সোমবার- ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রচ্ছদ /

পাগলা মসজিদের দান বাক্সে মিলল ১৯ বস্তা টাকা

চলছে গণনা

print news

কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দান বাক্স খুলে এবার ১৯ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী শনিবার (৬ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ও দান বাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাক্সগুলো খোলা হয়েছে। আটটি দানবাক্স খুলে ১৯ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনার কাজ। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ বলা যাবে।

তিনি আরও জানান, টাকা গণনা কাজে সিনিয়র সহাকরী কমিশনার শেখ জাবের আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার নাবিলা ফেরদৌস, সাদিয়া আফরীন তারিন, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, সিবিএ নেতা মো. আনোয়ার পারভেজসহ এ কাজে মাদ্রাসার ১১২ ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।

দান বাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে। এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ২০ বস্তা টাকা।

দিনভর গুনে দেখা যায়, সেখানে জমা পড়েছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৩ মাসে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দান বাক্সগুলোতে।

এ ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। আগে দান বাক্স খোলা হত প্রতি তিন মাস পর। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ মসজিদের দান বাক্সগুলো খোলা হয় চার মাস পর। এবারও দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে চার মাস পর।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, করোনা সংক্রমণের শুরুতে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল এবং নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলেও দান অব্যাহত ছিল।

তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়। তা ছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও এই দানের টাকা থেকে সহায়তা করা হয়েছে।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছে এই মসজিদে। যারা দান করতে আসেন তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার পরে নাকি তাদের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ বিষয়টির কারণেই এখানে দান করে থাকেন তারা।

কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে অবস্থিত পাগলা মসজিদ। শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩ একর ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

সৌদি আরবে চালু হলো নাইটক্লাব, চলছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা

সৌদি আরবে চালু হলো নাইটক্লাব, চলছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা

print news

মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা। আর সেই সৌদি আরব প্রথমবারের মতো চালু করেছে নাইটক্লাব। যেখানে নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশার সুযোগ পাচ্ছে।

চলতি মে মাসে রিয়াদের অভিজাত এলাকা জাক্সে উদ্বোধন করা হয় ‘বিস্ট হাউস’ নামের এই নাইট ক্লাবটি। নাইট ক্লাবটিতে নারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নাইটক্লাবে অবশ্য সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। কেবল স্থায়ী সদস্যরাই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন। বিস্ট হাউসের সদস্য হতে হলে প্রতিবছর সদস্য ফি হিসেবে খরচ করতে হবে অন্তত ১ হাজার ৯০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৭ টাকা)।

বিস্ট হাউসে রয়েছে মিউজিক ভেন্যু, একাধিক স্টুডিও, ডাইনিং এরিয়া এমনকি জমজমাট ডিজে পার্টির ব্যবস্থাও। তবে ১৯৫০ সালে দেশজুড়ে মদ নিষিদ্ধের যে আইন জারি করেছিল সৌদির তৎকালীন প্রশাসন, তা এখনও বলবৎ থাকায় বিস্ট হাউসে মদ নিষিদ্ধ।

নাইটক্লাবে যেসব রক্ষী বা বাউন্সার রয়েছেন, তাদেরও মূল দায়িত্ব হলো আগত অতিথিদের মধ্যে কেউ অ্যালকোহল নিয়ে এসেছেন কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে একসময় নারীরা প্রায় পুরোপুরি অন্তপুরবাসী ছিলেন। কিন্তু ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই চিত্র বদলাতে শুরু করে। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দরজা খুলে যায়, সেই সঙ্গে অন্যান্য সামাজিক বিধিনিষেধও কেটে যেতে শুরু করে। -খবর আলজাজিরার।

ঈশান/মখ/সুপ

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ মে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট

print news

ট্টগ্রাম থেকে এবারের হজ ফ্লাইট চালু হচ্ছে ১৪ মে। এদিন ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে প্রথম ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে। এই ফ্লাইটে মদিনা যাবেন ৪১৯ হজযাত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিমানের চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, ১৪ মে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট যাত্রা করবে।

যদিও ১৩ মে থেকেই হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭১৭ যোগে ৪১৯ যাত্রী প্রথম ফ্লাইটে মদিনা যাবেন।

