দুর্নীতির লাগাম টানতে দুই দশক আগে গঠিত হয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত দূর্নীতি দমন কমিশন-দূদক। সেই থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পেলে অভিযোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণসহ দেওয়া হয় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র। অভিযোগের সত্যতা পেলে করা হচ্ছে মামলাও। এমন আটঘাট বেঁধেই শুরু হয় বিচার। কিন্তু দিন শেষে টিকছে না অর্ধেক মামলা। নির্দোষ প্রমাণে খালাস পাচ্ছেন আসামিরা। না হয় দায় মুক্তি। কালের গর্ভে এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গত ৫ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া এমন মামলাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে এ চিত্র। এখন প্রশ্ন— অনিয়মের অভিযোগগুলোই কি মিথ্যা ছিল? আবার মিথ্যা হলে দফায় দাফায় তদন্তে প্রমাণ মিলল কীভাবে? এর উত্তর দুদকের প্রসিকিউটরদের মুখে। তাদের একজন প্রশ্নের শুরুতেই বললেন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রসিকিউটর বলেন, বেশির ভাগ মামলা রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে গতি হারাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা হওয়ার আগেই দুদক থেকে পাচ্ছে দায় মুক্তি। এসবের পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রভাব। এছাড়া পদ্ধতিগত কারণেও অনেক সময় মামলার বিচারে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সদিচ্ছার অভাব থাকে। পক্ষান্তরে সরকার দলীয় না হওয়ায় অনেক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রসিকিউটর আরও বলেন, দুদকের প্রসিকিউটর নিয়োগেও মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রধান্য পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মামলার প্রতি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি কাজ করে। এছাড়া সরকার বদলের সঙ্গে মামলার গতিও বদলে যায়। আবার প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণেও মামলায় সাজা না হওয়ার ঘটনা ঘটছে। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়ে মামলা করে। কিন্তু ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষী একমাত্র মানদণ্ড। যদি সাক্ষী ঠিকভাবে উপস্থাপন করা না হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। দুর্নীতির অনেক মামলা নিষ্পত্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এত দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। কেউ চাকরি থেকে অবসরে চলে যান। আবার কোনো বিচার চলাকালে মারা যান অথবা মামলার বিষয়বস্তু ভুলে যান। সেক্ষেত্রে যথাযথ সাক্ষী বা ডকুমেন্টস উপস্থাপন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতায় আসামিরা পার পেয়ে যান। তবে দায়িত্বরত প্রসিকিউটররা মামলার অভিযোগ প্রমাণে কোনো গাফিলতি রাখেন না।দুদকের প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান বা মামলার পর তদন্তে তাদের কোনো গাফিলতি থাকে না। তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করে থাকেন। সেক্ষেত্রে মামলার সাজা বা খালাসের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, বিচারে আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে না। অনেক মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব মামলার কার্যক্রম ফের চালু হলে অনেক ডকুমেন্টস পাওয়া যায় না। যার কাছে ডকুমেন্টস জিম্মা ছিল, তার হদিস মেলে না। মূলত ডকুমেন্টসের অভাবে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে ও কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে বিচারের পর্যায়ে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। সাক্ষীকে জেরা করলে তখন সত্য বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় যারা দোষী না, তাদের আসামি করা হয়। অথচ যারা প্রকৃত দোষী, তারা বাইরে থেকে যান। যে কারণে বিচার শেষে আসামিরা খালাস পেয়ে যান।সাজার হার নিম্নমুখীসূত্র জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৫ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫টি মামলা। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়েই বাতিল হয়েছে ১৩৫টি। আর রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৪৮ মামলার সব বিবাদী খালাস। আর ৭৯২টিতে সাজা হয়েছে আসামিদের। ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ৬১ শতাংশ সাজার হার ছিল। ২০২৩ সালে এই সাজা কমে ৫৭ শতাংশ হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সাল ও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সাজার হার ৫০ শতাংশে নেমেছে। সাজার হার কমার সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তির হারও নিম্নমুখী। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে ৩৪১টি এবং ২০২৪ সালে ২৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। তবে ২০২৫ সালে বিচার শেষ হয়েছে সবচেয়ে কম ২৬৭ মামলার।কমিশনের মামলার পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চলমান রয়েছে দুর্নীতির ২৭৯৩টি মামলা। তবে ২৯২টির কার্যক্রম স্থগিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়ে শেষ হয়েছে ১০টি। সাজার রায়ে নিষ্পত্তি ১১৪ এবং খালাস ১০২টিতে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে।অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৭টি মামলায় নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি মামলায় সাজা এবং ১১৮টি মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪টি মামলা চার্জশিটেই বাতিল হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। একইভাবে ২০২২ সালে ৬১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫৭ ও ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছে বিবাদীদের।কেস স্টাডিতে যে বার্তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর খালাস পান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ১৭ বছর পর জানা যায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।অবৈধ সম্পদ অর্জনে অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালাস দেন আদালত। ১০ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৫ মার্চ খালাস পান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। ১৮ বছর পর তার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২২ জুন খালাস পান বিএনপির সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ১৮ বছর পর রায়ে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৩ জুলাই খালাস পান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ১১ বছর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৯ সালে করা মামলায় গত বছরের ৫ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে খালাস দেন আদালত। ১৬ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান।আবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১০টি মামলা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে এসব মামলায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কয়েকটি মামলায় তাকে অভিযুক্তও করা হয়। তবে কোনো মামলায় তার বিচার হয়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এতে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসব মামলায় দায়মুক্ত হন শেখ হাসিনা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মামলা হচ্ছে।২০০৭ সালের ১৩ জুন সূত্রাপুর থানায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ২৯ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে তাকে জরিমানাও করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মায়া। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।চারটি কারণে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, মামলা করার মতো জ্ঞানের অভাব, তদন্তে পারদর্শিতার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার কারণে খালাস পেয়ে যান আসামিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজ্ঞদের অভিমতআদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং কর ফাঁকি ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দুদক। এসব মামলার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দুদকে যারা প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্ত করেন, এসব ব্যাপারে তাদের আইনি জ্ঞান খুবই অল্প। তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কিন্তু আইনজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, দুদকের তদন্তে কোন ফাঁফোকর নেই। সংস্থাটি আঁটঘাট বেধেই মামলা দায়ের করে। বরং উল্টো দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ না হলে দেশে কোনভাবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরদুর্নীতিবাজ যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও তিনি বলেন।দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ-নদী পুনরুদ্ধার ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। গত ১৩ মে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।আর এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিডি হিসেবে নিয়োগ পেলেন বাপাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বগুড়ার সন্তান হাসান মাহমুদ। গত ২৭ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশ অনুযায়ী তিনি পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন।আর এই নিয়োগের পরই উঠেছে প্রশ্ন। কারণ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী পিডি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রেডের কর্মকর্তা না হয়েও তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কীভাবে? অথচ এই দায়িত্ব পাওয়ার মতো বাপাউবোতে আরো ৬১ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী রয়েছেন। যাদের ডিঙিয়ে হাসান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে বগুড়া ও ভোলা বাপাউবোতে দায়িত্বপালনকালে কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ফ্যাসীবাদের দোসর হিসেবে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাপাউবো শাখার ২০২২-২৪ টার্মের ৩৪ জনের কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবেও কমিটিতে ছিলেন।আর এত অভিযোগের পরও পানি স¤পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে দূর্নীতির বরপূত্র এই হাসান মাহমুদকে পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হয়েছে। যা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বাপাউবোজুড়ে।বাপাউবোর প্রকৌশলীদের একটি অংশের অভিযোগ, হাসান মাহমুদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৬১ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে হামান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে। বাপাউবোর জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ৬২ বলা হয়েছে। যদি সত্যিই ৬১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল-এ প্রশ্নের উত্তর পানি স¤পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছ থেকেই আসা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।পিডি নিয়োগে নিয়মে যা আছেবাপাউবো সূত্র জানায়, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় প্রকল্প পরিচালকের পদটি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ হাসান মাহমুদ বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যেটি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। বাপাউবোর সিভিল ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬২ এবং তাঁর আগে ৬১ জন কর্মকর্তা থাকার দাবি করা হয়েছে।এখানেই মূল প্রশ্ন। যদি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে পিডির পদ নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে কোন বিধান ও প্রশাসনিক যুক্তিতে ওই দায়িত্ব দেওয়া হলো? বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, জনবল কাঠামো, সংশ্লিষ্ট নোটশিট এবং নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা দরকার।হাসান মাহমুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিরিতির নেপথ্যে কী?হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে এমন দাবি রয়েছে। ২৭ আগস্ট পানি স¤পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে আদেশটি জারি হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন তাতে স্বাক্ষর করেন।এরপর থেকে হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগের নেপথ্যে কারা রয়েছে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে বাপাউবোজুড়ে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে উত্তর অঞ্চলের কোনো এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় সাবেক ছাত্রলীগের নেতা প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে।আরেকটি সুত্র জানায়, পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছুদিন পুর্বে পেশনে যোগদানকারী অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. এনামুল, পানি স¤পদ সচিব মো. শাহাবুদ্দিন এবং বাপাউবোর ডিজি মো. রুহুল আমিন আওয়ামী ফ্যাসীবাদের দোসরের পক্ষে কাজ করেছেন। হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগে তাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে।আবার হাসান মাহমুদের বাড়ি বগুড়ায়, এ কারণে পিডি নিয়োগ বিভিন্নভাবে স্বজনপ্রীতির গুঞ্জনও উঠেছে। নয়তো মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সমালোচনা নিয়ে দপ্তরের প্রতিটি টেবিলে কানাঘুঁষা চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।তবে পিডি নিয়োগে হাসান মাহমুদের নাম কে প্রস্তাব করেছেন? কোন দপ্তর সুপারিশ করেছিল? কোন নোটশিটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কার অনুমোদনে তাঁকে চতুর্থ গ্রেড থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলো? এই চারটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ পেলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগসূত্র জানায়, হাসান মাহমুদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ওই সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে (আরএফকিউ, ডিপিএমসহ) বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। পারিশা ট্রেড সিস্টেম নতুন লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুলসংখ্যক কাজ দিয়ে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।এছাড়া ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, চরফ্যাশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময় তৎকালীন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং কমিশন বাণিজ্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আছে।হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে ফাইল ধামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ উঠে। প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বসিলায় অবস্থিত মধু সিটিতেও হাসান মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।এ অবস্থায় হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। প্রকল্পটি ৩৪ হাজার ৪৯৭.২৫ কোটি টাকা এবং এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের অফিস আদেশে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামনে রয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার। এই অবস্থায় পিডি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না রেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুসন্ধানে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ফ্যাসীবাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় চাকরিতে নিয়োগহাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং স¤পন্ন করে ২০০৭ সালে বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে তাঁর নিয়োগ পরীক্ষায় অবস্থান, কোটায় নিয়োগের দাবি কিংবা ৬৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৫০-এর পরে ছিল বলে অভিযোগ উঠে।বাপাউবোর ২০০৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা, কোটা-সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র প্রকাশ করা হলে চাকরিতে নিয়োগের অনিয়মও বেরিয়ে আসবে। ফ্যাসীবাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে পাউবোর চাকরিতে তার নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।চাকরিতে যোগদানের আগে হাসান মাহমুদ চুয়েট ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। যোযগদানের পর বাপাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২০২২-২৪ মেয়াদের কমিটিতে হাসান মাহমুদের নাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই কমিটির তালিকায় তাঁর অবস্থান ৩০ নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের মুঠোফোনে একাািধকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস দিলেও তিনি সাড়া মেলেনি।এমনকি বাপাউবোর মহাপরিচালক (ডিজি) মো. রুহুল আমিনও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁদের কারো বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
৮ দিন আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
৯ দিন আগে
সম্পদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্নসাতের মামলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কথিত ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবা এবং শ্যালক মহিউদ্দিন ওরফে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি রাঙ্গুনিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলও।সূত্র মতে, সম্পদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির মৃত ওয়াহেদ আলীর পূত্র মোহাম্মদ জানে আলম (৫৫)।মামলাটির সি.আর মামলা নং- ৮৪৯/২০২৫ ইং (রাঙ্গুনিয়া) মূলে গ্রহণ করেন আদালত। ঘটনা তদন্তের পর আদালত মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত ইঞ্জিনিয়ার (লোহার রডের দোকানদার) শামসুল আলম তালুকদার ও তার সহধর্মিণী উম্মে হাবিবাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।মামলার আরেক আসামি হলেন ১নং রাজানগর হাজী রহম আলী তালুকদার বাড়ীর মৃত আবুল হাসেম তালুকদারের পূত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তালুকদার প্রকাশ মোহন (৩৯)। তিনি কথিত ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের শ্যালক। তাদের সবাই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।মামলার এজাহারে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ক্ষমতাবলে ওয়ারিশান সনদ জাল করে মামলার বাদির বিপুল পরিমাণ জমির অবৈধ মালিক ও জবর দখল করে ভোগ করেন।এতে আপত্তি ও বাধা দিলে বাদিকে মারধর ও হামলা করে প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায় ছিলেন বলে জানান মামলার বাদি জানে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যান লোহার রডের দোকানের ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম। সেখানেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় আসামি হন তিনি।পরে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলে পুনরায় রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে গা-ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি রাজানগর ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিরাপদে আছেন। ওই বিএনপি নেতার লবিংয়ের কারণে পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করছে না।জানে আলম আরও বলেন, মামলা তুলে নিতে বিএনপির প্রভাবশালী ওই নেতার বাড়িতে গত কয়েক মাস আগে আসামি ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদারের সাথে আমার বৈঠক হয়। কিন্তু জমি ফেরত দিতে রাজী না হওয়ায় কোন সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার বলেছে, তিনি অবৈধ মালিক হওয়া জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা।প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলাসহ একাধিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে অন্যতম প্রধান আসামি। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মাদ্রাসার অনুদান এবং এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ (যেমন- ইস্টার্ন কেমিক্যালস সংক্রান্ত টেন্ডার) এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগে তার নাম বিভিন্ন মামলার নথিতে উঠে এসেছে। শামসুল আলমের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-ঠিকাদারি ব্যবসা থাকলেও গোপনে ছিল মাদকের ব্যবসা।
১৪ দিন আগে
রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেত্রী পরিচয়ে টানা লুটপাটে লুৎফা’ শিরোনামে সম্প্রতি দৈনিক ঈশান ও কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সিপিও দপ্তরের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা লুৎফা বেগম। তিনি সংবাদটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। এমনকি হীন উদ্দেশ্যে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, রেলওয়েতে চাকরির পর থেকে কোন কাজে ঘুষ নেওয়া তো দূরের কথা কারও কাছ থেকে এক কাপ চা খেয়েছি তার প্রমাণ নেই। এমন কথা কেউ বলতেও পারবেন না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মচারীর সাথে কথা বলে তার সত্যতা জানার চ্যালেঞ্জও করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার স্বামী উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। দুই মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত। আমার আত্নীয় স্বজনরাও দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত। আমরা অত্যন্ত উচু বংশের উত্তরাধিকারী। এ অবস্থায় কোন রকম অনিয়ম-দূর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারে না।প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেভাবে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মানহানিকর। এ সংবাদের কারণে চাকরিস্থলসহ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে আমার সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। যা জাতীর বিবেক খ্যাত সাংবাদিকদের কাছে কোনোমতেই কাম্য নয়। আমি এ সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আশা করব ভবিষ্যতে প্রকৃত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ছাড়া এ ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট ও হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকগণ বিরত থাকবেন। অন্যথায় আমি আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হব।
১৭ দিন আগে
