সোমবার- ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রকল্পের বরাদ্দ ভাগাতে চসিকের জনসংখ্যা কারসাজি

প্রকল্পের বরাদ্দ ভাগাতে চসিকের জনসংখ্যা কারসাজি
print news

চট্টগ্রাম মহানগরে কত লোক বসবাস করেন? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গিয়ে আপনাকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে! সরকারি হিসাব অর্থাৎ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে জনসংখ্যা ৩৪ লাখের বেশি নয়। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) শহরের জনসংখ্যা কখনো বলে ৬০ লাখ, কখনো ৭০ লাখ কখনো বা কোটির ঘরে নিয়ে যায়।

জনসংখ্যার এই গরমিল কেন— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চসিকের একাধিক প্রকল্পের নথি ঘেঁটে মিলেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। চসিকের কর্মকর্তারা এটিকে ‘সামান্য ভুল’ বলে দাবি করলেও জনসংখ্যা বেশি দেখানোর পেছনে খুঁজে পাওয়া গেছে নতুন এক রহস্য। সেটা হচ্ছে সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ বাগিয়ে নেয়ার কৌশল!

২০২২ সালের ১৫ জুন জনশুমারি ও গৃহগণনার কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছিলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূল্যায়নে জনশুমারি ও গৃহগনণার তথ্য উপাত্ত অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে। সেই বছরের পরের মাসেই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) “জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২” প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সেখানে প্রাথমিক প্রতিবেদনে চসিকের জনসংখ্যা দেখানো হয় ৩২ লাখ ২৭ হাজার ২৪৬ জন আর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ৩৪ লাখ। তবে জনসংখ্যার এই হিসাব মানে না খোদ চসিকই। তাইতো তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জনসংখ্যা দেখানো আছে সর্বশেষ জনশুমারির দ্বিগুনেরও বেশি, ৭৫ লাখ। ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ করা হয়েছে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই; তার মানে সর্বশেষ জনশুমারির এক বছর আগের হিসাব এটি। যদিও ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী চসিকের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ।

চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটির জনসংখ্যা ৩৪ লাখ? আমি মনে করি আমাদের চট্টগ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। আমার এটা যদি ভুল হয়, তাহলে ওদেরকে (বিবিএস) প্রমাণ করতে বলেন।’

ভুলটা কোথায় সেটি খুঁজতে গিয়ে চসিকের জনসংখ্যার হিসাবের ভিত্তি কী— তা জানার চেষ্টা করেও সিটি করপোরেশনের কোনো দপ্তর, কোনো কর্মকর্তা সদুত্তর দিতে পারেননি। ৭০ লাখ জনসংখ্যার স্বপক্ষেও কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেনি, আমরাও খুঁজে পাইনি। জনসংখ্যার সত্যতা যাচাইয়ে সিটি করপোরেশন এলাকার কোন ওয়ার্ডে কত লোক বাস করে সেই তথ্য জানতে চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের পর ‘নিজেদের কোনো পরিসংখ্যান নেই’ জানিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য সরবরাহ করে চসিক।

শুধু তাই নয়; নির্দিষ্ট একটি জনসংখ্যার হিসাবও দিতে পারেনি চসিক। নিজেদের ওয়েবসাইটে ৭০ লাখ জনসংখ্যার শহর বললেও প্রকল্প পাশ করাতে গিয়ে চসিক কখনো মানুষের সংখ্যা বেশি দেখায়, কখনো বা কম! অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একেক প্রকল্পে একেক ধরনের জনসংখ্যার হিসাব তুলে ধরছে সংস্থাটি। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছয়টি প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে চসিকের জনসংখ্যা নিয়ে গোঁজামিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ’প্রথমত আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব ঢাকার মতো না। পাহাড়-সাগর-নদী বেষ্টিত ৬০ বর্গমাইলের শহরে ৭০ লাখের বেশি মানুষ থাকে কী করে? তারা (চসিক) কোন হিসাবে ৭০ লাখ বলছে তা আমাদের জানা নাই। বছর বছর আমরা বিভিন্ন ম্যাথডে (পদ্ধতিতে) জরিপ কাজ চালাই বা চলমান আছে। জনসংখ্যা কোনোভাবেই ৩৪ লাখের বেশি হবে না।’

