বুধবার- ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিএম ডিপো বিস্ফোরণের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা

প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ

print news

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের বছর পূর্ণ হয়েছে। গত বছর ৪ জুন রাতে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ৫১ জনের প্রাণহানী ও দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন। যারা সেই ঘটনার স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন এখনো।

তাদের অভিযোগ, এ দূর্ঘটনার পর মামলা হলেও হতাহতের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন ডিপোর মালিকপক্ষ। ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও হতাহতদের অনেক পরিবার এখনও মালিকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পায়নি। এমন অভিযোগ করে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক নামে একটি সংগঠনও।

শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর চেরাগির পাহাড় মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, বিএম কনটেইনার ডিপোর দুর্ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা। ৫১ জন শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপর ডিপো কর্তৃপক্ষ বিবৃতির মাধ্যমে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা, মারাত্নক আহত প্রত্যেক শ্রমিককে ছয় লাখ এবং অন্যান্য আহত শ্রমিকদের চার লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ডিএনএ টেস্টে চিহ্নিত না হওয়ার অজুহাতে এখনো আটজন নিহত শ্রমিকের পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।

আহতদের বড় অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পায়নি। আহতদের ৩৬ জন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় গত বছরের ১৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল। জেলা প্রশাসক ওই ৩৬ জনের তালিকা বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পরেও তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি।

অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে অনেক শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, শ্রম আইনের ১২৩ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত পাওনা বা ক্ষতিপূরণের টাকা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক হলেও একবছরেও শ্রমিকরা তাদের পাওনা পাচ্ছে না। আহত শ্রমিকদের অনেকের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকে কানে শুনতে পায় না, অনেকে পায়ের উপর ভর দিয়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ফলে তাদের প্রায় সবাইকে পঙ্গুত্বের জীবন বরণ করে নিতে হচ্ছে এবং এক বছর ধরে তারা আয়-রোজগারহীন জীবনযাপন করছে।

বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ স¤পাদক আবু আহমেদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার পাহাড়ি ভট্টাচার্য, জাতীয় শ্রমিক লীগের সংগঠক লুৎফুর নাহার সোনিয়া, জেলা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সভাপতি জাবেদ আলম, মহানগর লেবার ফেডারেশনের সাংগঠনিক স¤পাদক আলমগীর হোসেন ও জেলা জাতীয় শ্রমিক জোটের সাংগঠনিক স¤পাদক হুমায়ুন কবির।

ছেলের লাশ চান রবিউলের বাবা :
Robiulসীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য রবিউল ইসলাম (২৭)। এখনও তার লাশের হদিস পায়নি স্বজনরা। নওগাঁ জেলার চকপাথুরিয়া মহল্লার পূর্বপাড়ার খাদেমুল ইসলামের ছেলে রবিউল। এক বছর ধরে রবিউলকে হারানোর শূন্যতা বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।

রবিউলের পরিবার জানায়, এসএসসি পাস করার পর ২০২০ সালের নভেম্বরে ফায়ার সার্ভিসের চাকরিতে যোগ দেন। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে ফায়ার ফাইটার হিসেবে যোগ দেন প্রথম কর্মস্থল সীতাকুন্ডের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। গত বছরের ৪ জুন রাতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি রবিউল। পাওয়া যায়নি তার লাশও।

রবিউলের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। রবিউল ছিল সবার বড়। ছোট ছেলে রনি আহমেদ নওগাঁর একটি কলেজে অনার্সে পড়ছেন। মেয়ে নওমি আক্তার রিমঝিমের বয়স ৯ বছর। অনেক কষ্ট করে রবিউলের চাকরি হয়েছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১৭ মাসের মধ্যে তাকে হারিয়ে ফেলেছি। ছেলের লাশটিও পাইনি।

তিনি বলেন, আমি নানা রোগে আক্রান্ত। ঘটনার পর বলেছিল যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। চাকরি তো দূরের কথা আমরা কেমন আছি সে খবরও কেউ নেয়নি। আমার পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ নেই। আমার অনার্স পড়ুয়া ছোট ছেলের জন্য চাকরি চাই।

রবিউলের চাচা নাজিম উদ্দিন বলেন, চাকরি পাওয়ার পর রবিউলের অনেক স্বপ্ন ছিল। তারা নতুন করে আলাদা বাড়ি করবে। তার বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। কয়েকটি মেয়ে দেখেছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সব স্বপ্নকে চাপা দিয়ে রবিউলই আমাদের ছেলে চলে গেছে।

তিনি বলেন, কেন আগুন নেভাতে গিয়ে রবিউলের মতো ১৩টি তাজা প্রাণ অকালে জীবন হারাবে। সেখানে কী এমন ছিল যা এখনও প্রকাশ পায়নি। যার কারণে তারা মারা গেছে। এতগুলো প্রাণ চলে যাওয়ার পেছনে কি কারও দায় ছিল না? তাদের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? রবিউলের লাশটি পর্যন্ত আমাদের বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ডিএনএ টেস্টেও নাকি মেলেনি। তাহলে রবিউলের লাশটি গেল কোথায়?