চলতি বছর হজযাত্রী পরিবহনে চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যা গত বছরের তুলনায় কম। ২০২৩ সালে হজযাত্রীদের জন্য চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ২৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করে বাংলাদেশ বিমান।

আগামী ৯ মে বাংলাদেশ (ঢাকা) থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। ৮ মে বাংলাদেশিদের হজযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর ১৬ জুন পালিত হতে পারে পবিত্র হজ।

ঈশান/সুপ/সউ

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মাওলানা মামুনুল হক

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মাওলানা মামুনুল হক

print news

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

শুক্রবার (৩ মে) সকাল ১১টায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা।

সুব্রত কুমার বালা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছে। অনেকগুলো মামলা থাকায় তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। যাচাই শেষ করতে সময় লেগে যায় এবং গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন না পাওয়ায় তাকে রাতে মুক্তি দেওয়া হয়নি। শুক্রবার সকাল ১১ টায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার মুক্তির খবরে শত শত ভক্তরা ভিড় করেন কারা ফটকের সামনে।

গত ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় করা ধর্ষণ মামলায় জামিন পান মামুনুল হক। নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। খবর পেয়ে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্টে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করেন মামুনুল হক।

১৫ দিন পর ১৮ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা থেকে মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করেন তার সঙ্গে রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়া নারী। যদিও ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক। এরপর ওই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ অর্ধশতাধিক মামলা হয়। পরে সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

ঈশান/খম/সুপ

শবে বরাতের রাতে মাকে ফেলে গেল রাস্তায়, হাসপাতালে মৃত্যু

শবে বরাতের রাতে মাকে ফেলে গেল রাস্তায়, হাসপাতালে মৃত্যু

print news

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অতিবাহিত হয়েছে মহিমান্বিত রজনী শবে বরাত। এই রাতে দুনিয়াবি সবকিছু ফেলে মুসলিমরা জান্নাত খুঁজতে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদে মশগুল। ঠিক এই সময়ে এক বয়োবৃদ্ধা অচল মা মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিল রাস্তায়।

কিছু মানবিক মানুষ এই বৃদ্ধ অসহায় মাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় ওই মা জননীর আর্তনাদ ছিল- তোরা কোথায়, আমাকে কেন ফেলে গেলি, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যা’। সেখানেই রাত আড়াইটার দিকে মারা গেছেন এই দুঃখী মা জননী।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ওই দুঃখী মায়ের লাশ পড়েছিলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে। কিন্তু মিলেনি কোনো পরিচয়। খবর নিতে আসেনি কোনো আত্মীয়-স্বজন। তাই বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে পরিচয় উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ।

রাতেই এই অশীতিপর বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে উদ্ধারের ঘটনা ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সর্বমহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সবাই ব্যাপক আফসোস করছেন। ফেসবুকে সবাই লিখেছেন, দুনিয়ার মানুষ যখন জান্নাত খুঁজতে ব্যস্ত, তখন কিছু মানুষ জান্নাতকে ফেলে দিয়ে গেছে রাস্তায়!

এ বিষয়ে বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, এখন ৮০ ভাগ নিশ্চিত সন্তানরাই এই মাকে নিষ্ঠুরভাবে ফেলে গেছেন। তা যদি হয়ে থাকে তাহলে সেই সন্তানদের পরকাল কেমন হবে? মাকে নিয়ে কেন এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা? এটা কি ধর্মীয় বা নৈতিক স্খলন? এটা সমাজে কি বার্তা দেয়।”

মা-বাবাই মানুষের জন্য আল্লাহর দেয়া বড় নেয়ামত। তাদের সেবাতে নিহিত রয়েছে জান্নাত। তাহলে এমন ঘটনাগুলো কেন ঘটে? এমন কু্লাঙ্গার সন্তানদেরও কি বৃদ্ধকালে এমন পরিণতি হবে?

