চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধার এবং সাজানো অপহরণের ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে র্যাব-৭। একই সঙ্গে সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যা¤প বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।র্যাব-৭ অধিনায়ক জানান, ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা থেকে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের ৮৪ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১৬ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুরো সমাজের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই ভয় না পেয়ে পরিত্যক্ত বা অন্য কোনোভাবে পাওয়া অস্ত্র র্যাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কেউ অস্ত্রের সন্ধান দিলে কিংবা গোপন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ভুয়া অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'সম্প্রতি তিনটি অপহরণের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে- একজন অনলাইন জুয়ায় ৩ লাখ টাকা হেরে আত্নগোপন করেছিলেন।একজন স্বজনদের বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং অন্যজন পরিবারের ওপর রাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এ ধরনের সাজানো অভিযোগে বাহিনীর দীর্ঘ সময় ও জনবল অপচয় হয়, যা প্রকৃত অপরাধ দমনে বড় বাধা সৃষ্টি করে।জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যা¤প স্থাপনের পর থেকে কোনো বড় ধরনের অপরাধ ঘটেনি। পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ক্যা¤প প্রত্যাহার করা হবে না। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি অপরাধীদের ছদ্মবেশে অবস্থান ঠেকানোসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক নজরদারির বহাল থাকবে।
৩ দিন আগে
এক সময় জমজমাট ছিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর পাশে গড়ে ওঠা জমিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান স্টিল মিলস। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮০ দশক থেকে যেখানে শুরু হয় অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মুলে ছিল শ্রমিকদের রাজনীতি। যারা দলীয় পরিচয়ে শ্রমিক সংগঠন সিবিএ‘র নামে নানা দাবি নিয়ে প্রায়ই আন্দোলন কর্মর্সূচি চালাত।করত মিছিল-সমাবেশ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি। কমেই শুরু হয় যন্ত্রাংশ চুরি ও পাচারসহ লুটপাট। যার ফলে কারখানাটি ক্রমেই লোকসানের মুখে পড়ে। এভাবে কালক্রমে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টিল মিলস। মিলের যন্ত্রাংশে ধরে জং, শেড হয়ে পড়ে পরিত্যক্ত। আর সেই পরিত্যক্ত কারখানার জায়গায় গড়ে উঠে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-কেইপিজেড।যেখাানে গড়ে উঠে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা।এসব কারখানায় অটোমেটেড মেশিনে তৈরি হচ্ছে দামি সব রপ্তানি পণ্য। যেখানে সরাসরি দেশের ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এ পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা)-এর সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মোহাম্মদ তানভির হোসেন।তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যখন পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের পরিত্যক্ত জমিতে এই ইপিজেড চালু করা হয়, তখন প্রথম বছরে মোট বিনিয়োগ এসেছিল মাত্র ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবকাঠামোগত সুবিধা, সরাসরি কর্ণফুলী নদী ও চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে অবস্থান এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে দ্রুত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বড় গন্তব্যে পরিণত হয় কেইপিজেড।দুই দশকের ব্যবধানে সেই প্রাথমিক বিনিয়োগ এখন ৭৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেম যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বর্তমানে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তাদের ৪০টি পূর্ণাঙ্গ কারখানা এখানে নিয়মিত পণ্য উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।বিনিয়োগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেইপিজেড থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির চিত্রটি আরও বেশি ঈর্ষণীয়। শুরুর বছরে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। সেখানে গত ২০ বছরে কর্ণফুলী ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, এই বিশাল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন বা পণ্যের বৈচিত্র থেকে। সাধারণ টি-শার্ট বা ট্রাউজার তৈরির গন্ডি পেরিয়ে কেইপিজেড এখন উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত হাবে রূপান্তরিত হয়েছে।বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন, নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য এখন তৈরি হচ্ছে ইপিজেডে।কর্ণফুলী ইপিজেডের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হয় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর ইতিবাচক প্রভাবকে। ২০০৬ সালে যখন উৎপাদন শুরু হয়, তখন পুরো ইপিজেডে শ্রমিক ও কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট জনবল ছিল মাত্র ১৭৪ জন। দুই দশক পর আজ সেখানে সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের।মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকের মতে, কেইপিজেডের মোট ৮০ হাজার কর্মীবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, খুলনাসহ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী সামাজিক পরিবর্তন এনেছে নারীকর্মীদের বিশাল এই অংশগ্রহণ।এর ফলে স্থানীয় হাউজিং, ব্যাংক, রিটেইল মার্কেট ও লজিস্টিকস খাত মিলিয়ে পরোক্ষভাবে আরও দেড় লাখের বেশি পরিবার অর্থনৈতিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন আরও ৫টি নতুন কারখানা চালু হলে মোট প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান দ্রুতই ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজের ভাষ্য, কেইপিজেড দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ব্রান্ড ইমেজ তৈরি করেছে তাতে প্রচুর আগ্রহ আছে। কিন্তু ইপিজেড এলাকায় এখন খালি কোন প্লট নেই।তাঁর মতে, দুই দশক আগে স্টিল মিলসের জায়গায় ইপিজেড গদে তোলা হলেও পরে তার আওতা বাড়েনি। কিন্তু জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি আয়। কেইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ থাকলেও কোনো প্লট খালি নেই। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে ইপিজেডের পরিধি বাড়ানো হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা আরও পাল্টে যেত।অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে একটি পরিত্যক্ত জমি যে রাষ্ট্রের স¤পদে পরিণত হয়ে অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে কেইপিজেড তার বড় উদাহরণ। এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। নিতে হবে নতুন উদ্যোগ।উল্লেখ্য, বন্দরসংলগ্ন হওয়ার কারণে কাঁচামাল খালাস এবং ফিনিশড গুডস জাহাজীকরণে কেইপিজেড অনন্য সুবিধা পায়। সে সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও নদীর কাছাকাছি ভৌগোলিক সংযোগ 'লিড-টাইম' বা পণ্য সরবরাহের সময় আরও কমিয়ে আনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদক কারবারির অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। যারা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে কিশোর গ্যাঙকে। মাদক বেচাকেনার ¯পটগুলোতে প্রকাশ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা।মাদক বিক্রির ¯পট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে দমন, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়াসহ নানা অপরাধে সব সময় সক্রিয় থাকে বিশোর গ্যাঙ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পুলিশি অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পৌছে যায় কিশোর গ্যাঙয়ের কাছে। এতে নিয়মিত অভিযানের বদলে আলোচিত ঘটনার পরই অভিযান জোরদার হতে দেখা যায়।জানা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ মাদক ¯পট বস্তিকেন্দ্রিক। বহিরাগত কেউ এসব এলাকায় ঢুকলে কিশোর গ্যাঙয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলেও নাকি কারবারিরা যথাস্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।চান্দগাঁও থানার ৮ নম্বর রেললাইন সংলগ্ন বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হট¯পট হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাজু ও সেলিম নামে দু‘জন মাদক কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একই এলাকায় সাজুর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার বহু প্রমাণ আছে। এদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় ঝর্ণা নামে এক নারী ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজীর হাটের কুমারপাড়ায় আলোচনায় রয়েছে ফারুক মেম্বারের নামও।অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইগারপাস আমবাগান এলাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মাদক কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাঙয়ের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানার বটতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন কুমিরা বাস এলাকায় হোসেন ও সাহিদা, আগ্রাবাদ এলাকায় মনা বেগম, শাহ আলম ও রুবির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের প্রমাণ আছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাঙকে ব্যবহার করে মাদক ¯পট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কিশোর গ্যাঙয়ের সদস্যরা হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী ও টাইগারপাসের আমবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন ও এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারের সময় কিশোর গ্যাং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন। পাথর নিক্ষেপে আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় পুলিশের ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।ডবলমুরিং থানার এএসআই বাবলু বলেন, আলমগীরকে গ্রেপ্তারের পর কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন গুরুতর আহত হন।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) জনাব মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, অভিযানে আলমগীরকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকিসহ কয়েকটি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আজকের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে। নইলে কাল তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক, আর কোনো ছাড় নয়।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাঙয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদক বিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ দিন আগে
প্যারোলে মুক্তির পেয়ে পরলোকগত মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অঝোরে কাঁদলেন সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত হন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এর আগে মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য তার ভাই অঞ্জন কুমার ধর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবেদনটি অনুমোদন করেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ৫ ঘন্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে বের করা হয় এবং বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে তাকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ পুণ্ডরীক ধামে আনা হয়। পরে তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিটে পুণ্ডরীক ধাম থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর উপজেলার মেখল ইউনিয়নস্থ শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতা ক্যান্সার আক্রান্ত সন্ধ্যা রাণী ধর (৭০) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
৭ দিন আগে
মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। এ সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
৯ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামের লালদীঘির শান্ত জলের মাঝখানে ভাসছে ছোট ছোট শত শত শোলা। মাচায় বসে থাকা শিকারির চোখ ওই শোলার ওপর। চোখের পাতা যেন পড়ছে না। হঠাৎ মৃদু কাঁপুনি, শোলা ডুবছে আর উঠছে। টুপ করে শোলাটা অতলে হারিয়ে যেতেই শিকারি দুই হাতে ওপরের দিকে দেন ছিপের টান। বড়শির কাটায় বিঁধল মাছে। অমনি সাবমেরিনের মতো জলের গভীরে মোচড় দিল এক অদৃশ্য শক্তি। রিলের সাঁইসাঁই শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার করে মাচা থেকে চিৎকার উঠল, ধরেছে রে, ধরেছে! সুতো ছাড়, সুতো ছাড়! শুরু হলো মানুষ আর জলের মাছের লড়াই।চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে এভাবে বড়শিতে মাছধরা প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন শত শত মাছ শিকারি। এরা আসলে জুঁয়াড়ি। বড়শি প্রতিযোগীতার নামে লাখ টাকা পুরস্কারের লোভে মাছ ধরার জুঁয়া খেলা এদের নেশা। যার ছোবল পড়েছে শতবর্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন পুকুরটিতে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা কিংবা একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো সবকিছুর মুখরিত সাক্ষী এই প্রাঙ্গণ। শতবর্ষী জব্বারের বলীখেলারও সাক্ষী এই লালদীঘির ময়দান। সেই লালদীঘির বুক চিরেই শুক্রবার রাত দশটা থেকে শনিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হয়ে গেল মাছধরার জুঁয়ার উৎসব।বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মাছ ধরার এই জঁুয়া খেলার আয়োজক হায়দার আলী। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে দিঘিতে প্রায় বিভিন্ন সাইজের ৩০ মণ মাছ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ আলম গং। অন্য একটি জলাশয় থেকে এনে লালদীঘিতে ছাড়া হয়েছিল মাছগুলো। ওই মাছ এখন আরও বড় হয়েছে। সেই মাছগুলো শিকারেই চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয় ১৮টি মাচা। প্রতিটি মাচায় চারজন করে বসার সুযোগ, আর প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা।শিকারিদের এই লড়াইয়ে বড়শির চেয়েও বড় ছিল টোপের রসায়ন। কাতলা মাছকে টানতে কেউ মেখেছেন সুগন্ধি লাড্ডু, রুই-মৃগেলের জন্য বানিয়েছেন সাদা রুটি আর পিঁপড়ার ডিমের চারা, আবার পাঙাশ শিকারে ছিল ভিন্ন উপাদান। সেই অপেক্ষার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। দিঘিতে সর্বনিম্ন এক-দেড় কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত মাছ ছিল। খালি চোখে যেটাকে ১২ কেজি মনে হয়েছিল, দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেখা গেল ১৪ কেজির এক ব্ল্যাক কার্প! এছাড়া বড়শিতে উঠেছে ১১ কেজির বেশি ওজনের কাতলা, ৫ কেজির পাঙাশসহ ঝাঁকে ঝাঁকে রুই ও মৃগেল। অনেকের মাচায় জমা হয়েছে এক মণেরও বেশি মাছ।বকশির হাটের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ৩৫-৩৬ বছর ধরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকা মোহাম্মদ টিপু জানান, তার মাছ শিকারের হাতেখড়ি হয়েছিল এই লালদীঘির পানিতেই। চুয়েটের কর্মকর্তা রিয়াদ কিংবা তরুণ উদ্যোক্তা আরাফাত হোসেনের মতো শিকারিরাও এসেছিলেন কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে।বড়শি প্রতিযোগীতার এই রোমাঞ্চ দেখতে দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত কৌতূহলী মানুষ। তাদের মতে, এই প্রতিযোগিতা কোন উৎসব নয়। এটি ছিল পুরুস্কারের লোভ। এই প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।
১২ দিন আগে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম লংমার্চ ঘিরে পথে পথে ছিল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি। রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত কর্মসূচির বিভিন্ন জনসভা ও পথসভা থেকে সরকারকে একের পর এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন জোটের নেতারা।তাদের ভাষ্য, ঘোষিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় রূপ নেবে—আর সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।শনিবার (সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাপলা চত্বরের সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আয়োজিত পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে জোটের নেতাদের স্বাগত জানান সমর্থকরা।এই লংমার্চে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফেনীর মহীপালের পথসভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তোলেন।জামায়াত আমির বলেন, তারা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ শুরু করলে ১৫ বছর অপেক্ষা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া-নির্লজ্জ-বেহায়াপনা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?’তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে, যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আপনারা জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে বিরোধী দল কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করবে।’জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, আমরা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামি নাই। দেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’তিনি জুলাই গণহত্যা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি এবং অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া কয়েকটি বিচারও বন্ধ হয়ে গেছে।গণভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সবাই দুটি ভোট দিয়েছি। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট; অন্যটি বাংলাদেশকে সংস্কার এবং মেরামত করার গণভোট। সরকারি দল এবং আমরা উভয়ে বলেছি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব। সরকার এখন গণভোটের রায় না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। জনগণের এ দাবি মেনে নেওয়া জনগণের প্রতি কোন অনুগ্রহ নয়, এটি ওয়াদার বাস্তবায়ন।’মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এখন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের পকেটে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের আয় বাড়েনি, বরং দায় ও ব্যয় বেড়েছে। মানুষের টাকা কোথায় যায়? চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজদের পকেটে যায়। এসব পকেট বন্ধ করতে হবে।’এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও জামায়াত আমিরের মতো একই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।ফেনীর পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ছয় দফা দাবি না মানলে বর্তমান সরকারকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে সংসদে বসে দেশ পরিচালনা করলে জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না। আমরা দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায়কে বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।কুমিল্লার পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকারকে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে এবং সেই এক দফা হবে সরকারের পদত্যাগ।’জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।জোটের নেতারা চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন। এসব সংকটের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে জোটের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার সঙ্গে রংপুর, খুলনা ও সিলেটের লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।এদিকে শনিবারের লংমার্চের গাড়িবহর ও বিভিন্ন স্থানে পথসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। জোটের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে লংমার্চের বহর চলবে।সব মিলিয়ে প্রথম লংমার্চে পথে পথে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং জোটের নেতাদের ‘ছয় দফা থেকে এক দফা’ যাওয়ার হুঁশিয়ারি রাজপথের আন্দোলনে নতুন বার্তা দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে চাপের মুখে ফেলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির দিকেও এগোচ্ছে বিরোধী এই জোট।