জনসংখ্যার সঠিক চিত্র খুঁজে পেতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম শহরে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারী মানুষের হিসাব চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ৫ বছরের ওপরে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৪ জন মানুষ করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। অর্থাৎ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা পাওয়া মানুষের হিসাবের সাথে পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া জনসংখ্যার হিসাব কাছাকাছি রয়েছে। পরবর্তীতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে একই তথ্য জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা জানায়— চসিক এলাকায় করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৫৬৭ জন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবপোর্টালে (http://data.un.org) ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার মোট জনসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৫০৭। তাছাড়াও জেলা নির্বাচন কমিশনের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্যমতে, চট্টগ্রাম শহরের ভোটার সংখ্যা ২০ লাখ ৬৭ হাজার।

আট মাসে জনসংখ্যা বেড়েছে ৪০ লাখ !

গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১৩টি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে আটটির কাজ শেষ হয়েছে এবং পাঁচটি চলমান। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭ হাজার ৬৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছয়টি প্রকল্পের নথি ধরে অনুসন্ধান চালানো হয়। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের নথিতে জনসংখ্যার ‘গোঁজামিল‘ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, একেক প্রকল্পে নিজেদের সুবিধামতো একেক ধরনের ‘জনসংখ্যা’ দেখিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে, মন্ত্রণালয় থেকে পাশ করিয়ে এনেছে সংস্থাটি।

২০১৬ সালের নভেম্বরে ৭১৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার নেয়া ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাসমূহের উন্নয়ন এবং নালা, প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ ও কালভার্ট এর নিমার্ণ/পুননির্মাণ’ নামের প্রকল্পটিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা দেখানো হয় ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৯ জন। অথচ ওই একই সময়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে ২৮ লাখ, যা সিটি কর্পোরেশনের হিসাবের চেয়েও প্রায় ৩৩ লাখ কম।

বিস্মিত হতে হয় ৮ মাস পরে নেয়া আরেকটি প্রকল্পের ডিপিপি দেখে! ২০১৭ সালের জুলাইতে নেয়া ৩৮২ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সেই প্রকল্পের নাম—‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন’। সেখানে চট্টগ্রামের জনসংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয় এক কোটি। অর্থাৎ মাত্র আট মাসের ব্যবধানে শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে ৪০ লাখ। ২০১৮ সালেও একইভাবে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ’ নামের প্রকল্পেও জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে প্রায় এক কোটি।

মজার তথ্য হচ্ছে, জনসংখ্যার এই হিসাব আবার কমিয়েও দেখিয়েছে চসিক। পরের বছর ২০১৯ সালেই সেটি ঘটেছে। ‘মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম অ্যাট ডিফারেন্ট এরিয়া আন্ডার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন’ নামের এই প্রকল্পে প্রায় ২৬১ কোটি টাকা খরচ করে শহরে এলইডি বাতি লাগানো হয়। প্রকল্পটির নথিতে দেখা যায়, শহরের জনসংখ্যা এক কোটি থেকে এক বছরে এক লাফে নেমে হয়েছে ৫০ লাখ। জনসংখ্যার প্রায় একই রকম হিসাব তুলে ধরা হয়েছে তিন বছর পরের ২০২২ সালের ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (সিআরআরপি)’ নামের আরেকটি প্রকল্পে।

স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন ওঠে এই দুটি প্রকল্পে লোকসংখ্যা কেন কম দেখালো চসিক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, প্রথম প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে ভারত সরকার পরেরটি বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পে চসিক জনসংখ্যা ‘বাড়িয়ে’ দেখালেও বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘বেশি বাড়িয়ে’ দেখায় না। অবশ্য ‘কমিয়ে দেখানো’র পরও এসব প্রকল্পের জনসংখ্যা সেই সময়ের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া হিসাবের চেয়ে প্রায় ১৫ লাখ বেশি ছিল।

২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চসিকের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পে শহরের জনসংখ্যার তথ্য যত দেখানো হয়। প্রকল্প প্রণয়নের সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা নিয়ে সিটি করপোরেশন কেন এমন চাতুর্য্যের আশ্রয় নেয়— এই প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল হুদা বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ, বিভিন্ন প্রকল্প এবং বাজেটের ক্ষেত্রে জনসংখ্যাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কারণ সরকারের দেওয়া প্রকল্পে এই তথ্যটা যাচাই-বাছাই করা হয় না। কেবলমাত্র বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে কোনো প্রকল্প নেওয়া হলে সেসময় জনসংখ্যা বা উপকারভোগীর তথ্য নিয়ে মাথা ঘামানো হয়। কারণ এ বিষয়ে তাদের (দাতা সংস্থার) শর্ত দেওয়া থাকে। এরপরও কিন্তু প্রকল্পে মনগড়া তথ্যের ব্যবহার করে সিটি করপোরেশন।’

