সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১৪ দিন আগে
স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যেটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডও। কিন্তু সেখানে এমটি রাসি নামক জাহাজটি কাটতে গিয়ে ট্যাংক থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। শুধু ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সাগর উপকুল সীতাকুন্ডে স্থাপিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে একের পর এক বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বা বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার দায় পুরোপুরি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই কারও। এ নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না কোনো গণমাধ্যমেওএমন অভিযোগ শিপব্রেকিং শ্রমিক-কর্মচারীদের। একই অভিযোগ মালিকদেরও। তাদের মতে, শিপিব্রেকিং ইয়ার্ডে কোন দূর্ঘটনা হলে যেন সব দায় মালিকের। সব দোষ শ্রমিকের। কিন্তু এ জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর যে শতভাগ দায়ী তা কারও নজরে আসছে না। এমনকি প্রকৃত সত্য কোনো মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারূী ও মালিকরা জানান, স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়। কিন্তু কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়ে দেয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এ জন্য নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের ঘুষও। আর পরিশেষে পরিণতি গ্যাসের বিস্ফোরণ অথবা নির্গমনে শ্রমিকদের মৃত্যু। এ যেন গ্যাসমুক্ত সনদ নয়, শ্রমিকদের মৃত্যু পরোয়ানা। ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও। গত ১৪ আগস্ট সকালে এমটি রাসি জাহাজটির তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। আর ওই জাহাজের গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এরপরও বিষাক্ত গ্যাস ছড়াল কীভাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মাঝে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে এ দূর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৩১ আগস্ট সোমবার তাদের প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গ্যাসমুক্ত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার উত্তরে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই গ্যাসমুক্ত সনদ প্রদানের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি এই সনদ পেতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে, ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ঘাটতি এবং উদ্ধারকাজের অদক্ষতার প্রসঙ্গও। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মেনজামিন রিয়াজীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের আরেক কমিটিও জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস, প্রকৃতি নিরূপণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে ১৬ আগস্ট গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। যার প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পরিচালক মো. শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জানান, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট জাহাজ এবং সংলগ্ন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন তারা। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে। জাহাজের বিভিন্ন ব্যালাস্ট ট্যাংক, ডিপ ট্যাংক, কফারডাম, দুর্ঘটনাস্থলের বাতাস, পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে গ্রীন সনদধারী প্রতিষ্ঠান ফেরদৌস স্টিল শিপিব্রেকিং ইয়ার্ড এক বছর আগে স্ক্র্যাপ জাহাজ রাসির গ্যাস ফ্রি সনদ পান। সনদ দেওয়ার আগে জাহাজটির কম্পার্টমেন্টসহ অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু তখন ব্যালাস্ট ট্যাংক পরীক্ষা হয়নি। এরপর থেকে এক বছর ধরে জাহাজটি কাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমটি রাসির ব্যালাস্ট ট্যাংকের জন্য গ্যাসমুক্ত সনদ চাওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানের। তিনি বলেন, যে জায়গায় গ্যাসের উৎস সেই ব্যালাস্ট ট্যাংকের গ্যাসমুক্ত সনদ এক বছর আগে চাওয়া হয়নি। জাহাজের অন্যান্য অংশ দেখে গ্যাস ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। যতটুকু সনদ চাওয়া হয়, ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল।যদিও গোটা জাহাজ পরীক্ষা করেই গ্যাসমুক্ত সনদ দেওয়ার কথা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। কোনো বিশেষ অংশের জন্য আলাদা করে এই সনদ চাওয়ার বা দেওয়ার নিয়ম নেই।প্রতিবেদনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইডের কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎস এবং মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছিল। ট্যাংকের নিচের প্লেটে ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের সময় আশপাশের বায়ুতে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন এলাকায় উচ্চমাত্রার গ্যাসটির কারণে বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা স্বল্প সময়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্রহণ করে গুরুতর বিষক্রিয়ার শিকার হন। দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন, যা পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানি স্থির অবস্থায় থাকলে সেখানে কাদা, জৈবপদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীব জমা হয়। ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। নমুনা পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্সিজেন স্বল্প পরিবেশে ট্যাংকের তলানিতে উপস্থিত অণুজীব সামুদ্রিক পানিতে বিদ্যমান সালফেটকে বিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে সালফাইডে রূপান্তর হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে যেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম, সেখানে পানি কিছুটা অম্লীয় এবং সালফাইডের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপস্থিত এ সালফাইডের একটি অংশ দ্রবীভূত বা আবদ্ধ অবস্থায় পানি ও সেডিমেন্টে জমা থাকতে পারে, যা পানি থেকে সহজে বের হয়ে নিষ্কাশন পয়েন্টের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এছাড়া ফেরদৌস স্টিলে ট্যাংক কাটার সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না শ্রমিকদের। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়। পেশাদার উদ্ধারকারী দলকেও সঠিক সময়ে ডাকা হয়নি।সূত্র মতে, এমটি রাসি জাহাজটিতে মোট চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে ৪ নম্বরটি আগে কাটা হয়। ৩ নম্বরটি কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বিষক্রিয়া হয়। ১ ও ২ নম্বর ট্যাংকের মধ্যেও একই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি কাটার সময় বিশেষ সতর্কতা বা ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি নিষ্কাশন কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডি-ব্যালাস্টিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যালাস্ট ট্যাংকের ইতিহাস, ধারণক্ষমতা, পানির পরিমাণ ও স্থায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের উপস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ট্যাংকের ওপর, মধ্য ও নিচের অংশের বাতাসে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড এবং পানির বিভিন্ন স্তরে পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।তদন্ত কমিটির ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের গ্যাসযুক্ত ট্যাংক কাটার সময় কী করা দরকার, তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ইয়ার্ডটিতে গ্যাস মনিটর ছিল। কিন্তু ট্যাংকের পানি নিষ্কাশনের সময় তা ব্যবহার করা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় যদি গ্যাসের উপস্থিতি মনিটরের মাধ্যমে ধরতে পারত, তাহলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি না-ও হতে পারত। এ ছাড়া জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান আরও বলেন, ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি সাবধানতার সঙ্গে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতিতে করতে হবে। পোস্ট ভেন্টিলেশন অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে বাতাসে তা ধীরে ছাড়তে হবে। বাতাস ও ট্যাংকে গ্যাসের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক পরিমাপ করার জন্য মনিটর লাগবে। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঝুঁকি মনে হলে ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করতে হবে।এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের সময় শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। তলার প্লেটে ছোট ছিদ্র করে ডি-ব্যালাস্টিং করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতে তা করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাটার আগে এবং পানি নিষ্কাশনের সময় গ্যাস পরিমাপ করার জন্য মনিটর ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস অ্যালার্ম ব্যবহারের সুপারিশও এসেছে। সেই সঙ্গে পরিবেশে কী পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হয়েছে, তা দেখতে এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, সীতাকুন্ডে গত ১২ বছরে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণ ও নির্গমনে ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর যেন কোন দায় নেই।
১৪ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
১৮ দিন আগে
রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি, প্রচার ও বিক্রয় চক্রের এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী হলেন, সুমাইয়া সাঈদ ও তার প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুক।ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। জব্দকৃত মুঠোফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।তিনি জানান, এমন তথ্যের ভিক্তিতে ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করি আমরা। এরপর গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস ব্রান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপর ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরির সঙ্গে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই নারীর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
১ মাস আগে
