বুধবার- ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজ

এডভোকেট আবু মনছুর ডিজির প্রতিনিধি সদস্য মনোনীত

print news

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জননেতা ডক্টর হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয় এর একান্ত আস্তাভাজন লালানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের “অতিরিক্ত জেলা পিপি” বিশিষ্ট সমাজ সেবক জনাব এডভোকেট মোহাম্মদ আবু মনছুর উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজের ডিজি প্রতিনিধি সদস্য মনোনীত হয়েছেন।

এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এডভোকেট মোহাম্মদ আবু মনছুরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও প্রিয় নেতা ডক্টর হাছান মাহমুদ এমপির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

আরও পড়ুন

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ

print news

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য মৃতের পক্ষে কোরবানি করা জায়েজ। এটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এটি ওসিয়তের কোরবানি নয়, বরং কোরবানিদাতা নিজেরই কোরবানি হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবেন।

এই কোরবানির গোশতের বিধান হলো- তা কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই নিজে খেতে পারবে। আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। (আল ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ, পৃ-৪৬৯; ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫; ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৯)

তবে মৃতব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করলে এবং তার রেখে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোরবানি করলে সেই গোশত নিজেরা খেতে পারবে না, বরং পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া: ৩/৩৫২; খুলাসাতুল ফতোয়া: ৪/৩২২; ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া, পৃ. ৯০; ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়া: ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)

শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওসিয়ত পূরণের জন্য মৃতের সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি খরচ করা যায় না। ওসিয়ত পূরণ করতে হবে ওই এক তৃতীয়াংশ থেকেই। বাকি দুই তৃতীয়াংশ ওয়ারিসদের হক। (হেদায়া: ৪/৬৩৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৬/৪৪৭; আস-সিরাজি ফিল মিরাস: ৪-৫)

মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ না থাকলে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। নিজের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে আগে নিজের কোরবানি করা উচিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে। এতে করে নিজের কোরবানিও আদায় হবে, আবার মৃতকে সওয়াবও পৌঁছানো হবে। এটা নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। (মাজমাউল আনহুর: ০২/৫১৬; আল-বাহরুর রায়েক: ০৮/৩১৮; রাদ্দুল মুহতার: ০৯/৪৮৪; কাজিখান: ০৩/৩৫২; তাতারখানিয়া: ১৭/৪৪৪; বাজ্জাজিয়্যাহ আলা হাওয়ামিশিল হিন্দিয়্যা: ০৬/২৯৫; ফাতহুল মুইন: ০৩/৩৮২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন এবং সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।

ঈশান/খম/মউ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আত্নপ্রকাশ

print news

তেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ড পোট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এই অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল মায়ের্কস দাবাও নামের একটি কন্টেনার ভ্যাসেলের অপারেশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে বন্দরের সকল কার্যক্রম নজরদারি করি। আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশাল কার্যক্রম পরিচালনা করলো। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে দায়িত্ব পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পিসিটি পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে আমি আশা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজ বলেন, বন্দরে আজকে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ লোড করার মাধ্যমে আমরা আত্নপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করবো, আগামীতে সকল অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাবো।

বন্দরের তথ্যমতে, সোমবার (১০ জুন) পিসিটি দিয়ে মায়েরস্ক দাভাও নামে একটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং করল। ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্যালাং থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর পিসিটিতে প্রায় ৮০০ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার ওঠানামা করে পরবর্তী গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নির্মিত এ টার্মিনাল বছরে ৬ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। ১০ মিটার গভীরের জাহাজ ভিড়তে পারবে। তবে মায়ের্কস দাবাও নামের জাহাজটির ড্রাফট ৯ মিটার। প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) সঙ্গে মাস ছয়েক আগে চুক্তি হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে রেড সি গেটওয়ে বাংলাদেশ লিমিটেড শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো অপারেশনে আসা জাহাজটিতে খালি কন্টেইনার লোড করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, আরএসজিটিআই বাংলাদেশে কনটেইনার টার্মিনাল খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি পিসিটিতে চারটি উন্নত উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) এবং অন্যান্য আধুনিক কার্গো-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এর ফলে টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করার করার ক্ষমতা থাকবে।

আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবের শীর্ষ স্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর। যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত, যেটি সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বার্ষিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং অধিক ধারণক্ষমতা স¤পন্ন জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়ের ব্যবধানে বন্দরে পণ্য কিংবা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মূল জেটি থেকে ভাটির দিকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী প্রায় ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্প। ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। গত ১৪ নভেম্বর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। এরপর ডিসেম্বরের এটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরসিজিটিকে।

এই টার্মিনালে রয়েছে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ছয় মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউজ, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং।

যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে এই টার্মিনাল অপারেশনে গেলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

ঈশান/মখ/সুপ

রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদার জন্য গার্মেন্টসে হামলা, সড়ক অবরোধ

রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদার জন্য গার্মেন্টসে হামলা, সড়ক অবরোধ

print news

ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩নং রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তিনিকেতন এলাকায় অবস্থিত একমাত্র পোশাক কারখানা দাশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড—এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দূর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য (৪০), কোয়ালিটি ম্যানেজার রাসেল দাশ (৪১) ও এক নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন। 

আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার শান্তি নিকেতন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য। এছাড়া হামলার প্রতিবাদে সড়কও অবরোধ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধের কারণে মরিয়ম নগর ডিসি সড়কের দু‘পাশে দীর্ঘ দুই ঘন্টা যানজট সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরে নিজে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি। পরে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গার্মেন্টসের মালিক কামনাশীষ দাশ বলেন, গার্মেন্টস দিয়েছি বছর খানেক হয়েছে। এখানে এলাকার সাড়ে ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই এক বছরে গার্মেন্টসে তিনবার হামলা হয়েছে। মূলত চাঁদার দাবিতে এসব করছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যারা এই ঘটনায় সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।

এদিকে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, চাঁদা না পেয়ে গার্মেন্টস ভবনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বাঁধা দেয়া হয়। এর জের ধরে শুক্রবার (৭ জুন) সকালে তারা দলবল নিয়ে কারখানার সীমানা প্রাচীরের উপরে টিন দিয়ে দেয়। এই সময় তাদের এই কাজ করতে বাধা দিলে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

এক পর্যায়ে গার্মেন্টসের পরিচালক অন্তর চন্দ্র বৈদ্য ও কোয়ালিটি ম্যানেজার রাসেল দাশকে মারধর করে। হামলা থেকে বাঁচার জন্য তারা কোম্পানির মেইন গেটের ভিতরে প্রবেশ করে গেট লাগিয়ে দিলে হামলাকারীরা গেট ভাংচুরের চেষ্টা চালায়।

প্রতিবাদে কয়েকজন শ্রমিক এগিয়ে গেলে এক নারী শ্রমিককে মারধর করা হয়। এই খবর সকাল ১১টার দিকে কারখানার ভেতরে গেলে কারখানার সাড়ে ৩০০ শ্রমিক বের হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে দুপুর ১ টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে কারখানায় ঢুকে পড়ে।

ঈশান/খম/সুপ

কক্সবাজারে জেলের জালে মিলল ভাই-বোনের লাশ

print news

ক্সবাজারের রামুতে জেলের জালে মিললো পানিতে ডুবে মারা যাওয়া আপন দুই ভাই-বোনের লাশ। হাশমত উল্লাহ নামে স্থানীয় এক জেলের জালে ওই দুই শিশুর মরদেহ আটকে যায়। মরদেহ দেখে জেলে হাসমত উল্লাহ ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দিনগত রাত ৮ টার দিকে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মৌলভী পাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল্লাহর ছেলে রিহাব (৭) ও মেয়ে মারিয়া (৫)। তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় প্রবাসী আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ায় দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পানিতে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্র জানায়, বিকেলে ওই দুই শিশুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় জেলে হাশমত উল্লাহ মৌলভী পাড়াস্থ রেল লাইনের একটি ব্রিজের মুখের ডোবায় জাল ফেলেন, এসময় তার জালে ওই দুই শিশুর মরদেহ আটকে যায়। মরদেহ দেখে জেলে হাসমত উল্লাহ ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, সন্ধ্যার কিছু সময় আগে বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হয়েছিলো তারা। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে নয়াখাল থেকে মাছ ধরে আসার সময় পাশের কূপে জাল ফেলে হাসমত আলী। তার জালে উঠে আসে দুই ভাই-বোনের মরদেহ।

রামু থানা পুলিশের ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য কেউ থানায় জানাননি। বিষয়টি তিনি অবগত নয়, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আসলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