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে শায়েখ আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে জিডি

চট্টগ্রামে শায়েখ আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে জিডি

print news

পবিত্র শবে বরাত নিয়ে বাজে মন্তব্য করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়েছেন শায়েখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম মাদানী। সেই ইসলামী বক্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার আরবি প্রভাষক আবুল আসাদ মোহাম্মদ জুবাইর।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় উপস্থিত হয়ে আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম মাদানীর বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ চান পুলিশের। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের কথামতো মামলার পরিবর্তে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাওলানা আবুল আসাদ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আল্লামা আবুল আসাদ মোহাম্মদ জুবাইর বলেন, পবিত্র শবে বরাত মুসলিম উম্মাহর একটি পবিত্র দিন। ভাগ্য রজনীর দিন, সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার দিন। এই দিনকে নিয়ে শায়েখ আকরামুজ্জামানের মন্তব্য শুধু ধর্মদ্রোহিতা নয়; রাষ্ট্রদ্রোহিতাও বটে।

কোনো একটি গোষ্ঠীর ইন্ধনে পবিত্র ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছেন আকরামুজ্জান গং। বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা জরুরি। পুলিশের পরামর্শে আমি থানায় মামলার পরিবর্তে সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ চাকমা বলেন, ‘আমরা সাধারণ ডায়েরি রেকর্ড করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, আবুল আসাদ মোহাম্মদ জুবাইর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ষোলশহর দায়েম নাজির জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদের খতিব এবং সুন্নি নুরানী বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শায়েখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম মাদানীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে এই ইসলামী বক্তা পবিত্র শবে বরাতের রাতকে ঘিরে নানা অশালীন মন্তব্য করেছেন। এতে করে ক্ষোভে ফুঁসছে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ।

ঈশান/মখ/সুপ

প্রতারণার শিকার দীঘি, খোয়ালেন বিকাশের টাকা

প্রতারণার শিকার দীঘি, খোয়ালেন বিকাশের টাকা

print news

অনলাইনে প্রতারণার শিকার অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। খোয়ালেন নিজের বিকাশ একাউন্ট মোটা অংকের টাকা। এমন অভিযোগ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে।

ডিবি অফিস থেকে জানা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতারকচক্র দীঘির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর দীঘি অভিযোগ জানান ডিবি অফিসে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ। এরইমধ্যে প্রতারণায় জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে সোমবার ডিবি কার্যালয়ে যান দীঘি। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদকর্মীদের বলেন, বিকাশের নির্দিষ্ট নম্বর থেকে একটি কল আসে। আমার বিকাশ নম্বর বন্ধ করে দেয়ার কথা বলে। আমার অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা ছিল। তাই আমি ওই কলে অনেকক্ষণ ধরেই কথা বলি। এক সময় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস সাজা প্রতারকরা আমার ওটিপি নম্বর চায়। আমি ভেবেছিলাম, পিন নম্বর না দিলে সে আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না। তাই ওটিপি নাম্বার দেই।

এরপর তিনি বলেন, আমি শুটিংয়ের কাজে ও স্ক্রিপ্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই মাথা তেমন কাজ করেনি। এরপর দেখি অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি মানে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেই। প্রতারকরা আমার পরিচয় জানত। আমার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেছে যে, আমি প্রতারকদের বিকাশের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারই ভেবেছিলাম। কারণ এতদিন যে নাম্বার থেকে বিকাশের মেসেজ পেতাম, সে নাম্বার থেকেই ভুয়া মেসেজগুলো পাচ্ছিলাম।

১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রতারণার শিকার হওয়ার পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশ প্রধান হারুন-অর রশিদের কাছে অভিযোগ জানান দীঘি। অভিযোগ করার ১ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত পাওয়ায় ডিবি পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের বিকাশ প্রতারকদের কাছ থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শও দেন।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে দীঘির সিনেমা শ্রাবণ জোৎস্নায়। এতে দীঘি ছাড়াও অভিনয় করেছেন গাজী আবদুন নূর, বাপ্পা সান্তনু, মুনমুন আহমেদ, সুব্রত বড়ুয়া, মাসুম বাশার, মিলি বাশারসহ অনেকে। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে ছবিটি নির্মাণ করেছেন আবদুস সামাদ খোকন।

ঈশান/খম/সুম

সহজে বিয়ে হওয়ার জন্য যে আমল করতে হবে

সহজে বিয়ে হওয়ার জন্য যে আমল করতে হবে

print news

বিয়ে আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। বয়স ও উপার্জনের দিক দিয়ে উপযুক্ত হলে দ্রুত বিয়ে করা হাদিসের শিক্ষা। সহজে বিয়ে হওয়ার জন্য কিছু আমল করতে বলেন আলেমরা। যেমন—

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, রোজা রাখা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা, নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করে সমকক্ষ কোনো দ্বীনদার পরিবার থেকে বিয়ে করার চেষ্টা করা, বেশি বেশি সালাতুল হাজত নামাজ পড়া।

