বুধবার- ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

স্বপ্ন দেখাচ্ছে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, উদ্বোধন অক্টোবরে

print news

আগামী আক্টোবর মাসে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে কক্সাজারের মহেশখালীতে নির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে। আর এই সমূদ্র বন্দর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ। তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে গভীর সমুদ্রবন্দর আছে সিঙ্গাপুরে। যে কারণে মাদারভ্যাসেলগুলো ওখানেই ভিড়ে। ওখান থেকে ফিডার জাহাজে করে এখানে আনতে হয়। এতে অনেক খরচ হয়। এ খরচতো ইমপোর্টারদের পকেট থেকে দিবে না। তাই চাপটা পড়ে ভোক্তাদের ওপর। মাতারবাড়ি বন্দর হলে ইমপোর্টারদের খরচ কমে যাবে, জিনিসপত্রের দামও কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বন্দর এগিয়েছে, যা গত দশ বছরের সাথে তুলনা করলে স্পস্ট হয়ে যাবে। আগে বন্দর কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক সময় লাগতো। এখন আর এতো সময় লাগে না। এর অন্যতম কারণ হলো কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ জোর দিয়েছে। তবে বন্দর নিয়ে আমাদের যে অভিযোগ তা বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নয়, অভিযোগ হলো কাস্টমসের বিরুদ্ধে।

সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, পৃথিবীর কোনো বন্দরে কনটেইনার খুলে পরীক্ষার সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের বন্দরে কাস্টমস এ সুযোগটি পায়। কাস্টমস এ পরীক্ষাটি যদি অফডকে করতো তাহলে বন্দর আরও গতিশীল হতো। এখানে বন্দরের গতিশীলতা বাড়াতে কাস্টমসের কাজের ধরনে পরিবর্তন আনা দরকার। এটি নিয়ে আমরা অনেকবার এনবিআরকে বলেছি।

মাতারবাড়ি ঘিরে চলছে কর্মযজ্ঞ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার গ্রামীণ জনপদ মাতারবাড়ি ইউনিয়ন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করতে মহেশখালী-মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ৩৪টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তাতে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা মাতারবাড়ি।

এখানে গড়ে উঠছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোল জেটি, এলএনজি টার্মিনালসহ বাণিজ্যিক বন্দর। এই বন্দরের পোতাশ্রয়ে ১৬ মিটার পর্যন্ত ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। ফলে সামগ্রিক পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে আনুমানিক ১৫ শতাংশ।

ভূ-অবস্থানগত সুবিধা এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা থাকায় মাতারবাড়ি বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে নিকটবর্তী এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটবে। ফলে বিপুলভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ইকোনমি তথা তেল-গ্যাস ও অন্যান্য সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এতে দুই শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

দৃশ্যমান গভীর সমুদ্রবন্দর

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এখন দৃশ্যমান। দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ধলঘাট এলাকায়। বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে ১ হাজার ৩১ একর জায়গার নির্মাণ করা হচ্ছে এই বন্দরটি।

মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেনার বহনকারী জাহাজ নোঙর করতে পারবে। ফলে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর, কলম্বো আর মালয়েশিয়ার বন্দরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের আর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় একটি পণ্যের চালান পাঠাতে সময় লাগে ৪৫ দিন। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে মাত্র ২৩ দিনেই সরাসরি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহণ পরিচালক এনামুল করিম।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের দুটি অংশ। একটি হলো বন্দর নির্মাণ এবং অপরটি সড়ক ও জনপথের আওতাধীন সড়ক নির্মাণ। প্রকল্পের আওতায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস জেটি এবং ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি কনটেইনার জেটি নির্মিত হবে। জেটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। তখন ১১ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বন্দর।

তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের দুই টার্মিনালে মোট ৭৬০ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে। সেখানে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ জেটিতে ভিড়বে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজ। আর ৩০০ মিটার দীর্ঘ জেটিতে ভিড়বে ২০০ মিটার লম্বা সাধারণ জাহাজ। নৌপথে এখন পানির গভীরতা ১৬ মিটার। এই গভীরতা ব্যবহার করে ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে।

গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে ৩৫০ মিটার প্রশস্ত ও ১৬ মিটার (সিডিএল) গভীরতা সম্পন্ন ১৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এপ্রোচ চ্যানেল নির্মাণ শেষ হয়েছে। এছাড়াও এপ্রোচ চ্যানেলের উত্তর পাশে ২ হাজার ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও দক্ষিণ পাশে ৬৭০ মিটার দীর্ঘ ব্রেক ওয়াটার (ঢেউ নিরোধক বাঁধ) নির্মাণের কাজও স¤পন্ন হয়েছে।