ঈশান/খম/সুম

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের লকার থেকে দুই পরীক্ষার্থীর মার্কশিট উধাও

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের লকার থেকে দুই পরীক্ষার্থীর মার্কশিট উধাও

print news

ট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে গায়েব হয়ে গেছে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর দুটি মার্কশিট। তবে মার্কশিটগুলো কোন পরীক্ষার্থীর তা জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্তে ফলাফল জালিয়াতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আগেভাগে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ জুন মাউশি গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

মার্কশিট গায়েবের ঘটনায় মঙ্গলবার (৪ জুন) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এই জিডি করেন বোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

জিডিতে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘আমার অফিস কক্ষে তিনটি লকারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০২৩ এর শিক্ষার্থীদের লক্ষাধিক নম্বরফর্দ রক্ষিত ছিল। গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে দেখা যায় যে, ওই তিনটি লকারের মধ্যে একটি লকারে লাগানো তালা নেই।

বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যান মহোদয়কে লিখিতভাবে অবহিত করি। পরবর্তীতে ৩ জুন বিকেল তিনটার সময় লকারটি তদন্ত কমিটির নির্দেশক্রমে শিক্ষাবোর্ডের দু‘জন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, লকারে শুধুমাত্র দু‘জন শিক্ষার্থীর দুটি নম্বরফর্দ নেই। তবে এই নম্বরফর্দ দুটি কোন দু‘জন শিক্ষার্থীর তা জিডিতে উল্লেখ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। কেবল বাংলা ছাড়া তিনি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পায়। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। বাংলায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে যায়।

আবেদন করতে গিয়ে দেখে কে বা কারা আগে থেকে সব বিষয়ের জন্য আবেদন করে রেখেছেন। এ ঘটনায় ছেলের পক্ষে তার মা বনশ্রী নাথ পাঁচলাইশ থানায় গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে জিডি করেন। সেই জিডিতে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন, তা বের করার আবেদন জানানো হয়।

চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত অনিয়মসহ নানা অভিযোগ তদন্তে উল্লিখিত কমিটি করা হয়। কমিটি হওয়ার পর অনিয়মের আলামতগুলো সরিয়ে ফেলতে সহায়তার জন্য এলপিআরে থাকা সাবেক সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কিবরিয়া মাসুদকে গত ১৫ এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ হাজার টাকা মজুরিতে আবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ফলাফল কেলেঙ্কারিতে কিবরিয়া মাসুদের শাস্তি হয়।

অডিও ফাঁস ও কিবরিয়া মাসুদকে দায়িত্ব আনার বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ইদ্রিস আলী জানান, জালিয়াতির আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিবরিয়া মাসুদকে আবার ফলাফল প্রস্তুতের মতো স্পর্শকাতর শাখায় আনা হয়েছে। অডিও ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি দিনের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

তবে অডিও ফাঁসের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুজিবুর রহমান ও প্রোগ্রামার আবদুল মালেকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, উল্লিখিত ধরনের অডিওটি আবদুর রহমানের কাছ থেকে জোর করে চাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছে। অডিওতে উল্লিখিত ঘটনা সঠিক নয়।

ঈশান/খম/সুপ

বান্দরবানে বেনজীরের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু

বান্দরবানে বেনজীরের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু

print news

বান্দরবানের পাহাড়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের কী কী সম্পদ রয়েছে তার অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবারের ( ৬ জুন) মধ্যেই সব সম্পত্তির হিসাব দিতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। দুদকের এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বেনজীরের সম্পত্তির খোঁজে মাঠে নামেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা থেকে বেনজীর আহমেদের নামে বান্দরবানে কী কী সম্পত্তি রয়েছে তার খোঁজ নিতে একটি চিঠি দেয়।

বৃহস্পতিবারের মধ্যে সম্পত্তির হিসাব ঢাকায় পাঠানোর জন্য ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের ভূমি বিভাগ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র তলব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া এলাকায় বেশ কিছু জায়গা-জমির খোঁজ পেয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অন্যান্য জায়গায়ও তদন্ত করে দ্রুত সব সম্পত্তির হিসাব দুদুকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।’