১২ দিন আগে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে মূলমন্ত্র বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা এবং নিরপেক্ষতা- বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সাংবাদিকতার জগতের সেই ক্ষতটিকে আবারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে মনের গভীরে তীব্র দহন তৈরি করছিল। শরীয়তপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর সাথে ঘটে যাওয়া হামলা, ধারাবাহিক হেনস্তা ও আইনি হয়রানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি।সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং স্বয়ং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ সম্পূর্ণ অসহায় ও অভিভাবকহীন।এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তাদের রোষানল, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যদি পুরো দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে ত্রিমুখী চাপ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের কারণেই সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।রক্ষক যখন ভক্ষকশরীয়তপুরের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ক্ষমতার তিনটি স্তর- স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতৃত্ব একযোগে সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এই জায়গাটির উন্নয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পার্ক সম্প্রসারণের নামে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান প্রথম ধাক্কাটি দেয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও ক্ষোভের জায়গাটি তৈরি হয় তখন, যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে।এখানেই মফস্বল সাংবাদিকতার আসল ট্র্যাজেডি স্পষ্ট । প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার যখন এমন দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয় থাকে, তখন তিনি আর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার অভিভাবক থাকেন না, বরং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদকে মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।মব-জাস্টিস ও প্রকাশ্য ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগিংএমন প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন এবং প্রতিবাদী পোস্ট দেন, তখন ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দিয়ে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। প্রেসক্লাব চত্বরেই সেই ক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার দলবল ইসরাফিলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রাণের প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।এই হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা যখন প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ তখন তা আর কোনো সাধারণ অপরাধীর হুমকি থাকে না। এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেখছে, সেখানে মাঠপর্যায়ের এই ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রের মৌলিক গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দাঁড়াতে পারবে না। বিগত আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, প্রত্যন্ত উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতা-নেত্রীরা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় পদধারী এই নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের যেমন কোণঠাসা করেছেন, একই সঙ্গে যখন ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তখন তারা প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং জুলুমে সঙ্গত দিয়ে গেছেন।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানিশরীয়তপুরে সাংবাদিকতায় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয় কাউন্টার ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি মামলা বা পাল্টা মামলার সংস্কৃতি। সাংবাদিক ইসরাফিল ও আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন পুলিশ তা নিতে গড়িমসি করে। অপরদিকে সাংবাদিকদের দমনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল। যখনই কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অপরাধ বা দাপটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নেন, তখনই তাদের কণ্ঠ রোধ করতে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়।’ এমন একটি বাক্য বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূঢ় সত্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে অবস্থান করে। তখন পেশাগত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে। স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা দলীয় এজেন্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা-উপজেলার প্রেসক্লাবগুলো বহুদিন ধরেই সাংবাদিকতার চেয়ে স্থানীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদগুলো পেতে এখন মেধা বা পেশাদারির চেয়ে রাজনৈতিক লবিং ও দলীয় পরিচয় বরাবরই বেশি গুরুত্ব পায়।যখন একজন সাংবাদিক নেতা একই সাথে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার প্রথম আনুগত্য থাকে দলের প্রতি, সাংবাদিকতার প্রতি নয়। ফলে দলের কোনো নেতা-কর্মী যখন সাধারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, তখন এই নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। শরীয়তপুরেও আমরা দেখছি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দলীয় লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের ভেতর থেকে একা ও নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে।প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উদাসীনতা এবং কর্পোরেট অবহেলাকোনো সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হওয়ার পরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শোনা যায় আমরা আমাদের কর্মস্থল থেকে কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের মিডিয়া হাউসগুলোর এক অন্ধকার দিক। ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যেসব গণমাধ্যম মালিক ও নীতি-নির্ধারকরা বড় বড় বুলি আওড়ান, মফস্বলের প্রতিনিধিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রায় শূন্য। মফস্বলের একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন অত্যন্ত সীমিত বেতনে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে, কেবল লাইনেজ বা সংবাদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া অংকের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। তারা যখন স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা বা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন মিডিয়া হাউসগুলো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ায়। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের কারণে যখন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হন, তখন কেন্দ্রীয় অফিস অনেক সময়ই দূরত্বের অজুহাতে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক তো আক্ষেপ করে বলেছেন, এই বিপদে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই পাশে পাননি তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের মানসিকভাবে আরো বেশি পঙ্গু করে দেয়। যখন একজন সাংবাদিক দেখেন যে আক্রান্ত হওয়ার পর তার নিজের প্রতিষ্ঠান, তার নিজের প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় প্রশাসন কেউ তার পাশে নেই, তখন তার পক্ষে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ধরন একইশরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যদি আমরা সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মানচিত্রে স্থাপন করি, তাহলে দেখব যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের একটি সাধারণ প্যাটার্ন, ধরন বা ছক রয়েছে। এই ছকের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথমে তথ্য পাওয়ার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা। অর্থাৎ সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙা যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার, ঠিক তেমনি সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে মফস্বলে পুলিশ প্রশাসন সাধারণত স্থানীয় ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় চলে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দিলেও ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে অজুহাত দেখায়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তা গ্রহণ করে।প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন রাজনৈতিক দলের মতো প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী- এমন সব ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তির কারণে এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ খুশি হয় বা চুপ থাকে। সাংবাদিকদের এই নিজেদের ভেতরের ঐক্যহীনতাকেই পুঁজি করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সাংবাদিকতায় যে সংস্কার অপরিহার্যঅন্ধকূপ থেকে সাংবাদিকতাকে টেনে তুলতে হলে এবং সাংবাদিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন বাধ্যতামূলক। যেমন প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের যেকোনো ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে যেকোনো ব্যক্তি যদি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী হন, তবে তিনি কোনোভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় দলীয় রাজনীতি কখনো একসাথে চলতে পারে না।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি পেশাগত কারণে আক্রান্ত বা মামলার শিকার হলে, কেন্দ্রীয় আইনি দল দিয়ে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা হলে এই কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে যেসব হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা বা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল থাকা উচিত। তদন্ত ছাড়া কোনো সাংবাদিককে এসব মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন আইনি বিধিমালা তৈরি করতে হবে।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল কিংবা জাহিদ হাসান রনিরা যে লড়াইটা লড়ছেন, তা কেবল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই নয়, তা মূলত বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক শেষচেষ্টা। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব এবং কর্মস্থলের সমর্থনের অভাবে ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ না হলে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর্মীদের পক্ষে ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সর্বস্তরেই একদিন বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে সাজানো সংবাদের চেয়ে মাঠের সত্য উন্মোচন করায় যে সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তাদের এই একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং স্বয়ং সাংবাদিক সমাজকেই নিতে হবে। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকদের এই অসহায় আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি যদি আজ ভাঙা না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা দুর্নীতির কথা আর কখনো মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসবে না।লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এদিন
১৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে কানাডীয় জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কানাডার লাসাল—এমার্ড—ভার্দ্যাঁ (LaSalle—Émard—Verdun) আসনের সংসদ সদস্য এবং জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব (Parliamentary Secretary) ক্লদ গুয়ে (Claude Guay) এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মেয়র এ আহ্বান জানান।সাক্ষাতে চট্টগ্রামের জ্বালানি সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে একটি কানাডিয়ান বিশেষায়িত শক্তি অর্থনৈতিক অঞ্চল ( Canadian Specialized Energy Economic Zone) প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কানাডার ফেডারেল সরকারে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি হিসেবে ক্লদ গুয়ে কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের নীতি ও উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু চট্টগ্রামের উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সমাধান তৈরি করা।প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও বৃহৎ তেল শোধনাগার (Refinery) স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানো, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্য রয়েছে।এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (Canadian crude oil) সরবরাহের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। কানাডার বিশাল জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক সক্ষমতাকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কানাডার মতো একটি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা গেলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু চট্টগ্রামের জন্য একটি প্রকল্প করা নয়। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এমন একটি জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করা, যা বাংলাদেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।মেয়র বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তাই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি কোনোভাবেই শুধু চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোনো প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।চট্টগ্রামকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করার পেছনে রয়েছে এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ভূমিকা এবং জাতীয় আমদানি রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে।প্রস্তাবিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ( Energy Economic Zone) ভবিষ্যতে রিফাইনারির পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা এবং অন্যান্য জ্বালানি সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের বাজার ও জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করা।বৈঠকে পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জ্বালানি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।প্রস্তাবিত Canadian Specialized Energy Economic Zone-এর ধারণাটি বর্তমানে আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তব কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে কানাডার সঙ্গে এই সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
১৩ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১৪ দিন আগে
স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যেটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডও। কিন্তু সেখানে এমটি রাসি নামক জাহাজটি কাটতে গিয়ে ট্যাংক থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। শুধু ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সাগর উপকুল সীতাকুন্ডে স্থাপিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে একের পর এক বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বা বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার দায় পুরোপুরি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই কারও। এ নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না কোনো গণমাধ্যমেওএমন অভিযোগ শিপব্রেকিং শ্রমিক-কর্মচারীদের। একই অভিযোগ মালিকদেরও। তাদের মতে, শিপিব্রেকিং ইয়ার্ডে কোন দূর্ঘটনা হলে যেন সব দায় মালিকের। সব দোষ শ্রমিকের। কিন্তু এ জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর যে শতভাগ দায়ী তা কারও নজরে আসছে না। এমনকি প্রকৃত সত্য কোনো মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারূী ও মালিকরা জানান, স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়। কিন্তু কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়ে দেয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এ জন্য নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের ঘুষও। আর পরিশেষে পরিণতি গ্যাসের বিস্ফোরণ অথবা নির্গমনে শ্রমিকদের মৃত্যু। এ যেন গ্যাসমুক্ত সনদ নয়, শ্রমিকদের মৃত্যু পরোয়ানা। ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও। গত ১৪ আগস্ট সকালে এমটি রাসি জাহাজটির তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। আর ওই জাহাজের গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এরপরও বিষাক্ত গ্যাস ছড়াল কীভাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মাঝে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে এ দূর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৩১ আগস্ট সোমবার তাদের প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গ্যাসমুক্ত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার উত্তরে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই গ্যাসমুক্ত সনদ প্রদানের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি এই সনদ পেতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে, ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ঘাটতি এবং উদ্ধারকাজের অদক্ষতার প্রসঙ্গও। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মেনজামিন রিয়াজীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের আরেক কমিটিও জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস, প্রকৃতি নিরূপণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে ১৬ আগস্ট গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। যার প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পরিচালক মো. শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জানান, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট জাহাজ এবং সংলগ্ন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন তারা। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে। জাহাজের বিভিন্ন ব্যালাস্ট ট্যাংক, ডিপ ট্যাংক, কফারডাম, দুর্ঘটনাস্থলের বাতাস, পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে গ্রীন সনদধারী প্রতিষ্ঠান ফেরদৌস স্টিল শিপিব্রেকিং ইয়ার্ড এক বছর আগে স্ক্র্যাপ জাহাজ রাসির গ্যাস ফ্রি সনদ পান। সনদ দেওয়ার আগে জাহাজটির কম্পার্টমেন্টসহ অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু তখন ব্যালাস্ট ট্যাংক পরীক্ষা হয়নি। এরপর থেকে এক বছর ধরে জাহাজটি কাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমটি রাসির ব্যালাস্ট ট্যাংকের জন্য গ্যাসমুক্ত সনদ চাওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানের। তিনি বলেন, যে জায়গায় গ্যাসের উৎস সেই ব্যালাস্ট ট্যাংকের গ্যাসমুক্ত সনদ এক বছর আগে চাওয়া হয়নি। জাহাজের অন্যান্য অংশ দেখে গ্যাস ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। যতটুকু সনদ চাওয়া হয়, ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল।যদিও গোটা জাহাজ পরীক্ষা করেই গ্যাসমুক্ত সনদ দেওয়ার কথা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। কোনো বিশেষ অংশের জন্য আলাদা করে এই সনদ চাওয়ার বা দেওয়ার নিয়ম নেই।প্রতিবেদনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইডের কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎস এবং মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছিল। ট্যাংকের নিচের প্লেটে ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের সময় আশপাশের বায়ুতে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন এলাকায় উচ্চমাত্রার গ্যাসটির কারণে বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা স্বল্প সময়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্রহণ করে গুরুতর বিষক্রিয়ার শিকার হন। দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন, যা পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানি স্থির অবস্থায় থাকলে সেখানে কাদা, জৈবপদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীব জমা হয়। ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। নমুনা পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্সিজেন স্বল্প পরিবেশে ট্যাংকের তলানিতে উপস্থিত অণুজীব সামুদ্রিক পানিতে বিদ্যমান সালফেটকে বিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে সালফাইডে রূপান্তর হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে যেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম, সেখানে পানি কিছুটা অম্লীয় এবং সালফাইডের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপস্থিত এ সালফাইডের একটি অংশ দ্রবীভূত বা আবদ্ধ অবস্থায় পানি ও সেডিমেন্টে জমা থাকতে পারে, যা পানি থেকে সহজে বের হয়ে নিষ্কাশন পয়েন্টের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এছাড়া ফেরদৌস স্টিলে ট্যাংক কাটার সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না শ্রমিকদের। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়। পেশাদার উদ্ধারকারী দলকেও সঠিক সময়ে ডাকা হয়নি।সূত্র মতে, এমটি রাসি জাহাজটিতে মোট চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে ৪ নম্বরটি আগে কাটা হয়। ৩ নম্বরটি কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বিষক্রিয়া হয়। ১ ও ২ নম্বর ট্যাংকের মধ্যেও একই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি কাটার সময় বিশেষ সতর্কতা বা ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি নিষ্কাশন কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডি-ব্যালাস্টিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যালাস্ট ট্যাংকের ইতিহাস, ধারণক্ষমতা, পানির পরিমাণ ও স্থায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের উপস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ট্যাংকের ওপর, মধ্য ও নিচের অংশের বাতাসে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড এবং পানির বিভিন্ন স্তরে পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।তদন্ত কমিটির ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের গ্যাসযুক্ত ট্যাংক কাটার সময় কী করা দরকার, তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ইয়ার্ডটিতে গ্যাস মনিটর ছিল। কিন্তু ট্যাংকের পানি নিষ্কাশনের সময় তা ব্যবহার করা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় যদি গ্যাসের উপস্থিতি মনিটরের মাধ্যমে ধরতে পারত, তাহলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি না-ও হতে পারত। এ ছাড়া জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান আরও বলেন, ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি সাবধানতার সঙ্গে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতিতে করতে হবে। পোস্ট ভেন্টিলেশন অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে বাতাসে তা ধীরে ছাড়তে হবে। বাতাস ও ট্যাংকে গ্যাসের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক পরিমাপ করার জন্য মনিটর লাগবে। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঝুঁকি মনে হলে ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করতে হবে।এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের সময় শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। তলার প্লেটে ছোট ছিদ্র করে ডি-ব্যালাস্টিং করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতে তা করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাটার আগে এবং পানি নিষ্কাশনের সময় গ্যাস পরিমাপ করার জন্য মনিটর ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস অ্যালার্ম ব্যবহারের সুপারিশও এসেছে। সেই সঙ্গে পরিবেশে কী পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হয়েছে, তা দেখতে এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, সীতাকুন্ডে গত ১২ বছরে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণ ও নির্গমনে ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর যেন কোন দায় নেই।
