শুক্রবার- ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রচ্ছদ /

আইপিএলের মাঝপথে ফিরে এসেছে লিটন

print news

আইপিএলের চলতি আসরে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছিলেন টাইগার উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে যদিও আইপিএল অভিষেকটা সুখকর হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ শুক্রবার) দেশে ফিরলেন টাইগার এই ব্যাটার।

কলকাতা দলের মিডিয়া বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘২৮ এপ্রিল, শুক্রবার, জরুরি পারিবারিক কারণে লিটন দাসকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হয়েছে। এই কঠিন সময় পেরিয়ে যেতে তার ও তার পরিবারের জন্য আমাদের শুভকামনা।

এদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট থাকায় আইপিএলের শুরু থেকে খেলতে পারেননি। তবে কলকাতা শিবিরে যোগ দেওয়ার পর পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মোটে এক ম্যাচে। অভিষেক ম্যাচের অভিজ্ঞতাও সুখকর হয়নি টাইগার ব্যাটারের। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বাজে উইকেটকিপিংয়ে কেকেআর সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।

ওই ম্যাচের পরই লিটনের চলতি আইপিএল অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন অনেকেই। অবশ্য খুব বেশি খেলার সুযোগও পেতেন না। আগামী মে মাসের ৫ তারিখ ইংল্যান্ডের চোমসফোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা ছিল লিটনের। তার আগেই আজ দেশে ফিরে এসেছেন লিটন। এবারের মতো শেষ হলো লিটনের আইপিএল যাত্রা।

আরও পড়ুন

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ

print news

নিউইয়র্কের রহস্যময় উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে রেখেছিল। লক্ষ্যটাও খুব বেশি ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে হারলো বাংলাদেশ। 

সোমবার (১০ জুন) নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের লো স্কোরিং ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাদার ওপর চড়াও হয়ে টানা দুটি চার হাঁকান তানজিদ তামিম। তবে তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলটি তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রানের গতি না বাড়লেও দলের বিপদ হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ৬ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন লিটন দাস। কেশব মহারাজের করা প্রথম বলটি তুলে মারতে গিয়ে কাভারে মিলারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৩ বলে ৯ রানে থামে তার ইনিংস। কিছুক্ষণ পর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও বিদায় নেন। ৪ বলে ৩ রান করে আনরিখ নরকিয়ার শর্ট বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর ক্রিজে নেমে তাওহিদ হৃদয় ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করলেও উল্টো বাড়িয়ে বিদায় নেন শান্ত। ২৩ বলে ১৪ রান করে তিনি নরকিয়ার শিকার হন। ১০ ওভার শেষে ৫০ রান তুলতে শুরুর ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে এগোচ্ছিল টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই টানছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাবাদার বলে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি রিয়াদ-জাকের আলীরা। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রিয়াদ৷ ২৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। আর তাতেই বাংলাদেশের মুখের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতেই তাণ্ডব চালান টাইগার দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে সাজঘরে পাঠান রেজা হেনড্রিক্স (০), কুইন্টন ডি কক (১৮), এইডেন মার্করাম (৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (০)।

সুপার এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের আর জয় পাওয়া হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১১৩/৬ (হেনরিখ ক্লাসেন ৪৬, ডেভিড মিলার ২৯, কুইন্টন ডি কক ১৮; তানজিম হাসান সাকিব ৩/১৮, তাসকিন আহমেদ ২/১৯, রিশাদ হোসেন ১/৩২)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১০৯/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৩৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, নাজমুল শান্ত ১৪; কেশব মহারাজ ৩/২৭, কাগিসো রাবাদা ২/১৯, আনরিখ নরকিয়া ২/১৭)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : হেনরিখ ক্লাসেন।

ঈশান/খম/সুম

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

print news

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটিতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। আর বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন টাইগার বোলাররা।

তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমান-রিশাদ হাসানদের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানেই আটকে দেয় লাল-সবুজের দল। এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে অবশ্য শুরুটা ভালো করতে পারেননি দুই টাইগাররা ওপেনার। ব্যর্থ হন শান্তও।

তবে দলের হাল ধরেছিলেন তাওহীদ হৃদয়-লিটন দাস। এ দুজনের ব্যাটেই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও হৃদয়-লিটনের ৬৩ রানের জুটির সুবাদেই ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের দেয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা রাঙাতে পারেননি সৌম্য। ব্যাটিং ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য রান করে সাজঘরের পথ ধরেছেন সৌম্য সরকার। ধনঞ্জায়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন তিনি।

এরপর টাইগারদের আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন তরুণ তামিম। নুয়ান তুষারার বলে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড আউট হন এই ওপেনারও। ফলে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত। দু‘জন মিলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান বোলারদের। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এরপর ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন শান্ত।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুষারার বলে আসালাঙ্কার মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার অধিনায়ক। শান্তর বিদায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন-হৃদয় জুটি। এ দুজন মিলে লঙ্কান বলারদের দেখেশুনে খেলে গড়েছেন ৬৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে লিটন ধরে খেললেও অপরপ্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন হৃদয়।

তবে দলীয় ৯১ রানে হাসারাঙ্গার বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন হৃদয়। তবে ফেরার আগে ৪ ছয় ও এক চারে ২০ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। এদিকে হৃদয় ফেরার পর আউট হন লিটনও। এরপর একে একে আউট হন সাকিব আল হাসান এবং রিশাদ হোসেন ও তাসকি আহমেদ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের শঙ্কা লাল-সবুজের দলে।

তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের স্বাদই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেট কিলার খ্যাত এই ফিনিশার উনিশতম ওভারে দাশুন শানাকার করা প্রথম বলে ৬ মেরে চাপমুক্ত করেন দলকে। এরপর একই ওভারের শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে দলকে জয়ী করেন তিনি। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

এর আগে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্ত আজ শুরুতেই বল হাতে তুলে দিয়েছিলেন তরুণ তানজিম সাকিবকে। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুই ওভারে ১৩ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। তাসকিন আক্রমণে আসেন ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। তাঁর করা ওভারের প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান কুশল মেন্ডিস।

