এক সময় জমজমাট ছিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর পাশে গড়ে ওঠা জমিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান স্টিল মিলস। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮০ দশক থেকে যেখানে শুরু হয় অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মুলে ছিল শ্রমিকদের রাজনীতি। যারা দলীয় পরিচয়ে শ্রমিক সংগঠন সিবিএ‘র নামে নানা দাবি নিয়ে প্রায়ই আন্দোলন কর্মর্সূচি চালাত।করত মিছিল-সমাবেশ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি। কমেই শুরু হয় যন্ত্রাংশ চুরি ও পাচারসহ লুটপাট। যার ফলে কারখানাটি ক্রমেই লোকসানের মুখে পড়ে। এভাবে কালক্রমে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টিল মিলস। মিলের যন্ত্রাংশে ধরে জং, শেড হয়ে পড়ে পরিত্যক্ত। আর সেই পরিত্যক্ত কারখানার জায়গায় গড়ে উঠে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-কেইপিজেড।যেখাানে গড়ে উঠে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা।এসব কারখানায় অটোমেটেড মেশিনে তৈরি হচ্ছে দামি সব রপ্তানি পণ্য। যেখানে সরাসরি দেশের ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এ পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা)-এর সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মোহাম্মদ তানভির হোসেন।তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যখন পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের পরিত্যক্ত জমিতে এই ইপিজেড চালু করা হয়, তখন প্রথম বছরে মোট বিনিয়োগ এসেছিল মাত্র ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবকাঠামোগত সুবিধা, সরাসরি কর্ণফুলী নদী ও চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে অবস্থান এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে দ্রুত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বড় গন্তব্যে পরিণত হয় কেইপিজেড।দুই দশকের ব্যবধানে সেই প্রাথমিক বিনিয়োগ এখন ৭৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেম যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বর্তমানে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তাদের ৪০টি পূর্ণাঙ্গ কারখানা এখানে নিয়মিত পণ্য উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।বিনিয়োগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেইপিজেড থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির চিত্রটি আরও বেশি ঈর্ষণীয়। শুরুর বছরে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। সেখানে গত ২০ বছরে কর্ণফুলী ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, এই বিশাল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন বা পণ্যের বৈচিত্র থেকে। সাধারণ টি-শার্ট বা ট্রাউজার তৈরির গন্ডি পেরিয়ে কেইপিজেড এখন উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত হাবে রূপান্তরিত হয়েছে।বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন, নাইকি, আডিডাস, জারা, পুমা ও এইচ অ্যান্ড এম, এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর টেকনিক্যাল ¯েপার্টসওয়্যার, ক্যা¤িপং টেন্ট ও হাই-টেক গিয়ার, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্য এখন তৈরি হচ্ছে ইপিজেডে।কর্ণফুলী ইপিজেডের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হয় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর ইতিবাচক প্রভাবকে। ২০০৬ সালে যখন উৎপাদন শুরু হয়, তখন পুরো ইপিজেডে শ্রমিক ও কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট জনবল ছিল মাত্র ১৭৪ জন। দুই দশক পর আজ সেখানে সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের।মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকের মতে, কেইপিজেডের মোট ৮০ হাজার কর্মীবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, খুলনাসহ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী সামাজিক পরিবর্তন এনেছে নারীকর্মীদের বিশাল এই অংশগ্রহণ।এর ফলে স্থানীয় হাউজিং, ব্যাংক, রিটেইল মার্কেট ও লজিস্টিকস খাত মিলিয়ে পরোক্ষভাবে আরও দেড় লাখের বেশি পরিবার অর্থনৈতিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন আরও ৫টি নতুন কারখানা চালু হলে মোট প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান দ্রুতই ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজের ভাষ্য, কেইপিজেড দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ব্রান্ড ইমেজ তৈরি করেছে তাতে প্রচুর আগ্রহ আছে। কিন্তু ইপিজেড এলাকায় এখন খালি কোন প্লট নেই।তাঁর মতে, দুই দশক আগে স্টিল মিলসের জায়গায় ইপিজেড গদে তোলা হলেও পরে তার আওতা বাড়েনি। কিন্তু জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি আয়। কেইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ থাকলেও কোনো প্লট খালি নেই। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে ইপিজেডের পরিধি বাড়ানো হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা আরও পাল্টে যেত।অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে একটি পরিত্যক্ত জমি যে রাষ্ট্রের স¤পদে পরিণত হয়ে অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে কেইপিজেড তার বড় উদাহরণ। এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। নিতে হবে নতুন উদ্যোগ।উল্লেখ্য, বন্দরসংলগ্ন হওয়ার কারণে কাঁচামাল খালাস এবং ফিনিশড গুডস জাহাজীকরণে কেইপিজেড অনন্য সুবিধা পায়। সে সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও নদীর কাছাকাছি ভৌগোলিক সংযোগ 'লিড-টাইম' বা পণ্য সরবরাহের সময় আরও কমিয়ে আনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
১ মাস ২১ দিন আগে

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
১ মাস ২১ দিন আগে
মদ-গাজা, গাম, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, হেরোইনসহ কি নেই। সব ধরণের মাদকে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা। যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। শুধু ভাসছে না, এসব মাদক বিক্রয় ও সেবনে পুরো অস্থির চট্টগ্রাম।মাদকসেবি কারা ও মিলছে কোথায়প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, বয়স ও শ্রেণি ভেদে এসব মাদক সেবন হয়। যেমন মদ-গাজা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিল সেবন করে নিম্ন শ্রেণি থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি পর্যন্ত। যা মিলছে নগরীর আিলগলি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবে। সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর অন্তত ৫০০ স্পট ও জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিলছে এসব মাদক।আর বিদেশি মদ উচ্চবিত্তদের সুপেয় খাবার, যা মিলে নগর ও জেলার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্লাবে। একই সাখে হেরোইন ও ক্রিস্টাল মেথ-আইসও সেবন করছে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। একমাত্র ইয়াবা সেবনে নেই কোন শ্রেণি বিভেদ। সহজলভ্য হওয়ায় ইয়াবা এখন সব শ্রেণি পেশার মাদক সেবির খাবার।অনেক নিংস্ব বেকার যুবকেরাও এই ইয়াবা সেবন করে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-শিশু-কিশোররা পর্যন্ত বাদ নেই মাদক সেবন থেকে। বিশেষ করে নগরীর মোড়ে মোড়ে পথশিশুরা এক ধরণের গাম সেবন করে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।আর এই মাদক কিনতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ডাকাতির মতো ঘটনার সাথেও জড়িত হচ্ছে তরুণ-কিশোর ও পথশিশুরা। এমনকি নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার প্রভাবে জর্জরিত শহর-বন্দর ও সমাজ।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক বিক্রয় ও সেবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি জড়িত। এরপর রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ও মাদক বিক্রয় ও সেবনে জড়িত। অথচ ইসলামসহ সব ধর্মে মাদক সেবন হারাম বা নিষিদ্ধ।রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যতম পেশা মাদক ব্যবসাপ্রত্যন্ত এলাকার সচেতন মানুষের মতে, সমাজের সবচেয়ে হতদরিদ্র বেকার যুবকরা এক সময় দেশে তৈরি চোলাই মদ ও গাজা বিক্রি করত। যা তাদের আয়ের একমাত্র পথ ছিল। অত্যন্ত গোপনে আড়ালে আবডালে থেকে মদ ও গাজা বিক্রি করতেন তারা।আর যারা সেবন করতেন তারাও এক সময় আয়ের পথ হিসেবে মদ-গাজা বিক্রি শুরু করে। আর এ কাজ করতে গিয়ে নিকটস্থ থানা পুলিশকে মাসোহারা হিসেবে নিদিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতেন। দিতে হতো মদ গাজাও। যা সেবন করতেন থানা পুলিশও। এই সহজ পথ সুগম হওয়ায় মাদকের বিস্তৃতি ঘটে নগর-বন্দর থেকে অলিগলি পর্যন্ত।যা নজরে পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। যারা মাদক বিক্রেতাদের সাথে মিশে শুরু করে মাদক ব্যবসা। যার প্রসার এখন দিগন্ত ছোঁয়া। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা ব্যবহার করে দলীয় পদ-পদবি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এখন চলছে মাদক ব্যবসা। এর মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে ইয়াবা। ক্রিস্টাল মেথ-আইস ও হেরোইন বেচাকেনা।রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে দিনের বেলায় টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করলেও গোপনে করছে মাদক ব্যবসা। দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগের পেশা এখন মাদক ব্যবসা। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে দেশের অসৎ লোকেরা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে প্রতি বছরই লোকসংখ্যা বাড়ছে। এদের সাথে দারুণ সখ্যতা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে। এতে অসহায় সাধারণ মানুষ।সিএমপির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত ৯০ জনের একটি তালিকা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরেকটি তালিকা করা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকদের। এই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ও থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নামও আছে।এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নাম রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন, শৈবাল দাস সুমন, এসরারুল হক এসরার, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুর নামও।যারা নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত শত শত নেতাকর্মী দিয়ে মাদক বিক্রয় ও পাচার করেন। একই পথে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শত শত প্রভাবশালী নেতাকর্মী। নতুন তালিকা না হওয়ায় যাদের নাম এখনো পর্যন্ত তাািলকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম মাদক পরিবহনের প্রধান রুট। এর সঙ্গে কিছু গডফাদার যুক্ত। গডফাদার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদক পাচার ও সেবনে খোদ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীদেশে মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অর্ধিদপ্তর, পুলিশ-আনসার-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও মূলত সংস্থাগুলোর সদস্যরাও লিপ্ত মাদক সেবন-পাচার ও বিক্রয়ে। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।মাদকের সাথে জড়িত থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার মধ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্য বেশি। যারা চাকরি হাারিয়েও ছাড়েনি মাদক বিক্রয়, পাচার ও সেবন। বরং উল্টো আঁকড়ে ধরেছেন মাদক ব্যবসাকে। ফলে থেমে নেই মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়।গত ২০ আগস্ট এক অভিযানে মিলেছে এর প্রমাণ। সেদিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইয়াবার আসর থেকে চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য নিউটন সিকদার (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত তাদের তিন মাসের কারাদন্ড দেন।নিউটন সিকদার লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনেরহাট হিন্দুপাড়া এলাকার দোলন সিকদারের ছেলে। ইয়াবা পাচারের দায়ে দু‘বছর আগে চাকরি হারান তিনি। সাজা পাওয়া অপর জন হলেন- রাজেশ ধর (২৮)। তিনি এবং একই এলাকার সবুজ ধরের ছেলে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ডিবি-দক্ষিণ), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ শরীফুল ইসলামের তথ্য মতে, গত কয়েকবছরে মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসার সদস্যের চাকরি গেছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন।তবে অভিযোগ উঠেছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঠিক তেমনি পরিস্থিতি এখন চট্টগ্রামের। নগরবাসীর ভাষ্য, সন্ধ্যা থেকে রাত দূরের কথা, দিনে-দুপুরেও অনেক পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশই হয় ইয়াবা আসক্ত, নয় তো মদ্যপ। যারা মানুষের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে তিনি নেশাগ্রস্ত তখন সেদিকে কান না দিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছে।চট্টগ্রামে মাদকের স্পটনগরবাসীর মতে, চট্টগ্রাম শহরের সবগুলো প্রধান সড়ক ও উড়াল সড়কের নিচে বসে দিনে দুপুরে মদ-গাজা সেবন করে কিশোর থেকে উঠতি যুবকরা, এমনকি মধ্যবয়সী লোকজনও। রেল স্টেশন, বাস স্টেশনগুলো যেন মদ গাজা সেবনের নিরাপদ জায়গা।এছাড়া বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল চান্দগাঁও মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ৪-৫ বছর বয়সী পথশিশুরা পর্যন্ত মদ গাজা ও গাম জাতীয় মাদক সেবন করে। তাদের এসব দেখে না কোনসময়। পুলিশ এদের পাশ দিয়ে হেটে যায়, আর গালি দিয়ে বলে খা, খানকির পোলারা, খেয়ে মর। অলি গলি পেরিয়ে এবার চোখ দেয়া যাক চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের দিকে।নগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-বে, চট্টগ্রাম ক্লাব, জিইসির মোড়ে অবস্থিত পেনিনসুলা, আগ্রাবাদে অবস্থিত হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা বোট ক্লাব, নন্দনকানন পুলিশ প্লাজাসহ থ্রি স্টার থেকে ফাইভ স্টার মানের সবগুলো হোটেলে দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য সেবনের নিরাপদ স্পট।এসব হোটেলের বারগুলো যেন একেকটা পাপপুরি। ইয়াবা থেকে নিয়ে সব ধরণের দেশি-বিদেশি মাদক মিলে এসব হোটেলে। দেশের শিল্পপতি ও রাজনীতিকরা এসব পাপপুরির খদ্দের। আর এসব হোটেলে মাদক বিক্রয় ও সেবনের লাইসেন্স দেয় মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। ফলে এসব হোটেলের দিকে চোখ তুলে থাকায় না প্রশাসনের কেউ।মাদক ব্যবসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মাদক বেচাকেনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ খাতে ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স ও জোত পারমিট দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মাদক সরবরাহ করা হয়।এক্ষত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খাতগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও লাইসেন্স বা জোত পারমিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম গোপন রেখেছে। যার কারণে প্রতিষ্টানগুলোর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর খাতগুলো হলো :১. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) ব্যবহারের পারমিট২. মাদকদ্রব্য জাতীয় ঔষথ (পেথিডিন ও মরফিন) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স৩. প্রিকারসর কেমিক্যাল/ সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স আমদানী রপ্তানী লাইসেন্স৪. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণলাইসেন্স৫. প্রিকারসর কেমিক্যাল। সাইকোট্রপিক সাবসট্যান্স মজুদ ও পাইকারী বিক্রয় লাইসেন্স৬. প্রিকারসর কেমিক্যাল খুচরা বিক্তির লাইসেন্স৭. প্রিকারসর কেমিক্যাল ব্যবহারের পারমিট৮. বিলাতীমদের বন্ধেত পণ্যাগার লাইসেন্স৯. বিলাতীমদের আমদানী/রপ্তানী লাইসেন্স১০. বিলাতীমদের ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন১১. বিলাতীমদ মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স১২, বিলাতীমদ মজুদ ও খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স (অফ শপ)১৩. হোটেল, বেস্তোরা, হোটেল কাম রেস্তোরা, বিনোদন কেন্দ্র, বিমান কন্দর, রিসোর্ট থিমপার্ক ইত্যাদি স্থানে বারও বিলাতী মদ খুচরা বিক্রম/পরিবেশন লাইসেন্সঃ১৪. বিলাতীমদের ক্লাব লাইসেন্স১৫. বিলাতীমদ ডিউটি ফি শপ১৬. বিলাতীমদের লেট ক্লোজিং লাইসেন্স (রাত ১০ টার পর সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা)১৭. দেশীমদ খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স১৮. ইথানল আমদানি লাইসেন্স১৯. ইবানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২০. ইথানল ব্যবহার২১. ইবানল খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২২. মিথানল আমদানি২৩. মিথানল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ২৪. মিথানল ব্যবহার২৫. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) আমদানি লাইসেন্স২৬. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) ব্যবহারের লাইসেন্স২৭. আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ) খুচরা বিক্রির লাইসেন্স২৮. বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট।এ্যাবসলিউট ২৯. এ্যালকোহল/ইখাইল এ্যালকোহল/স্ট্রং এ্যালকোহল (এইচ এস কোড-২২০৭) মজুদ ও ব্যবহারের পারমিট৩০. হোামিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসম্মুতের জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট/স্টং এ্যালকোহল ইবাইল এ্যালকোহল (ইবাইল)(এইচ এস কোড -২২০৭) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ঔষধ (মাদার টিংচার) তৈরীর উপাদান হিসেবেব্যবহারের পারমিট।৩১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কর্তৃক ঔষধ শক্তিকরণ (ডাইলুশন) এর জন্য রেকটিফাইড ¯িপরিট মজুম৩২. ডিফোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (মহানগর এলাকা)৩৩. ডিকোর ¯িপরিট মজুদ ও পাইকারী বিক্রয়ের লাইসেন্স (অন্যান্য এলাকা)৩৪. ডিনেচার্য ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (মহানগর এলবাম)৩৫. ডিকোর্ড ¯িপরিট মজুদ ও খুচরা বিক্রমের লাইসেন্স (অন্যান্য এলবাম)৩৬. ডিকোর্ড ¯িপরিট ব্যবহারের পারমিট৩৭. মাদকাসক্তির পরামর্শ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্সদেশের ১০৫ পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিদেশি মাদকওদেশের সীমান্ত, বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকাগুলো দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদক। এমনকি আকাশপথ ও কুরিয়ার সার্ভিস দিয়েও আসছে নিত্যনতুন মাদক। ১৮টি সীমান্ত জেলার ১০৫টি পয়েন্টকে মাদকের সেফ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তারা বলছে, এ পয়েন্টগুলো দিয়েই ২৭ ধরনের মাদক আসছে নানা কায়দায়। ফলে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি স্থানেই মাদকের বিস্তার ঘটেছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট বাংলাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেও উচ্চমূল্যের মাদক আসছে।জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অরক্ষিত সীমান্তের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।বাংলাদেশ পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, উত্তরে আসাম, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয় এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম দ্বারা বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের (বার্মা) সঙ্গে সীমানা রয়েছে। অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ভারত থেকে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও আইস স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে। দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের ১৭ শতাংশ ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় আসছে। আর বাকি ৮৩ শতাংশ মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, ভোমরা, কাকডাঙ্গী ও পলাশপুর; যশোর জেলার বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা এবং আশপাশের এলাকা; চুয়াডাঙ্গা জেলার কারপাশডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর; মেহেরপুর জেলার দারিয়াপুর ও বুড়িপটা; রাজশাহী জেলার মনিগ্রাম, চারঘাট, সারদা, ইউছুফপুর, কাজলা, বেলপুকুরিয়া, হরিপুর, গোদাগাড়ি, বাঘা ও রাজশাহী সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও কানসাট; জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি (প্রধান প্রবেশপথ);দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কামালপুর, বিরল, আকাশকারপুর, খানপুর, দাইনুর, মালিগ্রাম ও বনতারা; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিংগারবিল, পাহাড়পুর ও বিজয়নগর; কুমিল্লা জেলার জগন্নাথ দিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গোলাপশাহ, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও বিবিরবাজার এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।দেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্তের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, বাশজানি, বলারহাট, বলাবাড়ি, কুটি চন্দ্রকোনা, পাথরডুবি ও নাখারগঞ্জ; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী; শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী; ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা।দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সীমান্তের কক্সবাজার জেলার জালিয়াপাড়া, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং, সাউথপাড়া, ধুমধুমিয়া, জদিপাড়া, সাউথ হ্নীলা, লেদাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, তুমরু উখিয়া, কাটাখালী, বালিখালী, ঘুমধুম ও কাটাপাহাড়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারকৃত মাদক, আসামি ও মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৭৮৯ কেজি হেরোইন, ২২৭ কেজি কোকেন, আফিম ৩৭৮ কেজি, ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ বোতল ফেনসিডিল, অ্যা¤পুল ইনজেকটিং ড্রাগ ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৬টি, ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮টি মামলায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৫১ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইয়াবা পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসছেন। পেটের ভেতর, পেঁয়াজ ও কুমড়ায়, মোটরসাইকেল ও গাড়ির জ্বালানির ট্যাংক, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ বাক্সে করে আসছে ইয়াবা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মানজুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন কৌশলে নগরে মাদক ঢুকছে। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে দুজন ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পেটের ভেতর ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন তাঁরা। তাঁদের পেট থেকে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবা বের করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশে সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিদিনই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিদিনই ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচারের তুলনায় জব্দ হচ্ছে খুব কম।সচেতন মহলের প্রশ্ননগরীর পুলিশ যেখানে মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িত সেখানে মাদক সেবন, বিক্রয় ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন?। মাদকের সাখে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারনে চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খোদ মাদক ব্যবসায় জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলে মাদক ব্যবসা। এ অবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রণ হাস্যকর।তবে সিএমপির ভাষ্য, মাদক বিক্রয় ও সেবনের দায়ে গত কয়েক বছরে সিএমপির অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও কয়েকশত আনসান সদস্যের চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মাদকসেবি ও পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।যাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে। কারাগারে বন্দি আটকের ৭০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। তবে কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে তারা আবার মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) জনাব মো. রইছ উদ্দিন।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যএ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মাদকসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে। মাদক সেবন, পাচার ও বিক্রয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রায় সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর রেল স্টেশন, বাস স্টেশনসহ উড়াল সড়কের নিচে এবং সড়কের মোড়ে মোড়েও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, সীমান্তের কোন কোন পথে মাদক আসছে সেটা আমরা চিহ্নিত করেছি। মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক সময় লোভ-লালসায় পড়ে এজেন্সির লোকজন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। যেসব বাহিনীর সদস্যরা এসব কাজে জড়াচ্ছে, জানতে পারলে তাদের শাস্তিও হচ্ছে। মাদক প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সবসময় সজাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। চলতি বছরেই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতেও প্রেরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারি বিধি মোতাবেক কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও জোত পারিিমট দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামে এমন ১ হাজার ৬২৪টি লাইসেন্স দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যেখান থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব যোগ হয়। বৈধ এই জোত পারমিট ছাড়া অবৈধ যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন, পাচার ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জ পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, মাদক সম্পৃক্ততায় প্রমাণিত আনসার সদস্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে আনসার সদস্যরা এখন অনেক সুগঠিত। মাদক সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ এখন অনেকাংশে কমে গেছে আনসার সদস্যদের।
১ মাস ২৩ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের লালদীঘির শান্ত জলের মাঝখানে ভাসছে ছোট ছোট শত শত শোলা। মাচায় বসে থাকা শিকারির চোখ ওই শোলার ওপর। চোখের পাতা যেন পড়ছে না। হঠাৎ মৃদু কাঁপুনি, শোলা ডুবছে আর উঠছে। টুপ করে শোলাটা অতলে হারিয়ে যেতেই শিকারি দুই হাতে ওপরের দিকে দেন ছিপের টান। বড়শির কাটায় বিঁধল মাছে। অমনি সাবমেরিনের মতো জলের গভীরে মোচড় দিল এক অদৃশ্য শক্তি। রিলের সাঁইসাঁই শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার করে মাচা থেকে চিৎকার উঠল, ধরেছে রে, ধরেছে! সুতো ছাড়, সুতো ছাড়! শুরু হলো মানুষ আর জলের মাছের লড়াই।চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে এভাবে বড়শিতে মাছধরা প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন শত শত মাছ শিকারি। এরা আসলে জুঁয়াড়ি। বড়শি প্রতিযোগীতার নামে লাখ টাকা পুরস্কারের লোভে মাছ ধরার জুঁয়া খেলা এদের নেশা। যার ছোবল পড়েছে শতবর্ষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন পুকুরটিতে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা কিংবা একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো সবকিছুর মুখরিত সাক্ষী এই প্রাঙ্গণ। শতবর্ষী জব্বারের বলীখেলারও সাক্ষী এই লালদীঘির ময়দান। সেই লালদীঘির বুক চিরেই শুক্রবার রাত দশটা থেকে শনিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হয়ে গেল মাছধরার জুঁয়ার উৎসব।বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মাছ ধরার এই জঁুয়া খেলার আয়োজক হায়দার আলী। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে দিঘিতে প্রায় বিভিন্ন সাইজের ৩০ মণ মাছ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ আলম গং। অন্য একটি জলাশয় থেকে এনে লালদীঘিতে ছাড়া হয়েছিল মাছগুলো। ওই মাছ এখন আরও বড় হয়েছে। সেই মাছগুলো শিকারেই চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয় ১৮টি মাচা। প্রতিটি মাচায় চারজন করে বসার সুযোগ, আর প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা।শিকারিদের এই লড়াইয়ে বড়শির চেয়েও বড় ছিল টোপের রসায়ন। কাতলা মাছকে টানতে কেউ মেখেছেন সুগন্ধি লাড্ডু, রুই-মৃগেলের জন্য বানিয়েছেন সাদা রুটি আর পিঁপড়ার ডিমের চারা, আবার পাঙাশ শিকারে ছিল ভিন্ন উপাদান। সেই অপেক্ষার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। দিঘিতে সর্বনিম্ন এক-দেড় কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত মাছ ছিল। খালি চোখে যেটাকে ১২ কেজি মনে হয়েছিল, দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেখা গেল ১৪ কেজির এক ব্ল্যাক কার্প! এছাড়া বড়শিতে উঠেছে ১১ কেজির বেশি ওজনের কাতলা, ৫ কেজির পাঙাশসহ ঝাঁকে ঝাঁকে রুই ও মৃগেল। অনেকের মাচায় জমা হয়েছে এক মণেরও বেশি মাছ।বকশির হাটের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ৩৫-৩৬ বছর ধরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকা মোহাম্মদ টিপু জানান, তার মাছ শিকারের হাতেখড়ি হয়েছিল এই লালদীঘির পানিতেই। চুয়েটের কর্মকর্তা রিয়াদ কিংবা তরুণ উদ্যোক্তা আরাফাত হোসেনের মতো শিকারিরাও এসেছিলেন কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে।বড়শি প্রতিযোগীতার এই রোমাঞ্চ দেখতে দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত কৌতূহলী মানুষ। তাদের মতে, এই প্রতিযোগিতা কোন উৎসব নয়। এটি ছিল পুরুস্কারের লোভ। এই প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।
১ মাস ২৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে কানাডীয় জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কানাডার লাসাল—এমার্ড—ভার্দ্যাঁ (LaSalle—Émard—Verdun) আসনের সংসদ সদস্য এবং জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব (Parliamentary Secretary) ক্লদ গুয়ে (Claude Guay) এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মেয়র এ আহ্বান জানান।সাক্ষাতে চট্টগ্রামের জ্বালানি সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে একটি কানাডিয়ান বিশেষায়িত শক্তি অর্থনৈতিক অঞ্চল ( Canadian Specialized Energy Economic Zone) প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কানাডার ফেডারেল সরকারে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি হিসেবে ক্লদ গুয়ে কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের নীতি ও উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু চট্টগ্রামের উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সমাধান তৈরি করা।প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও বৃহৎ তেল শোধনাগার (Refinery) স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানো, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্য রয়েছে।এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (Canadian crude oil) সরবরাহের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। কানাডার বিশাল জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক সক্ষমতাকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কানাডার মতো একটি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা গেলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু চট্টগ্রামের জন্য একটি প্রকল্প করা নয়। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এমন একটি জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করা, যা বাংলাদেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।মেয়র বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তাই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি কোনোভাবেই শুধু চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোনো প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।চট্টগ্রামকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করার পেছনে রয়েছে এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ভূমিকা এবং জাতীয় আমদানি রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে।প্রস্তাবিত জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ( Energy Economic Zone) ভবিষ্যতে রিফাইনারির পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা এবং অন্যান্য জ্বালানি সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের বাজার ও জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করা।বৈঠকে পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জ্বালানি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।প্রস্তাবিত Canadian Specialized Energy Economic Zone-এর ধারণাটি বর্তমানে আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তব কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে কানাডার সঙ্গে এই সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
১ মাস ২৯ দিন আগে
স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যেটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডও। কিন্তু সেখানে এমটি রাসি নামক জাহাজটি কাটতে গিয়ে ট্যাংক থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। শুধু ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সাগর উপকুল সীতাকুন্ডে স্থাপিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে একের পর এক বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বা বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার দায় পুরোপুরি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই কারও। এ নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না কোনো গণমাধ্যমেওএমন অভিযোগ শিপব্রেকিং শ্রমিক-কর্মচারীদের। একই অভিযোগ মালিকদেরও। তাদের মতে, শিপিব্রেকিং ইয়ার্ডে কোন দূর্ঘটনা হলে যেন সব দায় মালিকের। সব দোষ শ্রমিকের। কিন্তু এ জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর যে শতভাগ দায়ী তা কারও নজরে আসছে না। এমনকি প্রকৃত সত্য কোনো মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারূী ও মালিকরা জানান, স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়। কিন্তু কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়ে দেয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এ জন্য নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের ঘুষও। আর পরিশেষে পরিণতি গ্যাসের বিস্ফোরণ অথবা নির্গমনে শ্রমিকদের মৃত্যু। এ যেন গ্যাসমুক্ত সনদ নয়, শ্রমিকদের মৃত্যু পরোয়ানা। ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও। গত ১৪ আগস্ট সকালে এমটি রাসি জাহাজটির তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। আর ওই জাহাজের গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এরপরও বিষাক্ত গ্যাস ছড়াল কীভাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মাঝে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে এ দূর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৩১ আগস্ট সোমবার তাদের প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গ্যাসমুক্ত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার উত্তরে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই গ্যাসমুক্ত সনদ প্রদানের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি এই সনদ পেতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে, ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ঘাটতি এবং উদ্ধারকাজের অদক্ষতার প্রসঙ্গও। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মেনজামিন রিয়াজীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের আরেক কমিটিও জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস, প্রকৃতি নিরূপণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে ১৬ আগস্ট গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। যার প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পরিচালক মো. শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জানান, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট জাহাজ এবং সংলগ্ন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন তারা। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে। জাহাজের বিভিন্ন ব্যালাস্ট ট্যাংক, ডিপ ট্যাংক, কফারডাম, দুর্ঘটনাস্থলের বাতাস, পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে গ্রীন সনদধারী প্রতিষ্ঠান ফেরদৌস স্টিল শিপিব্রেকিং ইয়ার্ড এক বছর আগে স্ক্র্যাপ জাহাজ রাসির গ্যাস ফ্রি সনদ পান। সনদ দেওয়ার আগে জাহাজটির কম্পার্টমেন্টসহ অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু তখন ব্যালাস্ট ট্যাংক পরীক্ষা হয়নি। এরপর থেকে এক বছর ধরে জাহাজটি কাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমটি রাসির ব্যালাস্ট ট্যাংকের জন্য গ্যাসমুক্ত সনদ চাওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানের। তিনি বলেন, যে জায়গায় গ্যাসের উৎস সেই ব্যালাস্ট ট্যাংকের গ্যাসমুক্ত সনদ এক বছর আগে চাওয়া হয়নি। জাহাজের অন্যান্য অংশ দেখে গ্যাস ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। যতটুকু সনদ চাওয়া হয়, ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল।যদিও গোটা জাহাজ পরীক্ষা করেই গ্যাসমুক্ত সনদ দেওয়ার কথা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। কোনো বিশেষ অংশের জন্য আলাদা করে এই সনদ চাওয়ার বা দেওয়ার নিয়ম নেই।প্রতিবেদনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইডের কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎস এবং মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছিল। ট্যাংকের নিচের প্লেটে ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের সময় আশপাশের বায়ুতে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন এলাকায় উচ্চমাত্রার গ্যাসটির কারণে বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা স্বল্প সময়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্রহণ করে গুরুতর বিষক্রিয়ার শিকার হন। দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন, যা পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানি স্থির অবস্থায় থাকলে সেখানে কাদা, জৈবপদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীব জমা হয়। ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। নমুনা পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্সিজেন স্বল্প পরিবেশে ট্যাংকের তলানিতে উপস্থিত অণুজীব সামুদ্রিক পানিতে বিদ্যমান সালফেটকে বিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে সালফাইডে রূপান্তর হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে যেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম, সেখানে পানি কিছুটা অম্লীয় এবং সালফাইডের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপস্থিত এ সালফাইডের একটি অংশ দ্রবীভূত বা আবদ্ধ অবস্থায় পানি ও সেডিমেন্টে জমা থাকতে পারে, যা পানি থেকে সহজে বের হয়ে নিষ্কাশন পয়েন্টের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এছাড়া ফেরদৌস স্টিলে ট্যাংক কাটার সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না শ্রমিকদের। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়। পেশাদার উদ্ধারকারী দলকেও সঠিক সময়ে ডাকা হয়নি।সূত্র মতে, এমটি রাসি জাহাজটিতে মোট চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে ৪ নম্বরটি আগে কাটা হয়। ৩ নম্বরটি কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বিষক্রিয়া হয়। ১ ও ২ নম্বর ট্যাংকের মধ্যেও একই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি কাটার সময় বিশেষ সতর্কতা বা ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি নিষ্কাশন কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডি-ব্যালাস্টিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যালাস্ট ট্যাংকের ইতিহাস, ধারণক্ষমতা, পানির পরিমাণ ও স্থায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের উপস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ট্যাংকের ওপর, মধ্য ও নিচের অংশের বাতাসে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড এবং পানির বিভিন্ন স্তরে পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।তদন্ত কমিটির ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের গ্যাসযুক্ত ট্যাংক কাটার সময় কী করা দরকার, তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ইয়ার্ডটিতে গ্যাস মনিটর ছিল। কিন্তু ট্যাংকের পানি নিষ্কাশনের সময় তা ব্যবহার করা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় যদি গ্যাসের উপস্থিতি মনিটরের মাধ্যমে ধরতে পারত, তাহলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি না-ও হতে পারত। এ ছাড়া জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান আরও বলেন, ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি সাবধানতার সঙ্গে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতিতে করতে হবে। পোস্ট ভেন্টিলেশন অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে বাতাসে তা ধীরে ছাড়তে হবে। বাতাস ও ট্যাংকে গ্যাসের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক পরিমাপ করার জন্য মনিটর লাগবে। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঝুঁকি মনে হলে ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করতে হবে।এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের সময় শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। তলার প্লেটে ছোট ছিদ্র করে ডি-ব্যালাস্টিং করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতে তা করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাটার আগে এবং পানি নিষ্কাশনের সময় গ্যাস পরিমাপ করার জন্য মনিটর ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস অ্যালার্ম ব্যবহারের সুপারিশও এসেছে। সেই সঙ্গে পরিবেশে কী পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হয়েছে, তা দেখতে এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, সীতাকুন্ডে গত ১২ বছরে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণ ও নির্গমনে ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর যেন কোন দায় নেই।