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম শহরে খাওয়ার পানিতে রাজত্ব গেড়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। প্রতি ফোঁটায় শনাক্ত হয়েছে হাজার হাজার জীবাণু। ফিল্টার বা ফোঁটানোর পরও কমছে না ক্ষতিকর নানা জীবাণু। উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণা। যা পান করে কোন না কোন জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়া পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উদ্বেগজনক এই তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (সিডিএ)। সংস্থাটির খসড়া মহাপরিকল্পনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।সিডিএর খসড়া পরিকল্পনা ও গবেষণা প্রতিবেদনের মতে, চট্টগ্রাম শহরে ৭০ লাখ লোকের বাস। যাদের তৃষ্ণা মেটাতে ওয়াসা, নলকূপ ও বাণিজ্যিক জার থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই তিন উৎসের প্রতি ফোঁটা পানিতে ৫০০-৭০০ ব্যাকটেরিয়াসহ হাজার হাজার ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।যেখানে বলা হয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য এসব উৎসের ওপর ভরসা করলেও তা মোটেও নিরাপদ নয়। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নগরীর বাসাবাড়িতে ২০-৩০ মিনিট ধরে ফোটানো বা ফিল্টারে শোধন করার পরও প্রতি ফোঁটা পানিতে থেকে যাচ্ছে ক্ষতিকর প্রায় ৫০০-৭০০ উপাদান। এমনকি শোধনের পর পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকরা।গত ২ আগস্ট প্রকাশিত সিডিএর খসড়ায় স্ট্রাকচার প্ল্যান অংশে সুপেয় পানির মান নিয়ে রাখা হয়েছে একটি বিশেষ অধ্যায়। সেখানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী হেলিওন-এ প্রকাশিত একটি যৌথ গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের সব উৎসের পানিতেই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত জীবাণুর উপস্থিতি।মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম মালয়েশিয়ার পাঁচ গবেষক। তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কোতোয়ালি, হালিশহর, বায়েজিদ, চান্দগাঁও, বন্দর ও সরাইপাড়া এলাকা থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পানির ৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করেন ল্যাবরেটরিতে। পাশাপাশি মান নিয়ে মতামত জানতে নেওয়া হয় ১৪৯ বাসিন্দার মতামত।গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার রিসার্চের গবেষক ও চবি অধ্যাপক ড. শ্যামল কর্মকার বলেছেন, গবেষণায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের উপস্থিতি দেশেই পরীক্ষা করা সম্ভব। এর বাইরেও মিলেছে অসংখ্য অজানা অজৈব দূষক। যা হয়তো শনাক্তই করতে পারছি না।গবেষণা কার্যক্রমের বিবরণগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি শোধনাগার ও ৪৬টি নলকূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, সুপেয় বা পানের পানিতে ক্ষতিকর উপাদান বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শূন্য থাকতে হবে।কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে এলাকাভেদে প্রতি মিলিলিটারে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে ৯ হাজার ২৫০ থেকে ১৪ হাজার পর্যন্ত। বাসাবাড়িতে শোধন করার পরও থেকে যাচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ পর্যন্ত।একইভাবে নলকূপের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ এবং শোধনের পর ৬৮০ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। জারের পানিতে অপরিশোধিত অবস্থায় ১৫০ থেকে ১ হাজার এবং শোধনের পর ১০০ থেকে ৬৫০টি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটার পানিতে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তা এক ফোঁটা পানির হিসাবে আনলে চিত্রটি আরও ভয়াবহ। সাধারণত এক মিলিলিটার পানিতে প্রায় ২০ ফোঁটা ধরা হয়। অর্থাৎ এক ফোঁটা পানির পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিলিটার।এই হিসাবে চান্দগাঁও এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৪ হাজার ব্যাকটেরিয়া মিলেছে। অর্থাৎ এক ফোঁটায় থাকছে ৭০০। বন্দর এলাকার নলকূপের অপরিশোধিত পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১৩ হাজার ৫০০ ক্ষতিকারক উপাদান। এক ফোঁটা পানিতেই থাকছে প্রায় ৬৭৫। শোধনের পরও সেই পানিতে প্রতি মিলিলিটারে ১০ হাজার ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ায় প্রতি ফোঁটায় দূষণের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০টি। একইভাবে কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার অপরিশোধিত পানিতে প্রতি ফোঁটায় মেলে প্রায় ৫০০টি ব্যাকটেরিয়া।শোধনের পর উল্টো বাড়ছে ভাসমান কণাপরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, খাবার পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার (এসএস বা টিএসএস) গ্রহণযোগ্য সীমা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ১০ মিলিগ্রাম। কিন্তু ওয়াসা ও নলকূপের পানিতে তা ৪০ থেকে ১ হাজার ৮৮৮ মিলিগ্রাম। কোতোয়ালি এলাকার ওয়াসার পানি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে শোধন করার পর আরও বেড়ে গেছে ভাসমান কণার পরিমাণ।গবেষকদের ধারণা, বাসাবাড়ির ফিল্টারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে এই চিত্র। একই বিধিমালা অনুযায়ী, পানিতে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের (টিডিএস) আদর্শ মান প্রতি লিটারে ১ হাজার মিলিগ্রাম। কিন্তু বন্দর ও হালিশহর এলাকার নলকূপের পানিতে তা বেশি পাওয়া গেছে।পানি পানে জটিল রোগে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারাগবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন উৎস্যের পানি পানে ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে বুগছেন নগরের বাসিন্দারা। জরিপে অংশ নেওয়া ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীদের ৭৬ শতাংশ মানুষের কাছ থেকে এ তথ্য মিরেছে।তাদের মতে, এই পানি পানের অনুপযোগী। তাদের মূল অভিযোগ দুর্গন্ধ (৫৬ শতাংশ) এবং ভাসমান কণার উপস্থিতি (১৭ শতাংশ)। অন্যদিকে নলকূপ ব্যবহারকারীদের ৫৮ শতাংশ পানিতে অস্বাভাবিক বাদামি রঙের কথা জানিয়েছেন।শোধন করে পান করার পরও ওয়াসার গ্রাহকদের ১১ শতাংশ এবং নলকূপের গ্রাহকদের ৯ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া উভয়ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশিই শিশু।যে কারণে দূষিত হচ্ছে পানিগবেষকরা বলছেন, কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি শোধনের পর সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কিন্তু পাইপলাইনের ফুটো এবং ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দূষিত হয়ে পড়ছে সেই পানি। অন্যদিকে অনিবন্ধিত কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জারের পানি প্রক্রিয়াজাত করায় সেখানেও থেকে যাচ্ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে দূষণের দায় নিতে নারাজ চট্টগ্রাম ওয়াসা।সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেছেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব, ওয়াসার পানিতে কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই। প্রতি মাসে ২৪০টি স্পট থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে পাওয়া যায় না দূষণের অস্তিত্ব। মূলত গ্রাহকপর্যায়ে গিয়ে পানি দূষিত হচ্ছে।কারণ, সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরও পানির রিজার্ভার ও ট্যাংক পরিষ্কার রাখে না মানুষ। ঘরের পানির জগ যেমন পরিষ্কার রাখা হয়, তেমনি পানি জীবাণুমুক্ত রাখতে হলে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে রিজার্ভার ও ট্যাংক। এছাড়া অনেক সংস্থা উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে পাইপ ফাটিয়ে ফেলে। তখন ময়লা পানি ঢুকে দূষণ হতে পারে। তবে আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা মেরামত করে ফেলি।এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও টেকসই সমাধান হলো বাসাবাড়ির পাশের নালা থেকে শুরু করে ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠের পানির উৎসগুলোকে দূষণমুক্ত করা বলে মত দেন ওয়াসার এই প্রধান প্রকৌশলী। একি মত দিয়েছেন চট্টড়্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনও।
১৬ দিন আগে
সামুদ্রিক বাণিজ্যের নতুন হাব উম্মোচিত হলো কর্ণফুলী নদীর মোহনা সংলগ্ন ৪৯ দশমিক ১৫ একর আয়তনের ছোট্ট একটি চরে। যার নাম লালদিয়া। যেখানে নির্মিত হচ্ছে কনটেইনার টার্মিনাল। বিনিয়োগ হচ্ছে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। হ্যান্ডলিং হবে বছরে হবে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার। এতে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র।রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।এছাড়া চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, শাহজাহান চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানসহ এপিএম টার্মিনালস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের জন্য একটি কার্যকর প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আধুনিক বন্দর অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, উন্নত বন্দর ও আধুনিক শহর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বন্দর ও বাণিজ্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এই বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিতব্য এ টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হবে বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।সূত্র মতে, কনটেইনার টার্মিনালের মূল অংশটি নির্মিত হবে চরের ৩২ একর জায়গায়। এর সঙ্গে ৭ দশমিক ১৫ একর কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একর ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে পুরো টার্মিনাল। প্রকল্পটি নির্মাণে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। জমির মালিকানা থাকবে বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে।নির্মাণ শেষে ২০৩০ সাল থেকে পরবর্তী ৩০ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে ডেনিশ কো¤পানি এপিএম টার্মিনালস। চুক্তির শর্ত পূরণ ও যথাযথভাবে পালন করা হলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বছর পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।এই টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটির মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হবে। এর বার্ষিক সক্ষমতা হবে প্রায় ৮ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার)। প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সক্ষমতা ও প্রযুক্তি। প্রকাশিত নকশা অনুযায়ী লালদিয়া টার্মিনালে থাকবে সাতটি শিপ-টুশোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টাইয়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর। টার্মিনালটি ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিংয়ের উপযোগী করে তৈরি করা হবে এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কন্টেনার জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে।এখানেই লালদিয়া টার্মিনালের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের আকারের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় বড় কনটেইনার জাহাজের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যায় না। এপিএম টার্মিনাল লালদিয়ায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউএস জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা বিদ্যমান সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। ফলে ফিডার নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও শিপিং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হবে। পুরো প্রকল্পটি বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত ও পরিচালিত হবে; সরকারের পক্ষ থেকে মূলধনী বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি দেশে আসবে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও এ প্রকল্প থেকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, প্রথম ৮ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতিটি কন্টেনারে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ মার্কিন ডলার এবং ৮ লাখের বেশি থেকে ৯ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত ২৩ ডলার করে পাবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এককালীন ২৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। তবে প্রকল্পের বাণিজ্যিক চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বিনিয়োগ প্রকল্প বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন, টার্মিনালটি হবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন টার্মিনাল। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং ক্রেনগুলো অফিস থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।চেম্বার সভাপতির অভ্যর্থনাবেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় কো¤পানি বাংলাদেশে গ্রিনফিল্ড প্রকল্প করছে-এটি দেশের জন্য গৌরবের। লালদিয়া প্রকল্পকে তিনি বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন অপারেটরের সেবার মান ও ব্যয়ের তুলনা করার সুযোগ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরাই ভালো সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।চেম্বার পরিচালকমন্ডলী ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষে শনিবার রাতে এপিএম টার্মিনালসের চেয়ারম্যান রবার্ট মার্সক উগ্লাকে প্রেরিত এক পত্রে চেম্বার সভাপতি বলেন, লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বিশ্ব দরবারে একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করবে।এই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল একটি টার্মিনাল নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটরের উপস্থিতি বাংলাদেশে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ (ঋউও) আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে জানান চেম্বার সভাপতি।চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক সুবিধার কারণে রিজিওনাল ইনভেস্টমেন্ট এন্ড লজিস্টিক হাব হবার সমূহ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চেম্বার সভাপতি এ.পি. মোলার-মার্সক ও এপিএম টার্মিনালসকে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে আরও বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প বিশেষ করে বে-টার্মিনাল, জাহাজ নির্মাণ ও বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগ এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পরিণত করার সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।খুশি অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারাওলালদিয়া টার্মিনালকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, একটি বিশ্বখ্যাত টার্মিনাল অপারেটরের সরাসরি বিনিয়োগ বাংলাদেশের বন্দর খাতে বিদেশি বিনিয়োগের আস্থা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় প্রতিযোগিতা তৈরি হলে সেবার মান, সময় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানিকারকেরা সুবিধা পেতে পারেন।ব্যবসায়ী নেতা খায়রুল আলম সুজন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা কম সময়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ভালো সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্যচট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তাঁর মতে, লালদিয়া টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতা ও ব্যয়-প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এপিএম টার্মিনালসের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাও প্রকল্পটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৬০টির বেশি দেযে টার্মিনাল পরিচালনা করে। এপিএম টার্মিনালস তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দক্ষ কনটেইনার বন্দরের ১০টিতে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। লালদিয়াকে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আধুনিক, কম কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী টার্মিনালের একটি প্রদর্শনী প্রকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।বন্দর সচিব বলেন, শুধু বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের পুরো সাপ্লাই চেইনে। পোশাক, চামড়া, ওষুধ, কৃষিপণ্য কিংবা হালকা প্রকৌশল রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো এখন গুরুত্বপূর্ণ। বড় জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রামে ভেড়ার সুযোগ এবং দ্রুত কনটেইনার ওঠানামা করা গেলে পণ্য পরিবহনে অপেক্ষার সময় কমতে পারে। সরকারি পিপিপি কর্তৃপক্ষও প্রকল্পটির অন্যতম সুবিধা হিসেবে দ্রুততর জাহাজ পরিচালনা, ডুয়েল টাইম কমানো এবং লজিস্টিক ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।লালদিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণ ও পরিচালন পর্যায়ে সরাসরি ৫০০ থেকে ৭০০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নির্মাণ, ট্রাকিং, গুদামজাতকরণ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায় কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের অবস্থানকর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে লালদিয়া চরে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। লালদিয়া চর থেকে গুপ্তবাঁক পার হলেই পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। যা পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। এর আরও ৭ থেকে ৯ কিলোমিটার উজানে রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)। আর লালদিয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬তম কনটেইনার টার্মিনাল।বন্দর ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে গতি আনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রেক্ষাপটে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ টার্মিনাল দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।সামুদ্রিক বাণিজ্যের হাব যেভাবে হলো লালদিয়াকর্ণফুলীর মোহনায় জেগে উঠা একটি চর লালদিয়া। যা একসময় ছিল অবৈধ দখলে। চরটি দখলমুক্ত করে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের হাব হয়ে উঠলো সেই লালদিয়া। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।পরে ২০২৩ সালের ২১ মে এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে।এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএম টার্মিনালস এবং স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর এ প্রকল্পে টার্মিনালটি নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ৩০ আগস্ট’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১৮ দিন আগে
