শুক্রবার- ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কেন্দ্রের দখল নিতে অনুসারীর গুলি

কাউন্সিলর ওয়াসিম ও স্ত্রীসহ ৬ অনুসারীর বিরুদ্ধে মামলা

এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর স্ত্রীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধেও আদালতে পাল্টা মামলা

কাউন্সিলর ওয়াসিম ও স্ত্রীসহ ৬ অনুসারীর বিরুদ্ধে মামলা
print news

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাহাড়তলী কলেজ কেন্দ্রের সামনে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

ওই মামলায় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করা সেই ব্ল্যাক শামীম ও তার রাজনৈতিক গুরু চসিকের পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, তার স্ত্রী রুমানা চৌধুরী, এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কায়সারসহ ৬ জন অনুসারীকে আসামি করা হয়েছে।মামলায় অজ্ঞাত ৪০-৫০ জন আসামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সোমবার (৮ জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে একজনের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলার আসামি ব্ল্যাক শামীমকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে সোমবার রাতে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান পরিদর্শক (তদন্ত) মুজিবুর রহমান।

মামলার এজাহারের বিবরণমতে, বাদী মমতাজ বেগম নিজেকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুর আলমের সমর্থক বলে উল্লেখ করেন। মামলার অভিযোগে তিনি জানান, ভোটের দিন পাহাড়তলি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে মনজুর আলমের সমর্থকদের চলে যেতে বলে মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারীরা। এ সময় বাচ্চুর অনুসারীরা গুলি ছুঁড়লে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর অন্য আসামিরা তাকে মারধর করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের দিন মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পিস্তল দিয়ে গুলি করা ব্ল্যাক শামীম চসিক কাউন্সিলর ওয়াসিমের লোক

এর আগে একই ঘটনায় আরেক গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক জামালের স্ত্রী বাদী হয়ে নগরের খুলশী থানায় আরেকটি মামলা করেন। সেই মামলায় পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী রুমানা চৌধুরীকে আসামি করা হয়। মামলাটিতে ভোটের দিন প্রকাশ্যে গুলি করতে দেখা যাওয়া শামীম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এদিকে এ ঘটনায় আসনটির সংসদ সদস্য (এমপি) মহিউদ্দিন বাচ্চুর স্ত্রী জিনাত মহিউদ্দিনসহ ছয়জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিনের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন শান্ত বড়ুয়া ওরফে পুনাম বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি।

মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, পাহাড়তলি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরণ ও তার স্ত্রী মোসাম্মৎ কাজল, মাহমুদুর রহমান, মো. কামাল ও রাবেয়া মুন্নী মেরি। তারা সবাই এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম-১০ আসনে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের বাইরে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলকপি প্রতীকের মোহাম্মদ মনজুর আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্রের দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটা এ সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের দিকে গুলি ছুড়েন শামীম আজাদ নামের এক যুবক।

পাহাড়তলী কলেজের বাইরের ওই সংঘর্ষে শান্ত বড়ুয়া ও মো. জামাল নামের দুজন গুলিবিদ্ধ হন। শামীমের গুলি করার একটি ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, শামীম আজাদ স্থানীয় কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা। এলাকায় ব্ল্যাক শামীম নামে পরিচিত এ ছাত্রলীগ নেতার নামে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

ঈশান/খম/সুপ

আরও পড়ুন

কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে!

সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার সেই বিজ্ঞাপন!

print news

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই মুসলিম বিশ্বে কোনঠাসা হয়ে পড়ে কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলা। বাংলাদেশ একই অবস্থা। বড় একটি অংশ বয়কট করেছে পানীয়টি।

সম্প্রতি এ পানীয়ের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে বলা হয় কোকা-কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিবাদ।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর থেকে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিজ্ঞাপনটি। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ। এদিকে কোকা-কোলা বিবৃতি না দিলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন এবং অভিনয়শিল্পী শিমুল শর্মা।

জীবন লিখেছেন, ‘এখানে আমি কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ নেইনি এবং আমি কখনওই ইসরায়েলের পক্ষে নই। আমার হৃদয় সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং মানবতার পাশে আছে, থাকবে।’

অন্যদিকে শিমুল ক্ষমা চেয়েছেন। তার কথায়, ‘আমি ভবিষ্যতে কোনো কাজে অভিনয় করতে গেলে অবশ্যই আমাদের দেশের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, মানুষের মনোভাবকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বিবেচনা করে তারপর কাজ করব। আমি মাত্র আমার জীবনের পথচলা শুরু করেছি, আমার এই পথচলায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ভবিষ্যতে একজন বিবেকবান শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য শুভ কামনায় রাখবেন।’