১ মাস ৩০ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। আর সেই আয়তন বিস্তৃত হয়ে আট গুণ বড় হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর। এর আওতায় আসছে নগরীর আশপাশের সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের আয়তন বেড়ে দাড়াবে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোামিটারে।২৫ বছর মেয়াদি এমন একটি নতুন মাস্টার প্ল্যানের খসড়া চুড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২৫-২০৫০ এর আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সঙ্গে আশপাশের পৌরসভা, উপজেলা মিলিয়ে আগামী ২০৫০ সালের জনসংখ্যা এবং চাহিদাকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোকে সিডিএর আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের বদলে একটি আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা।তিনি বলেন, খসড়ার ওপর নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। যেকোনো নাগরিক এই মাস্টার প্ল্যান স¤পর্কে নিজের মতামত জানাতে পারবেন। অনলাইনেও মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে নগরীর বর্তমান অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ। পাহাড় কাটা, জলাশয় ও খাল ভরাট, আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক স্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা এবং আবাসন সংকট-এসব সমস্যা শুধু বর্তমান সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নগরীর চারপাশে দ্রুত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে এখনই পরিকল্পনার আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।নতুন মহাপরিকল্পনায় তাই শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা-সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় ১৫টি খাতে ৭৭টি নীতিগত প্রস্তাব এবং ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমানো। এজন্য ওয়ান সিটি, টু টাউনস ধারণা সামনে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি আনোয়ারার জন্য পৃথক ডিটেইলড অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ এলাকাকেও পৃথক পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা রয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরীর উপর সবকিছুর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন শহরের বাইরে সীতাকুন্ড কিংবা হাটহাজারীতে যদি পরিকল্পিতভাবে একটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বহু মানুষের নগরীতে আসার প্রয়োজন হবে না। আমরা নগরীর উপর চাপ কমানোর জন্য কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।খসড়া প্রস্তাবে যা আছেসিডিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক আয়তন ১৫৫.৪ বর্গকিলোমিটার। নতুন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের বিস্তৃত এলাকাকে ভবিষ্যৎ নগরায়ণ কিংবা স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিডিএ একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।পরিকল্পনায় নগরীর যানজট কমাতে নতুন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকায় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল নগরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগরায়ণ বা স্যাটেলাইট টাউন মডেল অনুসরণের কথা বলেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা নগরের কেন্দ্র থেকে বাইরের পরিকল্পিত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা। নতুন মাস্টার প্ল্যানে খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু খাল-নালা পরিষ্কার নয়, নগরায়ণের ধরন, জলাধার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টিকেও পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও অন্যান্য জলাধার চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।পাহাড় ও জলাধার রক্ষায়ও কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় নগরীর প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার অক্ষত পাহাড় এবং পুরো পরিকল্পনা এলাকার প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঢাল ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। নগরীর পাহাড়গুলোকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।চট্টগ্রামের জন্য নতুন এই পরিকল্পনায় ভূমিক¤প ঝুঁকি বিবেচনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। খসড়া মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রামের প্রথম সয়েল লিকুইফ্যাকশন রিস্ক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকা বাদ দিলে পরিকল্পনা এলাকার ৩০ শতাংশের বেশি জায়গা এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিক¤েপর সময় পানিসিক্ত মাটি শক্তি হারিয়ে ফেললে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ নগরায়ণে এ ঝুঁকি বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনায় বড় আকারের উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক তৈরির কথাও রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের আদলে দুই থেকে তিনটি বড় পার্ক, জাতীয় কবরস্থানের আদলে একটি বড় কবরস্থানের জন্য জমি সংরক্ষণ এবং একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত নগরায়ণের মধ্যেও খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা ও জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।ব্যয় ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকাসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নতুন মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ।সূত্র মতে, চট্টগ্রামের জন্য ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু নগরীর আবাসন বা সড়ক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, পর্যটন, কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নদী-খাল, পাহাড় ও পরিবহন অবকাঠামো-সবকিছুর ভবিষ্যৎ বিন্যাস এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।অর্থাৎ ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের বর্তমান নগরকে ঘিরে আগামী ২৫ বছরের জন্য প্রায় আট গুণ বড় একটি মহানগর পরিকল্পনা এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে সিডিএ থেকে ডিজাইন এবং ড্রয়িং অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।উল্লেখ্য, সিডিএ ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ২০২০-২০৪১ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ নেওয়া হয়েছিল। নতুন ২০২৫-২০৫০ পরিকল্পনা মূলত আগামী ২৫ বছরে নগরীর বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত চাহিদাকে সামনে রেখে আরো বিস্তৃত পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে।
২ মাস ৯ দিন আগে
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাড়িও মশার প্রজননক্ষেত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ড. ইউনুসের নিরিবিলি বাড়ির আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থানকে এডিস মশার হটস্পট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।এছাড়া হট¯পটের তালিকায় রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়া কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি। তিনি বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হট¯পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।তিনি বলেন, আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নয়া হাট বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশি নগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার) এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহ সংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানসমূহ, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক, জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা ক¤িপউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বি.এড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তি নগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেট সংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়াম সংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাসমূহ, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন), পন্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নং ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহর খালি এলাকায়ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।সরেজমিনে জানগে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খান জানান, স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হত। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।
২ মাস ১৩ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২ মাস ১৪ দিন আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
২ মাস ১৬ দিন আগে

চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল খ্যাত বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসায়ও উঠেছে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ। এই হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে সিজারের পর জটিলতা দেখা দিলে তাদের আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে দুই প্রসূতিই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়ছেন বলে জানান স্বজনরা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট প্রসববেদনা নিয়ে চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাজু আক্তার পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিকেল ৫টার দিকে প্রথম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু তাদের না জানিয়েই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।সাজু আক্তারের মা অভিযোগ করেন, বিকেল ৪টার দিকে মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর রাত ৯টা পর্যন্ত আমাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম অপারেশনের পর অনেক রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের না জানিয়েই আবার অপারেশন করা হয়েছে। এখন আমার মেয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।একই রাতে আগ্রাবাদ এলাকার মারিয়া নামের আরেক প্রসূতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। তারা জানান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার অধীনে ভর্তি হওয়া মারিয়ারও দু‘দফা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়।মারিয়ার বড় ভাই অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আনার সময় আমার বোন সুস্থ অবস্থায় ছিল। প্রথম সিজারের পর কী কারণে এত রক্তক্ষরণ হলো, তা আমাদের জানানো হয়নি। পরে আবার অপারেশন করা হয়। এখন সেও আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংকটজনক অবস্থায় তার বোনকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দিয়েছে ওয়ার্ডবয়।অভিযোগের বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা শিখার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পার্কভিউ হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি।এর আগে কয়েক মাস আগে একই হাসপাতালে দুই নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে ‘স্কাল্প ইনজুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়া ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একই হাসপাতালে বারবার চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। দুই প্রসূতির বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা এবং আগের ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে কী ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
২ মাস ২৭ দিন আগে
আগামী ২৫ বছরের উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবে প্রণীত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের (২০২৫-২০৫০) সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব ওয়ান সিটি টু টাউন। যেখানে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমন্বিত করে গড়ে তোলা হবে দুটি সমান্তরাল নগরকেন্দ্র। যা করতে নগরবাসীর পরামর্শ চায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।সে লক্ষ্যে আজ ১ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হলো এই মহাপরিকল্পনার ওপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি ও জনমত গ্রহণ কার্যক্রম। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চউক ভবনে সরাসরি এবং অনলাইনে নগরবাসী নিজেদের মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ জানাতে পারবেন।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)-এর চূড়ান্ত খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ও চউকের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী। মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন কৌশল স¤পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়েছে। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাস্টারপ্ল্যানে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের মতো একাধিক নতুন উদ্যোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাউজানসহ আশপাশের এলাকাকে সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।চউকের প্রত্যাশা, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চূড়ান্ত হওয়া এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে উঠবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চট্টগ্রাম যেখানে ওয়ান সিটি টু টাউন হবে নগর উন্নয়নের নতুন মডেল।প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই-বাছাই করেই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন থেকে নকশার বাইরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী নকশা লঙ্ঘনকারীদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক মহানগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, জনমত গ্রহণের জন্য নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চউক ভবনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত ও আপত্তি জানাতে পারবেন। পরিকল্পনায় পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউন ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে।জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর) গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ট্রাইপার্টাইট মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।চউক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় এক হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ স¤পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
৩ মাস ১ দিন আগে
সিটি করপোরেশনের তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রায় ১৫৭ বছরের পুরোনো কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে অগ্রগতির প্রতিবেদন দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ এবং সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব উজ্জ্বল হোসেনের সই করা দপ্তরাদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। কক্সবাজার যুক্ত হলে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাড়াবে ১৪ টিতে।
৩ মাস ৫ দিন আগে
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন সরকারি পে-স্কেল। এ নিয়ে দারুণ স্বস্তিতে সরকারি চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরিজীবীরা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে না। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বেসরকারি চাকুরিজীবীরা।যাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে। আর সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বা গুঞ্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে দুটি বড় প্রভাব পড়ে। চাহিদা বৃদ্ধি অর্থাৎ একসাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত টাকা আসায় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। সরবরাহ যদি সেই অনুপাতে না বাড়ে, তবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। কেননা, বাজারে কেবল বেতন বৃদ্ধির খবর ছড়ালেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন ভাড়া এবং বাসাভাড়া বাড়িয়ে দেন। যার ভুক্তভোগী হন বেসরকারি খাতের কর্মীসহ দেশের সব সাধারণ নাগরিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যখন এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি বেতন বাড়ানো হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে দেশের সিংহভাগ বেসরকারি চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে, যাদের আয় বাড়েনি।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি খাতের আওতাভুক্ত। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক খাত বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি হবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর থাকবে না। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ আসলাম। চাকরি করেন ইপিজেড এলাকার িএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যত টাকা বেতন পান, উচ্চমূল্যের বাজারে সেটি দিয়ে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর খবর তাকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তৌহিদ আসলাম বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে সেগুলোর দাম আবারও বেড়ে যাবে। আমাদের মতো মানুষের আয় তো বাড়ছে না। তাহলে আমরা বাঁচব কিভাবে?’ তার এই উদ্বেগ যে মোটেও অমূলক নয়, অর্থনীতিবিদদের কথাতেও সেটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি ফলে কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়বে না, সেইসঙ্গে বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সরকার সেদিকে দৃষ্টি না দিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিখাতের কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা না বাড়লে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশে দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চ। গত জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো সেটি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে- এমনটাই বলছেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন পে-স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে যে বাড়তি বেতনের অর্থের প্রয়োজন হবে, সেটির জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে বা নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে। বাড়তি ওই টাকা অর্থনীতিতে যোগ হলেই সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। তখন সেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান সেলিম রায়হান।