সোমবার- ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সহজ ম্যাচ কঠিন করেই জিতল বাংলাদেশ

print news

শামীম পাটোয়ারীর সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। সেই ক্যাচ মিস যেন বাংলাদেশের জয়েরই ইঙ্গিত! কিন্তু শেষ ওভারে করিম জানাতের হ্যাটট্রিক। সহজ ম্যাচটি হয়ে পড়ল পাহাড়সম কঠিন। সেই পাহাড় ভাঙল শরীফুলের হাঁকানো চারে। টাইগাররাও নাটকীয় ম্যাচটি জিতল ২ উইকেটে।

হৃদয়ের সেই ছয়ের পর পঞ্চম বলে শুয়ে পড়ে স্কুপ করে চার মেরেছেন শামীম। ফারুকির স্লোয়ার পড়েছেন দারুণভাবে। শেষ বলে হয়তো সিঙ্গেলই হতো, তবে হৃদয়-শামীমের দুর্দান্ত রানিংয়ে সেটিই হয়েছে দুই। জয়ের বন্দর তখন খুব নিকটে। কিন্তু এরপরই শামীমের উইকেটে আঘাত রশিদ খানের। দুর্দান্ত খেলতে থাকা শামীমকে ৩৩ রানে (২৫ বল) ফিরিয়েছেন এই লেগ-স্পিনার।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ৬ রান। এরই মধ্যে ওভারের কোটা পূরণ করে ফেলেছিলেন রশিদ-মুজিব ও ফারুকিরা। তাই তো শেষ ওভারে আক্রমণে আসেন করিম জানাত। প্রথম বলেই অফ-স্টাম্পের বাইরের বলকে চারে পরিণত করেন মেহেদী মিরাজ।

এরপরই নাটকীয়তা, মাত্র ২ রানের বাধা পেরোতেও তিনি যেন তাড়াহুড়োই করলেন। এরপর ওয়াইড বলে ব্যাটের কানা লাগিয়ে কট বিহাইন্ড তাসকিন আহমেদ। অপর পাশে অসহায় দৃষ্টি হৃদয়ের। এরপর? জানাতের শট বলকে পেছনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে থার্ডম্যানের হাতে ধরা নাসুম।পরপর তিন বলে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশের পক্ষে ওভারের পঞ্চম বলে চার হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন পেসার শরিফুল ইসলাম।

আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ১৫৪ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশে পরে ৮ উইকেট হারিয়ে ১ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে। এই জয়ে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৪ জুলাই) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এর আগে আফগান বধের ভিত্তিটা রচনা করেছিলেন দুই তরুণ তৌহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী। আফগানদের ১৫৪ রানের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

দলীয় ৬৪ রানেই একে একে ফিরে যান রনি তালুকদার, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসান। ম্যাচে তখন আফগানিস্তান পরিস্কার ফেভারিট। সেখান থেকেই তৌহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারীর ঘুরে দাঁড়ানো। আফগান স্পিন সামলে একটু একটু করে এগিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৪৩ বলে ৭৩ রান তোলেন দুজন।

১৮তম ওভারে শামীম রশিদ খানকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন ২৫ বলে ৩৩ রান করে। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৪টি। তারপরও ম্যাচে বাংলাদেশই ছিল পরিস্কার এগিয়ে। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকে সহজ সমীকরণটা কঠিন ভাবে মিলিয়ে জিততে হলো বাংলাদেশকে।

তৌহিদ হৃদয় ৩২ বলে ৩টি চার ২টি ছয়ে ৪৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত। জাতীয় দলে আসার পর থেকেই দারুণসব দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে যাচ্ছেন তরুণ হৃদয়। এর আগে আফগানদের অল্পতে থামাতে না পারলেও শুরুতে দারুণ বোলিং করেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাসুম আহমেদের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে তৌহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই। আইপিএল খেলে আসা রহমতউল্লাহ গুরবাজ অপরপ্রান্তে বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। গুরবাজকে অবশ্য বেশিদুর এগুতে দেননি তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের লেগের দিকে টেনে দেওয়া বলে বড় পুল শট খেলতে গিয়ে সীমানায় ধরা পরেছেন গুরবাজ। ফেরার আগে আফগান ওপেনার ১১ বলে করেন ১৬ রান। খানিক বাদে ইব্রাহিম জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ৩২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