ভুমিদস্যু-সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যা¤েপর পানির পাইপলাইন কেটে বিষ প্রয়োগ করেছে সন্ত্রাসীরা। আর এ পানি পান করে তিন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।এ ঘটনায় সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রক ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে সীতাকুন্ড থানায় মামলা করেছে আলীনগর অস্থায়ী যৌথবাহিনীর ক্যা¤েপর ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মকবুল হোসেন। মামলায় ইয়াসিনসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।সীতাকুন্ড থানার ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্যাংকে বিষ প্রয়োগে হত্যা প্রচেষ্ঠার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।ওসি মহিনুলের ভাষ্য, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি নিয়ে পুলিশের জন্য সংরক্ষিত যে ট্যাংকে জমা রাখা হয়, শুধু সেটিতে বিষ জাতীয় কিছু প্রয়োগ করা হয়। পাইপলাইনটি কিছুটা কাটা অবস্থায় দেখা যায়। সেই কাটা অংশ দিয়ে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।মামলায় যৌথবাহিনীর অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত পানির পাইপলাইন কেটে বিষ প্রয়োগ করেছে। ফলে ট্যাংকের সব পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ট্যাংকের পানি পানের পর ক্যাম্পের তিন জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছে।সদস্যরা হলেন, মাঈন উদ্দিন ভ‚ঁইয়া, ইয়াসির আরাফাত ও সাজ্জাদ হোসেন। তারা আলীনগর ক্যা¤েপ কনস্টেবল পদে দায়িত্বরত আছেন। অসুস্থ হওয়ার পর তিনজনকে চট্টগ্রাম মডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ হওয়া সদস্যরা জানায়, রবিবার সকালে পানি পান করার সময় তারা পানিতে এক ধরনের দুর্গন্ধ পেয়েছিলেন। ক্যা¤েপর পানীয় জলের সরবরাহ পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে করা হয়।খবর পেয়ে রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, যে ঘরটির ভেতর ডিপ মোটর বসানো রয়েছে, সেখানে সরাসরি প্রবেশ করতে না পেরে দুর্বৃত্তরা পাইপলাইন ও সংযোগস্থলের গোড়া থেকে কেটে সেখানে সরাসরি রাসায়নিক কীটনাশক ঢেলে দেয়। ক্যা¤েপর পাশাপাশি স্থানীয় স্কুলের কোমলমতি শিশুরাও এই পাইপলাইনের পানি পান করতো। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারতো বলে গভীর আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, যৌথ বাহিনীর ক্যা¤েপর পানির ট্যাংকে বিষ প্রয়োগের জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। যৌথ বাহিনীর ওই ক্যা¤েপ র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় তিনশ সদস্য রয়েছেন। পাশের ডিপটিউবওয়েল থেকে তাদের পানি সরবরাহ করা হয়। দুর্বৃত্তরা ডিপটিউবওয়েলের সংযোগস্থলে বিষ বা বিষজাতীয় কিছু পুশ করে। অপারেটর সকালে পানি ও ট্যাংক চেক করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। এর মধ্যেই হাত-মুখ ধোয়ার পর তিন জন সদস্য অসুস্থ হয়ে যান।তিনি আরও বলেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যা¤প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো এসব ঘটনা পুরোপুরি অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে ¯েপশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। বিকাল থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আলীনগরকেন্দ্রিক চিহ্নিত অপরাধীরাই এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।উল্লেখ্য, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে জঙ্গল সলিমপুরকে রীতিমতো রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে চিহ্নিত ভ‚মিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্র। পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করেন চিহ্নিত ভ‚মিদস্যু ও সন্ত্রাসী ইয়াসিন। সেখানে লাখো মানুষের বসবাস। দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বারবার প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।পরে জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যা¤প স্থাপন করা হয়। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি তারা; বরং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।গত ২৫ মে জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগর এলাকায় অবস্থিত যৌথ বাহিনীর ক্যা¤েপ গুলি বর্ষণসহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভেকু দিয়ে একটি নির্মাণাধীন ক্যা¤প ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে সীতাকুন্ড থানায় মামলা করা হয়। তবে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন মামলার প্রধান আসামি ইয়াছিন বাহিনীর প্রধান ইয়াছিন। এরপর গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে যান।
১ মাস ২২ দিন আগে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য মিলেছে। যা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য মিলাতে এসব সম্পদের বড় অংশ স্ত্রী, মা-বাবা ও শ্বশুরের নামে কিনেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর পল্লবী সেকশন-৬-এর ৮ নম্বর সড়কের সি-ব্লকের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ১৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে আহম্মদুল্লাহর। এছাড়া আদাবরে একটি প্লট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট এবং কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর আটতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।দলিল সূত্র মতে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুর কাছ থেকে প্লটটি ক্রয় করা হয়। দলিলে জমির মূল্য ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে প্লটটির বাজারমূল্য এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। এছাড়া আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহ তার শ্বশুর অলিউল হকের নামে কিনে পরে সেটি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের ঝালকাঠী সদর উপজেলার দিবাকরকাঠী গ্রামে তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই এলাকায় তার ১০ একরেরও বেশি জমি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এছাড়া বরিশাল শহরে একটি ফ্ল্যাট এবং উজিরপুর কলেজসংলগ্ন এলাকায় জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।