রেলওয়ের কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসার (সিপিও) লুৎফা বেগম। এই দপ্তরে টানা ২৩ বছর বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। এ সুবাধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বাড়ি আর গাড়িতে বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন নানা আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে।রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সিপিও (পূর্ব) দপ্তরে যোগ দেন লুৎফা বেগম। এরপর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বদলি ছাড়াই তিনি একই দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই অবস্থানে রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার আধিপত্যর কাছে সবাই হার মানে। এমনকি রেলওয়ে মহাপরিচালক দপ্তরের বিশেষ সহায়তায় তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদও ভাগিয়ে নেন। আর স্বপদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়েতে স্বল্প বেতনের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লুৎফা বেগমের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি। চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকার কৃষ্ণচূড়া অ্যাপার্টমেন্টে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। নগরীর নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। গ্রামেও তিনি ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লুৎফা বেগম নিয়মিত নিজস্ব গাড়ি ও চালক নিয়ে অফিসে আসেন। রেলওয়ের অনেক কর্মকর্তা আছেন অনেকে রিক্সা নিয়ে এসে অফিস করেন। কিন্তু একজন কর্মচারী কিভাবে বিলাসী জীবন যাপন করে সে প্রশ্ন রেল অঙ্গনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ক্ষমতা আর আয়ের উৎস কি? কিভাবে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন তার সবকিছু বেড়িয়ে আসবে যদি দুদক অনুসন্ধান করে।রেল কর্মকর্তাদের মতে, রেলওয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ এত বছর কোনো কর্মচারী বদলি ছাড়াই একই দপ্তর আঁকড়ে রেখেছেন। এবং একজন কর্মচারী হিসেবে তার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে যায় না। এছাড়া, দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে থাকার কারণে লুৎফা বেগম একটি শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন হয়রানির মতো অনিয়মগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এই দপ্তরে।রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নীরবতার কারণে লুৎফা বেগমদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাদের চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। এটা চাকরিবিধির চরম পরিপন্থী। এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।জানা গেছে, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এ নেত্রীর সঙ্গে সিআরবি জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং রেলওয়ের অঘোষিত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমন দাবী রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের। তাদের দাবী, লুৎফা গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।সিপিও (পূর্ব) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, লুৎফা বেগমের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দাপট দেখানো, চিৎকার-চেঁচামেচি, শাসানো-এসব তার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল অফিসে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, বর্তমানে পুরো অফিসে বদলি বাণিজ্য, পেনশন বাণিজ্য, সাসপেন্ড ফাইল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সম্পর্কিত ফাইল ও টিএলআর নিয়োগ, সবকিছুতেই তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তারা লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লুৎফাকে দু‘বার শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে সেই নোটিশ বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও উল্টো তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই কর্মচারী বছরের পর বছর অফিসে আসা-যাওয়া করেন দামি গাড়িতে করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুৎফা বেগম যে গাড়িতে চড়ে রেলওয়ে যাওয়া-আসা করেন সেটা টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩ হাজার ১৫৩ সিসির ল্যান্ডক্রুজার ডাবল কেবিনের একটি পিকআপ। বিআরটিএ’র ডেটাবেইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪ এই নম্বরে ঢাকা বিআরটিএ কর্তৃক ২০০১ সালে ২৯ মার্চ গাড়িটি নিবন্ধিত হয়। গাড়িটির মালিক ঢাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঢাকা রমনায় সড়ক ভবনের ঠিকানার কার্যালয়ে এটা নিবন্ধিত রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফা বেগম বলেন, আমি জানি কে এসব পাঠিয়েছে, আমি দুইটা লোককে টার্গেট করছি। কারণ একজনের পদোন্নতি হবে, সে চাচ্ছে এখান থেকে কোনো ক্রমেই আমাকে সরাইতে। কোনো অশুভ শক্তিই আমাকে সরানো সম্ভব না ভাই, আল্লাহর অলৌকিক শক্তি ছাড়া। আমি কি কাজ করি না করি আমার প্রশাসন আমাকে খুব ভালো জানে। আমিতো আর হেহেহে করে লম্বর লম্বর করে হাঁটি না।
১৮ দিন আগে
বদলির শেষ মুহুর্তেও ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) ও রাঙ্গুনিয়া পৌর প্রশাসক দেবব্রত দাশ। তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। তার এই অপকর্মের সহযোগী ছিলেন রাঙ্গুনিয়া ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাস বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। দূর্নীতির অর্থে চট্টগ্রাম শহরে তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন।এমন অভিযোগ তুলেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যার নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির শিকার ভুক্তভোগী জনগণ। যারা ভুমিসংক্রান্ত কাজের ভয়ে এতদিন মুখ খোলার সাহস করেনি। বদলি হয়ে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ ভুমি অফিসে যোগদানের পর ভুক্তভোগীরা ক্রমেই মুখ খোলতে শুরু করেছেন।ভুক্তভোগীরা জানান, এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসে যোগদানের পর থেকে ভুমি সমস্যা নিরসনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ভুমির নামজারিসহ বিভিন্ন ভুমি সেবার কাজ তিনি লাখ টাকা ছাড়া করতেন না। যার কাছ থেকে টাকা পেতেন তার পক্ষে কাজ করতেন। এক্ষেত্রে একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি করে দিয়ে পারবারিক ও সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। তার এ কাজে সহযোগীতায় ছিলেন ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা।যার থেকে ভুমি সংক্রান্ত খতিয়ান ও নকল সংগ্রহে ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন। টাকা না পেলে কোন রকম কাজ করতেন না সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। নামজারির ক্ষেত্রে বিগত সময়ে তিনি এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশের ক্যাশিয়ার হিসেবে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করতেন। বলতেন চুক্তি ছাড়া নামজারি ফাইলে স্যার স্বাক্ষর করে না। এমন একটি অডিও রেকর্ড বর্তমানে দৈনিক ঈশান অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে।এভাবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভুমি মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ ও অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। শুধু তাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের নামে অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন কলাকৌশলেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন এই অসাধু চক্র। হাতিয়েছেন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাও। সরকারি বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন থেকেও হাতিয়েছেন বিপুল অর্থ। সম্প্রতি বদলি হওয়ার শেষ মুহুর্তেও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পুরাতন ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত ১৫ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি।সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা, পদুয়া, শিলক, রানির হাট ও টিসির হাট ভুমি অফিসের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের নামে ৩ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। কিন্তু সেই কাজের কোনটিরই কোন কাজ হয়নি। এমনকি বরাদ্দের অর্থ বা চিঠি কোনটাই পাননি ভবনগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, এই ৫ ইউনিয়ন ভুমি অফিস ভবনের মধ্যে শিলক ইউনিয়ন ভুমি অফিস ছাড়া সবগুলো ভবনই নতুন। যেখানে সংস্কারের কিছুই নেই। এর সত্যতাও উঠে এসেছে ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরতদের কথায়। এর মধ্যে জানতে চাইলে পোমরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার ইমরান রাজীব বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তাছাড়া আমাদের ভবন একদম নতুন। মাত্র এক মাস আগে এই নতুন ভবনে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখানে তো সংস্কারের কিছুই নেই। এ বিষয়ে এসি ল্যান্ডের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।একই কথা বলেছেন রানীর হাট ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার মোজাহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভবন সংস্কারের কোন বরাদ্দ আমরা পায়নি। এ সংক্রান্ত কোন চিঠিও আমাদের কাছে আসেনি। তাছাড়া আমাদের ভবন নতুন। মাত্র কয়েকবছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে তো সংস্কারের কিছু নেই।একই কথা বলেছেন পদুয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও টিসির হাট ভুমি অফিসে কর্মরতরাও। একটু ভিন্ন কথা জানিয়েছেন শিলক ভুমি অফিসের তহশীলদার গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দের বিষয়ে আমি জেনেছি। বদলি হওয়ার শেষ মুহুর্তে আমি এসি ল্যান্ড স্যার দেবব্রত দাশের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি।তিনি আমাকে বলেছিলেন, ভবন সংস্কারের বরাদ্দের ওই টাকা আমাকে দেয়া হবে। কিন্তু তিনি বদলি হলেও এখনও টাকা বরাদ্দ পায়নি। পাব আশা করছি। তবে স্যার বদলি হওয়ার আগে আমার অফিসে একটি আইপিএস কিনে দিয়ে গেছেন। যার মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। সম্ভবত বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা থেকে এই টাকা দিয়েছেন স্যার।ভুমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই টাকা উপজেলার ৫টি ভুমি অফিস ভবনের সংস্কারের নামে দেখিয়ে কোন কাজ ছাড়াই হাতিয়ে নিয়ে গেছেন এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। এই টাকা উত্তোলনে অফিসিয়াল কাগজপত্র কারসাজিতে সহযোগীতা করেছেন ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা। ফাইলের কাগজপত্রে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। সহযোগীতার জন্য তিনি ভাগও পেয়েছেন। এভাবে দূর্নীতির টাকায় সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যা চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন বলে জানান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও নিয়োগ পান এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশ। এ সুযোগ পেয়ে সেখানেও ভুমি অফিসের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়েছেন তিনি। পৌরসভায় তার সহযোগী ছিলেন সচিব আল হেলাল, প্রকৌশলী জমির উদ্দিন ও হিসাব রক্ষক মো. এরশাদ।সূত্র মতে, বদলি হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে সৈয়দবাড়ি পৌর এলাকায় কথিত বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে যাতায়াতের সড়ক নির্মানের জন্য ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন। আর ওই কাজ হাতে পান পৌরসভা বিএনপির এক নেতা। যার সহযোগীতায় মাত্র দেড় লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করে পুরো টাকা আত্নসাৎ করে ভাগবাটোয়ারা করেন এই চক্র। এভাবে রাঙ্গুনিয়াকে তিনি দূর্নীতির তীর্থস্থানে পরিণত করেন। যা এর আগে কোন এসি ল্যান্ড করেননি।এ বিষয়ে জানতে এসি ল্যান্ড দেবব্রত দাশের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। রাঙ্গৃুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের অফিস সহকারী সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যাও প্রথমে কিছুই জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে এসি ল্যান্ড স্যারের সাথে কথা বলে বিষয়টি আপনাকে জানাচ্ছি। এ কথা বলে তিনি ফোন সংযোগ কেটে দেন। এরপর তিনি আর কিছুই জানাননি।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ভুমি অফিসে সদ্য যোগদান করা এসি ল্যান্ড খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যোগদান করেছি সবে মাত্র। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। যেসব ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভবন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা বলছেন সেসব ভুমি অফিস ভিজিট করে এবং কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।(বি: দ্র: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে দৈনিক ঈশান। দ্বিতীয় পর্বে সুভাষ বসু তঞ্চাঙ্গ্যার অপকর্ম নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন আসছে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে।)
২৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শাহীন সুলতানা নামে এক শিক্ষিকা নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে অভিযোগ উঠেছে সৈয়দা নিলুফা আক্তার নামে আরেক শিক্ষিকার চাকুরি স্থায়ীকরণ নিয়ে। সেই সাথে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য আসছে সামনে। সিডিএর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনও ফেল। আর এ নিয়ে এলাকা জুড়ে তোলপাড় চলছে অভিবাবক ও সচেতন মহলের মাঝে। তাদের প্রত্যাশা দুদকের মাধ্যমে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। অভিবাবক ও সচেতন মহলের দাবি, আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগকালীন সময়ে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি এবং ঘঞজঈঅ নিবন্ধনধারী একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সকল নিয়ম তোয়াক্কা না করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে B.Pharm I M.Pharm ডিগ্রিধারী শাহীন সুলতানাকে। যাঁকে সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মাত্র ৬ মাসের কম্পিউটার কোর্স থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এ পদে আসীন করার নেপথ্যে স্বজনপ্রীতি কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ তিনি ছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিবের আপন ভাগিনী।প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশাসনিক অসংগতি। নিজ বিষয় বাদ দিয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে রুটিনে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে মূল আইসিটি বিষয়টিতে শিক্ষকতা করতেন অন্য বিষয়ের অনভিজ্ঞ শিক্ষকরা, আর শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হতো নিয়মিত ল্যাব প্র্যাকটিস থেকে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসন যোগ্যতা অনুযায়ী রুটিন বণ্টন করলে শিক্ষক মিলনায়তনে শুরু হয় হট্টগোল। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুধু সহকর্মীদের সাথে অসদাচরণ ও শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টিই নয়; পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, রুটিন পরিবর্তন, ক্লাস পার্টির নাস্তার কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব অবহেলার মতো একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।এসব ধারাবাহিক অব্যবস্থার রেশ ধরে ২০১৯ সালের ৭ই মার্চ শিক্ষক মিলনায়তনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রতিষ্ঠানের ৩৪ জন শিক্ষক যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটির (তদন্তকালীন পদবি) আহ্বায়ক ছিলেন জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শাহ্ (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), সদস্য সচিব ছিলেন জনাব কে. বি. এম শাহজাহান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড) সদস্য ছিলেন জনাব ভূপতি ভূষণ ইমরান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড), জনাবা তাহেরা ফেরদৌস বেগম (তৎকালীন সচিব, সিডিএ) এস. এম. এরশাদ হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক-গণিত, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) সদস্য সচিব জনাব এ. এস. এম হাবিবুর রহমান (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২, সিডিএ)অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রবিধান ভঙ্গের দায়ে সিডিএ ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে চূড়ান্ত বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু রহস্যজনক ও প্রশাসনিকসহ নানা অজুহাতে সেই বরখাস্তের আদেশ আজও কার্যকর হয়নি। অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা এখনো পদে বহাল রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং এসব বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাহীন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়োগের সময় আমার কাছে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, আমি সবই জমা দিয়েছি। শিক্ষকদের অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার কথা আমার মনে নেই, আমি সবকিছু ভুলে গেছি। অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই এক সহকারী শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণের অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ এপৃল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত যে রেজুলেশন গৃহীত হয়, সেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের নাম ছিল না। অথচ একই বছরের ৪ আগস্ট তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলম স্বাক্ষরিত স্থায়ীকরণ পত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, উক্ত পদে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও রেজুলেশন ব্যতিরেকে কীভাবে এ স্থায়ীকরণ পত্র জারি করা হলো-তা নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেখানে নোটিশ বোর্ডে ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা দিয়ে আসা সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৭ জন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ নিয়ে দুদকের তদন্ত চলছে এবং একই কারণে সিডিএ গার্লস স্কুলের অন্তত সাতজন অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের স্থায়ীকরণ আটকে রয়েছে, সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই সৈয়দা নিলুফা আক্তারের স্থায়ী পদে বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সৈয়দা নিলুফা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমানে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছি। পরিচালনা কমিটি আমাকে উক্ত পদে স্থায়ী করেছেন। এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা দুটি ২০১৬ সালের হওয়ায় আমার পুরোটা স্পষ্ট মনে নেই। তবে রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর থাকতে পারে, আলাদা কোনো কাগজে স্বাক্ষর থাকার কথা নয়। আমি ঢাকা থেকে ফিরে কাগজপত্র দেখলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।
২৭ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহি ক্যারেজ বা বগি কেনা হয় চীন থেকে, যা খুবই নিম্নমানের। কিন্তু এই বগি কেনা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের এযাবৎ কালের সবচেয়ে উচ্চ দামে। নেপথ্যে লুট হয় ২০০ কোটি টাকা। যার মূলে রেলওয়ের বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন।যার সত্যতা উঠে এসেছে রেলওয়ের অডিট আপত্তিতেও। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযোগেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই কারসাজির মুলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জড়িত। তাঁকে সহায়তা করেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।এতে লাভবান হন প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন রেলওয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ ধরনের প্রকল্পের মালামাল কেনার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে খ্যাত আফজাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের বগি অতি উচ্চ দামে ক্রয় দেখিয়ে ২০০ কোটি আত্নসাৎ করেছেন। এর সত্যতার তথ্য মেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনের কথায়ও।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ সালে ১০০ বগি কেনা হয় চায়না থেকে। আবার ২০২৫ সালে ইন্ডিয়া থেকেও কেনা হয় ২০০ বগি। যার প্রথম চালানের ২০ বগি আসছে বাংলাদেশে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে চায়না থেকে কেনা বগির সাথে ইন্ডিয়ান বগির বিশাল দামের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইন্ডিয়ান বগির তুলনায় চায়না বগি অত্যন্ত নিম্নমানের।তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়া থেকে কেনা বগির তুলনায় চায়না থেকে কেনা বগি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বেশী দাম দিয়ে কেনা হয়েছে। অথচ চায়না থেকে কেনা বগির দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনা হয় অতি উচ্চ দামে। এতে সিন্ডিকেট লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২-২৩ সালে কেনা চায়না ১০০ বগির প্রতিটি যাত্রীবাহী বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) বগির দাম পরে- ৫৭,৮৩৮২ ইউএস ডলার। একই বগি ২০২৫ সালে ইন্টারিম সরকারের আমলে ইন্ডিয়া থেকে কেনা প্রতিটি বগির বিজি শোভন চেয়ার কার (ডব্লিউইসি) কেনা হয় ৩,১২০০০ ইউএস ডলার দামে। ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে ২৮.২৮১৫ ডলার বেশি দেয়া হয় চায়না বগিতে!! আবার ইন্ডিয়ান বগির চেয়ে চায়না বগি খুবই নিম্নমানের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, বগিগুলোর দাম যেমনি অতি উচ্চ, তেমনি গুণগত মানও বেশ খারাপ। অতি অল্প সময়ে বগিগুলোর চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা বলে যাত্রীসুবিধা হ্রাস করে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার না করে যাত্রীবাহী সচল ট্রেনের চাকা খুলে নিম্নমানের চায়না বগিতে ব্যবহার করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়েছে।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দুর্নীতি করার উদ্দেশ্যে বগি ক্রয়ে পৃথক প্রকল্প না নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যের আইটেমের মতো করে ১০০টি বগি কেনা হয়। এতে প্রাক্তন ডিজি আমজাদ হোসেন, ডি এন মজুমদারও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছেন।বর্তমান ডিজি আফজাল হোসেন প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে কৌশলে চায়না প্রতিষ্ঠানের সাথে পাতানো টেন্ডার করে এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ দামে নিম্নমানের চায়না কোচ কেনেন। বিপুল কারসাজির মাধ্যমে এগুলো কিনতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তৎকালীন ডিজির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন রোলিং স্টক বিভাগকে ব্যবহার করে।সেই সাথে পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওয়ামী সিন্ডিকেটের সব তথ্য অতি গোপনীয়তার সাথে রক্ষার লক্ষ্যে আফজাল হোসেনকে ডিজি পদে প্রমোশনের রাস্তাও তৈরি করে দেন তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। নেপথ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার তাঁকে সহায়তা করেন। ফলে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের দোসর রেলওয়ে ডিজি আফজাল হোসেনের ক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়ে যায়।আওয়ামী স্বার্থ সংরক্ষণকারী এ কর্মকর্তা (ডিজি) বর্তমানে তার অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বগি কেনার চুক্তিপত্রের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এত বড় দুূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা দুূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে জবাবদিহিতার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকেও তদন্ত হওয়া উচিত।রেলভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যাশা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তারা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরো বলেন, দুর্নীতি যেই করুক, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরী।এ সংক্রান্ত আরও : -ডিজি আফজালের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে!!রেল লুটছে রেল কর্মকর্তারাই,শীর্ষে ডিজি আফজাল হোসেন!রেলের সর্বনাশ হচ্ছে যেসব কারণে!