শুধু একেক প্রকল্পে একেক রকমের জনসংখ্যা দেখানো নয়; একই প্রকল্পে দুই রকমের জনসংখ্যার হিসাব উপস্থাপনের নজিরও খুঁজে পাওয়া গেছে। যেমন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ৩৮২ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকার একটি প্রকল্পে নগরীর জনসংখ্যা অর্থাৎ প্রকল্পের সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী দেখানো হয়েছে এক কোটি— যা প্রকল্পের ডিপিপির ১৩ পৃষ্ঠার ১৫.৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। আবার এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৯ জন— যা উল্লেখিত রয়েছে ডিপিপির ৮৯ ও ৯০ পৃষ্ঠায়।

প্রকল্পে এমন ’ভুতুড়ে’ জনসংখ্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনসংখ্যার এমন বিশাল ভ্যারিয়েশন এই প্রথম আপনার কাছ থেকেই জানলাম। এর আগে জানতামই না। আমাদের লিডাররা বলতে বলতে হয়তো এমন হয়ে গেছে।’

যত মানুষ, তত লাভ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্তারা বাড়তি মানুষ দেখানোকে ‘ভুল’ বললেও সেটি ছিল ‘ইচ্ছাকৃত’ ভুল। বিষয়টি পরিস্কার হয় বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় করা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২৬৭ কোটি টাকার ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট’ (এলজিসিআরপি) নামের প্রকল্পটির দিকে তাকালে।

এই প্রকল্প থেকে কোতোয়ালী থানার আন্দরকিল্লার মোমিন রোডের, চেরাগি পাহাড় মোড় থেকে লালদিঘি মোড়ের দিকে যেতে ৭৬২ মিটার ফুটপাতের সংস্কারের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় চসিক। চান্দগাঁও থানা এলাকার মোহরা ওয়ার্ডের আরাকান রোডে, আরো কম দৈর্ঘ্যের ৭৩০ মিটার ফুটপাতের সংস্কারের জন্য একই তহবিল থেকে চসিককে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ কোটি টাকা।

একই ধরনের একই মাপের সংস্কার কাজে দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা বেশি খরচ হয়েছে শুধু জনসংখ্যার হিসাবের হেরফেরের কারণে! প্রকল্পে মোমিন রোডের ফুটপাত ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা দেখানো হয় ৩৮ হাজার ৪০৯ জন; অপরদিকে আরাকান রোডের ফুটপাত ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার দেখানো হয়েছে। কেবল এ দুটি সড়কের ফুটপাতই নয়, উন্নয়ন প্রকল্পের সবখাতেই জনসংখ্যার কম বেশির কারণে ব্যয়ের তারতম্য দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর প্রকল্প প্রণয়ন করো, আরেকদিকে অনির্ভরযোগ্য তথ্যের উপর প্রকল্প পাস করে দিচ্ছে। এভাবে প্রকল্প নেওয়াটাই অপরাধ, যা দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। এই অনিয়মের দায়-দায়িত্ব শুধু প্রকল্প প্রণেতার নয়, যারা অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত তাদেরও দায় দায়িত্ব আছে।’

যদিও ‘জনসংখ্যা নীতি ২০১২’ এবং ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকায়’ জনসংখ্যার সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও উপকারভোগী জনসংখ্যার ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং সেই তথ্যের উৎস সঠিকভাবে অর্ন্তভুক্ত করতে বলা হয়েছে; যা ওই নির্দেশিকার ১.১.৮.১ অনুচ্ছেদ, ১.১.৯ অনুচ্ছেদ এবং ১.১.১৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যার নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে কখনো ব্যবহার করেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