প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনার বিধান থাকলেও গত দশ বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, গত এক দশকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ-খরচা যেভাবে বেড়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই উদ্যোগ অত্যন্ত যৌক্তিক, বলছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। কিন্তু উদ্যোগটি এমন একটি সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সেটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে কি-না, সেই প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে বলেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে। তবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চাহিদা বাড়লেই বরং ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নিত্যপণ্যের সংকট বা লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি থেকে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি। নতুন পে-স্কেলের আওতায় মূলত তাদেরই বেতন-ভাতা বাড়তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছে, অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই অংশের মধ্যে একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের 'জনপ্রশাসন-নিট' খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাড়তি এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকার আয় তো সেভাবে বাড়ছে না, বরং নতুন বাজেটে যে বিপুল আর্থের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, সেটা মেটাতেই সরকারকে দেশে-বিদেশে ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হলে অর্থনীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আবার দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে সেখানে তারল্য সংকট দেখা দিবে, সেটাও আরেক সমস্যা বলে জানান তারা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন যে চ্যালেঞ্জিং হবে, বিএনপি সরকারও সেটা স্বীকার করছে। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ইশতেহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা তিতুমীর।তার আগে, গত জুনে সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি বলে বাজেট বক্তৃতায় সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে নতুন একটি বেতন কমিশন গঠন করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন বেতন কাঠামো পর্যালোচনা শেষে গত জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন গঠন করে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেন অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের কমিশনের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার। সেই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, অর্থাৎ মধ্যম ও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই খসড়া রূপরেখাটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন শেষে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে বলেও জানা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এক বছরের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা হলেও বাস্তবে পণ্যের দাম কমেনি; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে মাত্র। তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তিনি বাজার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি চড়া মূল্যস্ফীতির সময়ে খাদ্য ভর্তুকি ও সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ না করে পে স্কেল বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পূর্বমুহূর্তে রয়েছে, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির সুফল পাওয়া কঠিন।
৩ মাস ১২ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কারিগরি উন্নয়নের পর চালু হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও সেবার জন্য চসিকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে মনিটরিং করা হবে মেয়র অ্যাপটির বিবরণ দিয়ে বললেন, অ্যাপে নাগরিকেরা রাস্তা, নর্দমা, মশা, আবর্জনা, সড়কবাতি, পাবলিক টয়লেট, অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ ১০টি প্রধান খাতে ছবি ও লোকেশন সংযুক্ত করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ দাখিলের পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে যাবে এবং সমাধানের অগ্রগতি অ্যাপেই দেখা যাবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে অভিযোগকারীকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া অ্যাপটিতে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যয়নপত্র, স্কুল হেলথকার্ড, জরুরি যোগাযোগ নম্বর, আবহাওয়ার তথ্য এবং নিকটস্থ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, থানা, গণশৌচাগার, পার্ক, এটিএম, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবার গুগল ম্যাপ লোকেশন যুক্ত করা হয়েছে বলে মেয়র জানান।চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, অ্যাপটি নির্মাণে সিটি করপোরেশনের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)-এর করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি তহবিলের অর্থায়নে এবং ভেনটো টেক-এর কারিগরি সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।চসিকের প্রত্যাশা, আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ নগরবাসীর সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ আরও কার্যকর করবে, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জনাব মো. তরিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি ও সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে এ দুই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,সকাল ৯টায় জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম ওরফে তানভীরের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ওই শিশুর মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। নিহত শিশু আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার মঈন উদ্দিনের ছেলে। তানভীরের মৃত্যুর বিষয়টি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চার দিন ধরে সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। তবুও অনেক বাসিন্দা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছেন। ইউএনও বলেন, গতকাল সকালে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের ৬ নম্বর সমাজে পাহাড়ধসের ঘটনা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। নিহত শিশুর মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।এদিকে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, পাহাড়ধসে চাপা পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। দুপুরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
৩ মাস ২৪ দিন আগে
ভারী বর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। একইভাবে দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে গুচ্ছগ্রাম এলাকার একটি পাহাড়ের অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড় ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে একটি বসতঘরের দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকায়।এই ঘটনায় দুই বছর বয়সি শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মর্জিনা বেগম (৫৫), সোহান (৪) ও ছাইফা (২)। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন।পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।ওসি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সোমবার থেকে বিভিন্ন পাহাড়ে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। কিন্তু অনেক বাসিন্দা পাহাড়ের বাসা ছেড়ে যাননি।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, চট্টগ্রামে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিকট-অতীতে এত বৃষ্টির দেখা চট্টগ্রামে আর মেলেনি। অনেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করছেন এই বৃষ্টিকে।তিনি বলেন, সাধারণত একটি ছোট (৩০ বর্গকিলোমিটার) নির্দিষ্ট এলাকায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। মঙ্গলবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ছিল নিরবচ্ছিন্ন। ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এই বৃষ্টি। সকাল ৯টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ১২টায় ছিল ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। পরে ৪০০ পার হয়। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
খড়া ছিল আষাঢ়ের শুরুতেই, মধ্য সময়ে এসে সাগরে লঘুচাপ। পরে তা মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে যাচ্ছে গত তিন দিন ধরে। এর মধ্যে ৭ জুলাই মঙ্গলবার ছিল ১৯ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন একদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ৪০৮ মিলিমিটার। সেদিন চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর পাহাড়ধসে মারা যান ১২৭ জন। সেই ১১ জুনকেও ছাপিয়ে গেছে মঙ্গলবারের ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত। কিন্তু সেদিনের মতো এত প্রাণহানি ঘটেনি। তবে একেবারে ঘটেনি তা নয়, পাহাড় ও দেয়ালধসে মারা গেছেন এক নারী ও এক যুবক। দুই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। স্থবির জনজীবন চলতি মৌসুমে জুন মাসে বৃষ্টির জন্য হাহাকার ছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয় ওই মাসে। জুনে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৬১৩ মিলিমিটার, হয়েছে ৩৫১। আর জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত ৬৯৪ মিলিমিটার। কিন্তু আজ এক দিনের বৃষ্টিতে তা অর্ধেক পার হয়ে গেছে।এই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সব। নগরের কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, মৌলভীপুকুর পাড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি, সিডিএ আবাসিক, সল্টগোলা ক্রসিং ও হালিশহর এলাকাসহ সর্বত্র পানি থই থই করছে। বলতে গেলে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর জনজীবন। তলিয়ে গেছে বাসাবাড়ি, অফিস। বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ দোকানপাট। থেমে গেছে বিয়ের অনুষ্ঠান। তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী রোড। ডুবে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন। ফলে চট্টগ্রাম ষোলশহরে আটকে গেছে কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস, একইভাবে কক্সবাজারে আটকে গেছে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, হালিশহর, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, প্রবর্তক মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।সকালের দিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে আগে থেকে না জানায় অনেক শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হয়ে পথে নেমে জলাবদ্ধতার মধ্যে আটকা পড়ে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।কোমর সমান পানি মারিয়ে বাবার সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরত আসা শিক্ষার্থী সাইমা রহমান বলল, 'স্কুলে পৌঁছে জানতে পারি আজকের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আগে থেকে জানানো হলে নোঙরা পানির মধ্যে এসে এমন ভোগান্তি পোহাতে হতো না।'নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা খোকন চৌধুরী বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা আগেও হয়েছে, কিন্তু কখনো এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি বা এত দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়নি। এখন বাসার মধ্যেই বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে।জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনের সংকটে বেশি বিপদে পড়েছে চাকরিজীবীরা। রিকশাভাড়া বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ, তবুও মিলছে না। পানিতে ডুবে সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বহু গাড়ি রাস্তায় অচল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঢাকনাবিহীন লানা পানির নিচে ডুবে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। বহদ্দারহাটে রিকশাচালক এমরান হোসেন বলেন, 'রাস্তায় এত পানি যে অনেক জায়গায় রিকশা চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীরাও ভয়ে আছে কখন খাদে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়। চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল মনছুরের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো এবারও ভারী বর্ষণে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবায়ও। বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় পানি ঢুকে জরুরি বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও প্রশাসনিক কক্ষ প্লাবিত হয়েছে। এতে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে।এজন্য স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতকে দুষলেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী। তিনি বললেন, ৫ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনে চট্টগ্রামে ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি ধারণ করার মতো সক্ষমতা রেখে জলাবদ্ধতা প্রকল্পটি নকশা করা হয়। অতিবৃষ্টিতে পানি জমলেও তা এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝু^ঁকিএদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র।এদিকে আজ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় না থাকার অনুরোধ করছি।সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর রেসকিউ টিম মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন ও জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করছে তারা। রাতেও আমি নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করবো।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মহানগরে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সই করা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।বৃষ্টিপাত কম ক্ষতি বেশি যেসব সালে গত ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট এক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনটি সদ্য স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও ঢলজনিত বন্যায় বেঁকে গিয়েছিল নতুন ওই রেলপথের প্রায় তিন কিলোমিটার।সেদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল মাত্র ৩২২ মিলিমিটার। তাহলে আজকের মৌসুমি বৃষ্টির তুলনায় সেদিনের বৃষ্টি ছিল প্রায় ৯০ মিলিমিটার কম। তবে শুধু চট্টগ্রামে নয়, ওই দিন বৃষ্টি হয়েছিল সাতকানিয়ার পূর্বদিকের জেলা বান্দরবানেও। সেখানকার পাহাড়ের ঢলও নেমে এসেছিল উপজেলাটির ওপর।এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসে প্রায় ১৫০ জন মারা যায়। সেদিন চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ছিল ১৭৭ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল রাঙামাটিতে।যেসব সালে আরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আরেক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালের ২৬ জুন, নগরীর আকবরশাহ মাজার এলাকায়। মারা গিয়েছিল ২৮ জন। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৬৩ মিলিমিটার। আজকের চেয়ে যা প্রায় ৫০ মিলিমিটার বেশি ছিল।তবে চট্টগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সর্বকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার। ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট এটি রেকর্ড করা হয়েছিল। সে হিসাবে আজকের বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০ মিলিমিটার কম।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
সোমবার মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের কিছু নিচু এলাকা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। ভারী বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও। ফলে পাহাড় থেকে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) ওমর ফারুক। তিনি জানান, সোমবার দিনগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ডুবেছে নগরীর কিছু নিচু এলাকা। অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঝুঁিকপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকায় দুটি স্কুলে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয় নগর, জিয়া নগর, বেলতলীগোনা, খুলশী, বায়েজিদ, সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং শুরু করেছে। তারা বাসিন্দাদের পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এসব নির্দেশ বাসিন্দারা কানে তুলছেন না। নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার বসবাস করছে বলে সূত্র জানায়।এদিকে নগরবাসীর তথ্যমতে, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নগরীর চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, তেলপট্টি, চান্দগাঁও, বাদুরতলাস, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়কগুলো কোথাও হাঁটু পরিমাণ আবার কোথাও হাঁটুর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে।নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি থই থই করছে। ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। আরও দুই থেকে তিন দিন মাঝারি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।এদিকে বৃষ্টির সময় সোম ও মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনা না ফেলে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মেয়র।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
লুটেরাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার লুট হয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকারও বেশি। যা পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে করা হয়েছে। এমনকি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যাদেশের সব মালামাল বুঝে নেওয়ার আগেই টেন্ডারের সরকারি যাবতীয় বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার আলাদাভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারি কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির তথ্য বলছে, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪টি পৃথক আইটেমের জন্য গত জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে যাবতীয় কার্যক্রম শেষে গত ১৫ এপ্রিল ৭টি, ৬ মে একটি, ৭ মে দুটি, ১৭ মে একটি এবং ১৯ মে তিনটি কাজের চুক্তি হয়।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সবমিলিয়ে ৯ কোটি ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৬ টাকায় চুক্তিগুলো সম্পাদিত হয়। এরমধ্যে ‘এমএসএম হেলথ কেয়ার’ এবং ‘এমএসএম বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠান দুটি পায় ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৬ টাকার ছয়টি কার্যাদেশ। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধার রুমানা সুলতানা মৌ নামের একজন প্রভাবশালী।অভিযোগ উঠেছে, এমএসএম হেলথ কেয়ার এবং এমএসএম বাংলাদেশকে কাজ পাইয়ে দিতে নানান অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ায়। টেন্ডারে যে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, সে অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠান দুটির নেই। এর আগে এত বড় অংকের কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। এ প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক একজন। ইচ্ছেমতো রেসপনসিভ কিংবা নন-রেসপনসিভ অভিযোগকারী ঠিকাদার মেসার্স জম জম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম জানান, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্ত তাকে নন-রেসপনসিভ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে আবেদন করলেও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক কোনো জবাব দেননি। অথচ তড়িঘড়ি করে এমএসএম বাংলাদেশ এবং এমএসএম হেলথ কেয়ারকে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, এমএসএম বাংলাদেশ এবং এমএসএম হেলথ কেয়ারকে কাজ দেওয়ার জন্য নানান অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারে যে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, সে অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠান দুটির নেই। এর আগে এত বড় অংকের কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। আমরা দীর্ঘ বছর ধরে ঠিকাদারি করছি, তাদের আগে দেখিনি। এ প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক একজন। পছন্দের লোককে কাজ দিতে নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।কয়েকটি প্রতিষ্ঠানটিকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। আবার মেডিসিন ও সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের সুবিধামতো যে প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে, অন্য টেন্ডারে একই প্রতিষ্ঠানকে রেসপনসিভ করা হয়েছে। কোনো ডকুমেন্টের কারণে যদি একটিতে নন-রেসপনসিভ হয়, তাহলে অন্যটিতে রেসপনসিভ হলো কীভাবে?’ উদাহরণ টেনে প্রশ্ন রাখেন তিনি। শুধু দিদারুল আলম নন, মেসার্স এম রহমান অ্যান্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মেসার্স সাদমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আবু তালেব, মেসার্স কাশেম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।মেসার্স কাশেম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম বলেন, অর্থবছর শুরু হয় জুলাইয়ে। বছরের শুরুতে বরাদ্দও চলে আসে। কিন্তু বছরের শেষে কেনাকাটা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের লোকদের কেনাকাটার কাজ দিতে পুরো টেন্ডারটি ম্যানুয়ালি করার চেষ্টা করেছিল। ই-জিপিতে না করে ম্যানুয়ালি করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাতে সায় দেয়নি। বেশকিছু ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহের (টেন্ডার আইডি-১২০৬০৭২) ক্ষেত্রে দুই কোটি পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৬ টাকার কার্যাদেশ পায় এমএসএম হেলথ কেয়ার। ওই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার আলী অ্যাসোসিয়েটসকে নন-রেসপনসিভ করা হয়।একই টেন্ডারে ফাইন্যান্সিয়াল রেসপনসিভ হয়ে এক কোটি ৮৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯২ টাকায় দরপ্রস্তাব করলেও মেসার্স আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্সকেও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং তারচেয়ে ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৪ টাকা বেশিতে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া হয় এমএসএম হেলথ কেয়ারকে।অন্যদিকে সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহের টেন্ডারে নন-রেসপনসিভ হলেও ২৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৯ টাকায় আসবাবপত্র সরবরাহের (টেন্ডার আইডি-১২০৬০৭৩) কার্যাদেশ পায় আলী অ্যাসোসিয়েটস।বিল পরিশোধের পরও ওষুধ সরবরাহসবগুলো টেন্ডারের যাবতীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী বুঝে পেয়েছেন, এমন প্রত্যয়নে বিলের সমুদয় বিল ঠিকাদারদের অনুকূলে পরিশোধের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে বিল জমা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২২ জুন বিলগুলো অনুমোদন হয়। বিলের পরিমাণ টাকাও আইবাসে (ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম) ঠিকাদারদের হিসাবে জমা দেয় হিসাবরক্ষণ অফিস।২২ জুন এসব বিল অনুমোদন এবং পরিশোধ হলেও ২৩ জুন দুপুরে জেনারেল হাসপাতালে পরিশোধিত বিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওষুধ সরবরাহ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম বাংলাদেশ। ওইদিন (২৩ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস নামের ‘ঢাকা-মেট্রো-ম-১১-৫৩৪৩’ নম্বরের একটি পিকআপভ্যানে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসময় ইনসেপ্টা ফার্মার সিনিয়র সুপারভাইজর প্রণব কুমার নাথ বলেন, ঢাকা থেকে ওষুধগুলো আসছে। আমরা আজ বুঝিয়ে দিয়েছি।’ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তিনটি ডেলিভারি চালান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৬, ১৮ ও ২০ জুন ইস্যুকৃত চালান তিনটিতে ২৩ জুন জেনারেল হাসপাতালের স্টোর কিপারের স্বাক্ষর রয়েছে।এ বিষয়ে এমএসএম হেলথ কেয়ার এবং এমএসএম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধার রুমানা সুলতানা মৌ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আজকে বিলের টাকা পাবো। কারণ হিসাবরক্ষণ অফিস আইবাসে (সরকারি বিশেষায়িত সফটওয়্যার) বিলটি জমা দিয়েছে গত সোমবার (২২ জুন)। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক হয়ে আমার হিসাবে আজ (২৮ জুন) জমা হবে।আমি সবসময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। টেন্ডার মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি মূল্যায়ন করে তাদের মতামত দিলেই কার্যাদেশ দেওয়ার সুযোগ হয়। শতভাগ পণ্য সরবরাহ না দিয়ে বিল নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি বলেন, আমি আমার কার্যাদেশের সবগুলো প্রোডাক্ট ১৪ জুন জেনারেল হাসপাতালে বুঝিয়ে দিয়েছি। সরকারি বিল পরিশোধের পর ২৩ জুন পণ্য সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু ইনসেপ্টার একটি ভ্যাকসিন রয়েছে, যেটি লেভেলিং করে দিতে হয়। সেটি একটু পরে দেওয়া হয়েছে।আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো ই-জিপি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা অভিযোগ করছেন, তারা কাজগুলো আগে করতেন।অনিয়মে জড়িত যারা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসাইন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন খালেদ এবং স্টোরকিপার শহীদুল আলম সরাসরি এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি একজন ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতা ও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তার নামও অভিযোগে উঠে আসে। তাদের কললিস্ট যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।বিল পরিশোধের পরও টেন্ডার সংশ্লিষ্ট পণ্য গ্রহণের বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় স্টোরকিপার শহীদুল আলমকে। তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে গত পাঁচদিনে একাধিকবার ফোনকল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।টেন্ডার ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে জানতে ফোনকল করা হলেও হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খালেদও ফোন রিসিভ করেননি। পরে কথা হলে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. একরাম হোসেন বলেন, টেন্ডারের সব পণ্যই আমাদের স্টোরে ঢুকে গেছে। অভিযোগ শোনার পর অ্যাকাউন্টস, স্টোর সংশ্লিষ্ট সব অফিসারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই বলেছে মালামাল ঢুকে গেছে। সন্দেহ দূর করার জন্য আমি আরেকটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। সামগ্রিক টেন্ডার কার্যক্রমের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।টেন্ডারে অনিয়ম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবসময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। টেন্ডার মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি মূল্যায়ন করে তাদের মতামত দিলেই কার্যাদেশ দেওয়ার সুযোগ হয়। আমি নিজে চাইলেও কাউকে কাজ দিতে পারবো না।ম্যানুয়ালি টেন্ডার করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক কার্যক্রম করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এজন্য চিঠিগুলো দিতে হয়।’যা বললো সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের কেনাকাটা নিয়ে আগেও অনেক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালটির কেনাকাটায় দুর্নীতির কারণে একজন সিভিল সার্জন দুদকের মামলায় জেলও খেটেছেন। এখনো ওই মামলা চলমান। ওই জায়গা থেকেও হাসপাতালের বর্তমান দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা কোনো শিক্ষা নেননি। অথচ তারা সমাজের সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত মানুষ।তিনি বলেন, অনেক সময় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে এসব অনিয়ম (টেন্ডারে অনিয়ম) করেন। কিন্তু তারা তাদের পরিবার-পরিজনের দিকে তাকান না। নিশ্চয়ই তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী। তা না হলে এত বড় ঝুঁকি তারা নেবেন কেন? তারা যে পরিমাণ আয় করেন, সেখানে আর কত টাকা তাদের লাগে? এত টাকা দিয়ে মানুষ কী করে? এসব দুর্নীতি বন্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জেনারেল হাসপাতালের টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বক্তব্যআন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার টেন্ডারে অনিয়ম বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে টেন্ডারে অনিয়মের একটি অভিযোগ মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি (মহাপরিচালক-স্বাস্থ্য) অফিসে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের একটি কপি আমাকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ডিজি অফিস ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে এখনো আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাসপাতাল অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো অনিয়ম হলে বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।
৩ মাস ২৯ দিন আগে
বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও ১৯টি স্থলবন্দরে বিদ্যমান মোট ২৯টি স্ক্যানারের মধ্যে ১৩টিই অচল বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্ক্যানারের ৪৫ শতাংশ-ই বর্তমানে কাজ করছে না। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম দামে নিম্নমানের স্ক্যানার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া দেশের স্থলবন্দরের কয়েকটিতে এখনো স্ক্যানার বসানোই হয়নি। ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআইর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, স্ক্যানারের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্ক্যানার অচলের ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অবৈধ পণ্য আসার ঝুঁকিও আছে। এগুলো ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের এসব ঠিক করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য যাচাই ও যথাযথ রাজস্ব নিরূপণে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসানো হয়। ফলে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়, অন্যদিকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে না।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দুটি সমুদ্রবন্দর ও আটটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। সমুদ্রবন্দর দুটির মধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি কনটেইনার স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ছয়টিই অচল। আর মোংলার দুটি ভেহিকল স্ক্যানারই অচল। আর স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে আইসিডি কমলাপুরে একটি কনটেইনার স্ক্যানার ও পানগাঁও বন্দরে একটি করে স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। বেনাপোলে চারটি লাগেজ স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। আখাউড়ার দুটি লাগেজ স্ক্যানারের একটি অচল। হিলির ছয়টি হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের ছয়টিই অচল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার স্ক্যানারের ৬০ শতাংশ অচল। দুটি স্ক্যানার পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জিসিবি ১ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি একই বছরের আগস্ট থেকে অচল রয়েছে। এ ছাড়া কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি ডিসেম্বর মাসে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটির কারণে এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে সিপিএআর গেটের স্ক্যানারটি ঠিক থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু স্ক্যানার বন্দরের, আর কিছু স্ক্যানার কাস্টমসের। অচল স্ক্যানার সচল করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি স্ক্যানারের প্রতিমাসে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এনবিআর কাজ করছে। তবে বন্দর চাইলে সব স্ক্যানার তারা অপারেট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্দরকে আলাদা চার্জ দিতে হবে। এদিকে মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিনটি লাগেজ স্ক্যানার ও দুটি আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেহিকল স্ক্যানার দুটি অচল রয়েছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গামী যানবাহনের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ বন্দরে এখনো কোনো কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। কমলাপুর আইসিডিতে থাকা একমাত্র মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানারটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে অচল রয়েছে। ফলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে, যা পণ্য ছাড়ে সময় বাড়াচ্ছে এবং কাস্টমসের কার্যক্রমকে ধীর করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত পাঁচটি ব্যাগেজ স্ক্যানারের মধ্যে দুটি অচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এবং অপরটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রী ও লাগেজের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া স্ক্যানার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে তা দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আবার বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্ক্যানারও ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে অচল রয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্য ও যানবাহনের তদারকিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) স্ক্যানারটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে অচল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ পানগাঁও আইসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও স্ক্যানারটি সচল হয়নি। বর্তমানে স্ক্যানিং ছাড়াই ম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। শুধু তাই নয়, হিলি, সোনামসজিদ, তামাবিল, বুড়িমারী, সোনাহাট, গোবরাকুড়া, বিবিরবাজার, দর্শনা, বিলোনিয়া, ভোলাগঞ্জ, শাওলা, টেকনাফ, ধানুয়া-কামালপুর, বাল্লা, নাকুগাঁও বন্দরে স্ক্যানার নেই। ফলে এসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও রাজস্ব ঝুঁকি ও চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ক্যানার নষ্ট হলে মেরামত করতে দীর্ঘসময় লাগে। অচল স্ক্যানার মেরামতের খরচ বেশি বিধায় এনবিআর থেকে বরাদ্দ পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণে স্ক্যানারগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কনটেইনার স্ক্যানার উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এসব স্ক্যানারের খুচরা যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এগুলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করতে হয়। আর স্ক্যানার সরবরাহকারী দেশ-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনেক সময় নবায়ন করা হয় না বা নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ কারণে নষ্ট হলেও মেরামত সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের স্ক্যানার অচল থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ পণ্য যারা আমদানি করে, তারা সাধারণত আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করে নেয়। ফলে এসব চালান অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমসে কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা হয় না এবং দ্রুত বন্দর ছাড়িয়ে যায়। স্ক্যানার সচল থাকলেও এ ধরনের চালান সবসময় স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসে না। বরং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত আমদানিকারকরাই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে অবৈধ পণ্য অনেক সময় নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও সেটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে ঘটে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির ফলে নয়। অচল স্ক্যানার মেরামত ও নতুন স্ক্যানার স্থাপনে এনএসআইর প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্থাপিত কনটেইনার স্ক্যানার মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা এড়াতে এনবিআরকে দ্রুত মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, তামাবিল, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন কনটেইনার বা কার্গো স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
৩ মাস ৩০ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ডানা মেলছে নানা আলোচনা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে লড়াইয়ের জন্য অনেকেই গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। রঙ-বেরঙের পোস্টারও শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও যুগ্ম সংগঠনের নেতারা সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। ব্যালটের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগেই মাঠ দখলে নেমেছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। একই সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও। যারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক অতীত-বর্তমান, ভালো-খারাপ কাজ ও অপরাধ-নিরপরাধের খতিয়ান নোট করছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) কর্মকর্তারা এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা নোট করার কথা জানিয়েছেন। যদিও সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী তার অধীন গোয়েন্দাদের এসব কার্যক্রমের বিষয়টি আড়াল করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে জরিপ করলে করতে পারে। পুলিশের কার্যক্রমের বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে এই বিভাগে দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার মোহাম্মদ গোলাম রুহুল কুদ্দুস গোয়েন্দা কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একেবারেই আমাদের নিজেদের বিষয়। বাইরে কীভাবে গেল জানি না। রুটিন ওয়ার্ক। নিয়মিত আমরা করে থাকি।’তিনি জানান, গত ২০ জুন সিটিএসবির উপকমিশনার ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্যাদি প্রেরণ’-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। এতে সব জোনের পরিদর্শকদের দুটি ছক সরবরাহ করা হয়। ২৭ জুনের মধ্যে তাদের সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে সিটিএসবির রাজনৈতিক শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরবরাহ করা ফরমে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম-ঠিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। প্রার্থীর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ভাবমূর্তি, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা কেমন, মামলার আসামি কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পিএস-এপিএস ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীর আমলনামা জানতে চাওয়া হয় এতে। প্রার্থীর রাজনৈতিক অনুসারীদের বিবরণও দিতে বলা হয়। বাদ যায়নি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণের তথ্যও। এমনকি কার ফেসবুকের কয়টি আইডি এবং সেসব আইডি থেকে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটিও তুলে ধরতে বলা হয় রিপোর্টে।নির্বাচনী জরিপ নিয়ে আলাপ হয় সিটিএসবির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগেভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি নিখুঁত ডেটাবেজ তৈরি করে রাখতে তাদের এ তৎপরতা। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে নির্বাচনের মাঠে পুনর্বাসনের সুযোগ না পান, সেটিও নিশ্চিত করা।এছাড়া যিনি প্রার্থী হবেন তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা কোন আমলে হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে নাকি পরে, এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এলাকায় প্রার্থী কোনো বাহিনী গড়ে তুলেছেন কি না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং লালনের মতো অপরাধে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে নির্ধারিত ২৭ জুনের মধ্যে জরিপ শেষ না হওয়ায় গত শুক্রবার আশুরার বন্ধের দিন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন সিটিএসবির উপকমিশনার। সেই বৈঠক থেকে গোয়েন্দাদের আরও সময় দেওয়া হয়েছে, জানালেন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরিপ কাজ শেষ করার নির্দেশনাও।গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াগোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদ বকস্ বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য নেওয়ার জন্য এসেছিল। আমি দিইনি। আমাকেই জিজ্ঞেস করছে এলাকায় আমার জনসমর্থন কেমন। আমি হাসলাম। কোনো প্রার্থী কি বলবে যে তার জনসমর্থন খারাপ? আমি বললাম, আমার গোয়েন্দা রিপোর্টের দরকার নেই। আমার দরকার জনগণের ভোট।চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছেন, গোয়েন্দা দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এমন খবরও পাচ্ছি, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে নাকি সরকারি দল তাদের প্রার্থী ঠিক করবে। গোয়েন্দা সংস্থানির্ভর রাজনীতি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করবে জনগণ। রাজনীতির কাজে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তাদের পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হচ্ছে।জামায়াতে ইসলামী অবশ্য গোয়েন্দা কার্যক্রমকে পাত্তাই দিচ্ছে না। দলটির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী ও নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বলেই বসলেন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার জরিপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের জরিপের ওপর আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে না।শেষ যবে হয়েছিল চসিক নির্বাচনচসিকের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যান। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা এক মামলার রায় পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর থেকে এখনো মেয়রের চেয়ারে আছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন নারী কাউন্সিলর পদ শূন্য ঘোষণা করে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সে হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বর্তমান মেয়র শাহাদাতের দাবি, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর।