সীতাকুন্ডের সিনিয়র ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা নূরুল আলম দুলাল বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে সীতাকুন্ডের ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার রবিউল ইসলামসহ তিন জনের লাশ শনাক্ত হয়নি। এমনকি পরবর্তীতে ডিএনএ রিপোর্টেও তাদের লাশ শনাক্ত হয়নি।

এখনও ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন সুলতান মাহমুদ :
Sultan mahmodগত বছর ৪ জুন সীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন সীতাকুন্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। সাড়ে সাত মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ।

সম্প্রতি তিনি আবারও কর্মস্থল সীতাকুন্ডের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে যোগ দিয়েছেন। তবে এখনও সেই ক্ষত শুকায়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে এখনও যন্ত্রণা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছি।

সুলতান মাহমুদ বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের ঘটনা আমার জীবনের এক ট্র্যাজেডি। সেদিন খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বিএম ডিপোতে আগুন নেভানোর জন্য ছুটে যাই। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। এরপর কী হয়েছে আমার আর কিছুই মনে নেই। পরে যখন জ্ঞান ফিরে দেখি সিএমএইচ এর বেডে আমি শুয়ে আছি। ২৮ দিন সিএমএইচে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হই।

এরপর বাড়ি এবং অন্যান্য হাসপাতাল মিলে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলাম। সেদিন আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ভেঙে যায় আমার ডান হাত। শরীরে বুকে, পায়েসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছি। এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি হাত। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যাচ্ছি। এরপরও বেঁচে আছি সেটার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

তিনি বলেন, সেদিনের দুর্ঘটনায় আমার বাহিনীর ১৩ জনকে হারিয়েছি। ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ৮ জন এবং সীতাকুন্ডের ফায়ার স্টেশনের ৫ জন রয়েছেন। তাদের ভুলতে পারছি না। হারিয়ে যাওয়া মুখগুলো সব সময় আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে। সুলতান মাহমুদ বলেন, আমি চিকিৎসা শেষে চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পুনরায় যোগদান করি।

নিহত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের স্মরণ :
সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন ৫১ জন। এর মধ্যে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ জন প্রাণ হারান। নিহতদের স্মরণে শনিবার রাতে দোয়া-মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন কুমিরা ও সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ রবিবার (৪ জুন) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ জন সদস্য মারা যান। আহত হয়েছেন অনেকেই। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও তিন জনের পরিচয় মেলেনি। নিখোঁজ তিন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা হলেন- ফায়ার ফাইটার মো. রবিউল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। নিহতদের স্মরণে আমরা দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করেছি।

মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন :
এ ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৩ মে চট্টগ্রাম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি নিছক দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনার জন্য কারও অবহেলা কিংবা ত্রুটি পায়নি তদন্তকারী সংস্থা।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে এ ঘটনায় করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী। অথচ এ দুর্ঘটনার পর গঠিত ছয়টি পৃথক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, দুর্ঘটনার জন্য মালিকপক্ষের অবহেলা ছিলো। ডিপো ব্যবস্থাপনায় ছিল ত্রুটি। ছিলো না প্রশিক্ষিত জনবল।

এছাড়া ঘটনায় ৭ জুন রাতে সীতাকুন্ড থানার এসআই আশরাফ সিদ্দিকী বাদী হয়ে ডিপো মালিকের নাম বাদ দিয়ে আট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার এজাহারেও বলা হয়, বিএম ডিপোতে ড্রামভর্তি কেমিক্যাল কনটেইনারে থাকার কথা ফায়ার সার্ভিসকে জানায়নি মালিকপক্ষ। এ কারণে কেমিক্যালভর্তি কনটেইনারের আগুন পানিতে নেভানো সম্ভব হয়নি। কেমিক্যালের কারণে এক কনটেইনার থেকে আরেক কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

যা বলছে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ :
সীতাকুন্ডে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের এক বছর পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের বিস্ফোরণ একটি দুর্ঘটনা। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। শনিবার (৩ জুন) রাতে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ৪ জুনের আকস্মিক অগ্নিকান্ড একটি দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সব নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের পরিবারের সব সদস্যদের জন্য রইল গভীর সমবেদনা। দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন এবং যারা জীবন বাজি রেখে অগ্নিকান্ড নির্বাপনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আমরা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক নিহতদের পরিবার ও আহতদের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। ক্ষতিপূরণ প্রাপ্যদের সর্বশেষ তালিকা যাচাই-বাছাই সম্প্রতি শেষ হয়েছে। অতি শিগগির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া দূর্ঘটনা পরবর্তী বিএম ডিপোকে আন্তর্জাতিক মানস¤পন্ন অফডক হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলার সামগ্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র ডিপো ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম ও ফোম সিস্টেমের আওতাধীন। কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য অফডক নীতিমালার নির্দেশনা মোতাবেক সামগ্রিক অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকদের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমন্বিত কমপ্লায়েন্স টিমের সন্তুষ্টি প্রকাশের পর পুনরায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

print news

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস বিভাগ অফিসার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