তবে তৃতীয় বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের বলে বোল্ড হয়ে লঙ্কান অধিনায়ক ফিরেন ৮ বলে ১০ রান করে। এরপর ক্রিজে নিশাঙ্কার সঙ্গী হন কামিন্দু। কামিন্দুকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন নিশাঙ্কা। আজ আগ্রাসী মেজাজেই ছিলেন তিনি। পঞ্চম ওভারে সাকিবের বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ফলে শুরুতেই এক উইকেট হারালেও রান বাড়তে থাকে লঙ্কানদের।

তবে পরের ওভারেই লাগাম টেনে ধরেন মোস্তাফিজ। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান কামিন্দু মেন্ডিসকে। এরপর নবম ওভারে তাঁর বলে আউট হয়েই ফিরতে হয় নিশাঙ্কাকেও। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেছেন ২৮ বলে ৪৭ রান।

এরপর ধনঞ্জায়া ডি সিলভাকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। তবে ১৫ তম ওভারের প্রিওথম বলেই রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাকিবের মুঠোবন্দী হন আসালাঙ্কা। ১৯ রান করে লঙ্কান এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে ডি সিলভার সঙ্গী হন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তবে লঙ্কান অধিনায়ককে থিতু হওয়ার সুযোগই দেননি রিশাদ। ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাসারাঙ্গাও ফিরেন সৌম্য সরকারের মুঠোবন্দী হয়ে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে এরপর চাপএ পড়ে ১৭তম ওভারেই। নিজের শেষ ওভারে রিশাদের করা বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করতে চেয়েছিলেন ডি সিলভা। তবে মিস করেন তিনি। এই সুযোগে বল লুফে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

এরপর লঙ্কানদের আরও দুইটি উইকেট তুলে নেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে ১২৪ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিশাদ ও মোস্তাফিজ।

ঈশান/খম/সুম

বাঘ-সিংহের লড়াই শুরু হচ্ছে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায়

বাঘ-সিংহের লড়াই শুরু হচ্ছে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায়

print news

বিশ্বকাপ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাঘ-সিংহের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাঘ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতীক, আর সিংহ হচ্ছে লঙ্কান ক্রিকেটের প্রতীক। ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হচ্ছে এই খেলা। যার মধ্য দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন।

‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি দু‘দলের জন্যই অনেকটা ফাইনালের মর্যাদায় উন্নীত। যে হারবে তাদের জন্য শেষ আটে জায়গা পাওয়াটা হয়ে উঠবে ভীষণ কঠিন। কেননা ৫ দলের গ্রুপ থেকে দুটি দল সুযোগ পাবে শেষ আটে খেলার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরে এরই মধ্যে ব্যাকপুটে লঙ্কানরা।

এদিকে লঙ্কান চ্যালেঞ্জে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিট। ‍দ্বিতীয় দল হিসেবে ‍পরবর্তী রাউন্ডের দাবিদার বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। আর তাই এই দুই দলের যে হারবে তাদের জন্য গ্রুপ পর্ব উতরানো হয়ে পড়বে ভীষণই কঠিন।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের শক্তির জায়গা পেস বোলিং। বেশিরভাগ ম্যাচেই ‍ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢেকে দিচ্ছেন টাইগার বোলাররা, বিশেষ করে পেস স্কোয়াড। ‍কিন্তু বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করেই টাইগার পেস স্কোয়াডে লেগেছে বড় ধাক্কা। প্রথমে ইনজুরিতে পড়েন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। সবে শেষ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

তবে আপাতত সুসংবাদ যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন তাসকিন। ‍তবে এই সুসংবাদের মাঝে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে ‍দলের নিয়মিত পেসার শরিফুল ইসলামের ইনজুরি। প্রথম ম্যাচে খেলতে পারছেন না ‍এই বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের না থাকাটা একটা ধাক্কা বলেও জানিয়েছেন তাসকিন। তবে বাংলাদেশ পেস স্কোয়াডে বিকল্পের অভাব নেই। তাসকিনকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আছেন সদ্য আইপিএল মাতানো কাটার মাস্টারখ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিবরা।

লঙ্কান দল মোটামুটি স্পিননির্ভর হলেও পেস শক্তিতেও তারা কম যায় না। নুয়ান তুশারা, দাসুন শানাকা ও মাথিশা পাতিরানা বিপক্ষ শিবিরকে পরীক্ষা নেওয়ার সামর্থ্য ভালোই রাখেন। সবে শেষ হওয়া আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিপক্ষ দলকে ঘায়েল করেছেন পাথিরানা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিজ-পাথিরানা আবির্ভূত হবেন একে অন্যের ঘাতক হিসেবে। দুই সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার ম্যাথুজ ও সাকিবের ডুয়েল এই ম্যাচের আরেক আকর্ষণ। টাইমড আউট বিতর্কের কেন্দ্রীয় চরিত্র যে এই দুজনই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচকে ঘিরে একটা আগুনে লড়াইয়ের সব উপাদানই আছে মজুদ। কে কাকে পোড়ায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না দু‘দলের। অফফর্মে থেকেই বিশ্বকাপ অভিযাত্রায় এই দুই দল। প্রস্তুতিমূলক সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হেরেছে ক্রিকেটে নামগোত্রহীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হেরেছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সেই দুঃস্বপ্ন থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি লঙ্কানরা।

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে উইকেটকে দায়ী করেছে লঙ্কান অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। গত বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাটিংয়ে ভুগছে দলটি। একই সমস্যায় আছে বাংলাদেশও। টপ অর্ডারে রানের দেখা পাচ্ছে না ‍বাংলাদেশ।

লিটন দাস, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্তরা কেউই পারছেন না নামের প্রতি সুবিচার করতে। তরুণদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়রা মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও সেভাবে ধারাবাহিক নন। দুই অভিজ্ঞ সেনানী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিবের ওপর দল অনেকাংশেই নির্ভরশীল। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে মাত্র ৬৫ বলের ঝড়ো ইনিংসে ৮২ রান করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

এবারে বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব। টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও তিনি। ৩৬ ম্যাচে তার শিকার ৪৫ উইকেট। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে সবার আগে উইকেটের হাফসেঞ্চুরির হাতছানি সাকিবের সামনে।

ঈশান/খম/সুপ

বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সেই সাগরিকা

বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সেই সাগরিকা

print news

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের আলোচিত নাম মোসাম্মৎ সাগরিকা। চারটি বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই ফরোয়ার্ড গত ফেব্রুয়ারির ওই ইভেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন। এবার বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।