১ মাস আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
১ মাস ১ দিন আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আসামি হয়ে দায়িত্ব থেকে পলায়ন এর অভিযোগে পেলেন বিভাগীয় শাস্তি। এরপর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে করেছেন আবেদনও। সবকিছু ঠেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরেছেন প্রকৌশলী মো. তাকি আল যাওয়াদ। তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে ফের পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে তাকি আল যাওয়াদ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রেলের চায়না এসি কোচের জন্য কন্ডেন্সার মোটর কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা দূর্নীতির মামলার আসামি হন।দুদকের তদন্ত নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে ‘সাপ্লাই অব থ্রি পেইজ ৪০০ ভোল্ট কনডেন্সার মোটর ফর চায়না এসি কোচেচ' প্রকল্পে ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মালামাল কেনার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় মালামাল যথাযথভাবে সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে তাকি আল যাওয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় দুদক।দুদকের তদন্তে দরপত্র মূল্যায়ন, পণ্য সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রেও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়। সরবরাহকারীর ইনভয়েস, বিল অব লেডিং, ওয়ারেন্টি সার্টিফিকেট, ইন্সপেকশন সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেট অব অরিজিনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে তদন্ত সংস্থা। পরে এ ঘটনায় তাকি আল যাওয়াদসহ রেলের কর্মকর্তা ও অর্নব ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক চৌধুরী শরাফত করিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।দুদকের মামলার পর তাকি আল যাওয়াদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিদেশ যাওয়ার অভিযোগে পৃথক বিভাগীয় মামলাও হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের ২১ জুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব থেকে 'পলায়ন' এর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত 'পলায়ন' এবং 'পলায়নের দায়ে দোষী' হওয়ার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকি আল যাওয়াদের দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদন্ড দেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও বেতন-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এর আগে দুদকের দায়ের করা মামলার মুখে প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদ চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আবেদনে তাকি আল যাওয়াদ উল্লেখ করেন, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে ৩২তম বিসিএসের রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে 'সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী' হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিতে স্থায়ী হন। একান্ত পারিবারিক কারণে তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে ইচ্ছুক। এ জন্য ১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে তার ইস্তফা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রার্থনা করেন। নথিতে তাকি আল যাওয়াদের স্বাক্ষরও রয়েছে। তিনি তখন বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।এতকিছুর পরও রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট বদলি ও পদায়ন আদেশে তাকি আল যাওয়াদকে লালমনিরহাটের সাবেক বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী থেকে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম পদে বদলি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকি আল যাওয়াদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা। আমি কখনো চাকুরি থেকে ইস্তফা দেইনি। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ইচ্ছে করে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করছেন। আমি দেশের বাইরে থাকার কারণে একটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। সেটির তদন্তও শেষ হয়েছে। দুদকের দায়ের করা মামলায় যে আর্থিক অভিযোগ আনা হয়েছিল সেটিও শেষ হচ্ছে।চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও দেখা যায়, তৎকালীন লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম তাকি আল যাওয়াদের করা আবেদনে স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের বিভাগীয় প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে প্রেরণ করেন।বিষয়টি স্বীকারও করেছেন তৎকালীন লালমনিরহাটের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ও বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল) মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বিষয়টি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দিকের। আমার যতটুকু মনে আছে-তাকি আল যাওয়াদের ইস্তফার একটা আবেদন আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এ অবস্থায় প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদের চাকরিতে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রেলজুড়ে। তার বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতির মামলা চলমান, অন্যদিকে বিভাগীয় তদন্তে 'পলায়ন' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। চাকুরি থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন করা এই প্রকৌশলী পরবর্তীতে কিভাবে আবার দায়িত্বে ফিরেছের এখন সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ মাস ৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম লালদীঘির পাড়ে জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিএমপির কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের ঘটনায় গত ১০ আগস্ট কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে দু‘জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও বিভিন্ন নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেন।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘাটতির বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, ভল্টে টাকা সংরক্ষণের সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত।মামলার এজাহারে বলা হয়, সরিয়ে নেওয়া অর্থ জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ইশরাত এগ্রো নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।তবে জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, তার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ছেলের কাছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণ তাদের দেখানো হয়নি।আজিম উল্লাহর দাবি, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন বিভিন্ন সময়ে তার ছেলেকে লাভের ভিত্তিতে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ সেই টাকা নিয়ে নিতেন। গত ৯ আগস্ট দিনগত রাত ১টার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ব্যাংক থেকে কল করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি শাখায় আটক আছেন। পরে ১০ আগস্ট ভোরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আজিম উল্লার দাবি, কামরুল হোসেন আগে থেকেই তার ছেলেকে লাভে ব্যবসার জন্য টাকা দিত এবং নিত। এই সুযোগে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে স্ট্যা¤েপ স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায়ের বিষয়টি দেখলেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, ভল্ট পরিচালনার নিয়মকানুন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় কারও স¤পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১ মাস ৫ দিন আগে

কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
কাস্টমসের চাকরি যেন ‘আলাদিনের চেরাগ;। লোকমুখে প্রচলিত এই প্রবাদটির বাস্তব রূপ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। মাত্র ১২ বছর চাকরি করেই বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। নিজ গ্রামে গেড়েছেন রাজপ্রাসাদ। রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, চড়েন দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে এই কর্মকর্তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাটের ১৪তম ব্যাচের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এনবিআরের এক সাবেক ক্ষমতাধর শীর্ষ কর্মকর্তার সুপারিশে চাকরি পাওয়া আলতাফ, ওই কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়েই কাস্টমসে অদম্য শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন আলতাফ। তখনকার মহাপরিচালকের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত এই ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ক্যাডার অফিসারদেরও তোয়াক্কা করতেন না। ক্ষমতার দাপট আর ঘুষের টাকায় তার পা মাটিতে পড়ত না।নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একটি পদে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি পদায়নের সুযোগ না থাকলেও, আলতাফের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম খাটেনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, যার সবকিছুই তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানের নখদর্পণে ছিল বলে জানা যায়।ঢাকায় ফ্ল্যাট-প্লট থেকে গ্রামে ‘রাজপ্রাসাদ’!১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সরকারি স্কেল অনুযায়ী মাসিক সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮,৬৪০ টাকা। বিগত ১১-১২ বছরে তার মোট বৈধ বেতন হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ঢাকা শহরে এই বেতনে সাধারণ জীবনযাপন করাই কষ্টকর, সেখানে আলতাফ হোসেনের রয়েছে একাধিক আলিশান ফ্ল্যাট।অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আলতাফের স্থাবর সম্পদের তথ্য বলছে, ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। নির্মাণাধীন একটি ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় রয়েছে আরেকটি বড় ফ্ল্যাট। নিজ গ্রাম বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ফুলহাতায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। এলাকায় তিনি এখন ‘টাকার কুমির’ নামে পরিচিত। স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জমি, প্লট এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR)। কিশোরগঞ্জ, খুলনা ও শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর ঘুরে আলতাফের সর্বশেষ পদায়ন হয় দেশের প্রধান রাজস্ব প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। সেখানে যাওয়ার পর তার দুর্নীতির মাত্রা আরও তীব্র হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—চট্টগ্রাম কাস্টমসে আলতাফের টেবিলে ‘লাখ টাকা’ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় হয় না। নিয়মতান্ত্রিক অনুরোধ করলেও ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা তার নিত্যদিনের বিষয়।সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বর্তমান কমিশনার তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। তবে বদলি ঠেকাতে বর্তমানে এনবিআরের উচ্চমহলে জোর তদবির ও লাখ লাখ টাকা ছড়াচ্ছেন বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র!কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে এই কর্মকর্তার গোপন মিশন। সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে আলতাফ সিন্ডিকেট। বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির করতে এই সিন্ডিকেট প্রায় ‘কোটি টাকা’ বিনিয়োগ করেছে। আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থেকে আলতাফ হোসেনের নেতৃত্ব দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজও এখন গণমাধ্যমের হাতে। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি।এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ অভিমত, একজন সামান্য সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি।
১ মাস ১৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম ওয়াসার কাগজে কলমে ৮৬ কোটি টাকা হিসাবে আছে, কিন্তু ক্যাশে নেই। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অডিট আপত্তিতে। নতুন নয়, সাত বছর ধরে বার বার এমন চিত্র ঘুরে ফিরে আসছে অডিটে। কিন্তু প্রতিবারই নীরব থেকেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। বিপুল এই টাকা কোথায় আছে, কোথায় ব্যয় হয়েছে কিংবা আদৌ এর অস্তিত্ব আছে কি না— এর কোনো নথিপত্র নেই ওয়াসার কাছে। সাত বছরের অডিট প্রতিবেদন সংস্থাটির আর্থিক এই অনিয়মের চিত্র সামনে আসলেও ওয়াসার কর্মকর্তারাও কোন হদিস দিতে পারছেন না। বরং আর্থিক এই অনিয়মকে আড়াল করতে গায়েব করা হয়েছে নথিপত্র। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে বের করা উচিত বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ৮৬ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৩২৯ টাকার এই ইকুইটি দেখানো হলেও তা যাচাইয়ের মতো পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত সহায়ক নথি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। এমনকি এ বিষয়ে তাদের কোনো স্পষ্ট বক্তব্যও নেই।নিরীক্ষকদের ভাষ্য, ইকুইটি বলতে বোঝায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূলধন। অতীতে কোনো এক সময় কোনো একটি উৎস থেকে এই অর্থ ওয়াসার তহবিলে যুক্ত হয়েছিল বলে হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তা নগদ অর্থ হিসেবে ব্যাংকে জমা আছে, নাকি কোনো সম্পদ কেনায় খরচ হয়ে গেছে। তার কোনো হদিস মিলছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সর্বশেষ অডিট করে এমআরএইচ দে অ্যান্ড কোম্পানি। যাদের প্রতিবেদন জমা পড়ে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ৯ জুন। গত ২২ জুন ওয়াসার কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির সভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনটি গৃহীতও হয়। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের অডিটও করে প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে এর আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করে খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি। তাদের প্রতিবেদন দুটি জমা পড়ে যথাক্রমে ২০২১ সালের ২৪ জুন ও ২০২২ সালের ৬ জুলাই। এই দুই অর্থবছরের প্রতিবেদনেই নিরীক্ষকরা আর্থিক ওই গরমিলের তথ্য তুলে ধরেন। তাদের কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন বা শর্তযুক্ত মতামত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের মূল তহবিলের অন্তর্ভুক্ত ‘ইকুইটি’ খাতে ৮৬ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৩২৯ টাকা আর্থিক বিবরণীতে দেখিয়েছে। কিন্তু বিপুল টাকা জমার কোনো ব্যাংক রসিদ, চালান বা মূল নথি সরবরাহ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।অন্যদিকে ২০১৯-২০, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের নিরীক্ষা করে রহমান মোস্তফা আলম অ্যান্ড কোম্পানি। তাদের বার্ষিক চূড়ান্ত হিসাবে প্রতিবেদন জমা পড়ে ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ২৩ জুন। এই তিন বছরের অডিটেও একই অঙ্কের ইকুইটি দেখানো হয়, কিন্তু নিরীক্ষকদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোনো উপযুক্ত কাগজপত্র বা সোর্স ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে পারেনি ওয়াসা। প্রয়োজনীয় নথি না পাওয়ায় অডিট দল এই অর্থের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি।সাত বছর ধরে প্রতিটি অডিট প্রতিবেদনেই একই ধরনের গুরুতর আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। নিরীক্ষকরা বারবার ব্যাংক রসিদ বা সরকারি আদেশের মতো সোর্স ডকুমেন্ট চাইলেও তা সরবরাহে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের মতে, টাকার হিসাব যদি থাকে, তাহলে এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কোথায় ব্যয় হয়েছে তার নথি অবশ্যই থাকতে হবে। যদি না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে কোনো আর্থিক অনিয়ম আড়াল করতে এই নথি গায়েব করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ যদিও গত ৯ জুন সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে তিনি যে স্বাক্ষর করেছেন, সেখানে এই অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।আবার সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার স্বীকার করে বলেছেন, এই টাকা মূলধন তহবিলে দেখালেও এর সমর্থনে কোনো নথিপত্র নেই। এটি সরকার কোনো এক সময় মূলধন হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু নথিপত্র না থাকায় কোথায় খরচ হয়েছে, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। এই অডিট আপত্তি সমাধানের জন্য বিষয়টি বোর্ডসভায় তোলা হবে।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার এই আর্থিক অস্বচ্ছতা ও নথিপত্র গায়েবের ঘটনা শুধু অডিট আপত্তি নয়; বরং প্রচলিত একাধিক সরকারি আইন ও হিসাবমানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আর্থিক বিবরণীতে নথিপত্র না দেখিয়ে হিসাব প্রস্তুত করা ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫’ অনুযায়ী আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উপযুক্ত চালান বা সোর্স ডকুমেন্ট ছাড়া ক্যাপিটাল ফান্ডের কোটি কোটি টাকা দেখানো ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯’-এর বড় ব্যত্যয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মানদণ্ডের লঙ্ঘন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা। এ ছাড়া কাল্পনিক হিসাব দেখানো দণ্ডবিধির ৪৭৭-এ (হিসাব জালিয়াতি) ধারার আওতায় গুরুতর অপরাধ।
১ মাস ১৭ দিন আগে
আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আবারও মামলা করায় জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে এই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কো¤পানি একই বিষয়ে আগে হাইকোর্টে রিট করে আদেশ পেলেও, সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছিলেন। এরপরও তারা নিম্ন আদালতে নতুন মামলা করে এবং হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা চাইতে গিয়ে আগের রিট, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ ও চলমান কার্যক্রমের তথ্য গোপন করেন।তিনি বলেন, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদেশ নেওয়ার চেষ্টা করা আদালতের প্রতি প্রতারণার শামিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, আগের মামলার তথ্য তাদের জানানো হয়নি।অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালতের প্রতি এমন প্রতারণার জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্থদন্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কো¤পানিকে এক মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থ জুলাই গণআন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। এই আদেশ আদালতের প্রতি অসততা ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।সুত্র মতে, জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার মালিক একজন ঋণ খেলাপি, তিনি সিআইপিও। তিনি তার ঋণ খেলাপি থেকে অব্যাহতি ও সিআইপি ফিরে পেতে রিট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেটা হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল। ওই রিটের পর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আবেদন করেছিলেন।এরপর ওইসব তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে আবারও রিট আবেদন দায়ের করায়, আগের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নজরে আনলে তা আমলে নিয়ে জিপিএইচ ই¯পাতকে ৫ কোটি জরিমানা করেন আদালত। একই সঙ্গে ওই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন হাইকোর্ট। জরিমানার টাকা জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় খরচের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট
১ মাস ২০ দিন আগে
নির্বাচনের আগে বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু নির্বাচনের পরে কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে জামায়াত।দলটির দাবি, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।‘বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’,-বলে মন্তব্য করেন তিনি।সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি। নাম পরিবর্তন হলেও, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে।
১ মাস ২১ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত) সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২০২৫ সালের নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করায় তা বাতিল ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমবায় দপ্তর।গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপ-নিবন্ধক (বিচার) জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা স্বাক্ষরিত আপীল নং-০৯/২০২৬-এর রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলার রায়ে বলা হয়, নির্বাচন কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সমবায় সমিতি বিধিমালার ২৭ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া ৭ অক্টোবরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও একই কমিটি ১৫ অক্টোবর নির্বাচন পরিচালনা করেছে, যা আইনগতভাবে বৈধ নয়।আপীলাত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমবায় সমিতি বিধিমালার ১৪(৩) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, একই সদস্যের নাম একাধিকবার রাখা এবং খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিশও বিধিমালায় নির্ধারিত একাধিক পদ্ধতির পরিবর্তে শুধুমাত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিধিমালার বাধ্যতামূলক বিধান অনুসরণ করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বিবাদীপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।সব দিক বিবেচনায় আপীলাত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন যে, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত), সিআরবি, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী যথাযথ ও আইনানুগ হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।রায়ের দ্বিতীয় অংশে জেলা সমবায় অফিসার, চট্টগ্রামকে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নিষ্পত্তি হলো এবং এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। মামলার নথি অনুযায়ী, পরিচালক প্রার্থী ও সমিতির সদস্য আবুল কালাম ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা সমবায় অফিসারের কাছে এই মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করে পরে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন আয়োজন করা হয়। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা, একই সদস্যের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রাখা, খসড়া ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ না করা এবং নির্বাচন তফসিল ও নোটিশ জারিতে বিধিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।এর আগে জেলা সমবায় অফিসার ও আরবিট্রেটর বিরোধ মামলা নং-১৪/২০২৫ খারিজ করে দেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ, ১ম আদালতে নির্বাচনী মামলা নং-০১/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন ছিল। তবে পরবর্তীতে ওই মামলাটি ১ এপৃল ২০২৬ তারিখে বাদীপক্ষের তদ্বিরের অভাবে খারিজ হয়ে যায়।
১ মাস ২১ দিন আগে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য মিলেছে। যা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য মিলাতে এসব সম্পদের বড় অংশ স্ত্রী, মা-বাবা ও শ্বশুরের নামে কিনেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর পল্লবী সেকশন-৬-এর ৮ নম্বর সড়কের সি-ব্লকের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ১৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে আহম্মদুল্লাহর। এছাড়া আদাবরে একটি প্লট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট এবং কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর আটতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।দলিল সূত্র মতে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যবসায়ী আবুল বশর আবুর কাছ থেকে প্লটটি ক্রয় করা হয়। দলিলে জমির মূল্য ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে প্লটটির বাজারমূল্য এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। এছাড়া আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহ তার শ্বশুর অলিউল হকের নামে কিনে পরে সেটি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের ঝালকাঠী সদর উপজেলার দিবাকরকাঠী গ্রামে তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই এলাকায় তার ১০ একরেরও বেশি জমি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এছাড়া বরিশাল শহরে একটি ফ্ল্যাট এবং উজিরপুর কলেজসংলগ্ন এলাকায় জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।অভিযোগ রয়েছে, আহম্মদুল্লাহর স্ত্রী ঢাকা মেট্রো-গ ৪৩-৪৭৬৯ নম্বরের গাড়িটি ব্যক্তিগত হলেও সামনে সরকারি লোগো ব্যবহার করেন। অন্যদিকে আহম্মদুল্লাহ নিজেও দীর্ঘদিন বিপিসি চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, প্রতি মাসে পল্লবীর বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গাড়িভর্তি উপহারসামগ্রী নিয়ে আসতেন। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিপিসির অধীনস্থ আটটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রয় ও প্রশাসনিক ফাইল চেয়ারম্যানের অনুমোদনের আগে আহম্মদুল্লাহর মাধ্যমে যেত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করতেন তিনি।এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহকারী (বাংকার) ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বেসরকারি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত কোটি টাকার বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়েও তিনি আর্থিক সুবিধা নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বিটুমিন বিতরণ, বিদেশি জাহাজের এলসি পেমেন্ট এবং ফিলিং স্টেশন অনুমোদনের ফাইলেও অর্থ লেনদেন ছাড়া ফাইল চেয়ারম্যানের টেবিলে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদারীপুরের শিবচরে একটি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে প্রায় ছয় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।আহম্মদুল্লাহ ২০১৯ সালে চাকরির আবেদনে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করেন। বিপিসির বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদটি নবম গ্রেডের হলেও তিনি ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও টানা সাড়ে ছয় বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বরিশাল অঞ্চলের লোকজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিপিসির ঢাকা কার্যালয় ও রেস্ট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বরিশাল অঞ্চলের লোকজনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে মাত্র একদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্বে ফিরে আসেন।এদিকে তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসের ইনচার্জ মো. শফিউল ইসলাম চাকরি হারান বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১ মার্চ বিপিসি চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগে আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব স্থানান্তরের অভিযোগ তোলেন।অভিযোগে বলা হয়, তার দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়। এছাড়া ডিপো ইনচার্জদের বদলির হুমকি দিয়ে মাসোহারা আদায়, তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতি এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।বিপিসির উপব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. ইসতিয়াক হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন, টিএ/ডিএ ও জ্বালানি বিল বাবদ আহম্মদুল্লাহকে ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আহম্মদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথী জমি ও ভবনের মালিকানার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভবন নির্মাণে তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন।
