর মেজর অর্গানগুলো ইফেক্ট হতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের দুটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। একটি হলো হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে আমরা কী করব, দ্বিতীয়টি হলো হিট স্ট্রোক হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কী হবে। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করার জন্য যে সময়টাতে গরম বেশি থাকে, তখনকার কাজগুলো রুটিন করে অন্য সময় করে নেব। যেমন আমরা দেখি যে সকাল-সকাল রোদ কিছুটা কম থাকে, দিনে বাইরে কোনও কাজ থাকলে সেই সময়টাতে কাজগুলো আমরা করে ফেলব। আমরা যে পোশাকগুলো পরবো, সেগুলো যেন একটু ঢিলে-ঢালা হয় এ বিষয়টি মাথায় রাখব। চেষ্টা করব তরল জাতীয় খাবারগুলো বেশি খাওয়ার। সবচেয়ে ভালো হয়, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, তরমুজ, পর্যাপ্ত পানি খেতে পারলে। তবে মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।

ডা. তৌফিক বলেন, গরমে কেউ যদি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, তাহলে সর্বপ্রথম তাকে গরম জায়গা থেকে ঠান্ডা কোনও জায়গায় নিয়ে আসতে হবে এবং বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হসপিটালে ভর্তির পর আমাদের অনেকগুলো ট্রিটমেন্ট আছে। যদি দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাকে আমরা সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারি। তবে হিট স্ট্রোকে মৃতের হারটাও আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, যদিও এবছর এই ধরনের রোগীগুলো আমরা এতটা পাইনি, তবে গত বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী আমরা পেয়েছি। তাপমাত্রা বেশি থাকা সত্ত্বেও রোগী কম আসার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন তো রমজান মাস চলছে। এ মাসে যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে, মানুষ তাদের অতিরিক্ত কাজগুলো আগেভাগেই করে ফেলে এবং খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয় না। এর পেছনে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে আমাদের মিডিয়াগুলো। বরং শুরু হতেই তারা নানা সচেতনতামূলক সংবাদ ও ইন্টারভিউ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যে কারণে তীব্র রোদের এতোটা ভয়াবহতা আমরা দেখিনি।

চলমান তাপদাহে হিট স্ট্রোক থেকে নিরাপদ থাকতে মানতে হবে কিছু নিয়ম-
গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি যে কোনও ঝুঁকি এড়াতে বেশ কিছু পরামর্শ (ফেসবুক পোস্ট) দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজিরুম মুবিন। সেগুলো হলো-

১. হাইড্রেটেড থাকুন- প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। রোজাদাররা ইফতার ও সেহরির মাঝখানের সময়টাতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। চা, কফি এড়িয়ে চলুন। চা, কফির ক্যাফেইন আপনাকে ডিহাইড্রেটেড (পানিশূন্য) করে ফেলতে পারে।

২. ঠান্ডা থাকুন- ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন। বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। একান্তই বের হওয়া লাগলে ভারি কাজ এড়িয়ে চলুন, ঘন ঘন বিরতি নিন এবং বিশ্রামের জন্য ছায়া বা শীতল জায়গা খুঁজুন, ছাতা ব্যবহার করুন।

৩. বিপদ চিহ্নগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন- তাপ ক্লান্তির লক্ষণ হলো প্রচুর ঘাম হওয়া, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। আপনি যদি এই উপসর্গগুলোর মধ্যে কোনটি অনুভব করেন তবে একটি ঠান্ডা জায়গায় যান, পানি পান করুন এবং বিশ্রাম নিন।

হিট স্ট্রোকের উপসর্গ হলো- শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়া, অসংলগ্ন কথা বলা বা অসংলগ্ন আচরণ করা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। আপনার বা আপনার আশেপাশের কারো মধ্যে এই উপসর্গগুলো থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডিআই/খম

আরও পড়ুন

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

print news

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটিতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। আর বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন টাইগার বোলাররা।

তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমান-রিশাদ হাসানদের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানেই আটকে দেয় লাল-সবুজের দল। এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে অবশ্য শুরুটা ভালো করতে পারেননি দুই টাইগাররা ওপেনার। ব্যর্থ হন শান্তও।

তবে দলের হাল ধরেছিলেন তাওহীদ হৃদয়-লিটন দাস। এ দুজনের ব্যাটেই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও হৃদয়-লিটনের ৬৩ রানের জুটির সুবাদেই ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের দেয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সৌম্য। ব্যাটিং ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য রান করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সৌম্য সরকার। ধনঞ্জায়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন তিনি।

এরপর টাইগারদের আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন তরুণ তামিম। নুয়ান তুষারার বলে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড আউট হন এই ওপেনারও। ফলে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত। দু‘জন মিলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এরপর ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন শান্ত।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুষারার বলে আসালাঙ্কার মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার অধিনায়ক। শান্তর বিদায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন-হৃদয় জুটি। এ দুজন মিলে লঙ্কান বলারদের দেখেশুনে খেলে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে লিটন ধরে খেললেও অপরপ্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন হৃদয়।

তবে দলীয় ৯১ রানে হাসারাঙ্গার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন হৃদয়। তবে ফেরার আগে ৪ ছয় ও এক চারে ২০ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এদিকে হৃদয় ফেরার পর আউট হন লিটনও। এরপর একে একে আউট হন সাকিব আল হাসান এবং রিশাদ হোসেন ও তাসকি আহমেদ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের শঙ্কা লাল-সবুজের দলে।

তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের স্বাদই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেট কিলার খ্যাত এই ফিনিশার উনিশতম ওভারে দাশুন শানাকার করা প্রথম বলে ৬ মেরে চাপমুক্ত করেন দলকে। এরপর একই ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ী করেন তিনি। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