আগামী ৩১ মে ও ৩ জুন কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সেই দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। এছাড়া তার সঙ্গে ২৩ জনের স্কোয়াডে নতুন মুখ গোলকিপার ইয়ারজান বেগম, মিডফিল্ডার মুনকি আখতার ও ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি। কিপার সাথী বিশ্বাসকে আবারও দলে ফেরানো হয়েছে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডাকে পাচ্ছে না স্বাগতিকরা। ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি শেষ হওয়া নারী ফুটবল লিগে নাসরিন ফুটবল অ্যাকাডেমির জার্সিতে খেলতে গিয়ে চোট পান মান্ডা।

গত বছর ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা স্বর্ণা রানি মন্ডল, স্বপ্না আক্তার জিলি, মার্জিয়া আক্তার ও ফরোয়ার্ড আকলিমা খাতুন বাদ পড়েছেন।

গত এপ্রিলে সাবেক কোচ সাইফুল বারী টিটু জাতীয় টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হওয়ায় জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হয়েছেন বাফুফে এলিট অ্যাকাডেমির পিটার বাটলার।

বুধবার দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে এই কোচ বলেছেন, ‘আমি ঝুঁকি ও পুরস্কারে বিশ্বাসী। আমি পেছনে তাকাচ্ছি না। আমি খেলোয়াড়দের বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স দেখতে চাই। আসল ব্যাপার হলো কোথায় আপনি আছেন, কোথায় যেতে চান। আমরা এমন একটা অবস্থানে চলমান আছি, যেখানে সবকিছু ফলের ওপর নির্ভর করছে না।’

চায়নিজ তাইপে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১৪০) চেয়ে একশ ধাপ এগিয়ে। এই ম্যাচ খেলেই অক্টোবর-নভেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ স্কোয়াড
গোলকিপার: রুপনা চাকমা, ইয়ারজান বেগম ও সাথী বিশ্বাস; ডিফেন্ডার: মাসুরা পারভীন, আফিদা খন্দকার, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), সুরমা জান্নাত, কোহাতি কিসকু, শিউলি আজিম (সহঅধিনায়ক), আনাই মোগিনি, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা; মিডফিল্ডার: মনিকা চাকমা, স্বপ্না রানী, মুনকি আখ্তার, সানজিদা আখতার, সুমাইয়া মাতসুশিমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শাহেদা আক্তার রিপা; ফরোয়ার্ড: সাবিনা খাতুন (অধিনায়ক), শামসুন্নাহার (জুনিয়র), তহুরা খাতুন, সাগরিকা, সুরভী আকন্দ প্রীতি।

ঈশান/খম/সুম

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ বাতিল

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল

print news

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হলো দুদিন হলো। বিশ্বকাপের আগে আরেকবার যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের।

আজ মঙ্গলবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু বৃষ্টি ও বৈরি আবাহাওয়ার কারণে সেই ম্যাচ আর হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি ক্রিকেট কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৯টায় মাঠে গড়ানোর কথা ছিল ম্যাচটি।

কিন্তু বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরু হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই ভেন্যুতে। বিসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এটি নিশ্চিত করা হচ্ছে যে আজ ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচটি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাতিল করা হয়েছে।’

বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। যার প্রথমটি আজ পরিত্যক্ত হয়ে গেল। আগামী ২ জুন দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ঈশান/মখ/সুম

ক্রিকেটে এতো অধ:পতন হলো কি করে বাংলাদেশের!

ক্রিকেটে এতো অধ:পতন হলো কি করে বাংলাদেশের!

print news

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেওয়ার আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রকাশ্যেই বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা না করতে বলেছিলেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দেখে শান্তর বলা কথার ‘সার্থকতা’ পাওয়া যাচ্ছে।

অনেকেই শান্তকে তখন শূলে চড়িয়েছেন। অথচ দূরদর্শী অধিনায়ক হিসেবে তিনি ‘সাধুবাদ’ পেতেই পারেন! আর দুই সপ্তাহ পরই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। কিন্তু তার আগে ক্রিকেটটাই যেন ভুলে বসে আছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কম শক্তির যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেভাবে সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তাতে করে প্রথম পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসকে টপকে পরের রাউন্ডে যাওয়া কেবল আকাশ কুসুম কল্পনার শামিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নেমেই হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ছন্নছাড়া ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপের ভেন্যুতে হার দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলে প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রস্তুতি নিতে গিয়ে উল্টো আত্মবিশ্বাসই তলানিতে পৌঁছে যাবে, এমনটা হয়তো ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেনি টিম ম্যানেজমেন্ট।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে ১৪৫ রানের মামুলি লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে যেভাবে লড়াই করলো স্বাগতিকরা, প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। ডেথ ওভারে বাউন্সার, ইয়র্কারে নাভিশ্বাস উঠাল বাংলাদেশের ব্যাটারদের। অভিজ্ঞ সাকিব-মাহমুদউল্লাহ কুপোকাত হয়ে গেলেন নবীন এই যুক্তরাষ্ট্রের বোলিং আক্রমণের কাছে। ৩ বল আগেই যখন রিশাদ হোসেন আউট হলেন, প্রবল ভারী কোনও পাথর নিশ্চয়ই চেপে বসেছিল অধিনায়ক শান্তর বুকে!র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৯তম দলের বিপক্ষে সিরিজ হার। এটাও কি সম্ভব। সমর্থকরা হাতে-পায়ে চিমটি কেটে বোঝার চেষ্টা করছেন। স্বপ্ন নাকি সত্যিই তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ!

হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। কিছুটা স্লো উইকেট। অনেকটা বাংলাদেশের উইকেটের মতোই। তারপরও কেন পারছে না লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে কি ক্রিকেট খেলাটাই ভুলে যাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। নাকি ড্রেসিংরুমে বইছে কোনও ঝড়! যার আঘাতেই এমন পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪৪ রানে আটকে দিলেও ব্যাটিংয়ে নেমে সেই চিরচেনা বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার। টি-টোয়েন্টিতে ছন্দ হারিয়ে ধুকতে থাকা লিটনকে প্রথম ম্যাচে খেলানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বাদ পড়েন দ্বিতীয় ম্যাচে। সুযোগ দেওয়া হয় তানজিদ হাসান তামিমকে। জুনিয়র তামিম ভালো শুরু করলেও সৌম্য সরকার প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকে সাজঘরে ফেরেন।

ধারাবাহিকভাবে পাওয়ার প্লেতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলটির বোলারদের বিপক্ষেও পেরে ওঠেননি। প্রথম ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে হারিয়ে সংগ্রহ করে ৪৩ রান। সৌম্যর পর পাওয়ার প্লেতে বিদায় নেন ১৫ বলে ১৯ করা তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক শান্ত মিলে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দারুণ খেলতে থাকা শান্ত যেভাবে রান আউট হলেন, তাতে করে অনেক প্রশ্নে রেখে গেলেন। পুরো ইনিংসে বেশ কয়েকবারই সঙ্গীর সঙ্গে রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি, হৃদয়ের খেলা শট উইকেটের মধ্যে থাকা অবস্থায় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন শান্ত।

এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। বাজে ব্যাটিং করলেও জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ দল। ১৬ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১১৯ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। শেষ ২৪ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬ রানের। তখনও ক্রিজে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। কিন্তু পারেননি তিনি। বাকি ৫ উইকেট হারিয়েছে আর ১৯ রান তুলতেই। ফলে ৬ রানের জয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়ে বাংলাদেশ আছে নিজের ছায়া হয়ে। শরিফুলকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে ফর্মে দেখা গেছে, সেটি খুঁজে পাওয়া গেলো না। অন্যদিকে আইপিলে চেন্নাইয়ের হয়ে মাঠ মাতানো মোস্তাফিজ রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন। রিশাদ, তানজিম হাসান সাকিবরা ভালো করাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে অল্প রানে বেঁধে ফেলা গেছে। নয়তো আরও বড় হারের লজ্জায় পড়তে হতো বাংলাদেশকে।

আগামী ৮ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দুটি এবং ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে খুব বেশি সময় নেই নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার। বর্তমান পারফরম্যান্সের যা অবস্থা, তাতে করে বিশ্বকাপের ময়দানে হয়তো আরও একবার আত্মসমর্পণ করার অপেক্ষাতে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই বিশ্বকাপ শেষে হয়তো সামনের কোনও এক আসরকে লক্ষ্য বানাবে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেখানে ব্যর্থ হলে তার পরের পরের বিশ্বকাপ! এভাবেই চলতে থাকুক টিম বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন!

ঈশান?খম/সুপ

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে হবে

পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে হবে

print news

র্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডস্থ আল-হামিম ইনস্টিটিউটের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয় আজ ১৮ মে শনিবার। 

এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামস্থ লেডিস ক্লাব ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এস এ ফ্যামিলির চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মানবতার ফেরীওয়ালা মুহাম্মদ শাহ আলম। সাবেক মেয়র ও সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ জ ম নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে আ জ ম নাসির উদ্দিন বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে আমাদের আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে।

ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে। আল-হামিম ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মহানগরীর বুকে অল্প সময়ে যে সুনাম অর্জন করেছে তা ধরে রাখতে হবে।

সভাপতিির বক্তব্যে এসএ ফ্যামিলির চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ শাহ আলম বলেন, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমরা আদর্শ নাগরিক তৈরি করার আন্দোলন শুরু করেছি সৃজনশীল শিক্ষার মাধ্যমে। ব্যবসা নয়, বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি। আপনাদের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা থাকলে আগামীতে আমরা আরো নতুন প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেব ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম, অধ্যাপক ডক্টর নূর হোসেন, জিএম সাইদুর রহমান মিন্টু, প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম, কলামিস্ট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, এ্যানেল,সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল আলম সাজ্জি।

ঈশান/খম/সুম

জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার আয়ের কোষাগার কার হাতে?

জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার কোষাগার কার হাতে?

print news

১৯০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর গর্বের শেষ নেই। দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস! গণমাধ্যমের উত্তাপ- এসব ঘিরে করপোরেট হাউসগুলোর রঙছটা বিজ্ঞাপনসহ আরো কত কী! কিন্তু যাঁদের ঘিরে এত আয়োজন, সেই বলীরা বরাবরই রয়ে যান উপেক্ষিত। তারা কি পান প্রাপ্য সম্মান?

সম্প্রতি বলীখেলার ১১৫তম আয়োজন শেষে এমন প্রশ্ন ওঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠেছে এখানে খেলাটি কি মুখ্য, নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু? এ নিয়ে ট্রল হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

দর্শকরা বলছেন, এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ট্রফিসহ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারীরা ট্রফির সঙ্গে পেয়েছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী ১০০ জনের মধ্যে ৫০ রাউন্ড খেলা হয়। সেই ৫০ রাউন্ডে বিজয়ীদের দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। আর পুরস্কারের এই অর্থ কি মানসম্মত।

পাড়ার ছোট ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও যেখানে চ্যাম্পিয়নকে লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়, সেখানে বলীখেলার মতো ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজনে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার খুবই নগণ্য। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়ারও কষ্ট পেতে হয়। যে আয়োজনে চট্টগ্রামের এত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থাকেন; সেই আয়োজনে পুরস্কারের মানি কীভাবে এত কম হয়—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

তবে আয়োজক কমিটির দাবি—প্রাইজমানি এবং আনুসাঙ্গিক খরচের বিষয় পুরোটাই দেখে মরহুম আবদুল জব্বারের পরিবার। তাদের হাতে এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্বই নেই। এছাড়া ব্যবস্থাপনায় যারা থাকেন; তারা চাইলেই খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি বাড়াতে পারেন। তবে, বলীখেলার জনপ্রিয়তার তুলনায় প্রাইজমানির পরিমাণ অপ্রতুল—সেটি স্বীকার করেছেন তারাও।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের স্থানীয় ধনী বণিক বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল জব্বার সওদাগর এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। পরে তাঁর নাম অনুসারে এই আয়োজনের নামকরণ হয়েছে। মহামারি করোনায় দুই বছর (২০২০-২০২১) বাদে প্রতিবছরই নগরের লালদিঘী মাঠে আয়োজন হয় এই খেলার। যা এখন দেশের বৃহত্তম বার্ষিক লোক উৎসব হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ১১৫তম আসরে চ্যাম্পিয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ট্রফিসহ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারীরা ট্রফির সঙ্গে পেয়েছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী ১০০ জনের মধ্যে ৫০ রাউন্ড খেলা হয়। সেই ৫০ রাউন্ডে বিজয়ীদের দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বলীখেলার ১১৪তম আসরেও চ্যাম্পিয়নকে ক্রেস্ট ও নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপকে ক্রেস্ট ও নগদ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালের ১১৩তম আয়োজনে চ্যাম্পিয়নকে ২৫ হাজার টাকা ও ট্রফি; আর রানার্সআপ বলীকে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। যদিও, ২০১৭ সালে অর্থাৎ ১০৮ তম আসরে এবং তার আগের সব আয়োজনে চ্যাম্পিয়নকে ট্রফি-ক্রেস্টসহ ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ বলীকে দেওয়া হতো ১৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