করিম জানাতকে নিয়ে এরপর আফগানদের টানছিলেন মোহাম্মদ নবি। এই নবিই সবচেয়ে বড় ভূমিকাটা রেখেছেন আফগানদের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে। করিম জানাত খুব বেশিদূর এগুতে পারেননি। ৯ বলে ৩ রান করে সাকিবের আর্ম বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন করিম। এরপর নাজিবুল্লাহ জাদরান ও আজমতউল্লাহ ওমরজায়ের সাথে দারুণ দুটি জুটি গড়ে তোলেন নবি।

নাজিবুল্লাহ কিছুটা ধরে খেলেছেন। তিনি ২৩ বলে ২৩ করে ফেরার পর আজমতউল্লাহ রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন। শেষ দিকে মাত্র ১৮ বলে ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ রান করেছেন আজমতউল্লাহ। মোহাম্মদ নবি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪০ বলে ৫৪ রান করে। তার ইনিংসে চার ৬টি, ছক্কা ১টি।

বাংলাদেশের পক্ষে ২৭ রানে দুই উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান সবচেয়ে সফল বোলার। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

print news

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস বিভাগ অফিসার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি

পদের নাম: অফিসার
বিভাগ: কল সেন্টার, অলটারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১০ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন ২০২৪

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিসের সাথে প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ জুন ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে নিয়োগ

print news

মাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৬তম গ্রেডে সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদে ২০৯ জনেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ১২ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : সমাজসেবা অধিদপ্তর
পদের নাম: সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
পদসংখ্যা: ২০৯টি
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
গ্রেড: ১৬ তম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

চাকরির ধরন: সরকারী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
কর্মস্থল: ইউনিয় পর্যায়ে

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৪
আবেদন শুরুর তারিখ : ১২ জুন ২০২৪

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪  

ঈশান/খম/সুম

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

এসকেএফ ফার্মায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

print news

সকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১০ জুন থেকেই আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

পদের নাম: প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফার্মেসিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এমবিবিএস ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: ফার্মাসিউটিক্যালসে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৪

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী পারফরম্যান্স এবং উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আরো সুবিধা।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক পদে চাকরি

print news

র্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-সম্পাদক পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত।

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম : ঢাকা পোস্ট
পদের নাম: সহ-সম্পাদক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর (সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ অগ্রাধিকার) ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: অনুবাদে দক্ষতা, সংবাদ লেখা ও ডেস্ক রিপোর্টিং এবং ফটোশপ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

চাকরির খবর : ঢাকা পোস্ট জবস
আবেদন শুরুর তারিখ : ১১ জুন ২০২৪
আবেদনের শেষ তারিখ : ২১ জুন ২০২৪
লোকবল নিয়োগ: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: প্রযোজ্য নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: অভিজ্ঞতা অনুসারে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুযোগ সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, দুপুরের খাবার,পরিবহন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা রয়েছে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে সিভি পাঠাতে হবে hr@dhakapost.com- এই ঠিকানায়।
আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২৪

ঈশান/খম/সুম

কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে!

সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার সেই বিজ্ঞাপন!

print news

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই মুসলিম বিশ্বে কোনঠাসা হয়ে পড়ে কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলা। বাংলাদেশ একই অবস্থা। বড় একটি অংশ বয়কট করেছে পানীয়টি।

সম্প্রতি এ পানীয়ের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে বলা হয় কোকা-কোলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিবাদ।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর থেকে কোকা-কোলার ইউটিউব চ্যানেলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিজ্ঞাপনটি। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ। এদিকে কোকা-কোলা বিবৃতি না দিলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন এবং অভিনয়শিল্পী শিমুল শর্মা।

জীবন লিখেছেন, ‘এখানে আমি কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ নেইনি এবং আমি কখনওই ইসরায়েলের পক্ষে নই। আমার হৃদয় সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং মানবতার পাশে আছে, থাকবে।’

অন্যদিকে শিমুল ক্ষমা চেয়েছেন। তার কথায়, ‘আমি ভবিষ্যতে কোনো কাজে অভিনয় করতে গেলে অবশ্যই আমাদের দেশের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, মানুষের মনোভাবকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বিবেচনা করে তারপর কাজ করব। আমি মাত্র আমার জীবনের পথচলা শুরু করেছি, আমার এই পথচলায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ভবিষ্যতে একজন বিবেকবান শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য শুভ কামনায় রাখবেন।’