এর আগে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্ত আজ শুরুতেই বল হাতে তুলে দিয়েছিলেন তরুণ তানজিম সাকিবকে। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ওভারে ১৩ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। তাসকিন আক্রমণে আসেন ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। তাঁর করা ওভারের প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান কুশল মেন্ডিস।

তবে তৃতীয় বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের বলে বোল্ড হয়ে লঙ্কান অধিনায়ক ফিরেন ৮ বলে ১০ রান করে। এরপর ক্রিজে নিশাঙ্কার সঙ্গী হন কামিন্দু। কামিন্দুকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন নিশাঙ্কা। আজ আগ্রাসী মেজাজেই ছিলেন তিনি। পঞ্চম ওভারে সাকিবের বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ফলে শুরুতেই এক উইকেট হারালেও রান বাড়তে থাকে লঙ্কানদের।

তবে পরের ওভারেই লাগাম টেনে ধরেন মোস্তাফিজ। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান কামিন্দু মেন্ডিসকে। এরপর নবম ওভারে তাঁর বলে আউট হয়েই ফিরতে হয় নিশাঙ্কাকেও। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেছেন ২৮ বলে ৪৭ রান।

এরপর ধনঞ্জায়া ডি সিলভাকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। তবে ১৫ তম ওভারের প্রিওথম বলেই রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাকিবের মুঠোবন্দী হন আসালাঙ্কা। ১৯ রান করে লঙ্কান এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে ডি সিলভার সঙ্গী হন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তবে লঙ্কান অধিনায়ককে থিতু হওয়ার সুযোগই দেননি রিশাদ। ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাসারাঙ্গাও ফিরেন সৌম্য সরকারের মুঠোবন্দী হয়ে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে এরপর চাপএ পড়ে ১৭তম ওভারেই। নিজের শেষ ওভারে রিশাদের করা বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করতে চেয়েছিলেন ডি সিলভা। তবে মিস করেন তিনি। এই সুযোগে বল লুফে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

এরপর লঙ্কানদের আরও দুইটি উইকেট তুলে নেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে ১২৪ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিশাদ ও মোস্তাফিজ।

ঈশান/খম/সুম

আদেশ অমান্য করে সীতাকুন্ডে শিপ ইয়ার্ডের জন্য বনভুমি ইজারা

আদেশ অমান্য করে সীতাকুন্ডে শিপ ইয়ার্ডের জন্য বনভুমি ইজারা

print news

ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলে জাহাজভাঙা শিল্পের ইয়ার্ড স্থাপনের জন্য কোহিনূর স্টিলকে উপকুলীয় বনভুমির জায়গায় দেওয়া ইজারা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

রবিবার (২ জুন) দুপুরে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ আদালত বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ৯ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে ইজারা পুর্নবহালের আদেশের বিষয়টি ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে।

এর আগে গত ৩০ মে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে আদালত অবমাননার একটি মামলা (২০২/২০২৪) করে। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড এলাকায় ভুমিদস্যু ও মাদক পাচারকারী হিসেবে পরিচিত আবুল কাশেম প্রকাশ রাজা কাশেম বিবিসি স্টিলের নামে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার উত্তর সলিমপুর মৌজার ২১ দশমিক ৫৭ একর জমি ইজারার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন।

ওই জমির মধ্যে সমুদ্র উপকূলের অংশ তুলাতলী মৌজা অর্থাৎ নির্ধারিত জাহাজভাঙা শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছিল বলে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের প্রতিবেদন উঠে আসে। ২০১৯ সালে বিবিসি স্টিলকে সীতাকুণ্ডের তুলাতলী মৌজায় ৭ দশমিক ১০ একর জমি দেওয়া হয়। এ সুবাধে রাজা কাসেম উপকুলীয় বনবিভাগের ১৯৪ একর জমি ঘেরা-বেড়া দিয়ে জবর দখল করে। বনবিভাগ এ বিষয়ে আপত্তি জানায়। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

এরপর ইজারা বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে মামলা করে বেলা। ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি উচ্চ আদালত ইজারা প্রক্রিয়াটিকে অননুমোদিত ঘোষণা করেন এবং জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে বনভূমি রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এরপর ঘটে নতুন কাহিনী। রাজা কাশেম তার দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনুরের নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে উপকুলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনাপত্তি পত্র সংযুক্তির মাধ্যমে আবারও ইজারার জন্য আবেদন করেন। পরে এই কোহিনূর স্টিলের নামেই ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ৫ একর জমি ইজারা দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

আর ইজারা দেওয়া জমিগুলোই সংরক্ষিত  উপকুলীয় বনের দখল করা একই জমি। যার উপর একাধিক অফিস ভবনসহ জাহাজভাঙা শিল্পের নানা স্থাপনা স্থাপন করে। এমনকি পাথর ঢালাই করে সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। এসব জমি জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার না হলেও কাগজে-কলমে মৌজা পরিবর্তন করে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, কোহিনূর স্টিলসহ বিভিন্ন পক্ষকে আইনি নোটিশ দেয় বেলা। একই জায়গা নতুন করে ইজারা দেওয়ায় বেলা আদালত অবমাননার আবেদন জানায়। এরপর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ২০২৩ সালের জুনে দ্বিতীয় দফায় ইজারা বাতিল করে জেলা প্রশাসন। ইজারা বাতিলের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়।