২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো নামানোর এই টার্মিনাল। ইতিমধ্যে প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ি টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, তিন প্যাকেজে মাতারবাড়ি বন্দর সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। মাতারবাড়ি থেকে চকরিয়ার ফাসিয়াখালী পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার চারলেন মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সড়কটি নির্মাণের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সড়ক বাস্তবায়ন হলে বন্দর পণ্য সড়কপথে দেশের যে কোনো স্থানে পরিবহন করা যাবে বলে জানান তিনি।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সমূদ্রবন্দরের সূচনা

২০১৫ সালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকার। জাইকার অর্থায়নে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত ১৪ দশমিক তিন কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৬ মিটার ড্রাফট (গভীরতা) এবং ২৫০ মিটার চওড়া চ্যানেল নির্মাণ করা হয়।

কয়লা বিদ্যুতের চ্যানেলের ওপর ভিত্তি করে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা যায় বলে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) একটি প্রস্তাবনা দেয়। সেই প্রস্তাবনা ও পরবর্তী সময়ে সমীক্ষার পর মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। আর এরই আওতায় চ্যানেলের চওড়া ১০০ মিটার বাড়ানোর পাশাপাশি গভীরতাও ১৮ মিটারে উন্নীত করা হয় বলে জানান মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দার।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবে আগামী বছর। মাতারবাড়ি এখনো বন্দর হিসাবে গড়ে না উঠলেও এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লাবাহী ৭টি বড় জাহাজ ভিড়ে ইতিমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সক্ষমতার রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

এই গভীর সমুদ্রবন্দরের পাশেই ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ১৬ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর জন্য এরই মধ্যে ১৪ দশমিক তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩৫০ মিটার চওড়া চ্যানেল খনন করা হয়েছে।

এ বছরের ২৯ জুলাই দুপুর ১২ টায় কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। এদিন ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাস¤পন্ন প্রথম ইউনিটটি চালু করা হয়। এখানে প্রতিঘণ্টায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। বিদ্যুকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। পরীক্ষামূলক এই প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ডিসেম্বরই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোদমে চালু হবে।

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ১ হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর স্থাপিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সহায়তায় প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে। ৭ বছর মেয়াদে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করছে জাপানের সুমিতোমো, তোশিবা ও আইএইচআই কো¤পানির কনসোর্টিয়াম। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়। কোল পাওয়ার জেনারেশন কো¤পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিএল) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সোনাদিয়া-পায়রা থেকে মাতারবাড়ি

গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় কক্সবাজারের সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি, আবার কখনো পটুয়াখালীর পায়রার নাম শোনা গিয়েছিল। সোনাদিয়া ও পায়রা বাদ দিয়ে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ হিসেবে জাইকার অর্থায়নে সেখানে চলমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে আরেকটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জানা যায়, সোনাদিয়া থেকে সরে এসে পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পর অনুধাবন করা হয় সেখানে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করলে তা দেশের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হবে না। সেখানে চ্যানেলের ৭০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করতে প্রতিবছর প্রচুর টাকা খরচ হবে। এসব কারণে জায়গাটিকে উপযুক্ত নয় বলে মনে করে সরকার। সে জন্যই পায়রার পরিবর্তে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জাপানের নিপ্পন কোয়ে, জার্মানির পিচনার, জাপানের টেপসকো ও অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষার ভিত্তিতে গভীর সমুদ্রবন্দরের নতুন কাঠামো চ‚ড়ান্ত করা হয়।

জাপানি সহায়তায় নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমূদ্রবন্দর

মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৯৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বন্দর নির্মাণে জাপানি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ঋণ সহায়তা দিবে ৬ হাজার ৭৪২ কোটি ৫৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দিবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

এছাড়া বন্দর এলাকায় সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে জাইকা ঋণ সহায়তা দিবে ৬ হাজার ১৫০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকি ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ সড়ক ও জনপথের (সওজ) ফান্ড থেকে ব্যয় করা হবে। বন্দর ও সড়ক নির্মাণে জাপান সরকার মোট ঋণ সহায়তা দিবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিগুলোতে সাধারণত মাত্র ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটবিশিষ্ট জাহাজ বার্থ করতে পারে। তবে স¤প্রতি ১০ মিটার ড্রাফটের একটি জাহাজ ভেড়ানো হয়েছে। কিন্তু এসব জাহাজ ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৪০০ টিইইউএস কন্টেনার বহন করতে পারে। একটি মাদার ভেসেলের ধারণক্ষমতা ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টিইইউএস কন্টেনার। মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে ৮ হাজার টিইইউসের বেশি সক্ষমতার কন্টেনার বহনকারী জাহাজ নোঙর করতে পারবে। সহজেই আসতে পারবে বৃহদাকার কন্টেনার জাহাজ।