ঈশান/খম/সুপ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম শিপিং করপোরেশনে চাকরি করছেন নুরনবী

print news

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) ১৯৯০ সালের ১৮ মার্চ গাড়িচালক পদে যোগ দেন নূর নবী । ওই সময় দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ তাঁর জন্মতারিখ। সে হিসাবে অবসরে যাওয়ার কথা গত বছরের ২৩ মার্চ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও অবসরে যাওয়ার নাম নেই। চাকরি করতে চান আরো ৪ বছর। তাই বদলে ফেলেছেন নিজের জন্মসাল!  তবে ধরা পড়ে তার এই জালিয়াতি। বাঁচতে ছুটে যান আদালতে। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।

এতোকিছুর পরও তিনি বহাল তবিয়তে। অবসরের বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও কর্মস্থলে বহাল থাকায় নূর নবীর বিরুদ্ধে প্রথম সুর তুলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)। ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগের ফিরিস্তি লিখে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঠান সিবিএ নেতারা। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ওই অভিযোগের সূত্র ধরেই মন্ত্রণালয়ের ‘ডাকে’ মূলত টনক নড়ে শিপিং করপোরেশনের।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গাড়িচালক মো. নূর নবী ৫৯ বছর বয়স পূর্তির পর অবসরে না গিয়ে কীভাবে সংস্থার চাকরিতে বহাল রয়েছেন স্পষ্ট করতে তার যোগদানের সময় আবেদনপত্রে উল্লেখিত বয়স, সপক্ষে দাখিলকৃত সকল প্রমাণপত্র এবং সার্ভিসবুকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র পাঠানোর অনূরোধ করে মন্ত্রণালয়।

এর দুদিন পর ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের চাওয়া কাগজপত্র পাঠায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সেখানে গাড়িচালক মো. নূর নবী তার জন্মতারিখ ২ মার্চ ১৯৬৪ এর পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ দেখান। চাকরিতে বহাল থাকার সপক্ষে বয়স কমিয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করেন।

তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনযোগ্য নয় জানিয়ে ‘২ মার্চ, ১৯৬৪’ জন্মতারিখ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে অবসরের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাংদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে তাঁর ‘ভালোবাসা’ টিকেনি। ফলে তিনি শিপিং করপোরশেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চিঠি ইস্যুকারী উপ-সচিবের বিরুদ্ধে যান শ্রম আদালতে।

মন্ত্রণালয় এবং শিপিং কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ দাবি করে আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চান গাড়িচালক নূর উদ্দীন। তবে আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে টের পান চাকরি টেকাতে তাঁর চতুরতার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি।

গত চার বছর যাবত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশরে (বিএসসি) নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্তের গাড়ি চালান নূর নবী। বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অফিসের কাজের বাইরে ‘স্যার-ম্যাডামের’ গাড়ি চালিয়ে প্রিয়পাত্র বনে যান গাড়িচালক নূর নবী। তাইতো বয়স জটিলতা থাকলেও ১৮ লাখ টাকা ঋণ পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নূর নবীকে। আবেদনের ২ দিনের মাথায় সেখানে সুপরিশ করেন বিভাগীয় প্রধান ড. পীযূষ দত্ত। তার একদিন পরই অনুমোদন হয়ে যায় ঋণ আবেদন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) বিভাগ থেকে ডিপিএ অ্যান্ড সিএসও বিভাগে বদলি করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ওই বদলির অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে তাকে আঁকড়ে রাখেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চাওয়াতেই মো. নূর নবী এখনও তার গাড়ি চালাচ্ছেন।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী পরিচালক ড. পীযূষ দত্ত। তিনি বলেন,‘চাকরিতে বহাল কিংবা পদায়নের যেকোনো বিষয় দেখে প্রশাসন বিভাগ। আমার গাড়ি চালানোর জন্য একজন গাড়িচালক পদায়ন করে প্রশাসন বিভাগ। আমার একজন ড্রাইভার দরকার সে হিসেবে নূর নবী আছে এখন। তাকে আমার এখানে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর তার চাকরির বিষয় ভালো মন্দ যেকোনো বিষয় প্রশাসন বিভাগ জানে, তারাই ভালো বলতে পারবেন। চাকরি থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। এটা প্রশাসন বিভাগ এবং এমডি স্যার জানেন।’