তখন জেলা প্রশাসনের নথিতে ইজারা বাতিলের কারণ হিসেবে কোহিনূর স্টিল ইয়ার্ডের জমিকে তুলাতলী মৌজার (শিল্পজোন বহির্ভূত) উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, ইজারাদার গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করেছেন। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে জমি দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই বার ইজারা বাতিল হওয়ার পরও সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলের ৫ একর জমি কোহিনূর স্টিলকে ইজারা ফিরিয়ে দিতে গত ২৪ মার্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) আদালত। কিন্তু বিষয়টি কাগজে পত্রেই রয়ে যায়। সবকিছু গোপন রেখে সেই জায়গায় জাহাজভাঙার কাজ শুরু করে ভুমিদস্যু রাজা কাসেম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী হাসানুল বান্না বলেন ‘১৯৮৩-৮৪ সাল থেকে এই উপকূলীয় জমিতে বনায়ন করা হয়। বন রক্ষায় জমিগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বন ফিরে পাবে তার আপন পরিবেশ।

আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, এ ধরনের কার্যক্রম চলাকালীন কোনো ইজারা দেওয়া উচিত নয়। জেলা প্রশাসনকে জমি সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও ইজারা মঞ্জুর করায় এ অঞ্চলের বন উজাড় হয়েছে, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বেলার পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ফলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। 

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে সোনা গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা

ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা

print news

# দু‘পক্ষের তীর একে অপরের দিকে
# চলছে গুঞ্জন, উঠছে নানা প্রশ্ন

ট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার লকার থেকে এক গ্রাহকের প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েবের ঘটনায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রাহক ও লকার ইনচার্জ একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে।

ঘটনা জানাজানির পাঁচ দিন পরও গ্রাহক বা ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে সাত দিন সময়ও নেওয়া হয়। এভাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে আশ্বস্ত করে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় স্বর্ণালংকার গায়েবের সু¯পষ্ট কোনো তথ্য এখনো না মিলায় এ ঘটনায় চট্টগ্রামজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন, তোলা হচ্ছে নানা প্রশ্ন। ব্যাংকের তথ্যমতে, লকার খোলার মূল চাবি থাকে একমাত্র গ্রাহকের কাছে। নকল চাবি থাকে লকার ইনচার্জের কাছে। তাহলে এই দু‘পক্ষের মধ্যে গ্রাহক যদি লকার না খুলে তাহলে লকারটি খোলার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব মিলছে না।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লকার থেকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকের বিরুদ্ধে স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে। ফলে অলংকার চুরির অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়ে গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী ব্যাংকের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ নিয়ে ২৯ মে দুপুরে তিনি চকবাজার থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে মৌখিক অভিযোগ করার পর ওসি ব্যাংকে যান এবং লকার খোলা থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

রাতে রোকেয়া আক্তারের ছেলে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে ওসি এ ধরনের ঘটনায় মামলা করতে হবে বলে জানান। তিনি সময় চাইলে ওসি পরদিন দুপুর ১২টার দিকে লিখিত এজাহার নিয়ে থানায় যেতে বলেন। এরপর তারা আর থানায় যাননি।

এ ্িবষয়ে চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে আমরা ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের লিখিত বা মৌখিকভাবেও কিছুই জানায়নি। এ বিষয়ে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাও বলেনি।

এ বিষয়ে রোকেয়া আক্তারের ছেলে ডা. রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ব্যাংকের সাথেই লাগোয়া চকবাজার থানা। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ মামলা করতে বলেছেন। তবে আইনজীবীরা বলেছেন থানার চেয়ে আদালতে মামলা করলে ভালো হবে। তখন পিবিআই বা সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত হবে। তাই আমরা আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ব্যাংকের গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী বলেন, আমাদের একজন আইনজীবী আছেন। উনার সঙ্গে পরামর্শ করেছি। উনি বলেছেন আদালতে মামলা করতে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অবশ্যই মামলা হবে। আমি আমার গোল্ড ফেরত চাই। না হলে সমপরিমাণ টাকা আমাকে ফেরত দিতে হবে।

নগরীর চট্টেশ্বরী রোডের বাসিন্দা রোকেয়া আক্তার বারী বলেন, গত বুধবার (২৯ মে) দুপুরের দিকে আমি ব্যাংকে যাই। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে লকার ইনচার্জ লকার রুমে ঢোকেন। আমি ঢুকব এমন সময় উনি বের হয়ে বললেন, ম্যাডাম, আপনার লকারের নম্বর কত? আমি বললাম ৪৪। উনি বললেন, ম্যাডাম, আপনার লকার তো খোলা।

রোকেয়া বলেন, আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে লকারে হাত ঢুকিয়ে দেখলাম, সামনের দিকে যেগুলো রাখা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু নেই। পেছনের দিকে সাত-আটটা বক্স পেয়েছি। সেখানে দুইটা বক্সের মধ্যে ১০-১১ ভরি মতো গোল্ড পেয়েছি। পাঁচ-ছয়টা খালি। যেখানে ১৪৯ থেকে ১৫০ ভরির মতো স্বর্ণালংকার ছিল। আমার দুই ছেলের বউয়ের গোল্ডও সেখানে ছিল। সেগুলো এখন নেই।

রোকেয়া আক্তার বারীর ছেলে ডা. রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ২০০৭ সাল থেকে তার মা রোকেয়া আক্তার একমাত্র গ্রাহক হিসেবে লকারটি ব্যবহার করে আসছিলেন। সেখানে মা ও তার দুই পুত্রবধূর এবং মেয়ের প্রায় ১৬০ ভরি সোনার অলংকার রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০-১১ ভরি বাদে বাকি সব অলংকার উধাও হয়ে গেছে।

বিষয়টি জানতে ২ জুন রবিবার দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে লকার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও শাখা প্রধানের অনুমতি মেলেনি। এমনকি লকার ইনচার্জের নামও জানাতে রাজি হননি তিনি।

চকবাজার শাখা প্রধান ও ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী জানান, ২০০২ সাল থেকে রোকেয়া আক্তার বারী এককভাবে লকারটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন। উনি একাই সেটি পরিচালনা করতেন, মনোনীত কোনো প্রতিনিধি ছিল না।

এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী বলেন, রোকেয়া আক্তার গত ৮ এপ্রিল লকার ব্যবহারের জন্য ব্যাংকে এসেছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের উপস্থিতিতে মাস্টার কী (চাবি) দিয়ে লকার আনলক করেন। পরে গ্রাহক যথারীতি তার কাছে রক্ষিত চাবি ব্যবহার করে পরিপূর্ণভাবে লকার খুলে তার কাজ শেষে লকার বন্ধ করে লকার ইনচার্জকে অবহিত করে চলে যান।

এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উনারা পরামর্শ দিয়েছেন, আগে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হোক। তারপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্যত্যা যাচাই না করে পুলিশের কাছে কোন যুক্তিতে যাব? গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের স¤পর্ক। মৌখিকভাবে উনাদের কাছে আমরা সময় চেয়েছি। অ্যামি কেবল রিলেশনের মাধ্যমে সমঝোতা করতে চেয়েছি। উনারা আমাদের সাত দিন সময় দিয়েছেন।

লকারের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে গ্রাহক ছাড়া কারও পক্ষে সেটি খোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখেছি। লকার রুমে কোনো জানালা বা ভেন্টিলেটর নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। লকার রুমে চুরির কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৯ মে গ্রাহক তার লকার ব্যবহার করতে এসে তার গহনা খোয়া গেছে বলে জানান। অথচ এর আগে তিনি নিজে লকার বন্ধ করে চাবি নিয়ে গেছেন।

তারপর লকার হোল্ডার (গ্রাহক) একবার বলেন তার ৩০০ ভরি স্বর্ণ নেই, কিছুক্ষণ পর আবার জানান ১৫০ ভরি স্বর্ণ নেই এবং কিছুক্ষণ পর আবার জানান ১৫০ ভরির মধ্যে অর্ধেক পেয়েছেন, বাকি অর্ধেক পাননি। তিনি এ ধরনের স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি লকার খোলার জন্য দুটি চাবির প্রয়োজন হয়, যার একটি গ্রাহক ও অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। গ্রাহকের চাবি ছাড়া কেবল ব্যাংকে রক্ষিত চাবি দিয়ে কোনোভাবেই লকার খোলা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহককে তার লকারের মূল চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। লকারে রক্ষিত মালামাল ও তার পরিমাণ স¤পর্কে একমাত্র গ্রাহক ছাড়া ব্যাংকার বা অন্য কোনো ব্যক্তির জানার সুযোগ নেই।

একমাত্র গ্রাহকের পক্ষে তার চাবি দিয়ে লকার বন্ধ করার সুযোগ আছে। লকার বন্ধ না করা পর্যন্ত গ্রাহকের চাবি বের করে আনা যায় না। লকার বন্ধ করার সময় নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের কারও সেখানে থাকার সুযোগ নেই।

রোকেয়া আক্তার বারীও অবশ্য জানিয়েছেন, ৮ এপ্রিল তিনি লকারে সব সোনার অলংকার পেয়েছিলেন এবং তিনি যথারীতি লকার বন্ধ করেই ফিরে যান। ২০০৬ সাল থেকে তিনি ও তার মেয়ে নাসিয়া মারজুকা যৌথ নামে লকারটি ব্যবহার করে আসছিলেন। কোন সময় অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় তিনি যেমন বিস্মিত, তেমনি হতাশাজনক বলে জানান।

ঈশান/খম/সুম

বান্দরবানেও বেন‌জীরের নজরকাড়া কোটি টাকার সম্পদ!

print news

পুলিশের আলোচিত সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের অবকাশ য‌াপ‌নের বাংলো, মাছের প্রজেক্ট, বনজ ও ফলদ গাছের বাগানসহ নজরকাড়া কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান পার্বত্য জেলায়।

এ জেলার সুয়ালক মৌজা এবং লামার ডলুছ‌ড়ি মৌজায় বেন‌জীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে রয়েছে অন্তত ৮০ একর জায়গ‌া। এর মধ্যে বিভিন্ন বনজ-ফলদ, মাছের প্রজেক্ট, গরুর খামার ও বাংলোসহ প্রায় ক‌য়েক কো‌টি টাকার সম্প‌ত্তি। যা স্থানীয়‌দের কা‌ছে ‘এস‌পির জায়গা’ হি‌সেবে প‌রি‌চিত।

এদিকে বেশ কয়েকদিন আগে বান্দরবান সদরের সুয়ালক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে মা‌ছের প্রজেক্ট ও গরুর খামার। তার এ জায়গা‌টি যে‌তে সরকারিভা‌বে নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছে রাস্তা। নেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইনও। রয়েছে অবকাশ য‌াপ‌নের জন‌্য দোতলা রেস্টহাউজ।

সেখানে গড়ে তোলা গরুর খামা‌রের দা‌য়ি‌ত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মচারী জানান, এটি বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গা হ‌লেও দেখা শোনার দা‌য়ি‌ত্বে র‌য়ে‌ছে বান্দরবা‌ন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়া‌র্ডের মি দো মং মারমার ছে‌লে ও স্বেচ্ছাসেবক লী‌গের সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং মারমা।

জায়গার রক্ষণা‌বেক্ষ‌ণের দা‌য়ি‌ত্বে থাকা এক নারী কেয়ারটেকার জানান, এ জায়গা‌টি এস‌পির জায়গা হি‌সে‌বেই প‌রি‌চিত সক‌লের কা‌ছে। ত‌বে কাগজপ‌ত্রে র‌য়ে‌ছে বেন‌জীর আহ‌মেদ, তার স্ত্রী ও কন‌্যার নাম।