আরও পড়ুন

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

print news

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস বিভাগ অফিসার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

পদের নাম: অফিসার
বিভাগ: কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন ২০২৪

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিসের সাথে প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ জুন ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

print news

মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৬তম গ্রেডে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে ২০৯ জনেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১২ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সমাজসেবা অধিদপ্তর
পদের নাম: সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
পদসংখ্যা: ২০৯টি
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
গ্রেড: ১৬ তম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

চাকরির ধরন: সরকারী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
কর্মস্থল: ইউনিয় পর্যায়ে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১২ জুন ২০২৪

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

print news

সকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

পদের নাম: প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফার্মেসিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এমবিবিএস ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: ফার্মাসিউটিক্যালসে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী পারফরম্যান্স এবং উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আরো সুবিধা।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

print news

র্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-সম্পাদক পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ঢাকা পোস্ট
পদের নাম: সহ-সম্পাদক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর (সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ অগ্রাধিকার) ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: অনুবাদে দক্ষতা, সংবাদ লেখা ও ডেস্ক রিপোর্টিং এবং ফটোশপ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চাকরির খবর : ঢাকা পোস্ট জবস
আবেদন শুরুর তারিখ : ১১ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২১ জুন ২০২৪
লোকবল নিয়োগ: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: অভিজ্ঞতা অনুসারে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার,পরিবহন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে সিভি পাঠাতে হবে hr@dhakapost.com- এই ঠিকানায়।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে!

সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার সেই বিজ্ঞাপন!

print news

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই মুসলিম বিশ্বে কোনঠাসা হয়ে পড়ে কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলা। বাংলাদেশ একই অবস্থা। বড় একটি অংশ বয়কট করেছে পানীয়টি।

সম্প্রতি এ পানীয়ের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে বলা হয় কোকা-কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিবাদ।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর থেকে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিজ্ঞাপনটি। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ। এদিকে কোকা-কোলা বিবৃতি না দিলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন এবং অভিনয়শিল্পী শিমুল শর্মা।

জীবন লিখেছেন, ‘এখানে আমি কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ নেইনি এবং আমি কখনওই ইসরায়েলের পক্ষে নই। আমার হৃদয় সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং মানবতার পাশে আছে, থাকবে।’

অন্যদিকে শিমুল ক্ষমা চেয়েছেন। তার কথায়, ‘আমি ভবিষ্যতে কোনো কাজে অভিনয় করতে গেলে অবশ্যই আমাদের দেশের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, মানুষের মনোভাবকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বিবেচনা করে তারপর কাজ করব। আমি মাত্র আমার জীবনের পথচলা শুরু করেছি, আমার এই পথচলায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ভবিষ্যতে একজন বিবেকবান শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য শুভ কামনায় রাখবেন।’

ঈশান/খম/সুপ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

print news

য়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, এইডস আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। বিষয়টি নজরে পড়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের। বেশ বিব্রত তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন তা।

মমতাজ বলেন, ‘শুনলাম, আমার নাকি এইডস হয়েছে! বিষয়টি বিব্রতকর। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ ও খুব ভালো আছি। আর সে কারণেই স্টেজ শো নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারছি। ঈদের পরও দেশের বাইরে যাচ্ছি। যারা এসব মিথ্যা কিংবা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বলেন, যারা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বলব, এগুলো ভালো না, ভালো পথে থাকেন। আর আমার ভক্তদের বলব, এসব গুজবে কান দেবেন না। সবার দোয়ায় আপনাদের মমতাজ অনেক অনেক ভালো আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর দিন আবার স্টেজ শোতে অংশ নিতে দুবাই যাচ্ছি। গান গাওয়ার পাশাপাশি সেখানের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও অংশ নেব। সব শেষ করে চলতি মাসের ২৩-২৪ তারিখে দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে।’

কদিন আগে ‘বুঝলে নাকি বুঝপাতা’ শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয় মমতাজের। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকার নাতনি। গানটি নিয়ে মমতাজ বলেন, ‘মজার ছলেই গানটি কণ্ঠে তোলা। আমার সঙ্গে নাতনি মোমধুও দারুণ গেয়েছে। নাতনিকে নিয়ে তিন-চারদিন আগে ঘুরতে গিয়েই গানটি গাইলাম। তখন এটি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করি। এটি যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তা বুঝিনি।

একটা বার্তাও দিতে চেয়েছি। একদল মানুষ আমার নামে মিথ্যা ও গুজব ছড়াচ্ছে। যাদের বোঝার তারা ঠিকই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আর কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে এখনও দোটানার মধ্যে আছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই গানটি গাওয়া।’

ঈশান/মখ/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!