ঈশান/খম/সুপ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

print news

য়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, এইডস আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। বিষয়টি নজরে পড়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের। বেশ বিব্রত তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন তা।

মমতাজ বলেন, ‘শুনলাম, আমার নাকি এইডস হয়েছে! বিষয়টি বিব্রতকর। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ ও খুব ভালো আছি। আর সে কারণেই স্টেজ শো নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারছি। ঈদের পরও দেশের বাইরে যাচ্ছি। যারা এসব মিথ্যা কিংবা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বলেন, যারা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বলব, এগুলো ভালো না, ভালো পথে থাকেন। আর আমার ভক্তদের বলব, এসব গুজবে কান দেবেন না। সবার দোয়ায় আপনাদের মমতাজ অনেক অনেক ভালো আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর দিন আবার স্টেজ শোতে অংশ নিতে দুবাই যাচ্ছি। গান গাওয়ার পাশাপাশি সেখানের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও অংশ নেব। সব শেষ করে চলতি মাসের ২৩-২৪ তারিখে দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে।’

কদিন আগে ‘বুঝলে নাকি বুঝপাতা’ শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয় মমতাজের। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকার নাতনি। গানটি নিয়ে মমতাজ বলেন, ‘মজার ছলেই গানটি কণ্ঠে তোলা। আমার সঙ্গে নাতনি মোমধুও দারুণ গেয়েছে। নাতনিকে নিয়ে তিন-চারদিন আগে ঘুরতে গিয়েই গানটি গাইলাম। তখন এটি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করি। এটি যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তা বুঝিনি।

একটা বার্তাও দিতে চেয়েছি। একদল মানুষ আমার নামে মিথ্যা ও গুজব ছড়াচ্ছে। যাদের বোঝার তারা ঠিকই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আর কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে এখনও দোটানার মধ্যে আছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই গানটি গাওয়া।’

ঈশান/মখ/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে শিক্ষক

print news

প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে চলে যান গার্মেন্টসকর্মী মা। ঘরে ছিলো পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে। সেই সুযোগে ছাত্রীকে পড়ার নাম করে ডেকে নিয়ে পাশে থাকা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলাম (৪৬) ধর্ষণ করে। পরে মায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ওই শিক্ষককে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তার ফয়েজুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের সোনারখিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

সোমবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি সনজয় কুমার সিনহা। তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীর মা গার্মেন্টসকর্মী। গত শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি তার মেয়েকে বাসায় রেখে কারখানায় চলে যান। তাদের বাসার পাশেই বাসা শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামের। সে তার কাছে প্রাইভেট পড়তো। শনিবার প্রাইভেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নেন শিক্ষক ফয়েজুল। এরপর পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে তা ভুক্তভোগীকে খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

পরবর্তীতে কর্মস্থল থেকে আসলে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে পুরো বিষয় খুলে বললে তার মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি রয়েছে।

ঈশান/খম/সুম

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে

print news

প্রেমের টানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসে পড়েছেন পচলা নামের শ্রীলঙ্কান এক তরুণী। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) মোরশেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন পচলা।

শুক্রবার (৭ জুন) রাতে তাদের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান হয়। মোরশেদ ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুনাফখিল এলাকার মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তিনি দুবাই প্রবাসী। সেখানে থাকাকালীন গত ২-৩ বছর আগে পচলা নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সর্বশেষ তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

বিয়ে উপলক্ষে পচলা এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসেন। শুক্রবার বিয়ের পর নবদম্পতিকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজনেরা। তবে গণমাধ্যম এবং স্থানীয়দের কাছে বিদেশি তরুণীর সঙ্গে বিয়ের খবর আড়ালে রাখা হয়।

বর মোরশেদের ছোট ভাই রাকীব বলেন, ভাবির বাড়ি শ্রীলঙ্কা। তাদের দুবাইয়ে পরিচয়। বিয়ের জন্য ভাবির পরিবারও বাংলাদেশে এসেছে। এ দম্পতির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা।

ঈশান/মখ/সুপ

রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদার জন্য গার্মেন্টসে হামলা, সড়ক অবরোধ

রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদার জন্য গার্মেন্টসে হামলা, সড়ক অবরোধ

print news

ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩নং রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তিনিকেতন এলাকায় অবস্থিত একমাত্র পোশাক কারখানা দাশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড—এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দূর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য (৪০), কোয়ালিটি ম্যানেজার রাসেল দাশ (৪১) ও এক নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন। 

আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার শান্তি নিকেতন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য। এছাড়া হামলার প্রতিবাদে সড়কও অবরোধ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধের কারণে মরিয়ম নগর ডিসি সড়কের দু‘পাশে দীর্ঘ দুই ঘন্টা যানজট সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরে নিজে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি। পরে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গার্মেন্টসের মালিক কামনাশীষ দাশ বলেন, গার্মেন্টস দিয়েছি বছর খানেক হয়েছে। এখানে এলাকার সাড়ে ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই এক বছরে গার্মেন্টসে তিনবার হামলা হয়েছে। মূলত চাঁদার দাবিতে এসব করছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যারা এই ঘটনায় সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।

এদিকে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, চাঁদা না পেয়ে গার্মেন্টস ভবনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বাঁধা দেয়া হয়। এর জের ধরে শুক্রবার (৭ জুন) সকালে তারা দলবল নিয়ে কারখানার সীমানা প্রাচীরের উপরে টিন দিয়ে দেয়। এই সময় তাদের এই কাজ করতে বাধা দিলে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

এক পর্যায়ে গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য ও কোয়ালিটি ম্যানেজার রাসেল দাশকে মারধর করে। হামলা থেকে বাঁচার জন্য তারা কোম্পানির মেইন গেটের ভিতরে প্রবেশ করে গেট লাগিয়ে দিলে হামলাকারীরা গেট ভাংচুরের চেষ্টা চালায়।

প্রতিবাদে কয়েকজন শ্রমিক এগিয়ে গেলে এক নারী শ্রমিককে মারধর করা হয়। এই খবর সকাল ১১টার দিকে কারখানার ভেতরে গেলে কারখানার সাড়ে ৩০০ শ্রমিক বের হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে দুপুর ১ টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে কারখানায় ঢুকে পড়ে।

ঈশান/খম/সুপ

বাঘ-সিংহের লড়াই শুরু হচ্ছে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায়

বাঘ-সিংহের লড়াই শুরু হচ্ছে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায়

print news

বিশ্বকাপ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাঘ-সিংহের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাঘ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতীক, আর সিংহ হচ্ছে লঙ্কান ক্রিকেটের প্রতীক। ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হচ্ছে এই খেলা। যার মধ্য দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন।

‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি দু‘দলের জন্যই অনেকটা ফাইনালের মর্যাদায় উন্নীত। যে হারবে তাদের জন্য শেষ আটে জায়গা পাওয়াটা হয়ে উঠবে ভীষণ কঠিন। কেননা ৫ দলের গ্রুপ থেকে দুটি দল সুযোগ পাবে শেষ আটে খেলার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরে এরই মধ্যে ব্যাকপুটে লঙ্কানরা।

এদিকে লঙ্কান চ্যালেঞ্জে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিট। ‍দ্বিতীয় দল হিসেবে ‍পরবর্তী রাউন্ডের দাবিদার বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। আর তাই এই দুই দলের যে হারবে তাদের জন্য গ্রুপ পর্ব উতরানো হয়ে পড়বে ভীষণই কঠিন।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের শক্তির জায়গা পেস বোলিং। বেশিরভাগ ম্যাচেই ‍ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢেকে দিচ্ছেন টাইগার বোলাররা, বিশেষ করে পেস স্কোয়াড। ‍কিন্তু বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করেই টাইগার পেস স্কোয়াডে লেগেছে বড় ধাক্কা। প্রথমে ইনজুরিতে পড়েন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। সবে শেষ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

তবে আপাতত সুসংবাদ যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন তাসকিন। ‍তবে এই সুসংবাদের মাঝে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে ‍দলের নিয়মিত পেসার শরিফুল ইসলামের ইনজুরি। প্রথম ম্যাচে খেলতে পারছেন না ‍এই বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের না থাকাটা একটা ধাক্কা বলেও জানিয়েছেন তাসকিন। তবে বাংলাদেশ পেস স্কোয়াডে বিকল্পের অভাব নেই। তাসকিনকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আছেন সদ্য আইপিএল মাতানো কাটার মাস্টারখ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিবরা।