অভিযোগ রয়েছে, আহম্মদুল্লাহর স্ত্রী ঢাকা মেট্রো-গ ৪৩-৪৭৬৯ নম্বরের গাড়িটি ব্যক্তিগত হলেও সামনে সরকারি লোগো ব্যবহার করেন। অন্যদিকে আহম্মদুল্লাহ নিজেও দীর্ঘদিন বিপিসি চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রতি মাসে পল্লবীর বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গাড়িভর্তি উপহারসামগ্রী নিয়ে আসতেন। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিপিসির অধীনস্থ আটটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রয় ও প্রশাসনিক ফাইল চেয়ারম্যানের অনুমোদনের আগে আহম্মদুল্লাহর মাধ্যমে যেত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করতেন তিনি।এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহকারী (বাংকার) ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বেসরকারি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত কোটি টাকার বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়েও তিনি আর্থিক সুবিধা নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বিটুমিন বিতরণ, বিদেশি জাহাজের এলসি পেমেন্ট এবং ফিলিং স্টেশন অনুমোদনের ফাইলেও অর্থ লেনদেন ছাড়া ফাইল চেয়ারম্যানের টেবিলে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদারীপুরের শিবচরে একটি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে প্রায় ছয় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।আহম্মদুল্লাহ ২০১৯ সালে চাকরির আবেদনে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করেন। বিপিসির বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদটি নবম গ্রেডের হলেও তিনি ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও টানা সাড়ে ছয় বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বরিশাল অঞ্চলের লোকজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিপিসির ঢাকা কার্যালয় ও রেস্ট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বরিশাল অঞ্চলের লোকজনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে মাত্র একদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্বে ফিরে আসেন।এদিকে তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসের ইনচার্জ মো. শফিউল ইসলাম চাকরি হারান বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১ মার্চ বিপিসি চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগে আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব স্থানান্তরের অভিযোগ তোলেন।অভিযোগে বলা হয়, তার দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়। এছাড়া ডিপো ইনচার্জদের বদলির হুমকি দিয়ে মাসোহারা আদায়, তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতি এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।বিপিসির উপব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. ইসতিয়াক হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন, টিএ/ডিএ ও জ্বালানি বিল বাবদ আহম্মদুল্লাহকে ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আহম্মদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথী জমি ও ভবনের মালিকানার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভবন নির্মাণে তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন।
১ মাস ২৫ দিন আগে
প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের তিন কর্মকর্তা এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।বুধবার (২২ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ার পর বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহারভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেন। এ ছাড়া তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, বেস্টওয়ে ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, গ্রেট ওয়াল ল্যান্ড প্রোপার্টি লিমিটেড, বেস্টওয়ে পাওয়ারটেক লিমিটেড, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে কো-অপারেটিভ কমার্শিয়াল ক্রেডিট লিমিটেড, নভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেস্টওয়ে মোটরস লিমিটেড, বেস্টওয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনকিউবেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে ন্যাশনওয়াইড হাউজিং লিমিটেড, এনআরবি টাউন লিমিটেড, বেস্টওয়ে এগ্রো লিমিটেড, বেস্টওয়ে টাইমস সিটি লিমিটেড, বেস্টওয়ে জেমি ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, গ্লোবাল কানেক্ট বিডি লিমিটেড, হেরিটেজ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং বেস্টওয়ে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড।সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে আকর্ষণীয় প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।তদন্তে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণ করা হলেও তাদের প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। গ্রাহকদের প্লট বরাদ্দের নিশ্চয়তা হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিশ্রুত প্লট হস্তান্তর করা হয়নি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় বনানী থানায় ২১ জুলাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।সিআইডির দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করছিলেন কিছু রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী, পরিচালক মো. মোমেনসহ সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠান।অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্ট ৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তদন্তে ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্যও পাওয়া গেছে।সিআইডি জানিয়েছে, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্য গ্রাহকদের শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।সিআইডি আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমির কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার পাশাপাশি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