জানা গেছে, ২০১৬ সা‌লে বেন‌জীর আহ‌মেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা ও মে‌য়ে ফারহীন রিশতা বিন‌তে বেনজীরের না‌মে ৩১৪ নম্বর সুয়ালক মৌজায় ৬১৪ নম্বর দা‌গে ও ৩ নম্বর সিটে ২৫ একর জায়গা লিজ নিয়েছিলেন বান্দরবান পৌর এলাকার মধ‌্যমপাড়ার আবুল কা‌শেমের ছে‌লে শাহ জাহা‌নের কাছ থে‌কে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এসব জায়গায় একসময় অসহায় প‌রিবারের বসবাস থাক‌লেও ক্ষমতার জো‌রে নামমাত্র মূ‌ল্যে জ‌মিগুলো বি‌ক্রি ক‌রতে বাধ‌্য হয়েছে।’

অভিযোগ আছে, এসব জ‌মি ক্রয় কর‌তে সহ‌যো‌গিতা ক‌রে‌ছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মং ওয়াই চিং মারমা।

শনিবার (১ জুন) সরেজমিনে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছ‌ড়ি মৌজার টংগ ঝি‌রি‌তে গিয়ে দেখা যায়, বেনজীর আহমদের সেখানেও র‌য়ে‌ছে আরো ৫৫ একর জায়গা। যেখানে একসময় অসহায় ও গরিব প‌রিবা‌রের বসবাস ছিল। চাষাবা‌দের মাধ‌্যমে আয়ের একমাত্র উৎস‌ ছিল এ জায়গাগু‌লোই। অথচ এসব অসহায় ও গরিব প‌রিবার‌গু‌লো‌কে টাকার লোভ দেখিয়ে জোরপূর্বক অল্প টাকা দিয়ে উচ্ছেদ করে স‌রে যে‌তে বাধ্য করা হয়।

টংগঝি‌রি পাড়ার সা‌বেক ইউপি সদস্য পাইসা প্রু ত্রিপুরা বলেন, ‘আমার এলাকায় বেনজীর আহ‌মে‌দের ৫৫ একর জায়গা র‌য়ে‌ছে। এ জায়গাগু‌লো‌তে একসময় অসহায় প‌রিবা‌রের বসবাস থাক‌লেও বর্তমানে জায়গাগুলো বেনজীর আহমেদের জায়গা হয়ে গেছে, আর আমরা এখন অসহায়।’

একই পাড়ার বাসিন্দা এরমনি ত্রিপুরা নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ আর ‘এসপি’ (আইজিপি বেনজির) তাদের অনেক টাকা। তাই বাধ্য হয়ে আমরা জায়গাগুলো ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু জায়গাগুলো হারিয়ে এখন অনেক কষ্টের মধ্যে দিন যাচ্ছে আমাদের।’

কেউ জান‌তে চাইলে জায়গার ব‌্যাপা‌রে কাউকে মুখ না খোলার জন‌্য প্রতিনিয়ত হুম‌কি আসছে বলেও জানান তিনি।

বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়‌নের চেয়ারম‌্যান উ ক‌্য নু মারমা বলেন, ‘বেনজীর আহ‌মে‌দের সুয়ালক মৌজার মা‌ঝের পাড়ার জায়গাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লী‌গের সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং দেখাশুনা ক‌রে। মা‌ঝে মা‌ঝে একজন এস‌পিও এখা‌নে আসেন। ত‌বে তার নাম জা‌নি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেনজীর আহ‌মেদ জায়গাগু‌লো কিভা‌বে নি‌য়ে‌ছেন তা আমি জা‌নি না। তিনি জায়গাগুলো উদ্ধার ক‌রে প্রকৃত ক্ষ‌তিগ্রস্ত‌দের ফি‌রি‌য়ে দেবার দা‌বি জানান সরকা‌রের কা‌ছে।’

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার ক‌রেছেন স্বেচ্ছ‌াসেবক লী‌গে‌র সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং। তিনি বলেন, ‘সুয়ালকের মা‌ঝের পাড়ায় বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গার পা‌শে আমার কিছু জায়গা আছে। সে সুবা‌দে এক পু‌লিশ কর্মকর্তার অনুরোধে আমি বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গাগু‌লো দেখাশুনা করি।’ তবে লামার ডলুছ‌ড়ির টংগ ঝি‌রির জায়গা দখলের বিষ‌য়টি অস্বীকার ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, ‘ডলুছ‌ড়ি মৌজার জায়গার ব‌্যাপা‌রে আমি কিছু জা‌নিনা।’

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজা‌হিদ উদ্দিন বলেন, ‘বান্দরবা‌নে বেনজীর আহ‌মে‌দের লিজের জায়গা যদি থাকে তবে সেটি আমি আসার আগেই হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তা‌রিত খবর নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঈশান/খম/সুম

কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চালুর খবরে কমাতে শুরু করেছে বাস ভাড়া

কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চালুর খবরে কমাতে শুরু করেছে বাস ভাড়া

print news

কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চালুর খবরে কমতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটের বাস ভাড়া। ইতোমধ্যে বড় দুটি বাস কোম্পানি ১০০ টাকা পর্যন্ত তাদের ভাড়া কমিয়েছে। আরও কয়েকটি বাস কোম্পানি ভাড়া কমানোর পরিকল্পনা করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, টানা দুই মাস কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চালু থাকায় কমাতে শুরু করে বাস ভাড়া। ট্রেনটি চালুর আগে বাস মালিকরা তাদের কাছ থেকে যেমন খুশি তেমন ভাড়া আদায় করতেন। যাত্রী কমে যাওয়ায় তারা ভাড়া কমাতে বাধ্য হয়।

