দুয়ারের পর কপালও খুলল,সেন্টমার্টিন গেল ৮৩৭ পর্যটক
দুয়ার খোলার ৫ দিন পর কপালও খুলেছে পর্যটকদের। নানা অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে এমভি বার আউলিয়া। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সমুদ্রপথে দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পেলেন পর্যটকেরা।সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে হুইসেল বাজিয়ে ছেড়ে যায় জাহাজটি। সমুদ্রের ঢেউ পেরিয়ে প্রবাল দ্বীপের পথে শুরু হয় পর্যটকদের বহুল প্রতীক্ষিত যাত্রা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটকেরা।সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, এবারের পর্যটন মৌসুমে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম দিন যাত্রা শুরু করেছে শুধু এমভি বার আউলিয়া। অনুমতি পাওয়া অন্য দুটি জাহাজ এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে পর্যটক পরিবহন শুরু করবে।তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নানা প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক জটিলতায় পাঁচ দিন পিছিয়ে ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রার আগে জাহাজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, প্রথম দিন একটি জাহাজ চলাচল শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে অনুমোদন পাওয়া অন্য জাহাজগুলোও এই নৌপথে যুক্ত হবে।এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে নোঙর করে রাখা হয় পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ। যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করতে জাহাজগুলোর সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়। পর্যটকদের বসার চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবর্তন ও প্রস্তুত করে যাত্রার অপেক্ষায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা।এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ—এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করা অনেক পর্যটকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।জাহাজ চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে দ্বীপকেন্দ্রিক পর্যটন কার্যক্রম আবারও সচল হওয়ার আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, পর্যায়ক্রমে জাহাজের সংখ্যা ও পর্যটক পরিবহন বাড়লে সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।