১ মাস ২৭ দিন আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস ১ দিন আগে
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকর পূরো নিয়ন্ত্রণ ছিল বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের। গ্রুপটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ লাবু দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময়ে লাবুর নেতৃত্বে কেডিএস গ্রুপের খলিলুর রহমান ও তাঁর ছেলে সেলিম রহমান ব্যাংকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে পরিচালিত আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখে পুরোনো উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে যুক্ত করে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের অধিকাংশই চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে পূরণোদের মধ্যে নেই শুধু এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছিল। প্রায় দুই বছর পর ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আগের উদ্যোক্তাদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক উদ্যোক্তাকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় তাদেরই পর্ষদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের কর্ণধার খলিলুর রহমান, তাঁর বড় ছেলে সেলিম রহমান, ছোট ভাই আহামেদুল হক এবং আহামেদুল হকের সম্বন্ধী বদিউর রহমান। বদিউর রহমান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায়, ২০২৩ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।এ ছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে শরিফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্ষদে পুনরায় জায়গা পেয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক মীর গ্রুপের কর্ণধার আবদুস সালাম। তিনি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ছেলের শ্বশুর।এ ছাড়া দুবাইভিত্তিক আল হারামাইন পারফিউমসের মালিক ও এনআরবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসিরের ছেলে ইমাদুর রহমানকে আবার পরিচালক করা হয়েছে। পুরোনো পরিচালকদের মধ্যে আরও রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লাহ।
২ মাস ২ দিন আগে
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন আতঙ্ক আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর একাধিক মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করতে ডেভিড ইমনের জন্মস্থান ফটিকছড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করা হলেও পুলিশ এখনো নাগাল পায়নি ডেভিট ইমন বা তার সহযোগী কারও। এ নিয়ে হাসি তামাশা করছেন নগর ও ফটিকছড়ির মানুষ। তাদের অনেকেরই ভাষ্য, ডেভিড ইমন তাকে চট্টগ্রাম শহরে। আর পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে ফটিকছিড়িতে। যেন বগলের তলে রেখে ডেভিড ইমনকে খুঁজছে পুলিশ। তার সত্যতা মেলে ইমনের একটি অডিও কল রেকর্ডেও। ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ফোন করা এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ডেভিড ইমন ফোন করেছে বলেন, আমার ফোন নম্বর দেখান, তিনিই বলে দেবেন আমি কে। এই রেকর্ডে জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের। গত ১৩ জুলাই সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ৩০-৩৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ওই ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে ডেভিড ইমনের একটি ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হয়।অভিযানের সফলতা নিয়েও প্রশ্নচট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অভিযানের শুরুতে ইমনের পরিবারের কয়েকজনের মোবাইল ফোন হেফাজতে নেয় পুলিশ। তারপর তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান শুরু করে। তবে ইমনের নাগাল এখনও পায়নি পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর (বড় সাজ্জাদ) অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে সে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প গ্রুপ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন ও পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকান্ডসহ ৭টি হত্যা মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকার ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামক একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ডেভিড ইমন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সোমবার (১৩ জুলাই) ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রকাশ্য দিবালোকে ওই অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ফোনের একটি অডিও কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের নিজ এলাকা ফটিকছড়ির কাঞ্চন নগরে তার খোঁজে মাঠে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম। কে এই ডেভিড ইমনপুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ডেভিড ইমনের নাম আলোচিত হয় ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের কয়েক সহযোগীর একজন হিসেবে নাম উঠে এলেও ধীরে ধীরে একক অস্তিত্বও জানান দেন