
লাল চকচকে মোড়কে লেখা ‘ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার। কিন্তু ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় মিলল লোমহর্ষক জালিয়াতির তথ্য। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এমন নিম্নমানের গুঁড়া দুধ বাজারজাত করার দায়ে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার’-এর মান সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই আদেশ দেন। ওই দিন মামলার ধার্য তারিখ থাকলেও আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
চট্টগ্রামভিত্তিক ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গোয়ালিনী ডেইলি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার মোড়কজাত ও বাজারজাত করে আসছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলমকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ৬৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি ওজনের এক প্যাকেট গোয়ালিনী ডেইলি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর পাওয়া রিপোর্টে পণ্যটি মানসম্মত নয় বলে সনদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর আদালত মামলাটি আমলে নেন।
ল্যাব রিপোর্ট অনুযায়ী, দুগ্ধ চর্বির মান ন্যূনতম ৪২ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে বিডিএস মান অনুযায়ী দুধে প্রোটিনের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও গোয়ালিনীর ওই দুধে পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
পরীক্ষাগারের ফলাফলে দেখা গেছে, পণ্যটির কোনো উপাদানই নির্ধারিত মানে পাওয়া যায়নি, যা ভোক্তাদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণার শামিল।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৬২২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯ টাকার ঋণ সুবিধা নেন।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত না দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ২৪টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণখেলাপির দুই মামলায় এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম এবং তার স্ত্রী ইয়াসমিন আলমকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
পলাতক থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। এর আগে ওই বছরের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংকের ১১২ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগে করা মামলায় শাহাবুদ্দিন এবং তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত।












