পদের নাম: অফিসার
বিভাগ: কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন ২০২৪

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিসের সাথে প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ জুন ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

print news

মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৬তম গ্রেডে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে ২০৯ জনেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১২ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সমাজসেবা অধিদপ্তর
পদের নাম: সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
পদসংখ্যা: ২০৯টি
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
গ্রেড: ১৬ তম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

চাকরির ধরন: সরকারী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
কর্মস্থল: ইউনিয় পর্যায়ে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১২ জুন ২০২৪

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

print news

সকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

পদের নাম: প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফার্মেসিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এমবিবিএস ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: ফার্মাসিউটিক্যালসে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী পারফরম্যান্স এবং উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আরো সুবিধা।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

print news

র্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-সম্পাদক পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ঢাকা পোস্ট
পদের নাম: সহ-সম্পাদক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর (সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ অগ্রাধিকার) ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: অনুবাদে দক্ষতা, সংবাদ লেখা ও ডেস্ক রিপোর্টিং এবং ফটোশপ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চাকরির খবর : ঢাকা পোস্ট জবস
আবেদন শুরুর তারিখ : ১১ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২১ জুন ২০২৪
লোকবল নিয়োগ: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: অভিজ্ঞতা অনুসারে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার,পরিবহন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে সিভি পাঠাতে হবে hr@dhakapost.com- এই ঠিকানায়।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

print news

য়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, এইডস আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। বিষয়টি নজরে পড়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের। বেশ বিব্রত তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন তা।

মমতাজ বলেন, ‘শুনলাম, আমার নাকি এইডস হয়েছে! বিষয়টি বিব্রতকর। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ ও খুব ভালো আছি। আর সে কারণেই স্টেজ শো নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারছি। ঈদের পরও দেশের বাইরে যাচ্ছি। যারা এসব মিথ্যা কিংবা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বলেন, যারা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বলব, এগুলো ভালো না, ভালো পথে থাকেন। আর আমার ভক্তদের বলব, এসব গুজবে কান দেবেন না। সবার দোয়ায় আপনাদের মমতাজ অনেক অনেক ভালো আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর দিন আবার স্টেজ শোতে অংশ নিতে দুবাই যাচ্ছি। গান গাওয়ার পাশাপাশি সেখানের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও অংশ নেব। সব শেষ করে চলতি মাসের ২৩-২৪ তারিখে দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে।’

কদিন আগে ‘বুঝলে নাকি বুঝপাতা’ শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয় মমতাজের। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকার নাতনি। গানটি নিয়ে মমতাজ বলেন, ‘মজার ছলেই গানটি কণ্ঠে তোলা। আমার সঙ্গে নাতনি মোমধুও দারুণ গেয়েছে। নাতনিকে নিয়ে তিন-চারদিন আগে ঘুরতে গিয়েই গানটি গাইলাম। তখন এটি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করি। এটি যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তা বুঝিনি।

একটা বার্তাও দিতে চেয়েছি। একদল মানুষ আমার নামে মিথ্যা ও গুজব ছড়াচ্ছে। যাদের বোঝার তারা ঠিকই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আর কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে এখনও দোটানার মধ্যে আছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই গানটি গাওয়া।’

ঈশান/মখ/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

print news

তেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ড পোট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এই অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল মায়ের্কস দাবাও নামের একটি কন্টেনার ভ্যাসেলের অপারেশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে বন্দরের সকল কার্যক্রম নজরদারি করি। আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশাল কার্যক্রম পরিচালনা করলো। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে দায়িত্ব পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পিসিটি পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে আমি আশা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, বন্দরে আজকে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ লোড করার মাধ্যমে আমরা আত্নপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করবো, আগামীতে সকল অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাবো।

বন্দরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পিসিটি দিয়ে মায়েরস্ক দাভাও নামে একটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং করল। ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্যালাং থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর পিসিটিতে প্রায় ৮০০ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার ওঠানামা করে পরবর্তী গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এ টার্মিনাল বছরে ৬ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। ১০ মিটার গভীরের জাহাজ ভিড়তে পারবে। তবে মায়ের্কস দাবাও নামের জাহাজটির ড্রাফট ৯ মিটার। প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) সঙ্গে মাস ছয়েক আগে চুক্তি হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে রেড সি গেটওয়ে বাংলাদেশ লিমিটেড শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো অপারেশনে আসা জাহাজটিতে খালি কন্টেইনার লোড করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, আরএসজিটিআই বাংলাদেশে কনটেইনার টার্মিনাল খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এর ফলে টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করার করার ক্ষমতা থাকবে।

আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবের শীর্ষ স্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর। যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত, যেটি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বার্ষিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়ের ব্যবধানে বন্দরে পণ্য কিংবা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্প। ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত ১৪ নভেম্বর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এরপর ডিসেম্বরের এটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরসিজিটিকে।

এই টার্মিনালে রয়েছে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ছয় মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং।

যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে এই টার্মিনাল অপারেশনে গেলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

ঈশান/মখ/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!