যা ২০২৩ ও ২০২৪ বেড়ে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন মানি ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু ১১৫তম আসরের পর চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপের উপহার হিসেবে দেওয়া এই প্রাইজমানি নিয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এত পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজনে এই নগণ্য পুরস্কার দেওয়ায় বলীখেলার মতো বড় একটি আয়োজন জৌলুস হারাচ্ছে— এমন দাবি অনেকের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হচ্ছে এ নিয়ে নানা ট্রল।

প্রাইজমানির সমালোচনা করে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল বলেন, লজ্জা লাগে আয়োজনকারীদের দেখে। অথচ, এই খেলাকে কেন্দ্র করে যেখানে কোটি টাকার মেলা বসে। আফসোস সেখানে খেলোয়াড়দের কোনো দাম নেই। প্রাইজমানি ৩ লাখ আর ২ লাখ দেয়া যেতো। এখানের হাস্যকর এমাউন্টের প্রতিবাদ স্বরুপ বিখ্যাত সেই দিদার বলী এখন আর অংশ নেন না।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সালাউদ্দিন বলেন, অন্তত এক লাখ টাকাও দিতে পারলো না? যে খেলার জন্য চট্টগ্রাম এই দুদিনে সারাদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এখন প্রাইজমানি দেখলে বলবে যে আমাদের পাড়ার খেলাতেও আরো বেশি প্রাইজমানি দেওয়া হয়। এটি হাস্যকর।

কুমিল্লার আরেক বাসিন্দা সুমন রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, খেলায় জিতলে প্রাইজমানি যা দেয়, আমাদের কুমিল্লার খেলোয়াড়দের চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া, দুদিন থাকা খাওয়াসহ আরো বেশি খরচ হয়। এত বড় একটা আয়োজনে এই নামমাত্র প্রাইজমানি দিয়ে প্লেয়ারদের হাস্যকর বানানোর দরকার ছিলো না।

খাইরুল আলম তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সারা দেশের সবচেয়ে আইকনিক, উৎসবমুখর, পুরাতন, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মানি কত জানেন? ৩০ হাজার ট্যাকা। যে স্পন্সরগুলো এই মেলায় থাকে, যে বেচাবিক্রি এই মেলায় হয় ৬-৭ কোটি টাকা খুবই নরমাল ব্যাপার। আর যে ভারী ভারী রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকে, তাদের গাড়ির ড্রাইভারের বেতনও এর চেয়ে বেশি। লজ্জা শরমও নাই যারা এই টাকা তুলে দেয় তাদের।

বলীখেলার দিন (২৫ এপ্রিল) প্রাইজমানি নিয়ে কথা হয় চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিচিতি ও আনন্দের জন্যই মূলত বলীখেলা। আমার মনে হয় না, জব্বারের বলীখেলার মতো এত বড় আয়োজন দেশের অন্য কোথাও হয়। সেজন্য আমরাও চাই এই খেলা আরও বড় মাপের এবং বড় মানের হোক। যাতে সারাদেশ থেকে খেলোয়াড়রা এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে অংশ নেয়। তবে এটি ঠিক যে, খেলাটি যত বেশি জনপ্রিয় তার তুলনায় প্রাইজমানিটা খুব কম।

আয়োজক কমিটি ও জব্বারের পরিবারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য:

বলীখেলার আয়োজনে আয়োজক কমিটির সাথে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই— এমন দাবি আয়োজক কমিটির। তবে স্পন্সরের টাকার একাংশ রয়্যালিটি (স্বত্ব ভাড়া) হিসেবে আবদুল জব্বারের পরিবারের সদস্যরা পান বলে জানিয়েছেন তারা। যদিও আবদুল জব্বার সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদলের দাবি— তারা কোনো রয়্যালিটি পান না।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ১১৫ বছর ধরে এ আয়োজন হয়ে আসছে। বলীখেলার সব খরচ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো দেয়। আমরা শুধু ব্র্যান্ডিংটা ওদের থেকে নেই। আর মাঠের সাজ-সজ্জা, মাইকিং, জার্সি, প্রাইজমানি— এগুলো যারা পৃষ্ঠপোষক তারা দেন। তবে, আমরা এ কমিটিতে থাকলেও আনুষাঙ্গিক সবকিছু দেখভাল অর্থাৎ দায়ভার-ব্যয়ভার এগুলো সব করেন জব্বারের পরিবারের সদস্যরা। তারা প্রতিবারই পৃষ্ঠপোষকদের টাকার একটি অংশ নিজেরা নিয়ে থাকেন রয়্যালিটি হিসেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু খেলাটাকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তাদের সহযোগিতা করি। তবে, পৃষ্ঠপোষক থেকে শুরু করে টাকা লেনদেন সবকিছু করেন ওনারা (জব্বারের পরিবার)। যারা কমিটিতে আছে; তাদের কোনো অর্থের অংশীদারিত্ব নেই। আগামী বছর মেলা কমিটির বৈঠকে চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপদের প্রাইজমানি আরও বাড়ানো যায় কিনা— সেই বিষয়ে অবশ্যই প্রস্তাব রাখা হবে।

চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপরা প্রাইজমানি ছাড়া কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, তারা প্রাইজমানি ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা পান না। তারা (বলী) মূলত প্রাণের টানে, খেলা উপভোগ করতে আসে; টাকার জন্য আসে না। তারা (বলী) এটাকে উপভোগ করে।’

এদিকে জব্বারের বলীখেলায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে বলীরা আসেন চট্টগ্রামে। এরপর আয়োজনে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে লালদিঘী মাহবুব উল আলম চৌধুরী সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরির ভবনে দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য থাকার সুব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি ১১৫তম আসরে।