উল্লেখ্য, বেন‌জীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও মে‌য়ের না‌মে বান্দরবা‌নের সুয়ালক মৌজায় ২৫ একর ও লামার ডলুছ‌ড়ি মৌজায় ৫৫ একরসহ মোট ৮০ একর জায়গার খোঁজ পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই বেনজীরের সব সম্পত্তির দিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

ঈশান/খম/সুম

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

আলোচিত ঋণখেলাপি জসিম উদ্দিন বেনজীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার!

print news

‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি।’’

ণখেলাপি ব্যবসায়ী’ জসিম উদ্দীন সাম্প্রতিক আলোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের ব্যবসায়ীক পার্টনার ও ঘনিষ্ট সহযোগী! এ সুবাধে আদালতের সাজা পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ‘পুলিশ প্রটোকলে’ চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ঋণখেলাপিতে দণ্ডিত হওয়ার পরও প্রার্থিতা বাতিল করেননি রিটার্নিং অফিসার। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে ‘বশীভূত’ করে ভোটের মাঠে ‘খাটিয়েছেন’ প্রভাব।

এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন, কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা, এজেন্টদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়াসহ এমন নানা অভিযোগের ফিরিস্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জুনু।

তিনি এসব কারণে চন্দনাইশে উপজেলা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। গত ১ জুন (শনিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এ অভিযোগলিপি পাঠান আবু আহমেদ জুনু। সোমবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগে তিনি বলেছেন, ‘মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন একজন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। পুলিশের প্রাক্তন আইজি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। গত ৪ এপ্রিল তাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা দিয়ে জসিম উদ্দীনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন অর্থঋণ আদালত। ৩০ এপ্রিল ৫ মাসের আটকাদেশও দেন। তাঁকে বাঁচাতে নিয়মবহির্ভূত আবেদন করায় পদ্মা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকেও শোকজ করেন আদালত।

পরে ৩০ এপ্রিল অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে হলফনামা সংযুক্ত করেন জসিম। যেখানে খেলাপি ঋণের বিষয়টি গোপন করা হয়। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে পদ্মা ব্যাংক। ওই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে। হলফানামার তথ্য গোপনের বিষয়টি উল্লেখ করে আপীল কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগও দেয় পদ্মা ব্যাংক। আপিল না মঞ্জুরের পর ভোটের দুদিন আগে ২৭ মে আবারো পুনরায় আবেদন করা হয়। এছাড়া ১৯ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগও দায়ের করে।’

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ভোটের আগে প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হত্যার হুমকি, প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারকার্য চালানো, নগদ অর্থ বিতরণ, ডিজিটাল ব্যানার ও ডাবল মাইক ব্যবহারসহ ৭টি অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ জানানো হয়। এরপরও রিটার্নিং অফিসার কোনো ব্যবস্থা নেননি। সাজামূলে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ প্রটেকশনে নির্বাচনী কার্য করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

অথচ এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে রিকল করা হয়নি। এছাড়া ভোটের দিন জসিম উদ্দীন আহমদ পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে বশীভূত করে ৯টি ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রুমের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের ব্যালট পেপারে সিল মারার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করলে পুলিশ তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলিট করে ছেড়ে দেয়। পরে জসিম উদ্দীনের কর্মীরা তাঁর কর্মী সমর্থকদের মারধর করেন।’

এসব অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পাঠানো বেসরকারি ফলাফল বাতিল করে গেজেট প্রকাশ কার্যক্রম স্থগিতের আর্জি জানান আবু আহমেদ জুনু।

এদিকে পদ্মা ব্যাংক হেড অফিসের একটি চিঠিতে জানা গেছে, ভোটের দুদিন আগে অর্থাৎ ২৭ মে যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ‘ঋণখেলাপি’ জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পদ্মা ব্যাংকের এসইভিপি ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়েছে, জসিম উদ্দীন চৌধুরী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিআইবি রিপোর্টে ঋণখেলাপি না দেখানোর যে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ আনেন তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আপিলে ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো সিআইবি বরাবর পত্র পাঠিয়ে অবহিত করা হয়। ওই পত্রে ঋণখেলাপি হওয়ায় জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল পদ্মা ব্যাংক।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবু আহমেদ চৌধুরী জুনু। তিনি বলেন, ‘‘ওনি বেনজীরের লোক, বেনজীর স্যারের সঙ্গে ওনার ব্যবসা। আপনি ওনার সঙ্গে পারবেন না। বড় অংকের টাকা ধরে বসে যান।’— বারবার আমাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ চন্দনাইশ থানার ওসি। আমি ছাত্রজীবন থেকে সংগঠন করে আসা লোক। তাই ওনার এ প্রস্তাবে আমি সায় দিইনি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন মনে হয়েছে আমি কেউই না! রাতের আঁধারে আমার সমর্থকদের ঘরে ঘরে গিয়ে ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বড় বড় কেন্দ্রগুলো দখলের পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দনাইশ থানার ওসি ওবায়েদুল হক বলেন, ‘ওনি বললেই কি হলো? এ ধরনের কোনো কথা আমি ওনাকে বলিনি।’

এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় সোমবার বিকেলে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

গত ২৯ মে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জসিম উদ্দিন আহমেদ।

ঈশান/খম/সুম

বান্দরবানেও বেন‌জীরের নজরকাড়া কোটি টাকার সম্পদ!

print news

পুলিশের আলোচিত সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের অবকাশ য‌াপ‌নের বাংলো, মাছের প্রজেক্ট, বনজ ও ফলদ গাছের বাগানসহ নজরকাড়া কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান পার্বত্য জেলায়।

এ জেলার সুয়ালক মৌজা এবং লামার ডলুছ‌ড়ি মৌজায় বেন‌জীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে রয়েছে অন্তত ৮০ একর জায়গ‌া। এর মধ্যে বিভিন্ন বনজ-ফলদ, মাছের প্রজেক্ট, গরুর খামার ও বাংলোসহ প্রায় ক‌য়েক কো‌টি টাকার সম্প‌ত্তি। যা স্থানীয়‌দের কা‌ছে ‘এস‌পির জায়গা’ হি‌সেবে প‌রি‌চিত।

এদিকে বেশ কয়েকদিন আগে বান্দরবান সদরের সুয়ালক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে মা‌ছের প্রজেক্ট ও গরুর খামার। তার এ জায়গা‌টি যে‌তে সরকারিভা‌বে নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছে রাস্তা। নেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইনও। রয়েছে অবকাশ য‌াপ‌নের জন‌্য দোতলা রেস্টহাউজ।

সেখানে গড়ে তোলা গরুর খামা‌রের দা‌য়ি‌ত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মচারী জানান, এটি বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গা হ‌লেও দেখা শোনার দা‌য়ি‌ত্বে র‌য়ে‌ছে বান্দরবা‌ন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়া‌র্ডের মি দো মং মারমার ছে‌লে ও স্বেচ্ছাসেবক লী‌গের সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং মারমা।

জায়গার রক্ষণা‌বেক্ষ‌ণের দা‌য়ি‌ত্বে থাকা এক নারী কেয়ারটেকার জানান, এ জায়গা‌টি এস‌পির জায়গা হি‌সে‌বেই প‌রি‌চিত সক‌লের কা‌ছে। ত‌বে কাগজপ‌ত্রে র‌য়ে‌ছে বেন‌জীর আহ‌মেদ, তার স্ত্রী ও কন‌্যার নাম।

জানা গেছে, ২০১৬ সা‌লে বেন‌জীর আহ‌মেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা ও মে‌য়ে ফারহীন রিশতা বিন‌তে বেনজীরের না‌মে ৩১৪ নম্বর সুয়ালক মৌজায় ৬১৪ নম্বর দা‌গে ও ৩ নম্বর সিটে ২৫ একর জায়গা লিজ নিয়েছিলেন বান্দরবান পৌর এলাকার মধ‌্যমপাড়ার আবুল কা‌শেমের ছে‌লে শাহ জাহা‌নের কাছ থে‌কে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এসব জায়গায় একসময় অসহায় প‌রিবারের বসবাস থাক‌লেও ক্ষমতার জো‌রে নামমাত্র মূ‌ল্যে জ‌মিগুলো বি‌ক্রি ক‌রতে বাধ‌্য হয়েছে।’

অভিযোগ আছে, এসব জ‌মি ক্রয় কর‌তে সহ‌যো‌গিতা ক‌রে‌ছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মং ওয়াই চিং মারমা।