একটি উন্নয়ন প্রকল্পে মানুষের সংখ্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে কথা হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ (সওজ), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক এবং প্রকল্প পরিচালকসহ ১৫ জন প্রকৌশলীর সঙ্গে। তাঁদের প্রত্যেকেই রাস্তাঘাট নির্মাণ কিংবা অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা কম-বেশির ওপর বরাদ্দের বড় প্রভাব আছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে তাদের গাফিলতি। তাদের (চসিক) কোন তথ্যটা সত্য? ৭০ লাখ নাকি ১ কোটি? এখন ৭০ লাখের বেশি বলছে তা কোন সালের সার্ভে অনুসারে? পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যই হচ্ছে নির্ভরযোগ্য তথ্য। কারণ এটাই সরকারি তথ্য। দুই তিন বছর সময়ের ব্যবধানে ১০ শতাংশ এদিক সেদিক হতে পারে। চাইলেই তো কোন সংস্থা মনগড়া তথ্য দিতে পারেন না।’

ব্যতিক্রম শুধু চসিক

সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। নগরবাসীকে প্রত্যক্ষ সেবাদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান হলো চট্টগ্রাম ওয়াসা। তাদের কয়েকটি প্রকল্পের কাগজ-পত্র ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া জনসংখ্যার হিসাবকে ভিত্তি ধরে চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা দেখায় সংস্থাটি। ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পে (ফেজ-২) ২০১১ সালের আদমশুমারী তথ্য অনুসারে শহরের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘যেকোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি তথ্য ধরে কাজ হয়। সিটি করপোরেশনের জনসংখ্যার তথ্য নিয়ে আমাদের কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আমরাও পরিসংখ্যার ব্যুরোর তথ্য ধরে কাজ করি।’ তিনি আরো জানান, শহরের মানুষের সংখ্যা বা উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ে।

প্রকল্পে জনসংখ্যার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্যারামিটার’— এমন মন্তব্য করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল দীপ বলেন, ‘টেকনিক্যালি মনে হবে সরাসরি জনসংখ্যার ভূমিকা নেই কিংবা মাথাপিছু মানুষ গুণে প্রকল্প নেওয়া হয় না। কিন্তু সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু এই মানুষ বা জনসংখ্যা। জনসংখ্যাকে কেন্দ্র করেই কিন্তু সমস্ত প্রকল্প বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।’

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা সংস্থার মতো দেশের অন্য সিটি করপোরেশনও কি বাড়তি জনসংখা দেখিয়ে বেশি বরাদ্দ আনে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়িত দুটি প্রকল্পের নথি জোগাড় করা হয়। সেখানে দেখা যায়, পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরেই তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে বাকি ১০টি সিটি কর্পোরেশনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নগর-গবেষক, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের (সিইউএস) সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সব প্রকল্পে সিটি কর্পোরেশনের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মানা উচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘পরিকল্পনা কার জন্য? অবশ্যই জনগণের জন্য, এলাকার জন্য। একই কর্তৃপক্ষ তিনটা প্রকল্পে তিন রকমের জনসংখ্যা দেখালে হবে না। এটা যৌক্তিক না। প্রকল্প যারা অনুমোদন করে তাদের দায়িত্ব এসব চেক করা।’

তবে ভুল স্বীকার করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। যদিও তিনি দাবি করেন, ‘জনসংখ্যার সাথে প্রকল্প ব্যয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।’  তাহলে কেন একেক প্রকল্পে একেক ধরনের জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়- এমন প্রশ্নে তিনি কিছুটা বিব্রত হয়ে বলেন, ‘ভুলটা সিটি কর্পোরেশনের না। যারা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট করেছে তাদের। এই দায় আমরা নেবো কেন?’

ফিজিবিলিটি স্টাডির অনুমোদন আপনার হাতেই হয়ে থাকে – এটা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর তিনি বলেন, ‘প্রকল্প নেবো কি নেবো না, সেটার জন্য মানুষের সংশ্লিষ্টতা আছে। প্রকল্প নিয়ে ফেললে মানুষের বিষয় আসতেছে না। তখন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন অনুযায়ী যা আসবে তাই খরচ হবে। এটা সামান্য ভুল। আসলে মূল হচ্ছে ফিজিবিলিটি স্টাডি। ডিপিপি ভুল হইতে পারে।’

কিন্তু ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রতিবেদনেও যে অসঙ্গতি আছে সেই নথি দেখালে তিনি আবারও সুর পাল্টে বলেন, ‘যারা স্টাডি করেছে তারাই বলতে পারে। আমরা থার্ড পার্টিকে টাকা দিয়ে করাই। আমরা নিজেরা যাচাই-বাছাই করি না। এটার দায় কনসালটেন্ট ফার্মের, আমাদের না।’’