১ মাস ২৫ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দূর্নীতিবাজ ছাত্রলীগ নেতা জামিল হোসেনকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পূনর্বাসন করা হয়েছে। গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জামিল হোসেন ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে নেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
১ মাস ২৬ দিন আগে
বিদ্যমান ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনে চলবে না আর রেল। ১৩৬ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের ‘দি রেলওয়েজ অ্যাক্ট, ১৮৯০’ বাতিল করে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ২০২৬’। এতে সরকারি লাইনে চলবে বেসরকারি ট্রেনও। আইনে সুরক্ষিত থাকবে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অধিকারও। সম্প্র্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সুপারিশের আলোকে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়াটি এখন মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটন ট্রেন এবং আধুনিক লজিস্টিক সেবায়ও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নতুন আইনে সরকারি লাইনে চলবে বেসরকারি ট্রেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়া আইনে বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘ট্র্যাক অ্যাকসেস’ চুক্তি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত ফি দিয়ে সরকারি রেললাইন ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেন চালাতে পারবে। আইনের ১৫১ ধারায় তাদের নিজস্ব ইঞ্জিন ও বগি পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। যাত্রী, পার্সেল ও পণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা চুক্তি করা যাবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের রেল অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে অব্যবহৃত সক্ষমতা ব্যবহার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পুরো কার্যক্রম সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। আইনে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫-এর আওতায় পরিচালিত হবে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তির শর্ত নির্ধারণ ও পরিবর্তন করতে পারবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনের সব বিধান প্রযোজ্য হবে। নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবে গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রয়োজন হলে সংস্থাটি বিশেষ নির্দেশনা দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে পারবে। বেসরকারি ট্রেন পরিচালনায় অবকাঠামো, ট্র্যাক বা রোলিং স্টকের ক্ষতি কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি অনুযায়ী দায় বহন করতে হবে। থাকছে নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ নতুন আইনে নারীদের সংরক্ষিত আসন বা কামরায় অনধিকার প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা, তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনে আরো যা থাকছে ট্রেনে মদ্যপ অবস্থায় থাকা, অশালীন আচরণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও জেল-জরিমানার বিধান থাকবে। টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে অনুমোদন ছাড়া টিকেট বিক্রি করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন, বাফার বা পাদানিতে ভ্রমণ করলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। এতে কারও মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। গুরুতর আহত বা অঙ্গহানির ঘটনায় সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। রেলওয়ের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা উচ্ছেদে বাধা দিলেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রেলপথে পিকেটিং বা অন্য কোনোভাবে ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা, স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারালে দুই লাখ টাকা, অঙ্গহানি বা স্থায়ী পঙ্গুত্বে এক লাখ টাকা এবং শ্রবণশক্তি হারালে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।প্রস্তাবিত আইনে গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সংস্থাটি রেলের অবকাঠামো, সিগন্যালিং, ট্রেন পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন করবে। বেসরকারি ট্রেন পরিচালনাও তাদের তদারকির আওতায় থাকবে। পাশাপাশি রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজনে গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের ক্ষমতা রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হচ্ছে। সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ব্রিটিশ আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮৯০ সালের আইনটি ব্রিটিশ আমলের বাস্তবতায় প্রণীত হয়েছিল। বর্তমান রেল সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, আধুনিক সিগন্যালিং এবং যাত্রী-পণ্য পরিবহনের চাহিদার সঙ্গে আইনটি আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যমান আইনে রের যেমন সঠিক পথে চলছে না, তেমনি ডুবে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে। ফলে রেলওয়ে একটি লোকসানি সংস্থায় পরিণত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
১ মাস ২৭ দিন আগে
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে পদোন্নতিতে নজিরবিহীন অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, সরকারি গাড়ি ও সুবিধার চরম অপব্যবহার এবং ব্যাংকের আর্থিক হিসাবে কারসাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে মীর মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যাংকের গাড়ি ব্যবহার করার পাশাপাশি সরকারের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রতি মাসে নগদ ৫০ হাজার টাকা পকেটে ভরছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি একই সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ব্যাংকের অপর একটি গাড়ি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়মিত ব্যবহার করছেন। এই দুর্নীতির সত্যতা নিশ্চিত করতে গাড়ির লগবুক, ওভারটাইম বিল এবং জ্বালানি খরচের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।এছাড়া পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় এই এমডির সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ব্যাংকের একজন নারী কর্মকর্তাকে চরমভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকটির বিগত কয়েক বছরের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্রে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী: শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণ: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকটিতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র কয়েক মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে লাফিয়ে বেড়ে ৪৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।মুনাফার মারপ্যাঁচ: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকটি ৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নিট লোকসান গুনেছিল। অথচ ঠিক পরের অর্থবছরেই (২০২৪-২৫) রহস্যজনকভাবে মাত্র ২ কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখানো হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই সময়ে যেখানে ব্যাংকের পরিচালনাগত মুনাফা কমেছে এবং খেলাপি ঋণ হু হু করে বেড়েছে, সেখানে নিট মুনাফা দেখানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মূলত হিসাবের খাতায় কারসাজি ও শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে ব্যাংকের প্রকৃত ভঙ্গুর আর্থিক চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করেছেন এমডি। এছাড়া বিপুল পরিমাণ পুনঃতফসিলকৃত ঋণের হিসাবকে আড়ালে রেখে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর মাধ্যমে ব্যাংকটিকে চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সপক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ভিডিও ফুটেজের লিংক এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথিও প্রমাণস্বরূপ অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সরকারের আমলে বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে মীর মোফাজ্জল হোসেন ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি একই পদে বহাল ছিলেন। একইভাবে বর্তমান সরকারের সময়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যাংকের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় মীর মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগটি এরই মধ্যে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এই জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় এখন ওই এমডির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।এসব বিষয়ে জানতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
১ মাস ২৮ দিন আগে
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। বিদেশে বিপুল স¤পদ ও বিলাসবহুল জীবন যাপনের অভিযোগে আদালতে করা মামলার আদেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানায় দুদক। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ২টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় বলে জানান দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাব, মূল্যবান সামগ্রী ও অন্যান্য স¤পদের ইনভেন্টরি বা তালিকাকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। যা এখনো চলমান রয়েছে। দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরী বেশির ভাগ জিনিস সরিয়ে ফেলেছেন। তবুও এখান থেকে তদন্তের অনেক ক্লু পাওয়া যাবে। ৫টি দামি গাড়ির চাবি পাওয়া গেছে। সাত-আট টি দামি ঘড়ির প্যাকেট পাওয়া গেছে।সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাট দুটো এতদিন তালাবদ্ধ ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে এটি দুদকের স¤পদ বিভাগের আওতায় থাকবে। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল স¤পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে। ১০ হাজার কোটি টাকার স¤পদ বিশ্বের ৯টি দেশে পাচার করেছেন তিনি। কর্মচারীকে মালিক সাজিয়েও প্রতারণা করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় দুদকে এ পর্যন্ত ৩০টি মামলা হয়েছে।সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করে সংস্থাটি।
১ মাস ৩০ দিন আগে
ইঞ্জিন-কোচ কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বেপরোয়া দূর্নীতির বেড়াজালে এখন চরমভাবে কাবু দেশের বৃহৎ গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই নানা অনিয়মে খাতটি এখন জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে। রেলওয়ের কারিগরি বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ তৈরির দুটি কারখানা রয়েছে দেশে। এগুলোর একটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে, অপরটি সৈয়দপুরে। কিন্তু এ দুটি কারখানায় রেলের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন যন্ত্রাংশ তৈরি হয় না। এরপরও এ দুটি কারখানা সংশ্লিষ্ট শতাধিক কর্মকর্তা ও হাজারো কর্মচারী অযথা জড়িয়ে রয়েছে। যাদের পেছনে সরকারের বড় অঙ্কের বেতন ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিবছর। এখানে থেমে নেই বিষয়টি, দৃুটি কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরির নামে শতকোটি টাকার বরাদ্দও নিচ্ছে। আবার অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানিও করা হচ্ছে। যার পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। আর এই টাকা কমিশনসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক্ষেত্রে কারখানা দুটোতে নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ যেমন তৈরি করা হয়, তেমনি বিদেশ থেকেও নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। অনেকক্ষেত্রে এসব যন্ত্রাংশ কাগজে-কলমে স্টোরে সংরক্ষিত রাখা হলেও বাস্তবে অস্তিত্ব খুঁেজ পাওয়াই দুস্কর। যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে প্রকাশ পায়। তদন্তে প্রমাণ পেলেও এ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সর্বোচ্চ শাস্তি হয় বদলি। তাও যেন পুরস্কার স্বরূপ। রেলওয়েতে প্রবাদ আছে-যে যত বড় দূর্নীতিবাজ, তার প্রমোশন আগে, বদলিও হয় দূর্নীতির উর্বর স্থানে। যার উদাহরণ বর্তমান ডিজি থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছরে দায়িত্বপালন করা সাবেক ডিজি(মহাপরিচালক), এডিজি(অতিরিক্ত মহাপরিচালক) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জিএম(মহাব্যবস্থাপক)গণ। যারা প্রমোশনের সাথে যেখানে বদলি পেয়েছে সেখানে বেপরোয়া দূর্নীতি করে সরঞ্জাম কেনাকাটা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকারের ভুর্তুকির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ট্রেন পরিচালনায়। আর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে। সূত্র গুলো বলছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের বড় একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিন সচল রাখার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও রোগ সারছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্পেও লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ট্রেন পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত লোকোমোটিভ/ইঞ্জিন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলে (পূর্ব ও পশ্চিম) মোট ইঞ্জিন আছে ২৭১টি। তম্মধ্যে মিটারগেজ ১৫০টি ও ব্রডগেজ ১২১টি। এর মধ্যে ৮৭টি অকেজো, বাকিগুলো চলে জোড়াতালি দিয়ে। এসব ইঞ্জিন দিয়েই বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, রেলওয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপের অধীনে থাকা ৯০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৪০টি অকেজো আর ৫০টি মেরামত করে চালানো হচ্ছে। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে এসব ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় মুহুর্তে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ইঞ্জিনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে কিনতে হয়। লুটের আঘাতে অচল ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ইঞ্জিনও রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের মতে, রেলওয়ে ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ২৫ বছর ধরা হয়। কিন্তু আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের ১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালে আমদানি করা ২০০০ সিরিজের ইঞ্জিনের বয়স ৭২ বছর পার হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালনো হচ্ছে। বিপরীতে ২০২০ সালে হুন্দাই রোটেমে এর সরবরাহ করা ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ৩০টি লোকোমোটিভ/ইঞ্জিনও এখন অচল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়ে করোনা পরবর্তী এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রো মোটিভ ডিজেল (ইএমডি)-এর লাইসেন্সের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০টি লোকোমোটিভ আমদানি করা হলেও তা অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পাহাড়তলীর অধীন ২২টি ইঞ্জিনের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৯টি আর মেরামতাধীন আছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৩০০০ সিরিজের ২০ ইঞ্জিন অনেকটাই অচল। এই ইঞ্জিন ক্রয়ে সিমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০০০ সিরিজের (১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালের) ৩টি ইঞ্জিনের ২টি, ২২০০ সিরিজের (১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সালের) ৭টির মধ্যে ১টি, ২৬০০ সিরিজের (১৯৮৮ সালের) ১৬টির মধ্যে ৮টি, ২৭০০ সিরিজের (১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালের) ১৮টির মধ্যে ৭টি ইঞ্জিন লাইফটাইম (আয়ুষ্কাল) শেষ হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকিগুলো অচল। আবার ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি করা ২৯০০ সিরিজের ৩৯টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২০টি সচল থাকলেও ১৯টির আয়ুষ্কাল শেষ। এগুলো মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা বেশ কষ্টকর।১ কোটি টাকার ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটিতে ক্রয় রেলওয়ের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের এক কোটি টাকার স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারটি টেন্ডারের সকল নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।দুদকের প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং- ০০.০১.১৫২০.৬০৪.০৩.২৬৪.২৬/চট্টগ্রাম ৫৪১২-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগ থেকে ই-জিপি টেন্ডার আইডি নং ১০৯৩৭৪৪, ১০৯৩৮৮৫ ও ১০৯৩৮২৬-এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিভাগে ব্যবহারের জন্য ১৪টি আইটেমের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনা হয়।দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয় করে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সংশ্লিষ্ট ৪টি টেন্ডারের ক্রয় নথি, দরপত্র অনুমোদন, বাজারদর, দাপ্তরিক প্রাক্কলন, এপিপি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কৃতকার্য দরদাতার ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, ই-টিআইএন, ভ্যাট (বিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিজ্ঞতার সনদ, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (NOA), চুক্তিপত্র, মালামাল সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্যসহ যাবতীয় সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।চিঠিতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম-কে আগামী ২২ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।আরও অর্থ ঢালার আবদার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রেল সচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল শপের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এহেতেশাম মো. শফিক বলেন, ‘ইঞ্জিন সংকটে বিভিন্ন রুটে অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে। এতে করে রেলের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকসান কমানোও সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, ইঞ্জিন রক্ষাণাবেক্ষণ ও মেরামতে যেখানে হাজার কোটি টাকা দরকার সেখানে বরাদ্দ আছে ১২০ কোটি টাকা। তাও আবার টাকা ছাড় করতেই অর্থবছর শেষ হয়ে যায়। ফলে কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি টাকা ছাড়ের পদ্ধতি সহজ করা দরকার। তার ভাষ্য, অর্থবছরের শুরুতেই যদি প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় তাহলে সময় নিয়ে দরকারি যন্ত্রাংশ কেনাকাটা করা যায়। এ খাতের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়, সুতরাং বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সময়ও বরাদ্দ রাখা জরুরি। এই তিন বছর রেলসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দরকার। প্রায় একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চরম অবস্থায় পৌছেছে। ইতিমধ্যে ৬০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এগুলো আসতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। তা ছাড়া চীন ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে অল্প সময়ের মধ্যে। আর সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতি অর্থবছরে সরকার ভূর্তুকি থেকে যে বরাদ্দ দেয় তাও কমিশনসহ বিভিন্ন কৌশলে লুট করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকার যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় তার ২০ কোটি টাকাও যদি রেলওয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যয় হত তাহলের রেলের এ দশা হতো না। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেট ভরছে না। সরকার থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে সুইজারল্যান্ডে তাদের আমানত আরও ভারীূ হতো। এতে তাদের মন ভরত। আয় নেই কানাকড়িও, ভর্তুকিতে উন্নয়নসংশ্লিষ্টদের মতে, রেলওয়েতে আয় নেই কানাকড়িও। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যা আয়ঢ হয় তা বছর শেষে ব্যয় সমন্বয়ের পর দেখা যায় লাভের খাতা শূণ্য। যা মেটানো হয় ভুর্তুকি দিয়ে। আর কানাকড়ি আয় না থাকার অন্যতম কারণ হলো অপারেশনাল দক্ষতার ঘাটতি। তাদের মতে, একটি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় অচল থাকলে শুধু পরিবহন সক্ষমতাই কমে না, রাজস্ব আয়ও হ্রাস পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আরো বেশি ভর্তুকি নির্ভর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে একই ইঞ্জিন থেকে দীর্ঘ সময় সেবা পাওয়া সম্ভব এবং নতুন ইঞ্জিন কেনার চাপও কমে আসে।রেলওয়ের কমার্শিয়াল বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে রেল পরিচালিত হচ্ছে তার একটি বড় অংশ অপারেশনাল অদক্ষতা ও যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইঞ্জিন ও কোচের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য পরিবহন সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।বিশেষজ্ঞদের মতরেলওয়ের যুগ্নমহাপরিচালক (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ খুদরত ই খুদার ভাষ্য, ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রয়োজন সময়মতো ওভারহলিং, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ। এসব কাজ নিয়মিতভাবে না হলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও লোকোমোটিভ শেডে এমন অনেক ইঞ্জিন রয়েছে যেগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যন্ত্রাংশ সংকটে এসব ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগত তাহলে এ সমস্যা প্রকট হতো না।
২ মাস আগে
আদালতের জব্দের নির্দেশের পরও সড়ক দাপিয়ে চলছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন ‘এনা পরিবহন’। নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৯টি বাস জব্দ করে বিআরটিসির জিম্মায় দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দ করতে পেরেছে মাত্র ৫টি বাস। এ বিষয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাস জব্দে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত নভেম্বরে দুদকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, আদালতের নির্দেশের এক বছর পার হয়ে গেছে। নির্দেশ বাস্তবায়নে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।সূত্র মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।এরপর গত বছরের মে মাসে আদালত এনা পরিবহনের ১৭৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, পুলিশ বাসগুলো জব্দ করে বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করবে এবং বিআরটিসি সেগুলো পরিচালনা করবে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ বাস এখনো জব্দ হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই পরিবহনটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনা পরিবহনের ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, জব্দের তালিকায় থাকা বাসগুলো এখনও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার রুটে নিয়মিত চলছে এসব বাস।চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, জব্দের আদেশের পর থেকে তারা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। খুব অল্প টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এতে কোম্পানির বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। একটি বাস চালাতে চালক, স্টাফ ও সুপারভাইজারসহ অনেক খরচ হয়। গাড়ির মালিকদের হয়তো খুব বেশি সমস্যা হয় না, কিন্তু শ্রমিকদের জীবিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এনা ট্রান্সপোর্টের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে মালিক সমিতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিসির কাছে বাস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিটও করেছেন। এসব বাস ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে বাসগুলো আটক করা হয়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের। তবে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ বাসই এখন ঢাকার বাইরে চলাচল করছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজধানীতে থাকে না, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। চলন্ত অবস্থায় প্রতিটি বাসের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দূর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর খাদেমুল হক বলেন, অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে আদালত পুলিশকে আবারও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।
২ মাস ১ দিন আগে