সূত্র জানায়, সৌদিয়া পরিবহনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ভাড়া এখন ৩৩০ টাকা। যা আগে ছিল ৪২০ টাকা। সে হিসাবে সৌদিয়া কর্তৃপক্ষ ভাড়া কমিয়েছে ৯০ টাকা। পাশাপাশি লোহাগাড়া এবং কেরানীহাটগামী রুটের ভাড়াও কমিয়েছে এই পরিবহন কোম্পানি।

অন্যদিকে পূরবী পরিবহনও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ভাড়া ১০০ টাকা কমিয়েছে। এই পথের নতুন ভাড়া ৩২০ টাকা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা আগে ৪২০ টাকা ছিল। এছাড়া ঈদগাঁ-চট্টগ্রাম, চকরিয়া-চট্টগ্রাম এবং কেরানীহাট-চট্টগ্রাম রুটের ভাড়াও কমেছে।

জানতে চাইলে পূরবী পরিবহনের এমডি কাজল কান্তি দাশ জানান, যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ছাড়ের ফলে আরও বেশি মানুষ বাসে যাতায়াত করবেন। যাত্রীরা ভাড়া কমানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই ছাড় অব্যাহত থাকবে।

কাজল কান্তি দাশ আরও বলেন, মানবিক কারণে যাত্রীদের সুবিধার্থে আমরা ভাড়া কমিয়েছি। যদিও কম ভাড়া নির্ধারণে পরিবহন মালিক সমিতিতে আমাকে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে। কিন্তু সেটি উপেক্ষা করে যাত্রীদের আর্থিক দিক চিন্তা করে ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তবে বাস মালিকদের এই যুক্তি মানতে নারাজ স্থানীয়রা। সোলায়মান আলম নামে স্থানীয় একজন বলেন, বাস মালিকপক্ষ যাত্রীর প্রতি সদয় হয়ে নয়, টিকে থাকার সংগ্রামে ভাড়া কমিয়েছে। কারণ ট্রেন চালুর পর থেকে বাসের একচেটিয়া রাজত্ব কমেছে। মানুষ ট্রেনেই বেশি যাতায়াত করছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে স্পেশাল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় এই রুটের যাত্রীরা ফের বাস মালিকদের হাতে জিম্মি হবে বলে দাবি করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতিগুলোর নেতারা।

তাদের দাবি, ইঞ্জিন ও ক্রু সংকটের অজুহাতে স্পেশাল ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হলেও এর পেছনে বাস মালিকদের প্রেসক্রিপশন রয়েছে। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবহন মালিকদের ষড়যন্ত্রের কারণেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ দ্রুত এই স্পেশাল ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি জানাচ্ছে। তবে সুখবর হচ্ছে-রেলওয়ে কর্তৃৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ১২ জুন থেকে ফের ট্রেনটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে স্পেশাল ট্রেনটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঈদের পরে এটি যে কোন মুহুর্তে বন্ধ য়ে যেগত পারে। এটি যদি হয় তাহলে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলবো।আমরা চাই এই রুটে নিয়মিত ট্রেন চালু করা হোক।

তিনি বলেন, ট্রেনটি চালু নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ট্রেন চালকসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। এরপর লাভজনক এই ট্রেনটি কেন বন্ধ করা হচ্ছে তা তারা জানে না।

কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের মাস্টার মো. গোলাম রব্বানি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের পরের দিন থেকে টানা এক সপ্তাহ চলবে কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ানো হতে পারে।

যাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া বাসের চেয়ে অনেক কম। সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা আর সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকায় ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়। এছাড়া ট্রেনের যাত্রা বাসের চেয়েও আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের। ফলে বাসের চেয়ে ট্রেনকেই বেছে নিচ্ছেন যাত্রীরা।

ঈশান/খম/সুম

সৌদি আরবে চালু হলো নাইটক্লাব, চলছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা

সৌদি আরবে চালু হলো নাইটক্লাব, চলছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা

print news

মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা। আর সেই সৌদি আরব প্রথমবারের মতো চালু করেছে নাইটক্লাব। যেখানে নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশার সুযোগ পাচ্ছে।

চলতি মে মাসে রিয়াদের অভিজাত এলাকা জাক্সে উদ্বোধন করা হয় ‘বিস্ট হাউস’ নামের এই নাইট ক্লাবটি। নাইট ক্লাবটিতে নারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নাইটক্লাবে অবশ্য সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। কেবল স্থায়ী সদস্যরাই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন। বিস্ট হাউসের সদস্য হতে হলে প্রতিবছর সদস্য ফি হিসেবে খরচ করতে হবে অন্তত ১ হাজার ৯০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৭ টাকা)।

বিস্ট হাউসে রয়েছে মিউজিক ভেন্যু, একাধিক স্টুডিও, ডাইনিং এরিয়া এমনকি জমজমাট ডিজে পার্টির ব্যবস্থাও। তবে ১৯৫০ সালে দেশজুড়ে মদ নিষিদ্ধের যে আইন জারি করেছিল সৌদির তৎকালীন প্রশাসন, তা এখনও বলবৎ থাকায় বিস্ট হাউসে মদ নিষিদ্ধ।

নাইটক্লাবে যেসব রক্ষী বা বাউন্সার রয়েছেন, তাদেরও মূল দায়িত্ব হলো আগত অতিথিদের মধ্যে কেউ অ্যালকোহল নিয়ে এসেছেন কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে একসময় নারীরা প্রায় পুরোপুরি অন্তপুরবাসী ছিলেন। কিন্তু ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই চিত্র বদলাতে শুরু করে। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দরজা খুলে যায়, সেই সঙ্গে অন্যান্য সামাজিক বিধিনিষেধও কেটে যেতে শুরু করে। -খবর আলজাজিরার।