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজানের বাসিন্দা ও প্রবাসী আমির হোসেন (৫৭) মামলাটি করেন। মামলায় আরমান উদ্দিনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বলা হয়, আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান এবং অন্যান্য অংশে ভাড়াটিয়া রেখেছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার পর কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।বাদীর অভিযোগ, আসামিরা তাকে বলেন, এলাকায় বসবাস করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। টাকা না দিলে তার মার্কেট ও ভবন দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আসামিরা আমির হোসেনের মার্কেটের নিচতলায় ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেস, আলমারির সিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।মামলায় এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের ক্যাশ টেবিলসহ ভেতরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে দোকানের ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদেরও আসামিদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আরিফ উদ্দীন বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তারা বাদীর দোকান ও ঘরের দখল ছাড়বেন না।আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আমির হোসেনকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরেক আসামি চাঁদা না দিলে আমির হোসেনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে আসামিরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।আমির হোসেনের দাবি, তিনি লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও মো. আরিফ উদ্দীন (৩৭), শওকত আলী (৪২), মো. আদিল (৩২), মো. আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩) কে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এটি আরমান উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়, বালু উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নামে খাল খননের ডিও লেটার এবং প্রশাসন-পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কথোপকথন ফাঁসসহ নানা ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগও ওঠে আরমানের বিরুদ্ধে। খোরশেদের অভিযোগ ছিল, তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মামলা থেকে রেহাই ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা বলে ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা ও চেক দেওয়ার পরও তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।খোরশেদের আরও অভিযোগ ছিল, তাকে মারধর করে চট্টগ্রাম নগরের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরমান উদ্দিনের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। আর সেই আয়তন বিস্তৃত হয়ে আট গুণ বড় হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর। এর আওতায় আসছে নগরীর আশপাশের সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের আয়তন বেড়ে দাড়াবে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোামিটারে।২৫ বছর মেয়াদি এমন একটি নতুন মাস্টার প্ল্যানের খসড়া চুড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২৫-২০৫০ এর আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সঙ্গে আশপাশের পৌরসভা, উপজেলা মিলিয়ে আগামী ২০৫০ সালের জনসংখ্যা এবং চাহিদাকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোকে সিডিএর আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের বদলে একটি আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা।তিনি বলেন, খসড়ার ওপর নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। যেকোনো নাগরিক এই মাস্টার প্ল্যান স¤পর্কে নিজের মতামত জানাতে পারবেন। অনলাইনেও মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে নগরীর বর্তমান অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ। পাহাড় কাটা, জলাশয় ও খাল ভরাট, আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা এবং আবাসন সংকট-এসব সমস্যা শুধু বর্তমান সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নগরীর চারপাশে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে এখনই পরিকল্পনার আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।নতুন মহাপরিকল্পনায় তাই শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা-সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় ১৫টি খাতে ৭৭টি নীতিগত প্রস্তাব এবং ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমানো। এজন্য ওয়ান সিটি, টু টাউনস ধারণা সামনে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি আনোয়ারার জন্য পৃথক ডিটেইলড অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ এলাকাকেও পৃথক পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা রয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরীর উপর সবকিছুর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন শহরের বাইরে সীতাকুন্ড কিংবা হাটহাজারীতে যদি পরিকল্পিতভাবে একটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বহু মানুষের নগরীতে আসার প্রয়োজন হবে না। আমরা নগরীর উপর চাপ কমানোর জন্য কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।খসড়া প্রস্তাবে যা আছেসিডিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। নতুন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের বিস্তৃত এলাকাকে ভবিষ্যৎ নগরায়ণ কিংবা স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিডিএ একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।পরিকল্পনায় নগরীর যানজট কমাতে নতুন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকায় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল নগরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগরায়ণ বা স্যাটেলাইট টাউন মডেল অনুসরণের কথা বলেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা নগরের কেন্দ্র থেকে বাইরের পরিকল্পিত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা। নতুন মাস্টার প্ল্যানে খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু খাল-নালা পরিষ্কার নয়, নগরায়ণের ধরন, জলাধার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টিকেও পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও অন্যান্য জলাধার চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।পাহাড় ও জলাধার রক্ষায়ও কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় নগরীর প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার অক্ষত পাহাড় এবং পুরো পরিকল্পনা এলাকার প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঢাল ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। নগরীর পাহাড়গুলোকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।চট্টগ্রামের জন্য নতুন এই পরিকল্পনায় ভূমিক¤প ঝুঁকি বিবেচনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। খসড়া মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রামের প্রথম সয়েল লিকুইফ্যাকশন রিস্ক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকা বাদ দিলে পরিকল্পনা এলাকার ৩০ শতাংশের বেশি জায়গা এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিক¤েপর সময় পানিসিক্ত মাটি শক্তি হারিয়ে ফেললে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ নগরায়ণে এ ঝুঁকি বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনায় বড় আকারের উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক তৈরির কথাও রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের আদলে দুই থেকে তিনটি বড় পার্ক, জাতীয় কবরস্থানের আদলে একটি বড় কবরস্থানের জন্য জমি সংরক্ষণ এবং একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত নগরায়ণের মধ্যেও খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা ও জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।ব্যয় ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকাসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নতুন মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ।সূত্র মতে, চট্টগ্রামের জন্য ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু নগরীর আবাসন বা সড়ক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, পর্যটন, কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নদী-খাল, পাহাড় ও পরিবহন অবকাঠামো-সবকিছুর ভবিষ্যৎ বিন্যাস এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।অর্থাৎ ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের বর্তমান নগরকে ঘিরে আগামী ২৫ বছরের জন্য প্রায় আট গুণ বড় একটি মহানগর পরিকল্পনা এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে সিডিএ থেকে ডিজাইন এবং ড্রয়িং অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।উল্লেখ্য, সিডিএ ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২০-২০৪১ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ নেওয়া হয়েছিল। নতুন ২০২৫-২০৫০ পরিকল্পনা মূলত আগামী ২৫ বছরে নগরীর বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চাহিদাকে সামনে রেখে আরো বিস্তৃত পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে।
২৫ দিন আগে
গ্যাস সংকটের অজুহাতে চট্টগ্রাম মহানগরে গ্যাসচালিত গণপিরবহনগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর পথে পথে সাধারণ যাত্রীদের সাথে চালক-হেলপারের নিত্য ঝগড়া-বিবাদ লাগছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরীর জনসাধারণের মনে।যাত্রীদের মতে, চট্টগ্রামের গণপরিবহনগুলোতে যাতায়াতে যেখানে উঠানামায় ন্যুনতম ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেখানে ১০ টাকা করে আদায় করা হত অনেক আগে থেকেই। সেই স্থলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দূরত্বের পর আদায় করা হচ্ছে আরও অতিরিক্ত ভাড়া।যাত্রীদের প্রশ্ন গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সরকারি বা প্রশাসনিক কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না? কিন্তু সেই উত্তর না দিয়ে চালক-হেলপারের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে গ্যাস সংকট। তাতে মৌন সম্মতি পরিলক্ষিত হচ্ছে গণপরিবহন মালিক সংগঠনের লোকজনের কথায়ও। যদিও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না বলে জানান।মালিক সংগঠনের লোকজনের মতে, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে এমনিতেই তেলবাহী গণপরিবহনের তুলনায় গ্যাসচালিত গণপিরবহনে ভাড়া কম আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস সংকটের মধ্যে গণপরিবহনগুলোর আয় কমে গেছে। এ অবস্থায় যৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।চালক ও হেলপাররা জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামের পাম্প স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাসের সংকট চলছে। গাড়িতে গ্যাস নিতে সকালে গেলে বিকেলেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসচালিত বাস, মিনিবাস, টেম্পো, সিএনজি অটোরিক্সা ও প্রাইভেট কারের কয়েক কিলোমিটার লাইন নগরীর প্রতিটি পাম্প স্টেশনের এখন নিত্য দৃশ্যমান বিষয়। ফলে গণপরিবহনগুলোতে আয় রোজগার একেবারে কমে গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক-হেলপাররাও।চালক-হেলপাররা বলেন, আমাদের পরিবার-পরিজন আছে। তাদের খাবার জোগাড় করতে হয় আমাদের। যা করতে কিছু ভাড়া বাড়তি নেয়া হচ্ছে। যা সিএনজি অটোরিক্সার তুলনায় অনেক কম। সিএনজি অটোরিক্সাগুলো ১০০ টাকা ভাড়ার কমে আধা কিলোমিটার পথও যায় না। আগে যেখানে ১০০ টাকা ভাড়া নিত, সেখানে ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে তারা।এ নিয়ে আবার কোন প্রতিবাদ নেই সিএনজি অটোরিক্সাচালকদেরও। তারাও বলছেন, গ্যাস সংকেটর কারণে দিনের তিনভাগের দুই ভাগ সময় পাম্পগুলোতে লাইন ধরে থাকতে হয়। যে সময় পাই তাতে ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ নিলেও দিনশেষে মালিকের টাকা দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংসার খরচ জোগাতে এখন হিমিশম খেতে হচ্ছে।যাত্রীরা জানান, নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক কালুরঘাট-বিমানবন্দর সড়ক। এ সড়কে চলাচলকারী ১০ নম্বর বাসগুলোতে আগে উঠানামায় ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হত। তার স্থলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একই রুটের একই নম্বরের মিনিবাসগুলোও একই হারে ভাড়া আদায় করছে।নগরীর আরেক ব্যস্ততম সড়ক নতুন ব্রিজ ও বহদ্দারহাট সড়ক। এই সড়কেও উঠানামায় ১৫ টাকা এবং বহদ্দারহাট পর্যন্ত ১৫ টাকার স্থলে ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বহদ্দারহাট-নিউমার্কেটে সড়কেও ১০ টাকার স্থলে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বাস, মিনিবাস ও টেম্পোগুলো। অক্সিজেন মোড়-চকবাজার সড়কেও ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালেও অনেক চালক ও কর্মচারী তা আমলে নিচ্ছেন না। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন গাড়িতে চালক, হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটছে। গণপরিবহনে যাতায়াত করতে গিয়ে একজন যাত্রীকে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার কথা, সেখানে তাকে প্রতিনিয়ত ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি কিংবা তর্কে জড়াতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, গ্যাস সংকট চলছে এটা ঠিক আছে। কিন্তু সরকার তো গ্যাসের দাম বাড়ায়নি। এমনকি গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির কোন ঘোষণাও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তাহলে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কীভাবে।তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা ছাড়া গণপরিবহনে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোটাই চাঁদাবাজির মতো। বিষয়টি তাদের খোলাসা করতে হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন সংস্থার এই নেত্রি। একই সাথে বিষয়টি সরকারকে খতিয়ে দেখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বাংরাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক মানুদ আলম বলেন, গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। এ অবস্থায় ভাড়া বৃদ্ধি অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, গ্যাসচালিত বাস, মিনিবাস ও টে¤েপার পরিচালন ব্যয় তেলচালিত যানবাহনের তুলনায় কম। এই তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যয়ের সুবিধার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এসব যানবাহনের ভাড়াও তেলচালিত পরিবহনের তুলনায় কম রাখা হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে গ্যাসচালিত যানবাহনের সার্বিক ব্যয়ের কথা বিবেচনা করলে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। আমাদের দাবি, এ বিষয়ে যৌক্তিক উদ্যোগ নেওয়া হোক।সচেতন মহলের ভাষ্য, গ্যাস সংকওটর প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সংকটের পুরো বোঝা সাধারণ যাত্রীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে গ্যাসচালিত যানবাহনের তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যয়ের সুবিধা যদি এতদিন যাত্রীদের জন্য কম ভাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সংকটের অজুহাতে সেই ভাড়া একলাফে বাড়ানোর আগে বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও যৌক্তিকতার আওতায় আসা উচিত।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন রুটে বর্তমানে কী হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, তা জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হোক। গ্যাসচালিত ও তেলচালিত যানবাহনের প্রকৃত পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা এবং যাত্রীদের সামর্থ্য সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভাড়ার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের দুই নম্বর গেইট ফিনলে স্কয়ারে প্রতিষ্ঠিত স্টার সিনেপ্লেক্সের ওয়াশরুমে গোপনে এক নারীর ভিডিও ধারণের ঘটনায় জিতু পাল (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। তিনি ওই সিনেপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা।শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাঁচলাইশ থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে এক নারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফিনলে স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে যান। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে গেলে সেখানে কৌশলে মোবাইল ফোন দিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী তাৎক্ষণিকভাবে জিতু পালকে হাতেনাতে আটক করে। পরে আশপাশে থাকা লোকজন জিতু পালের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ভিডিও ধারণ করার দৃশ্য দেখতে পান। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকজন নারীর গোপন ভিডিও তাঁর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় বলে জানান।এ ঘটনায় আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিতু পালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। মোবাইল ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাইসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পাঁচলাইশ থানার ওসি। উল্লেখ্য, নগরীর দুই নম্বর গেইট ফিনলে স্কয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিকের প্রাক্তন সম্পাদক ও প্রকাশক রুশো মাহমুদ। তিনি দৈনিক পত্রিকাটি সম্প্রতি বিক্রি করে দেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য প্রেস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দৈনিক পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের একজন ঘনিষ্ট দোসর ছিলেন তিনি।
২৬ দিন আগে
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাড়িও মশার প্রজননক্ষেত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ড. ইউনুসের নিরিবিলি বাড়ির আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থানকে এডিস মশার হটস্পট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।এছাড়া হট¯পটের তালিকায় রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়া কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি। তিনি বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হট¯পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।তিনি বলেন, আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নয়া হাট বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশি নগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার) এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহ সংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানসমূহ, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক, জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা ক¤িপউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বি.এড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তি নগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেট সংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়াম সংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাসমূহ, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন), পন্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নং ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহর খালি এলাকায়ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।সরেজমিনে জানগে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খান জানান, স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হত। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।
২৮ দিন আগে
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মহানগরে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। গোলাপি রঙের এই বাসের শুধু যাত্রীরা নারী নয়, চালক-হেলপার সবাই নারী।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে বাস সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ চান্দগাঁও আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ড. মো. কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এ সময় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে এ সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর একটি দ্বিতল বাস। এতে আসন রয়েছে ৭৫টি। অন্য বাসটিতে আসন রয়েছে ৪৫টি। দ্বিতল বাসে একজন নারী চালক ও দুজন নারী সহকারী থাকবেন। অন্য বাসটিতে থাকবেন একজন নারী চালক ও একজন নারী সহকারী।বাসগুলো প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার রুটে চলাচল করবে। কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। আর কালুরঘাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া ৬৮ টাকা। যাত্রীদের চাহিদা ও কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ সার্ভিসের পরিধি বাড়ানো কবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।শুধু নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের মতে, সাধারণ গণপরিবহনে চলাচলের সময় নারীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। আলাদা বাস চালু হওয়ায় অনাকাঙ্খিত সমস্যা থেকে স্বস্তি মিলবে।নারী যাত্রী শারমীন বলেন, কম্বাইন্ড বাসে অনেক সময় ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার মেয়ে কম থাকলে বাসে উঠতেও দেওয়া হয় না। এখানে চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাই নারী। তাই আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।কামরুন নাহার নামে আরেক যাত্রী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাদের আকাক্সক্ষা ছিল নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হোক। এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নারীদের জন্য আরও বাস চালু করা উচিত।বাসটির নারী চালক খায়রুন নেছা বলেন, নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী যাত্রী নিয়ে বাসটি পরিচালনা করতে পেরে আমি গর্বিত। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।