এছাড়া বিয়ের জন্য কোরআনে বর্ণিত বিশেষ একটি দোয়া রয়েছে। দোয়াটি প্রত্যেক নামাজের পর বেশি বেশি পড়তে হবে। নামাজের পর ছাড়াও পড়া যাবে। যেকোনো সময়ে যেকোনো জায়গায় পড়া যাবে। দোয়াটি হলো- رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা। অর্থ: ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতলকারী হবে। আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শ করুন।’ (সুরা: ফুরকান: ৭৪)

এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়াগুলো ও আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর আমলও করা যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সকল অবিবাহিত যুবক-যুবতীদের যথাসময়ে বিয়ে করার তাওফিক দান করুন। পবিত্র জীবন-যাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঈশান/মখ/মউ

শিশুর আকিকা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

শিশুর আকিকা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

print news

“আকিকা বাবাকেই দিতে হয়; অন্যকেউ দিলে আদায় হয় না। এটিও সুন্নাহসমর্থিত বক্তব্য নয়। মূলত আকিকা দেওয়ার প্রথম দায়িত্ব হলো পিতার। কিন্তু পিতার সামর্থ্য না থাকলে মা সামর্থ্যবান হলে তিনি অথবা তাঁদের পক্ষ থেকে দাদা-দাদি, নানা-নানি আকিকা আদায় করতে পারবেন। (আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩০/২৭৭)”

সমাজে আকিকা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন অনেকে মনে করেন যে, কোনো কারণে সন্তানের নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে নতুন করে আকিকা দিতে হবে। না, এটি সঠিক নয়। বরং নবজাতক শিশুর একবার আকিকা করা মোস্তাহাব। নাম পরিবর্তন করলে নতুন করে আকিকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ১২/১৬৩)

আবার কেউ মনে করেন, ৭ম দিনে দিতে না পারলে আকিকা শুদ্ধ হয় না। এটিও ভুল ধারণা। সাধারণত সন্তান ভূমিষ্ঠের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। তবে যদি কেউ কারণবশত সপ্তম দিনে না করতে পারে, তাহলে পরবর্তীতে যেকোনো দিন আদায় করতে পারবে। (ইবনুল কাইয়িম, তুহফাতুল মাওদুদ: ৬৩ পৃ; ফতোয়া লাজনা দায়েমা: ১৭৭৬; মাজমু ফতোয়া উসাইমিন: ২৫/২১৫)

আরেকটি ভুল ধারণা হলো- আকিকা বাবাকেই দিতে হয়; অন্যকেউ দিলে আদায় হয় না। এটিও সুন্নাহসমর্থিত বক্তব্য নয়। মূলত আকিকা দেওয়ার প্রথম দায়িত্ব হলো পিতার। কিন্তু পিতার সামর্থ্য না থাকলে মা সামর্থ্যবান হলে তিনি অথবা তাঁদের পক্ষ থেকে দাদা-দাদি, নানা-নানি আকিকা আদায় করতে পারবেন। (আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩০/২৭৭)

অনেকের ধারণা, আকিকার জন্তু নানার বাড়ি থেকে আসতে হয়, এ ধারণাও সঠিক নয়। এ ধরণের কোনো বক্তব্য হাদিসে নেই। কেউ কেউ মনে করেন, ছেলে সন্তানের আকিকার জন্য দুটি বকরি জবাই করা বাধ্যতামূলক। এটিও সঠিক কথা নয়। বরং এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য মত হচ্ছে- ছেলেসন্তানের পক্ষ থেকে একই ধরনের দুটি বকরি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৩৩৬) তবে, ছেলের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করলেও মোস্তাহাব আদায় হয়ে যাবে। যদিও দুটি করা উত্তম। (রদ্দুল মুহতার: ৫/২১৩, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩০/২৭৭)

কোনো কোনো অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে যে যখন নবজাতকের মাথায় ক্ষুর বসানো হবে, ঠিক সেই মুহূর্তে পশু জবাই করতে হবে—এ ধারণা সঠিক নয়। মাথা মুণ্ডানোর আগে-পরে যেকোনো সময় আকিকার পশু জবাই করা যাবে। হজরত আতা (রহ.)-এর এক বর্ণনা মতে, আকিকার পশু জবাই করার আগে মাথা মুণ্ডিয়ে নেওয়া উত্তম। (আল মুকাদ্দামাতুল মুমাহ্হাদাত: ১/৪৪৯)