ঈশান/মখ/সুপ

তিন ইস্যুতে তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগে

তিন ইস্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগে

print news

সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত তিন ইস্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগে। ইস্যুগুলো হচ্ছে-পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ইস্যু ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) গাজী হাফিজুর রহমান এবং উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল।

দলটির নেতারা মনে করছেন, এসব ইস্যু সরকার ও দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। বিষয়গুলো বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের ধারণা-বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এসব ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। এজন্য ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থান নেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিশেষ বার্তাও দেয়া হয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, দলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ যেনো এসব নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য না করেন। বেফাঁস কথা না বলেন। দলের টাঙ্গাইল জেলার এক নেতাকে আলাদাভাবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বা মন্তব্য না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ অতীতে নির্বাচন নিয়ে ওই নেতার করা এক বক্তব্যে দল বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।

এদিকে বিরোধী জোট যেনো বিষয়গুলো নিয়ে ইস্যু করতে না পারে সেজন্য দলের সাধারণ সম্পাদক প্রায় প্রতিদিনই এসব নিয়ে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তিনি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছেন যে, এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় একান্তই তাদের ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই তাদের কোনো অনিয়মের দায়ভার সরকার নেবে না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। তৃণমূলের অভিমত-সরকার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজরা যেনো পার না পায় সে অনুরোধও করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে অবগত। এরইমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বার্তা দিয়েছেন। বর্তমানে মন্ত্রী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেছেন, অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি। পরে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও তারা যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রভাবশালী এক নেতা অভিযুক্ত একজনকে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই মন্ত্রীর অভিমত, সরকার তাদেরকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব দিয়েছিল। সেটাকে পুঁজি করে যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে তাহলে দায়ভার কেন সরকার নেবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার মন্তব্য জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন সেটাই আমাদের বার্তা। তাই এসব ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চায় না। তাছাড়া এসব নিয়ে দলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেসব নির্দেশনার বাইরে যেতে চায় না।

দেশে হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর এবার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কিনা তার খোঁজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কাছে প্রাথমিক তথ্য এসেছে- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর পরিবারের সম্পদ থাকতে পারে।

এই তথ্য নিশ্চিত হতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এ ছাড়া দেশেও বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগ শিডিউলভুক্ত হলে অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, অভিযোগ আমলযোগ্য হলে সেটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) গাজী হাফিজুর রহমান এবং উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। এই তিন ইস্যুতেই বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাবেক আইজিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। আরও তদন্ত হবে। মামলা হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না। অনেকে ভাবছে, বেনজীর আহমেদের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া, সে ক্ষমা পেতে পারে। কিন্তু তা হবে না। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক স্বাধীন তদন্ত করছে। দুদককে এ স্বাধীনতা শেখ হাসিনা সরকার দিয়েছে। তিনি বলেন, বেনজীর ইস্যুতে সরকার বিব্রত নয়। কারণ সরকারের বিচার করার সৎ সাহস আছে। সরকার তাদের অপরাধ অস্বীকার করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। দুর্নীতির ব্যাপারে সরকারপ্রধান আপসহীন।

সাবেক সেনাপ্রধানের বিষয়ে তিনি বলেন, যিনি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন, তিনিও যদি অপরাধী হন, তার বিরুদ্ধেও দুদক তদন্ত করতে পারবে। অপরাধী হলে শাস্তি পেতে হবে। অন্যদিকে একইদিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ঘটেছে বলেই তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। সে বিষয়ে আপনারা কি আগে রিপোর্ট করেছিলেন? সেটা এখন পাচ্ছেন আপনারা। তাদের (দুই কর্মকর্তার) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আছে কিনা সেটা আমি জানি না।

একই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক সরকারের কোনো সহযোগিতা পাবে না। তাদের শাস্তি পেতে হবে। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। (মানবজমিন থেকে সংর্গৃহীত)

ঈশান/খম/সুম

লাভজনক হওয়ার পরও বন্ধ কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন

লাভজনক হওয়ার পরও বন্ধ হয়ে গেল কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন

print news

লাভজনক হওয়ার পরও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করা কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে। এতে ক্ষুব্দ হয়েছেন চট্টগ্রামের সাধারণ যাত্রীরা। 

বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেন বন্ধ রাখতে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে (ডিআরএম) চিঠি দিয়েছে রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগ। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের বিশেষ ট্রেনটি চালু করেছিল কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী চাহিদা ও স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ট্রেনটি চালু রাখার সময়সীমা ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। বন্ধের চিঠিতে বলা হয়, ইঞ্জিন ও কর্মী সংকটে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী একমাত্র ও বিশেষ ট্রেনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দাবি, বাস মালিকদের প্রেসক্রিপশনে কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে। এই প্রেসক্রিপশনে হয়তো ও কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন,শুধু রাজধানীবাসীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কি ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথটি নির্মাণ করা হয়েছে? এই রেলপথ নির্মাণে চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জনগণের জমিজমা, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নদী-নালা, খাল-বিল বিলীন হয়েছে। অথচ এই ট্রেন সার্ভিস চালুর পর থেকে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পূর্বাঞ্চল রেলের পাঁচজন কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনটি দেশের সবচেয়ে লাভজনক ছিল। ট্রেনটি চালানোর মতো সব রকমের প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে। তারপরও রেল কেন চালাচ্ছে না, সেটি তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

তারা বলেন,চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আলাদা ট্রেন দরকার। অন্য কোনো ট্রেনকে চট্টগ্রামে স্টপেজ দিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নিয়ে গেলে চট্টগ্রামের যাত্রীরা কোনো সুফলই পাবে না। কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনটি স্থায়ীভাবে চলাচল করলে চট্টগ্রামের মানুষ উপকৃত হত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনটি দেশের সবচেয়ে লাভজনক ছিল। ট্রেনটি না চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।’ এখানে কোন প্রেসক্রিপশন নেই।

পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ জানায়, ট্রেনটিতে প্রতি মাসে আয় ছিল ৬৫ লাখ টাকার বেশি, যা দেশে চলা অন্যান্য ট্রেনের চেয়ে বেশি। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন, সুবর্ণসহ অন্য আন্তনগর ট্রেনের সঙ্গে তুলনা করলে এই কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনের আয় বেশি।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তারেক মো. ইমরান বলেন, কক্সবাজার স্পেশাল ৯ / ১০ ঈদ উপলক্ষে মাত্র চলেছে ১৮ দিন। এই সময়ে ট্রেনটি থেকে আয় হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। ট্রেনটি গত ৮ এপ্রিল থেকে চলাচল শুরু করে। ৮ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিলের (১১,১৫ ও ১৬ তারিখ বন্ধ ছিল) হিসেবে দেখা যায়, প্রতিদিনই যাত্রীদের চাপ ছিল।

তারেক মো. ইমরান বলেন, চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রেনটি ১০ / ২০ লোড নিয়ে চলাচল করেছে। ট্রেনটিতে সিট ছিল ৪৩৮টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির সিট ৫৪টি, প্রথম শ্রেণির চেয়ার ৫৪ ও শোভন ৩৩০টি। এটি চট্টগ্রামের ষোলোশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও রামুতে থামত।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০১ কিলোমিটার রেলপথ গত বছরের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ডিসেম্বর থেকে দুই ধাপে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে দুটি বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন চালু করে রেলওয়ে।

ঈশান/মখ/সুপ

চট্টগ্রামে মানববন্ধনের নামে সড়কে পরীক্ষার্থীদের নৈরাজ্য

চট্টগ্রামে মানববন্ধনের নামে সড়কে পরীক্ষার্থীদের নৈরাজ্য

print news

২০২৪ সনের এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যস্ততম কালুরঘাট-শাহ আমানত বিমান বন্দর সড়কের মুরাদপুর এলাকায় চরম নৈরাজ্য চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

এইচএসসি ২০২৪ইং ব্যাচের নামে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ফটকের সামনে সড়কে জমায়েত সৃষ্টি করে মানববন্ধন করে অর্ধশত পরীক্ষার্থী। তবে সেখান থেকে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দেয়।

এরপর পরীক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় সড়কে বড় ধরণের যানজট সৃষ্টি হয়। যানবাহনগুলো এক পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলেও পরীক্ষার্থীরা সেগুলোকে আটকে দেয়। এ সময় পরীক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে যানবাহন চালকদের মারধর করতেও তেড়ে আসেন।

এমনকি গাড়ি ভাঙচুর করারও হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে শত শত যানবাহন চালক মিছিলের পাশ দিয়ে চলাচল করার সাহস পায়নি। এমন তথ্য জানান ভুক্তভোগী যানবাহন চালকরা।

চট্টমেট্টো ট-১৩-১৭৫৪ নং সিএনজি অটোরিক্সার চালক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বলা নাই, কওয়া নাই, হঠাৎ সড়কে মানববন্ধন করে প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি করে পরীক্ষার্থীরা। এতে অনেকগুলো যানবাহন আটকে যায় ব্যস্ততম এই সড়কে।

তিনি বলেন, আমি একজন বিদেশগামী লোককে নিয়ে বিমান বন্দরের দিকে যাচ্ছিলাম। মানববন্ধনের কারণে পথে আটকে গিয়ে মুরাদপুর এলাকায় দুই ঘন্টা সময় নষ্ট হয়। এতে বিদেশগামী প্রবাসীর বিমান ধরা সম্ভব হয়নি। সিএনজি অটোরিক্সায় বসে পরীক্ষার্থীদের অনেক অনুনয়-বিনয় করার পরও তারা ছাড়েনি। বরং উল্টো মারতে তেড়ে আসেন পরীক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত ওই প্রবাসী রাস্তায় নেমে অনেক কান্নাকাটি করেছে।

মোটরসাইকেল চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, মানববন্ধনে প্রায় এক ঘন্টা আটকে থাকার পর বিক্ষোভ মিছিলের সময় সড়কের এক পাশ দিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। এ সময় পরীক্ষার্থীরা আমাকে লাথি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এ সময় কয়েকজন নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা বলেও পরিচয় দেয়।

একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়কের ৪ নং বাসের কয়েকজন যাত্রী। তারা বলেন, সারাবছর ছাত্রলীগ করেছে। লেখাপড়ার ধারে-কাছে ছিল না। এখন সড়কে আসছে পরীক্ষা পেছানোর দাবি নিয়ে। এদের কি মা-বাবা আছে, না নাই তাও বুঝি না।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানার এসআই মনির হোসেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড অবরুদ্ধ করতে চেযেছিল। সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর তারা শিক্ষাবোর্ডের ফটকের সামনে সড়কের মোড়ে অবস্থান নেয়। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে পুলিশ পরীক্ষার্থীদের সেখান থেকেও সরিয়ে দেয়।

এরপর তারা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে যানবাহনগুলো প্রায় দুইঘন্টা ধরে চলাচল করতে পারেনি। এ সময় পরীক্ষার্থীরা অনেক যানবাহন চালকের সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছে। গাড়ি ভাঙতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভাঙনি। পুলিশ না থাকলে হয়তো ভাঙচুর করতো। ভাঙলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার্থীরা শুরুতে শিক্ষাবোর্ডের ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে পারেনি। তারা কোনরকম বিশৃঙ্খলাও করতে পারেনি। পরে সড়কে কি করেছে তা আমার জানা নেই। পরীক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার তারিখ পেছানো কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ঈশান/খম/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!