বদলি আদেশ হলেও না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়িচালক নূর নবী হতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। যেকোন একজন গাড়ি চালক হলেই হবে আমার। কাল থেকে নূর নবীকে প্রশাসন বিভাগ আমার গাড়িচালক না দিলেও আমার আপত্তি নেই, কিছু বলার নেই।’

এদিকে মন্ত্রণালয় এবং শ্রম আদালতের রায়ের পরেও কেন গাড়িচালক মো. নূর নবীকে অবসরে পাঠানো যায়নি সে বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওযার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আদেশ আসার পর সেই আদেশকে বেআইনি দাবি করে শ্রম আদালতে মামলা করেন গাড়িচালক মো. নূর নবী। মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও শুনানি চলমান রাখার আদেশ দেন। সেজন্য তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পরপরই গাড়িচালক মো. নূর নবী উচ্চ আদালতে গিয়ে আবারও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বদলি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বিভাগ তার বদলি আদেশ করলেও তাকে নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) ড. পীযুষ দত্ত স্যার তখন ছাড়েননি। তিনি তো আমাদের সিনিয়র। তিনি তখন বলেছিলেন কিছুদিন পর ছাড়বেন। পরবর্তীতে তিনি কেন ছাড়েননি সেটি আমার জানা নেই। আমার নিজের বদলি হয়ে যাওয়ার এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাড়িচালক মো. নূর নবী বলেন, ‘এসিআরে কয়েক জায়গায় ভুলবশত ১৯৬৮ এর জাযগায় ১৯৬৪ লেখা। তবে আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে, আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। আমার জন্ম ১৯৬৮ সালে সেটি সুপ্রিমকোর্টে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এভাবেই চলছে। এটা এখনও চলমান মামলা। তাই এ বিষয়ে আমার এর বেশি বলা ঠিক হবে না। এমডি স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি আর কিছু বলবো না।’

গাড়িচালক মো. নূর নবীর বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজিয়া পারভীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কিছু জানা নেই।’

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কারসাজি করে প্রতিমাসে নিচ্ছে বেতন-বোনাস :

বয়স নিয়ে কারসাজি করে চাকরিতে বহাল থেকে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ লাখ টাকার বেশি পাচ্ছেন গাড়িচালক নূর নবী। শিপিং কর্পোরেশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তার এতদিনে অবসরে যাওয়ার কথা। যেহেতু তিনি চাকরিতে বহাল থেকে বেতন বোনাসসহ বিভিন্ন ভাতা ভোগ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি আদালতের মাধ্যমে তার জন্মসাল ১৯৬৪ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে কি হবে?

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যক্তি যতটাকা বাড়তি ভোগ করেছেন সেগুলো ফেরত তো নেয়া হবেই পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। নিজের বয়স জালিয়াতি এবং অসত্য কাগজপত্র দাখিল করায় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে শিপিং কর্পোরেশনের।

এছাড়া তার আনুতোষিক ও অবসর ভাতা থেকে বাড়তি ভোগ করা অর্থ কেটে রাখার সুযোগ আছে। আদালতে গাড়িচালক নূর নবী হেরে গেলে তার বিরুদ্ধে শিপিং কর্পোরেশন আবার মামলা করতে পারবে। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকবে ততদিন তিনি আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না।

ঈশান/খম/সুম

বম্বে সুইটসে চাকরির সুযোগ

বম্বে সুইটসে চাকরির সুযোগ

print news

বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে ‘ডেপুটি ম্যানেজার/ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম : ডেপুটি ম্যানেজার/ম্যানেজার

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা : কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ACA/CA CC বা সমমানের যেকোনো FMCG কোম্পানিতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং কমপ্লায়েন্সে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রার্থীর বয়সসীমা : সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩৫ বছর

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

চাকরির ধরন : ফুলটাইম

চাকরির স্থান : ঢাকা

বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা : প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বছরে দুটি উৎসব বোনাস ও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

