ইরানে টানা বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরাকের সীমান্তবর্তী শালামচেহ ক্রসিংয়ের কাছে অন্তত দু‘জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার বদলা হিসেবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বুশেহরে মার্কিন হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এ এলাকায় থাকায় এটি বেশ স্পর্শকাতর। প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছেন, শহরে থাকা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজগান প্রদেশে সিরিক এবং জাস্কেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই শহরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের জন্য এখান থেকেই ইরান জলপথটিতে নজর রাখে।হরমোজগানের উপকূলে মার্কিন হামলায় নৌবাহিনীর দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকা শালামচেহর একটি যাত্রীবাহী স্টেশনের কাছে। বিস্ফোরণের কারণে ফলে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরের বিবৃতিতে সেন্টকম নতুন দফার হামলা শেষ করার কথা জানায়। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও কমানোর জন্য আরেক দফা হামলা সম্পন্ন করা হয়েছে।সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ দফায় তাদের বাহিনী সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।এদিকে লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ ‘এনসিলিয়া’ হামলার শিকার হয়েছে। জেনারেল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লেগে যায়।সূত্রটি জানিয়েছে, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এর আগে লোহিত সাগরে এনসেলিয়াসহ দুটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্য জাহাজটির নাম ‘লায়লা।’আজ ভোরে আইআরজিসি দাবি করেছে, ওমানের উপকূল দিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টার পর হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে গেছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বিস্ফোরণের পর আরও দুটি জাহাজ দ্রুত ফিরে গেছে।আইআরজিসির ভাষ্য, জাহাজ তিনটি মার্কিন নির্দেশে কাজ করছিল এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংস্থাটির নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতদিন এই অঞ্চলে আমেরিকার ‘অপকর্ম’ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১.৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৪৪ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.২৭ ডলারে লেনদেন শুরু হয়েছে।
১ মাস ৩০ দিন আগে
পাস্তুর সড়কে নিজের বাসভবন ও কার্যালয় থেকে আট কিলোমিটার দূরের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ময়দান। বিপ্লবী লাল পতাকা আর শোকের মলিন কালোর ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। কোটি কোটি মানুষের ঢল। সামনের মঞ্চে শুয়ে আছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খামেনির প্রাণহীন শরীর। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। খানিক পরেই শুরু হবে জানাজা (স্থানীয় সময় সকাল ৮টা)। ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন হাহাকার, আর্তনাদের বাঁধভাঙা ঢেউ নেমে আসে মোসাল্লার ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে। ১০ কিলোমিটার দূরের সড়ক-ময়দানেও ওঠে কান্নার রোল। বুক চাপড়ে কান্না! প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসে ওঠে বোবা গর্জন! ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রধান জানাজায় গতকাল শোকের সে ফুলকি-ই দেখেছে দুনিয়া। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসের দূরদর্শনে খুব কাছ থেকেই তা পরখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। কোটি কণ্ঠের ক্রোধের গর্জনে হয়তো আঁতকে উঠেছিল তার আগ্রাসী প্রাণও।সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানে গতকাল রবিবার ছিল তৃতীয় দিন। বিশ্বনেতা ও কূটনীতিকদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে নির্ধারিত শুক্রবার বাদ দিলে শোক এবং দাফন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন। তেহরানের এই মোসাল্লা চত্বরেই এদিন প্রথম জানাজা সম্পন্ন হলো খামেনির। শনিবার ছিল সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানো দিন।আজ সোমবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শোকমিছিল হবে তেহরানে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবেন মিছিলে। জানাজায় শরিক হতে শনিবার মধ্যরাতেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তেহরানবাসী। জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে পুরো প্রাঙ্গণে ইরানের জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হয়। আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করেন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। মুহূর্তেই আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে পরিবেশ। জাতীয় প্রতীক ও ধর্মীয় আবহ মিলিয়ে মোসাল্লায় এক অনন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় জানাজা। দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেছেন। জানাজায় অংশ নিয়েছেন আলী খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা হোসেইনি খামেনি, মাসউদ হোসেইনি খামেনি এবং মেইসাম হোসেইনি খামেনি। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার, বিদেশি প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, জানাজা তিন ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে শহীদ নেতার জানাজা, পরে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের, সবশেষে তার ১৪ মাস বয়সি নাতনির। জানাজা শুরু হতেই আর্তনাদে পরিণত হয় লাখো মানুষের কান্না। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সামরিক কমান্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কেউই। কারও চোখে অশ্রু, কেউ বুক চাপড়ে শোকপ্রকাশ, আবার কেউ নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন। উপস্থিত অনেকের কাছে এটি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বিদায় নয়, তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তির মুহূর্ত।তীব্র গরমের মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় ভিড়। আয়োজকরা পানি, ঠান্ডাপানীয় এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি কুলিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা কিছুটা স্বস্তি পান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখে।অনুষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে আসে। জনতার কণ্ঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানে বারবার মুখরিত হয়ে ওঠে মোসাল্লা।শুধু তেহরান নয়, ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এই বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কেউ কেউ শত শত, এমনকি হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে পৌঁছান। মোসাল্লায় উপস্থিতি এতটাই ব্যাপক ছিল যে, পুরো এলাকা সারাক্ষণই জনস্রোতে পূর্ণ ছিল। জানাজা শেষ হওয়ার পরও অনেকের পক্ষে স্থান ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শোক, কান্না এবং নীরবতা একসঙ্গে মিশে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা গতকাল রবিবার শুধু একটি জানাজার স্থান ছিল না; এটি ছিল শোক, রাষ্ট্রীয় সম্মান, ধর্মীয় আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তার এক বিশাল সমাবেশ।আগামীকাল মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শোকযাত্রা হবে নাজাফ ও কারবালা শহরে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন। অনুষ্ঠিত হবে জানাজা। বৃহস্পতিবার নিজ জন্মভূমিতে মাশহাদ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ইরানের কান্ডারি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নারকীয় হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরান শাসন করে আসছিলেন।খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ইরানিদের কান্না দেখে হুঙ্কার ছাড়লেন ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইরানের বাকি নেতৃত্বকে কেবল ‘এক আঘাতেই’ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা সবাই সেখানে উপস্থিত আছে। এক আঘাতেই আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারি। আমরা তা করব না, কারণ তাহলে আলোচনা করার মতো আমাদের আর কেউ থাকবে না। ওরা এখন একটি চুক্তির জন্য ভিক্ষা করছে। তিনি জানান, খামেনির জানাজা অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষই আলোচনা থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে কেউ কারও ওপর হামলা চালাবে না।
২ মাস ১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যুর কয়েক মাস পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির জানাজাকে ঘিরে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা তেহরান, কোম ও মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা জুড়ে কয়েক দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। ইরান সরকার জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজাকে একটি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি।ইরাক নিশ্চিত করেছে, রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের দুটি পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিটস এই অনুষ্ঠানগুলো কভার করার জন্য স্থানীয় ও বিদেশি গণমাধ্যমকে স্বীকৃতিপত্রের জন্য নিবন্ধন করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাজা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের একটি সময়সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুসারে, ৩ জুলাই তেহরানে বিদেশি নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানীর ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় প্রকাশ্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।৬ জুলাই রাজধানীতে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৭ই জুলাই কোমে, ৮ই জুলাই নাজাফ ও কারবালায় এবং ৯ই জুলাই মাশহাদে আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটিকে ইরানের শিয়াদের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটি খামেনির নিজ শহর এবং তাকে সেখানেই ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে, যা শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং একটি প্রধান তীর্থস্থান।খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ জানাজার নামাজে অংশ নেবেন এবং এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনসিপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনিই তেহরান যাচ্ছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তিনি কবে এবং কোন ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলও যাচ্ছে তেহরানে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবে এ দলটি। প্রতিনিধিদলটি ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবে।