গত ২৫ এপ্রিল বলীখেলার দিন সরেজমিনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষকে বানানো হয়েছে ‘রেজিস্ট্রেশন ডেস্ক’। সেখানে রাখা ছিল একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার। সেসব চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় একাধিক বলীকে। দুপুর নাগাদ দূর দূরান্ত থেকে বলীরা এসে বসে থাকলেও তখনও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আসেননি কেউই।

দেখা যায়, অনেক বলী বিরক্ত হচ্ছিলেন এবং খুঁজছিলেন আয়োজন সংশ্লিষ্টদের। এ সময় কথা হয় খাগড়াছড়ির বলী সৃজন চাকমার সাথে। তিনি বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। খাগড়াছড়ি থেকে রওয়ানা দিয়ে সোজা এখানেই এসেছি। এখনো রেস্ট করিনি। কিন্তু এসে কাউকে দেখছি না।’

পাশের চেয়ারেই বসে থাকা সৃজন চাকমার ছোট ভাই সমর বিজয় বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে এসে বসে আছি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। কিন্তু কারো দেখা পাচ্ছি না। মনে করেছিলাম দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারলে আমার দাদা রেস্ট করতে পারবেন। ৪টায় খেলা শুরু হবে এখন দুপুর ১২টা বাজতে চললো।’

ওই ভবনের ৭ম তলার একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কয়েকটি জীর্ণশীর্ণ চৌকি পাতা। যার ওপরে নেই পরিচ্ছন্ন তোষকও। সেখানে বসেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন কুমিল্লার হোমনা থানা থেকে আসা চারবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলী এবং ১১৫তম আসরের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ। এ সময় অনেককে ফ্লোরে বসেই ঝিমোতে দেখা যায়।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, থাকার সুব্যবস্থার কথা বলা হলেও এত দূর থেকে আসা বলীদের বিশ্রামের জন্য নেওয়া হয়নি যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা। ফলে, জীর্ণশীর্ণ এই চৌকিতেই কোনোমতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাদের। এটি আয়োজকদের গাফিলতির ফল— এমন দাবি এসব খেলোয়াড়দের। দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য এবারের আসরে থাকার সুব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেছেন খোদ আয়োজকরাও।

এ প্রসঙ্গে আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘এবার দূর থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য লালদিঘীর লাইব্রেরিতে থাকার সুব্যবস্থা করার কথা ম্যানেজমেন্টের। এটি আমরা দেখি না। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন তারা সেটি করেননি। এদিক দিয়ে তারা ব্যর্থ। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।’

এ প্রসঙ্গে চসিকের সাবেক কাউন্সিলর এবং আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘জনপ্রিয়তার হিসেবে খেলোয়াড়দের দেওয়া প্রাইজমানির টাকা পর্যাপ্ত নয়।’

তিনি বলেন, জব্বার সাহেবের পরিবার চাইলে প্রাইজমানি বাড়াতে পারে। তবে বাড়ানো উচিত। তাছাড়া এই আয়োজন এখনো পর্যন্ত একটি গণ্ডির মধ্যে রয়ে গেছে। এই খেলার আয়োজনকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আনা উচিৎ। এবার দর্শকদের আগ্রহের কমতি না থাকলেও ম্যানেজমেন্ট খুবই বাজে ছিল। আসলে এই খেলাকে আরও সমাদৃত করার জন্য আগ্রহ তেমন একটা নেই কারও।

জামাল হোসেন বলেন, বলীখেলার সব খরচ পৃষ্ঠপোষকরাই বহন করে থাকেন। আর খরচের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। ম্যানেজমেন্ট এটা যেভাবে পারে খরচ করে। মূলত খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি, ডেকোরেশন এবং জব্বার মিয়ার পরিবারকে রয়্যালিটি দেওয়া— এসব খাতে খরচ হয় পৃষ্ঠপোষকদের টাকা।’

তবে, বলীখেলায় পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে রয়্যালিটি নেন না বলে দাবি করে আবদুল জব্বার সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল সিভয়েস২৪-কে বলেন, ‘আমরা কোনো রয়্যালিটি পাই না। তারা (পৃষ্ঠপোষক) তাদের মতো খরচ করে। আমাদের কাছে তাদের কোনো অর্থ আসে না।’

প্রাইজমানি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে প্রাইজমানি বাড়ানোর। তবে একসঙ্গে বাড়ালে টাকার লোভে খেলোয়াড়রা নিজেদের হাত-পা ভেঙে ফেলবে। আমরা আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে বাড়াবো।’

ঐতিহাসিক এই বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা ঘিরে কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। নেই কিছু লিখিতও। সব হিসাব-নিকাশ যেন অদৃশ্য। সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই অজানা। যে যার মতো করেন আয়, আবার খরচও করেন নিজের মতো। এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘ বছর।

মেলা ঘিরে চাঁদাবাজি, পণ্যের দামে প্রভাব:

এদিকে প্রতিবছরই বলীখেলাকে ঘিরে বসে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। যে মেলায় লালদিঘী-কোতোয়ালীর আশেপাশের চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্থায়ী দোকান বসান দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ পণ্যের মেলাও এটি। কিন্তু এই মেলা ঘিরে চলে নানা ধরনের টানা চাঁদাবাজি।

অনুসন্ধান বলছে— প্রতি দোকান থেকে ‘ভাগের টাকা’ নেয় পুলিশও। যদিও মেলা শুরুর আগে এবং চলাকালীন সময়ে মাইকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার ‘হাঁকডাক’ কানে আসে। কিন্তু দোকানিরা আসা শুরু করতেই পুরোপুরি পাল্টে যায় বাস্তব চিত্র। ফলে, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা এবং খেলা— দুটোর আয়োজনই হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে আলিম উদ্দিন নামে একজন বলেন, ‘ওরা (টুর্নামেন্ট আয়োজক) চাঁদাবাজি করে। আমরা চাঁদাবাজি করি না। যারা টুর্নামেন্ট দেয় তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে টাকা তুলে। আমরা পুরো বৈশাখী মেলা থেকে টাকা তুললে এক লাখ টাকা দিতে পারবো।’