১ মাস আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
১ মাস আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
১ মাস ১ দিন আগে
নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে ক্রমেই অচ্যুত হয়ে উঠছেন ড বিসর্গ হাছান মাহমুদ, ডাক পাচ্ছেন না দলীয় অনুষ্ঠানেও। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানেও দলের আমন্ত্রণ পায়নি চিকন চতুর সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাধারণ প্রবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের কক্সপ্লেইনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক। প্রধান বক্তা সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের নেতা খোকন শরীফ, হুমায়ুন মাকসুদ হিমু ও মোশারফ হোসেন বাবু। বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও এই অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দলটির ইউরোপে অবস্থানকারী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ হাছান মাহমুদের ওপর বিরক্ত। তাঁদের ভাষায়, দলের কেউ তাকে পছন্দ করছেন না। সবাই তার ওপর বিরক্ত। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সমালোচিত নেতাদের একজন হিসেবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।গত ১৬ জুলাই বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহ-আয়োজনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার এবং ভূ-রাজনীতি: প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বেলজিয়ামে থাকা হাছান মাহমুদকে।এ নিয়ে বসে নেই সাইলেন্ট কীলার হাছান মাহমুদও। বেলজিয়ামভিত্তিক একটি সূত্র জানান, অতিথি হিসেবে তাকে রাখা হচ্ছে না— এমন ইঙ্গিত পেয়ে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটিই বানচাল করার চেষ্টা চালান গোপনে।তবে হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, বেলজিয়াম ছাড়াও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত থাকলেও দুই দেশের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও হাছান মাহমুদ খুব একটা যান না বলে। রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় তিনি এসব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। লন্ডনে ছেলের সঙ্গে থাকলেও সেখানে অনেকটা আড়ালে থাকছেন তিনি।হাছান মাহমুদের ছেলে সাফওয়ান মাহমুদ লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে নাফিসা গ্রিন টিভি নামের একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে আবির্ভূত হন। আরেক মেয়ে সাকিলা জুমাইদা মাহমুদ পরিবারের সঙ্গেই আছেন। হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা বর্তমানে বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য আসা-যাওয়ায় রয়েছেন। বেলজিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা এক প্রবাসী নেতা বলেন, ব্রাসেলস থেকে হাছান মাহমুদের বাড়ি প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে। তিনি সেখানেই থাকেন। বেলজিয়ামে তাঁর আরও অন্তত চারটি বাড়ি আছে। সম্প্রতি তিনি নতুন করে বেলজিয়ামের পাসপোর্ট নিয়েছেন।লাঞ্ছিত হচ্ছেন ঘাটে ঘাটেগত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জার্মানির কোলনের উলিথজক্যাস্টরে আওয়ামী লীগের একটি সভায় উপস্থিত হওয়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি দল হাছান মাহমুদের দিকে তেড়ে যায়। তাঁরা আওয়ামী লীগের বর্তমান দুর্দশা ও দুর্নীতির অন্যতম কুশীলব হিসেবে তাঁকে সরাসরি দায়ী করেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি নীরবে সভাস্থল ছেড়ে যান।ওই সময় বার্লিন থেকে যাওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা হাছান মাহমুদের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলেন, আপনাদের লোভ আর দুর্নীতির কারণেই দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে আছে সবার জীবন। আহত-নিহত নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর আপনি রাখেন নাই। যাকে ইচ্ছা তাকে দলে ঢুকিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির কারণে দল আজ বিপর্যস্ত, দিশেহারা।গত বছরের ৩০ মার্চ ছেলেসহ তাঁকে প্রথম দেখা যায় লন্ডনের গ্যাংসহিল এলাকার আল-কালাম মসজিদের ঈদের জামাতে। এরপর ওই বছরের ২০ এপৃল লন্ডনের ওটু এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের ছেলে ডা. সৈয়দ ফাইয়াজ রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায়।শেখ হাসিনার সাক্ষাতেও অস্বস্তিবেলজিয়ামে থাকলেও হাছান মাহমুদ দু‘বার ভারতে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন হাছান মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধানের প্রশ্নবাণে ওই সাক্ষাৎ খুব স্বস্তিকর ছিল না।দলীয় একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন হাছান মাহমুদ। তবে ওই আয়োজনে দলের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে রাখা হয়। গণ আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামেগণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাছান মাহমুদ পালিয়ে যান বেলজিয়ামে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ঢাকার বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে খবর বের হয়েছিল। এরপর তিনি সেনা হেফাজতে ছিলেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় জার্মানি হয়ে তিনি নিরাপদে বেলজিয়ামে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি বেলজিয়ামের লিমবুর্গ প্রদেশের হ্যাসেল্ট সিটিতে নিজের বাড়িতেই আছেন। এর আগে ওই সালের ৪ আগস্ট রাতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী ও মেয়েরা বাংলাদেশ বিমানের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। তাঁদের গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও হাছান মাহমুদ বিপুল অংকের টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ বেচে কুঁড়েঘর থেকে রাজপ্রাসাদে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। পরে ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের প্রথম ছয় মাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে জলবায়ু তহবিলের বিপুল অংকের টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সর্বশেষ তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।গত বছরের ১৬ জানুয়ারি হাছান মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাঁদের ছয়টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। হাছান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাইরে যে ছয়টি কোম্পানির ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়, সেগুলো হলো দ্য বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস লিমিটেড, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস, জেএএস লিমিটেড, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলারস পাওয়ার লিমিটেড।ওই বছরের ২৩ জুন হাছান মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী নুরান ফাতেমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তার আগেই তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ওই বছরের ১৬ জুলাই হাছান মাহমুদের মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের নামে চারটি এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ঝুলছে একাধিক মামলাগত ৩০ জুন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাসহ অন্তত ৩০টি মামলা ঝুলছে। এছাড়া দখলবাজি, চাাঁদাবাজি, নির্যাতনসহ অারও ১০টি মামলার আসামি হাছান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ-এরশাদ মাহমুদ প্রকাশ নব্য এরশাদ শিকদার।
১ মাস ৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ জাহাজের ভেতরে থাক মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের বিষক্রিয়া। যা শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ইয়ার্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাল্টি-গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। আমাদের সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাহাজ থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড অপসারণ করা হবে।তিনি জানান, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি দিয়ে জাহাজের ভেতরের অংশ ধুয়ে গ্যাস অপসারণ করা হবে।এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় জাহাজের বদ্ধ অংশে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো এলএনজি জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের একটি বদ্ধ ট্যাংক বা অংশে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। দু‘জন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যান। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বদ্ধ স্থানে প্রবেশ করায় উদ্ধারকারীরাও গ্যাসে আক্রান্ত হন।শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে ৩৪ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকেরা এগিয়ে গেলে তারাও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই মনসুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমান সাজ্জাদ।ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের কিছু ট্যাংকে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। গ্যাসমুক্ত না করে জাহাজ কাটার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি ইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেন।তবে শনিবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এখন এই গ্যাসের উৎস, কীভাবে এটি জাহাজের বদ্ধ অংশে জমেছিল এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এক যুগে গেল ১৪৮ প্রাণচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কিংবা জাহাজভাঙা শিল্পে গত এক যুগে দুর্ঘটনায় ১৪৮ জন নিহত এবং ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। একসময় ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে তা কমে ২৩টিতে ঠেকেছে। চালু থাকা ২৩টি ইয়ার্ড গ্রিন হিসেবে স্বীকৃত।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজের (বিলস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। বিলস ডিটিডিএ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১২ বছরে জাহাজভাঙা শিল্পে ১৪৮ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন ২৭৯ জন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত ৪০।২০২৫ সালে দুর্ঘটনায় চার জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হন। ২০২৪ সালে দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হন। ২০২৩ সালে দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ৭ জন নিহত হন। ২০২১ সালে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ১৩ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হন। ২০২০ সালে দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন।২০১৯ সালে দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন। ২০১৮ সালে দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। ২০১৭ সালে দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। ২০১৫ সালে দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে এসব জাহাজভাঙা কারখানা বা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরের পাড় ঘেঁষে সীতাকুণ্ড উপজেলায়।সর্বশেষ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিষাক্ত গ্যাসে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যান ৯ শ্রমিক। যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি পরিবহন করতো। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটে।জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, এ জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ কাটার সময় নানাভাবে শ্রমিক আহত-নিহতের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কেউ কাজ করার সময় রাডার ভেঙে পড়া, ম্যাগনেটের হুক লাগাতে গিয়ে আহত, অগ্নি দুর্ঘটনা, ভারী লোহার খণ্ড পড়া, অক্সিজেন টিউবের জয়েন্ট বিস্ফোরণ, জাহাজ কাটার সময় আগুনের ফুল্কি ছিটকে এবং গ্যাসে বিষক্রিয়ায় আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কয়েকজন শ্রমিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘জাহাজটির এলএনজি ট্যাংক কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। জাহাজের তলায় থাকা একটি ট্যাংক কাটার কাজ চলছিল। শুক্রবার সকালেও শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফোরম্যান সাত-আটজন শ্রমিক ও কাটারম্যান নিয়ে একটি ট্যাংকের চারপাশ গোল করে কাটেন।এরপর সেখান থেকে সরে যান। প্রায় ১০ মিনিট পর গর্তটি পুরোপুরি খোলার জন্য সেখানে গেলে প্রথমে দুই শ্রমিক জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুই শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন। এরপর কাটিং ফোরম্যান তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। কী ঘটেছে, তা দেখতে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুখে মাস্ক পরে সেখানে যান। তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’শুভ দাস নামে নিহত এক শ্রমিকের ভাই জানান, আহত শ্রমিকরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাননি। কারখানাটিতে নিজস্ব কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। দুর্ঘটনার পর কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়। মালিক পক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে না নেওয়ার কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।শ্রমিক সংগঠনের দাবি জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, ঝুঁকি নিয়ে জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় সমস্যা হয়ে আছে। আজকের এ দুর্ঘটনার জন্য শিপইয়ার্ড মালিকপক্ষের একার অবহেলা নয়, এখানে তদারকিতে দায়িত্বরত সরকারি অনেকগুলো সংস্থা জড়িত আছে। তাদেরও সমান অবহেলা রয়েছে। কোনও ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যতীত শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মনে করি।নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণবাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। যদিও আইনে আছে ৭ লাখ টাকা করে। একইভাবে যারা আহত আছেন তাদের সুচিকিৎসা যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, একসময় সীতাকুণ্ড ছোট-বড় প্রায় ১৬০টি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে ২৩টি ইয়ার্ড চালু আছে। সবকয়টি গ্রিন শিপইয়ার্ড। এসব ইয়ার্ডে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।
১ মাস ৩ দিন আগে
এলপিজির পর দেশের জ্বালানি তেলের বাজারও কব্জায় নিয়ে চায় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বসুন্ধরা গ্রুপ। এ বিষয়ে দু‘দিন সময় দিয়ে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে আবেদনের নাম হুকুম জারি করেন মাফিয়া শিল্প গ্রুপটির কর্ণধার সায়েম সোবহান আনভির। আর তাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রতিষ্ঠান বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন) বিপক্ষে মত দেওয়ায় বেজায় চটেছেন খোদ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। একপর্যায়ে গত ২৬ জুলাই রাতে হঠাৎ করে বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।আর দায়িত্ব দেওয়ার পরপরই বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য কমিটি গঠন করে চারদিনের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে ধারণা করা হচ্ছে বসুন্ধরার কব্জায় যাচ্ছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজার। আর তাতে চটেছেন জ্বালানি সরবরাহ সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় এলপিজি, চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ কিংবা লবণের বাজারে বিভিন্ন সময়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।তাদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করলেও দেশে কখনো বড় ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। এমনকি গত মার্চে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়। এর বিপরীতে এলপিজি খাতের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকায় এখনো দেশের অনেক এলাকায় ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।জ্বালানি খাতের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় অংশ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ জ্বালানি তেল দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়বে প্রায় সব পণ্য ও সেবার দামে। একই মত দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি বেসরকারি খাতে চলে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ভোক্তারাই নয়, সরকারও একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি রাষ্ট্র নিজের দায়িত্ব বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আনভীরের আবেদনে কি আছে? বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালার আওতায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি এবং বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল)।গত ২৪ মে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে বিওজিসিএলকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া হোক। এ জন্য দু‘দিনের মতে চেয়েছেন আনভীর। যা একেবারে রাষ্ট্রীয় হুকুমের মতো। চিঠিতে বলা হয়, বসুন্ধরা অয়েল প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয় দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে দেশের মোট জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে, যার প্রায় পুরোটা আমদানি নির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ডিজেলের।বিপক্ষে মত দেওয়ায় হঠাৎ চেয়ারম্যান অপসারণ : বিপিসির তথ্য মতে, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বিওজিসিএল বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশও তখন বিস্ময় ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে গেলে ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব বিস্তার, কৃত্রিম সংকট কিংবা মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে চটে গিয়ে গত ২৬ জুলাই রাতে হঠাৎ করে বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেওয়া এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির শর্টলিস্টে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তিনি চাপের মুখে ছিলেন। পরে ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।এরপর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। চিঠিতে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে খসড়া নীতিমালা বিভাগে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নীতিমালার খসড়া তৈরির জন্য বিপিসিকে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র চার দিন।শ্রমিক সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ : বিওজিসিএলের আবেদন পর্যালোচনায় বিপিসির কমিটি গঠন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিভিন্ন স্মারক ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ অয়েল এন্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতারা। এরপর চট্টগ্রাম মহানগরের যমুনা ভবনে বাংলাদেশ অয়েল এন্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের জরুরি সভায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, বিওজিসিএলের আবেদন অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি করার ষড়যন্ত্র করা হলে ফেডারেশনের নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, তেল চুরি ও সিস্টেম লস-সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত কমিটির কার্যপরিধি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। তেল চুরি ও সিস্টেম লস বন্ধের পরিবর্তে বিপণন কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ওপর মনিটরিং ও জবাবদিহির নামে কোনো ধরনের হয়রানির চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।স্মারক ও নীতিমালা নিয়েও আপত্তি : ইস্টার্ন রিফাইনারী এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা বিভিন্ন স্মারকে বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, এক্স-গ্রেশিয়া ও ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এবং কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, এসব নির্দেশনা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের যৌথ দর-কষাকষির অধিকারও ক্ষুণ্ন করছে। তিনি এসব শ্রমিকস্বার্থবিরোধী স্মারক অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।পদ্মা অয়েল কোম্পানি সিবিএর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিপিসি ও এর অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর জন্য জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রান্তিক সুবিধা-সংক্রান্ত যে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর পরিপন্থী। এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের কোনো এখতিয়ার জ্বালানি বিভাগের নেই। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে কোম্পানিগুলোর সিবিএ তা মেনে নেবে না।ইস্টার্ন রিফাইনারী সিবিএর সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা হলে তা চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের কারণ হবে। তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়গুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে সরকার ও জ্বালানি বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।শ্রমিক সংগঠনের তাদের দাবি, বসুন্ধরা একটি মাফিয়া শিল্প গ্রুপ। পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর। এই শিল্প গ্রুপ কোনোমতেই দেশের জন্য ভাল কিছু করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকান্ডগুলো পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করলে ভয়ংকর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। দেশে আমদানি করা জ্বালানির চোর সিন্ডিকেট এই শিল্প গ্রুপই নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের জ্বালানি বাজার এ শিল্প গ্রুপের হাতে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই খাত ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবাধীন হয়ে পড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা।
