চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিম খুনের একদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমনকি কারা কীভাবে খুন করেছে এ বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি পুলিশ। নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তারও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।অথচ বাজারে সবার সামনে খুন হয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম। কিন্তু কেউ কোন কথা বলছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন নিজেই বলছেন, এ ঘটনায় কেউ আমাদের কোনো তথ্য দিচ্ছে না। সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত করে ৩-৪টা নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে পারলে খুনের মোটিভসহ সবকিছু পরিস্কার হবে। নিহত মোহাম্মদ করিম (৩৭) রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাতে করিমের বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে কেরানীহাট বাজারে তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে নিহত করিমের স্ত্রী মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে করিমের শরীরে তিনটি গুলি লাগার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পেট, উরু ও নিতম্বে। একটি গুলি কোমরের পাশ দিয়ে ঢুকে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলি ছাড়াও মাথা-ঘাড়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করিম যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে পদ-পদবি ছিল না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশে ফেরেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দুই বছরে বেশকিছু অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। অন্তত ১০ মামলার আসামি। গত দুই মাস ধরে এলাকায় ছিলেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকায় ফিরেই খুনের শিকার হন মোহাম্মদ করিম।
১৩ দিন আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গভীর সংকট কাটিয়ে বিএনপিই দেশকে এগিয়ে নেবে। বারবার সংকটে পড়া বাংলাদেশকে বিএনপি অতীতে উদ্ধার করেছে। গর্ত থেকে উঠে আসতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু বিএনপি, তারেক রহমানই এই সংকট উত্তরণ করতে পারবে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর পুরাতন রেলস্টেশনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ যখনই গর্তে পড়েছে, তখন বিএনপি দেশকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে বের করে আনতে হবে। দলের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই দেশের জন্য কাজ করা যায়। সহযোগিতা করতে মন্ত্রী-এমপি হওয়ার প্রয়োজন হয় না।শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির শিক্ষা দিয়েছেন। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির ব্যানারে রাজনীতি করার শিক্ষাও তিনি দিয়েছেন।তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সাহসী অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের এমন সময়ে বড় বাজেট দেওয়ার সাহস অনেকের হবে না। বিএনপি সেই সাহস দেখিয়েছে। এই বাজেট পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। মানুষের সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামীতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ একের পর এক কার্যকর করা হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচিত সংসদ ও সরকার হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।আগামী দিনের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না-এমন মন্তব্য করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এলাকায় মাদকের ব্যবসা কারা করে তা স্থানীয় মানুষ জানেন। তাই শুধু পুলিশের জন্য অপেক্ষা না করে মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।একইভাবে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও সরকারি কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন অপশক্তি চেষ্টা করবে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালকের ভুমিকা পালন করেন সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক স¤পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সাবেক সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ০১ সেপ্টেম্বর’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১৬ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
১৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে ব্যাপক প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও দলের নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আগামী ৯ আগস্ট রবিবার সফর শেষে সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার তিন সাংগঠনিক ইউনিটের (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ খ্যাত– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সাংগঠনিক সভা। সভায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত, পরামর্শ ও স্থানীয় রাজনীতির বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আর ব্যাতিক্রমি এই উদ্যোগে এখন সরব হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের তৃণমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তৃণমূলের নেতৃত্বে সবসময় আস্থা রেখেছেন। উনি তৃণমূলের মুকুটহীন সম্রাট। তৃণমূলের রাজনীতি দিয়েই পুরো বাংলাদেশে উনার যে জনপ্রিয়তা, উনার যে রাজনৈতিক দর্শন–এটা ছড়িয়েছেন। এই জন্যই উনি সবসময় তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে আসছেন। মীর হেলাল বলেন, তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন, তখনও তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এখন যেহেতু উনি সশরীরে আছেন এবং চট্টগ্রাম উনাকে সর্বোচ্চ ভালো নির্বাচনের একটা ফিডব্যাক দিয়েছে তাই চট্টগ্রামের তিন জেলা (মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি, ১১টা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর সাথে সরাসরি কথা বলবেন। সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে কথা বলতে পারবেন। আমি মনে করি এটা পজিটিভ। এটাই আসলে তারেক রহমান সাহেবের চিরাচরিত রাজনৈতিক চর্চা এবং এটাই উনার তৃণমূলকে শক্তিশালী করার রাজনৈতিক দর্শন। এটা উনি আগেও করেছেন, এখনো এটা কন্টিনিউ করছেন।তৃণমূলের কর্মীরা দলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, এতে উচ্ছ্বাস কেমন দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে ব্যারিষ্টার মীর হেলাল বলেন, রবিবার চট্টগ্রামে দলীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির। যেটি আবার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সাংগঠনিক সভা। তাই দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। আমার মনে হয় দুইদিন ধরে তারা ঘুমোচ্ছে না। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর সব জায়গায়। তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার এই উদ্যোগ পুরো দলকে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন গতিতে চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারাও। তাদের মতে, সাংগঠনিক সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। অবশ্য উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কমিটি নেই। উত্তরের আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম আসেন। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম এসেছেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর প্রায় তিন মাস পর একই বছরের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত জানুয়ারিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। গতবার সাংগঠনিক সভা করেননি, এবার করবেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভাটি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সভা হবে, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত চেয়ারপার্সন ঢাকায় সেসব সাংগঠনিক সভা করেন সেখানে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, সাধারণত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের সাংগঠনিক সভাগুলোর ভেন্যু থাকে রাজধানী ঢাকা। এসব সভায় জেলা বা মহানগরের ‘সুপার ফাইভ’– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এবার সেই চর্চায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সভা দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।সফরে যা করবেন প্রধানমন্ত্রী : আগামী ৯ আগস্ট রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হেলিপ্টার যোগে ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হেফাজতে আমীর আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছে তিনি মরহুম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর আসবেন চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে।র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিভিন্ন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী যে সফর করেন সেখানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বসেন, সাংগঠনিক সভা করেন। ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরকালেও তিনি সাংগঠনিক সভা করবেন। হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় এ সভায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। যার মধ্যে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দও থাকবেন। উত্তর জেলায় কমিটি নেই, তাই উত্তরের উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি আছে তার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থাকবে। এছাড়া মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি–সম্পাদক অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুুষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানে কোনো জনসভা হবে না। এরপরও প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য প্রচুর লোক জমায়েত হবে। দলের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘরে উজ্জ্বীবিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছে। লায়ন হেলাল বলেন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেবেন। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম চট্টগ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুব কাছে বসে তার নির্দেশনা শুনার সুযোগ পাবেন। এজন্য নেতাকর্মীরা খুব উচ্ছ্বসিত। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে বরণ করতে প্রস্তুত। নিরাপত্তার চাদরে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সড়কপথে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেখানে নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। একই ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়ও। সেখানে পাইন্দং সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ শেষ হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। একইভাবে হাটহাজারীতেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হোটেল রেডিসন ব্লুও। এক কথায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ফোর্স এসএসএফ, ডিজিএফআই, সেনা, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন।
১ মাস ১১ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট তাঁর এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণ করা নতুন বাড়ি হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নতুন করে বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এসব বাড়ি হস্তান্তর করবেন। একই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন।তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থানে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখান থেকে তিনি পশ্চিম বাঁশখালীতে সমাবেশ ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে আমাকে ও সদস্যসচিবকে ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। এখনো দাপ্তরিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সফরসূচি চূড়ান্তভাবে জানানো হলে সে অনুযায়ীও আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
১ মাস ১৫ দিন আগে