৪ মাস আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১১২ কোটি এবং মশকনিধনে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৭.৬৬ শতাংশ মাত্র।মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও মহানগরকে ক্লিন-গ্রীন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিস¤পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চসিক। মেয়র বলেন, চসিকের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা ৪ হাজার ২২৬ জন। এই জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।রাজস্ব থেকে আয় বাজেটের নথিপত্র দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের হাল কর ও অভিকর, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে। নিজস্ব উন্নয়ন অনুদান থেকে আয়নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অঙ্কের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী মতে, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।ব্যয়ের খাত সিটি করপোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।নগরীর সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশক নিধনের বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
৪ মাস ৩ দিন আগে
ট্যাক্স দেয় না সরকার। খোদ ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে আটকে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স। এর মধ্যে রেলওয়ে, গণপূর্ত, শিক্ষা ও সওজে আটকে আছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা গৃহকর। পরিমাণটা আরও ডাবল হত যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্ট লেখার আগের দিন ২৯ জুন সোমবার বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ না করত। তাহলে কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটতেই সরকারি ট্যাক্স? যার উত্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টাকার অভাবে চসিকও নিয়মিত নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনাা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দিতে পারছে না। তবে ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া গৃহকর আদায়ে ২৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যার একটি সূরাহা শীঘ্রই মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথির তথ্যমতে, মোট ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনার সিংহ ভাগই আটকে আছে মাত্র চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেনাদার হলো রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আটকে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া ট্যাক্স আটকে আছে শিখা খাতে, যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চতুর্থ বড় ট্যাক্সদাতা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর। তাদের কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাকি ২১টি মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চসিকের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই টাকা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, আবর্জনা অপসারণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে পৌরকর আটকে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর অধীন সরকারি দপ্তরগুলো চসিকের এই বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনও। তিনি বলেন, চসিক ও রেলওয়ে দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে গৃহকর অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। এদিকে চসিকের সবেচেয়ে বড় অঙ্কের গৃহকর বকেয়ার তালিকায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২৯ জুন সোমবার চেকের মাধ্যমে এই ট্যাক্স পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেক গ্রহণ করর পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপৃল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন স¤পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি করপোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই আমরা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছি, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটে চসিকের এই পৌরকর পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে। যেভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের পেছনে লেগে থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছি। একইভাবে এই ২৫টি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকা আদায়েও আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাব। চসিকের রাজস্ব শাখার মতে, হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সিটি করপোরেশন তার নাগরিকসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এতে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরকার শুধু নেয়, দেয় না তেমন কিছুই। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা তারই প্রম্যাণ বহন করে। তিনি বলেন, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও হয়তো সরকারের ট্যাক্স আটকে আছে। এতে বুঝা যায়, সরকার শুধু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্যই ট্যাক্স আরোপ করেছে। খোদ সরকারই ট্যাক্স পরিশোধ করে না। যা অত্যন্ত দূ:খজনক।
৪ মাস ৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ময়লা পরিবহনকারী গাড়িচালক মো. শাহিন। কিন্তু চলাফেরা যেন রাজকীয় হালে। চলেন কয়েক লাখ টাকার প্রাইভেট কারে। হাঁকান মোটর সাইকেলও। নগরীর ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে শুধুমাত্র ময়লার গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে মাত্র ১০ বছরে তিনি ঘুরিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবনযাপন। পরিস্থিতি এমন যে, প্রশ্ন করারও কোন জোঁ নেই তাকে। মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী শাহিন। যেন সম্পদের পাহাড়ে বসে আছেন তিনি। তবে গাড়িচালক শাহিনের দাবি তিনি শুধু চাকরি করেন না, করেন গাড়ির ব্যবসা। মারেন পাঠাও-উবারের ভাড়া। আর স্থানীয়রা তার দাবিকে বলছেন-বুমেরাং। তার মূল পেশাই হল জ্বালানি তেল চুরি। একদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ির ডিজেল-অকটেন, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর জাহাজের ডিজেল চুরিই হচ্ছে গাড়িচালক শাহিনের 'আলাদিনের চেরাগ'। যা নিয়ে খোদ সিটি করপোরেশনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।স্থানীয়রা জানান, ময়লার গাড়ি চালানো থেকে সবকাজে শাহিনের রয়েছে বড় ধরনের চোর চক্র। ময়লার গাড়ি যেমন শাহিন চালায় না, চক্রের সদস্যরা চালায় তেমনি তেল চুরির সাথেও জড়িত শাহিনের ভাই শাকিলের নেতৃত্বে থাকা সংঘবদ্ধ চোর চক্র। যারা কর্ণফুলী নদী আর সিটি করপোরেশনের গাড়ির জ্বালানি তেল চুরি করে নগরীর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় টং দোকানে বিক্রি করে। আশ্চর্য্যের বিষয়-এ দোকানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রী হয় মাত্র ৯৫ টাকায়। অথচ নগরীর প্রতিটি পাম্পে ডিজেল বিক্রী হয় সরকার নির্ধারিত মূল্য ১১৫ টাকা হিসেবে। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে ডিজেলের ক্রেতা সেজে সেই টং দোকানে গেলে ডিজেল বিক্রীর এই তারতম্য ধরা পড়ে। এত কম দামে ডিজেল বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানে থাকা কর্মচারী বলেন, আপনার লাগলে নেন, না লাগলে যান। আপনারা কারা-এমন প্রশ্ন করেন ওই কর্মচারী। এ সময় তেল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আমি শাকিলের এই দোকান থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকায় কিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নিয়মিত জ্বালানি তেল বিক্রী করেন। এই তেল সরবরাহ করেন শাকিলের ভাই শাহিন। কর্ণফুলী নদির জাহাজের চেরাই তেল হওয়ায় কম দামে বিক্রী করেন বলে জানান ওই ক্রেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা শাহিন উল্কাগতিতে ধনী হওয়ার পেছনে মূল উৎসই হচ্ছে জাহাজ ও চসিকের বরাদ্দকৃত ডিজেল-অকটেন চুরি। চসিকের ময়লা পরিবহনের জন্য শাহিনের গাড়ি বাবদ প্রতিদিন ১২ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ পায়। কিন্তু নির্দিষ্ট ট্রিপে তেল খরচ হয় সর্বোচ্চ ৬-৮ লিটার। বাকি অতিরিক্ত তেল তিনি প্রতিদিন বিক্রী করে দেন শাকিলের টং দোকানে।শুধু তাই নয়, শাহিন নিজেও নিয়মিত ময়লার গাড়ি চালান না। চসিক থেকে গাড়ি ও তেলের স্লিপ সংগ্রহ করে তিনি টাকার বিনিময়ে দৈনিক ভিত্তিক অন্য শ্রমিক দিয়ে গাড়িটি চালান, আর নিজে ব্যস্ত থাকেন তেল চুরির সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়। সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের অধীনে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া এলাকায় ময়লা পরিবহনের গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করছেন শাহিন। বর্তমানে তার মাসিক বেতন মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার বিভিন্ন ছবি সূত্রে জানা গেছে, শাহিন যাতায়াত করেন কয়েক লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কারে। শুধু তাই নয়, তার সংগ্রহে রয়েছে লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেলও। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সিটি করপোরেশনের সর্বনিম্ন স্তরের চালক হয়েও তিনি নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে অবৈধভাবে 'চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন' এর লোগো ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নগরী। এছাড়া নগরীর একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি তিনি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। যদিও আইনি জটিলতা এড়াতে ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে রাখা হয়েছে, তবে এর মূল নিয়ন্ত্রণ শাহিনের হাতেই বলে নিশ্চিত করেছে চসিকের একাধিক সূত্র।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চসিকে গাড়ি চালক হিসেবে চাকরি পান শাহিন। চাকরিতে ঢুকেই সাবেক শাসকদলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চসিকের পরিবহন বিভাগে গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও অলৌকিকভাবে এখনো বহাল তবিয়তে নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন শাহিন।সম্পদের উৎস ও তেল চুরির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহিন বলেন, সব মিথ্যা। আমার সম্পদ কোথায় আছে এবং তেল চুরি প্রমাণ করতে হবে আপনাদের। যারা এসব মিথ্যে সংবাদ ভাইরাল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি সাইবার আইনে মামলা করেছি। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চালাই, বেতন পায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এতে আমার সংসার চলে না। তাই পাঠাও-উবারের ভাড়া মারার জন্য আমি মোটর সাইকেল কিনেছি। আর প্রাইভেট কার আমার বন্ধুর, তবে এটির রেজিষ্ট্রেশনও আমার নামে। আমি গাড়ির ব্যবসাও করি। একজন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ভাড়া মারেন, ব্যবসা করেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহিন বলেন, আমি পরিশ্রম করে খাচ্ছি। এতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। চাকরি না পোষালে করছেন কেন-প্রশ্ন করা হলে শাহিন বলেন, পারলে আমি সবই করব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজার মো. মাহফুজ বলেন, ভাই বর্তমানে কোটিপতি হওয়া বিস্ময়ের কিছু নয়, দু‘চারটা মোটরসাইকেল চুরি করলেও কোটিপতি হওয়া যায়। আপনারা সামান্য একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পেছনে কেন লাগলেন সেটাও তো বুঝতে পারছি না। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী কিছুই জানে না বলে জানান। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, চসিকের এই সাধারণ চালক শাহিনের সম্পদের মূল উৎস তেল চুরি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।
৪ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকা এবং জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে মারা যান দুই নির্মাণ শ্রমিক।নিহতরা হলেন রাউজান উপজেলার কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। প্রদীপ দাশ বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেপটিক ট্যাংকে নামার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে নামা সমীরণও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে রাউজান উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু‘জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত প্রদীপ দাশের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার শ্বশুরবাড়ি ঝিকুটি পাড়ায় নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এদিকে একই দিন বেলা ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও দু‘জনের মৃত্যু হয়। তাদের একজনের নাম সাকিব, অন্যজনের হৃদয়। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর বলে জানান ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম। ধনিয়ালাপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের স্টিলের স্ট্রাকচার অপসারণ করতে দুই নির্মাণ শ্রমিক নেমেছিলেন। সেখানে দুজন অচেতন হয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের ধারণা, ট্যাংকের ভেতর গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। লাশের সুরতহাল স¤পন্ন করা হয়েছে। এরপরও আরও কোনো আলামত আছে কি-না সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি।
৪ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আটটি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি সূচকেই নগরীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া যাওয়ায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। শুক্রবার (২৬ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল গত ৮ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করে। এ সময় ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ৩৭০টি বাড়ির মধ্যে ৯৯টিতে এবং পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। শনাক্ত হওয়া লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির।জরিপে হাউজ ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে থাকার কথা। ব্রেটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য সীমা ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি। এছাড়া কন্টেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ পাওয়া গেছে, যেখানে ১০ শতাংশের বেশি হারকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়।তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর কাট্টলী (ওয়ার্ড-১০), পাঁচলাইশ (ওয়ার্ড-৩), জালালাবাদ (ওয়ার্ড-২), পশ্চিম বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৭), দক্ষিণ বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৯), দক্ষিণ হালিশহর (ওয়ার্ড-৩৯), পাথরঘাটা (ওয়ার্ড-৩৪) এবং আন্দরকিল্লা (ওয়ার্ড-৩২) ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বাসাবাড়ির প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের লিফট হোল ও আন্ডারগ্রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। উদ্বেগজনকভাবে সিটি করপোরেশনের কিছু আবর্জনা পরিবহনকারী গাড়িতেও এডিসের লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
৪ মাস ৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশল বা ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন। কাজ একটি হলেও সরকারের দুই ভিন্ন সংস্থা আলাদা বাজেট নিয়ে করে যাচ্ছে আলাদাভাবে। এর মধ্যে ২০২০ সাল থেকে এ কাজটির পেছনে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ খরচ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অথচ একই কাজ নতুন করে করতে ২০২২ সালে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সিডিএর পুরো মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ কোটি টাকা, আর ডিটিসিএর এই পরিবহন প্রকল্পের ব্যয় ৭০ কোটি টাকা। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণের করের টাকার এমন অপচয়কে ‘অর্থের শ্রাদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের এমন কাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো জনগণের অর্থের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি কাজ কেন একই সরকারের দুটি সংস্থা আলাদাভাবে করবে? এদের মধ্যে যে কোনো সমন্বয় নেই, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। রাষ্ট্রের এসব অপেশাদার সংস্থার ভেতরে বড় ধরনের সংস্কার খুব জরুরি।’অন্যদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বললেন, ‘একটি শহরের জন্য যখন রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে এবং সেই প্ল্যানেই পরিবহন পরিকল্পনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তখন হঠাৎ অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একই শহরের জন্য নতুন করে পরিবহনবিষয়ক সমীক্ষা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় মেধা, শ্রম ও অর্থের অপচয়।’সিডিএর নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে ‘প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান’ এই নামে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পের আওতায় ২০৪১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কৌশলগত দিকনির্দেশনাসহ মোট সাতটি বড় খসড়া তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে স্ট্রাকচারপ্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান, ড্রেনেজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মাস্টারপ্ল্যান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’। ৩৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের একটি বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে নগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশল প্রণয়নে।সিডিএর এ কাজ চলমান থাকার মধ্যেই ২০২২ সালের অক্টোবরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ডিটিসিএ ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন ফর চিটাগাং মেট্রোপলিটন এরিয়া’ নামে আরেকটি পৃথক প্রকল্প নেয়। ৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পেরও মূল লক্ষ্য চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি। অর্থাৎ একই শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার নকশা তৈরিতে দুটি সংস্থা পৃথকভাবে খরচ করছে মোট ১০৬ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার কীভাবে এক কাজ দুবারের জন্য বিপুল বরাদ্দ দিল? এর পেছনে কাজ করেছে কোন পদ্ধতি?জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বিষয়টি একরকম অস্বীকার করে বলেছেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে আলাদা করে ট্রাফিক মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে না। ট্রাফিক মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ডিটিসিএর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’তবে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি এড়াতে চাইলেও সংস্থাটির নিজস্ব নথিতেই মিলেছে ভিন্ন তথ্য। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে সিডিএর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডেটা এক্সপার্ট-টিলার-ইজিএস’ যৌথভাবে যে ইনসেপশন প্রতিবেদন জমা দেয়, তার ‘কম্পোনেন্ট ৪’-এর অধীনে ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি নতুন ‘ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ২০২৩ সালের এপৃলে প্রকাশিত সিডিএর ‘প্রিলিমিনারি সার্ভে রিপোর্টে’ দেখা যায়, এই পরিকল্পনার জন্য ১২ ধরনের পরিবহন সমীক্ষাও এরই মধ্যে শেষ করেছে সিডিএ। যেখানে ১০ হাজার ৮২৪টি পরিবারের যাতায়াত তথ্য এবং ৬ হাজার ৮৬৪ জন যাত্রীর সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া আছে। নথিতে স্পষ্ট বলা আছে, এই ডেটা ২০৪১ সালের পরিবহন কৌশল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরির জন্যই সংগ্রহ করা হয়েছিল।একই কাজে ডিটিসিএর নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালক মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, ‘সিডিএর সঙ্গে আমরা সমন্বয় করছি। তবে তারা মাত্র ৫ হাজার তথ্য নিয়ে এটি প্রণয়ন করেছে। আমরা ১৭ হাজার ডেটা বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছি।’ ডিটিসিএ কর্মকর্তার এমন দাবিও নাকচ করে দিচ্ছে সিডিএর নথিপত্র। কারণ, সিডিএ এরই মধ্যে পরিবার ও যাত্রী মিলিয়ে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার শেষ করেছে।