২ মাস ২১ দিন আগে
জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা বর্তমানে পবিত্র উমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। জীবনের এই বিশেষ আধ্যাত্মিক সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন বাবা, মা ও বোন।উমরাহ পালন করতে গিয়ে নিজের অনুভূতির কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।ভাবনা লিখেছেন, ‘এখানকার সিজদায় যে প্রশান্তি মেলে, তার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। হে আল্লাহ, আমাকে আপনার ঘরের মেহমান হিসেবে এই পবিত্র ভূমিতে আসার তাওফিক দেওয়ার জন্য আপনার কাছে অসীম শুকরিয়া।’উমরাহ তাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘উমরাহ আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে, আমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আল্লাহর সঙ্গে আমার সম্পর্ক, এর চেয়ে বড় কিছু নেই। তাওয়াফের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন হৃদয়কে আরও কাছে নিয়ে যায় আল্লাহর সান্নিধ্যে।’ কাবা শরিফ প্রথম দেখার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভাবনা লেখেন, ‘কাবা শরিফে প্রথমবার চোখ পড়ার সেই মুহূর্তে যেন সব শব্দ হারিয়ে গিয়েছিল। হৃদয়ের গভীরে নেমে আসা সেই অনুভূতি, আত্মাকে ছুঁয়ে যাওয়া প্রশান্তি আর আল্লাহর প্রতি সীমাহীন কৃতজ্ঞতাকে কোনো ভাষাতেই পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’অভিনেত্রীর এই আধ্যাত্মিক সফরের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশের পর ভক্ত-অনুরাগীরা তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন।সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর অফিশিয়াল ট্রেলার। আর এই সিনেমায় মূল চরিত্র ‘প্রিন্সেস রোজী’ রূপে হাজির হয়ে রীতিমতো চমক দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভাবনা।
২ মাস ২৬ দিন আগে
।।মুফতি সাইফুল ইসলাম।।আগামী শুক্রবার পবিত্র আশুরা। এ নিয়ে নানা শঙ্কায় ধর্মপ্রাণ মানুষ। কারন আশুরার দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে—এমন একটি কথা অনেক সময় হাদিস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, আশুরার দিন যদি শুক্রবার হয় তাহলে সেদিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।কিন্তু হাদিস বিশারদদের গবেষণা অনুযায়ী এই বক্তব্য সঠিক নয়। আশুরার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মুহাদ্দিসদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা ভিত্তিহীন ও জাল বর্ণনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ আল্লামা আবুল ফারজ ইবনুল জাওযী (রহ.) এই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে মওযূ (জাল) বর্ণনা।’ (কিতাবুল মওযূআত, ২/২০২)পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদ হাফেয জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) এবং আল্লামা ইবনুল আররাক (রহ.) ও ইবনুল জাওযী (রহ.)-এর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। (আল-লাআলিল মাসনূআ, ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফূআ, ২/১৪৯)তবে এর অর্থ এই নয় যে, আশুরা দিবসের কোনো মর্যাদা নেই। বরং সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজাকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ রোজার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের ছোটখাটো গুনাহ ক্ষমার আশা ব্যক্ত করেছেন। তাই আশুরার প্রকৃত মর্যাদা জানতে হলে সহিহ সূত্রের ওপর নির্ভর করাই ইসলামের শিক্ষা।কিয়ামতের দিন সম্পর্কে সহিহ হাদিসে এসেছে যে, শুক্রবারে কিয়ামত সংঘটিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুক্রবার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (জামে তিরমিজি, ২/৩৬২; সুনানে আবু দাউদ, ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ি, ৩/১১৩-১১৪)দ্বীনের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো, কোনো বক্তব্য প্রচারের আগে তার বিশুদ্ধতা যাচাই করা। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ সহিহ সুন্নাহ অনুসরণই একজন মুসলমানের জন্য হেদায়াতের নির্ভরযোগ্য পথ। তাই আশুরার মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে ভিত্তিহীন কোনো বর্ণনা নয়, বরং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে কথা বলাই আমাদের দায়িত্ব। উল্লেখ্য, আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। মহররম মাসের দশম দিন হিসেবে এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এদিনের রোজা, এর ফজিলত এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার আলোচনা মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে। লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
২ মাস ৩০ দিন আগে