চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিকল যন্ত্র মেরামত করার সময় এসির বিস্ফোরণে দগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বগ্ধ আরও ৭ শ্রমিক গুরুতর জখম নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউ ও বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার। তিনি জানান, আইসিইউ ও বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিক মারা গেছেন। তারা হলেন, পটিয়ার হুলাইন এলাকার ইয়াসিন আউলিয়ার মাজার বাড়ির মোহাম্মদ আলম ও বোয়ালখালীর বদন আলীর বাড়ির দিদারুল আলম। তিনি আরও জানান, বৃহ¯পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বেয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদন্ডীতে অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৫ জনকে আইসিইউতে এবং চার জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনির্টে ভর্তি করা হয়। এছাড়া দগ্ধ দু‘জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।দগ্ধরা হলেন বোয়ালখালীর দিদারুল আলম (৩২), মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮) ও নূর নবী (২৫), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), নগরীর সদরঘাটের মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের জাহিদুল আলম (৪২), পটিয়ার মোহাম্মদ আলম (৪৫), মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের সেলিম উদ্দিন (৩০) ও আহসানুল হক (৪৫)। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম ও নুরুল আলম।চমেক হাসপাতালের আইসিইউ এবং বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। নুরুল আলমের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছ্ড়াাও মাহমুদুল হকের ৬০, উজ্জ্বলের ৫০, নূর নবীর ৪৫, লিটনের ৪০, জাহিদুলের ৩৫, সেলিমের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ ও সিরাজুলের ১০ শতাংশ করে পুড়েছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, কারখানায় তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল। সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। এ কারণে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এ সময় সেখানে থাকা দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে। আর এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে যারা ছিল, তারা মারাত্নকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।ওসি মোজাফফর হোসেন আরও বলেন, কারখানার দগ্ধ শ্রমিকদের কয়েকজনের বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাইনি। তারা সবাই হাসপাতালে বলে জেনেছি। পরবর্তীতে কেউ মামলা করলে বা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলার এবং দ্বগ্ধদের চমেক হাসপাতালে পাঠানোর তথ্য দেওয়ায় আমরা ফিরে এসেছি। এরপর তেমন কিছুই আমরা জানি না। এ বিষয়ে জানতে কনফিডেন্স সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের এজিএম বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে কোন সাড়া মেলেনি।
২ মাস ১০ দিন আগে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মু. ইসমাঈল হোসেন বলেছেন, শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটার এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন নিউরোসার্জিক্যাল আইসিইউ (ICU) এখন সময়ের দাবি। চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি সেবাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে নিউরোনেভিগেশন সম্প্রসারণ ও নিউরো-অনকোলজি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম (MDT) গঠন ও স্কাল বেস প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে এই সেক্টরে বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত সম্ভব এবং চট্টগ্রামে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়োজিত “এ মাইলস্টোন অব এক্সিলেন্স” শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।চট্টগ্রামে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ১০০টি ব্রেন টিউমার অপারেশনের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ, টিউমারের ধরন এবং অস্ত্রোপচারের ফলাফল নিয়ে একটি যুগান্তকারী গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মু. ইসমাঈল হোসেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ১০০ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮% পুরুষ এবং ৪২% নারী। মোট রোগীর ১৩% ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।টিউমারের প্যাথলজিক্যাল ধরনে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত মৃদু বা বিনাইন (Benign) প্রকৃতির মেনিনজিওমা (Meningioma) রোগীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি (৪৩%)। অন্যদিকে, মারাত্মক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ম্যালিগন্যান্ট প্রকৃতির গ্লিওমা (Glioma) কেস ছিল ২৪%। বাকি কেসগুলো ছিল অন্যান্য জটিল ক্রেনিয়াল এবং স্কাল-বেস প্যাথলজি।ডাঃ ইসমাঈল হোসেন তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, রোগীরা সাধারণত বেশ কিছু জটিল নিউরোলজিক্যাল সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তারমধ্যে মাথাব্যথা, বমি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা ও খিঁচুনি উল্লেখযোগ্য।মস্তিষ্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ সচল রেখে সর্বোচ্চ পরিমাণ টিউমার অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে ডাঃ ইসমাইলের সার্জিক্যাল টিম দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে। ৮১% রোগীর ক্ষেত্রে শতভাগ বা সম্পূর্ণ টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। নিয়ার টোটাল রিসেকশন সম্পন্ন হয়েছে ১৫% কেসে এবং টিউমারটি অত্যন্ত জটিল বা সংবেদনশীল স্থানে থাকায় মাত্র ৪% রোগীর ক্ষেত্রে আংশিক অপসারণ করা হয় ।অপারেশন-পরবর্তী ফলোআপে দেখা গেছে, ৬২% রোগীর অবস্থার সুস্পষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং ২৮% রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। যদিও ১০% রোগীর অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটেছিল এবং ১৮% রোগী সাময়িক কিছু জটিলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, সামগ্রিক জীবন রক্ষার হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।