শনিবার (১ জুন) সরেজমিনে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছ‌ড়ি মৌজার টংগ ঝি‌রি‌তে গিয়ে দেখা যায়, বেনজীর আহমদের সেখানেও র‌য়ে‌ছে আরো ৫৫ একর জায়গা। যেখানে একসময় অসহায় ও গরিব প‌রিবা‌রের বসবাস ছিল। চাষাবা‌দের মাধ‌্যমে আয়ের একমাত্র উৎস‌ ছিল এ জায়গাগু‌লোই। অথচ এসব অসহায় ও গরিব প‌রিবার‌গু‌লো‌কে টাকার লোভ দেখিয়ে জোরপূর্বক অল্প টাকা দিয়ে উচ্ছেদ করে স‌রে যে‌তে বাধ্য করা হয়।

টংগঝি‌রি পাড়ার সা‌বেক ইউপি সদস্য পাইসা প্রু ত্রিপুরা বলেন, ‘আমার এলাকায় বেনজীর আহ‌মে‌দের ৫৫ একর জায়গা র‌য়ে‌ছে। এ জায়গাগু‌লো‌তে একসময় অসহায় প‌রিবা‌রের বসবাস থাক‌লেও বর্তমানে জায়গাগুলো বেনজীর আহমেদের জায়গা হয়ে গেছে, আর আমরা এখন অসহায়।’

একই পাড়ার বাসিন্দা এরমনি ত্রিপুরা নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ আর ‘এসপি’ (আইজিপি বেনজির) তাদের অনেক টাকা। তাই বাধ্য হয়ে আমরা জায়গাগুলো ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু জায়গাগুলো হারিয়ে এখন অনেক কষ্টের মধ্যে দিন যাচ্ছে আমাদের।’

কেউ জান‌তে চাইলে জায়গার ব‌্যাপা‌রে কাউকে মুখ না খোলার জন‌্য প্রতিনিয়ত হুম‌কি আসছে বলেও জানান তিনি।

বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়‌নের চেয়ারম‌্যান উ ক‌্য নু মারমা বলেন, ‘বেনজীর আহ‌মে‌দের সুয়ালক মৌজার মা‌ঝের পাড়ার জায়গাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লী‌গের সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং দেখাশুনা ক‌রে। মা‌ঝে মা‌ঝে একজন এস‌পিও এখা‌নে আসেন। ত‌বে তার নাম জা‌নি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেনজীর আহ‌মেদ জায়গাগু‌লো কিভা‌বে নি‌য়ে‌ছেন তা আমি জা‌নি না। তিনি জায়গাগুলো উদ্ধার ক‌রে প্রকৃত ক্ষ‌তিগ্রস্ত‌দের ফি‌রি‌য়ে দেবার দা‌বি জানান সরকা‌রের কা‌ছে।’

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার ক‌রেছেন স্বেচ্ছ‌াসেবক লী‌গে‌র সভাপ‌তি মং ওয়াই চিং। তিনি বলেন, ‘সুয়ালকের মা‌ঝের পাড়ায় বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গার পা‌শে আমার কিছু জায়গা আছে। সে সুবা‌দে এক পু‌লিশ কর্মকর্তার অনুরোধে আমি বেনজীর আহ‌মে‌দের জায়গাগু‌লো দেখাশুনা করি।’ তবে লামার ডলুছ‌ড়ির টংগ ঝি‌রির জায়গা দখলের বিষ‌য়টি অস্বীকার ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, ‘ডলুছ‌ড়ি মৌজার জায়গার ব‌্যাপা‌রে আমি কিছু জা‌নিনা।’

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজা‌হিদ উদ্দিন বলেন, ‘বান্দরবা‌নে বেনজীর আহ‌মে‌দের লিজের জায়গা যদি থাকে তবে সেটি আমি আসার আগেই হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তা‌রিত খবর নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঈশান/খম/সুম

two men standing next to each other

রেলওয়ের ডিজি পরিচয়ে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা

print news

রেলওয়ের ডিজি সরদার শাহাদাত আলী পরিচয়ে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে সাব্বির হোসেন (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার ডোমারের ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি জুম্মাপাড়াস্থ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ৷ সাব্বির ওই গ্রামের মোস্তাফা আলীর ছেলে।

শুক্রবার ( ৩১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি এ কে এম নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাব্বির বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলীর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন। এরপর তিনি মানুষের কাছে ট্রেনের টিকিটসহ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের নজরে এলে তারা তদন্ত শুরু করেন। এতে প্রতারণায় ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঈশান/খম/সুপ

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়

error: Content is protected !!