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৫তম আয়োজন শেষ হয়েছে এবার। আয়োজন ঘিরে চাঁদাবাজি রুখতে প্রশাসন এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের ‘আষাঢ়ে গল্প’ শোনালেও চাঁদাবাজি ঠেকানো যায়নি।

মেলা শুরুর আগে কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদিঘী ও আন্দরকিল্লাসহ আশেপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের এই মেলা প্রাঙ্গণে আসা পর্যন্ত কয়েক দফায় চাঁদা দিতে হয় তাদের। পথিমধ্যে চাঁদা দিয়ে এলেও চট্টগ্রাম পৌঁছে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকটি সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। অনেকটা হয়রানি এবং নির্যাতনের ভয়ে বাধ্য হয়েই চাঁদা দেন তারা। প্রায়ই অমুক-তমুক ভাইয়ের নাম বলে এসে চাঁদা দাবি করায় কাউকে চিনতেও পারেন না তারা।

জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে রাজশাহী থেকে আসা এক দোকানি বলেন, ‘হঠাৎ জেলা পরিষদের লোক পরিচয় দিয়ে চা-নাস্তার টাকা চায়। আমি বলেছি একটা সিগারেটও খাওয়াবো না। তারা আমার সাথে ধাক্কাধাক্কিও করেছে।’

ফেনী থেকে আসা মো. শাহেদ আকবর বলেন, ‘জেলা পরিষদ মার্কেটের লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের এখানে বসিয়ে দিয়েছে। আমার ভাই মূলত দোকানের মালিক তাই কত টাকা দিতে হয়েছে তা বলতে পারবো না। তবে টাকা দিয়েই আমরা বসেছি।

ব্যাপক চাঁদাবাজির ফলে পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব পরে— এমনটা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। চাঁদাবাজির ফলে উৎপাদন মূল্য এবং যাতায়াত খরচের সাথে পণ্যমূল্যের অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তি যোগ করতে হয় ব্যবসায়ীদের।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা কুটিরশিল্প সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মো. আয়মান সোহেল বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিবারই মেলা কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। বলে, কেউ চাঁদা নিলে যেন পুলিশকে জানাই। এখন পুলিশই এসে যদি চাঁদা নেয় তাহলে আমরা কীভাবে কাকে জানাবো? কয়েকদিনের জন্য উৎসব করে আমরা কিছু পণ্য বিক্রি করতে আসি। কিন্তু স্থানীয় কয়েকটি সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিতে দিতে আমরা উৎসবের আনন্দ হারিয়ে ফেলি। আপনারা যাই লিখেন এগুলোর প্রতিকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘একটা পণ্য যদি আমি ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে চাই; তবে থাকা খরচ এবং চাঁদার টাকা মিলিয়ে সেই পণ্যের সাথে আরও অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তি দাম যোগ করতে হয়। এখন ক্রেতারা সেটা বুঝে না। বলে মেলায় জিনিসের দাম বেশি। দাম তো এসবের কারণেই বাড়ে। এখানে আমাদের তো কিছুই করার নেই আসলে।’

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি জহর লাল হাজারী বলেন, ‘অনেকে ৫, ১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে জায়গাগুলো কিনে নেয়। তবে আগে ১শ টাকা নিলেও এখন এক হাজার টাকা, দুই হাজার টাকা নেয়। নগর পুলিশ যদি একটু মানবিক হয়, র‌্যাবকে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। গুটি কয়েক মানুষ; মানে মিনিমাম হাতেগোনা ১০-১৫ জন মানুষ চাঁদার কাজগুলো করে। আমরা যদি তাদের একটু নজরদারিতে রাখি; তাহলে একটা মানুষও এসে টাকা নিতে পারবে না।’

মেলায় চাঁদাবাজির বিষয়ে গত ২২ এপ্রিল নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আশরাফুল করিম সিভয়েস২৪-কে বলেছিলেন, ‘কে বা কারা চাঁদাবাজি করছে এ বিষয়ে আমাদের তথ্যপ্রমাণ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। মেলায় ব্যবসা করতে আসা সবাই অতিথি। যেহেতু বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৫তম আসর এটি, তাই চট্টগ্রামের জন্য এটি ব্র্যান্ডিং। এই আয়োজন যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়; সেজন্য আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা করবো।’

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, মেলা ঘিরে দফায় দফায় চাঁদাবাজি হয়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু সদস্যও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছেন চাঁদা। যার তথ্যপ্রমাণ সমৃদ্ধ ভিডিও রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের ১১৫তম আসরের ফাইনালে লড়াই করেন চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলীর দুই শিষ্য মোহাম্মদ রাশেদ বলী ও ‘বাঘা’ শরীফ বলী। টানা ১১ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর বাঘা শরীফের হাত উঁচিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা দেন রাশেদ বলী। খেলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন খাগড়াছড়ির সৃজন বলী। গতবারও তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন তিনি। চতুর্থ হয়েছেন সীতাকুণ্ডের মো. রাসেল।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে ৩০ হাজার, রানার্সআপকে ২০ হাজার, তৃতীয় বলীকে ১০ হাজার ও চতুর্থ বলীকে ৫ হাজার টাকাসহ ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। পাশাপাশি প্রথম রাউন্ডে বিজয়ী ৩৫ জনের প্রত্যেককে দেওয়া হয় ২ হাজার টাকা করে।   (সিভয়েস থেকে প্রান্ত তথ্যে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে)

ঈশান/মখ/সুপ

জব্বারের বলীখেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ

জব্বারের বলীখেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ

print news

ট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলায় এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। তিনি একই জেলার বলী মোহাম্মদ রাশেদকে হারিয়ে চ্যা¤িপয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

বৃহ¯পতিবার বিকেলে বলীখেলার ১১৫ তম আসরে ফাইনালে মুখোমুখি হন দুইজন। ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর বাঘা শরীফের কাছে হার মানেন মোহাম্মদ রাশেদ।

বাঘা শরীফের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার মহিপুর গ্রামে। বাঘা শরীফ ও মোহাম্মদ রাশেদ দুজনই চারবারের (২০১৬, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২৩) চ্যা¤িপয়ন কুমিল্লার শাহজালাল বলীর শিষ্য। দুই শিষ্যকে সুযোগ করে দিতে এবারের আসরে অংশ নেননি শাহজালাল বলী।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ স¤পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলীখেলা উদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খেলা শুরু হয়। এতে শখানেক বলী অংশ নেন। খেলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা।