কোন কনসালটেন্ট ফার্মের মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছেন সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে এড়িয়ে যান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনকে দেখিয়ে দেন।

ভূতুড়ে জনসংখ্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরবর্তীতে ডিপিপি প্রণয়নকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার কথা অনুযায়ী এটা অনিয়ম। কিন্তু ডিপিপি কীভাবে তৈরি করে তা আমার জানা নেই। আমার সময়ে হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে তারা কোন তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প নিয়েছেন। এই মুহূর্তে টু দি পয়েন্ট উত্তর দিতে পারছি না।’

চসিকের ডিপিপি মাস্টার প্রকৌশলী জসীম!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এখন প্রায় সব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করেন পুরকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন। ২০১৩ সাল থেকে চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করেছেন এ কর্মকর্তা। শহরের জনসংখ্যার হিসাবে যে গোঁজামিল আমরা খুঁজে পেয়েছি, সেই ডিপিপিগুলো এই কর্মকর্তারই তৈরি করা।

প্রতিটি প্রকল্প নেওয়ার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। অথচ এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই ‘মনগড়া ফিজিবিলিটি স্টাডির তথ্য’ দিয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে প্রকল্প পাস করিয়ে আনার কারণে চসিকে তার ক্ষমতার দাপটও বেশি।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগের এক নির্বাহী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২০০৬ সালে সড়ক পরিদর্শক হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পান তিনি (জসীম উদ্দিন)। এরপর ২০০৯ সালে বিভাগের ১১ সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে তাকে বানানো হয় নির্বাহী প্রকৌশলী। উনি যে মন্ত্রণালয়ে টাকা দিয়ে প্রকল্প পাস করাই আনে সেটা এখানে ওপেন সিক্রেট। সবাই জানে। উনাকে ডিপিপি মাস্টার ডাকা হয়। ’

এছাড়া জসীম উদ্দিন ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক পদের দায়িত্বে আছেন। এটি চসিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এতে খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে চার মাস ধরে তদন্ত-অনুসন্ধান চালিয়ে এই প্রকৌশলী ও তাঁর স্ত্রীর নামে আয়বহির্ভূত বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণও পেয়েছে। গেলো মাসে শেষ করা দুদকের সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি সিভয়েস ২৪-এর হাতেও এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জসীম উদ্দিনের প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক।

এই প্রতিবেদন করতে গিয়ে কয়েক দফা নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের সাক্ষাৎকার চাওয়া হয়। কোনভাবেই তিনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাচ্ছিলেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও সাক্ষাৎ দেননি। গত ২৫ জানুয়ারি দুপুরে তার রুমের সামনে জসীম উদ্দিনের দেখা পেলে সরাসরি সাক্ষাৎকার চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদকের মুখোমুখি না হয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে রাখেন তিনি। ২৫ মিনিট অপেক্ষার পরে এক পর্যায়ে রুম থেকে বের হন এই প্রকৌশলী।

‘ভূতুড়ে’ জনসংখ্যার প্রসঙ্গ টেনে তাকে প্রশ্ন করতেই তিনি তড়িঘড়ি করে সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলেন, ‘চিফের সঙ্গে কথা বলে দিবো। এখন দিতে পারবো না। আপনি পরে আসেন। এ বিষয়ে চিফের সঙ্গে কথা বলেন।` সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি আবারও চসিকে তার মুখোমুখি হলে তিনি ‘মিটিং আছে’ বলে এড়িয়ে যান।