তিনি। যদিও বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবেই এখনো পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ডেভিড ইমন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তার বাবার নাম মো. মুসা। সাধারণ কৃষকের ঘরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখাপড়াও তেমন করেননি। অল্প বয়সে কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সাজ্জাদের গ্রুপে যোগ দিয়ে একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে সহজেই তার (সাজ্জাদ) নজরে আসেন। বর্তমানে ইমন চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছেন। সাজ্জাদ আলীর গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ সন্ত্রাসী রয়েছে। অপরাধের নেটওয়ার্ক চট্টগ্রামজুড়েস্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রামজুড়েই এই অপরাধি চক্রের নেটওয়ার্ক। তবে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা ও হাটহাজারী উপজেলায় এই চক্রের প্রভাব বেশি। মূলত এসব এলাকায় বিচরণ ডেভিড ইমনের। যেখানে তারা প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। ডেভিড ইমনের আগে ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা কতিপয় পুলিশ সদস্যের সাথে সমন্বয় করে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। সে হিসেবে বলা যায় পুলিশের বগলের তলেই ডেভিড ইমন। পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনে সরাসরি জড়িত ছিলেন ডেভিড ইমন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দু‘জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যাকান্ডে ডেভিড ইমন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ সোমবার বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিডিএন নামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেন। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। সবাই সাজ্জাদ আলী খান গ্রুপের সদস্য। মুখোশ পরে থাকায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে ডেভিড ইমনের একটি ফোলালাপ ফাঁস হয়। এতে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ফোন করা ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ডেভিড ইমন ফোন করেছে বলেন, আমার ফোন নম্বর দেখান, তিনিই বলে দেবেন আমি কে। আরেকটু সময় থাকলে বাঁশখালীর সাবেক এমপি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের বাড়ির সামনে কী হয়েছে জানা নেই আপনার? আপনি কি মুজিবুর রহমানের থেকে বড় হয়ে গেছেন? ব্যবসা করতে চাইলে একবারে দুই কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে দুদিনের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নেবেন, আমার পোলাপান ব্যবসা করবে। সূত্রমতে, গত ২ জানুয়ারি সকালে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বদেশের প্রকাশক, সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এরপর ওই বাসার নিরাপত্তায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে নিয়োগ করা হয়। দুই মাসের মাথায় পুলিশ পাহারা থাকাবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফের ওই বাসা লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বড় সাজ্জাদের বাহিনী ওই হামলা চালায় বলে দাবি করে পুলিশ। পরে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে মুজিবুর রহমান রেহাই পান বলে এলাকায় প্রচার হয়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কিংবা মুজিবুর রহমান কেউ পরে আর কথা বলেনি। ডেভিড ইমনের বিচরণ বিলাসবহুল ভবনের ছাদে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলছেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দি গানের মিউজিক বাজছে। কখনো পাঁচ তারকা হোটেলের লবিতে বৈঠক করছেন অন্যদের সঙ্গে কিংবা বিলাসি বারে বসে বিয়ার খাচ্ছেন। এমন হাজারো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা আছে ডেভিড ইমনের নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফলোয়ারও কয়েক লাখ। নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার সংখ্যা পার হলে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফটোকার্ডও শেয়ার করেন ডেভিড ইমন। ফেসবুক ঘাঁটলে প্রথম দেখায় মনে হবে হিন্দি ছবির সেলিব্রেটি কোনো নায়ক। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে নিজেই শেয়ার করেন। অতিরঞ্জিত কিছু লেখা হলে প্রতিক্রিয়া জানান। সুদর্শন এই যুবকই এখন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন আতঙ্ক। নগর পুলিশের ঘুমও কেড়ে নিয়েছেন তিনি। সবশেষ আলোচনায় এসেছেন গত সোমবার দুপুরে বাকুলিয়া এক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে।হোয়াটসঅ্যাপ কল আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাচন্দনপুরা এলাকায় গত সোমবার দুপুরে ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) হামলা এবং ৩৫ লাখ টাকার লুটের ঘটনার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসির মোড়ে অবস্থিত আরেকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে ডেভেলপার কো¤পানি, ইন্টারনেট, ডিশ ব্যবসা, গার্মেন্ট কিংবা খাতুনগঞ্জের আড়তদার সবার কাছে যেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ডেবিড ইমন। বিদেশি নম্বর থেকে ফোনে দাবি করা হয় চাঁদা, না দিলে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা, এমনকি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হচ্ছে না ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী সন্ত্রাসীরা। নগরজুড়ে সন্ত্রাসের এই আধিপত্য গড়ে তুলতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাকে। নেট প্লাস ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোনে কল দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। আমাকে ফোনে কল করে বলে, দেখছেন তো ডিডিএনকে কী অবস্থা করেছি। টাকা না দিলে আপনারও এমন পরিস্থিতি হবে। সন্ত্রাসীদের এমন আচরণে এখন আতঙ্কে রয়েছি।