আকিকার পশু কেম হবে—এ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য হলো- যেসব জন্তু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হয় না, সেসব জন্তু দিয়ে আকিকাও শুদ্ধ হয় না। তাই আকিকার ক্ষেত্রে জন্তুর বয়স ও ধরনের দিক থেকে কোরবানির জন্তুর গুণ পাওয়া যায়, এমন জন্তুই নির্বাচন করতে হবে। (তিরমিজি: খ. ৪, পৃ-১০১) পরিষ্কার ভাষায় বললে আকিকার বকরির বয়স এক বছর হওয়া শর্ত। এর কম বয়সী বকরি দিয়ে আকিকা শুদ্ধ হবে না। যেহেতু কোরবানিতে খাসি দেওয়া উত্তম, তাই আকিকাতেও খাসি দেওয়াই উত্তম। জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির দিন দুটি শিংওয়ালা, সাদা কালো রংওয়ালা খাসি করা বকরি জবাই করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫)

আকিকার গোশত বণ্টন সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরামের মত হলো- আকিকা ও কোরবানির গোশতের হুকুম একই। অর্থাৎ কোরবানির গোশত যেমন তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজের জন্য রাখা, এক ভাগ গরিবকে দেয়া ও একভাগ আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা উত্তম। আবার ইচ্ছে করলে পুরোটাই নিজের জন্য রাখা জায়েজ আছে। ‘কাঁচা ও রান্না করা উভয়টিই বণ্টন করা যাবে। সর্বস্তরের লোক তা খেতে পারবে। এমনকি নিজের মা-বাবা, নানা-নানি, ধনী-গরিব সবাই নিশ্চিন্তে আকিকার গোশত খেতে পারবে।’ (ফতোয়ায়ে শামি: ৬/৩৩৬)

কোরবানির জন্তুর সঙ্গে আকিকা করার নিয়ম হলো- একটি বড় পশুতে তিন শরিক কোরবানি হলে সেখানে আরো দু-এক শরিক আকিকার জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তদ্রূপ কোরবানির মতো একই পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে আকিকা আদায় করতে পারবে। (দুররুল হুক্কাম: ১/২৬৬) বড় পশু তথা গরু, মহিষ, উট ইত্যাদিতে ছেলের জন্য এক শরিক আকিকা দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

তবে, যদি এক অংশেই কোরবানি ও আকিকার নিয়ত করে, তাহলে কোরবানি হবে না। বকরি, ভেড়া ও দুম্বায় একটি নিয়ত করতে হবে। আর বড় পশুর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা অংশে কোরবানি ও আকিকা করলে কোরবানি ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে। আর মৃত বাচ্চার আকিকার প্রয়োজন নেই। যেহেতু আকিকা করা হয় বালা-মসিবত দূর করার জন্য, তাই মৃত বাচ্চার পক্ষ থেকে আকিকা করা সুন্নত নয়। (আহসানুল ফতোয়া: ৭/৫৩৬)

উল্লেখ্য, শিশুর জন্মের পর আকিকা দেওয়া ইসলামের একটি বিধান। প্রিয়নবী (স.) উম্মতকে নবজাতকের জন্য আকিকা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ পশু জবাই করো) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও।’ (বুখারি: ৫৪৭২)। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবীজির সুন্নতের অনুসরণে সন্তানের আকিকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

অ্যাসোসিয়েট পদে নিয়োগ দিচ্ছে সিপিডি, বেতন ৫৫ হাজার

print news

এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েট পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আবেদন করা যাবে আগামী ০৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)
পদের নাম: এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েট
পদ সংখ্যা : নির্ধারিত নয়
আবেদনের শেষ তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : https://cpd.org.bd/

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, যোগাযোগ বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: বাংলা এবং ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে (কথা বলা এবং লেখা)। এমএস অফিস পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে; বিশেষ করে ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট এবং ই-মেইল (মাইক্রোসফট আউটলুক)।
অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই, তবে সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকতে হবে।

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: ঢাকা অফিস ও দেশের যেকোনো জায়গায়
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
বেতন: ৫৫,০০০ টাকা (মাসিক)
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ঈশান/সুপ/খম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!