ইসলামী ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা মেরে সিঙ্গাপুরের পাঁচ তারকা হোটেলে চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের দ্বিতীয় ছেলে আশরাফুল আলম মুহিতের বিলাসী ‘এনগেইজমেন্ট’ অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১৭০ অতিথির আপ্যায়নে খরচ হয়েছিল প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিজনের ডিনার প্যাকেজের মূল্য ছিল ৫৪০ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২ হাজার টাকা। আশরাফুল আলম মুহিত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি। যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ ‘আইল অফ ম্যানে’ ৯৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভিলার মালিকানা আছে তার। লন্ডনভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের প্রকাশিত নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরের পাঁচতারকা হোটেল ‘ক্যাপেলা সিঙ্গাপুরে’ অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত বিল ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ১১৪ দশমিক ৪০ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৮০৯ টাকা।অন্তত নয়টি বিদেশি আর্থিক নজরদারি সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুল আলম মাসুদের মালিকানাধীন এস আলম গ্রুপ নয়টি দেশে নিবন্ধিত অন্তত ৪৭০টি শেল কোম্পানির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই অর্থ বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশের সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকাশিত নথিতে বর হিসেবে এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদের দ্বিতীয় ছেলে আশরাফুল আলম মুহিত এবং কনে হিসেবে সুবাহ জারিনের নাম রয়েছে। সুবাহ জারিন চট্টগ্রামভিত্তিক মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালামের মেয়ে। এই অনুষ্ঠানে ১৭০ জন অতিথির ডিনার বরাদ্দ ছিল। ১৭০ অতিথির জন্য ডিনারপ্রাথমিক বিল অনুযায়ী, ওয়ালিমা অনুষ্ঠানের জন্য কেবল ভেন্যু ভাড়া ও ডিনার প্যাকেজেই ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার। ২০২৩ সালের ২৪ মে সারাদিন ভেন্যু প্রি-সেটআপের জন্য সংরক্ষিত ছিল। ২৫ মে মূল অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আবারও প্রি-সেটআপ, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ককটেল রিসেপশন ও চেঞ্জিং রুম ব্যবহারের সময় এবং রাত ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড বলরুমে ডিনারের আয়োজন করা হয়।ডিনার প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল জনপ্রতি ৫৪০ সিঙ্গাপুর ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৫৯২ টাকা। ১৭০ অতিথির জন্য ন্যূনতম ডিনার ব্যয় ছিল ৯৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ টাকা। মেনুতে শূকরের মাংস, লার্ড ও অ্যালকোহল থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়।সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানের পর ২০২৩ সালের ১০ জুন চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুই দিন পর, ১২ জুন একই হোটেলে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই অনুষ্ঠানেই কয়েক হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন এবং সেগুলো চট্টগ্রামের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।সিঙ্গাপুরের হোটেলের বিলে যা ছিল?নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ এপৃল ইস্যু করা চূড়ান্ত বিলে ভেন্যু ভাড়া, কাস্টমাইজড ডিনার, সার্ভিস চার্জ ও করসহ মোট বিল ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ১১৪ দশমিক ৪০ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৮০৯ টাকা।বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৫ মে ২৪ ঘণ্টার জন্য ভেন্যু ভাড়া ছিল ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা)। ২৬ মে অতিরিক্ত ভেন্যু ব্যবহারের জন্য ধরা হয়েছে আরও ৪০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা)। কাস্টমাইজড ডিনারের ন্যূনতম ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ টাকা)।এসব খাত মিলিয়ে সাব-টোটাল দাঁড়ায় ২ লাখ ৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫২ টাকা)। এর সঙ্গে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ ও সিঙ্গাপুর সরকারের প্রযোজ্য কর যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৪২ হাজার ১১৪ দশমিক ৪০ সিঙ্গাপুর ডলার।চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ এপৃলের মধ্যে মোট বিলের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ২১ হাজার ৫৭ দশমিক ২০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৪ টাকা) অগ্রিম জমা দিতে হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থ ২ মে’র মধ্যে পরিশোধের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের পর অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হলে তা ব্যাংক ট্রান্সফার বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধের শর্তও বিলে উল্লেখ ছিল।নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আশরাফুল আলম মুহিত বাংলাদেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। পরে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাবা-মা ও ভাইয়ের পাশাপাশি তিনিও দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।নথি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ আইল অব ম্যানে আশরাফুল আলম মুহিতের নামে ব্রুকউড, ১৫ প্রিন্সেস ড্রাইভে প্রায় ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৯৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভিলা রয়েছে। ২০২০ সালে তার মা ফারজানা পারভীনের উপহার হিসেবে সম্পত্তিটি নিবন্ধিত হয়।উল্রেখ্য, ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড় ভাই আহসানুল আলমের সঙ্গে আশরাফুল আলম মুহিতও আসামি। এছাড়া ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালো টাকা সাদা করার সুযোগের অপব্যবহার করে ৫০ কোটি টাকার ভুয়া পে-অর্ডারের তথ্য দিয়ে আয়কর নথি দাখিলের অভিযোগে ভাই আসাদুল আলম মাহিরের সঙ্গে তার বিরুদ্ধেও মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২ মাস ৬ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাব কর্মকর্তা (সংগ্রহ) কাজী সাঈদা বেগম নিপার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম, ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।গত ১৩ জুন লিখিত এই অভিযোগ চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে দায়ের করা হয় ২২ জুন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন ছাড়া কোনো বিলের ফাইল ছাড়েন না কাজী সাঈদা বেগম নিপা। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয়। এর বিপরীতে কমিশনের নামে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা অবৈধ কমিশন আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের হালিশহরে তার স্বামীর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া নগরীর একে খান, সিটি গেট এবং মিরসরাই উপজেলার শ্বশুপুরবাড়ি এলাকায় জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মস্থান বরিশালেও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের তথ্য অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ নিজের নামে না রেখে স্বামী ও স্বজনদের নামে ক্রয় করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ রেলওয়ে দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে কমিশন আদায় করা হলেও অধিকাংশ অর্থ নিজেই আত্নসাৎ করেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে স্বজনদের নামে একাধিক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে রেলওয়ে জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন নামে কথিত একটি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হয়।এ বিষয়ে অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দ্রুত দুদকের অনুসন্ধান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার স¤পদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও ঠিকাদারদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।অভিযোগকারী ঠিকাদাররা অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের বরাবরেও প্রেরণ করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী সাঈদা বেগম নিপার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রেরণ গত ১৪ জুন দৈনিক ঈশান এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে `কাজী সাঈদার দূর্নীতিতে কাঁপছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব শাখা' শীর্ষক প্রতিবেদন ও সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই কথিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়। যেখানে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরাসরি সাক্ষাতে নেওয়া বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যার অডিও রেকর্ড দৈনিক ঈশান কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। একই অডিও রেকর্ড অভিযুক্ত সাঈদা বেগম নীপার কাছেও সংরক্ষিত থাকার কথা উকিল নোটিশে বলা হয়েছে। যা পুরোপুরি স্ববিরোধী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। উক্ত প্রতিবেদন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, দুদকে অভিযোগের বিষয়ে এই মুহুর্তে আমি ঠিক বলতে পারছি না। অভিযোগের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠিয়ে দিব। আর প্রতিবাদ বা উকিল নোটিশের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ মাস ১২ দিন আগে
লুটেরাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার লুট হয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকারও বেশি। যা পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে করা হয়েছে। এমনকি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যাদেশের সব মালামাল বুঝে নেওয়ার আগেই টেন্ডারের সরকারি যাবতীয় বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার আলাদাভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারি কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির তথ্য বলছে, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪টি পৃথক আইটেমের জন্য গত জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে যাবতীয় কার্যক্রম শেষে গত ১৫ এপ্রিল ৭টি, ৬ মে একটি, ৭ মে দুটি, ১৭ মে একটি এবং ১৯ মে তিনটি কাজের চুক্তি হয়।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সবমিলিয়ে ৯ কোটি ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৬ টাকায় চুক্তিগুলো সম্পাদিত হয়। এরমধ্যে ‘এমএসএম হেলথ কেয়ার’ এবং ‘এমএসএম বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠান দুটি পায় ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৬ টাকার ছয়টি কার্যাদেশ। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধার রুমানা সুলতানা মৌ নামের একজন প্রভাবশালী।অভিযোগ উঠেছে, এমএসএম হেলথ কেয়ার এবং এমএসএম বাংলাদেশকে কাজ পাইয়ে দিতে নানান অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ায়। টেন্ডারে যে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, সে অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠান দুটির নেই। এর আগে এত বড় অংকের কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। এ প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক একজন। ইচ্ছেমতো রেসপনসিভ কিংবা নন-রেসপনসিভ অভিযোগকারী ঠিকাদার মেসার্স জম জম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম জানান, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্ত তাকে নন-রেসপনসিভ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে আবেদন করলেও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক কোনো জবাব দেননি। অথচ তড়িঘড়ি করে এমএসএম বাংলাদেশ এবং এমএসএম হেলথ কেয়ারকে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, এমএসএম বাংলাদেশ এবং এমএসএম হেলথ কেয়ারকে কাজ দেওয়ার জন্য নানান অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারে যে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, সে অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠান দুটির নেই। এর আগে এত বড় অংকের কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। আমরা দীর্ঘ বছর ধরে ঠিকাদারি করছি, তাদের আগে দেখিনি। এ প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক একজন। পছন্দের লোককে কাজ দিতে নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।কয়েকটি প্রতিষ্ঠানটিকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। আবার মেডিসিন ও সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের সুবিধামতো যে প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে, অন্য টেন্ডারে একই প্রতিষ্ঠানকে রেসপনসিভ করা হয়েছে। কোনো ডকুমেন্টের কারণে যদি একটিতে নন-রেসপনসিভ হয়, তাহলে অন্যটিতে রেসপনসিভ হলো কীভাবে?’ উদাহরণ টেনে প্রশ্ন রাখেন তিনি। শুধু দিদারুল আলম নন, মেসার্স এম রহমান অ্যান্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মেসার্স সাদমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আবু তালেব, মেসার্স কাশেম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।মেসার্স কাশেম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম বলেন, অর্থবছর শুরু হয় জুলাইয়ে। বছরের শুরুতে বরাদ্দও চলে আসে। কিন্তু বছরের শেষে কেনাকাটা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের লোকদের কেনাকাটার কাজ দিতে পুরো টেন্ডারটি ম্যানুয়ালি করার চেষ্টা করেছিল। ই-জিপিতে না করে ম্যানুয়ালি করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাতে সায় দেয়নি। বেশকিছু ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহের (টেন্ডার আইডি-১২০৬০৭২) ক্ষেত্রে দুই কোটি পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৬ টাকার কার্যাদেশ পায় এমএসএম হেলথ কেয়ার। ওই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার আলী অ্যাসোসিয়েটসকে নন-রেসপনসিভ করা হয়।একই টেন্ডারে ফাইন্যান্সিয়াল রেসপনসিভ হয়ে এক কোটি ৮৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯২ টাকায় দরপ্রস্তাব করলেও মেসার্স আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্সকেও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং তারচেয়ে ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৪ টাকা বেশিতে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া হয় এমএসএম হেলথ কেয়ারকে।অন্যদিকে সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহের টেন্ডারে নন-রেসপনসিভ হলেও ২৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৯ টাকায় আসবাবপত্র সরবরাহের (টেন্ডার আইডি-১২০৬০৭৩) কার্যাদেশ পায় আলী অ্যাসোসিয়েটস।বিল পরিশোধের পরও ওষুধ সরবরাহসবগুলো টেন্ডারের যাবতীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী বুঝে পেয়েছেন, এমন প্রত্যয়নে বিলের সমুদয় বিল ঠিকাদারদের অনুকূলে পরিশোধের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে বিল জমা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২২ জুন বিলগুলো অনুমোদন হয়। বিলের পরিমাণ টাকাও আইবাসে (ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম) ঠিকাদারদের হিসাবে জমা দেয় হিসাবরক্ষণ অফিস।২২ জুন এসব বিল অনুমোদন এবং পরিশোধ হলেও ২৩ জুন দুপুরে জেনারেল হাসপাতালে পরিশোধিত বিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওষুধ সরবরাহ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম বাংলাদেশ। ওইদিন (২৩ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস নামের ‘ঢাকা-মেট্রো-ম-১১-৫৩৪৩’ নম্বরের একটি পিকআপভ্যানে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসময় ইনসেপ্টা ফার্মার সিনিয়র সুপারভাইজর প্রণব কুমার নাথ বলেন, ঢাকা থেকে ওষুধগুলো আসছে। আমরা আজ বুঝিয়ে দিয়েছি।’ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তিনটি ডেলিভারি চালান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৬, ১৮ ও ২০ জুন ইস্যুকৃত চালান তিনটিতে ২৩ জুন জেনারেল হাসপাতালের স্টোর কিপারের স্বাক্ষর রয়েছে।এ বিষয়ে এমএসএম হেলথ কেয়ার এবং এমএসএম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধার রুমানা সুলতানা মৌ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আজকে বিলের টাকা পাবো। কারণ হিসাবরক্ষণ অফিস আইবাসে (সরকারি বিশেষায়িত সফটওয়্যার) বিলটি জমা দিয়েছে গত সোমবার (২২ জুন)। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক হয়ে আমার হিসাবে আজ (২৮ জুন) জমা হবে।আমি সবসময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। টেন্ডার মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি মূল্যায়ন করে তাদের মতামত দিলেই কার্যাদেশ দেওয়ার সুযোগ হয়। শতভাগ পণ্য সরবরাহ না দিয়ে বিল নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি বলেন, আমি আমার কার্যাদেশের সবগুলো প্রোডাক্ট ১৪ জুন জেনারেল হাসপাতালে বুঝিয়ে দিয়েছি। সরকারি বিল পরিশোধের পর ২৩ জুন পণ্য সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু ইনসেপ্টার একটি ভ্যাকসিন রয়েছে, যেটি লেভেলিং করে দিতে হয়। সেটি একটু পরে দেওয়া হয়েছে।আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো ই-জিপি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা অভিযোগ করছেন, তারা কাজগুলো আগে করতেন।অনিয়মে জড়িত যারা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসাইন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন খালেদ এবং স্টোরকিপার শহীদুল আলম সরাসরি এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি একজন ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতা ও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তার নামও অভিযোগে উঠে আসে। তাদের কললিস্ট যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।বিল পরিশোধের পরও টেন্ডার সংশ্লিষ্ট পণ্য গ্রহণের বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় স্টোরকিপার শহীদুল আলমকে। তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে গত পাঁচদিনে একাধিকবার ফোনকল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।টেন্ডার ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে জানতে ফোনকল করা হলেও হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খালেদও ফোন রিসিভ করেননি। পরে কথা হলে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. একরাম হোসেন বলেন, টেন্ডারের সব পণ্যই আমাদের স্টোরে ঢুকে গেছে। অভিযোগ শোনার পর অ্যাকাউন্টস, স্টোর সংশ্লিষ্ট সব অফিসারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই বলেছে মালামাল ঢুকে গেছে। সন্দেহ দূর করার জন্য আমি আরেকটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। সামগ্রিক টেন্ডার কার্যক্রমের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।টেন্ডারে অনিয়ম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবসময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। টেন্ডার মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি মূল্যায়ন করে তাদের মতামত দিলেই কার্যাদেশ দেওয়ার সুযোগ হয়। আমি নিজে চাইলেও কাউকে কাজ দিতে পারবো না।ম্যানুয়ালি টেন্ডার করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক কার্যক্রম করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এজন্য চিঠিগুলো দিতে হয়।’যা বললো সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের কেনাকাটা নিয়ে আগেও অনেক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালটির কেনাকাটায় দুর্নীতির কারণে একজন সিভিল সার্জন দুদকের মামলায় জেলও খেটেছেন। এখনো ওই মামলা চলমান। ওই জায়গা থেকেও হাসপাতালের বর্তমান দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা কোনো শিক্ষা নেননি। অথচ তারা সমাজের সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত মানুষ।তিনি বলেন, অনেক সময় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে এসব অনিয়ম (টেন্ডারে অনিয়ম) করেন। কিন্তু তারা তাদের পরিবার-পরিজনের দিকে তাকান না। নিশ্চয়ই তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী। তা না হলে এত বড় ঝুঁকি তারা নেবেন কেন? তারা যে পরিমাণ আয় করেন, সেখানে আর কত টাকা তাদের লাগে? এত টাকা দিয়ে মানুষ কী করে? এসব দুর্নীতি বন্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জেনারেল হাসপাতালের টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বক্তব্যআন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার টেন্ডারে অনিয়ম বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে টেন্ডারে অনিয়মের একটি অভিযোগ মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি (মহাপরিচালক-স্বাস্থ্য) অফিসে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের একটি কপি আমাকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ডিজি অফিস ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে এখনো আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাসপাতাল অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো অনিয়ম হলে বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।
২ মাস ১৪ দিন আগে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়ের বাইরে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এ ২৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়াও পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের ৫ তলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি ও রাজধানীর মিরপুর-২ এ ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বেলাল হোসেনের।এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার দুদকে করা অভিযোগে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন একজন নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এলজিইডিতে যোগদান করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ না করিয়ে শতভাগ বিল উত্তোলন করেন বেলাল হোসেন। পরবর্তীকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) থাকা অবস্থায় সেসময় না করা রাস্তাগুলোর ওপর পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে কাজ সম্পন্ন করেন। এখনও সেসময়ের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দের বিপরীতে তিনি ৫%-১০% কমিশন আদায় করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে চাকরি করেছেন। সেসময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি প্রদান করেন। সেসময় তাদের কাছে ঘুষ হিসেবে পদ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে), উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পদায়ন করেন। এমনকি কার্য সহকারীকেও তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে পদায়ন করেন। সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘুষ লেদেন করেছেন চট্টগ্রাম েজলা নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়নের ক্ষেত্রে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের বিনিময়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনকে পদায়ন করে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান আলীকে প্রকল্প পরিচালক পদে পদায়ন করেছেন। বিষয়টি স্বীকার করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি চট্টগ্রামের সন্তান মো. হাসান আলী। এভাবে সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে অবৈধ পদোন্নতি দিয়ে ৫০-৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে ননিয়েছেন বেলাল হোসেন। জনপ্রতি ১০-১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে বদলি বাণিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ কারণে এলজিইডির প্রতিটি স্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালীন এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি স্বর্ণযুগে পৌঁছায়। তার সময় যত ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে তার কোনটিরই তিনি বিভাগীয় মামলা রুজু করেননি। তখন থেকেই, দুর্নীতি দমন কমিশন বাধ্য হয়ে একসাথে একযোগে ৩ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকী তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে মুঠোফোনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর পাঠাননি।
২ মাস ১৪ দিন আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের লক্ষ্যে আগ্রহী ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করেছে দুদক কমিশন পুনর্গঠন সংক্রান্ত বাছাই কমিটি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৭ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ বাছাই কমিটির নির্দেশক্রমে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন জমা দিতে হবে।বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের অবশ্যই দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ধারা ৮ (১) এর বিধান মোতাবেক প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে একই আইনের ধারা ৮ (২) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলে তিনি এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্তে নিজের নাম, পিতা ও মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ, পেশা বা চাকরির সুনির্দিষ্ট মেয়াদকালসহ বিবরণ, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল উল্লেখ করে সইসহ দাখিল করতে হবে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সপক্ষে সকল সনদের কপি যুক্ত করতে হবে।আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ১৩ জুলাই বিকাল ৪টার মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেটের কেন্দ্রীয় ডাক গ্রহণ কেন্দ্রে অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখায় (কক্ষ ১৩৫, ভবন ১) এই আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। যারা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও কাগজপত্রসহ আবেদন বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, তাদের নতুন করে আর আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২ মাস ১৪ দিন আগে
বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও ১৯টি স্থলবন্দরে বিদ্যমান মোট ২৯টি স্ক্যানারের মধ্যে ১৩টিই অচল বা নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্ক্যানারের ৪৫ শতাংশ-ই বর্তমানে কাজ করছে না। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম দামে নিম্নমানের স্ক্যানার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া দেশের স্থলবন্দরের কয়েকটিতে এখনো স্ক্যানার বসানোই হয়নি। ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআইর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, স্ক্যানারের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্ক্যানার অচলের ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অবৈধ পণ্য আসার ঝুঁকিও আছে। এগুলো ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের এসব ঠিক করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য যাচাই ও যথাযথ রাজস্ব নিরূপণে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসানো হয়। ফলে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হয়, অন্যদিকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ, নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে না।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দুটি সমুদ্রবন্দর ও আটটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। সমুদ্রবন্দর দুটির মধ্যে চট্টগ্রামে ১০টি কনটেইনার স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ছয়টিই অচল। আর মোংলার দুটি ভেহিকল স্ক্যানারই অচল। আর স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে আইসিডি কমলাপুরে একটি কনটেইনার স্ক্যানার ও পানগাঁও বন্দরে একটি করে স্ক্যানার থাকলেও সেগুলো নষ্ট। বেনাপোলে চারটি লাগেজ স্ক্যানারের দুটিই নষ্ট। আখাউড়ার দুটি লাগেজ স্ক্যানারের একটি অচল। হিলির ছয়টি হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের ছয়টিই অচল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বড় বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার স্ক্যানারের ৬০ শতাংশ অচল। দুটি স্ক্যানার পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জিসিবি ১ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি একই বছরের আগস্ট থেকে অচল রয়েছে। এ ছাড়া কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ২ নম্বর গেটের স্ক্যানারটি ডিসেম্বর মাসে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটির কারণে এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে সিপিএআর গেটের স্ক্যানারটি ঠিক থাকলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু স্ক্যানার বন্দরের, আর কিছু স্ক্যানার কাস্টমসের। অচল স্ক্যানার সচল করতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কাজ চলছে। তিনি বলেন, একটি স্ক্যানারের প্রতিমাসে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এনবিআর কাজ করছে। তবে বন্দর চাইলে সব স্ক্যানার তারা অপারেট করতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্দরকে আলাদা চার্জ দিতে হবে। এদিকে মোংলা সমুদ্রবন্দরে তিনটি লাগেজ স্ক্যানার ও দুটি আন্ডার-ভেহিকল স্ক্যানার আছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেহিকল স্ক্যানার দুটি অচল রয়েছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গামী যানবাহনের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ বন্দরে এখনো কোনো কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। কমলাপুর আইসিডিতে থাকা একমাত্র মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানারটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে অচল রয়েছে। ফলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে, যা পণ্য ছাড়ে সময় বাড়াচ্ছে এবং কাস্টমসের কার্যক্রমকে ধীর করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার বেনাপোল স্থলবন্দরে স্থাপিত পাঁচটি ব্যাগেজ স্ক্যানারের মধ্যে দুটি অচল রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এবং অপরটি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রী ও লাগেজের কার্যকর স্ক্যানিং ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া স্ক্যানার দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে তা দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আবার বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্ক্যানারও ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে অচল রয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্য ও যানবাহনের তদারকিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের (পিআইসিটি) স্ক্যানারটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে অচল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ পানগাঁও আইসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও স্ক্যানারটি সচল হয়নি। বর্তমানে স্ক্যানিং ছাড়াই ম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। শুধু তাই নয়, হিলি, সোনামসজিদ, তামাবিল, বুড়িমারী, সোনাহাট, গোবরাকুড়া, বিবিরবাজার, দর্শনা, বিলোনিয়া, ভোলাগঞ্জ, শাওলা, টেকনাফ, ধানুয়া-কামালপুর, বাল্লা, নাকুগাঁও বন্দরে স্ক্যানার নেই। ফলে এসব বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও রাজস্ব ঝুঁকি ও চোরাচালানের সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ক্যানার নষ্ট হলে মেরামত করতে দীর্ঘসময় লাগে। অচল স্ক্যানার মেরামতের খরচ বেশি বিধায় এনবিআর থেকে বরাদ্দ পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণে স্ক্যানারগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কনটেইনার স্ক্যানার উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এসব স্ক্যানারের খুচরা যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। এগুলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করতে হয়। আর স্ক্যানার সরবরাহকারী দেশ-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনেক সময় নবায়ন করা হয় না বা নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ কারণে নষ্ট হলেও মেরামত সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বন্দরের স্ক্যানার অচল থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবৈধ পণ্য যারা আমদানি করে, তারা সাধারণত আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বা যোগসাজশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করে নেয়। ফলে এসব চালান অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমসে কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা হয় না এবং দ্রুত বন্দর ছাড়িয়ে যায়। স্ক্যানার সচল থাকলেও এ ধরনের চালান সবসময় স্ক্যানিংয়ের আওতায় আসে না। বরং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রকৃত আমদানিকারকরাই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে অবৈধ পণ্য অনেক সময় নির্বিঘ্নে বের হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও সেটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে ঘটে, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির ফলে নয়। অচল স্ক্যানার মেরামত ও নতুন স্ক্যানার স্থাপনে এনএসআইর প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের অচল স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বন্দরে স্থাপিত কনটেইনার স্ক্যানার মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা এড়াতে এনবিআরকে দ্রুত মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, তামাবিল, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন কনটেইনার বা কার্গো স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
২ মাস ১৫ দিন আগে
প্রায় দেড় বছরের ভাড়া মেরে দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর এলাকায় যমুনা অয়েল পিএলসির বেদখলকৃত জমি ছেড়ে লেজ গুটিয়ে পালাল ওয়াসার সু্যয়ারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং। দেড় বছর ধরে নির্মাণসামগ্রী রেখে জমিটি দখল করে ব্যবহার করে আসছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেনি প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ উঠেছে, যমুনা অয়েল পিএলসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন অ্যান্ড স্টেট) মো. নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় জমিটি দখলে নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে এই দুই কর্মকর্তার কাছে জমির ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে লাখ টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ভাড়ার এক টাকাও জমা হয়নি যমুনার রাজস্ব খাতে। সূত্র মতে, জমি দখলের খবর পেয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর বি ব্লক, আন্ধা হুজুর মাজার সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং অফিস নির্মাণের বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে যমুনার কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তারা জানান, এস এম হোসেন ও নজরুল ইসলামের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।এরপর যমুনার এমডি পরিচয় গোপন রেখে এস এম হোসেনকে ফোন দেন। অপরপ্রান্তে কল রিসিভ করে নিজেকে যমুনার বর্তমান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন হোসেন। তখন এমডি জানতে চান, তিনি কোথায় কর্মরত রয়েছেন। হোসেন জানান, তিনি যমুনার টার্মিনালে কর্মরত রয়েছেন। পরে যমুনার এমডি নিজের পরিচয় জানালে বিপাকে পড়েন হোসেন। তখন তিনি জানান, যমুনা থেকে ইতোমধ্যে তিনি অবসরে গেছেন।পরে অভিযুক্ত দু‘জনকে অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন যমুনা অয়েলের এমডি। এ বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, জমিটির উপর বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রাক, স্ক্যাভেটর, লোহার পাইপ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। একপাশে খালি কন্টেইনার রাখা হয়েছে। সেখানে একটি অফিসও রয়েছে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। সেগুলো তারা সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ওয়েল্ডিং অপারেটর মোহাম্মদ আলী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপক আলী রিয়াল বলেন, আমরা চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করছি। যেহেতু আমরা সরকারি কাজ করছি, জমিটিও সরকারের। তাছাড়া আমরা এটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করছি। তাই অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনি। তিনি বলেন, জমিটি ছিল একটি কুয়ার মতো। এটি ভরাট করে আমরা ব্যবহারের উপযোগী করেছি। জমিটির ভাড়াও আমরা নিয়মিত পরিশোধ করেছি। কিন্তু যথাযথ অনুমোদন না থাকায় জমিটি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে আমোদের। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। যমুনা অয়েলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি এক দপ্তরের জায়গা আরেক দপ্তর ব্যবহার করতে চাইলে অনুমতি লাগে। কিন্তু যমুনার জায়গাটির জন্য তারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়নি। ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের যোগসাজশে এটি দখলে নেওয়া হয়েছে, যা অফিসিয়াল নয়। তিনি জানান, জমিটির আয়তন প্রায় ৭০ শতক। আশপাশের জমির মূল্যের হিসাব অনুযায়ী জায়গাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা অয়েলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম হোসেন বলেন, জায়গাটি দখলে আমার কোনো হাত নেই। আমি কোনো ভাড়াও আদায় করিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। বরং যমুনা অয়েল পিএলসির রাজস্ব মেরে দেওয়ার কৌশল হিসেবে এসব কথা বলছে তারা। এমডির ফোনের বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম হোসেন বলেন, যমুনার এমডি স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি প্রথমে চিনতে পারিনি। আমাদের সাবেক কলিগ ইউসুফ কল করেছে মনে করে বলেছিলাম, আমি বর্তমানেও চাকরি করি। তবে পরবর্তীতে স্যার পরিচয় দিয়েছেন। এরপর এমডি স্যারকে যা বলার আমি বলেছি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন অ্যান্ড স্টেট) মো. নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে ক্রমেই বাড়ছে আমদানি পণ্য চৃুরি। গত ১০ মাসের ব্যবধানে দুটি চুরির ঘটনায় গায়ের হয়ে গেছে প্রায় ৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য। এর আগে এক চুরির ঘটনায় গায়েব হয়ে গেছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মুল্যের আমদানিকৃত কাপড়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার, কাপড় চুরির পরও বন্দরের নিজস্ব ওরাকল সিস্টেমের রেকর্ড বলছে কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে সংরক্ষিত আছে, কিন্তু টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও সরেজমিন অনুসন্ধানে সেটির কোনো অস্তিত্বই মেলেনি। ইয়ার্ডটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য জানান বন্দর থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুর রহিম। তিনি জানান, বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কাপড়ভর্তি কন্টেইনার পাচার হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের বাইরে গেল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর দশ মাসের মাথায় ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। ওই কন্টেইনারে প্রায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ টাকা আমদানি করা কাপড় ছিল।সিল-স্বাক্ষর জাল করে রাতের আঁধারে সিস্টেমে অবৈধ এন্ট্রি দিয়ে বের করে নেওয়া হয়েছে কাপড়ভর্তি এই কন্টেইনার। এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অল্প কিছু দিনের ব্যবধানে ঘটা দ্বিতীয় কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা। এর দশ মাস আগে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা কাপড়ভর্তি আরেকটি কন্টেইনার গায়েব হয়ে যায়। যেখানে ৮০ লাখ টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হয়, যার এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। এই কন্টেইনারে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আমদানি করা কাপড় ছিল। ঘটনায় সম্প্রতি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ৯ হিসেবে রুজু হয়, যাতে চুরির অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওসি বলেন, যে ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারটি গায়েব হয়েছে সেই ইয়ার্ডের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ক্রেন অপারেটর আবু সুফিয়ানকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া যে লং ভেহিকেলে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছে সেই গাড়ির হেলপার রুবেলকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে এবং দুলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গায়েব হওয়া আরেকটি কন্টেইনার নিয়েও চলছে তদন্ত।ওসি আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন হালিশহরের আব্বাসপাড়ার গলাচিপা এলাকা থেকে খালি কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরেক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য স¤পর্কে জানা যাবে। পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন বন্দরের জেআর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. আবদুল মান্নান। মামলার এজাহারে পরপর এই তিন ঘটনা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইয়ার্ড তদারকি ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার গাজীপুরের মুয়াজ উদ্দিন টেক্সটাইল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে একটি ফেব্রিক্স পণ্যবাহী কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০) আমদানি করেছিল। কন্টেইনারটি গত বছরের ৪ আগস্ট বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ অ্যান্ড কো¤পানির মাধ্যমে বন্দরের সংরক্ষিত কন্টেইনার ও পণ্য রাখার জেআর ইয়ার্ডে রাখা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল কন্টেইনারটি কায়িক পরীক্ষার পর দ্রুত ডেলিভারির জন্য জেআর ইয়ার্ডের অ্যাপ্রেইজ ক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেইনারটির হদিস মেলেনি, পরে ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিল করা হয়।কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে কাপড় বোঝাই আরও একটি কন্টেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে বন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গায়েব হওয়া এই কন্টেইনারভর্তি কাপড়ের বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। কাপড়গুলো আমদানি করেছিল ঢাকার খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান।এজাহারে বলা হয়, ফাহিম অ্যাটায়ার অ্যান্ড ক¤েপাসিট লি. চীন থেকে ফেব্রিক্স পণ্যবাহী ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার (কন্টেইনার নম্বর কেওসিইউ-৪৮২৯৩৯৯) আমদানি করে। কন্টেইনারটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মাধ্যমে জাহাজ থেকে ডিসচার্জ করে চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) রাখা হয়। পণ্যবাহী এই কন্টেইনারটি গত ২৮ এপ্রিল কাস্টমসের পণ্য যাচাইয়ের জন্য অ্যাসাইনমেন্টভুক্ত ছিল, অর্থাৎ এই তারিখে কন্টেইনার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু সিসিটি ইয়ার্ডের ডায়েরি থেকে জানা যায়, কন্টেইনারটির অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কন্টেইনারের অবস্থান জানতে গত ৬ মে টার্মিনাল অপারেটর মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ১০ মে সাইফ পাওয়ারটেক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল এবং গত ১৭ মার্চ তা অনডেট অনচেসিস পদ্ধতিতে দ্রুত খালাস প্রক্রিয়ায় ডেলিভারির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টিওএস) অনচেসিস হিসেবে ডেলিভারি দেখানো হয়েছে বলে টিওএসে সংরক্ষিত আছে। তবে একইসঙ্গে বন্দরের ওরাকল সিস্টেমে এখনো কন্টেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডেই সংরক্ষিত আছে বলে দেখানো হচ্ছে, অর্থাৎ বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারটির অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।এজাহারে আরও বলা হয়, টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের চিঠি পাওয়ার পর কন্টেইনারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। মামলার বাদী পরিবহন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত হামিদুর রহমান বলেন, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ নম্বর ক্রমিকের কপিতে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি নামের সিলের জায়গায় ভুলভাবে সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সিসি), সিসিটি অ্যান্ড এনসিটি ইয়ার্ড, চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি লেখা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডকুমেন্টে থাকা সই ও সিল তার নয়, এবং সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জাল করে কন্টেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অনডেট ও অনচেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে থাকা পরিবহন পরিদর্শকের স্থলে থাকা টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের এফসিএল পরিবহন পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রিপারড বাইয়ের স্থলে থাকা উচ্চমান বহিঃসহকারী এমএইচ সিরাজীর স্বাক্ষরও তাদের নয়। কাগজপত্রে থাকা সিল ও স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) যাচাই করে দেখা যায়, বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন টিওএস সিস্টেমের আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক দুইটা ৫৪ মিনিটে কন্টেইনারের তথ্য টিওএস সিস্টেমে প্রবেশ করান। একই সময়ে কন্টেইনারটি টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তায় নামানো হয়। পরে কন্টেইনারটি বন্দরের গেট দিয়ে বাইরে বের করে নেওয়া হয়, তবে ঠিক কোন সময়ে এটি বন্দর থেকে বের করা হয়েছিল, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি বন্দর থানায় মামলা নম্বর ১১ হিসেবে রুজু হয়, যাতে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়। এজাহারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।সন্দেহের তীর সাইফ পাওয়ারটেকের দিকেদ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ভূমিকা দ্বিমুখী চরিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। একদিকে কন্টেইনারের অবস্থান জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটি যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সূত্র ধরেই কাগজপত্রের গরমিল ও জালিয়াতি প্রথম ধরা পড়ে। অন্যদিকে এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যে সময়ে বন্দরের এফসিএল শাখার কর্মচারী মোকাদ্দেস হোসেন অবৈধভাবে অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে টিওএস সিস্টেমে কন্টেইনারের তথ্য প্রবেশ করান, একই সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের নিজস্ব ইক্যুইপমেন্ট অপারেটরের সহায়তাতেই কন্টেইনারটি নামানো হয়। অর্থাৎ একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার বন্দরের গেট পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটরের কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্যে উঠে এসেছে, যদিও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই কাজে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তা এখনও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর পাঠাননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নস্বল্প ব্যবধানে ঘটা একের পর এক কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম ঘটনায় একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি, যা ইয়ার্ড পর্যায়ের নিয়মিত মজুত যাচাইয়ে গুরুতর অবহেলার বিষয়টি ওঠে আসে। দ্বিতীয় ঘটনায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মতো ¯পর্শকাতর সিস্টেমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এন্ট্রি দেওয়া, একাধিক কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর জাল করা এবং বন্দরের দুটি পৃথক সিস্টেমে কন্টেইনারের অবস্থান নিয়ে পর¯পরবিরোধী তথ্য থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথি যাচাই প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা (এনসিটি-সিসিটি) সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকে। এর মাঝেও দুই একটি ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাগুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বেআইনি কাজে জড়িত যেই হোক তার রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
২ মাস ১৬ দিন আগে
রেলওয়ের আরেক কালো বিড়াল ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। যিনি পর পর তিনবার রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বড় বড় প্রজেক্ট হাতিয়ে নেওয়া, বিনা প্রতিযোগিতায় ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে হাজার কোটি টাকার অপরিসীম দুর্নীতি। আর এসব কাজে সরাসরি নিজের ছেলে ফারাজ করিম ও শ্যালক খান মোহাম্মদ এহসানকে ব্যবহার করেছেন তিনি। সহযোগী হিসেবে ছিলেন রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও। এর আগে রেলের কালো বিড়াল হিসেবে খ্যাতি পান আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। যার অনিয়ম-দূর্নীতির ইতিহাস গণমাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব হলেও ফজলে করিম চৌধুরীর দূর্নীতির ইতিহাস প্রকাশ্যে আনতে কেউ সাহস করেনি বিগত সময়ে। এতটাই ভয়ঙ্কর ছিলেন তিনি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ফজলে করিম চৌধুরী কারাগারে এবং ছেলে ও শ্যালক পলাতক থাকায় ফজলে করিম চৌধুরীর কিছু দূর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন রেলওয়ের উর্ধ্বতন সেই অসাধু কর্মকর্তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ফজলে করিম চৌধুরীর ভয়ঙ্কর সব দূর্নীতি নিরবে নিভৃতে সয়ে গেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ফজলে করিম চৌধুরী ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। এরপর তিনি প্রথমবার বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েও তিনি দ্বিতীয়বার রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে তৃতীয়বারের মতো একই মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। যা ছিল লীজ নেওয়ার মতো। একাধারে দশ বছর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দ্বায়িত্বে থাকাকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে বড় বড় প্রজেক্ট হাতিয়ে নেন এবং বিনা প্রতিযোগিতায় ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে করেছেন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি ব্যবহার করেছেন তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও শ্যালক খান মোহাম্মাদ এহসানকে। এই খান মোহাম্মদ এহসানের মালিকানাধীন মূল কোম্পানি হচ্ছে NGGL গ্রুপ (Next Generation Graphics Ltd)| NGGL গ্রুপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের আরো ২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- (১) Fav Diesel Sales & Service এবং (২) Maximum Support Limited| বাংলাদেশ রেজিট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) নিবন্ধন অনুসারে রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, ফারাজ করিম চৌধুরী ও তার মামা এহসানের মালিকানায় ফিফটি ফিফটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিবন্ধিত হয় কোম্পানি দুটি। ফারাজ করিম ও তার মামা এহসানের মধ্যে হওয়া একটি গোপন ব্যবসায়িক চুক্তির কপিও সংরক্ষিত রয়েছে দৈনিক ঈশানের কার্যালয়ে। তবে ফারাজ করিম চৌধুরী বিভিন্ন গণমাধ্যমে দম্ভ করে বলতেন, তিনি নামে-বেনামে নয়, সরাসরি নিজ নামে DEUTZ Engine Germany এবং IRCON International India- এই দুটি কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করেন। বিদেশি দুই কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করার কথা ঘোষণা করলেও, সুকৌশলে তার ও তার মামার মালিকানাধীন দেশীয় দুটি অংশীদারিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখেন।অনুসন্ধানেও মিলেছে, ফারাজের বিদেশি প্রতিষ্ঠান Deutz Engine Germany ব্যবহার করে তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান Fav Diesel Sales & Service এর মাধ্যমে এবং IRCON International India ব্যবহার করে তাদের আরেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান Maximum Support Limited এর মাধ্যমে ফজলে করিম চৌধুরীর সরাসরি প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা দেখিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপে ফারাজ করিম ও এহসান ব্যবহার করেন ফজলে করিম চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সর্বময় শক্তি।সূত্র মতে, ফজলে করিম চৌধুরী সিন্ডিকেট দরপত্র আহ্বান না করে প্রতিযোগিতাহীন ডিপিএম পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশের মূল্য কয়েকশ গুণ বাড়িয়ে কাজ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ওপর চালাতেন অত্যাচারের স্টিম-রোলার, দিতেন অমানষিক চাপ এবং অফিসিয়ালি করতেন অপমান-অপদস্ত ও অশ্রাব্য গালাগালি। সংশ্লিষ্ঠ কোনো রেলওয়ে কর্মকর্তা যন্ত্রাংশের প্রাক্কলিত মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করতে রাজি না হলে এবং ডিপিএম পদ্ধতিতে ক্রয় না করে খোলা দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ক্রয় করতে চাইলে, তার ওপর নেমে আসত অমানষিক নির্যাতন এবং পড়তেন ব্যাপক সামাজিক হেয় প্রতিপন্নের মুখে। শুধু তাই নয়, এসব রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ডাক পড়তো রেলপথ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এবং স্বয়ং ফজলে করিম চৌধুরী সবার সামনে ও অন্যান্য রেল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতেন।ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়ার ছিল দীর্ঘদিনের অন্যরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যা তিনি ব্যবহার করেছেন তার রাজনৈতিক হত্যার মিশনে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে। তারই এক অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানকে ব্ল্যাকমেইলিং করা। মেজর জেনারেল জিয়ার সহযোগিতায় মোবাইল ট্র্যাকিং করে শামসুজ্জামান ও তার ছেলে সাদমান জামানের মধ্যকার আলোচনার কিছু স্পর্শকাতর তথ্য, লন্ডনে থাকা ব্যাংক একাউন্টের তথ্য এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাদমান জামানের সংযোগ থাকার মতো তথ্য খুঁজে পান ফজলে করিম চৌধুরী। এসব ব্যবহার করে চলতে থাকে মহাপরিচালক শামসুজ্জামানকে ব্ল্যাকমেইলিং, হুমকি-ধামকি ও দুদকের ভয়। আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ওই সময়ে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে চলতে থাকা এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিনিময়ে ফজলে করিম আদায় করে নেন ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের কার্যাদেশ রেলওয়ের ডিজিটাল ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ। যা উদ্বোধনের দিন থেকে আজ অবধি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। অথচ বলা হয়েছে, এই প্ল্যান্টে ১০ মিনিটের মধ্যে একটি ট্রেন (গড়ে ১৪টি বগি) পরিষ্কার করা যাবে। এতে ঝকঝকে তকতকে হবে রেলের প্রতিটি বগি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা।২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর যাত্রীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভ্রমণের জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি অটোমেটিক ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট কেনা হয়। যার একটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয় ঢাকার কমলাপুরে এবং অন্যটি স্থাপন করা হয় রাজশাহীতে। পরের বছর সেপ্টেম্বরে প্ল্যান্ট স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন পরিষ্কার করা হয়। এরপর ওই বছরের ৮ নভেম্বর আনুষ্ঠিকভাবে প্ল্যান্ট দুটি উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ওই দিন একটি ট্রেন যাত্রী নামানোর পর ট্রেনের বগিগুলোর উভয় পাশ, ছাদ, আন্ডার গিয়ার সুচারুভাবে পরিষ্কার করা হয়।এরপর থেকে প্ল্যান্টটির বা ঘরের দুপাশে ফটকে তালা লাগানো। বাইরে আরকটি ঘরের সামনে বড় পানির ট্যাংক, পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোতেও তালা লাগানো রয়েছে।এর পাশে আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হুইল পাউডার ও ব্রাশ দিয়ে ট্রেন পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। একেকটি ট্রেন পরিষ্কার করতে তাদের ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগছে। তবে ট্রেনের নিচের অংশ তারা পরিষ্কার করতে পারছেন না।আর এই স্বয়ংক্রিয় ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্টের প্রকল্প কর্মকর্তা ছিলেন ফকির মহিউদ্দিন। যিনি সম্প্রতি এডিজি-আরএস পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্ল্যান্ট দুটিতে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কোনো কাজ বাকি নেই। যন্ত্রপাতি সব সচল রয়েছে। প্ল্যান্ট দুটি রেলওয়ের অপারেশন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক নানা সংকটে মূল্য বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সচল করা আর সম্ভব হয়নি প্লান্ট দুটি। এদিকে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী ও শ্যালক খান মোহাম্মদ এহসানও পলাতক থাকায় তাদের মতামত নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
২ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ময়লা পরিবহনকারী গাড়িচালক মো. শাহিন। কিন্তু চলাফেরা যেন রাজকীয় হালে। চলেন কয়েক লাখ টাকার প্রাইভেট কারে। হাঁকান মোটর সাইকেলও। নগরীর ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে শুধুমাত্র ময়লার গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে মাত্র ১০ বছরে তিনি ঘুরিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবনযাপন। পরিস্থিতি এমন যে, প্রশ্ন করারও কোন জোঁ নেই তাকে। মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী শাহিন। যেন সম্পদের পাহাড়ে বসে আছেন তিনি। তবে গাড়িচালক শাহিনের দাবি তিনি শুধু চাকরি করেন না, করেন গাড়ির ব্যবসা। মারেন পাঠাও-উবারের ভাড়া। আর স্থানীয়রা তার দাবিকে বলছেন-বুমেরাং। তার মূল পেশাই হল জ্বালানি তেল চুরি। একদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ির ডিজেল-অকটেন, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর জাহাজের ডিজেল চুরিই হচ্ছে গাড়িচালক শাহিনের 'আলাদিনের চেরাগ'। যা নিয়ে খোদ সিটি করপোরেশনের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।স্থানীয়রা জানান, ময়লার গাড়ি চালানো থেকে সবকাজে শাহিনের রয়েছে বড় ধরনের চোর চক্র। ময়লার গাড়ি যেমন শাহিন চালায় না, চক্রের সদস্যরা চালায় তেমনি তেল চুরির সাথেও জড়িত শাহিনের ভাই শাকিলের নেতৃত্বে থাকা সংঘবদ্ধ চোর চক্র। যারা কর্ণফুলী নদী আর সিটি করপোরেশনের গাড়ির জ্বালানি তেল চুরি করে নগরীর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় টং দোকানে বিক্রি করে। আশ্চর্য্যের বিষয়-এ দোকানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রী হয় মাত্র ৯৫ টাকায়। অথচ নগরীর প্রতিটি পাম্পে ডিজেল বিক্রী হয় সরকার নির্ধারিত মূল্য ১১৫ টাকা হিসেবে। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে ডিজেলের ক্রেতা সেজে সেই টং দোকানে গেলে ডিজেল বিক্রীর এই তারতম্য ধরা পড়ে। এত কম দামে ডিজেল বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানে থাকা কর্মচারী বলেন, আপনার লাগলে নেন, না লাগলে যান। আপনারা কারা-এমন প্রশ্ন করেন ওই কর্মচারী। এ সময় তেল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আমি শাকিলের এই দোকান থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকায় কিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নিয়মিত জ্বালানি তেল বিক্রী করেন। এই তেল সরবরাহ করেন শাকিলের ভাই শাহিন। কর্ণফুলী নদির জাহাজের চেরাই তেল হওয়ায় কম দামে বিক্রী করেন বলে জানান ওই ক্রেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা শাহিন উল্কাগতিতে ধনী হওয়ার পেছনে মূল উৎসই হচ্ছে জাহাজ ও চসিকের বরাদ্দকৃত ডিজেল-অকটেন চুরি। চসিকের ময়লা পরিবহনের জন্য শাহিনের গাড়ি বাবদ প্রতিদিন ১২ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ পায়। কিন্তু নির্দিষ্ট ট্রিপে তেল খরচ হয় সর্বোচ্চ ৬-৮ লিটার। বাকি অতিরিক্ত তেল তিনি প্রতিদিন বিক্রী করে দেন শাকিলের টং দোকানে।শুধু তাই নয়, শাহিন নিজেও নিয়মিত ময়লার গাড়ি চালান না। চসিক থেকে গাড়ি ও তেলের স্লিপ সংগ্রহ করে তিনি টাকার বিনিময়ে দৈনিক ভিত্তিক অন্য শ্রমিক দিয়ে গাড়িটি চালান, আর নিজে ব্যস্ত থাকেন তেল চুরির সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়। সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের অধীনে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া এলাকায় ময়লা পরিবহনের গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করছেন শাহিন। বর্তমানে তার মাসিক বেতন মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার বিভিন্ন ছবি সূত্রে জানা গেছে, শাহিন যাতায়াত করেন কয়েক লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কারে। শুধু তাই নয়, তার সংগ্রহে রয়েছে লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেলও। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সিটি করপোরেশনের সর্বনিম্ন স্তরের চালক হয়েও তিনি নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে অবৈধভাবে 'চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন' এর লোগো ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নগরী। এছাড়া নগরীর একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি তিনি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। যদিও আইনি জটিলতা এড়াতে ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে রাখা হয়েছে, তবে এর মূল নিয়ন্ত্রণ শাহিনের হাতেই বলে নিশ্চিত করেছে চসিকের একাধিক সূত্র।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চসিকে গাড়ি চালক হিসেবে চাকরি পান শাহিন। চাকরিতে ঢুকেই সাবেক শাসকদলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চসিকের পরিবহন বিভাগে গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও অলৌকিকভাবে এখনো বহাল তবিয়তে নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন শাহিন।সম্পদের উৎস ও তেল চুরির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহিন বলেন, সব মিথ্যা। আমার সম্পদ কোথায় আছে এবং তেল চুরি প্রমাণ করতে হবে আপনাদের। যারা এসব মিথ্যে সংবাদ ভাইরাল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি সাইবার আইনে মামলা করেছি। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চালাই, বেতন পায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এতে আমার সংসার চলে না। তাই পাঠাও-উবারের ভাড়া মারার জন্য আমি মোটর সাইকেল কিনেছি। আর প্রাইভেট কার আমার বন্ধুর, তবে এটির রেজিষ্ট্রেশনও আমার নামে। আমি গাড়ির ব্যবসাও করি। একজন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ভাড়া মারেন, ব্যবসা করেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহিন বলেন, আমি পরিশ্রম করে খাচ্ছি। এতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। চাকরি না পোষালে করছেন কেন-প্রশ্ন করা হলে শাহিন বলেন, পারলে আমি সবই করব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজার মো. মাহফুজ বলেন, ভাই বর্তমানে কোটিপতি হওয়া বিস্ময়ের কিছু নয়, দু‘চারটা মোটরসাইকেল চুরি করলেও কোটিপতি হওয়া যায়। আপনারা সামান্য একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পেছনে কেন লাগলেন সেটাও তো বুঝতে পারছি না। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী কিছুই জানে না বলে জানান। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, চসিকের এই সাধারণ চালক শাহিনের সম্পদের মূল উৎস তেল চুরি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।
২ মাস ২১ দিন আগে
“দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজী হাসান বিন শামস বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে ট্রুথ কমিশন থেকে মার্জনাপত্রও নেন।”
২ মাস ২২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে বন্দরনগরীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসছে এনামুল করিমের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান সবখানেই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি সদ্য এলপিআরে যাওয়া ক্ষমতাধর কর্মকর্তা এনামুল করিম। এমন অভিযোগ বন্দর সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপিং এজেন্ট মেসার্স ইউনিবেঙ্গল কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও সব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ছাড়পত্র দেন এনামুল করিম। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব চরম ঝুঁকিতে পড়ে।এই বড় অঙ্কের অনিয়ম নজরে এলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ করে বন্দরের মাশুল বা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন এনামুল করিম। আর সেই অর্থ দিয়ে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।গত ৪ জুন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে। আর এই কর্মকর্তার দুর্নীতির খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রহস্যজনক ফাইল গায়েবের অলৌকিক ইশারায় তাঁর পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অদ্যাবধি সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। রহস্যজনকভাবে থমকে আছে সেই ফাইল।এছাড়া বন্দরের সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও এনামুল করিমের পকেটে বন্দি। প্রতিটি নিয়োগের পেছনে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য হয়। এই বিশাল টাকার খেলা এক হাতে সামলান না তিনি। বন্দরে তাঁর একটি নিজস্ব ক্যাডার ও সহযোগী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে-বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি মীর নওশাদ, বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর. বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরী। প্রভাবশালী এসব নেতাদের ছত্রছায়ায় বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের খাটিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এনামুল করিম। অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল করিম বর্তমানে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক! এই বিশাল অর্থের একটি বড় অংশ তিনি পাচার করেছেন ইউরোপে। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন বেনামে বড় বড় বিনিয়োগ করে রেখেছেন।বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি প্রধান প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে পরিবহন বিভাগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ বার্থিং (ভেড়ানো), লাইসেন্স প্রদানসহ বন্দরের মূল চালিকাশক্তি এই বিভাগ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই বিভাগের প্রধান (পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল করিম। তবে অভিযোগ রয়েছে, শুধু পরিচালক হওয়ার পর থেকেই নয়, বন্দরে যোগদানের পর গত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই পরিবহন বিভাগের সব ধরনের অবৈধ লেনদেন ও সিন্ডিকেটের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এনামুল করিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদল করেন। কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করেন। আবার রাজনৈতিক হাওয়া বদল হলে মুহূর্তেই জামায়াত-বিএনপির কট্টর সমর্থক সেজে যান। আবার নির্বাচনের পর বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি সেজে যান। রাজনৈতিক ভোলবদল ও প্রভাবশালী মহলের ব্যাকআপের কারণেই বছরের পর বছর সুরক্ষিত থাকে এনামুল করিমের চেয়ার। এমনকি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি করে মোট চারটি দুর্নীতির মামলা চলছে। মামলার প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র আমাদের হাতে এসেছে। বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই বিষয়ে মতামত নিতে এলপিআরে থাকা এনামুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ফোন নাম্বারের হুয়্যাটস অ্যাপের মেসেজ অপশনও বন্ধ পাওয়া যায়।
২ মাস ২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরে পানি সংকট নিরসনে ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ বিষয়ক সুয়ারেজ প্রকল্প ঘিরে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণের নামে বিলাসী ভ্রমণে চীনে রয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই প্রকৌশলী। বিস্ময়ের বিষয়, ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ প্রশিক্ষণের জন্য সফরে রয়েছেন চীনে। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার, প্রকল্প কাজও প্রায় শেষের সংশ্লিষ্ট সুয়ারেজ প্রকৌশলীদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এই প্রশিক্ষণে। এমনকি প্রকল্প কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনও। প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি রয়েছে। আর এমন সময়েই চীনে প্রশিক্ষণে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম এবং কর্ণফুলী পানি শোধানাগার প্রকল্প-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। তালিকায় মড-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইউসুফের নাম থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি বাদ পড়েন।ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রশিক্ষণকে ‘বিলাস সফর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের ৭ মে জারি করা এক অফিস আদেশে চট্টগ্রাম ওয়াসার তিন কর্মকর্তাকে ওই প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীন সরকারের সহায়তায় ৪ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।ওই আদেশে আরও বলা হয়, ট্রানজিটসহ পুরো সফরকাল ‘দায়িত্ব পালন’ হিসেবে গণ্য হবে। সফরসংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করবে চীন সরকার এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা থাকবে না। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবেন।তবে দুই দিন পর, ৯ মে জারি করা আরেক আদেশে মুহাম্মদ ইউসুফকে বাদ দিয়ে মাকসুদ আলম ও এস এম রবিউল হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তারা চীনে প্রশিক্ষণ নিবেন।প্রশ্ন উঠেছে, পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের পাঠানো হলেও সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো প্রকৌশলীকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।প্রকল্পের সূত্রমতে, বর্তমানে দুই ভাগে এগোচ্ছে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ। একদিকে পাইপলাইন স্থাপন, অন্যদিকে হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ। প্রকল্পের আওতায় মোট ২০০ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন বসানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮১ কিলোমিটার অগভীর পাইপলাইন, যার ৯৭ কিলোমিটার ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইন সর্বোচ্চ চার মিটার গভীরে বসানো হচ্ছে।বাকি ১৯ কিলোমিটার গভীর পাইপলাইনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয় কিলোমিটার স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাইপলাইন ছয় থেকে ১৪ মিটার গভীরে বসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আকারের ১০৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা পাইপলাইন কাজের ৫০ শতাংশ অগ্রগতি।অন্যদিকে হালিশহরের পয়োঃশোধনাগার ও ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে সিভিল কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার গৃহে পয়োঃসংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার গৃহে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটির সামগ্রিক অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার আশা করছে ওয়াসা।এই সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’। আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সেমিনার অন আরবান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন সিস্টেম টেকনোলোজি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে চীনের ফুজয়ান প্রদেশের ফুজু সিটিতে।প্রশিক্ষণ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানে আলম বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশিক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাতিল করার সুযোগ ছিল না। বিদেশে প্রশিক্ষণ, নগরে পানির হাহাকারউল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে। গ্রীষ্মকাল ও রমজানে পানির চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে সংস্থাটির দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫১ কোটি লিটার। তবে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। এর মধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ থেকে ২৮ কোটি লিটার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে। তবে নগরীর সুয়ারেজ ব্যবস্থা চরম নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
২ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত রূপসী কর্ণফুলী নদীর পাড় হতে যাচ্ছে যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত। এই পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘ সাড়ে ৮ কিলোমিটার আউটার রিং রোড। যা মূলত জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই আউটার রিং রোড চালু হতে আর মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের মূল কাজ শেষ করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে পারব। জমি অধিগ্রহণের অর্থায়ন নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, যা আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করে ফেলেছি।সিডিএর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে মোহরা পর্যন্ত বিস্তৃত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই মেগা প্রকল্পের সমাপ্তি বন্দরনগরীর আবাসন, পর্যটন ও শিল্পখাতে বিনিয়োগের এক অভূতপূর্ব দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক রূপ দেখতে এখনই প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন নদীর পাড়ে।সড়কের বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, একপাশে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে চলা ছোট-বড় নৌকা ও বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজের সারি, আর অন্যপাশে চিরসবুজ প্রকৃতির বুক চিরে চলে গেছে মসৃণ পিচঢালা পথ। শীতল হাওয়া আর নদীর কলতানের এই মেলবন্ধন চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটি চালু হলে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে কালুরঘাট এলাকা থেকে কর্ণফুলী সেতুতে পৌঁছাতে যেখানে তীব্র যানজটের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়, এই রিং রোড ব্যবহার করে সেই দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটে নেমে আসবে। এছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে।যোগাযোগের পাশাপাশি এই রিং রোডকে ঘিরে পর্যটনের এক বিশাল ক্যানভাস তৈরি করছে সিডিএ। নদীর তীরবর্তী ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে 'কর্ণফুলী রিভারভিউ পার্ক'। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আধুনিক ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ, ডেডিকেটেড সাইকেল লেন এবং নদী দেখার জন্য বিশেষ বসার গ্যালারি।অন্যদিকে নদীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু করে নির্মিত এই শক্তিশালী সড়কটি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'জলাবদ্ধতা'র বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ বা প্রতিরোধক দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। ফলে জোয়ারের পানি ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরার মতো নিম্নাঞ্চলগুলো। সড়কটির কল্যাণে একসময়ের অবহেলিত ও অনুন্নত এই বিশাল অঞ্চলটি এখন আধুনিক বাণিজ্যিক ও আবাসন জোনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।তবে সড়কটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট কোনো টার্মিনাল নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন বেনাপোল থেকে আসা চালকদের বিশ্রামের জন্য এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার জন্য এই রিং রোডের পাশে যদি সরকার একটি আধুনিক ও বড় টার্মিনাল স্থাপন করে, তবে এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিডিএ। দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি, আর্থিক ও কাঠামোগত অপেক্ষা শেষে চার লেনের এই দৃষ্টিনন্দন আউটার রিং রোডটি চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আধুনিক যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসাথে রূপসী কর্ণফুলীর পাড়ে যোগ করবে এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা।
২ মাস ২৫ দিন আগে
পদ্মা রেল সেতুর সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ব্রডগেজ রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ লুটের মহাকাব্য এখন যার ঝুলিতে, তিনি হলেন- রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতিহাসে এমন অনেক কাব্য সৃষ্টি হলে মহাকাব্য সৃষ্টির উদাহরণ শুধুমাত্র ডিজি আফজাল হোসেনের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য শেখ রেহানার 'কালেক্টর' এবং ওবায়দুল কাদেরের 'পোষ্যপুত্র' হিসেবে পরিচিতি এই প্রকৌশলী। যা আর কারও ঝুলিতে নেই। ২৪ এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হলেও সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতায় এখনও ডিজি পদে বহালতবিয়তে আছেন আফজল হোসেন। অটুট রেখেছেন দাপট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাইল থেকে শুরু করে নতুন সরকারের নীতিপ্রণেতা—সবখানেই রহস্যজনকভাবে রাতারাতি পরিস্থিতি পাল্টে নিজের করে নেন তিনি। ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতির টাকায় দেশে-বিদেশে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। করেছেন বিপুল অর্থপাচার। নৈতিক স্খলনের এসব আদ্যোপান্ত নিয়ে ধারাবহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো দৈনিক ঈশানের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে-লজিং মাষ্টার থেকে ম্যানেজ মাষ্টারআফজাল হোসেনের বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল সদরের চৌবাড়িয়া গ্রামে। স্থানীয় এলাসিন তারক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ এপৃল সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হয়ে যোগদান করেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিভৃতপল্লীতে জন্ম নেয়া এবং অন্যের বাসায় লজিং থাকা আফজাল হোসেন এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ পদ মহাপরিচালক (ডিজি)। সূত্রমতে, পাউবো থেকে দূর্নীতির হাতেখড়ি প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের। বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদানের পর বিস্তৃত হয় তার এই অপকর্মের পরিধি। ধাপে ধাপে বাগিয়েছেন পদ-পদবী, নানা ইস্যুতে হয়েছেন সমালোচিত। এর মধ্যে অন্যতম শেখ হাসিনার বাপের টাকায় নির্মিত পদ্মা সেতু রেল-সংযোগ প্রকল্প। এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন আফজাল হোসেন। তখন থেকেই আফজাল হোসেন শেখ পরিবারের সদস্য ‘পাওয়ারফুল ওম্যান’ শেখ রেহানার ‘কালেক্টর‘ বনে যান। আফজাল হোসেন তার ফরিদপুরের শ্বশুরকুলের আত্মীয়, কথিত শ্যালিকাসহ পছন্দের নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন করে তারই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রকল্পে। এরপর থেকে আসল-নকল কাগজে পদ্মা সেতুতে বরাদ্দের কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে তা দিয়েছেন রেহানার কোষাগারে। নিজের আখের গোছানোতে মনোযোগী ছিলেন তারও আগে থেকেই। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মেন্টর শেখ রেহানা পলায়ন করলেও গরম হাওয়া লাগেনি ম্যানেজ মাস্টার আফজাল হোসেনের গায়ে। হাওয়া বুঝে ছাতা ঘুরিয়ে ধরেন ড. ইউনূস সরকারের দাপিয়ে বেড়ানো দুই সমন্বয়মুখী। প্রথমে আফজালের কর্মে তেলে-বেগুনে জ্বলেছিলেন তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। সে পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে আফজালকে সহযোগিতা করেছেন চার সমন্বয়কের একজন যিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১৮০ ডিগৃ ঘুরে যান উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। প্রথমে যত গরম হয়েছিলেন, পরে তত শীতল হন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। গণেশ উল্টে যায় যেভাবেপদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। যাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে উপসচিব উজ্জ্বল কুমার ঘোষের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ডিজি পদ বাগিয়ে নেন যেভাবেরেলের যে কয়েকজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন, তার মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন মো. আফজাল হোসেন। তার সিনিয়র মার্কেটিং অ্যান্ড করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পার্থ সরকার, ট্রেনিং অ্যাকাডেমির প্রধান কর্মকর্তা এসএম সলিমুল্লাহ ওরফে বাহার এবং রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) আহমেদ মাহবুব চৌধুরীদের ডিঙিয়ে ডিজি করা হয়েছে তাকে। তখনই রেলওয়েসহ মন্ত্রণালয়ে চাউর হয় ‘চড়া দামে বিক্রি’ হলো ডিজি পদটি। আর তাতে খরিদদার মো. আফজাল হোসেন। মধ্যস্থতায় ছিলেন ড. ইউনূস সরকারের আমলের প্রভাবশালী দুই সমন্বয়ক ও একজন আমলা। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি এ প্রকৌশলীর। পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে লুটপাটের মহাকাব্য রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।সরকারি সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর রেল সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ছিল অপ্রয়োজনীয়। ফলে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ব্যয় মূলত উধাও হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর চেয়েও বড় মাত্রায় দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে। শুরুতেই এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে।এরপরও একনেকে অনুমোদনের মাত্র দু’বছরের মাথায় একবারেই ব্যয় ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত সবকিছুই করছে চীনারা। এরসঙ্গে রেলেরও একাধিক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।তাদের অন্যতম হলেন মো. আফজাল হোসেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লুটেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পছন্দের কর্মকর্তা এই আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।এই আফজাল হোসেনের হাত দিয়েই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় ও ভুয়া হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আফজাল হোসেন নিজেও চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতিটি বিল পরিশোধের ওপর বড় অংকের কমিশন পেয়েছেন। এছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ।এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তখন পদ্মা রেল সেতু এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের কোনোই প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয়ের পুরো ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকাই জলে গেছে। প্রকল্পটি মূলত হাতে নেয়া হয়েছিল লুটপাটের ধান্দাকে সামনে রেখেই।এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রকল্পের অধীন একটি রেল স্টেশন নির্মাণের চিত্র থেকেই। চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ই যথেষ্ট ছিল সেই রেল স্টেশনে ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। মূল প্রকল্পে এখানে বিপুল ব্যয়ে রেল স্টেশন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনই অন্য কৌশলে এটিকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রকল্পটির অপব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট হলেও প্রকল্প পরিচালক, দুর্নীতির মূল হোতা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পটির নজিরবিহীন উচ্চ ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট সবকিছুই হয়েছে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের পরিকল্পনায়। এই প্রকল্পের সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গেও আফজাল হোসেনের যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকল্পের ওপর পুরো প্রভাব তাঁর বরাবরই বজায় ছিল। প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাক্টররা প্রায় সবাই ছিল তাঁর নিয়োজিত। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পিডি পদে ছিলেন।আরও যেসব প্রকল্পে লুটপাটশুধু পদ্মা নয়, যমুনা রেলওয়ে সেতু ডাবল লাইনের সমান্তরাল সেতু হিসেবে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে আধুনিকায়ন। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনটি পুরোপুরি সচল করা, রেলওয়ে লাইন উন্নয়ন (পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল) ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহ করাসহ বহু কাজ হয়েছে টেন্ডারে। প্রায় ৫৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার কাজের বেশিরভাগই হয়েছে এবং হচ্ছে আফজালের টেবিলে ঘোরা ফাইলের মাধ্যমে। রেলের পিয়ন থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত জানেন, ডিজির আফজালের পিসি ৫%। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে বেনামি যৌথ ব্যবসা। একইভাবে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেও এক তৃতীয়াংশ সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়। আর প্রকল্প কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে পুরো রেলপথকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়। বলতে গেলে এটিও ছিল সরকারের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে এ পর্যন্ত তিন কর্মকর্তা পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যারা প্রকল্পের অর্থ লুটেপুটে পাহাড়সম সম্পদ গড়েছেন। পেয়েছেন পদোন্নতিও। জানা গেছে, এই গুরুতর অনিয়মও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এটি মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। এতো অপকর্মের পরও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সরাসরি ডিজি পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। অথচ রেল কর্মকর্তারা বলছেন, দুদক যদি যথাযথ তদন্ত চালাত, আফজাল হোসেন ফেঁসে যেতেন এবং এতে উপদেষ্টা-সচিবও সমস্যায় পড়তে পারতেন। কিন্তু তারা তখনকার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের প্রচেষ্টায় হাসিনা-রেহানার হাজার কোটি টাকার মেগা দুর্নীতির খতিয়ান ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চলে। এ লক্ষ্যে রেল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আনঅফিসিয়ালি একটি টিম গঠন করা হয়, যারা ডিজি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে কাজ করছে। অডিট প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে তা সর্বশেষ সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে মর্মে মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে।অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীমাংসা যোগ্য নয় এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর মাধ্যমে সরকারের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে মূল চুক্তির বাইরে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাট ও অন্যান্য আইটেম কম হলেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রেল লাইন নির্মাণে বালির স্তরও মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিমি কম হলেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত’ কাজ হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি করা হয়েছে প্রাক্কলনের ১৭.১৫% উচ্চমূল্যে (ইপিসি/টার্নকি), যার মাধ্যমে আত্মসাত হয়েছে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এভাবে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে সরকারের ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ক্ষতি ও অর্থ আত্মসাত হয়েছে।জানা গেছে, দুদকের এক কর্মকর্তাকে আফজাল হোসেনের অলিখিত ব্যবসায়িক পার্টনারও বলা হয়ে থাকে। আফজাল হোসেন এখন একেতো অগাধ অবৈধ অর্থের মালিক, তার ওপর আবার মহাপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। তার ছাতা হিসেবে রয়েছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব। আর দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার সরাসরি দায়িত্বে রয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। এ কাজের জন্য তাদের হাতে বরাদ্দ আছে বড় অংকের ফান্ডও। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই প্রতিবেদনই নয়, ইতিপূর্বে প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি হয়েছে। যার অনেকাংশই মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর একই পথে আবার পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি অর্থ আত্মাসাতের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। বাস্তবে হয়েছেও তাই। চীনা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাদের পরামর্শে অনেকটা হঠাৎ করেই এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি তৈরি, একনেক অনুমোদন প্রভৃতি কাজগুলো হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে। এমনকি একনেক অনুমোদনের পরও অনেক কিছুতে রাখঢাক ছিল।দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চীন সরকারের উচ্চহার সুদের ঋণে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের যেসব ভুয়া হিসাবকে সামনে রেখে এই বৃহৎ প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে তা আদৌ কখনো বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কখনোই সম্ভব হবে না। তাও রেল পরিচালনা বাবদ প্রতি মাসে বড় অংকের লোকসান দিতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়ক পথেই এখন সবাই মালামাল পরিবহনে আগ্রহী। একেতো অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। তারওপর যা কিছু নির্মাণ হয়েছে সেটাও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা যাচ্ছে না।যত সম্পদের মালিক আফজাল টাঙ্গাইলের নিরেট পল্লীতে অন্যের বাসায় লজিং থেকে পড়ালেখা করা আফজাল হোসেন এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। ঝামেলা এড়াতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নাম। গ্রামের বাড়িতে দুর্নীতির নিশানা না থাকলেও রাজধানীর বনানীতে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। দেশে দুর্নীতির টাকা পাচার করেছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে কেনা বাড়িসহ রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে তার সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আফজাল হোসেনের দূর্নীতির ছায়া পুরো রেলে রেলওয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে রেল কর্মকর্তারাই। এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। যিনি লুটপাটের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছেন প্রতিনিয়ত। গড়েছেন পাহাড়সম সম্পদ। নিজে দূর্নীতিবাজ হওয়ায় রেলওয়ের অন্য দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেন না ডিজি আফজাল। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে দূর্নীতির মহোৎসব চললেও একেবারে নীরব আফজাল হোসেন। এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্যের জন্য তাঁর সরকারি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করে এবং তাঁর এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোন ও অফিসফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি। তাঁর দপ্তরে গেলেও তিনি নেই বলে জানান। তবে রেল ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, তিনি সাধারণত সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ দেন না, ফোনও রিসিভ করেন না।
২ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে সংস্কার কাজের উদ্যোগে বেদিশায় পড়েছেন লুটেরারা। এর মধ্যে বন্দরের অভ্যন্তরীণ দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জড়িত বহিরাগত সিন্ডিকেটও। যারা রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়ে এই সংস্কার কাজের বিরোধীতা করে আসছেন। এমনকি দূর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বহিরাগতরা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিয়ে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ের। যারা এসব করছেন তারা দেশের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন মন্তব্য করেছেন বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগে সমর্থিত বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি চট্টগ্রামের ৯৯ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু সিন্ডিকেট চক্রের মতো সংঘবদ্ধ না থাকায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রামের মানুষের কথা কেউ শুনছে না। বন্দর সংস্কার কাজের উদ্যোগের প্রতি সমর্থিতদের ভাষ্য, সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতাকারীরা চট্টগ্রামের বাইরের লোক। যাদের বেশিরভাগ মাদারিপুর, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লাা ও নোয়াখালীর বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে বন্দর লুটে-পুটে খাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে তারা বন্দরের সংস্কার কাজের উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল থেকে জেটি এবং বহিঃনোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০০৮ সালের পর থেকে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।এ সৃুবাধে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুকৌশলে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠেনের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো বন্দরের অর্থ ও সম্পদ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার ছাড়, রপ্তানিকৃত পণ্যের কন্টেইনার পাচার, কন্টেইনার চুরিসহ নানা কলাকৌশল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরেছে। আবার এই রাজস্ব বিদেশে পাচারও করেছে। যা নতুন অপারেটর নিয়োগে বড় ধরণের হোঁচট খাবে এই লুটেরা সিন্ডিকেট। যার কারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন অপারেটর নিয়োগে একাধিকবার দরপত্র প্রকাশ করলেও বন্দরে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছলচাতুরতায় কঠিন কিছু শর্তের কারণে নতুন কোন কো¤পানি এই খাতে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মানে ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে অপারেটর সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু তার বিরোধীতা করছে লুটেরা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্দরে ২৩ প্রতিষ্ঠানকে অপারটের নিয়োগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে আরও ২৩ অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এখন বিএনপি সরকার পুনরায় নতুন অপারেটর নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার বিরোধীতা করছেন বর্তমান অপারেটররা। এমনকি অপারেটররা উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। এই অবস্থায় নতুন অপারেটর প্রক্রিয়া শেষপর্যস্ত কতটা সফল হয় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সচিব নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগে যারা আবেদন করেছেন, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তাদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। আর কতজনকে দেয়া হবে সেটি কমিটিই নির্ধারণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলমান রাখবে বলে জানান তিনি। বন্দরের এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ২৩টি দলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন আবারো বিএনপিদলীয় বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঢালাওভাবে লাইসেন্স দেয়া হলে এই কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।একইভাবে বিরোধীতা করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা একটি বিশেষায়িত কাজ। এখানে যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের সমন্বয়ে জটিল কাজ করতে হয়। এখানে নতুন-অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কত লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন সেটিও আগে নিশ্চিত হতে হবে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে হবে। আর অনভিজ্ঞরা কাজ পেলে বন্দরের এখনকার যে সেবা সেটি দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।আরেক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, লাইসেন্সিয়ে একটির আবেদন ফি এক লাখ টাকা। আগে তিনশ আবেদন জমা পড়েছে। এখন আরো একশসহ মোট ৪০০ আবেদন জমা পড়লে বন্দর চার কোটি টাকা আয় করবে। পুরো টাকাই নন-রিফান্ডেবল। বন্দর কর্তৃপক্ষ এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার টন খোলা ও কন্টেইনারজাত পণ্য (কার্গো) উঠানামা করেছে। আর জেটি, টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছে। পুরো কাজ করেছে ৪৬ অপারেটর। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য উঠানামা, ইয়ার্ডে রাখাসহ নানা খাতে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কাগো বার্থের (জিসিবি) ১২ জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করছে ১২ প্রতিষ্ঠান। দুটি টার্মিনাল চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টামিনাল (এনসিটি)তে কাজ করছে দেশি প্রতিষ্ঠান। আর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালতে (পিসিটি) কাজ করছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বহির্নোঙর সাগরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) কাজে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজ করছে ৩৩ প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৪৮টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর পারভেজ আহমেদের বক্তব্য, লাইসেন্স দিলেই যে সবাই পণ্য উঠানামা বা অপারেটিংয়ের কাজ পাবে বিষয়টি এমন নয়। জেটিতে কাজ পেতে তো নির্দিষ্ট যোগ্যতা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সেটা যে প্রতিষ্ঠানের আছে সেই প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। সুতরাং পূরনো যারা আছে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারাই কাজ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
৩ মাস ২ দিন আগে
ক্ষুব্দ কর্মচারীরা জানান, ডিএফএ/স্টোর্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট শাখায় প্রতি অর্থবছরে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার বিলের বরাদ্দ মিলে সরকার থেকে। সেই টাকার ৩% হিসেবে সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন নিপা ম্যাডাম। অথচ সারাদিন কষ্ঠ করেও আমরা কোন সুবিধা বা ভাগের এক টাকাও পায় না।
৩ মাস ৪ দিন আগে
ডিএমপি কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক এবং সবশেষ আইজিপি হিসেবে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ক্ষমতায় থাকাকালে অঢেল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই অবসরে যান। তখনই অবৈধ সম্পদের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অভিজাত শহর আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের খবর পাওয়া যাচ্ছিল নানা সূত্রে। দেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আটকা পড়লেন দুবাই পুলিশের জালে। রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তার গ্রেফতারের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও জানান এই খবর। সাবেক আইজিপিকে দ্রুত সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।তিনি আরও জানান, ইউএই’র ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।মন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপৃল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি ঢাকা ইতোমধ্যে ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকুয়েস্ট পাঠানো হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবুধাবির সঙ্গে এনসিবির সমন্বয়ের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে জাতিকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।দোর্দণ্ড প্রতাপ থেকে অবৈধ সম্পদের পাহাড়২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।তদন্তে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বেনজীর আহমেদ।গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ সন্ত্রাস দমন বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বসনিয়া ও কসোভোতে কাজ করেছেন।২০২০ সালের এপৃল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর। ওই তালিকায় র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে বেনজীর আহমেদের নামও আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যখন নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন বেনজীর আহমেদ।২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তিনি অবসরে চলে যান। অবসরে যাওয়ার পর তার অনেক অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর আসে।‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ ও ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (সাবেক আইজিপির অপকর্ম-১ ও ২) প্রকাশ করে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ।২০১৪ সালের ৩১ মার্চ প্রকাশিত প্রথম পর্বের মূল শিরোনাম ছিল ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীরের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ইকো রিসোর্ট। এই রিসোর্টের পাশে আরও ৮০০ বিঘা জমি কিনেছে তার পরিবার। এ ছাড়া পাঁচ তারকা হোটেলের ২ লাখ শেয়ারও রয়েছে তাদের। ঢাকার বসুন্ধরায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটও রয়েছে বেনজীরের পরিবারের। এসব সম্পত্তি অবৈধ টাকায় কেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।‘সাবেক আইজিপির অপকর্ম-২’ প্রকাশ করা হয় ওই বছরের ২ এপৃল। এই পর্বের মূল শিরোনাম ছিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর সদরের ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির ওপর ভাওয়াল রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিসোর্ট করতে বনের ২০ বিঘা জমি দখল করা হয়েছে। এই রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিকানা বেনজীর আহমেদের পরিবারের। এ ছাড়া পার্বত্যজেলা বান্দরবানে বনের জমি দখল করে রিসোর্ট, দুবাইয়ে শতকোটি টাকার হোটেল ব্যবসা, সিঙ্গাপুরে সোনার ব্যবসা এবং থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় তার পরিবারের জমি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।কালের কণ্ঠ-এর প্রতিবেদনের পর ২০ এপৃল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বেনজীর আহমেদ। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের যে সম্পদ রয়েছে, তা বৈধ এবং এর হিসাব ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ রয়েছে। অবৈধ যেসব সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে, তা কেউ প্রমাণ করতে পারলে ওই ব্যক্তি বা গ্রুপকে সেই সম্পত্তি তিনি বিনা পয়সায় লিখে দেবেন বলেও ভিডিওতে দাবি করেন।বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসার পর দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে তার দেশ ছেড়ে যাওয়ার খবর আসে। এর দুই বছরের বেশি সময় পর দুবাই থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।কে এই বেনজীর আহমেদ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার জন্ম। শিক্ষাজীবনে বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা চার্লস স্ট্রার্ট ইউনিভার্সিটি ও সিঙ্গাপুরের বিশ্বব্যাংক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াশোনা করেন।সপ্তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ছয় বছর র্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন।এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, ডিএমপিতে ডিসি নর্থ, পুলিশ একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার টাঙ্গাইলের কমান্ড্যান্ট, ডিআইজি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে চিফ অব মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
৩ মাস ৪ দিন আগে
জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর) বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। দুই বছর চেয়ারম্যান থাকার পর তার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ নতুন রাজনৈতিক সরকারের নীতি-কৌশলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না তিনি। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও শোনা যায়— তিনি কারও কোনো পরামর্শ শোনেন না। তাহলে প্রশ্ন আসে কে হচ্ছেন এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান। এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হতে রেস বা প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন ৭ জন। এরা হলেন, রাজস্ব বোর্ডের সদস্য কর প্রশাসন আহসান হাবিব। তার বাড়ি বরিশাল। সরকারঘনিষ্ঠ দুজনের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমেই চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য তদবির করছেন তিনি। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর, আবার শ্বশুরবাড়ি বরিশাল। তিনি একসময় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) চাকরি করতেন। রেসে আছেন শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে। বুয়েটে দুবছর পড়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে পড়ার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যাচমেট ছিলেন বলে শোনা যায়। এছাড়া রয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের করনীতির সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। বাড়ি জামালপুরে। তার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি নিজেই ঘনিষ্ঠজনদের বলছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ পুরনো।সৈয়দ আবু দাউদ রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। চট্টগ্রামের কানেকশনে তিনি এ পদের জন্য আগ্রহী। সরকারের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীও তার বিষয়ে লবিং করছেন বিভিন্ন মহলে।ভূমি অ্যাপিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আবদুল্লা হিল বাকী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর ছোট ভাই।সমাজকল্যাণ সচিব আবু ইউসুফের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। পরিশ্রম করতে পারেন। উদ্যমী হয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে তার। তার চ্যানেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে তিনিও।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন উইংয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে রোষাণলে পড়তে পারেন অথবা নিজের ক্ষতি হতে পারে এই ভয়ে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ রাজস্ব বোর্ড এমন শক্তিশালী সরকারি সংস্থা চাইলে যখন-তখন যে কারোর ওপর চড়াও হতে পারে। বিষয়টি জানার জন্য ভ্যাট-অডিট ও নিরীক্ষা সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বলছেন, ‘এসব নিয়ে অহেতুক মিথ্যা ট্রল হয়। এ নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত।’তবে একই পদমর্যাদার আরেকজন জানালেন, কেউ চেয়ারম্যানের দৌড়ে আছেন এ খবর এলেই তো ৩০০/৪০০ কোটি টাকা খরচের ট্রল শুরু হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রশ্ন করতে থাকে, সত্যি আমরা এ নিয়ে বিব্রত হই। কারও যদি এতো টাকা থেকেই থাকে, তাহলে সে পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা গিয়ে অবকাশযাপন না করে কেন সাধারণ মানুষের গালি শুনবে, মন্ত্রীর ঝাড়ি খাবে।শুল্ক প্রশাসনের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, ‘চেয়ারম্যান হতে চাই না। এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ চাকরির মেয়াদ আছে আর ৬ মাস।আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘পদটা একটা ‘হাবিয়া দোজখ। ঢাকা-চট্টগ্রামে যেসব খনিতে যে সময়ে চাকরি করেছি, তখন টাকার দাম ছিল বেশি, জমির দাম ছিল কম। এখন জমির দাম অনেক বেশি। কিন্তু সে পথে হাঁটিনি কখনো।’রাজস্ব বোর্ডের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু দাউদ জানালেন ভিন্ন কথা, ‘চাকরির মেয়াদ আছে আরও ১১ মাস। একটু শান্তিতে থাকতে চাই।’অন্য একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় গোপন করে জানালেন, এই রেস থেকে ৩ মাস আগেই সরে এসেছি। এ পদে যারা কাজ করছেন বা করেছিলেন তাদের অনেকেই এখন ঝামেলায় আছেন। এ পদ এখন একটি বিরাট বোঝা মনে হয়। বুদ্ধিমানদের কেউই এ পথে হাঁটবেন না। সূত্রমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে শীর্ষ পর্যায়ে কারা কোন পদ পাবেন এ নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বরিশালের মধ্যে প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। এসব এলাকার অন্তত ৭ জন নতুন চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। নানা উপায়ে চেষ্টা-তদবিরও করছেন তারা। যদিও এদের অনেকে তা অস্বীকার করছেন। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান কাকে বানাবেন সে বিষয়ে খুবই সতর্ক ও সংবেদনশীল। বোর্ড প্রধানের ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আহরণের গতি ও সাফল্য। আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে অন্তত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ঘোষিত বাজেটে।এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদার, ব্যবসাবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে না পারলে পদে পদে অর্থনীতি হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ চেয়ারম্যানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আয়ে সফলতা-ব্যর্থতা। কোনো কারণে রাজস্ব আদায়ের ১ শতাংশও হেরফের হলে ৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা কম আদায়ের আশঙ্কা থেকে যায়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কমকর্তা জানান, এনবিআর চেয়ারম্যানের কোনো পদক্ষেপে ভুল করা যাবে না। তাকে রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী একই সঙ্গে উদ্যোগী হতে হয়। যাদের কাছ থেকে কর আদায় হয়, তাদেরকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে নতুনভাবে বিস্তৃত করতে হবে কর জাল। অর্থাৎ খুঁজে বের করতে হবে নতুন করদাতা।প্রায় ২০ বছর পর বিএনপি সরকার এবারের বাজেট ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। বিশ্বের টালমাটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ সরকারের জন্য অর্থনীতি সচল রাখা ও উজ্জীবিত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এরকম পটভূমিতে কাকে করা হবে বা কে হতে যাচ্ছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান? এটা এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ যাকে বলা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রধান রক্ষক।
৩ মাস ৫ দিন আগে