৪ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যাদের সবাই ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় বিএনপির অনুসারি নেতাকর্মী। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ।খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (খুউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এম শফিকুর আলম। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান লোদী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মোতাহার হোসেন তালুকদার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে উদবাতুল বারী আবু এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মাশুকুল ইসলাম রাজিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সবকটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে আগামী ১ বছরের জন্য নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্রেখ করা হয়। যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং নগর-মহানগর পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ৮ চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউকে) বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।
৪ মাস ২১ দিন আগে
বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর প্যাকেট হুবহু নকল করে নিম্নমানের তামাক দিয়ে তৈরি করা সিগারেট। এই কারসাজির সাথে জড়িত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকর্তা হিসেবে পরিচিত চসিকের সাবেক মেয়র, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিদেশ থেকে অবৈধ সিগারেট আমদানির সাথে জড়িত থাকার দায়ে এই সিন্ডিকেটের অনেকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টমস মামলা দায়ের করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন ও শিক্ষামন্ত্রী নওফেল।
৪ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহনে গতি আনতে এমআরটি (মাস র্যাপিড ট্রানজিট) বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে টানাহেঁচড়া চলছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল চাইছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) চাইছে মনোরেল। চসিক এরই মধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার ‘মনোরেল’ প্রকল্প নিয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) সই করে ফেলেছে।আর গত তিন বছর ধরে মহানগরে মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে ডিটিসিএ। এই টানাপড়েনের মধ্যে এক পক্ষের দাবি— অবকাঠামোগত কারণে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম উপযোগী নয়। পাল্টা জবাবে বলা হচ্ছে, নগরের বিপুল যাত্রীর চাপ নিরসনে মনোরেল কোনো কাজে আসবে না। মনোরেল যেখানে দিনে ১৮ হাজার যাত্রী বহন করবে, সেখানে মেট্রোরেল যাত্রী পরিবহন করবে সাড়ে ৬ লাখ থেকে ১১ লাখ যাত্রী।দুই সংস্থার এই টানাটানির মধ্যে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য একে ‘মেগা প্রকল্প বিলাস’ বলে অভিহিত করছেন। তাদের স্পষ্ট মত, চট্টগ্রামে ৩০-৫০ হাজার কোটি টাকা ঢেলে মেট্রোরেল বা মনোরেল কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। তার বদলে মাত্র হাজার কোটি টাকা খরচ করে নগরের ট্রাফিক ও বিদ্যমান বাস রুট ব্যবস্থা ঢেলে সাজালেই যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।অতীতের গবেষণার তথ্য দিয়ে এমনটাই জানালেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ঘণ্টায় ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলে মেট্রোরেল বা মনোরেল প্রয়োজন। চট্টগ্রামে বর্তমানে ঘণ্টায় ১৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এ অবস্থায় নগরীতে মেট্রোরেল বা মনোরেলের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা খুবই কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যেও মিলছে বিজ্ঞজনের মিল। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের কৌশলগত নগর পরিবহন মহাপরিকল্পনায় (মাস্টারপ্ল্যান) স্পষ্ট বলা হয়েছে, নগরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার অপর্যাপ্ততা নয়; বরং রাস্তার ভুল ব্যবহার, যত্রতত্র পার্কিং, সিগন্যালবিহীন মোড় এবং ফুটপাতের অভাব। যদি এখনই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ২০৩০ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম নগরীর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ১১ কিলোমিটার থেকে কমে মাত্র ৭ কিলোমিটারে নেমে আসবে, যা মানুষের হাঁটার গতির প্রায় সমান। এ জন্য মেগা প্রকল্পের পেছনে না ছুটে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বা বাসের জন্য অগ্রাধিকার লেন চালু, নগরে পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি, ৪৯টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা জংশন আধুনিকায়ন এবং বিচ্ছিন্ন বাস মালিকদের বড় কোম্পানির অধীনে এনে একটি স্বাধীন ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’ (পিটিএ) গঠনের ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।ডিটিসিএর পরিকল্পনায় মেট্রোরেল বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করে সরকার। মেট্রোরেল চালুর আগে প্রাথমিক সমীক্ষা করতে ৭০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। কোরিয়ান সাহায্য সংস্থা ‘কইকা’র অর্থায়নে ২০২২ সালের নভেম্বরে অনুমোদিত এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।ডিটিসিএ নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংযোগ তৈরি করতে মোট ছয়টি রুট নির্ধারণ করেছে, যার অন্যতম প্রধান রুট হলো কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর। প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রধান সড়কে ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার যানবাহন চলাচল করত, যা বহন করত ২ লাখ ৯০ হাজার যাত্রী।ডিটিসিএর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আগাম ধারণায় বলা হচ্ছে, ২০৪১ সালে এই রুটে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার। দৈনিক যাত্রীসংখ্যা হবে ৫ লাখ ১২ হাজার। এটি বর্তমান সড়কে যান, যাত্রী ও পণ্য চলাচলের ধারণক্ষমতার চেয়েও ৬৬ শতাংশ বেশি। ফলে কোনো মেগা প্রকল্প ছাড়া ২০৪১ সালে পুরো সড়কটি অচল (সড়কের ধারণক্ষমতা ও গাড়ির সংখ্যার অনুপাত ১ দশমিক ৬৬) হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের প্রতিবেদন বলছে, এই তীব্র ট্রাফিক জট কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এমআরটি বা মেট্রোরেল।সমীক্ষায় আরও তুলে ধরা হয়, মেট্রোরেল চালু হলে প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ ৫৮ শতাংশ কমে আসবে। ফলে যানজটের সূচক ১ দশমিক ৬৬ থেকে নেমে আসবে মাত্র শূন্য দশমিক ৭০-এ। এর মাধ্যমে সড়ক থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার যানবাহন কমে যাবে এবং সেসব যানবাহনের ২ লাখ ৯ হাজার যাত্রী (মোট যাত্রীর ৪২ শতাংশ) মাটির ওপর বা নিচ দিয়ে দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে পারবে।প্রস্তাবিত ‘মনোরেল’ এই সংকট সমাধানে পুরোপুরি ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেছেন প্রকল্পের পরিচালক ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, সম্প্রতি বৈঠকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছি চট্টগ্রামে মনোরেল কার্যকর নয়। তা ছাড়া নগরের প্রধান সড়কে ফ্লাইওভার করার কারণে মনোরেল করার জায়গাও নেই। এ জন্য মেট্রোরেল মাটির নিচে করা যায় কিনা, সেটি সমীক্ষা করে দেখছি।’ তাদের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মনোরেল চালু করলেও তা যানজটের সূচককে অচলাবস্থার সর্বনিম্ন সীমা, অর্থাৎ ১ দশমিক শূন্যের নিচে নামাতে পারবে না। ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিয়মে সূচক ১ দশমিক শূন্য বা তার বেশি হওয়া মানেই রাস্তা অচল। চসিকের পরিকল্পনায় মনোরেলচট্টগ্রাম মহানগরে মনোরেল বাস্তবায়ন করতে গত বছরের ১ জুন আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই করে চসিক। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বিডা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দিলেও অন্য দুই মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া পায়নি চসিক। গত ৫ মে দুই মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে ফের চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সর্বশেষ গত ৭ জুন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম এসে চসিক ও সিডিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।চসিক বলছে, চট্টগ্রাম একটি পুরনো ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। শহরে পাহাড়, খাল, বন্দর এলাকা এবং মাটির নিচে ও ওপরে প্রচুর ইউটিলিটি লাইন (গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ) রয়েছে। মেট্রোরেলের জন্য বড় আকারে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যা কঠিন এবং সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। এ কারণে চট্টগ্রামের জন্য হালকা, নমনীয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য রেল ব্যবস্থা প্রয়োজন।প্রকল্পের মুখপাত্র চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব বলেছেন, ‘মেট্রোরেলের জন্য প্রশস্ত করিডর, ভারী নির্মাণকাজ ও গভীর ফাউন্ডেশন দরকার, যেটির কোনো সুযোগ চট্টগ্রামে নেই। কারণ মূল সড়কের নিচে ফ্লাইওভারের ফাউন্ডেশন রয়েছে। এর নিচে মেট্রো করতে গেলে পুরো ফ্লাইওভার ভেঙে পড়বে। এটি অকল্পনীয়। মনোরেলে সরু পিলার ব্যবহার হয়। রাস্তার জায়গা খুব কম লাগে। সরু রাস্তা, খাল ও পাহাড়ের ওপর দিয়ে সহজে নির্মাণ করা যায়। এটিই বাস্তবসম্মত প্রকল্প।
৪ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলবে মনোরেল ও মেট্টোরেল। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা। এ জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মহানগরকে এক সুতোয় গাঁথতে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রবিবার (৭ জুন) ডিটিসিএর একটি প্রতিনিধিদল নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার ও অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।মশিউর রহমান জানান, ট্রাফিক পরিস্থিতি ও যাত্রীদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে। ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। চাহিদা বেশি থাকলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কম হলে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়।তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকমের চিত্র দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া একটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতেই ডিটিসিএর প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছে। যাচাই শেষে তারা তাদের মতামত জানাবে।ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে দু-একটি রুটে অবশ্যই মনোরেল হবে। তবে কোন রুটে মনোরেল আর কোন রুটে মেট্রোরেল হবে, তা সম্পূর্ণ চাহিদা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে এই বিশ্লেষণ ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।তিনি জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান ও এ সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি চট্টগ্রামের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর দেশের অন্যতম যানজটের নগরী। নগরীর কালুরঘাট-বিমান বন্দর সড়ক, অক্সিজেন-নিউমার্কেট সড়ক, নিউমার্কেট বহদ্দার সড়ক, বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সড়ক, জিইসির মোড়-একে খান-সিটি গেইট সড়ক, ডিটি রোড, অলঙ্কার মোড়-বন্দর সড়ক, পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট রোড, সদরঘাট-বারেকবিল্ডিং রোডসহ বহু সড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম। যেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এসব সড়কে বিকেল ৩টা হলে আর গাড়ি মেলে না। মিললেও গুণতে হয় সকালের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা। তখন ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা গুণে গন্তব্যে যেতে হয়। এমনকি বাস মিনিবাস, টেম্পুসহ সব ধরণের গাড়িতে ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা গুণতে হয় নগরবাসীকে। এরপরও গাড়ি মেলাতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় নগরীর পেশাজীবী মানুষগুলোকে। এ সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকেও। চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, এটা সত্য যে, চট্টগ্রাম মহানগর এখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নগরীতে ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করে। এ কারণে নগরীর সবকটি সড়কে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ট্রাফিক পুলিশ ও নগরবাসীকে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।
৪ মাস ২৫ দিন আগে
সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ ভবনে অস্থায়ী সেবা বুথ স্থাপন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে বুথ স্থাপনের অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি লাঘবে মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বুথ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।সাক্ষাতকালে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মেয়রের নিকট তুলে ধরেন যে, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক সিএন্ডএফ এজেন্টের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে নানাবিধ প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় সময়ক্ষেপণ হয়। যদি আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ ভবনে চসিকের একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা যায়, তাহলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে দ্রুততম সময়ে এই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
৪ মাস ২৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ফাইলে সার-সংক্ষেপে লেখেন, মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।'
৫ মাস ১ দিন আগে
জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে হঠাৎ শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ থেমে গেল চট্টগ্রামে। রাজপথে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেছেন। এনসিপি আঁকছেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এমন সমঝোতায় মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় মেয়র শাহাদাত হোসেন গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অংশ নেন।এ ছাড়া এনসিপি নেতাকর্মীরাও তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা থেকে টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হয়ে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে। দু‘পক্ষের মধ্যে এমন সমঝোতার পর উত্তেজনা কমে এসেছে। তাই মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিএমপি। এর আগে নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনের প্রবেশমুখে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চারটি পিলারে সাদা-হলুদ রঙ করে সিটি করপোরেশন। রবিবার বিকাল থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।এ নিয়ে রাতে এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগারপাসে বিক্ষোভ শুরু করলে মেয়র শাহাদাতের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাদের দুদিকে সরিয়ে দেয়। রাত ১২টার দিকে মেয়র শাহাদাত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।এরপর সোমবার সকালে সিএমপি নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু সিএমপির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল তরুণ-তরুণী টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে যান।এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রতিবাদে এনসিপি সংবাদ সম্মেলন করে দুদিনের গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় পুলিশ বা^ধা দিলে গ্রাপিতি অঙ্কনকারীদের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শরীরে পুলিশের হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা। এরপর সোমবার বিকাল থেকে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সিএমপি গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের ভিডিও দেখে তিনি সিএমপি কমিশনারকে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন।মেয়রের ভাষ্য, আমার বিরুদ্ধে গ্রাফিতি মুছার যে অভিযোগ, সেটা ডাহা মিথ্যা। যারা গ্রাফিতি করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই করবে। তবে সেটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয়। সিটি করপোরেশন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় পাশে থাকব। প্রয়োজন হলে আর্থিক সহযোগিতাও করব। কাউকে অযথা দোষারোপ বা মিথ্যাচার নয়। আমরা সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাম্যের শহর গড়তে চাই। কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা বিভাজনের রাজনীতি আমরা চাই না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক রিদুয়ান হৃদয় বললেন, মেয়র সাহেব নিজেই গ্রাফিতি আ^ঁকছেন। সেটা ভালো লাগছে। তবে উনার মতো করে উনি গ্রাফিতি আঁকছেন। আমরা আমাদের মতো করে আঁকছি। সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেও গ্রাফিতি অঙ্কন চলছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের রক্তে কেউ যেন হাত দেওয়ার সাহস না করে, সেটাই প্রত্যাশা করব।