যাদের দেখার কথা তাঁরাই ঘুমে!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শহরের জনসংখ্যার সংখ্যা নিয়ে নয়ছয় করে তা পরিকল্পনা কমিশনেরও অজানা নয়! সাত বছর আগে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় চসিকের জনসংখ্যার হিসাবে গোঁজামিল ধরা পড়ে। ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাসমূহের উন্নয়ন এবং নালা, প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ ও কালভার্ট এর নিমার্ণ/পুননির্মাণ’ নামের প্রকল্পের যে ডিপিপি চসিক তৈরি করে সেটিতে প্রথমে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা দেখানো হয় ৯২ লাখ ১০ হাজার। পিইসি’র আপত্তির মুখে ডিপিপি সংশোধন করে চসিক সেই প্রকল্পের জন্য শহরের জনসংখ্যা দেখায় ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৯ জন। যদিও সংশোধন করার পরের তথ্যও ছিল ভুল। তবে এই ঘটনার পর থেকে সিটি করপোরেশন নতুন ‘কৌশল’ নেয়। ডিপিপি’তে আলাদাভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা না দেখিয়ে একেবারে মোট জনসংখ্যা বা উপকারভোগীর সংখ্যা দেখানো শুরু করে।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইনকে ডিপিপি’তে চসিকের মনগড়া জনসংখ্যার হিসাব তুলে ধরার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটার দায়-দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। স্থানীয় সরকার বিভাগেরও দেখা উচিত। আর আমাদেরও দায়িত্ব আছে। তবে প্রকল্প অনগোয়িং (চলমান) হওয়ার পর আমরা মনিটরিং করি। সেক্ষেত্রে শুরুতেই দেখে পরিকল্পনা কমিশন। তাদের অনুমোদনের পরে দেখার বিষয় থাকে। আমি আসার পরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোনো প্রকল্প এখনো অনুমোদন করিনি। পরবর্তীতে এই বিষয়টা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখবো।’

একই বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন , ‘এটা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমরা এসব দেখিনা। আমার কথা বলারও কিছু নাই। যদি স্পেসিফিক কিছু থাকে বলতে পারেন তাহলে আমাদের জন্য হেল্পফুল হবে।’

জনসংখ্যার ভুল তথ্য বড় অনিয়ম উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে একটা শুভংকরের ফাঁকি ও সুক্ষ্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতি করা হচ্ছে। যারা এর সাথে জড়িত,তারা যেহেতু কোনো না কোনোভাবে প্রভাবশালী, ফলে নির্বিকারভাবে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে। যেহেতু একই কর্তৃপক্ষ তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের জনসংখ্যার তথ্য দেখিয়েছে, এ থেকে খুবই সহজে অনুমেয় যে এখানে দুর্নীতি হয়েছে।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ— ২০২৩ এর আওতায় প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।  

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

print news

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস বিভাগ অফিসার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

পদের নাম: অফিসার
বিভাগ: কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন ২০২৪

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিসের সাথে প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ জুন ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

print news

মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৬তম গ্রেডে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে ২০৯ জনেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১২ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সমাজসেবা অধিদপ্তর
পদের নাম: সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
পদসংখ্যা: ২০৯টি
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
গ্রেড: ১৬ তম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

চাকরির ধরন: সরকারী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
কর্মস্থল: ইউনিয় পর্যায়ে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১২ জুন ২০২৪

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

print news

সকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

পদের নাম: প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফার্মেসিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এমবিবিএস ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: ফার্মাসিউটিক্যালসে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী পারফরম্যান্স এবং উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আরো সুবিধা।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

print news

র্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-সম্পাদক পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ঢাকা পোস্ট
পদের নাম: সহ-সম্পাদক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর (সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ অগ্রাধিকার) ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: অনুবাদে দক্ষতা, সংবাদ লেখা ও ডেস্ক রিপোর্টিং এবং ফটোশপ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চাকরির খবর : ঢাকা পোস্ট জবস
আবেদন শুরুর তারিখ : ১১ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২১ জুন ২০২৪
লোকবল নিয়োগ: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: অভিজ্ঞতা অনুসারে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার,পরিবহন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে সিভি পাঠাতে হবে hr@dhakapost.com- এই ঠিকানায়।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

এইডস আক্রান্ত নিয়ে যা বললেন মমতাজ

print news

য়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, এইডস আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। বিষয়টি নজরে পড়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের। বেশ বিব্রত তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন তা।

মমতাজ বলেন, ‘শুনলাম, আমার নাকি এইডস হয়েছে! বিষয়টি বিব্রতকর। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ ও খুব ভালো আছি। আর সে কারণেই স্টেজ শো নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে পারছি। ঈদের পরও দেশের বাইরে যাচ্ছি। যারা এসব মিথ্যা কিংবা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বলেন, যারা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বলব, এগুলো ভালো না, ভালো পথে থাকেন। আর আমার ভক্তদের বলব, এসব গুজবে কান দেবেন না। সবার দোয়ায় আপনাদের মমতাজ অনেক অনেক ভালো আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর দিন আবার স্টেজ শোতে অংশ নিতে দুবাই যাচ্ছি। গান গাওয়ার পাশাপাশি সেখানের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও অংশ নেব। সব শেষ করে চলতি মাসের ২৩-২৪ তারিখে দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে।’