এর আগে, ১৯০৯ সালে স্থানীয় বদর পাতি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর বলীখেলা চালু করেন। এরপর থেকে প্রতি বাংলা বছরের ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে এ খেলার আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারের নামানুসারে খেলাটির নাম রাখা হয় জব্বারের বলীখেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বলীখেলার ¯পন্সর প্রতিষ্ঠান এনএইচটি ¯েপার্টস কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর।

ঈশান/খম/মউ

চট্টগ্রামে শুরু তিনদিনের বৈশাখী মেলা, কাল জব্বারের বলীখেলা

চট্টগ্রামে শুরু তিনদিনের বৈশাখী মেলা, কাল জব্বারের বলীখেলা

print news

ট্টগ্রামের শুরু হয়েছে তিনদিনের বৈশাখী মেলা। আজ বুধবার সকাল থেকে এই মেলা শুরু হয়। নগরীর লালদীঘি ময়দানে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা ঘিরে চট্টগ্রামে এই মেলা বসে। আর বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে বৃহ¯পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য জানান আব্দুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি স্থানীয় আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো বাংলা বর্ষের ১২ বৈশাখ অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল লালদীঘির মাঠে বলীখেলা হবে। বাঁশ ও বালি দিয়ে মাঠে বলিখেলার মঞ্চ (রিং) তৈরি শেষ পর্যায়ে। তবে বলীখেলার আগের দিন ২৪ এপ্রিল বুধবার সকাল থেকে লালদীঘির মাঠ ঘিরে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বলীখেলায় অংশগ্রহণার্থীদের নিবন্ধন চলছে। আজও নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। খেলায় যারা অংশ নেবেন, তাদের জন্য এবার আমরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছি। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

জহর লাল হাজারী বলেন, প্রতিবছর এ সময়টাতে তাপপ্রবাহ থাকে। এবারও তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা শরবত পানের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। চিকিৎসকরাও বলছেন, যততত্র বিক্রি হওয়া শরবত যেন পান করা না হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মেলায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে।

জহর লাল হাজারী আরও বলেন, চসিকের মেয়র মহোদয় দেশের বাইরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ও রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকছেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান আপাকে বলা হয়েছে। সিএমপি কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খেলা ও মেলায় অংশগ্রহণ করবেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আব্দুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বলীদের জার্সি এবং চ্যা¤িপয়ন ও রানার-আপ ট্রফি উন্মোচন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

নগরীর লালদিঘির পাড়ে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে মেয়র ঘোষণা দেন, আগামি প্রজন্ম যেন বলীখেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে, সে জন্য কুস্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ বলীখেলা আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। বলীখেলাকে ঘিরে তিন দিনের মেলা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আসেন। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। সবার কাছে অনুরোধ, নতুন প্রজন্ম যেন আমাদের এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখে সেজন্য আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

মেয়র বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বলীখেলায় অংশ নিচ্ছেন, কুস্তিগীর, রেফারি ও আয়োজক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি করা হোক। এবারের বলীখেলার পরেই এ বিষয়ে আয়োজকরা উদ্যোগ নেবেন। একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে। জায়গা আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেবো। এ জন্য যা যা সহযোগিতা দরকার, সিটি করপোরেশন ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে করা হবে।

কমিটির সহসভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ বলেন, এটি ঐতিহাসিক বলীখেলা। এবার হবে ১১৫তম আসর। সারা বিশ্বে এ খেলা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখতে হবে। বলীখেলা টুরিজম বোর্ডের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বলীদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বলীখেলার পাশাপাশি তিন দিন ধরে মেলা চলবে। এবারের আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এনএইচটি হোল্ডিংস লিমিটেড। মেয়র মহোদয় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এবারের আয়োজন শেষেই যেন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করা হবে।

বলীখেলার এবারের পৃষ্ঠপোষক এনএইচটি হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর বলেন, ছোট থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম কখন খেলাটা ও মেলাটা হবে। চট্টগ্রামের সংস্কৃতি বলীখেলা। চট্টগ্রামের হারানো ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে বলীখেলায় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছি আমরা।

আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, ২৫ এপ্রিল আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯০৯ সালে এ বলীখেলার প্রচলন করেছিলেন আবদুল জব্বার সওদাগর। করোনার কারণে গত দুই বছর বলীখেলা হয়নি। এ খেলা সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন, যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বলীখেলা নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলীখেলার সূচনা করেন তিনি।

সূচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদিঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলীখেলা। বলীখেলার একদিন আগে-পরে তিন দিন ধরে লালদীঘির পারসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে বসে মেলা। এ মেলায় গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে নানা পণ্যের পসরা বসে।

এদিকে জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে যান চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামি ২৪ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত লালদিঘি অভিমুখী সকল প্রকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামি ২৫ এপ্রিল নগরীর লালদীঘিপাড় মাঠে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেলায় দেশের দূরদূরান্ত হতে পণ্য বিক্রেতাগণ তাদের পণ্য দ্রব্যাদি নিয়ে আসবে এবং ক্রেতা সাধারণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ লোকজনের সমাগম হবে। বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা চলাকালীন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ আগত লোকজনের সমাগমের কারণে লালদিঘি মাঠ সংলগ্ন আন্দরকিল্লা মোড় (জামে মসজিদের সামনে), পুরাতন টেলিগ্রাফ রোড, বোস ব্রাদার্স মোড় (পুলিশ প্লাজার সামনে), রাইফেল ক্লাব, কোতোয়ালী মোড় (সিডিএ গেইট), আমানত শাহ মাজার রোডের মুখ এবং টেরিবাজার ফুলের দোকান (তিন রাস্তার মুখ)-এ রোড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে ডাইভারশন প্রদান করা হবে। ফলে উক্ত সময়ে লালদিঘি অভিমুখে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানিসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনসমূহ কোতোয়ালী মোড় হয়ে ফিরিঙ্গীবাজার মেরিন ড্রাইভ রোড ব্যবহার করে চাক্তাই ও রাজখালী হয়ে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে যাতায়াত করবে।

লালদিঘি মাঠে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য বৈশাখী মেলা সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা অনুসরণের জন্য সকল যানবাহন চালক ও যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঈশান/মখ/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!