সেমিনারে ডাঃ ইসমাঈল হোসেন বলেন, আমাদের এই ১০০টি কেসের উপাত্ত পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, নিখুঁত প্রি-অপারেটিভ প্ল্যানিং বা অস্ত্রোপচারের আগের পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ডাঃ ইসমাঈল জানান, চিকিৎসকের কাছে রোগীদের দেরিতে আসা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরুর বড় বাধা। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের হার ধরে রাখতে শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটার এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন নিউরোসার্জিক্যাল আইসিইউ (ICU) এর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ডাঃ মু. ইসমাঈল হোসেন জানান, চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি সেবাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে নিউরোনেভিগেশন সম্প্রসারণ ও নিউরো-অনকোলজি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম (MDT) গঠন ও স্কাল বেস প্রোগ্রাম চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।১০০টি কেসের এই সফল মাইলফলক প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত প্রযুক্তি পেলে চট্টগ্রামের স্থানীয় চিকিৎসকরা দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
২ মাস ৩০ দিন আগে
একটি-দুটি নয়, ৩৫০টি বিষধর সাপের বসবাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক)। চন্দ্রবোড়া, রাসেলস ভাইপার, পদ্মগোখরা, সবুজবোড়াসহ নানা জাতের এসব বিষধর সাপের নাম শুনলেই যেখানে গা হিম হয়ে যায়, সেখানে অতিযত্নে দুধ-কলা দিয়ে প্রতিপালন করা হচ্ছে এসব সাপ! লক্ষ্য একটাই, অ্যান্টিভেনম বা প্রতিষেধক তৈরী। এসেছে সাফল্যও। এমন দাবি ভেনম রিসার্চ সেন্টারের (ভিআরসি)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চমেকে গত আট বছর ধরে বিষধর সাপ প্রতিপালনের কাজটি করে যাচ্ছে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির জন্য। প্রাথমিক গবেষণায় মিলছে সফলতাও। এরই মধ্যে রাসেলস ভাইপারের বিষ মুরগির শরীরে ট্রায়ালের মাধ্যমে তা থেকে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। সফল এই ট্রায়ালের রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। রিপোর্টের জবাব মিললে পরবর্তী ধাপগুলো পার হয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হবেন বলে জানান গবেষকরা। তবে গবেষণা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা। কারণ প্রায় দুই বছর ধরে গবেষণায় সরকারি অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকায় ঢিমেতালেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে বলে জানান গবেষক ও চমেকের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি জানান, আমাদের দেশে প্রতিবছর চার লাখ মানুষকে সাপে কাটে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মারা যায়। আর সাপে কাটার যে অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়, তা ভারতের। সাপের ভৌগোলিক পরিবেশ এবং প্রজাতিগত ভিন্নতার কারণে সব সময় এসব ওষুধ কাজ করে না। এ জন্য দেশে বিচরণকারী সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রকল্পটি চালু রাখা জরুরী।তবে সংকট নিরসনে নতুন একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ও অবগত। তিনি বলেন, ডিপিপি অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ঢিমেতালেই চালাতে হচ্ছে গবেষণা কার্যক্রম। অনেকটা স্থবির বলা যায়। কর্মীর সংখ্যা কমেছে। বাড়ানো যাচ্ছে না সাপের সংখ্যাও। কোনোমতে সাপগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই এখন মনোযোগী তারা।গবেষণা কার্যক্রমটির প্রধান গবেষক অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ জয় ভিআরসির সংকট ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে যাওয়ার ট্রানজিশন সময় চলছে। এ সময় কিছু আর্থিক অসুবিধা এবং জনবল কমিয়ে ফেলার মতো সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি সাপের খাবার সরবরাহ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এখন বিষ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। অনিরুদ্ধ ঘোষ আরও বলেন, মুরগির শরীরে রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই অ্যান্টিবডি সাপের বিষ (ভেনম) অকার্যকর করতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের তুলনায় এটি কোনো অংশেই কম কার্যকর নয়। এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন শেষ হলে পরবর্তী ধাপগুলোতে এগিয়ে যাওয়া হবে। এ ছাড়া সাপের অন্যান্য প্রজাতির প্রতিষেধক তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আওতায় এই গবেষণা চলছে। চমেকের সহযোগিতায় গবেষণায় যুক্ত রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন, মেডিসিন টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং জার্মানির গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়।সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যা¤পাসে অবস্থিত ভেনম রিসার্চ সেন্টারে প্লাস্টিকের বাক্সে সারি সারি করে রাখা হয়েছে ছোট, বড় ও মাঝারি— বিভিন্ন আকারের সাপ। যেন রাসেলস ভাইপার, পদ্মগোখরা, পিট ভাইপার, সবুজবোড়াসহ বিভিন্ন বিষধর সাপের আবাস। আগন্তুকের উপস্থিতি টের পেয়ে কোনোটি প্লাস্টিকের বাক্স থেকেই তুলছে ফণা, আবার কোনোটি ফোঁসফাঁস শব্দ করছে। গবেষণা সহযোগী মিজানুর রহমানের মতে, বর্তমানে ১১ প্রজাতির প্রায় ৩৫০ বিষধর সাপ রয়েছে এখানে। অর্ধেক সাপ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে আনা হয়েছে। বাকিগুলোর জন্ম এখানেই ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে। প্রতি মাসে সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তা সংরক্ষণ করা হয়।সাপের কক্ষের পাশের আরেকটি কক্ষে ইঁদুর প্রজনন করা হচ্ছে। সেখানে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ইঁদুর রয়েছে। প্রতি মাসে সাড়ে তিনশ সাপের জন্য দুই হাজারের বেশি ইঁদুর প্রয়োজন হয়। এসব ইঁদুরের খাবার হিসেবে ধান, গমসহ বিভিন্ন শস্য দেওয়া হয়।বর্তমানে ভেনম রিসার্চ সেন্টারে পাঁচজন কর্মী রয়েছেন। আগে কর্মীর সংখ্যা ছিল ১০ জন। তহবিল সংকটের কারণে কর্মী কমানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ ধরে আনা, প্রতিপালন, ইঁদুর প্রজনন এবং বিষ সংগ্রহ সব কাজই তারা করে থাকেন।
২ মাস ৩০ দিন আগে