
# তিনঘন্টা পর সড়ক ছাড়লেন অবরোধকারীরা
# যাত্রীদের ভোগান্তি
সড়ক দূর্ঘটনা কমাতে ৬ লেন সড়কের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাট, লোহাগাড়া উপজেলা সদর এবং চকরিয়া পৌরসভা এলাকার হাজারো মানুষ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ করতে থাকেন স্থানীয়রা। এসময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধের মধ্যে সকাল ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। এসময় অবরোধকারীরা সড়ক ছাড়তে শুরু করেন। তবে ১০-১৫ মিনিট পর আরেক দল গিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরী আন্দোলনকারীদের টেলিফোন করে অবরোধ তুলে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে সড়ক প্রশস্ত করার টেন্ডার হওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা মহোদয়ের উদ্যোগের কথা জানানোর পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের সংগঠক হোসাইন মোহাম্মদ মাসুম বলেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমাদের কর্মসুচি ছিল। প্রশাসন থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। জননেতা শাহজাহান চৌধুরীও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ১৫ দিন সময় নিয়েছেন। তিনিও উপদেষ্টার সাথে কথা বলেছেন। যার কারণে আমরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সবাই সড়ক ছেড়ে দিয়েছি। এই সময়ে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ ও ক্ষমা প্রার্থণা করেন তিনি।
দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাটে আটকে পড়া পূরবী এক্সপ্রেস এর একটি বাসের যাত্রীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তারা ক্ষুব্দ অবরোধকারীদের সামনে আটকা পড়েন। সেই থেকে আড়াই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বাসে অবস্থান করছেন।
এ সময় কোন কোন যাত্রী ও শিশুরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছেন। আবার কোন কোন যাত্রী প্রকৃতির টানের যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু অবরোধকারীদের কাছে আমরা নিরুপায় ছিলাম। আটকে পড়া শত শত বাসের যাত্রী এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে জানান তারা।
হাইওয়ে পুলিশের দোহাজারি থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, অবরোধে আটকে পড়ে বাস যাত্রীরা যে কষ্ট ও যন্ত্রণা ভোগ করছেন তা বলেও কোন লাভ হয়নি। প্রায় তিন ঘন্টা পর সড়ক ছেড়েছেন তারা। সরে যাবার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে তিন ঘন্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বড় ধরণের যানজট সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম-ক´বাজার মহাসড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কের কোথাও না কোথাও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে- সংবাদপত্র খুললেই তার প্রমাণ মেলে। আমরা এই পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না। বারবার অনুরোধ ও দাবি জানিয়েও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছি।
তারা বলেন, এই সড়ক শুধু স্থানীয়রা ব্যবহার করেন না। এটি দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। অথচ দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটি অনেক জায়গায় পাড়ার গলির চেয়েও সরু।
জাঙ্গালিয়ার মতো কিছু অংশ ঢালু ও আঁকাবাঁকা। আবার রাতে লবণের গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সড়ক প্রশস্ত করার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
এর আগে একই দাবিতে গত ৬ এপৃল নগরীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পর প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর ১১ এপৃল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তবে এতদিনেও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসী পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।










