৫ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আঁকা গ্রাফিতি লঙ্কাকান্ড ঘটনা ঘটেছে। নগরীর লালখান বাজার এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনার পর মুছে ফেলা গ্রাফিতি পুনরায় আঁকতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে অঙ্ককারীদের। এ সময় গ্রাফিতি আকাঁর রঙ ছিটকে পড়ে রঙিন হয়ে উঠে গ্রাফিতি অঙ্কণকারী তরুণ-তরুণী ও পুলিশ সদস্যরাও। পুলিশ এ সময় তিনজনকে আটক করলেও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) বেলা পৌনে দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর টাইগারপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় টাইহারপাস থেকে লালখান বাজার এলাকায় জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দাবি করে মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এনসিপির নেতা-কর্মীরা চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে অবস্থান নিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। এরপর উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। রাতের ঘটনার পর সোমবার সকালে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। সিএমপির এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে টাইগারপাসে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হন একদল তরুণ-তরুণী। তাঁরা নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দেন। তাঁরা গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে রঙের কৌটা নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। এ সময় পুলিশ সদস্য ও গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের গায়ে রং ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে আসা বাকি তরুণ-তরুণীরা পুলিশকে বাধা দেন। একপর্যায়ে আটকের প্রতিবাদে সড়কের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় কয়েকজনকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মীর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, একদল তরুণ-তরুণী গ্রাফিতি অঙ্কন করতে এসেছিলেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর রং ছোড়েন তাঁরা। সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করা তরুণ-তরুণীরা এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত। জানতে চাইলে নগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, টাইগারপাসে এনসিপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে। রঙের কৌটা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে টানাটানির সময় দুই পক্ষের গায়ে রং পড়েছে। ইচ্ছা করে কেউ রং ছুড়ে মারেনি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।তাদের দাবি, গ্রাফিতিগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ এবং আত্নত্যাগের প্রতীক। তাই এসব গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়া বা অপসারণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ডাহা মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারর চেষ্টা করছে।মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তিনি কখনো কোনো নির্দেশ দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। তিনি জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর বিভিন্ন পিলার ও দেয়াল থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও রং করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল। মেয়র বলেন, কেউ গ্রাফিতি করতে চাইলে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি আঁকতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়নের আশ্বাসও দেন। তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন হাতের লেখার চেয়ে পরিকল্পিত ও শৈল্পিক গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি রক্ষা করবে।আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ৪ আগস্ট যখন অনেক হাসপাতাল আহতদের নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে ট্রিটমেন্ট ও হলি হেলথ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করান। এ ছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। শহিদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৫ মাস ১৫ দিন আগে
কুমিল্লার ডিসি হতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ৮ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের একটি গোপন চুক্তি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল। এমন অভিযোগে এই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।গত ১৩ মে নোটিশটি জারি করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে। ১৬ মে শনিবার রাতে ফাঁস হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশটি। নোটিশে বলা হয়েছে, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের উদ্দেশ্যে এস এম সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ৮ কোটি টাকার একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়ে তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবের কাছে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে গিয়ে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস এম সরওয়ার কামাল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার স্যারের সঙ্গে এভাবে কি চুক্তি করা যায়? কেউ হয়তো স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অভিযোগ করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ ধরনের চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না। এটা আবার হয় নাকি। উল্লেখ্য, এস এম সরওয়ার কামাল জনপ্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে প্রেষণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে পদায়ন করা হয়। জেলা প্রশাসক পদের কর্মকর্তারাও একই পদমর্যাদার।
৫ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি সড়কের মধ্যে ব্যস্ততম একটি সড়ক বহদ্দারহাট-আরাকান সড়কটি। এটি ওয়াপদা কলোনি সড়ক নামেও পরিচিত। কিন্তু সড়কের দু‘পাশজুড়ে প্রতিনিয়ত দাড়িয়ে থাকে সারি সারি মাইক্রোবাস আর কার। দেখে বোঝার উপায় নেই-এটি সড়ক, নাকি কার-মাইক্রো স্টেশন। বছরের পর বছর ধরে চলা কার-মাইক্রোর অবৈধ দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে পুরো সড়কটি। স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে অফিস ফেরত মানুষ-প্রতিদিনই দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এই সড়কে। চান্দগাঁও থানার ফরিদেরপাড়া, শমসের পাড়া, খতিবের হাট ও খতিবপাড়া এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে সড়ক ধরে এগোলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়। বিপরীত পাশে ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর বোর্ড কার্যালয় লাগোয়া ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। সেই সড়কটিতে গত ২০ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে কার-মাইক্রোর স্টেশন হিসেবে। বহদ্দারহাট কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন’ এই স্টেশন গড়ে তোলেন। সংগঠনটির নামে এখান থেকে প্রতিদিন তোলা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। চাঁদার ভাগ যায় চান্দগাঁও থানা ও ট্রাফিক পুলিশের কাছে। যার বিনিময়ে নির্বিঘ্নে এই সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কার-মাইক্রো স্টেশন।শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রবেশমুখেই ২০-২৫ জনের জটলা। কেউ আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ ভাড়ার জন্য হাঁকডাক করছেন, কেউবা যাত্রী নিয়ে তর্কে ব্যস্ত। প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পশ্চিমপাশজুড়ে সারি করে দাঁড়িয়ে আছে কার ও মাইক্রো। প্রবেশমুখ থেকে ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ সীমানা পর্যন্ত তখন দাঁড়িয়ে ছিল ৩৬টি কার-মাইক্রো।দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, একের পর এক গাড়ি ঢুকছে, আবার যাত্রী নিয়ে বেরিয়েও যাচ্ছে। একদিকে সড়কের অর্ধেক অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে বাকি অংশে অব্যাহত রয়েছে মাইক্রোবাস ও কার চলাচল। ফলে সাধারণ যাত্রীবাহী যান চলাচলের জায়গা প্রায় থাকছেই না। সড়কটিতে কোনো ফুটপাতও নেই। তাই শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের একপাশ ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে সড়কের একপাশ ভাঙাচোরা। কিন্তু ভালো অংশজুড়ে কার-মাইক্রো রাখায় বাধ্য হয়ে যানবাহন ও মানুষকে চলতে হচ্ছে ভাঙা অংশ দিয়ে।ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। শিশুরা জানায়, ‘রাস্তার একপাশে সবসময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ছোট রাস্তায় সারাক্ষণ গাড়ি চলাচল করায় সবসময় ভয়ে থাকতে হয় তাদের।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কে কার-মাইক্রো স্টেশন গত ১৮-২০ বছর ধরে। ফলে বহদ্দারহাট থেকে পুরো সড়কে যানজট লেগে থাকে সবসময়। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে বহদ্দারহাট মসজিদ সংলগ্ন ব্রিজ, খতিবের হাটের কালারপুলসহ তিনটি পুল ভেঙে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে বিকল্প হিসেবে এই সড়কের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে এই সড়কে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন,‘বহু বছর ধরে সড়কের অর্ধেক অংশ দখল করে স্টেশন বসানো হয়েছে। এতে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। আবার স্টেশনে থাকা কিছু চালক ও সহকারী রাস্তার ওপর আড্ডা দেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা যাওয়ার সময় মা ও পোশাক শ্রমিকদের যাতায়াতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে শিক্ষার্থী ও নারীরা চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।’ এ বিষয়ে বহুবার প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। কারণ পুলিশ তাদের কাছ থেকে চাঁদার ভাগ খায়। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয় কার-মাইক্রোগুলো। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালগুলোর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। চালকেরা বিশ্রাম ও আড্ডার জন্য প্রায়ই কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তখন সিগারেট, এমনকি গাঁজাও সেবন করে। এতে কার্যালয়ের কাজে যাতায়াতে বড় ধরণের সমস্যা তৈরী হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, এটা আমাদের ওপর একপ্রকার অত্যাচার। কিন্তু সড়কটি তো আমাদের অধীনে নয়, তাই আমরা চাইলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। আগে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।তবে নিজেদের বহুবছরের পুরনো নিবন্ধনভুক্ত সংগঠন উল্লেখ করে বহদ্দারহাট কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন,‘আমাদের সমিতির প্রায় ৫০০ সদস্যের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা। এলাকার কেউ কেউ হয়তো অভিযোগ করেন, কিন্তু বেশিরভাগই আমাদের পক্ষে। কারণ আমাদের কারণে সড়কটি রাতে সবসময় আলোকিত থাকছে, আমরা না থাকলে তো চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে কথা বলতে চান্দগাঁও থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও কোন সাড়া মেলেনি। কথা বলতে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টরকেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে স্টেশনটি উচ্ছেদ করা হবে।
৫ মাস ১৭ দিন আগে
হাম ও রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিমও কাজ শুরু করেছে।মঙ্গলবার দুপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নগরীর টাইগারপাস এলাকায় সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চিহ্নিত হটস্পটগুলো হলো : ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখানবাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এসব এলাকায় হাম-রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়। তাই বাড়তি নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে সভায়।স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের ১১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে সন্দেহভাজন ১ হাজার ২১৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখ ২৮৫ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ।চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর কাট্টলী এলাকায় টিকাদানের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হলেও দেওয়ানবাজার ও পাঁচলাইশ এলাকায় এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান দলের পাশাপাশি ৪১টি বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিম ও ১৪টি সান্ধ্যকালীন সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চার দিন ধরে এসব টিম কাজ করবে।সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্যাম্পেইনের বাকি দিনগুলোর মধ্যে টিকার টার্গেট পূর্ণ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। টার্গেট পূরণ হলেও টিকার বাইরে কোনো শিশু থাকলে তাকে টিকা দিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে সান্ধ্যকালীন টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখতে হবে। বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিং করতে হবে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন রানা সভায় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২০ এপৃল মাসব্যাপী টিকাদান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সিটি করপোরেশন। চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
৫ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস। এ ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। ফলে এ ভাইরাস নিয়ে চরম উদ্ব্নিগ্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা জানান, সিভাসুর শিক্ষক জুথি জাপানিজ এনসেফালাইটিস নামক এক মারাত্নক ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। জাপানিজ এনসেফালাইটিসের সকল উপসর্গ ছিল তাঁর। এর মধ্যে তাঁর মাল্টিপল স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। শুক্রবার (৮ মে) প্রেরিত শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও বিজ্ঞানীকে হারালো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।পারিবারিক ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসক সূত্র জানায়, গত ৪ মে সামান্য জ্বর অনুভব করেন ড. জুথি। সেই সঙ্গে ছিল প্রচন্ড মাথাব্যথা ও বমি। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ফ্লু মনে হলেও দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে ৫ মে তাঁকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে এইচডিইউতে রাখা হয় পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরমধ্যেই মেডিকেল বোর্ড বসে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা স¤পন্ন করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে এই ভাইরাস তাঁর মস্তিষ্কে মারাÍত্নক প্রভাব ফেলে। হাসপাতালে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টারমধ্যেই ওই শিক্ষকের মাল্টিপল স্ট্রোক হয়। সময়ও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকরা আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে যখন মেট্রোপলিটন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়, তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। পথিমধ্যে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং তাঁকে প্রায় ৫-৬ সাইকেল সিপিআর দিতে হয়েছিল।হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, রোগী যখন আমাদের ইউনিটে পৌঁছান, তখন তিনি ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড ছিলেন। আইসিইউ সাপোর্টে রাখার পরও তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক উপসর্গ ও ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন দেখে আমাদের সন্দেহ এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত করে। ড. জুথির ক্ষেত্রেও এই ভাইরাসের আক্রমণে ব্রেন স্ট্রোক হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রোগে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি এবং যারা বেঁচে থাকেন, তাদের অনেকেরই স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। জুথির মৃত্যুর খবরে সিভাসুসহ চট্টগ্রাামের সচেতন মহলের মাঝে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। সিভাসুর শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, জুথি ম্যাডাম কি চট্টগ্রামেই জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি দেশের বাইরে থেকে, সেটা এখনো কেউ নিশ্চিত নই। এ কারণে চট্টগ্রামে মশা দেখলে এখন ভয় জাগছে মনে। অথচ চট্টগ্রামে মশা এখন কিলবিল করছে। রাত-দিন সমানতালে মশার বামড়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের মানুষ। সূত্র জানায়, ড. জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক শেষ করে দেশে ফেরেন। এ বছরের শুরুতেই তিনি সিভাসুর প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি সিভাসুর ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব। তাদের ৫ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
৫ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা তামাশা। হাটগুলো ইজারা দেওয়ার চেয়ে খাস কালেকশনে আগ্রহী বেশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে নগরীর সবচেয়ে বড় দৃুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন শুরু করেছে চসিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে চট্টগ্রামে। যার তিনটি ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি তিনটি চাপা পড়েছে চসিকের নানা কারসাজিতে। টেন্ডার আহ্বান করা পশুর হাট তিনটিও শেষ পর্যন্ত ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ নগরীর হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। ইজারাদাররা অভিযোগ করছেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগসহ এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা কারসাজির সাথে জড়িত। যার মাধ্যমে তারা পশুর হাটগুলো থেকে হাসিল আদায়ের টাকা লোপাটসহ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব হরণের সুযোগ পাচ্ছে।আগে নগরীর এই তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা থেকে চসিক প্রতি বছর অন্তত ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ক্রমেই ইজারার চেয়ে খাস কালেকশনে নেমেছে চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে লুটপাট। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। আর সাগরিকা পশুর হাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন করেছিল চসিক। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস কালেকশনে এই পশুরহাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি টাকারও কম। এরপরও সাগরিকা পশুর হাটের সাথে এবার বিবিরহাট ও পোস্তার পাড় পশুর হাট থেকেও খাস কালেকশনে শুরু করেছে চসিক। সূত্র আরও জানায়, ইজারা না দিলেও খাস কালেকশনে পছন্দের ইজারাদার নিয়োগ দেয় চসিক। এই ইজারাদার মিলেমিশে পশুর হাট থেকে আদায় করা রাজস্ব নানা কারসাজি করে লুটপাট করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইজারাদার, চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ায় নগরীর স্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে চসিক। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় স্থায়ী তিনটি ছাড়া এবার অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এক্ষেত্রে টেন্ডারগুলো কোথায় বা কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তারও কোন হদিস মিলছে না। এ সুবাধে তিনটি পশুর হাটও ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের দিকে চুক্তিতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদনের বাইরেও আরও ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসে। সেখান থেকে কোটি কোাটি টাকা হাসিল আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা হয় কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। অননুমোদিত অবৈধ পশুর হাটগুলো হচ্ছে- বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর হাট, কর্নেল হাট, ফইল্যাতলি বাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট), দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট), বকশির হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, কমল মহাজন হাট, নয়াহাট এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার। অনুমোদিত পশুর হাটগুলো হলো নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এসব পশুর হাটের অনুমোদন দেয়। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য গত বৃহ¯পতিবার (৩০ এপৃল) বিশেষ শর্তে এই ছয়টি পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত স¤পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।আর শর্তগুলো হচ্ছে- প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পশুর হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যা¤প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপৃল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
৫ মাস ২৫ দিন আগে
আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
৫ মাস ২৬ দিন আগে