১ মাস ৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) অন্তত আরও ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার পথে তিনজন এবং দুই শ্রমিক হাসপাতালে মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৫ জন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার পর ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃুমিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ভাটিয়ারী ফেরদৌস স্টিল নামক শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। একই কথা বলেছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান। তিনি বলেন, আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।তবে ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল নয়টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজে একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। এতে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে গিয়ে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কয়েকজন। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় শতাধিক বিক্ষুব্দ লোক ইয়ার্ডে গিয়ে ভাংচুর করেছে। অনেক মালামাল নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে যারা মারা গেছে ও আহত হয়েছে তারা সবাই ইয়ার্ডের শ্রমিক। বহিরাগত লোক তো ইয়ার্ডে ঢুকতে পারে না। বহিরাগত মারা যাবে কোথা থেকে। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) মতে, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে শুক্রবারও গোপনে কাজ চলে। শিপইয়ার্ড মালিকরা শ্রমিকদের দিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন করে কাজ করায়। যা দেখার দায়িত্ব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই)। কিন্তু তারা তা দেখে না। ফলে শ্রমিকরা ইয়ার্ডগুলোতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কাজ করে।
১ মাস ৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম লালদীঘির পাড়ে জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিএমপির কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের ঘটনায় গত ১০ আগস্ট কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে দু‘জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও বিভিন্ন নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেন।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘাটতির বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, ভল্টে টাকা সংরক্ষণের সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত।মামলার এজাহারে বলা হয়, সরিয়ে নেওয়া অর্থ জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ইশরাত এগ্রো নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।তবে জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, তার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ছেলের কাছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণ তাদের দেখানো হয়নি।আজিম উল্লাহর দাবি, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন বিভিন্ন সময়ে তার ছেলেকে লাভের ভিত্তিতে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ সেই টাকা নিয়ে নিতেন। গত ৯ আগস্ট দিনগত রাত ১টার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ব্যাংক থেকে কল করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি শাখায় আটক আছেন। পরে ১০ আগস্ট ভোরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আজিম উল্লার দাবি, কামরুল হোসেন আগে থেকেই তার ছেলেকে লাভে ব্যবসার জন্য টাকা দিত এবং নিত। এই সুযোগে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে স্ট্যা¤েপ স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায়ের বিষয়টি দেখলেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, ভল্ট পরিচালনার নিয়মকানুন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় কারও স¤পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১ মাস ৫ দিন আগে
বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার পর ক্যাম্পাসের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। চুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- ২৪ ব্যাচের অর্ণব চন্দ (২২) ও শান্ত দেব (২৩)। নিহত অর্ণব চন্দ কম্পিউটার ও সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট ও শান্ত দেব থ্রিপলি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাদের দুইজনের বাড়ি সিলেট বলে জানা গেছে। তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ক্যাম্পাসের মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অর্ণব ও শান্ত হলের পাশের পুকুরে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে তারা পুকুরের মাঝামাঝি অংশে সাতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর অর্ণবকে এবং ৪৫ মিনিট পর শান্তকে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। গত কিছুদিন আগেও চুয়েটে খেলাশেষে গোসল করতে নেমে আরো এক শিক্ষাথী পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
১ মাস ৬ দিন আগে

শুক্রবার সকালে পারকি সৈকতে হঠাৎ হৈচৈ। স্থানীয় মানুষ দেখলেন সমুদ্র সৈকতের চরে বসে গেছে স্কাভেটর আর ড্রেজার। মাটি আর বালু উঠছে। প্রশ্ন করতেই বলা হলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজ চলছে। কিন্তু মানলেন না স্থানীয়রা। জড়ো হয়ে বাধা দিলেন। শেষে চাপের মুখে যন্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় মাটি আর বালু উত্তোলনকারীরা। খবর পেয়ে ভূমি অফিস ও পুলিশ এসে জব্দ করলেন মাটি ও বালু উত্তোলন যন্ত্র স্কাভেটর ও ড্রেজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পারকি লুসাই পার্ক নামের একটি রেস্টুরেন্টের লোকজন নিজেদের স্থাপনা ভাঙন থেকে রক্ষা করতে সৈকতের চর থেকে বালু-মাটি তুলে জিও ব্যাগ বসাচ্ছিলেন। আর কাজটিকে পাউবোর নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।পারকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, লুসাই পার্কের ভাঙন ঠেকাতে তারা পারকি সৈকতে স্কাভেটর ও ড্রেজার বসিয়ে বালু ও মাটি খনন করছে। বাধা দিলেও মানছে না। বালু উত্তোলনের কারণে সৈকতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালিয়াড়ি এখন ধ্বংসের মুখে। ব্যক্তিগত স্থাপনা বাঁচাতে পুরো পারকি সৈকতকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। সৈকত রক্ষার নামে সৈকতই শেষ করা হচ্ছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আকবর খানের মুখে নির্লজ্জ কথন, এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। লুসাইয়ের মাটি ও বালুর দরকার নেই। লুসাইয়ের যে পার ভেঙেছে, তা আমরা লুসাইয়ের পুকুর খনন করেই নিতে পারব। তাহলে যন্ত্রপাতি জব্দ করা হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আকবর খান বলেন, না-এখানে কোনো কিছু জব্দ করে নাই। কর্ণফুলী থানার ওসি সাহেবের সাথে আমার কথা হয়েছে। ওসি সাহেবকে আমরা বলছি এটা ভুয়া খবর।বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের আরেক সদস্য আকরাম হোসেনের ভাষায়। তিনি বলেছেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি, পরে এসব ঠিক হয়েছে। পরক্ষণে লুসাই পার্কের আরেক সদস্য হাশেম চৌধুরী বলেন, যা লিখেন লুসাই পার্কের পক্ষে লিখেন।লুসাই পার্কের মালিকপক্ষের বক্তব্য যে ডাহা মিথ্যা তার প্রমাণ মিলল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদের বক্তব্যে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বললেন, পারকি সৈকতের লুসাই পার্কের পাশে পাউবোর কাজ সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। আমাদের কাজ লুসাই পার্কের আশপাশ থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে স্কাভেটর ও ড্রেজার জব্দের সত্যতা মিলল আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদারের মুখে। তিনি বলেন, ভূমি অফিসের লোকজন যন্ত্রপাতি জব্দ করেছে। জব্দ করা যন্ত্রপাতি এখন থানায়।সরেজমিনে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীনের ভাষ্য, পারকি সৈকতে মাটি ও বালু উত্তোলনের খবর পেয়েই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সৈকত রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় লোকজনের মতে, আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষায় এমনিতেই সৈকতের অবস্থা নাজুক থাকে। সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ করলেও লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষ রাতের আধাঁরে, এমনকি প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলন করে সৈকতকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে পর্যটকদের যেমন বিড়ম্বনা বাড়ছে, তেমনি উপকুলীয় ভাঙনে হুমকির মুখে পড়ছে আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, পটিয়াসহ চট্টগ্রাম শহর ।উল্লেখ্য, পারকি সৈকতের বুক ছিড়ে এই লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গড়ে তোলেন ফ্যাসিস্টের দোসর আনোয়ারা উপজেলার ২ নং বারশত ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আত্নগোপনে চলে যান এই চেয়ারম্যান। আর এই অবস্থায় লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট রক্ষায় ঢাল হয়ে দাড়ান বিএনপি নেতা আকবর খান ও আকরাম হোসেন সিন্ডিকেট। যারা চেয়ারম্যান এম এ কাইযুম শাহর মতো মাটি ও বালু উত্তোলন করে সৈকত ধ্বংসের মহোৎসবে মেতেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষের ধ্বংসাত্বক কাজের কারণে সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিগত বন্যায় বিলীন হয়ে গেছে। যা পাউবোর প্রজেক্টের আওতায় সংস্কার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ভাইস চেয়ারম্যানও সহযোগীরা। এতে ব্যর্থ হয়ে নিজেরাই বালু ও মাটি দিয়ে জিও ব্যাগ বসিয়ে লুসাই পার্ক রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বালু ও মাটি উত্তোলন আড়াল করতে পাউবোর নাম ভাঙাচ্ছেন।
১ মাস ১১ দিন আগে
হামে চার শিশুকে হারিয়েছে এক পরিবার। বেচে থাকার লড়াই চলছে আরও দুই শিশুকে নিয়ে। এদের একজন চিকিৎসাধীন আছেন চট্টগ্রাম মেডিকের কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। অন্যজন চিকিৎসাধীন নগরীর ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমন তথ্য জানিয়েছেন চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিয়া। তিনি জানান, বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ার বাসিন্দা পঅ এং খুমি-বৈনাং খুমি দ¤পতি গত দু‘দিনের ব্যবধানে হারিয়েছেন হামে আক্রান্ত দুই ছেলে।এর হলো খ্রেতং খুমি (৭) ও প্রেলং খুমি (৪)। তাদের দুই মেয়েও এখন হামে আক্রান্ত। এর মধ্যে বড় মেয়ে কোনোরকমে সুস্থ হলেও ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি লড়ছে। এর কয়েকদিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে পঅ এং খুমির আপন বোন পলি এং খুমি (৬) এবং অন্য এক বোন নাংখৈ খুমির ছয় বছরের ছেলে খৈয়তা এং খুমিও মারা যায়।এই চার শিশুর প্রাণহানিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খুমি পরিবারটি। এমনকি জোর হারিয়ে হয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তবুও হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর প্রাণ বাচাতে চমেক হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি হাসপাতালে লড়ছেন পরিবারটি।অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিয়া জানান, চট্টগ্রামে হাম কমেনি এখনো। প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন ভর্তি হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পরও হাম হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দেড়শজন হাম উপসর্গের রোগী চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বান্দরবান, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাম আক্রান্ত রোগী আসছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, চমেক হাসপাতালের শয্যায় সাত মাসের ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি বেহুশের মতো শুয়ে আছে। নাকে দেয়া হয়েছে অক্সিজেন নল। মেয়ের পাশে আধশোয়া হয়ে পড়ে আছেন ক্লান্ত-শ্রান্ত মা। মা বৈনাংয়ের চোখেও যেন রাজ্যের ঘুম। পুত্রশোকে অনেক কেঁদেছেন, এখনো সময়-অসময়ে কেঁদে ওঠেন তিনি।ছেলে হারানো এই দম্পতি এখন সব জোর হারিয়ে ফেলেছেন। তবু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসাধীন মেয়েকে নিয়ে লড়ছেন এ দ¤পতি। পঅ এং খুমি-বৈনাং খুমি দম্পতির ভাষ্য, গত দু‘দিনের ব্যবধানে হামে আক্রান্ত দুই ছেলে খ্রেতং খুমি (৭) ও প্রেলং খুমি (৪) কে হারিয়েছেন তারা। বাকি দুই মেয়েও অসুস্থ। এর মধ্যে বড় মেয়ে কোনোরকমে সুস্থ হলেও ছোট্ট মেয়ে লিংথং এ্যা খুমি লড়ছে।এর ১০ দিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে পঅ এং খুমির আপন বোন পলি এং খুমি (৬) এবং অন্য এক বোন নাংখৈ খুমির ছয় বছরের ছেলে খৈয়তা এং খুমিও মারা যায় বলে জানান বৈনাং খুমি। শুধু চার শিশু নয়, বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ায় গত ১০ দিনে আরও ৭ শিশু মারা যায় বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, হামে আমাদের এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আমরা সবাই যৌথ পরিবারের বাসিন্দা। বর্তমানে আরও দু‘জনকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামের দুই হাসপাতালে দিন পার করছি। পঅ এংয়ের বোন নাংখৈ খুমির ছোট মেয়ে যতন এং (৩) চিকিৎসাধীন ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। চার দিন আগে মেয়েটিকে ভর্তি করা হয়।আর আমাদের মেয়ে লিংথংকে চমেক হাসপাতালে আনা হয় গত মঙ্গলবার। দু‘জনই বান্দরবান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চমেক হাসপাতালে নাতির সঙ্গে আছেন পাড়ার কারবারি শৈলুং খুমি। হাসপাতালে শৈলুং হামে আক্রান্ত পাড়াটির করুণ বর্ণনা দেন, গত এক সপ্তাহে আমার মেয়েসহ পরিবারের চার শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া আমার ভাইয়ের এক মেয়ে এবং বড় ভাইয়ের নাতিও মারা যায়। অন্য পাড়াবাসীর এক শিশুসহ ১০ দিনে ৭ শিশু মারা গেছে।তারা জানান, লেংটংপাড়াটিতে ২৬টি পরিবার। পেশা জুমচাষ। রুমা থেকে দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। দুর্গম পাড়ায় যাওয়ার কোনো বাহন নেই। পাহাড় ডিঙিয়ে রুমা উপজেলা সদরে আসতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। এখানে স্বাস্থ্যকর্মীর পা পড়ে না। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাড়াটির শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।শৈলং কারবারি জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২৪ জুলাই এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায় তার নিজের মেয়ে পলি এং ও মেয়ের ঘরের নাতি খৈয়তা এং খুমি। দু‘জনের বয়সই ছয় বছর। এ দুজনের মৃত্যুর পর পাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারবারির ছেলে পঅ এংয়ের চার সন্তানের জ্বর তখন।পরদিন ২৫ জুলাই অবস্থা খারাপ হলে পঅ এংয়ের বড় ছেলে খ্রেতং খুমিকে নিয়ে রুমা সদরের দিকে রওনা হন কয়েকজন। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়। পরদিন বাকি তিন শিশুকে নিয়ে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে দ্বিতীয় ছেলে প্রেলং খুমিকে ২৭ জুলাই চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ওইদিনই প্রেলং মারা যায়।চমেকে মারা যাওয়া ছেলের মরদেহ নিয়ে দুর্গম লেংটংপাড়ায় ছুটে যান দ¤পতি। তখনো তাদের দুই মেয়ে বান্দরবান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পঅ এং খুমি বলছিলেন, আবার বান্দরবান হাসপাতালে যাই পরদিন। সেখান থেকে দুদিন আগে ছোট মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসি। বড় মেয়ে পথাং এউং খুমিকে (১১) গত বুধবার বান্দরবান হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সুস্থ হয়েছে কিছুটা। এখন চিন্তা লিংথং খুমিকে নিয়ে। বোনের মেয়েটি আছে ফৌজদারহাট হাসপাতালে।চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের হাম ব্লকে তাকে রাখা হয়েছে। এখনো অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। একই শয্যায় রয়েছে আরও এক রোগী। শয্যাসংকটে এক শয্যায় একাধিক রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানের রুমার ছোট্ট লিংথং এ্যা খুমির পাশে বাবা-মা এবং দাদু সারাক্ষণ পাহারা দিচ্ছেন। এ কদিনে তারা অনেক মৃত্যু দেখেছেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা আর মৃত্যু দেখতে চায় না।
১ মাস ১১ দিন আগে
এবার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চট্টগ্রামের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিভিয়ে ফেলেছেন স্থানীয়রা। নওফেলের ভাইয়ের অভিযোগ, তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল।বৃহ¯পতিবার (৬ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার চশমাহিল এলাকার মেয়র গলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছন পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ২টার দিকে ওই বাড়ির সামনে সাতজন তরৃুণ-যুবককে দেখা গেছে। তারা আগুন ধরানোর চেষ্টা করে।পরে বাসার সামনে একটি পাইপলাইনে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এলে তারা চলে যায়। পরে আগত স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানান সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও সঠিক জানি না। আমরা তদন্ত করে দেখছি।স্থানীয়রা জানান, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট ভারতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে অংশ নেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। একই অনুষ্ঠানে ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।সংবাদ সম্মেলনের পর মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পাশাপাশি আগুন দেওয়া হয়। একই ঘটনার জেরে মহিউদ্দিন পূত্র নওফেলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয় লোকজনের।তবে নওফেলের ছোট ভাই বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন ফেসবুকে লিখেছেন, বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে আবারও আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সহিংসতা কখনোই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভাষা হতে পারে না।উল্লেখ্য, চশমাহিলের মেয়র গলির বাড়িটি এখনো প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের মানুষের কাছে। ওই বাড়িতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগপর্যন্ত মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলার ঘটনা ঘটে।এরপর থেকে বাড়িটি খালি পড়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বাড়িটিতে কয়েকবার হামলা করা হয়। মহিবুল হাসান চৌদুরী নওফেল চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য।
১ মাস ১১ দিন আগে
চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে ব্যাপক প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও দলের নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আগামী ৯ আগস্ট রবিবার সফর শেষে সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার তিন সাংগঠনিক ইউনিটের (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ খ্যাত– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সাংগঠনিক সভা। সভায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত, পরামর্শ ও স্থানীয় রাজনীতির বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আর ব্যাতিক্রমি এই উদ্যোগে এখন সরব হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের তৃণমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তৃণমূলের নেতৃত্বে সবসময় আস্থা রেখেছেন। উনি তৃণমূলের মুকুটহীন সম্রাট। তৃণমূলের রাজনীতি দিয়েই পুরো বাংলাদেশে উনার যে জনপ্রিয়তা, উনার যে রাজনৈতিক দর্শন–এটা ছড়িয়েছেন। এই জন্যই উনি সবসময় তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে আসছেন। মীর হেলাল বলেন, তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন, তখনও তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এখন যেহেতু উনি সশরীরে আছেন এবং চট্টগ্রাম উনাকে সর্বোচ্চ ভালো নির্বাচনের একটা ফিডব্যাক দিয়েছে তাই চট্টগ্রামের তিন জেলা (মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি, ১১টা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর সাথে সরাসরি কথা বলবেন। সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে কথা বলতে পারবেন। আমি মনে করি এটা পজিটিভ। এটাই আসলে তারেক রহমান সাহেবের চিরাচরিত রাজনৈতিক চর্চা এবং এটাই উনার তৃণমূলকে শক্তিশালী করার রাজনৈতিক দর্শন। এটা উনি আগেও করেছেন, এখনো এটা কন্টিনিউ করছেন।তৃণমূলের কর্মীরা দলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, এতে উচ্ছ্বাস কেমন দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে ব্যারিষ্টার মীর হেলাল বলেন, রবিবার চট্টগ্রামে দলীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির। যেটি আবার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সাংগঠনিক সভা। তাই দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। আমার মনে হয় দুইদিন ধরে তারা ঘুমোচ্ছে না। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর সব জায়গায়। তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার এই উদ্যোগ পুরো দলকে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন গতিতে চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারাও। তাদের মতে, সাংগঠনিক সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। অবশ্য উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কমিটি নেই। উত্তরের আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম আসেন। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম এসেছেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর প্রায় তিন মাস পর একই বছরের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত জানুয়ারিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। গতবার সাংগঠনিক সভা করেননি, এবার করবেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভাটি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সভা হবে, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত চেয়ারপার্সন ঢাকায় সেসব সাংগঠনিক সভা করেন সেখানে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, সাধারণত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের সাংগঠনিক সভাগুলোর ভেন্যু থাকে রাজধানী ঢাকা। এসব সভায় জেলা বা মহানগরের ‘সুপার ফাইভ’– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এবার সেই চর্চায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সভা দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।সফরে যা করবেন প্রধানমন্ত্রী : আগামী ৯ আগস্ট রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হেলিপ্টার যোগে ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হেফাজতে আমীর আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছে তিনি মরহুম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর আসবেন চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে।র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিভিন্ন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী যে সফর করেন সেখানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বসেন, সাংগঠনিক সভা করেন। ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরকালেও তিনি সাংগঠনিক সভা করবেন। হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় এ সভায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। যার মধ্যে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দও থাকবেন। উত্তর জেলায় কমিটি নেই, তাই উত্তরের উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি আছে তার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থাকবে। এছাড়া মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি–সম্পাদক অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুুষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানে কোনো জনসভা হবে না। এরপরও প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য প্রচুর লোক জমায়েত হবে। দলের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘরে উজ্জ্বীবিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছে। লায়ন হেলাল বলেন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেবেন। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম চট্টগ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুব কাছে বসে তার নির্দেশনা শুনার সুযোগ পাবেন। এজন্য নেতাকর্মীরা খুব উচ্ছ্বসিত। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে বরণ করতে প্রস্তুত। নিরাপত্তার চাদরে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সড়কপথে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেখানে নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। একই ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়ও। সেখানে পাইন্দং সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ শেষ হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। একইভাবে হাটহাজারীতেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হোটেল রেডিসন ব্লুও। এক কথায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ফোর্স এসএসএফ, ডিজিএফআই, সেনা, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন।
১ মাস ১১ দিন আগে
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের কাছ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব -৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রেনের ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মাহাবুর রহমান (২০)। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ থানার নলছিয়া এলাকার আজব বাদশার ছেলে। মাহাবুর ট্রেনটির দায়িত্বে থাকা এস এ কর্পোরেশনের কর্মী।চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ট্রেনের ভেতর বিপুল ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের দিকে আসছেন। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়।ট্রেনটি ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছালে ট্রেনের ‘জ’ বগি থেকে নেমে এক যুবক পালানোর চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন হিসেবে মাহাবুরকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। পরে ট্রেনের টয়লেটে তল্লাশি চালিয়ে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই ইয়াবা পাচারের সাথে এস এ করপোরেশনের আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান র্যাব এর কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।
১ মাস ১৪ দিন আগে
ছিলেন ছাত্র, হলেন শহীদ। মহান এই আত্নদানে বলীয়ান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম। মরেও তিনি প্রমাণ করলেন শোষণ বিরোধী আত্নদান কখনো বৃথা যায় না। বরং অনেক সম্মানের। বীরোচিত এই ছাত্রের আত্নবলীদান মুহুর্তে মুহুর্তে স্মরণ করছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ।২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেলা ৩ টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছোড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ তিনিই। যার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রাম মহানগরীর পরতে পরতে সাইনবোর্ড-ব্যানারে ঝুলছে সেই থেকে।সেই শোকাবহ ঘটনার দু‘বছর পূর্ণ হল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী ভুলেনি শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। দলীয় নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ১২ জুন সশরীরে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেন।স্থানীয়দের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেঝ ছেলে ওয়াসিম আকরাম। সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের। পড়তেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। সেই সুবাধে চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন ওয়াসিম। জড়িত ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যখন বিরোধী দল দমনপীড়নে খড়গহস্ত, ঠিক এই অসময়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। আর ক্ষণে ক্ষণে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারধর, হামলা-মামলা ও গুলির মুখে পড়েছেন ওয়াসিম আকরাম।এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশে চাঙা হয়ে উঠে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। ঢাকার ছাত্র জনতার সাথে চট্টগ্রামেও এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন ছাত্ররা। তাদের সর্বাগ্রে থেকে নেতৃত্ব দেন শহীদ ওয়াসিম আকরাম।মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে উঠে। তখন পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে। এতে দমে যাননি স্বৈরাচারবিরোধী অকুতোভয় বীর সেনানী ওয়াসিম আকরাম। বরং অন্য সহযোদ্ধাদের মতোই আরো বেশি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন।ওয়াসিমের সহপাঠি ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলামের মতে, ১৬ জুলাই দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি বাস ভাংচুর করে তারা। বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২নং গেট ও ষোলশহরের আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষের শুরুতে লাঠিপেটা করা হলেও, পরে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাথে সাদা পোষাকে হেলমেট পড়ে কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বেশ কিছু ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়। সেদিন গুলিবিদ্ধ হন শহীদ ওয়াসিম আকরাম। বাচানোর আশায় সহপাঠিরা যে তাকে হাসপাতালে নিবে সে সুযোগও সেদিন অবরুদ্ধ করে পুলিশ ও অস্ত্রধারী ছাত্রীগ-য়ুবলীগ নেতাকর্মীরা। রাত প্রায় ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে ওয়াসিম আকরামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিসৎকরা।সেদিনের কথা বলতে গিয়ে চোখে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশার কান্না নিয়ে সহপাঠী ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন ওয়াসিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টটিতে সে লিখেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো। আর এর ঠিক ১৬ ঘণ্টা পরই শহীদ হলেন ওয়াসিম আকরাম। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ এটি।১৭ জুলাই সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার ওয়াসিমের জানাজা হয়। এরপরই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আক্ষেপ কাটেনি প্রবাসী বাবা ও গৃহীনি মায়েরশহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রবাসী। সেখানে তিনি একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছেলের আত্ন বলীদানের কথা শুনলেও দেশের অরাজক পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেনি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ফিরেন তিনি।সেই থেকে ছেলের আত্নবলীদান নিয়ে আক্ষেপ বাড়ছে প্রবাসী শফিউল আলমের। অন্যদিকে দেশে থেকেও মনকে কোনভাবে সাত্ননা দিতে পারছেন না মা জ্যোস্না বেগম। কারণ তাদের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল শহীদ ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে।মুঠোফোনে এসব কথা বলেন ওয়াসিম আকরামের চাচা মাওলানা জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে বাবা শফিউল আলম প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটান।মা জ্যোস্না বেগম এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাঁর সন্তান নেই। প্রতিটি মুহূর্তে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান, চোখের সামনে ভাসে ওয়াসিমের হাসি, তার কণ্ঠস্বর, তার চলাফেরা। আকস্মিক সন্তান হারানোর আঘাত সইতে না পেরে শোকস্তব্ধ ওয়াসিমের মা হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি, একবছর ধরে তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী।চাচা মাওলানা জয়নাল জানান, পিতামাতার ৫ সন্তানের মাঝে ওয়াসিম ছিলেন দ্বিতীয়। সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই মহিউদ্দিন চাকুরি করে। ছোট আরো এক ভাই ও দুই বোন পড়াশোনা করে। তাদের সবার স্বপ্ন ছিল ওয়াসিম আকরামও পড়ালেখা শেষ করে সরকারি বড় কোন পদে চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে।আবেগাপ্লুত চাচা জয়নাল জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। তাকে হারিয়ে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে আমাদের পরিবারের ওপর। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। সে স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ১৬ জুলাই বিকেলের একটি বুলেটে। ওয়াসিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কাছে দাবি জানান চাচা জয়নাল।ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, সেটা যে সন্তান হারিয়েছে শুধু সে-ই বুঝবে। মা হারিয়েছি, দুই মাস পর ছেলেকেও হারিয়েছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না। ভাই হারানোর যন্ত্রণা আমার অন্য সন্তানদের মধ্যে। কেউ আমাকে ছাড়তে চায় না। বাকি জীবনটা তাদের বুকে আগলে রেখেই কাটিয়ে দিতে চাই।সহপাঠি ও এলাকাবাসীর ভাষ্যওয়াসিম আকরাম কেবল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, বরং ছিলেন বিনয়ী ও সবার প্রিয়। গ্রামের মানুষরা জানান, তিনি পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে গ্রামে যেতেন এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওয়াসিমের পরিবার এখনো শোকসাগরে ভাসছে ওয়াসিমের পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে এ কথা কেউ কল্পনাও করেনি। তার মৃত্যুতে পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে সান্তনার বিষয়, সরকার শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের পাশে আছে।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৩ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার এসে শহীদ ওয়াাসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন সরকারপ্রধান। এতে পেকুয়া উপজেলাবাসী গর্বিত। এতে মনে হচ্ছে শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্নদান বৃথা যায়নি।চট্টগ্রামে সেদিন আরও আত্ন বলীদান ছিল যাদেরজুলাই অভ্যূত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাড়াও চট্টগ্রামের রণাঙ্গনে সেদিন জীবন বিলিয়ে দেন ছাত্র শিবির নেতা ফয়সাল হোসেন শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। এই তিন প্রাণের বিনিময়ে সেদিন থেকে চট্টগ্রামে আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ পায় বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের তৎকালী সমন্বয়কদের অন্যতম মশিউর রহমান।তিনি বলেন, ১৫ জুলাই প্রথম প্রতিরোধের পর ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মেরে ফেলব, কেটে ফেলব-এ ধরনের পোস্ট দিতে শুরু করে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের ছবি তুলে আমাদের ইনবক্সে পাঠাতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমরা যাতে ভয় পেয়ে ষোলশহরে আর না যাই। কিন্তু আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ছাত্রলীগ হামলা করতে এলে জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা হবে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সেদিন শান্তিপুর্ণ ভাবেই মুরাদপুর মোড় ও রেলগেট এলাকায় অবস্থান করছিলো। বিনা উস্কানিতেই ছাত্রলীগ আমাদের উপর অস্ত্রসহ হামলা চালায়। জবাবে শিক্ষার্থীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।প্রথম হামলাতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পরেন। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁরা গুছিয়ে উঠে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সময়গুলি গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনা স্থালে হাজির হয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। এ সময় তাদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম, শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। রক্তে লেখা হয় নতুন ইতিহাস।সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ওয়াসিমের মতো সেদিন শহীদ হওয়ার আগে শিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে রিখেছিল- যে হৃদয় শাহাদাতের উচ্চাকাক্সক্ষা লালন করে, সে হৃদয় কখনো হতাশ হয় না। শান্ত নেই, কিন্তু সেই লেখা এখনো রয়ে গেছে।শহীদ শান্তর মা কোহিনূর বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার ছেলে আমার বুকের ধন। আমার ছেলের কষ্ট হবে, এজন্য আমি শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে কোনো কাজে হাত দিতে দিতাম না। আমার ছেলেটাকে ছেড়ে আমাকে দু‘টা বছর কাটাতে হল, সারাজীবন কাটাতে হবে, এ দুঃখ আমি কীভাবে সইব!শান্তকে নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন, তিনি সবসময় ওয়াসিমের কথা বলেন শুধু, বাকি দুজনের কথা বলেনই না। এখন দেখছি সরকারের সবাই একই পথে হাঁটছেন। আমি মনে করি, এটা একটা বৈষম্য!সেদিন আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় শহীদ হন দোকান কর্মচারী ফারুক (৩২)। মুরাদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার স্বামীর মৃত্যুতে আজও শোকে স্তব্ধ। তিনি বলেন, আমার স্বামী তো নেই। আমি আমার স্বামীর হত্যা কারীদের ফাঁসি চাই।
১ মাস ১৪ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট তাঁর এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণ করা নতুন বাড়ি হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নতুন করে বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এসব বাড়ি হস্তান্তর করবেন। একই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন।তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থানে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখান থেকে তিনি পশ্চিম বাঁশখালীতে সমাবেশ ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে আমাকে ও সদস্যসচিবকে ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। এখনো দাপ্তরিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সফরসূচি চূড়ান্তভাবে জানানো হলে সে অনুযায়ীও আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
১ মাস ১৫ দিন আগে
জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অনেক গ্রাহকও অভিযোগ করছেন, আগের মাসের তুলনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কারও বিল দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ, আবার কোথাও পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি এসেছে।সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অসংখ্য গ্রাহক। কেউ দাবি করেছেন, পুরো মাস বাড়িতে না থাকলেও আগের তুলনায় বেশি বিল এসেছে। আবার কেউ বলছেন, আগে যেখানে মাসে দুই হাজার টাকার কম বিল দিতেন, এবার সেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তবে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টিকে অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যতগুলো অভিযোগ জমা পড়েছিল, তা বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো যৌথভাবে সমাধান করেছে। এরপরও যদি কোনো গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ কাছের অফিসে আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।গ্রাহকদের অভিমতচট্টগ্রাম পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলামের মতে, তার পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহার গত কয়েক মাসে তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি মাসে তার বিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু জুন মাসে তার বিল আসে প্রায় ৬ হাজার টাকা। হঠাৎ চার গুণের বেশি বিল দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেন। তার প্রশ্ন, ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও বিল এত বেড়ে গেল কীভাবে?একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। তাদের দাবি, জুন-জুলাই মাসে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। তারপরও আগের মাসের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল এসেছে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকলে ব্যবহারও কম হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে এত বেশি বিলের যৌক্তিকতা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।শুধু পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মধ্যেও একই ধরনের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকার অনেক গ্রাহক বলছেন, আগে যে পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে প্রায় এক মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেত, এখন একই পরিমাণ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মিটার পরীক্ষা করিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মতোই থাকলেও রিচার্জের টাকা অস্বাভাবিক দ্রুত কেটে যাচ্ছে।পাভেল বড়ুয়া নামে একজন বলেন, ১ হাজার টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ পেলাম ৭০৮ টাকার। মানে ২৯২ টাকা নাই। এর মধ্যে ডিমান্ড চার্জ ১৬৮, ভ্যাট ৪৭। কারা জানি বলেছিলেন মিটার ভাড়া নেবে না সরকার! আমার তো নিল ৮০ টাকা। এভাবে ১ হাজারে ৭০০ টাকা মানে ৩০০ টাকা নাই হয়ে যাওয়াকে সাগর-চুরি বলে মনে করি আমি।এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজন বা দুটি এলাকার নয়। নগরীর পাহাড়তলী, পতেঙ্গা, গোসাইলডাঙ্গ, ফিরিঙ্গিবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাম ফরিদের পাড়া, কাপাসগোলা, বাকলিয়া, চাক্তাই, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, দিনের বড় অংশ লোডশেডিংয়ে কাটলেও তাদের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে।এসব অভিযোগে স্পষ্ট, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। তাই বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।পোস্টপেইড গ্রাহকদের অভিযোগ, কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল হয়েছে, কোথাও অনুমাননির্ভর বিল করা হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে সমন্বয় করায় বিল হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক গ্রাহক বিল হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করছেন।বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যাঅস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের পর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জুন মাসে তীব্র গরমের কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বিশেষ করে এসি, ফ্রিজ, পাখা ও কুলারের ব্যবহার বাড়ায় অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ খরচও আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। তাছাড়া ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মিটার রিডিং নেওয়া হয়। ফলে জুন মাসের বিলে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহার যুক্ত হয়েছে। এ কারণেও অনেকের বিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এসেছে। একই কারণে জুলাই মাসের বিলেও কিছু ক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।এ ছাড়া কোথাও কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল, বিল তৈরির ত্রুটি কিংবা একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে সমন্বয় করার কারণেও অস্বাভাবিক বিল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।সন্তুষ্ট নন গ্রাহকরা, ছুড়ছেন প্রশ্নতবে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক গ্রাহকরা। তাদের প্রশ্ন, গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও কীভাবে বিল দুই, তিন কিংবা পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে?অনেকের অভিযোগ, দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ের কারণে এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারই করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যবহারের যুক্তি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদেরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও রিচার্জের টাকা অস্বাভাবিক দ্রুত কেটে যাচ্ছে।নাগরিক সমাজের উদ্বেগজুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ার পরই জুলাই মাসে অনেক গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকের দাবি, আগের তুলনায় বিল দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিল বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। মিটার রিডিং, বিলিং সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।সংগঠনটি অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, বিল পুনর্মূল্যায়ন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত বিলে জরিমানা বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে বিলিং ব্যবস্থার নিয়মিত প্রযুক্তিগত নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বিলের কপি, মিটারের রিডিং ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, শুধু তীব্র গরম বা অতিরিক্ত কয়েক দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহার দিয়ে এত বড় বিলের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায় না। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ত্রুটি, কোথাও বিলিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।বাড়তি বিলের ক্ষোভের মধ্যেও লোডশেডিংবিদ্যুৎ বাড়তি বিল নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে শুরু করেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি কোনো না কোনোভাবে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ২৬টি, তরল জ্বালানিভিত্তিক ৩৩টি এবং কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর থেকেই দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি শুরু হয়। টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এক ধাক্কায় ১৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।এর আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুটে। অথচ দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ খাত। আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে ৬৮ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি কমেছে।গত সপ্তাহে গড় উৎপাদন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮২ মেগাওয়াট, যা আগের সপ্তাহে ছিল মাত্র ৩২০ মেগাওয়াট। ১ আগস্ট ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়। রোববার গভীর রাতে একপর্যায়ে ঘাটতি প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে ওঠে। দিনের বেলাতেও অনেক সময় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে।ভোগান্তি বেশি গ্রামাঞ্চলেলোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক বা দুই ঘণ্টা লোডশেডিং এখন অনেক এলাকার নিত্যদিনের ঘটনা।রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি চালকলের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, একদিনে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। আগে দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং কোনোভাবে সামলানো যেত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাতকানিয়ার মাছচাষি রহমত উল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালাতে টানা তিন রাত লেগেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় গ্রিডে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ, অতপর লোডশেডিংমাতারবাড়ী ও বাঁশখালী এসএস পাওয়ারের মতো মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে পুরো দেশের জাতীয় গ্রিডে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ-সংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এই চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ সোমবার দুপুর ১টার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ ছিল ৯০০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০০ মেগাওয়াট। কাগজে-কলমে ২০০ মেগাওয়াটের লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র এর চেয়ে খারাপ। রেশনিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। টানা এক-দুই ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না জেলার কোনো এলাকায়।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।’ সরবরাহ কেন কম সেটি তিনি জানেন না বলে জানান।চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল ভিত্তি এখন দুটি বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র। বাঁশখালীর এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১ ও ২ আগস্ট টানা ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে জাতীয় ও স্থানীয় গ্রিডে। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০ জুলাই সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হয়। যদিও ৩১ জুলাই সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটিতে তা কমে ৭৯০ মেগাওয়াটে নামে। এ ছাড়া গ্যাসভিত্তিক শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি নিয়মিত ২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন বজায় রেখেছে।বিপরীতে সরকারি পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভিন্ন চিত্র মিলেছে। চট্টগ্রাম শহরঘেঁষা রাউজান ১ ও ২ নম্বর ইউনিট (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ ছিল সিইপিজেডের ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টও। কক্সবাজারের বায়ু ও টেকনাফ-কাপ্তাইয়ের সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনেও ধারাবাহিকতা নেই। ৩০ জুলাই বেলা ১১টায় কক্সবাজার বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিললেও পরদিন একই সময়ে সেখান থেকে উৎপাদন নেমে আসে শূন্যে। কাপ্তাই, টেকনাফ ও কেইপিজেডের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রাতে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। আর মেঘলা দিনেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না বলে তথ্যে উঠে এসেছে।লোডশেডিংয়ের এই বাস্তবতায় দুর্বিষহ দিন কাটছে নগরবাসীর। চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, সকালে খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ঢুকে দেখি গ্যাস নেই। ভাবলাম কিছুক্ষণ শুয়ে থাকি। বেডরুমে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নেই। এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি।হালিশহরের বাসিন্দা সুরাইয়া জান্নাত বলেন, রবিবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে। আবার ভোরে চলে যায়। আসে সকালের দিকে। রাতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে বাচ্চারা গরমে ছটফট করতে থাকে।’ নগরের রাজাপুকুর লেনের বাসিন্দা পুতুল দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের বাসায় রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে ভোররাতে।’বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের বিদ্যমান উৎপাদন দিয়েই স্থানীয় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব। তবে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের বণ্টন-নীতির কারণে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম থেকে টেনে নিয়ে রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকার ঘাটতি মেটানো হচ্ছে। অথচ গ্যাস সরবরাহের বেলায় চট্টগ্রাম পুরোপুরি বঞ্চিত। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেশের কোন কুপ থেকে আসে না, সম্পূর্ণ আমদানিকৃত তরল এলএনজির উপর নির্ভর। তদন্তের নির্দেশ সরকারের বিতর্ক বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের সব বিতরণ কোম্পানিকে দ্রুত অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব গ্রাহকের বিল ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো পুনরায় যাচাই করতে হবে। তদন্তে ভুল প্রমাণিত হলে সংশোধিত বিল দিতে হবে।এ জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে আলাদা অভিযোগ গ্রহণ সেল চালু করা হয়েছে। গ্রাহকরা বিল, মিটারের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে সেখানে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে মিটার পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জুন মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম, অবহেলা বা অসাধু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইকবাল মাহমুদ বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত কারণ কী, সেটি তদন্ত করেই নিশ্চিত হওয়া হবে। কোনো গ্রাহক যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
১ মাস ১৫ দিন আগে
গ্যাস–সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার পর এবার মিয়ানমারের দ্বারস্থ হলো বাংলাদেশ সরকার। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহী। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।সাক্ষাৎকালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ সময় দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ করিডোর বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথাও জানান তিনি। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ১৬ দিন আগে
কাস্টমসের চাকরি যেন ‘আলাদিনের চেরাগ;। লোকমুখে প্রচলিত এই প্রবাদটির বাস্তব রূপ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। মাত্র ১২ বছর চাকরি করেই বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। নিজ গ্রামে গেড়েছেন রাজপ্রাসাদ। রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, চড়েন দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে এই কর্মকর্তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাটের ১৪তম ব্যাচের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এনবিআরের এক সাবেক ক্ষমতাধর শীর্ষ কর্মকর্তার সুপারিশে চাকরি পাওয়া আলতাফ, ওই কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়েই কাস্টমসে অদম্য শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন আলতাফ। তখনকার মহাপরিচালকের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত এই ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ক্যাডার অফিসারদেরও তোয়াক্কা করতেন না। ক্ষমতার দাপট আর ঘুষের টাকায় তার পা মাটিতে পড়ত না।নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একটি পদে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি পদায়নের সুযোগ না থাকলেও, আলতাফের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম খাটেনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, যার সবকিছুই তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানের নখদর্পণে ছিল বলে জানা যায়।ঢাকায় ফ্ল্যাট-প্লট থেকে গ্রামে ‘রাজপ্রাসাদ’!১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সরকারি স্কেল অনুযায়ী মাসিক সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮,৬৪০ টাকা। বিগত ১১-১২ বছরে তার মোট বৈধ বেতন হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ঢাকা শহরে এই বেতনে সাধারণ জীবনযাপন করাই কষ্টকর, সেখানে আলতাফ হোসেনের রয়েছে একাধিক আলিশান ফ্ল্যাট।অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আলতাফের স্থাবর সম্পদের তথ্য বলছে, ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। নির্মাণাধীন একটি ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় রয়েছে আরেকটি বড় ফ্ল্যাট। নিজ গ্রাম বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ফুলহাতায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। এলাকায় তিনি এখন ‘টাকার কুমির’ নামে পরিচিত। স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জমি, প্লট এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR)। কিশোরগঞ্জ, খুলনা ও শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর ঘুরে আলতাফের সর্বশেষ পদায়ন হয় দেশের প্রধান রাজস্ব প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। সেখানে যাওয়ার পর তার দুর্নীতির মাত্রা আরও তীব্র হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—চট্টগ্রাম কাস্টমসে আলতাফের টেবিলে ‘লাখ টাকা’ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় হয় না। নিয়মতান্ত্রিক অনুরোধ করলেও ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা তার নিত্যদিনের বিষয়।সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বর্তমান কমিশনার তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। তবে বদলি ঠেকাতে বর্তমানে এনবিআরের উচ্চমহলে জোর তদবির ও লাখ লাখ টাকা ছড়াচ্ছেন বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র!কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে এই কর্মকর্তার গোপন মিশন। সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে আলতাফ সিন্ডিকেট। বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির করতে এই সিন্ডিকেট প্রায় ‘কোটি টাকা’ বিনিয়োগ করেছে। আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থেকে আলতাফ হোসেনের নেতৃত্ব দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজও এখন গণমাধ্যমের হাতে। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি।এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ অভিমত, একজন সামান্য সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৭ ভরি (৪২৭ গ্রাম) ওজনের ৯টি অবৈধ স্বর্ণেরবারসহ তামিম আনসারী নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। স্বর্ণেরবারগুলো তার অন্তর্বাসের ভেতর পেস্ট আকারে লুকানো ছিল।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারজাহ থেকে এয়ার আরাবিয়ার জি-৯-৫২৬ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসে ওই ভারতীয় ওই নাগরিক। তিনি ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা।শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেলে তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ পেস্ট আকারে লুকিয়ে রাখা ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ৪২৭ গ্রাম, যা বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় ৩৭ ভরি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চালান বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বর্ণ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা রয়েছে।মামলা শেষে তাকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলে জানান বিমান বন্দরের এই কর্মকর্তা।
১ মাস ১৭ দিন আগে
পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন মহানগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ও রামু জংশন পরিদর্শন শেষে চকরিয়া উপজেলার হারবাং রেল স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হবে। এতে এ রুটে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টেশনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।তিনি বলেন, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার এবং ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন শিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান পরিদর্শন করেছি। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সকল স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, অপেক্ষমাণ কক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, টিকিটিং কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত, স্টেশনের অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ১৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি আবাসিক ভবনের চার তলার বেলকনি থেকে পড়ে মোহাম্মদ আবির (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবির রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা বার আউলিয়া ইসমাইল মিয়াজী বাড়ির মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোছাম্মৎ নিলা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি পশ্চিমচাল এলাকার গুলবাহার আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে শিশুটির মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অজান্তে চঞ্চল স্বভাবের আবির বেলকনিতে চলে যায়। রেলিংবিহীন বেলকনিতে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১ মাস ১৭ দিন আগে
আবারও বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণ উল্লেখ করে ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যা জানাজানি হয় শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে।এরপর শ্রমিকরা বিকেলে অবস্থান নেন কারখানাগুলোতে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে হঠাৎ কারখানাগুলো বন্ধের ঘোষণায় পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিকরা।বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ই¯পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ই¯পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ই¯পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল। যেগুলোতে ১০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মরত আছেন।চিনিকল কারখানার কর্মচারী আশরাফ মনির বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৯টি কারখানার ১০ হাজার জন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। শুনেছি কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ অথবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও এস আলম গ্রুপের চিনি, ই¯পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে আন্দোলনের মুখে কারখানাগুলো চালু করা হয়।তবে এর মধ্যে চিনিকলসহ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল আমদানি, ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং এলসি খোলার জটিলতায় ভুগছে। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহন, সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, কাঁচামালের সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণে সবগুলো কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কর্তৃপক্ষও চাইছেন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ফিরে যাক।
১ মাস ১৮ দিন আগে