তার দাবি, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গত এক মাসে দেড় কোটি চাঁদা আদায় করেছে ডেভিড ইমন বাহিনী। বিশেষ করে অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসির মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে প্রতিটি কো¤পানির মালিককে ফোনে কল করে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোনো ধরনের প্রতিবাদ ছাড়াই সন্ত্রাসীদের হাতে চাঁদা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার হোয়াটসঅ্যাপ কলের আতঙ্কে থাকেন ব্যবসায়ীরা।সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনাইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা। আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলা বা হয়রানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ পরিস্থিতি আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। ডেভিড ইমনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।সিএমপি কমিশনারের বক্তব্য সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ে ইন্টারনেট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনসহ জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক আগে থেকে চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রশাসনকে জানাননি। এ কারণে আগে থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেভিড ইমন দাবি করেন, তিনি দুবাই আছেন। কিন্তু পুলিশের কাছে এমন কোনো রেকর্ড নেই। এমনও হতে পারে, তিনি দেশে থেকেই বিদেশে অবস্থানের কথা প্রচার করছেন সবাইকে বিভ্রান্ত করতে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।
২ মাস ৩ দিন আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানসহ ১০ বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা, চীন, জাপান, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থাকছে আসামির তালিকায়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, আমাদের তদন্ত শেষ হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অভিযোগপত্র প্রস্তুত করতে ফরেনসিক প্রতিবেদন, ফিলিপিন্সের এমএলএআর, এফবিআই রিপোর্ট, জাপান ও ভারতের সুপারিশ, শ্রীলঙ্কা থেকে অর্থ ফেরতের রেকর্ড, সুইফটের তথ্য, তদন্তের ডকুমেন্টারি ও ১৬১ ধারায় নেওয়া জবানবন্দি আমলে নেওয়া হয়েছে। দশ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট এবং খসড়া অভিযোগপত্রে অপরাধের বিস্তর তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে। আশা করছি শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দিতে পারব। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নাম রয়েছে। অভিযুক্তের তালিকায় আরও তিন বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে। তারা হচ্ছেন-কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ। শেষ তিনজনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সিআইডি।সূত্র আরও জানায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানাকে প্রধান করে একটি ফরেনসিক অডিট করা হয়। অভিযোগ রয়েছে-ওই অডিটের সময় বেশির ভাগ আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া হ্যাকিংয়ে সহায়তা, মানি লন্ডারিং ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্রআথ্রেশ, নীলভান্নান ও মাদুক্কুর আনন্দনের বিরুদ্ধে। খসড়া অভিযোগপত্রে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজনকে চিহ্নিত করে ল্যাজারাস গ্রুপ, পার্ক জিন হিয়োক কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গাও শুহুয়াসহ দুজন চীনা নাগরিকের নামও উঠে এসেছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে।অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়, ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মিলছিলো না।এ নিয়ে আরসিবিসির বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা চলছে। অর্থ রূপান্তর, চুরি, আত্মসাৎ-এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা প্ররোচনা, জালিয়াতি, জালিয়াতিতে সহায়তা বা প্ররোচনাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে সেখানে।মামলায় বলা হয়েছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির কাজে ‘অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের’ সহায়তা নেয় আসামিরা। ‘নেস্টেগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’ এর মত ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য পথ বের করে। পরে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপিন্সে আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে। ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের মানুষ বিষয়টি জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে। বিষয়টি চেপে রাখায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় বড় ধরনের রদবদল।এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন। তবে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি তখন।মামলাটি শুরু থেকেই তদন্ত করছে সিআইডি। সবশেষ গত ১৮ মে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯৫ বারের মত পেছানো হয়। সেদিন আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২ জুলাই দিন ঠিক করে দেয়।
২ মাস ৩০ দিন আগে