লঙ্কান দল মোটামুটি স্পিননির্ভর হলেও পেস শক্তিতেও তারা কম যায় না। নুয়ান তুশারা, দাসুন শানাকা ও মাথিশা পাতিরানা বিপক্ষ শিবিরকে পরীক্ষা নেওয়ার সামর্থ্য ভালোই রাখেন। সবে শেষ হওয়া আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিপক্ষ দলকে ঘায়েল করেছেন পাথিরানা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিজ-পাথিরানা আবির্ভূত হবেন একে অন্যের ঘাতক হিসেবে। দুই সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার ম্যাথুজ ও সাকিবের ডুয়েল এই ম্যাচের আরেক আকর্ষণ। টাইমড আউট বিতর্কের কেন্দ্রীয় চরিত্র যে এই দুজনই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচকে ঘিরে একটা আগুনে লড়াইয়ের সব উপাদানই আছে মজুদ। কে কাকে পোড়ায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না দু‘দলের। অফফর্মে থেকেই বিশ্বকাপ অভিযাত্রায় এই দুই দল। প্রস্তুতিমূলক সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হেরেছে ক্রিকেটে নামগোত্রহীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হেরেছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সেই দুঃস্বপ্ন থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি লঙ্কানরা।

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে উইকেটকে দায়ী করেছে লঙ্কান অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। গত বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাটিংয়ে ভুগছে দলটি। একই সমস্যায় আছে বাংলাদেশও। টপ অর্ডারে রানের দেখা পাচ্ছে না ‍বাংলাদেশ।

লিটন দাস, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্তরা কেউই পারছেন না নামের প্রতি সুবিচার করতে। তরুণদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়রা মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও সেভাবে ধারাবাহিক নন। দুই অভিজ্ঞ সেনানী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিবের ওপর দল অনেকাংশেই নির্ভরশীল। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে মাত্র ৬৫ বলের ঝড়ো ইনিংসে ৮২ রান করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

এবারে বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব। টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও তিনি। ৩৬ ম্যাচে তার শিকার ৪৫ উইকেট। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে সবার আগে উইকেটের হাফসেঞ্চুরির হাতছানি সাকিবের সামনে।

ঈশান/খম/সুপ

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

রেলের কোটি টাকা আত্মসাত মামলা তদন্তভার পেল সিআইডি

print news

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রেলের অস্থায়ী এক পিয়নসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে।

চট্টগ্রাম রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার হিসাব কর্মকর্তা সোহাগ মীর (৩৭)। গত ৩ এপ্রিল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। গত ৫ জুন মঙ্গলবার এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলে তা দেওয়া হয়নি। আদালত মামলার তদন্তভার দিয়েছে সিআইডির হাতে। সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক আবদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন রেলের অস্থায়ী পিয়ন হাবিব উল্লাহ খাঁন (৩৫), মো. সোহাগ (৩৫) ও কহিনুর আকতার (৩০)। কহিনুর আকতারের নামে আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্টে ওই বিলের টাকা লেনদেন হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি হাবিব উল্লাহ খাঁন রেলের অর্থ ও হিসাব শাখার অস্থায়ী পিয়ন পদে ২০১৫ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। পিয়ন হলেও আইবাস প্লাস প্লাসের আইডির গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বিল এন্ট্রি দিতেন হাবিব। তিনি কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিল প্রস্তুত করতেন।

আরেক আসামি মো. সোহাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র নাম ব্যবহার করে, কোনো ধরনের অথরাইজেশন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া প্রতিনিধি সেজে, সিন্ডিকেট সহযোগিতায় অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ে থেকে চেক সংগ্রহ করেন।

এরপর অপর আসামি কহিনুর আকতারের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করে। একইসঙ্গে ওই নারী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার সীমান্ত ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলেন। পরে তিন জনের যোগসাজশে জালিয়াতি ও ভুয়া ভাউচারে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঠিকাদারি বিল আত্মসাৎ করেন।

‘দ্যা কসমোপলিটন কর্পোরেশন’র স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান বলেন, কাজের প্রকৃত বিলটি নকল করে ভুয়া ডকুমেন্টস তৈরির পর চেক গ্রহণ ও টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি আমিই প্রথমে রেলের হিসাব বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি।’

মামলার বাদি রেলের অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা সোহাগ মীর বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এর আগে ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হিসাব কর্মকর্তা মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক শিমুল বেগম, অডিটর (ডিএফএ) পবন কুমার পালিত, হিসাব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. আবু নাছের, হিসাবরক্ষক (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সৈয়দ সাইফুর রহমান, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ঈশান/খম/সুম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!