কদিন আগে ‘বুঝলে নাকি বুঝপাতা’ শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয় মমতাজের। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকার নাতনি। গানটি নিয়ে মমতাজ বলেন, ‘মজার ছলেই গানটি কণ্ঠে তোলা। আমার সঙ্গে নাতনি মোমধুও দারুণ গেয়েছে। নাতনিকে নিয়ে তিন-চারদিন আগে ঘুরতে গিয়েই গানটি গাইলাম। তখন এটি ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করি। এটি যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে তা বুঝিনি।

একটা বার্তাও দিতে চেয়েছি। একদল মানুষ আমার নামে মিথ্যা ও গুজব ছড়াচ্ছে। যাদের বোঝার তারা ঠিকই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আর কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে এখনও দোটানার মধ্যে আছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই গানটি গাওয়া।’

ঈশান/মখ/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে যুবকের ছবি ভাইরাল, খুঁজছে পুলিশ

print news

ট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আধিপত্য ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দু‘পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে।

সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের ছবি আমার নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তবে এ ঘটনায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মনসা বাদামতল এলাকায় সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার বিকালে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি মো. ফোরকানের সঙ্গে স্থানীয় মহিউদ্দিন ও এরফানের মারধরের ঘটনা ঘটে। ফেরকানকে মারধরের খবর পেয়ে তার গ্রামের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল বাদামতল মোড়ে এলে দু‘গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ও টিনের দরজা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি পটিয়া উপজেলার এনাম নামে এক যুবকের। তার বাড়ি উপজেলার জঙ্গলখাইন গ্রামে বলে জানান স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, পটিয়ায় অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ি থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক এক হাজার টাকা এবং দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ন্ত্রকরা। এতে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়। এ চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি ফোরকান বলেন, স্থানীয় মহিউদ্দিন সিএনজির চালক বা মালিক না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সমিতির নামে প্রত্যেক সিএনজি থেকে দীর্ঘদিন ধরে সে তাহের নামের এক চালককে দিয়ে চাঁদা তুলে আসছিল। এ নিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।  

ঈশান/খম/সুম

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

print news

তেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ড পোট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এই অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল মায়ের্কস দাবাও নামের একটি কন্টেনার ভ্যাসেলের অপারেশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে বন্দরের সকল কার্যক্রম নজরদারি করি। আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশাল কার্যক্রম পরিচালনা করলো। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে দায়িত্ব পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পিসিটি পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে আমি আশা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, বন্দরে আজকে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ লোড করার মাধ্যমে আমরা আত্নপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করবো, আগামীতে সকল অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাবো।

বন্দরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পিসিটি দিয়ে মায়েরস্ক দাভাও নামে একটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং করল। ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্যালাং থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর পিসিটিতে প্রায় ৮০০ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার ওঠানামা করে পরবর্তী গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এ টার্মিনাল বছরে ৬ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। ১০ মিটার গভীরের জাহাজ ভিড়তে পারবে। তবে মায়ের্কস দাবাও নামের জাহাজটির ড্রাফট ৯ মিটার। প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) সঙ্গে মাস ছয়েক আগে চুক্তি হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে রেড সি গেটওয়ে বাংলাদেশ লিমিটেড শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো অপারেশনে আসা জাহাজটিতে খালি কন্টেইনার লোড করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, আরএসজিটিআই বাংলাদেশে কনটেইনার টার্মিনাল খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এর ফলে টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করার করার ক্ষমতা থাকবে।

আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবের শীর্ষ স্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর। যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত, যেটি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বার্ষিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়ের ব্যবধানে বন্দরে পণ্য কিংবা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্প। ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত ১৪ নভেম্বর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এরপর ডিসেম্বরের এটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরসিজিটিকে।

এই টার্মিনালে রয়েছে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ছয় মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং।

যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে এই টার্মিনাল অপারেশনে গেলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

ঈশান/মখ/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!