আগ্রহী প্রার্থীরা এই লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে ও নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ সময় : ১৯ জুন ২০২৪।

ঈশান/মখ/সুপ

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

print news

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটিতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। আর বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন টাইগার বোলাররা।

তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমান-রিশাদ হাসানদের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানেই আটকে দেয় লাল-সবুজের দল। এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে অবশ্য শুরুটা ভালো করতে পারেননি দুই টাইগাররা ওপেনার। ব্যর্থ হন শান্তও।

তবে দলের হাল ধরেছিলেন তাওহীদ হৃদয়-লিটন দাস। এ দুজনের ব্যাটেই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও হৃদয়-লিটনের ৬৩ রানের জুটির সুবাদেই ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের দেয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সৌম্য। ব্যাটিং ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য রান করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সৌম্য সরকার। ধনঞ্জায়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন তিনি।

এরপর টাইগারদের আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন তরুণ তামিম। নুয়ান তুষারার বলে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড আউট হন এই ওপেনারও। ফলে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত। দু‘জন মিলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এরপর ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন শান্ত।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুষারার বলে আসালাঙ্কার মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার অধিনায়ক। শান্তর বিদায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন-হৃদয় জুটি। এ দুজন মিলে লঙ্কান বলারদের দেখেশুনে খেলে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে লিটন ধরে খেললেও অপরপ্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন হৃদয়।

তবে দলীয় ৯১ রানে হাসারাঙ্গার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন হৃদয়। তবে ফেরার আগে ৪ ছয় ও এক চারে ২০ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এদিকে হৃদয় ফেরার পর আউট হন লিটনও। এরপর একে একে আউট হন সাকিব আল হাসান এবং রিশাদ হোসেন ও তাসকি আহমেদ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের শঙ্কা লাল-সবুজের দলে।

তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের স্বাদই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেট কিলার খ্যাত এই ফিনিশার উনিশতম ওভারে দাশুন শানাকার করা প্রথম বলে ৬ মেরে চাপমুক্ত করেন দলকে। এরপর একই ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ী করেন তিনি। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

এর আগে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্ত আজ শুরুতেই বল হাতে তুলে দিয়েছিলেন তরুণ তানজিম সাকিবকে। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ওভারে ১৩ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। তাসকিন আক্রমণে আসেন ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। তাঁর করা ওভারের প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান কুশল মেন্ডিস।

তবে তৃতীয় বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের বলে বোল্ড হয়ে লঙ্কান অধিনায়ক ফিরেন ৮ বলে ১০ রান করে। এরপর ক্রিজে নিশাঙ্কার সঙ্গী হন কামিন্দু। কামিন্দুকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন নিশাঙ্কা। আজ আগ্রাসী মেজাজেই ছিলেন তিনি। পঞ্চম ওভারে সাকিবের বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ফলে শুরুতেই এক উইকেট হারালেও রান বাড়তে থাকে লঙ্কানদের।

তবে পরের ওভারেই লাগাম টেনে ধরেন মোস্তাফিজ। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান কামিন্দু মেন্ডিসকে। এরপর নবম ওভারে তাঁর বলে আউট হয়েই ফিরতে হয় নিশাঙ্কাকেও। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেছেন ২৮ বলে ৪৭ রান।

এরপর ধনঞ্জায়া ডি সিলভাকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। তবে ১৫ তম ওভারের প্রিওথম বলেই রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাকিবের মুঠোবন্দী হন আসালাঙ্কা। ১৯ রান করে লঙ্কান এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে ডি সিলভার সঙ্গী হন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তবে লঙ্কান অধিনায়ককে থিতু হওয়ার সুযোগই দেননি রিশাদ। ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাসারাঙ্গাও ফিরেন সৌম্য সরকারের মুঠোবন্দী হয়ে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে এরপর চাপএ পড়ে ১৭তম ওভারেই। নিজের শেষ ওভারে রিশাদের করা বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করতে চেয়েছিলেন ডি সিলভা। তবে মিস করেন তিনি। এই সুযোগে বল লুফে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

এরপর লঙ্কানদের আরও দুইটি উইকেট তুলে নেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে ১২৪ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিশাদ ও মোস্তাফিজ।

ঈশান/খম/সুম

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!